নতুন শহর

কিছু কিছু দিন থাকে যেদিন চন্দ্রবিন্দু বাজতে থাকে ঘরে। ছিমছাম আবহাওয়া। এই দিনগুলোতে ছিমছাম জীবন, ছিমছাম গুছানো চিন্তা আর ভালবাসা জড়ানো মন পেতে ভাল লাগে, আর ভাল লাগে বারবার অবাক হতে, চন্দ্রবিন্দু কেন এত অছাম। একই ঘটনা ঘটে মহীনের ঘোড়াগুলি কিংবা অঞ্জন…কিংবা আরও অনেকের সাথে। এই সময়গুলোতে আক্ষরিক অর্থেই একটা প্রশ্ন বারবার ঘোরাফেরা করে, তবে শাহরুখ খান নয় কেন? কিংবা বাপ্পি লাহিড়ী? আনুশেহ আস্তে করে উত্তর দিয়ে যায়, সংস্কৃতির কোন দেয়াল নেই যে, আছে কেবল ভালোলাগা মন্দলাগা।

    এরকমই একটা দিনে তেলাপোকার চকটা ছোট হয়ে গেছিলো।

    এক ধরণের চক থাকে, যেটা দিয়ে খাট, আলমারি, কিংবা মেঝের চারদিকে দাগ দিয়ে রাখলে তেলাপোকা আর আসে না। চকটা বিষ। তেলাপোকা পার হলে মরে যায়। সেই চকটা ছোট হয়ে গেছে। সেদিন ঘর বাড়ি শুদ্ধি অভিযানে লেগেছিলাম। জানালাগুলো ঘষে ঘষে পরিষ্কার করলাম, পর্দা গুলো ঠিকঠাক করে লাগালাম। জানালা ঘষা শেষ করে খাট ওল্টালাম। নাক মুখ কুঁচকে গেলো। তেলাপোকার ডিম দিয়ে ভর্তি। বাচ্চা-কালের কথা মনে পড়তে হাসি আসছে। তেলাপোকার ডিম দেখলে কি ঘেন্না, কি ঘেন্না! এখন একটা কাপড় হাতে নিজেই ঘষে ঘষে পরিষ্কার করছি, আম্মু দেখলে চমকে যেত। খাটটা সোজা করতে গিয়ে কি জানি মনে হলো, পাটাতনের ওপর ছোট হয়ে আসা চক দিয়েই বড় বড় করে লিখলাম ‘শাহবাগ’।, তারপর লজ্জা পেয়ে এদিক ওদিক তাকায় তাড়াতাড়ি খাট সোজা করে ফেললাম। এপ্রিল মাসের ঘটনা। কাউকে বলিনি।

    তারপর বিষঅলা চকটা শেষই হয়ে গেলো। বিষগুলো গেলো হারিয়ে।

    তারপর থেকে ছুটিতে আছি বহুদিন। ছুটি নিয়ে নতুন এক শহরে আসলাম। নতুন শহর শান্ত, মানুষগুলোও শান্ত, ঠান্ডা। এপ্রিল মাসের অস্থির ঢাকা শহর থেকে এরম একটা ঠাণ্ডা, স্থির, ভাবনা চিন্তাহীন শহরে এসে আমি একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। আটটা থেকে আটটা চাকরীর চাপে পরে জীবনটা বেড়াছেড়া হয়ে গেছিলো। কাজটা বড় প্রিয় ছিল আমার, তাই এত সময় খেয়ে নিলেও প্রথম প্রথম কষ্ট হতো না। তাছাড়া যাতায়াতের অনিশ্চয়তার মাঝ দিয়ে যেতে হতো না, সেটা ছিল সবচেয়ে বড় পাওয়া। ২০ মিনিট হাঁটলেই অফিস, স্নিগ্ধ সকালে চুপচাপ রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে অফিস যাওয়া কজনার ভাগ্যে জোটে ঢাকা শহরে? পরে বাসা দূরে হয়ে গেলো, ব্যস, খারাপ লাগা শুরু হলো।

    এই চাকরিটার কথা মনে পড়লেই আমার একটা ঘটনা মনে পড়ে, সবসময়। চাকরী পাওয়ার পর লাবলু ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গেসি। স্টুডেন্ট লাইফে বারবার উনি আমাকে বলে আসতেছেন, ‘খবরদার ইন্টেরিয়র ডিজাইনে যাবানা। সত্যিকারের আর্কিটেক্ট হবা। সব আর্কিটেক্ট মেয়েরা বিয়ে করে সংসারী হয়ে ইন্টেরিয়র করা শুরু করে। খবরদার তুমি এইটা করবা না।’ আমিও মাথা নিচু করে বলে আসতেছি, ‘জী ভাইয়া, অবশ্যই করবো না।’ কিন্তু মুখ ফুটে কোনদিন বলতে পারিনাই, ভাইয়া আর্কিটেকচার আমার ভয় লাগে, আমার পছন্দ ফার্নিচার (আসবাবপত্র হেফাজত আরকি :p)। ইন্টেরিয়র অবশ্য আমারও দুই চোখের বিষ। সেদিন খুব লজ্জা লাগতেছিল লাবলু ভাইয়ের সামনে বলতে যে, আমি একটা ফার্মে ঢুকসি, যারা কেবল আসবাবপত্রই বানায়, যার একটা বড় অংশ আবার রান্নাঘর । আমার চাকরির কথা শুনে উনি আস্তে করে শুধু বলসিলেন, ‘ও। তা যেইটাই করো ভাল করে করো আরকি।’ লাবলু ভাই, আমাকে মাফ করে দিয়েন।

    এই পছন্দের চাকরি থেকেই নিলাম ছয়মাসের ছুটি। প্রথমে আবেগে কান্না চলে আসছিল। কোন কাজ নাই, সারাদিন পায়ের ওপর পা তুলে ঘুম আর ঘুম। গত কয়েক মাস দৈনিক বারো ঘণ্টা কাজ কাজ আর কাজ করে মাথা খারাপ হয়ে গেছিল। আর আমার পতিদেব তার ল্যাবে যাইত কষ্টে শিষ্টে এগারোটায়, তারপর সাড়ে এগারোটায় চা-সিগারেট ব্রেক, তারপর একটায় লাঞ্চ ব্রেক, যেটা দুইটা পর্যন্ত গড়াইতো, তারপর সাড়ে তিনটায় আবার চা সিগারেট ব্রেক, তারপর কোনমতে সাড়ে চারটা পর্যন্ত ফেইসবুকিং করে দৌড়ায় বাসা। আর এখন পুরাই উলটা। পতিদেব পুরাই দৌড়ের ওপর। ভোর সাড়ে ছয়টায় উঠে বাসায় ফিরে রাত সাড়ে সাতটায়। আনন্দে প্রথম দেড়মাস আমি কি করব বুঝে পেলাম না। ঘুম থেকে উঠি এগারোটা/বারোটায়, সাইকেল নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরি, মানুষ দেখি, শহর দেখি। আগে ভাত রানতে পারতাম না, এখন কঠিন কঠিন মুরগী রেধে ফেলি।

    তারপর হঠাৎ করে একদিন দেখলাম আমার ভেতর অদ্ভুত পরিবর্তন আসতেছে। পতিদেবের সাথে তুচ্ছ বিষয়ে খুটখাট করি, প্যাঁপোঁ করি, সাইকেল কেনো আস্তে চলে, রাস্তা কেনো চিনোনা, ঘুমের মধ্যে আমার হাত কেন সরায় দিছো ইত্যাদি ইত্যাদি। অযাচিত অযৌক্তিক সকল রাগ, ঝগড়া করার সময়েই বুঝতে পারি অযৌক্তিকভাবে রাগ করতেছি, তাও গলার রগ ফুলায় ঝগড়া করতে থাকি। আমার ক্লান্ত পতি ততোধিক ক্লান্ত দৃষ্টি মেলে আমায় দেখে। একদিন তুচ্ছতর বিষয়ে তুমুল ঝগড়া করলাম। তারপর বুঝলাম আমাকে দিয়ে হবে না। কাউকে দিয়েই হয় না আসলে। গুরুজনরা শুধু শুধু বলে যান নাই, অলস মস্তিষ্ক আসলেই শয়তানের কারখানা। আমার পার্সোনাল সাইকোলজিস্ট আবার লাভবী (রাব্বী) ভাই। মনের সর্দিগর্মি হলেই আমি কানতে কানতে উনার কাছে দৌড় দেই। উনি খানিক্ষণ চিন্তা টিন্তা করে আবোলতাবোল কিছু একটা বলে দেন, আর আমি সম্পূর্ণ সুস্থ। মনে আছে বিয়ের ঠিক আগ দিয়ে কেমন জানি অস্থির অস্থির নার্ভাস লাগছিলো। হঠাৎ করে আগের দিন লাভবী ভাই সুদূর কানাডার বরফের চাং এর ওপর বসে ফোন দিলেন, পচুর জ্ঞানী জ্ঞানী কথা বললেন, আর সব ঠিকঠাক। আমি বহাল তবিয়তে বিয়ে করতে চললাম।

    এবারও মোটামুটি একই পলিসি কাজে দিলো। আবার আমি নিশ্চিন্ত মনে শহর দেখা শুরু করলাম। নতুন শহরে প্রতিদিনই নিশ্চিন্ত; পানি আছে, গেস আছে, তেল আছে। অনেক রকমের খাবার আছে। এখানে মানুষের জীবন স্বপ্নের মতন, কোন খুঁত নেই, যেন মাইকেল এঞ্জেলোর ডেভিড, যেনো ব্রুনেলেসির হাতে গড়া ফ্লোরেন্স ক্যাথেড্রালের গম্বুজ। এখানে রাস্তাঘাটে ধুপধাপ মানুষ মরে না, এখানে দশটা তিনের ট্রেন ঠিক দশটা তিনেই আসে। আমি আবারও মনে মনে ভাবি, অস্থির শহরের অস্থির সময়ের মানুষ আমি, আমি কিভাবে জানব যে রেলগাড়ি দেরী করে না? রাস্তার গাড়ি যে ভেঁপু বাজায় না? চারিদিকে মানুষ নেই, চুপচাপ নিশ্চুপ। হঠাৎ হঠাৎ বাসাটাই বড় চুপচাপ হয়ে যায়, শুধু ঘড়ির টিকটিক টিকটিক। মনে হয় এডগার এলান পো’র সেই বুড়োর হৃৎপিন্ডের শব্দ শোনা যাবে বুঝি এক্ষুনি।

    একজন সৎ স্থপতি যে শহরের স্বপ্ন দেখে, এ শহরটা ঠিক তেমনি। রাস্তার ধারে গোছানো বাড়িঘর, চত্বর, চত্বরে পানির ফোয়ারা-বসবার জায়গা। রাত নেই দিন নেই, মানুষেরা এখানে বসে বিয়ার খায়, ফূর্তি করে। প্রাণে প্রাণ মেলাবার সমস্ত আয়োজন এখানে করে রাখা আছে। অবশ্য প্রাণে প্রাণ মেলাবার জায়গাটায় এরা বড় কিপ্টে। এখানে বুকে জড়িয়ে ধরার মানুষের বড় অভাব। এখানে মানুষে মানুষে দেখা হলে ভদ্রভাবে হেসে বলে ‘শুভসকাল’, লাত্থি দিয়ে ‘হারামজাদা, তুই মরিস না ক্যান’ বলার রেওয়াজ এখানে নেই। শহরের রাস্তাগুলো যাকে বলে স্থাপত্যের ভাষায় মাকড়সার জালের মত। সবার সাথে সবার সম্পর্ক, ঠিকানা খুজে পাওয়া কঠিন নয় মোটেও। রাস্তার পরেই আবার আলাদা হাঁটার জায়গা, তারও পাশে সাইকেল চালানোর জায়গা। কোথাও কোথাও আবার এক পরত সবুজ। চমৎকার নকশা। সাইকেল চালানোকে উৎসাহ দেয়ার জন্য আছে চমৎকার আবহাওয়া আর কম জনসংখ্যা। ভিড়ভাট্টা নেই, প্যাচপেচে গরম নেই।

    আর সবচেয়ে অবাক লাগে ঝকঝকে তকতকে শহর দেখে, কি চকচকে তার ঘরবাড়িগুলো। একটুও ধুলো নেই, ময়লা নেই। ঘরগুলো দেখে মনে হয় যেন গতকালই রঙ করা। কি অবাক কান্ড। অথচ এক বান্ধবী পেয়েছি, যে থাকে ১৫০০ সালের এক বাড়িতে। আর আমার ভাষাশিক্ষার টিচার, তার বাড়ি ১৭০০ সালের। আমি যে বাড়িতে ক্লাস করি, সেটা এখন মেরামত করছে, সেটা একটু নতুন বটেই, ১৯০০ সালের। এক সকালে ধুলো ময়লা না থাকার কারণের সন্ধান পেয়ে যাই, এক যন্ত্র। একটা গাড়ি চালিয়ে বেড়াচ্ছে এক লোক, তার পিছনে লাগানো গোল এক ঝাড়ু, সেই যন্ত্র দিয়েই ঝাড়ু দিয়ে যন্ত্র দিয়েই ময়লা টেনে আনা, চরম ব্যাপার। আরেক যন্ত্র আছে, ভ্যাকুয়াম ক্লিনারই, সাথে আবার আগুন বেরোয়। আগুনে ময়লা পুরে ছারখার হয়ে শুট করে যন্ত্রর ভেতর ঢুকে হারিয়ে যায়। এদের যন্ত্রপাতি দেখি, আর তাক লেগে যায় আমার। কি শিল্প বিল্পবরে বাবা! এতদিন শুধু বইয়েই পড়েছি, না দেখলে তো বিশ্বাসই করতাম না। চিজ খাওয়ার যন্ত্র, আপেল খাওয়ার, শসা খাওয়ার, মায় ডিম কিংবা আনারস খাওয়ারও যন্ত্র। পাউরুটি কাটতে হবে? তার জন্যও আছে সেই যন্ত্র। এমন এমন যন্ত্র আছে যেগুলো পাবলিকলি বললে মান ইজ্জত ফালুদা হওয়ার আশংকা আছে। টাকা থাকলে কিনা করা যায়। এদের এত এত টাকা কেন?

    এই শহরে খারাপ কি আছে? এখনও খুজে পাচ্ছি না। মানুষের খাবার কষ্ট নেই, ফুটপাথে খাবার খোজা নেই, হঠাৎ করে মরে যাওয়া নেই, দুমদাম বোমা ফাটা নেই। রান্নার কষ্ট নেই, অতিরিক্ত দাম নেই, ছেলেধরা নেই, এমনকি হুট করে জবাই হয়ে যাওয়াও নেই। আমরা বসে বসে প্ল্যান করি প্যারিস যাবো, সারারাত হাঁটবো, আমস্টারডাম যাবো, গাঞ্জা খাবো, লন্ডন যাবো…

    হুট করে সাথে আনা একটা বইয়ের কখানা লাইন মনে পরে যায়। সুব্রত বড়ুয়ার ‘ইতিহাসে বাংলাদেশ’।, পলাশীর যুদ্ধের পরবর্তী সময়ের কথা উনি লিখেছেনঃ ১৭৫৭ সালে ৩রা জুলাই সিরাজুদ্দৌলার খন্ডবিখন্ড মৃতদেহ হাতির পিঠে চড়িয়ে মুর্শিদাবাদের পথে পথে ঘুরানো হয়। একদল মানুষও সেদিন হৈ-হল্লা করতে করতে হাতির পেছনে ঘুরে বেড়িয়েছিল। এদিকে পলাশীর যুদ্ধজয়ের উপহার নিয়ে সেদিনই সামরিক বাদ্য বাজিয়ে ইংরেজদের দ’শ নৌকা কলকাতার দিকে যাত্রা করে। এসব উপহার দিয়েছিলেন নতুন নবাব মীর জাফর আলী খান। সিংহাসনে বসেই তিনি ওয়াদা করেন যে, পলাশীর যুদ্ধের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দুই কোটি পঁচিশ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।

    ১৭৫৭ সালেই ইংরেজরা কলকাতায় টাকশাল বসানোর অধিকার পায়, ১৭৫৯ সালে ক্লাইভ পায় (পাওয়া শুরু করে) এক বিশাল জমিদারি। ১৭৬৫ সালে আসল দ্বৈত সরকার। কোম্পানি তুলবে রাজস্ব, আর নওয়াব নিবে শহরের সকল দায়িত্ব, সোজা কথায় মেয়রগিরি। এজায়গায় সুব্রত বড়ুয়া লিখেছেন, ‘বেশি খাজনা আদায়ের জন্য কোম্পানির কর্মচারীরা কৃষকদের ওপর অত্যাচার করতে শুরু করে…এর ফলে কৃষকরা এমনকি বছরের খাবার ফসলটুকুও রাখতে পারত না।’ এর পরেই ছিয়াত্তুরের মন্বন্তর নিয়ে অধ্যায়টি। যে অধ্যায়ের প্রতিটি লাইন আমি কোট করতে চাই। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার তিন ভাগের এক ভাগ লোক রোগে শোকে অনাহারে মরে গিয়েছিল। পুরো অধ্যায়টা অনেক বড়, তাই আমি অল্প কথায় লিখছি। বেশিরভাগই লেখকেরই লেখা, আমি কেবলমাত্র ছোট করেছি।

    “বিহারে সে সময় দেখা দিল প্রচন্ড খরা। এর ফলে বিহারে ভাদাই বা আউশ এবং বাংলায় চৈতালি ফসলের একটি দানাও ঘরে তুলতে পারলো না চাষীরা। বিহার কোম্পানির রেসিডেন্ট ‘খরার কারণে রাজস্ব আদায় কম হবে’ জানিয়ে দিলেও সে কথায় পাত্তা দিলো না কোম্পানির কর্তারা। খরার সাথে সাথে পূর্ণিয়া, দিনাজপুর, রায়গঞ্জ ইত্যাদি জায়গায় আগুন লেগে পুড়ে গেল একের পর এক শস্যের অনেক গুদাম। এতে দুঃসময়ের জন্য জমিয়ে রাখা শস্য পুড়ে ছাই হয়ে গেল। ১৭৬৯ সালের শেষের দিকে কোম্পানির কর্তারা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কিছুটা আঁচ করতে পেরে সেনাবাহিনীর জন্য চাউল মজুত করা শুরু করে। কোম্পানী খাবার যোগাড় করে রাখল, কিন্তু সাধারণ মানুষ রইল অনাহারে। ১৭৭০ সালের মাঝামাঝি সময়ের মাঝেই মারা গেল দুলাখ লোক। চালের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, আর এ সুযোগ নেয় মহাজন আর কোম্পানির কর্মচারীরা।

    মুর্শিদাবাদে ইংরেজরা জোর করে টাকায় তিন থেকে সাড়ে তিন মণ চাল কিনে তা পরে সেখানকারই দোকানীদের কাছে বেচেছিলো টাকায় ১৫ সের দরে। কোম্পানীর কর্মচারীদের মাঝে আগের বছর যে বিলেতে দু’হাজার টাকা পাঠাতে পারেনি, মন্বন্তরের পরের বছর সে পাঠিয়েছে ৬০ হাজার পাউন্ড। এতে যোগ দিয়েছিল কিছু দেশীয় লোকও। নিয়ামতউল্লাহ খাঁ একাই মুর্শিদাবাদে ১৮ লাখ টাকা আয় করে। আর দেবী সিং নামে এক শুয়োর দুর্ভিক্ষের শুরুতে টাকায় দুমণ করে চাল কিনেছিলো। বছরের শেষে দাম বেড়ে গেলেও সে জোড় করে টাকায় এক মণ (তিরিশ সের) করে চাল কেনে। এই চাল পরে সে বিক্রি করে টাকায় তিন থেকে চার সের দরে।”

    এই সময়টায় এসে নতুন এই শহরের ওপর আমার বড় রাগ হয়ে যায়। আমি বুঝতে পারি জার্মানিতে বসে ইংল্যান্ডের ওপর রাগ করার কোন মানে নেই, তবু আমার সেই অযাচিত অযৌক্তিক রাগ ফিরে ফিরে আসে বারবার। এদের শিল্প বিল্পবে কি আমাদের কোনই অবদান নেই? আমাদের তাঁত শিল্পের ধ্বংস যজ্ঞে ওদের কি কোনই দায় নেই? কিংবা আমাদের অধুনা গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসে?

    আমার শ্বশুর প্রায় প্রায়ই খুব রাগ করে বলেন, আমাদের শোষণ না করলে ইউরোপে শিল্প বিল্পবই হতো না। এই শহরের সবুজে ঘেরা পথে হেটে যেতে যেতে আমার মনে হয়, কতজনকে শোষণ করলে পরে আমরা এরকম একটা শহর বানাতে পারব? আমার শহরটা কবে এরম হবে?

    বোধহয় হবে না। কারণ আমাদের মীর জাফররা মরে না। আমাদের মীর জাফররা বেঁচে থাকে।

৪,১৫১ বার দেখা হয়েছে

৩৮ টি মন্তব্য : “নতুন শহর”

  1. সামিউল(২০০৪-১০)

    আহারে, পড়তে পড়তে কেমন জানি হয়ে গিয়েছিলাম। বিভূতিভূষণের "অশনি সংকেত" এর কথা মনে পড়ছিল বারবার।

    অসাধারণ লাগলো আপু......
    আসলেই

    আমাদের মীর জাফররা মরে না। আমাদের মীর জাফররা বেঁচে থাকে।


    ... কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে!

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    খুব মজা নিয়ে পড়ছিলাম, এমনিতেই দিনলিপি আমার সবসময় ফেভারিট তোমার লেখার গুনে আরো ভাল লাগছিলো কিন্তু শেষে এসে টোনটা বদলে যাবে ধরতে পারিনি। এভাবে মাঝে মাঝেই ভাবি, আমাদেরকে চুষে শেষ করে ইউরোপ আজ নিজেদের ভদ্রতা, সভ্যতা আর উন্নতির বুলি ছড়াচ্ছে। আফ্রিকায় গিয়ে জিনিষটা আরো বেশি ভাবে উপলব্ধি করেছি, সেখান থেকে এখনো তারা শোষন করছে, অন্য নামে, অন্য উপায়ে।

    লেখায় ৫ তারা।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • সামিয়া (৯৯-০৫)

      আজকে এক জর্মানের সাথে আলাপ হচ্ছিলো। সে খুব দুঃখ নিয়ে বলতেছে 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে জার্মানীকে পুরা ধ্বংস করে দেয়া হইছে (কথা সত্যি)। তারপর আরও দুঃখ নিয়ে বলল, রাশানরা নাকি যাওয়ার সময় ওদের ভাল ভাল আর্ট, যন্ত্রপাতি-এইসব নিয়ে গেছে। আমি বললাম, আমি তোমার দুঃখ বুঝি, আমাদের সাথেও ইউরোপ একই কাজ করসে। আমাদের ওরিয়েন্ট থেকে ইংরেজরা ময়ূর সিংহাসন, কোহিনূর হীরা...ও সাথে সাথে বলে, না সেটা আসলে অন্য ব্যাপার। ব্লা ব্লা ব্লা...আমি বললাম, ও রিয়েলী, হু, ইয়েস, ইয়া ইয়া, ব্লা ব্লা ব্লা।

      জবাব দিন
      • মোকাব্বির (৯৮-০৪)

        এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে আসা এক জার্মানের সাথে প্রায় একই ধরনের ঠান্ডা যুদ্ধ হইসিল গত বড়দিনের দিন। ঘুরেফিরে একই কথা। এক পর্যায়ে বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম তারমানে কলোনিয়ালিজমের নাম করে শুষে খাওয়া ঠিক আছে কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানীর ক্ষয়ক্ষতি ঠিক নাই? সেই একই ব্লা ব্লা ব্লা। পরে হাল ছেড়ে দিসি।


        \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
        অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

        জবাব দিন
  3. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    নাফিসের স্টাইলটার ইম্প্রুভাইজড ভার্সন। তারকা নাই যেহেতু পাঁচটা বুড়া আঙুল দেখাই।

    :thumbup: :thumbup: :thumbup: :thumbup: :thumbup:


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
  4. জিহাদ (৯৯-০৫)

    চমৎকার , সামিয়া!
    একই সাথে মনটা ভালো এবং খারাপ হয়ে গেল।
    শুনসি ঐখানে ঘুমানো, আর ঝগড়াঝাটি করা ছাড়া আর কোন কামকাজ নাইঁ । তাইলে আরো লিখোনা ক্যানো?


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  5. রাব্বী (৯২-৯৮)

    পড়লাম। লেখা পড়ে মনে হলো বিদেশে আসলে প্রথম দিকে একটা সময় থাকে যেটারে হানিমুন পেরিয়ড বলে তোমার ওইটা শেষ। আর আগডুম বাগডুম চিন্তা না করে মনোরম শহরকে সুন্দর চোখেই দেখা ভাল।

    অনেকে তেল পড়া নিয়ে মনে করে দোয়ার গুনে রোগ ভাল হয়ে গেছে। তোমার অবস্থাও তাই।


    আমার বন্ধুয়া বিহনে

    জবাব দিন
    • সামিয়া (৯৯-০৫)

      মনোরম শহর পছন্দ হইছে তো। ভালকে ভাল খ্রাপকে খ্রাপ বলিবেন 😀

      আর আমার তেল পড়াই ভাল। তেল পড়া নিয়ে ভালু হইতেই আমার ভালু লাগে। লিখা কি খ্রাপ হইছে? প্রতিবার বিজ্ঞ মতামত প্রদান করেন, এবার করলেন না? :p

      জবাব দিন
      • রাব্বী (৯২-৯৮)

        লেখা ভাল লাগছে সেইটা ঘটা করে বলার কি আছে! চিন্তাশীল লেখা, আমিই আসলে চিন্তার মুডে আছিলাম না। তবে কথা হলো, একটা শহর সুন্দর হয় সেই শহরের মানুষের জন্য।

        জগতের নিয়ম হলো শক্তিশালী দূর্বলের উপর কাঁঠাল ভেঙ্গে খায়। উপনিবেশের, সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব নিয়া ব্যাপারগুলা জটিল, অনেক কিছু নিয়া গেছে ঠিকই, দিয়েও গেছে কাউন্টার-ফ্লো কলোনিয়ালিজম, যেই কারণে আমরা বৈদেশে আসি। শিক্ষা, জাতিরাষ্ট্র, সরকার, রেল, ম্যালাকিছু।

        কোনদিন কেউরে জ্ঞানীগুনী কথা কইছি এটা আমার শত্রুও কইতে পারবে না। আমার নামে অপবাদ দিতেছো!


        আমার বন্ধুয়া বিহনে

        জবাব দিন
  6. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)
    তারপর হঠাৎ করে একদিন দেখলাম আমার ভেতর অদ্ভুত পরিবর্তন আসতেছে। পতিদেবের সাথে তুচ্ছ বিষয়ে খুটখাট করি, প্যাঁপোঁ করি, সাইকেল কেনো আস্তে চলে, রাস্তা কেনো চিনোনা, ঘুমের মধ্যে আমার হাত কেন সরায় দিছো ইত্যাদি ইত্যাদি। অযাচিত অযৌক্তিক সকল রাগ, ঝগড়া করার সময়েই বুঝতে পারি অযৌক্তিকভাবে রাগ করতেছি, তাও গলার রগ ফুলায় ঝগড়া করতে থাকি। আমার ক্লান্ত পতি ততোধিক ক্লান্ত দৃষ্টি মেলে আমায় দেখে। একদিন তুচ্ছতর বিষয়ে তুমুল ঝগড়া করলাম

    :clap: :clap: :clap:


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  7. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)
    এই শহরে খারাপ কি আছে? এখনও খুজে পাচ্ছি না। মানুষের খাবার কষ্ট নেই, ফুটপাথে খাবার খোজা নেই, হঠাৎ করে মরে যাওয়া নেই, দুমদাম বোমা ফাটা নেই। রান্নার কষ্ট নেই, অতিরিক্ত দাম নেই, ছেলেধরা নেই, এমনকি হুট করে জবাই হয়ে যাওয়াও নেই। আমরা বসে বসে প্ল্যান করি প্যারিস যাবো, সারারাত হাঁটবো, আমস্টারডাম যাবো, গাঞ্জা খাবো, লন্ডন যাবো…

    :party:


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  8. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)
    এই সময়টায় এসে নতুন এই শহরের ওপর আমার বড় রাগ হয়ে যায়। আমি বুঝতে পারি জার্মানিতে বসে ইংল্যান্ডের ওপর রাগ করার কোন মানে নেই, তবু আমার সেই অযাচিত অযৌক্তিক রাগ ফিরে ফিরে আসে বারবার। এদের শিল্প বিল্পবে কি আমাদের কোনই অবদান নেই? আমাদের তাঁত শিল্পের ধ্বংস যজ্ঞে ওদের কি কোনই দায় নেই? কিংবা আমাদের অধুনা গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসে?

    :thumbup:


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  9. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    লেখা খুব ভাল হইছে।
    কিছু দিমত আছে; পরে জানাবো।
    মোবাইল থেকে লেখা খুব ঝামেলার।

    তা তোমার দেবতা ক্যামন আছে?
    তারে একটু জিগাও তো লাষ্ট কবে লেখা দিছে?
    নাকি সে কইবো, তোমার এই লেখার পিছনে অনুপ্রেরণা তার???


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  10. মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

    এখানকার শহর নির্মাণে কিন্তু কেবল ডাকাত নয়, অনেক সাধুরও অবদান আছে। শুধু ডাকাতদের কথা ভাবলে খুব হতাশ লাগে, শাহাদুজ্জামানের "আমস্টারডামের ডায়রি" যেই হতাশার জলে পুরোপুরি ডুবে ছিল, একবারের জন্যও মাথাটা তিনি পানির উপর তুলতে পারেন নি।

    অনেককিছুর কারণ ডাকাতি এটা যেমন সত্য তেমনি শুধু ডাকাতদের কথা ভাবলে বেশি হতাশ লাগে এটাও সত্য। কারণ তখন মনে হয় শহর বানাতে বুঝি ডাকাত ছাড়া চলে না, তারমানে আমাদেরও এমন শহর বানাতে ডাকাত হতে হবে। কিন্তু সেটা পুরোপুরি ঠিক নয়, ডাকাত না হয়েও আমার মনে হয় অনেক কিছু করা যায়।

    আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে: ইউরোপের নেতৃত্বে সবসময় ডাকাতরা থাকলেও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নামগুলো একসাথে করলে সেখানে সাধুর সংখ্যাই বেশি পাওয়া যাবে। সেই সাধুদের অধকাংশেরই হয়তো অতো ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু ভবিষ্যৎ নির্মাণে তাদের অবদানই বেশি।

    জবাব দিন
    • সামিয়া (৯৯-০৫)

      হতাশ হয়ো না, ভুলেও কেউ ইতিহাসে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, মাইকেল এঞ্জেলো, কিংবা নিদেনপক্ষে ব্রুনেলেশিদের অবদান অস্বীকার করতে পারবে না। পৃথিবীতে অংক দিয়ে নান্দনিক স্থাপত্যের সৃষ্টি আর সূচনা করেছে গ্রিকেরা, জ্ঞান বিজ্ঞানের আলোর সলতে বাড়িয়েছে তারাই, জার্মানেরা একসময় সারা পৃথিবীর ঘৃণার স্বীকার হয়েছে, কিন্তু বেটোফেন, বাখ আর হেন্ডেলের দেশ এটাই। এদের সুর শুনে শুনে বড় হওয়া কোন জাতি কিভাবে এত ধ্বংসাত্মক কাজ করবে? আমার ধারণার বাইরে। ইটালির ইতিহাসে আছে প্রচুর যুদ্ধ, কিন্তু মাইকেল এঞ্জেলো ঠিকই জন্মেছিলেন। সুপরিকল্পিত নগরায়ন এর শুরু ফ্রান্স, ইংল্যান্ডে।

      সারা পৃথিবীতেই গুরুত্বপূর্ণ সাধু আর আর ডাকাতদের নাম একসাথে করলে সাধুদের বেশি পাওয়া যাবে। এবং অবশ্যই এটাই ঠিক যে, ভবিষ্যৎ কলুষিত করতে ডাকাতদের অবদান থাকলেও, ভবিষ্যৎ নির্মাণে তাদের অবদানই বেশি। এদের উন্নতির জন্য টাকার সুষ্ঠু প্রয়োগ, প্রচুর পরিশ্রম, সৎ প্ল্যানিং...ইত্যাদি ইত্যাদি অবদান আছে। ডাকাতি করা টাকার অবদান শুধু ধাক্কা মারা পর্যন্ত।

      অন্যদিকে একের পর এক ইনভেশনে আমাদের মেরুদন্ড গেছে বাঁকা হয়ে, এখনও কাজ করাটাই ঠিকমত শিখতে পারিনি, সৎ পরিশ্রম দূরের কথা। এই জন্য অভিমান আসাটা স্বাভাবিক। তবে এই উপমহাদেশের অর্থ শিল্প বিল্পবের অণুঘটক।

      'এপ্রিল মাসের ঢাকা শহর' থেকে প্রথম এই দেশে পা রেখে যে ধাক্কা খেয়েছিলাম, সেই ভাবনার প্রেক্ষিতে লেখা এই ব্লগ। লেখাটা আবার পড়ে দেখলাম, দুঃখিত। :

      ডাকাত না হয়েও আমার মনে হয় অনেক কিছু করা যায়

      এই সম্বন্ধে তোমার চিন্তা জানতে পারলে খুশি হবো।

      জবাব দিন
  11. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    ইদানিং কি যেন হইছে, ভাষারা হাড়ায় যাচ্ছে! সত্যি। না হলে এমন সুন্দর একটা লেখা পড়ে কোন মন্তব্যই করতে পারছি না কেন?


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন
  12. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    এই লিখাটা মিস করলাম ক্যামনে, ভাবতেছি!!
    আমি হয় তখনও সিসিবিতে ঢুকি নাই আর নাইলে বিরতিতে ছিলাম।
    যাহক দেরীতে হলেও পড়া হলো, সেটাই বড় কথা।
    আর শুধু পড়াই না, সাথে মুগ্ধতাও অর্জন হলো।
    আজকালকার সিসিবি-তে এরকমের মুগ্ধকর লিখা খুব একটা চোখে পড়ে না।

    তোমারা মনে হয় না আর ফিরবা কারন আমার ধারনা "ব্লগিং কালচার" এদেশে অলরেডি অবসলিট হয়ে গেছে। ব্লগাররাও বিরক্ত।
    আমারা দু-চারজন লেইট স্টার্টার এখনো অপেক্ষায় আছি কবে আসবে আমাদের সেই বিরক্তির দিন, সেই প্রতিক্ষায়.........


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      না, মনে পড়েছে, এই লিখাটা আমি আগেও পড়েছি।
      আর ১৯শে জুলাই ২০১৩-তে, একি দিনে আমি আমার প্রথম ব্লগ পোস্ট করেছিলাম।
      প্রশ্ন হলো, ভুলে গেলাম ক্যামনে?
      সব কিছু ভুলি নাই। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অংশটুকু মনে আছে কিন্তু ভাবছিলাম, হয়তো অন্য কোথাও পড়া।
      তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারন অংশটুকু ভুলে যাওয়ার কারন খুবই সিম্পল - লেখক সম্পর্কে কিছুই জানতাম না।
      আর তাই ওসবের অনেক কিছুই বুঝি নাই অথবা মাথার উপর দিয়ে গিয়েছিল।

      এখন সব কিছু অনেক পরিস্কার, একদম ফক ফকা - তাই মনে হয়েছে যেন প্রথমবার পড়ছি।

      যে কোন আবিষ্কারই আনন্দের, তা যত তুচ্ছ বিষয়কে ঘিরেই হোক। এই যেমন একটা লিখা পড়েছি কি পড়ি নাই - সেটাও তার একটা...
      🙂 🙂 🙂


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।