আমরা এবং আমাদের সস্তা জীবন

বেগুনবাড়ির রেশ কাটতে না কাটতেই কায়েতটুলী, ঢাকা শহরের গায়ে পড়ল আরও একটি দাগ। গতকাল রাত থেকে মৃতের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে ১১৭ তে এসে থেমেছে। আরও বাড়তে পারে, কোন নিশ্চয়তা নেই।

এর পরেও যদি আমরা সচেতন না হই, তবে বলতেই হচ্ছে, আমরা বাঙ্গালী-বাঙ্গালীই থেকে গেলাম। টিভি চ্যানেলগুলোর খবর শুনুতে শুনতে এবং দেখতে দেখতে শিউরে উঠতে হচ্ছিল, এই জায়গাটায় আমরা বহুবার গেছি আমাদের মডেল বানানোর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে। গত বেশ কয়দিন ধরে আমরা পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকাটিতে ঠিক এই বিষয়ের উপরেই একটা সার্ভে করছিলাম, যদি কোন দূর্যোগ ঘটে যায়, তবে উদ্ধারকারী দল পৌঁছবে কেমন করে। শুনে অত্যন্ত অবাক হবেন যে, যে বাড়িটি আগুনে পুড়েছে তার সামনের রাস্তাটা তো তাও অনেক চওড়া ছিল, বোধহয় বারো ফিট হবে, পুরান ঢাকায় চার ফিট, এমনকি তিন ফিটের রাস্তায় গায়ে গা ঘেষে দাঁড়ানো বাড়িও রয়েছে। এসকল বাড়িতে যদি কিছু ঘটে যায়, তবে মানুষগুলো ইঁদুরের মত মরবে। এমন বাড়িও আমরা পেয়েছি যাতে যেতে হয় এক ফিট চওড়া ড্রেনের ওপর দিয়ে, এক জায়গায় বেশি খারাপ অবস্থা বলে সেখানে দু-তিনটে কাঠের তক্তা ফেলানো ছিল।

এখন আপনারা বলুন, যে মানুষটা এই বাড়িটা বানিয়েছে, সেকি নিজের জীবনটাকে নিজেই সস্তা করে ফেলল নাকি এই দেশ তাকে নিরাপদ জীবন দেয়নি? যে কোন দূর্যোগে আমরা চট করে বলে ফেলি, এই দেশ আমাকে একটা বাসযোগ্য পরিবেশ দিল না। ভাই, আগে চিন্তা করুন তো, আপনি বাড়ি করার সময় আপনার তিন তলার ছাদ কি পাশের জমির ওপর দিয়ে চলে যায়নি? আপনার ইলেক্ট্রিকের লাইনটা কি পাশের বড়ি থেকে টেনে এনেছেন? পানির লাইনে কি অবৈধ পাম্প বসানো? দেশকে কেন এত গালিগালাজ করেন ভাই? সরকার কি আমাদের মুখে তুলে খাইয়ে দেবে?

আপনাদের বেশি কিছু করতে হবে না, কেবল নিয়মটা মেনে চলবে। নগরে যে কোন কিছু নির্মাণের জন্য ২০০৯ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে বাংলাদেশ গেজেট, এছাড়াও আছে বিএনবিসি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড)। আপনারা আপনাদের, আপনাদের মামা, চাচা, খালুর, কিংবা আপনার পরিচিত কারুর বাড়ি বানানোর সময় দয়া করে একটু নিয়মটা মেনে বাড়ি বানাবেন। ইঞ্জিনিয়ার কিংবা স্থপতিকে চাপ দেবেন না কোডের বাইরে গিয়ে বেশি জায়গা জুড়ে বাড়ি বানাতে। এরপর ভূমিধ্বসে যখন আপনার ছাদ এসে আপনার তিন বছরের বাচ্চার মাথায় পড়বে, কিংবা আগুন নিয়ে নেবে আপনার স্ত্রীকে, অথবা আপনারই অবৈধভাবে টেনে আনা ইলেক্ট্রিক তারে পুড়ে মরবে আপনার স্বামী, প্লিজ ভাই, দয়া করে সরকারকে দোষারোপ করবেন না অপরিকল্পিত নগরায়নের জন্য।

আমাদের রাজউকের অসংখ্য দোষ, এমন কোন দূর্নীতি নেই যার অপবাদ তাদেরকে দেয়া যায় না। কিন্তু রাজউকের দেয়া কিছু নিয়ম আছে, যেটা ইচ্ছা করলেই কিছু পয়সা খরচ করে আপনি না মানতে পারেন, তবে না মানলে আপনারই ক্ষতি। বেগুনবাড়ী এবং কায়েতটুলীর ঘটনায় আমরা সরাসরি প্রত্যক্ষ করলাম ক্ষতিটা আসলে কি।

আমাদের সরকারেরও অসংখ্য দোষ। তারা দূর্নীতি করে, তারা ঘুষ খায়, তারা নিজেদের পরিবারের কাজের লোক শুদ্ধু বসিয়ে দেয় মন্ত্রী মহোদয়ের চেয়ারে। কেন জানেন? তারা যে আমাদেরই জ্ঞাতি ভাই। আমিই তো ভাই মিথ্যা বলি, এই আমিই তো বাড়ি বানানোর সময় এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়ব না, এই আমিই পয়সা পেলে পানির মাঝে পাইলিং ছাড়া বিল্ডিং বানিয়ে ফেলব ধুমধাম। তারপর যখন আগুনে পুড়ে যাব, কিংবা ধ্বসে যাবে আমার বাড়ি, তখন আমি চোখের জলে ভেসে গিয়ে বলব সরকার যদি এদিকে চোখ দিত…

জীবনটাকে আর কত সস্তা করবেন? দুই দিনের জীবন, একটু দামী ভাবে চলুন না। আর নিজের দোষগুলো নিজের ঘাড়েই চাপাই আসেন, নিজের দায়িত্ব নিজে না নিলে সরকার তো এসে মুখে তুলে খাইয়ে দিয়ে যাবে না। রাজউক আর সরকার, এরা দূর্নীতি করতেই থাকবে। এদের জন্য অপেক্ষা করে থেকে আমাদের জীবনটাকে আর সস্তা না বানাই। প্লিজ চলুন আমরা একটু নিয়ম মানি।

৩,৬৬০ বার দেখা হয়েছে

৩০ টি মন্তব্য : “আমরা এবং আমাদের সস্তা জীবন”

  1. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    রাব্বানী স্যার একটা ঘটনা বলেছিলেন। সেইটা শেয়ার করি।

    কয়েকদিন আগে উনি রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছেন। পাশে একটা ট্যাম্পু মানুষ ভরছে। উনি খেয়াল করলেন ট্যাম্পুটির সামনের চাকায় সবগুলো স্ক্রু লাগানো নাই। ব্যাপারটা ভয়াবহ রকমের রিস্কি, যেকোনো সময়ে চাকা খুলে দূর্ঘটনা ঘটে যাবে। চালককে সেটা বলতে ব্যাটা বললো, স্যার আল্লাহ ভরসা!

    এই যে আল্লাহ ভরসা আল্লাহ ভরসা করে সব কাজে আমরা অতিরিক্ত রিস্ক নেই। আমরা মনে করি, কিছু হবেনা। আসলেই হয়তো প্রতি একশ এমন ঘটনায় ৯৯ বারই কিছু হয়না। কিন্তু একবার তো হয়। একটু সচেতনতা ঐ একটি ঘটনা বা ঐ একটি মর্মান্তিক দূর্ঘটনা থেকে তো আমাদের রেহাই দিতে পারে। আল্লাহর দিকে তাকানোর পাশাপাশি আমরা যদি একটু সচেতন হই, ঐ টেম্পু ড্রাইভারটা যদি একটু সচেতন হয়, সেটা কী খুব কঠিন?

    চানখারপুল এলাকায় সত্যিকার অর্থেই অনেক বাড়ির নীচের তলায় কারখানা, উপরে কাপড়ের গুদাম। তারপর তিন তলা থেকে মানুষের বসবাস। এইসব জায়গায় আগুন লাগলে উপরের মানুষগুলোকে আল্লাহ এসেও বাঁচাতে পারবেনা। হ্যাঁ! এতে করে বাড়িওয়ালার কিছু উপরি ইনকাম হচ্ছে এবং একটু রিস্ক থাকলেও আদতে তো কিছু হয়না তেমন। ৯৯ ঘটনার পর একটা ঘটনা কালকে ঘটল।

    আজকে বুয়েট থেকে বের হওয়া মাত্রই লাশের মিছিল যাওয়া শুরু হলো সামনে থেকে। এতো লাশ যে সবাই একটা করে কফিনও পায়নি। ভ্যানে, ট্রাকে কাপড় মুড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

    আমাদের সবার নিজেদের ক্ষেত্র থেকে সচেতন হওয়া দরকার। আমরা নিজেরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে শুদ্ধ না হলে কেউ এসে আমাদের শুদ্ধ করে দিবেনা ...

    জবাব দিন
  2. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)
    জীবনটাকে আর কত সস্তা করবেন? দুই দিনের জীবন, একটু দামী ভাবে চলুন না। আর নিজের দোষগুলো নিজের ঘাড়েই চাপাই আসেন, নিজের দায়িত্ব নিজে না নিলে সরকার তো এসে মুখে তুলে খাইয়ে দিয়ে যাবে না। রাজউক আর সরকার, এরা দূর্নীতি করতেই থাকবে। এদের জন্য অপেক্ষা করে থেকে আমাদের জীবনটাকে আর সস্তা না বানাই। প্লিজ চলুন আমরা একটু নিয়ম মানি।

    একেবারে হক কথা ......

    জবাব দিন
  3. শহীদ (১৯৯৪-২০০০)

    সামিয়া,
    :salute: অসাধারণ লেখাটার জন্য। আমাদের অনেকেরই হয়তো লেখার অভ্যাস নেই, নয়তো প্যাশন। তবুও নিজের মনের কথাগুলো এভাবে কারো কাছে শুনলে কি যে ভালো লাগে...
    আর এজন্যই সিসিবি কে অনেক ভালোবাসি

    জবাব দিন
  4. সাইফ শহীদ (১৯৬১-১৯৬৫)

    বিগত রাত থেকে আজ সকাল (আমেরিকার সময়) পর্যন্ত অনেকবার দেখলাম পোড়া মানুষদের ছবি। এটি কি শুধুই একটি দূর্ঘটনা?

    মনে পড়লো কাজের মধ্যে একদিন হঠাৎ করে বেজে উঠলো ইমারজেন্সি ঘন্টা। শুনলাম 'ফায়ার ড্রিল' হচ্ছে। লিফটের বদলে সবাই সিড়ি বেয়ে নামলাম। নেমে কোথায় যেয়ে দাড়াতে হবে সেটাও পরিস্কার ভাবে লিখে ও ডায়াগ্রাম একে সব দরজার পাশে ঝোলানো আছে। বছরে ২/৩ বার করা হয় এই ড্রিল। এই ড্রিল করার জন্যে প্রতি বারে ২৫,০০০ ডলারের বেশী খরচ হয় বলে আমার হিসাব। এই খরচের কি কোন দরকার ছিলো? - তখন ভেবেছিলাম আমি।

    পাবলিক প্লেস - যেমন রেস্তোরা, ইত্যাদিতে একাধিক দরজা এমন ভাবে বানানো হয় যাতে ভেতর থেকে ধাক্কা দিলেই দরজা খুলে যায়। এর ফলে হঠাৎ কোন ঘটনা ঘটলে যাতে সবাই নিরাপদে বের হতে পারে।

    নগর সরকার এবং বীমা কোম্পানীর নিয়ম মানতে আমাকেও বাড়ীতে স্মোক এলার্ম এবং অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্র রাখতে হয়। এতটা খরচ খমোখা কেন - ভাবতাম আমি।

    ঢাকার পোড়া মানুষদের ছবি দেখে বুঝলাম এদেশের মানুষরা কেন এই খরচটা করে। সরকার এবং বীমা কোম্পানী কেন নিয়ম করে এগুলি মানাতে সবাইকে বাধ্য করে।

    জবাব দিন
  5. জিহাদ (৯৯-০৫)

    কাল দুপুরে পলাশীর মোড়ে দাঁড়িয়ে একের পর এক লাশ দেখলাম, চোখের সামনে দিয়ে চলে যাচ্ছে, চিরতরে চোখের আড়াল হয়ে যাওয়ার জন্য। সেই মিছিলের মধ্যেই হঠাৎ চোখে পড়লো সাদা কাপড়ে মোড়ানো ছোট্ট একটা পুটলী। কত বয়স হবে, হয়তো চার, হয়তো পাঁচ, হয়তো আমারই ভাগ্নীর বয়সী। সেটা দেখার পর থেকে সারাটি দিন খালি সেই সাদা কাপড়ের পুটলীটা চোখের সামনে ভাসছে। মনটা বড় বিষণ্ন।


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  6. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    দরকারী একটা পোস্ট দিয়েছো সামিয়া, তবে সমস্যা হলো এত বড় ঘটনার পরেও আমাদের বোধদয় হয় না, নিয়ম মানার ব্যাপারে আমাদের বড়ই অনিহা। কবে যে আমরা বদলাবো?

    এদের জন্য অপেক্ষা করে থেকে আমাদের জীবনটাকে আর সস্তা না বানাই। প্লিজ চলুন আমরা একটু নিয়ম মানি।

    :thumbup:


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  7. আছিব (২০০০-২০০৬)

    আপু,অনেকদিন পর লিখলেন এবং যথারীতি গত দুদিন আমার মাথায় টনটন করা জ্বালাটা আপনি কমিয়ে দিলেন,সাধারণ সালাম :salute:

    বেগুনবাড়ির সেই বিল্ডিং এর পিলারগুলো দেখে ভীষণ রাগ হচ্ছিল।মানুষ এতটা অবিবেচক কিভাবে হয়!!এতটুকু সেন্সও নাই যে পানির উপর জাস্ট পিলার দিয়ে একটা ৪ তলা বাড়ি বেশিদিন টিকা সম্ভব না!তার উপর আবার ৫ তলার কাজ শুরু করল! একটা মাঝারি আর দীর্ঘ ভূমিকম্প হলে আমরা কজন যে বাঁচব তার নমুনা এখান থেকে মোটামুটি টের পাওয়া যায়।

    কাল জুম্মার পর হলের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লাশ গুলো নিয়ে যাওয়া দেখছিলাম,এত লাশ!এত! কি নির্মম! আজ সকালে পেপার খুলে তাজ্জব হয়ে গেলাম।১১৭ জন!আরো বাড়তে পারে!

    সরকারকে কেন দোষ দিব,সরকারও তো বাঙ্গালী দিয়েই গঠিত,আজ আমরা ছাত্র,কাল আমরাই দেশ গঠন করব! আসলে আমরা বড়ই হুজুগে জাতি। নিজের সুবিধা বড় করে দেখি,কিন্তু দেশটাও তো আমাদের! এ কথা আমরা ভুলে যাই! আমরা কিভাবে দেশটাকে টেনে নিয়ে যাব?!! কত সমস্যা চারিদিকে! পুরান ঢাকা পুরা ঘিঞ্জি......আর নতুন ঢাকা কি খুব খোলামেলা??দিনে দিনে যেভাবে লোক বাড়ছে আর জমি ভরাট করে এ্যাপার্টমেন্ট হচ্ছে,তাতে আর কিছুদিন পর নতুন-পুরান কোনটাই আলাদা করা যাবে না 🙁

    জবাব দিন
  8. অত্যন্ত সুন্দর একটি লেখা। খুবি দরকারি একটা মেসেজ তুলে ধরেছেন আপনি। তারপরও এই মেসেজের বিয়ন্ডে হয়তো আরো কিছু ভাবতে হবে আমাদের। দেশের জনসংখ্যা যে হারে বেড়ে চলেছে, জমির পরিমানও দিনদিন কমছে।সাথে বাড়ছে দাম। অল্প যেটুকু বাকি আছে, তার মধ্যেই সামান্য আয়ে মানুষ কোনমতে মাথা গোজার আশ্রয় করে নিচ্ছে। কারণ বিকল্প উপায় হয়তো অধিক টাকা দিয়ে সেই জমির উপরই মজবুতভাবে পরিকল্পনা মোতাবেক বাড়ি বানানো নয়ত বসুন্ধরা, শাইনপুকুরের সোনার হরিণ জমি। সাধ থাকলেও সাধ্য কোথায় আপু? তবে অধিক মুনাফার আশায় তলার পর তলা বাসা বানিয়ে ভাড়াটিয়া দের ঝুকির মুখে ফেলা অবশ্যই নৈ্তিকতা এবং আইন বিরূদ্ধ।

    জবাব দিন
  9. সামিয়া (৯৯-০৫)

    মন্তব্যের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ, আর যারা শেয়ার করেছেন, তাঁদেরকেও।

    বেগুণবাড়ির ঘটনার পর পরই মানুষের টনক নড়া শুরু হয়েছে, আরও তিনটা ভবনের কথা শোনা গেল একদিনেই, দয়াগঞ্জ, শান্তিনগর আর স্বয়ং বেগুনবাড়িতেই আরও একটা। এতদিন কিন্তু তাঁরা এর মাঝেই বাস করেছেন, আজকে তাঁদের খেয়াল হয়েছে শুধু।

    সবার কাছে অনুরোধ, ভবন নির্মাণের সময় যে আইনকানুন আছে, তা মেনে চলবেন। যদি সঙ্গতি না থাকে, তো চারতলা বানাবেন না, সাধ্য ছাড়িয়ে সাধ মেটানোর তো কোন দরকার নেই।

    জবাব দিন
  10. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    লেখাটা নিয়ে কোন মন্তব্য করবো না। কারণ মন্তব্য করার মত যোগ্য হয়ে উঠতে পারিনি। ঘটনাক্রমে নবাব কাটরার ঘটনার সময় বকশিবাজারের আশেপাশে ছিলাম। ঘটনার বিভীষিকা মোটামুটি কাছ থেকে দেখেছি। এতদূর থেকে দেখেছি অথচ আমার স্নায়ুকে পীড়া দিয়েছে আড় তার মাজএ থেকে ফিরে আসা লোকগুলোর অবস্থা অনুমান করতে পারি। তবে আমার যেটা বিরক্ত লেগেছিলো ঘটনার ভয়াবহতায় আচ্ছন্ন সময়ে মজা দেখতে কিছু লোক জটলা পাকাই। আমরাই ফায়ার সার্ভিসের কাজ কঠিন করে দিই পরে তাদের গালিগালাজ করি। ( সেই সময়ের মানবতার দাবীতে যারা এগিয়ে গিয়েছিলেন তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে উপরের মন্তব্য।)

    জবাব দিন
  11. শান্তা আপার সাথে সাথে এই একই প্রশ্ন আমার মনের মধ্যে অ অনেক দিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে, আমাদের নিজের দেশে নিয়ম না মেনে কেন আমরা বিদেশে গিয়ে নিয়ম মেনে চলি?এই সব শিক্ষিত মানুষ যখন অশিক্ষিতের মত আচরণ করে, সত্যি বলতে কি, খুব ঘেন্না করে। 🙁

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।