একটা কুইক ভিজিট করে আসলাম কলেজে…যা যা দ্যাখলাম

বি এম এ তে যখন প্রথম শুনলাম পোস্টিং কুমিল্লায়…সেরাম মজা পাইসিলাম।সাথে থ্রীল…গাড়ি নিয়ে কলেজে যাবো…ক্লাস সেভেন এইটে যেমন দ্যাখতাম জিডিও যায়,ভাইয়ারা যায়।রেজিমেন্টেশান টাইমে একদিন ডিউটি,রাস্তায় দাড়ায়া আছি,হঠাৎ করে কলেজের বাসটা সামনে দিয়ে চলে গেলো,প্রথম দিনের সেই আবেগটা বোঝানো যাবে না।আজকাল প্রায়ই হয়,কলেজের যারা গ্রাউন্ডস ম্যান,হাউজ বেয়ারা,হয়তো রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে,দূর থেকে দেখে ডাক দেয়,শাহরিয়ার ভাই কেমন আছেন?আমিও ডাক দেই “আরে,আক্কাস ভাই না”…ভাল্লাগে খুব…রি-ইউনিয়নের পরে আর নানা ব্যস্ততায় যাওয়া হয় নাই।মাঝে মাঝে প্ল্যান করি,এত কাছে কলেজ,না গেলে পরে আফসোস হবে।সেই মোতাবেক আজকে একটা চান্স পাইসিলাম প্যারেন্টস ডে উপলক্ষ্যে।কিন্তু ফ্রী হইতে হইতে ১ টা বাইজা গেসে।তাই ভাবলাম একটানে একটু ঘুইর‍্যা আসি।তাই একটা কুইক ভিজিট করে আসলাম কলেজে…মেইনলি যা যা দ্যাখলামঃ

১। আউটগোয়িং ক্লাস ১২ এর সাথে দেখা হলো…(ওদেরকে ক্লাস টেনে রেখে আসছিলাম…সবগুলা আজকাল প্রিফেক্ট টিফেক্ট হয়ে উড়ায়া ফেলসে)
২। নতুন ক্লাস সেভেন অব প্রমত্তা মেঘনা : অস্তিত্বের প্রতিশ্রুতি’র সাথে দেখা হইলো(আহা বেচারারা,এইটুক পিচ্চি আমরাও ছিলাম একদিন)
৩।সবগুলা ব্লক ভিজিট করলাম,বিশেষ করে রুম নাম্বার ২৯,১৬,১৮,২৪,৩২,২৭,৩৩,৯ ও ২ !(সবগুলা’র কোণায় কোণায় দেইখ্যা আসছি)
৪।অনেক অকাজের সাক্ষীঃকমন রুম,টিভি রুম(নতুন এলসিডি দিসে),হাউজ অফিস(আগের মতই নিরামিষ),স্টোর রুম(জানালার ভাঙা কাঁচটা এখনো আছে)

আরো বিশেষ যে জিনিসগুলা চোখে পড়সে-

ক।বাথরুমে ক্যাডেটরা চিল্লায়া গান গাইতেসে!(কতিপয় ক্যাডেটকে টাওয়াল পরে ঘুরাঘুরি করতে দ্যাখা গেলো)
খ।একদল ক্যাডেট আকাশী রঙের স্লিপিং ড্রেস পড়া,প্যান্ট টাখনুর উপর পর্যন্ত গোটানো,মাথায় টুপি,রুমে রুমে ঘুরতেসে (বোঝা গেলো হাউজ মস্কে যোহরের নামাজ পড়তে যাবে)
গ।প্যারেন্টস ডে মাত্র শেষ হইসে…তাই একদল ক্যাডেটকে দেখলাম হাফপ্যান্ট আর স্লিপিং ড্রেসের অপূর্ব সমন্বয়ে টিভিরুমে হিন্দী গান দেখতেসে।
ঘ।ক্লাস টেনের এক ক্যাডেট মনোযোগ দিয়ে ক্যামিস্ট্রি পড়তেসে…একজনকে পথের পাঁচালীও পড়তে দেখলাম।ঙ্কিছু কিছু ক্যাডেটের মন খারাপ,মাত্র প্যারেন্টস ডে শেষ হইসে,বিকালের ঘুমটা পর্যন্ত এই মন খারাপটা থাকবে আশা করি!
ঙ।ক্লাস সেভেনের রুমে যথারীতি পোস্ট-প্যারেন্টস ডে এক্টিভিটিসরূপ আড্ডাতে বসে প্যাকেট খুলতেসে…আমি আর হাউজ প্রিফেক্ট হঠাৎ ঢুকে পড়ায় দীর্ঘ ৩-৪ আলিফ টানে আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া!কেউ পানিশমেন্ট দেয় কিনা জিজ্ঞাসা করায় খুব সুন্দর উত্তর “ভাইয়া,ফল্ট করলে তো দিবেই”,আর কোনো প্রকার চার্জ নাই শুনে ভালো লাগলো!
চ।ক্লাস ইলিভেনের স্বাভাবিক কুয়্যেরি “ভাইয়া আর্মিতে যাওয়ার জন্য কী করবো?”
জ।নিচের কোন হাউজে হাল্কা চিৎকার শুনলাম,সিনিয়র জুনিয়রের নিয়মিত বিষয়!( মজা লাগলো)

এছাড়া কলেজ আগের মতই,সবকিছু আগের মত…সেই আগের ঘ্রাণ কলেজের কোণগুলো তে…ক্লাস সেভেন-টুয়েল্ভ সেই একই কাজ করে বেড়ায় (হয়তো একটু অন্য উপায়ে,বাট একই রকম)হয়তো ক্যাডেট কলেজগুলোর বয়স এত বেশী হয়ে গেসে যে মনে হয় নতুন কিছু করার মত বাকি নাই আর।অনেকদিন পর দিনের বেলার স্বাভাবিক কলেজ এবং ক্যাডেটদের স্বাভাবিক কাজ কর্ম দ্যাখে খুব ভালো লাগলো…ক্যাডেট লাইফের এই রূপটা একমাত্র ক্যাডেট ব্যাতীত আর হয়তো কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না।ইভেন নিজের বাসাটার চেয়েও,নিজের এখানকার রুমটার চেয়েও কলেজের রুমগুলো, দেয়ালের চুনভাঙা দাগ, করিডোর, বেসিন, ওয়াশরুমগুলো, পথগুলো, এমনকি পথের পাশের ফুলগুলোও বেশী পরিচিত আমাদের !

১,০২১ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “একটা কুইক ভিজিট করে আসলাম কলেজে…যা যা দ্যাখলাম”

  1. আহমদ (৮৮-৯৪)
    কলেজের রুমগুলো, দেয়ালের চুনভাঙা দাগ, করিডোর, বেসিন, ওয়াশরুমগুলো, পথগুলো, এমনকি পথের পাশের ফুলগুলোও বেশী পরিচিত আমাদের

    :clap: :clap: :thumbup:


    চ্যারিটি বিগিনস এট হোম

    জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    লেখা ভালো হইছে।
    আমরা এক্সকারসনে কুমিল্লা ছিলাম এক রাত। ডাইনিং এর খাবার ভালো।
    পাহাড়টাও বেশ।
    বিসিসির চাইতেও যে ছোট কলেজ থাকতে পারে তা কুমিল্লা না গেলে বুঝতাম না।
    তবে খুব ভালো লাগছিলো।
    আমাদের প্রিন্সিপাল মাসউদ হাসান স্যার কুমিল্লা গেছিলেন আমাদের সিসি থেকে। দেখা হলো সে সময়।
    একাডেমি ব্লকে ছিলাম আমরা রাতে।

    খ।একদল ক্যাডেট আকাশী রঙের স্লিপিং ড্রেস পড়া,প্যান্ট টাখনুর উপর পর্যন্ত গোটানো,মাথায় টুপি,রুমে রুমে ঘুরতেসে (বোঝা গেলো হাউজ মস্কে যোহরের নামাজ পড়তে যাবে)

    মানে কি?
    নামাযী কালেক্ট করতেছে?

    অন্যভাবে নিও না, কুমিল্লার বেশ কিছু আউটপুট দেখি জামাত ঘেষা।
    তাতে কি?
    জামাত এখন চান্দেও আছে।
    এখন তো কুমিল্লার প্রিন্সিপাল তসলিম স্যার।
    আমাদের কলেজে ছিলেন। বেশ ভদ্রলোক।


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  3. শাহরিয়ার (২০০৪-২০১০)
    কুমিল্লার বেশ কিছু আউটপুট দেখি জামাত ঘেষা।
    তাতে কি?
    জামাত এখন চান্দেও আছে।

    এইটা কি কইলেন ভাই??সব জায়গায় আমাদের নাস্তিক হইতেই হবে?নামাজ পড়তে গেলেই জামাতি?আজিব ভাই!!


    People sleep peaceably in their beds at night only because rough men stand ready to do violence on their behalf.

    জবাব দিন
    • রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

      তুমি ভুল কথা বলতেছো শাহরিয়ার।

      আমার দেখো আমার আর্গুমেন্ট কোনটা?
      রুমে রুমে ঘুরতেছে
      এইটার মানে বুঝতে চাইছিলাম। এর বেশি কিছু না।

      তোমার এই লেখার ৪ টা ৫ তারার একটা আমার। ফেসবুকেও শেয়ার দিয়া আসছি।

      আমি নিজে নাস্তিক হইলেই দুনিয়া নাস্তিক হবে এমন না, আর সেটা বলিও নাই।
      আমার ছয় বছরের কলেজ লাইফে কোন নাস্তিক ক্যাডেট পাইছি কিনা মনে করতে পারতেছি না। সো নাস্তিক হবার প্রয়োজন দেখি না।
      তবে জামাতের উলটা টা যে নাস্তিক হয় এইটা জানা ছিলো না।
      তোমার কি বেসিক শেষ নাকি?


      এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।