শূন্য থেকে যার শুরু (সংকলন)

সবাই চেয়েছেন, সিসিবি-র ১০০০তম পোস্টটি হোক ইতিহাস বিষয়ে, জগৎ ও জীবনের ইতিহাস না, এই সিসিবি-র ইতিহাস। সিসিবির সূচনা এবং যাত্রাপথ সম্পর্কে একটি সাধারণ ধারণা দেয়াই এর উদ্দেশ্য। অনেক কিছুই হয়ত বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে না, নৈর্বক্তিক পোস্টে খুব বেশী কিছু আশাও করা যায় না। ইতিহাসের চেয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা মানুষগুলোই গুরুত্বপূর্ণ, সেদিক দিয়ে সিসিবি-র সবাই সিসিবি-র ইতিহাস। নিজেদের এই ইতিহাসকেই কিছুটা নৈর্বক্তিক করে তোলার কাজ তাহলে শুরু করে দেয়া যাক:

* শুরুটা ইংরেজি উইকিপিডিয়া থেকে। কারণ তখন সিসিবি-র বর্তমান সদস্য কেউই ব্লগের সাথে খুব বেশী জড়িত ছিলেন না। ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে ইংরেজি উইকিপিডিয়াতে “Cadet Colleges in Bangladesh” নামে একটি নিবন্ধ লেখা হয়। ক্যাডেটরা ফাঁকিবাজ। তাই এই কাজটি করতে গিয়েও তারা বাংলাপিডিয়া থেকে কপি-পেস্ট করেছিলেন। যথারীতি নিবন্ধটি মুছে দেয়া হয়। কিন্তু উৎসাহ তাতে কমেনি, বরং বেড়েছে। এক সময় ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় ১০টি ক্যাডেট কলেজ নিয়ে আলাদা আলাদা নিবন্ধ লিখা হয়।

* অবশেষে প্রথম আলোতে রাগিব হাসানের প্রচারণার সুবাদে বাংলা উইকিপিডিয়ার খোঁজ পাওয়া যায়। বেশ কয়েকজন এক্স-ক্যাডেট বাংলা উইকিপিডিয়ায় লেখা শুরু করেন। তখনই এই প্লাটফর্মে ক্যাডেট ফিলিংসের গোড়াপত্তন হয়। এই ফিলিংস থেকেই একটি টেম্পলেট বানানো হয় যাতে লেখা ছিল “এই ব্যবহারকারী একজন এক্স-ক্যাডেট”। এক্স-ক্যাডেট উইকিপিডিয়ানরা তাদের ব্যবহারকারী পাতায় এই টেম্পলেটটি রাখা শুরু করেন। সেই এক্স-ক্যাডেট উইকিপিডিয়ানদের নাম এখানে দেখতে পাবেন: বোকা মানুষটা (মহিব), মুহাম্মদ, রায়হান আবীর, স্বপ্নগুলো তোমার মত (জিহাদ), স্যাম ঝ্যাং (সামিয়া)।

* কিছুদিন পর ইংরেজি উইকিপিডিয়ায় ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের নিবন্ধে রাহুল দেওয়ান (প্রাক্তন কলেজ প্রিফেক্ট) ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়। উনি পরিচয় করিয়ে দেন আরিফুর রহমান ভাইয়ের (ফৌজিয়ান-১৭৬০) সাথে। আরিফ ভাইয়ের নিজের একটি সার্ভার আছে এবং সেই সার্ভারে তিনি OFA-র একটি উইকিভিত্তিক ওয়েবসাইট চালান। আরিফ ভাইয়ের সার্ভারে অচিরেই মেকার উইকি এবং এককের উইকি চালু হয়।

* ওদিকে জিহাদ তখন ভাবছে অন্য কিছুর কথা। তিনমাসের ম্যারাথন ছুটিতে কি করা কি করা যায় ভাবতে ইন্টারনেটের ইতিউতি ঘুরে বেড়াচ্ছিল তখন একদিন গুগলে কোন একটা সার্চ রেজাল্টের লেজ ধরে সামহোয়ার ইন ব্লগের খোঁজ পেয়ে যায় একদিন। অভ্রর সাথে ওর পরিচয় এরও বেশ কয়েকদিন আগেই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ইন্টারনেটের খোলা আঙিনায় নিজের খুব চেনা শব্দগুলোকে এমনভাবে সেইই প্রথমবারের মত দেখা। প্রেমে পড়তে সময় লাগেনি। সেই প্রেম পরিণতিতে এসে ঠেকলো সেদিনই ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করার মাধ্যমে। ব্লগিং শুরু করার কিছুদিন পরেই আবার ভাবনাতে এল অন্য চিন্তা; সামহোয়ার ইন যখন ঘোষণা দিল তারা আলাদা ভাবে গ্রুপ ব্লগিং এর শুরু করতে যাচ্ছে। গ্রুপ ব্লগিং এর কথা শুনে আবার সেই কলেজ লাইফের আড্ডাগুলো ভার্চুয়াল অবয়বে ফিরিয়ে আনার কথা মাথায় আসলো ওর। যেই ভাবা সেই কাজ। ঝটপট একটা মেইল লিখে ফেললো নতুন একটা গ্রুপ খোলার আবেদন জানিয়ে সামহোয়ার ইন কর্তৃপক্ষ বরাবর।” Dear sir, i want to open a group blog named “স্মৃতিময় ক্যাডেট কলেজ”….” মেইল লেখা শেষ করে ড্রাফট হিসেবে সেভ করে রেখে দিল আরেকটু ঘষামাজা করার দরকার আছে কীনা ভেবে। কারণ যে করেই হোক গ্রুপটা খুলতেই হবে। কোন ভাবেই মিস হতে দেয়া যাবেনা।

* এই অবস্থায় পরদিন ইয়াহু মেসেঞ্জারে রায়হানের নক। মেকা উইকি সাইটের একটা পেজের লিংক দিয়ে বললো ওখানে ক্যাডেট কলেজের জন্য একটা স্মৃতিচারণমূলক ব্লগ খুলেছে ও আর মুহাম্মদ মিলে। তেমন আহামরি কিছু নয়। একটা উইকি সাইটে নতুন একটা পৃষ্ঠা তৈরি করে তাতে ব্লগের মত করে সবকিছু সাজানো হয়েছে। ওদের দুইজনের পাশাপশি তুহিনকেও দেখা গেল। আর “স্যাম ঝ্যাং” নামের এম জি সি র কেউ একজন। কি অদ্ভূত নাম! জিহাদ ভাবলো। ওদের সাথে ভীড়ে মিশে যেতে সময় লাগলোনা একমুহূর্তও। ছোট হোক, তবু নিজেদের তো। নিজেদের মত করেই না হয় তাকে সাজিয়ে নেয়া যাবে ধীরে ধীরে। প্রথমে লেখা সেই মেইলটা ড্রাফট ফোল্ডারেই থেকে গেল। sent items এ ঠাঁই পাওয়া আর হলোনা। কারণ সামনে তখন আরও বড় কিছুর হাতছানি….
প্রথম বিশুদ্ধ ক্যাডেটীয় ব্লগিং প্লাটফর্মের যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালের ৮ই ডিসেম্বর। এজন্য এই দিনটিকে ক্যাডেট কলেজ ব্লগের জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। এই দিনই মেকার উইকিতে “Blog for all” নামে একটি আলাদা পৃষ্ঠা তৈরী করা হয়েছিল। সচলায়তন বা সামহোয়ারইনের মত সাধারণ প্লাটফর্মে ক্যাডেটীয় আড্ডা খুব বেশী জমতো না। নিজেদের জায়গায় শুধু নিজেরা থাকলেও সবকিছু আপন আপন লাগছিল।

* কিন্তু উইকিতে অনেক ঝামেলা ছিল। সেখানে অটোমেটিক কিছুই হতো না। সাম্প্রতিক মন্তব্য অপশনটাও নিজেদের যোগ করতে হত। তাই প্রকৃত ব্লগিং প্লাটফর্মের প্রয়োজনীয়তাটা বেড়ে যায়। হাতে দুটি অপশন ছিল: সামহোয়ারইনে ক্যাডেটদের জন্য একটি আলাদা গ্রুপ করা অথবা ওয়ার্ডপ্রেস বা ব্লগস্পটের মত ব্লগ হোস্টিং সাইটগুলোতে নতুন ব্লগ শুরু করা। অবশেষে জিহাদ ওয়ার্ডপ্রেসে একটি ব্লগ তৈরী করে যার ঠিকানা ছিল: //cadetcollege.wordpress.com

ওয়ার্ডপ্রেসে সিসিবি* ওয়ার্ডপ্রেসের এই ব্লগ সাইটটি ক্যাডেটীয় ব্লগিং জগতে বিপ্লব এনে দেয়। সামহোয়ারইনে যেসব ক্যাডেট ব্লগিং করতেন এবং যারা ব্যক্তিগত ব্লগিং এ অভ্যস্ত ছিলেন তারা সবাই একে একে এখানে পাড়ি জমান। তখনও খুব বেশী ব্লগ আসতো না। অনেকে পড়লেও নিয়মিত লেখক বেশ কম ছিল। বিভিন্ন ইয়াহু গ্রুপ এবং ফেসবুকে প্রচারণার কারণে আস্তে আস্তে সংখ্যাটি বাড়তে থাকে। এমন একটি সময়ই সবকিছু পরিবর্তন করে দেন কামরুলতপু ভাই। প্রতিনিয়ত মজার মজার সব কাহিনী লিখে যেতে থাকেন। আমরা অচিরেই বুঝতে পারলাম: এখনই সময় cadetcollegeblog.com নামে একটা স্বাধীন ব্লগ শুরু করে দিতে।

* শুরু হয়ে গেল জল্পনা-কল্পনা। স্থিতিশীল অবস্থা আসতে অনেক সময় লেগেছে। অনেকগুলো ধাপ পার হতে হয়েছে। প্রথমেই ডোমেইন কেনা দরকার ছিল। তারেক ভাই (কনফুসিয়াস/মু. নূরুল হাসান) cadetcollegeblog.com ডোমেইনটি কিনে ফেললেন। এখন কেবল হোস্ট প্রয়োজন। প্রথমে হোস্টিং এর দায়িত্ব নিলেন ওফা উইকির আরিফুর রহমান ভাই। হোস্ট কেনা বাদ দিয়ে আমরা আরিফ ভাইয়ের লিনাক্স সার্ভারেই সাইট শুরু করলাম। সাইটের ডিজাইন নিয়ে মির্জাপুরিয়ান নাজমুল ভাই অনেক সাহায্য করেছিলেন। তিনি নিজে বেশ কয়েকটি ডিজাইন করেও দিয়েছিলেন।

সিসিবির প্রথম থিম* সিসিবি-র সদস্য সংখ্যা খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। আরিফ ভাইয়ের সার্ভারের সব ট্রাফিক আমরা একাই খেয়ে ফেলতে থাকি। তাই সার্ভার পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়। এরই মধ্যে আবার dot5hosting এ জায়গা কেনা হয়। কামরুলতপু ভাই জায়গা কেনার ব্যবস্থা করেন, জাপান প্রবাসী আরেক বড় ভাই স্পন্সর করেন। কিন্তু সেই হোস্টের স্পিড ভাল ছিল না। নাজমুল ভাইয়ের ডিজাইন করা সাইটগুলো সেই সার্ভারে আসতে অনেক দেরি করছিল। তাই ডট ফাইভ হোস্টিং আবার বিক্রি করে দেয়া হয়। এ সময় হোস্টিং করতে এগিয়ে আসেন এক্স-বিসিসি শফি ভাই।

* শফি ভাইয়ের সার্ভার থেকে পরবর্তীতে আমরা হোস্ট মনস্টারে চলে যাই। হোস্ট মনস্টারে সিসিবি ছাড়া আরও পাঁচটি ব্লগ ছিল। এর মধ্যে একটি হল মুক্তাঙ্গন। মুক্তাঙ্গনের মডারেটর রায়হান রশীদ ভাই (ফৌজিয়ান ৮৬-৯২) এক্ষেত্রে আমাদেরকে সহায়তা করেন। কিন্তু একই সার্ভারে একাধিক ব্লগ থাকায় বিভিন্ন ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়। আমরা নিজেদের আলাদা জায়ঘার কথা ভাবতে থাকি। অবশেষে hostmonster থেকেই আলাদা জায়গা কেনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। ততদিনে সানাউল্লাহ ভাই, ফৌজিয়ান ভাই, কামরুল হাসান ভাই, সায়েদ ভাই, ফয়েজ ভাই সহ আরও অনেকে চলে এসেছেন। সিসিবি এক পুরোদস্তুর ব্লগে পরিণত হয়েছে। hostmonster এর হোস্টিং স্পন্সর করেন মরতুজা ভাই। নিজস্ব সার্ভারে আবার নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে সিসিবি।

এই হল সিসিবির অতি সংক্ষিপ্ত এবং অসম্পূর্ণ ইতিহাস। যার শুরু হয়েছিল শূণ্য থেকে। সেখান থেকে আজ এসে দাঁড়ালো এক হাজারতম পোস্টের আঙিনায়। আপনাদের মন্তব্যের মাধ্যমেই এর ইতিহাস পূর্ণতা পাবে। তাই মন্তব্যে আপনার সিসিবি-তে আসার কাহিনী এবং সিসিবি সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অংশটুকু পরবর্তীতে এই লেখায় যুক্ত করা হলো।


রায়হান আবীর

১…

সিসিবি আমার নিজের জীবনের বেশ বড় একটা অনুপ্রেরণা। সিসিবির এই দাঁড়িয়ে যাওয়ায় আমি একটা স্বপ্ন পূরণের ছোঁয়া পাই। আমি তাই কখনও হতাশ হইনা। কারণ পৃথিবীর কত কত মানুষ আছে- যাদের জীবনের কোন স্বপ্নই পূরণ হয়নি। আমার একটা স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমাদের সবার একটা স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

২…

একবছর আগের ছুটিতে আইইউটিতে। সারাদিন ঘুমাই, সারারাত জেগে থাকি। উইকি এডিট করতাম- মাঝখানে, তখন সেটাও ভালো লাগতো না। নেটে বসে বসে ইয়াহু আনসারে ঘুরাঘুরি করি খালি। এমন সময় গুগল করে মুহাম্মদ সামুর খোঁজ পেল। সেখানে সে মারাত্মক জ্ঞান গর্ভ এক ব্লগ লিখলো।

মুহাম্মদকে দেখে আমার সখ জাগলো আমিও ব্লগ লিখবো। বাংলায় আমি টেস্টে ৮৬ পেয়েছিলাম- কিন্তু ব্লগ লিখতে যেয়ে বুঝলাম আমাকে দ্বারা হবে না। কারণ মুহাম্মদের ব্লগ দেখে আমি বুঝেছিলাম ব্লগে খালি তীব্র আঁতেলীয় জিনিস লিখতে হয়। আঁতলামী লেখা আমাকে দ্বারা হবে না।

আমার মাথায় খালি ক্যাডেট কলেজের কাহিনী ঘুরে। সেগুলোই লিখতে ইচ্ছা করে। ডিনার শেষে চা খাচ্ছি- দোকানে বসে, তখন ওকে বললাম- চল আমরা একটা ব্লগ খুলি। সেখানে শুধু ক্যাডেট টাইপ লেখা থাকবে। মুহাম্মদ আমার কথাটিকে বড়ই গুরুত্ব দিলো। সেদিন রাতেই আমরা বসে বসে মেকার ঐ সাইটটিতে ফ্রেন্স উইকির মতো করে একটা ব্লগ পেজ তৈরী করে ফেললাম। তারপর লিখতে বসে গেলাম। আমি একটা লিখলাম, মুহাম্মদ লিখলো। মেসেঞ্জারে জিহাদকে জানানো হলো- আমাদের পরিকল্পনার কথা।

৩…

সেই সময়টায় স্যামের সাথে প্রায় প্রতিদিনই মেসেঞ্জারে কথা হতো। এই মেয়েটার সাথে আমার বিরাট খাতিরের একটা কারণ- ওর সেইরকম ক্যাডেট প্রীতি। বাংলা উইকিতে ও যখন যোগ দিল, তখন আমি একদিন রাতে ওর পাতায় ক্যাডেট টেম্পলেটা যোগ করে দিলাম, সেটা দেখে ওর কী আনন্দ।

আমার প্রায় সকল ধরণের প্ল্যান পোগ্রাম ও খুব মন দিয়ে শুনে। তারপর যদি বলি তুইও চলে আয়, তখন একদম পরিষ্কার করে “না” বলে। ক্যাডেট কলেজ ব্লগের ক্ষেত্রেও তাই। ও নাকী লিখতে পারে না। ওর লেখার সাথে আমার পরিচয় অনেক আগে থেকেই। ৩৬০ এর চিপায় ওর লেখা পড়ে আমি অনেক আগে থেকেই ওর ভক্ত।

না বললেও শেষমেশ মেয়েটা সব কিছুতেই থাকে। আমাদের ক্যাডেট কলেজ ব্লগেও সে যোগ দিলো- সুন্দর একটা লেখা দিলো।

তারপর আসলো তুহিন। ইশ!! কী সুন্দর দিন ছিল। আমরা নিজেরাই লিখতাম, নিজেদের পিঠ চাপড়াতাম।

৪…

মুহাম্মদ যেটা বললো, উইকি ভিত্তিক সাইটে আসলে ব্লগিং করা যায় না। কারণ সব কিছুই ম্যানুয়ালি করতে হয়। তাই জিহাদ ব্লগটাকে ওয়ার্ডপ্রেসে সরিয়ে নিল। আমার একদমই ইচ্ছা ছিল না। মনে হচ্ছিল- যা আছে থাকুক।

মেইলে দুই দিন ইনভাইটেশন পড়ে ছিল। তারপর একদিন জয়েন করলাম। ততদিনে মাত্র দুই খান ব্লগ লিখেই আমার মনে হলো, আর কী লিখবো??

ওয়ার্ড প্রেসের সেই ম্যান্দামারা সাইটটাকে একদম জমিয়ে দিলো, হাসনাইন- তার কতিপয় ডায়লগ পোস্টটা দিয়ে। তারপর ধীরে ধীরে তপু ভাই আসলেন, মাস্ফু ভাই আসলেন।

মনে আছে ওয়ার্ডপ্রেসে সবচে বেশী হিট হয়েছিল একদিন বন্যর সাথে সামান্য কথাকাটাকাটির জের হয়ে। বন্যটা অল্পতেই মাইন্ড খায়- সেদিনও খেয়েছিল। আমরা সবাই মিলে ওরে শান্ত করলাম। অভিমানী হলেও সে ছেলে ভালো- রাগ বেশীক্ষণ পুষে রাখে না।

৫…

তারপরের কেচ্ছা কাহিনী সবার প্রায় জানা। মাঝখানে স্মৃতিচারণ লেখার চাপে আমি বেশ কিছুদিন অনুপস্থিত ছিলাম। সেই সময়টাকে জিহাদ সিসিবিতে আগলে ধরে রেখেছিল। আগলে ধরে রেখেছিল আরো অনেক মানুষ।

একটা ভালো সাইট হিসেবে সিসিবিকে দাঁড় করানোর পেছনে জিহাদের অবদান সবচে বেশী। বেচারা পড়ালেখা বাদ দিয়ে সারাদিন সিসিবি নিয়ে পড়ে থাকতো/ থাকে। ওকেই সবচে বেশি স্যালুট।

৬…

সেদিন আইইউটির এক ভাইয়ের সাথে মেসেঞ্জারে কথা হচ্ছে। উনি আমাদের নিয়মিত পাঠক। বললেন, তোমাদের ব্লগটা দাঁড়িয়ে গেলো দেখে খুব ভালো লাগছে। রাইটার বেইজটা আরেকটু ভালো হলে- দেখবা ব্লগ কই যায়।

আমাদের বেইজটা ধীরে ধীরে আরও ভাল হবে। আপাতত দিন রাত চব্বিশ ঘন্টা সিসিবিকে সময় দেওয়ার জন্য কামরুল ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা। সায়েদ ভাই, ফয়েজ ভাই এর মতো ডেডিকেট লেখকদেরও। যারা শুধু মন প্রাণ দিয়ে সিসিবিকেই ভালোবাসেন- সব শ্রম এক করে এখানেই লিখেন। ক্যাডেটদের মাঝে এমন আরও অনেকেই হয়তো আছেন। ধীরে ধীরে আমরা তাদেরও পাবো। সিসিবি ধীরে ধীরে আরও সমৃদ্ধ হবে।

৭…

ইফতার পার্টিতে ক্যাডেট কলেজের এক ছোট ভাইয়ের সাথ দেখা হলো। কথায় কথায় সে আমাকে জানালো- সে সিসিবির লেখা পড়ে। ওর নেট নাই। বন্ধুর রুম থেকে পেইজগুলো সেভ করে রুমে গিয়ে তারপর পড়তে হয়। ওর এই কথাটায় আমার এত ভালো লেগেছিল- সেটা আসলেই প্রকাশ করা যাবে না।

হাজারতম পোস্টে তাই সবাইকে ধন্যবাদ। যারা অফলাইনে থেকে হলেও আমাদের সাথে আছেন, যারা নিয়মিত লিখছেন, যারা তানভীর ভাই কাইয়ুম ভাইয়ের মতো মন্তব্যেই জীবন পার করে দিতে চাচ্ছেন- তাদের সবাইকে।


সামিয়া’৯৯

আমার নিজের কথা বলতে ভুলে গেছি, তাই কম্পু খুলে আবার চলে আসছি :shy: । একটি মন্তব্যে সংক্ষেপে দিতে বলা হইছে, যদিও এই নিয়ে আমার তিন নম্বর মন্তব্য। :shy:

রায়হান একদিন মেসেজ পাঠাল, মুহম্মদ reminiscence লিখার জন্য একটা সাইট খুলছে, আমি যেন এক্ষুণি দৌড় দিয়ে গিয়ে ওইখানে লিখে আসি।
আমি জীবনে reminiscence শব্দটা শুনি নাই, মানুষজনের কত জ্ঞান এটা ভাবতে ভাবতে ডিকশনারী খুলে অর্থ দেখলাম, আর অর্থ দেখার পর আক্ষরিক অর্থেই দৌড় দিয়ে এসে পিসির সামনে বসলাম। সেই বসাই শেষ বসা, তারপর আর ওঠা হয়নাই 🙁 😡 :chup:
এই সাইটের জন্য মাঝে মাঝে একে ওকে বিরক্ত করা ছাড়া আমি আর কিছুই করি নাই,ভাবলে দুঃখই লাগে 🙁 । বিশেষ করে তরফদার সাহেব, ও থাকতে কেন যে বিল গেটস কে হেড বানায় রাখছে… :-B এই ছেলেটাকে এত বিরক্ত করছি, শান্ত মুখে সমস্ত প্রবলেম সল্ভ করে দিছে (মনে মনে নিশ্চুই চৌদ্দ গুষ্ঠী তুলে গালি দিছে 😡 )
আর রায়হান আমার যে জ্বালাতন সহ্য করছে, তাতে আমি তার ধৈর্য্য প্রতিভায় মুগ্ধ। মানুষ কোন রিপ্লাই আশা না করে মানুষের জন্য বহুত কিছু করতে পারে, এটা এরে না দেখলে আমি জানতাম না।
আর একজন তো আছে মাশআল্লাহ, যে জ্ঞানের জ্ঞান, যে কোন দিন ঈর্ষার কোপানলে পড়ে আমি মুহম্মদ সাহেবকে খুন করে বসতে পারি।
আরও তুহিন, ইশতিয়াক, উল্কার মত ধুম করে আসল হাস্নাইন সাহেব…অর্চি আর নাবিল-এই দুইটা এমুন আইলসার আইলসা, টাইপ করতে কষ্ট বলে ব্লগ লিখে না…সুষমা বেচারা খুবই লিখতে চায়, কিন্তু ওর নেট নাই 🙁 …আর মহিব নামের ছেলেটাকে পেলেও আমি খুন করে ফেলতাম, এত সুন্দর একটা সিরিজ (আমাদের পান্ডুলিপি) শুরু করে শেষ করে নাই ।
বন্যর লিখাগুলা খুব মিস করি, বন্য তুই আবার ‘এক্স ও ওয়াই কেমন বন্ধু’ টাইপ লিখা দে রে :tuski: আর ওই ধরা দেওয়া টাইপ কমেন্টশিল্প শুরু কর।
ব্লগের সব মানুষজনকে নিয়ে লিখতে ইচ্ছা হইছে…… ~x(
……………………………………………………………………………………………………
(এইখানে সব্বাইরে নিয়ে কথাবার্তা, সময় সংক্ষেপনের জন্য দেখাতে পারছে না বলে বিটিভি দুঃখিত :-B )
……………………………………………………………………………………………………

পরীক্ষা সামনে, ব্লগ থেকে দুইশ মাইল দূরে থাকার চেষ্টা করলেও কেমনে কেমনে জানি চলে আসি। আর আসব না, ধুর। ফাউল জায়গা। খালি সময় নষ্ট। যা পড়তে বস ফাজিল। 😡



সাইফ (৯৪-০০)

আমি খুওব অলস প্র কৃতির মানুষ অনেকটা ধাক্কায় চালিত,আড্ডা বাজি করে বিড়ি ফুকে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে টানা কয়দিন এক কাপড়ে কাটীয়ে দিতে পারি,সেই মানুষ্টা যখন মরুভুমিতে এসে একাকীত্ব আর অসহয়ত্বে কান্না কাটি করতে শুরু করল এমন এক সময়ে প্রানপ্রিয় দোস্ত কাম রুল মেসেঞ্জার এ লিঙ্ক দিয়ে বল ল এইখানে এখুনি নিবন্ধন কর,সেই থেকে বল্গের সাথে বন্ধুত্ব।লিখতে পারি না,আলসেমির কারণে এমন কি ম ন্তব্যো দিই না,সব সময়,কিন্তু চুপি চুপি সব ই পড়ি আর মজা লই……………ব্লগ এডজুটেণ্টের মান আছে বেশি লিখা যাবে না………এই ব্লগের পথি কৃত আর স্রস্টাদের জন্য রইল :salute:


ওবায়দুল্লাহ (১৯৮৮-১৯৯৪)

সিসিবির ইতিহাসে জড়িত সকল উদ্যোক্তা এবং এর সক্রিয় এবং সকল পাঠককেই ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা জানাই।
:clap:

একদিন আমরা থাকব না। রয়ে যাবে সিসিবির পাতায় আমাদের আনাগোনা।

হাজার পেরিয়ে এর পোস্ট সংখ্যা বাড়ুক জ্যামিতিক হারে।
এই কামনা করি।


কামরুলতপু

তখন আমার খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল। সারাদিনই মন খারাপ করে বসে থাকতাম। এমন একটা জায়গা দরকার ছিল যেখানে গিয়ে হাঁপ ছাড়ব। সচলায়তনে ঢুকতে চেয়েছিলাম। নিজের ভিতরের অচেনা কষ্ট গুলাকে কলমে আকৃতি দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অতিথি লেখক হয়ে ভাল লাগছিল না। তখনই সিসিবির খবর পেলাম কলেজের সাইটে। যেদিন প্রথম সিসিবি ব্রাউজ করি সেদিন আমার টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা চলছে। এরপর পরীক্ষা শেষ হল যেদিন টানা ৪ ঘন্টা লাগিয়ে সব লেখা পড়লাম তারপর শুরু হল আমার ব্লগিং। রাতে ঘুমাতে পারতাম না কিছু না কিছু মাথায় চলে আসত লেখার জন্য। আজ থেকে প্রায় ১ বছর আগের কথা। এক বছরে ১০০০ পোষ্ট মানে গড়ে দিনে ৩ টা সিসিবি সেই ছোট্ট সাইট থেকে আজ পূর্ণাঙ্গ ব্লগ হয়ে উঠেছে এত আনন্দ কই রাখি? সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন। যারা লেখেন যারা কমেন্টান যারা পড়েন সবার জন্য।


রহমান (৯২-৯৮)

সিসিবির শততম পোষ্টের একজন অংশীদার হিসেবে আমি অত্যন্ত গর্ববোধ করছি। এই মূহূর্তে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার ছোট বড় সেই সব ভাই-বোনদের প্রতি যাদের পরিশ্রম, অধ্যাবসায় এবং অসাধারণ কন্ট্রিবিউশন বা অবদানের কারনে সিসিবি ধীরে ধীরে একটি পূনাংগ ব্লগে রুপান্তরিত হচ্ছে। এই কৃতিত্বের দাবীদার কম বেশি আমাদের সবার।

আমি কিভাবে এই ব্লগের সন্ধান পেলাম তা আমার ব্যক্তিগত ১ম পোষ্টেই বিস্তারিত বলেছিলাম। হাজারতম পোষ্ট এবং সিসিবির ইতিহাস স্মরণের এই মাহেন্দ্রক্ষনে আমি আবারো স্মরণ করি এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ক্যাপ্টেন সায়েদ (বিসিসি ৯২-৯৮ ব্যাচ) এর প্রতি যার মাধ্যমে আমার এত সুন্দর একটি জগতে অনুপ্রবেশ। লাইবেরিয়ার মতো আফ্রিকার একটি বিনোদনহীন (আমাদের জন্য) অনুন্নত দেশে শান্তিরক্ষী মিশনে এসে সিসিবির সন্ধান পাওয়া আমার কাছে অনেকটা গহীন অরণ্যের মধ্যে রাজপ্রাসাদ পাওয়ার মতোই ব্যাপার। তাইতো অবসর সময়ের প্রায় পুরোটাই এখন আমার কাটে সিসিবির পরতে পরতে, আনাচে কানাচে। সম্মোহিতের মতো তাই সারা দিন-রাত বসে থাকি আমার কম্পিউটারের মনিটরের সামনে। কি যে এক মায়াজালে জড়িয়ে গেলাম! যতই দিন যাচ্ছে এই মায়ার জাল যেন ততই আমাকে আষ্টে পিষ্টে বেঁধে ফেলছে।

শুন্য থেকেই যেমনি সব কিছুর শুরু হয়, তেমনি আজ জানতে পারলাম সিসিবির শুরুটাও হয়েছিল শুন্য থেকেই। আমার ভাবতেই ভাল লাগে যে আমার চেয়ে ছোট ছোট অনেক ভাই বোন রা এই ব্লগটি শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছিল এবং তারা সফল হয়েছে। তাদের নিরলস সাধনা, এবং দৃঢ় মনোবলই সিসিবিকে আজ এই অবস্থায় আনতে সক্ষম হয়েছে। ১০ ক্যাডেট কলেজকে এভাবে এক সুতায় গাঁথার যে বিরল দৃষ্টান্ত এরা দেখাল তা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার।

এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয় যে সিসিবি অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ১০০০ তম পোষ্ট অতিক্রম করতে পেরেছে। শুধু কোয়ান্টিটিই নয়, কোয়ালিটিতেও সিসিবি পিছিয়ে নেই। কি কাব্য, কি বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, চলতি ঘটনা কিংবা যেকোন সাহিত্যচর্চা, বিভিন্ন গঠনমুখী আলোচনা, কিংবা বিনোদনমূলক বিষয় ইত্যাদি যুগোপযোগী বিষয়সমূহের সবই এখন সিসিবিতে স্থান করে নিয়েছে।

সময়ের তালে তালে সিসিবি আগের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে এলেও আমাদের লক্ষ্য থাকবে একে শ্রেষ্ঠ একটি ব্লগে পরিনত করার। এজন্য আমাদের সবার গঠনমুখী অবদান রাখতে হবে। এই পথ পাড়ি দিতে অনেক বাঁধা ও প্রতিকূলতা এসেছিল এবং সামনে আরো বাঁধা আসতেও পারে। সেজন্য আমাদেরকে মানসিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।

সিসিবির যে দিকটি আমার সবচেয়ে ভাল লাগে তা হলো এখানে সিনিয়র জুনিয়রদের মধ্যে যে চমৎকার একটা সুস্থ্য সম্পর্ক বিদ্যমান তা খুবই বিরল। পরস্পরের প্রতি এই শ্রদ্ধাবোধ এবং সহনশীলতা সিসিবিকে অনেকদূর নিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। এই ব্লগের আরেকটি আকর্ষনীয় দিক হলো এখানে সাহিত্য ছাড়াও হরেক রকম বিষয় নিয়ে লেখালেখি ও আলোচনা হয়, যা বিভিন্ন শ্রেনীর বা স্তরের পাঠকের চাহিদা পূরণ করতে কার্যকরী ভুমিকা রাখে। লেখার ক্যাটাগরী যত বাড়ানো যাবে ততোই এর পাঠকের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

সিসিবি আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় জীবনেও অনেক উপকার বয়ে আনতে পারে। সিসিবির মাধ্যমে আমরা অনেক কিছুই করতে পারি এবং পারব। এর ছোট একটি উদাহরন হলো গত জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ বা জানার ক্ষেত্রে সিসিবির ভুমিকা। অনেক অতিথি পাঠকরা এসে আমাদের ব্লগ থেকে সেদিন ফলাফল জেনে নিচ্ছিল। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের জন্য একটি গর্বের বিষয়। তথ্য-প্রযিক্তির এই যুগে মিডিয়ার ক্ষমতা যে কতখানি তা নিশ্চয়ই আমাদের কারো অজানা নয়। সিসিবি একটি পূর্নাঙ্গ ব্লগ হয়ে উঠলে এর মাধ্যমে জন সচেতনতা, সামাজিক আন্দোলন সহ বিরাট বিরাট বিপ্লব ঘটানোও সম্ভব বলে আমার বিশ্বাস। এর ছোট একটি উদাহরন হতে পারে- “রাজাকারদের বিরূদ্ধে গন-সচেতনতা সষ্টি করা”। সামাজিক ভাবেও সিসিবি আমাদের উপকারে আসতে পারে যার উদাহরণ- “সিমির জন্য সাহায্যের হাত বাড়ানোর আবেদন”

একটি বিষয়ে আমি সবার দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাই। আমাদের দেশে, বা বিদেশে অবস্থানরত ক্যাডেটদের সংখ্যা হিসেব করলে আমি বলব, সিসিবির বর্তমান সদস্য সংখ্যা সময়ের তুলনায় অত্যন্ত কম। এক বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও আমাদের সদস্য সংখ্যা আজ মাত্র ৪১০ জন। এই সংখ্যাটা ইতিমধ্যে কয়েক হাজারে উন্নীত হওয়া উচিত ছিল। আমি মনে করি এ সংখ্যাটা বাড়ানোর জন্য আমাদের সবার আরো অনেক বেশি উদ্যোগ নেয়া উচিত। সদস্য সংখ্যা বাড়লে ব্লগে লেখা ও কমেন্ট সর্বোপরি এই ব্লগের মান অটোমেটিক্যালি অনেক বেড়ে যাবে।

সিসিবি আমাদের নিজের বাড়ি, নিজের ঘর, নিজের পরিবার। চলুন সবাই মিলে আমাদের এই ঘরকে আরো গুছিয়ে রাখি, সাজিয়ে তুলি, রাঙ্গিয়ে তুলি মনের রংতুলি দিয়ে।

আরো অনেক কথা বলার ছিল। কিন্তু আমি একাই সব বলে ফেললে অন্যদের প্রতি অবিচার করা হবে। তাই আমার মন্তব্য আর না বাড়িয়ে পরিশেষে আমি বলতে চাই, আসুন আমরা সবাই মিলে সিসিবিকে একটি যুগান্তকারী শ্রেষ্ঠ ব্লগে রূপান্তরিত করি যার মাধ্যমে শুধুমাত্র ক্যাডেট পরিবারই নয়, বরং এই দেশ তথা সমগ্র জাতি উপকৃত হবে।

সিসিবির সবার জন্য রইল শুভকামনা। ধন্যবাদ


কনক

তপু ভাইয়ার কাছ থেকেই সিসিবির খোঁজ পাওয়া।ও পড়ে পড়ে আমাকে মজার মজার সব কাহিনী বলতো।আস্তে আস্তে আমিও সিসিবির একজন হয়ে গেলাম।অন্য কোন ব্লগে আমার যাতায়াত নাই তাই সিসিবিই আমার কাছে সব।

আশা করি আমাদের সবার প্রানের জায়গা হয়েই থাকবে এই সিসিবি।

সিসিবি কে :salute:
সব সিসিবিয়ানদের কে :salute:


তানভীর (৯৪-০০)

আমি প্রথমেই ধন্যবাদ জানাব ‘৯৯ ব্যাচের সেইসব ক্যাডেটদের যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আমাদের ব্লগটি এতদূর আসতে পেরেছে। এরপর ধন্যবাদ দিতে চাই এই ব্লগের অন্তঃপ্রাণ কিছু মানুষদের যাদের বাড়ানো ভালোবাসার হাত ধরেই ব্লগের পুরাদমে পথ চলা। প্রথমদিকে সদস্য হলেও আমার সক্রিয় অংশগ্রহন হয় (মানে কমেন্ট দেয়া আর কি!) অনেক পরে। চলার পথে দেখেছি শুধুই ক্যাডেট কলেজের স্মৃতিমূলক ব্লগ থেকে একটি পূর্ণাংগ ব্লগে এর রূপান্তর, হয়েছি এই ইতিহাসের সাক্ষী। দেখেছি সিনিয়র-জুনিয়রদের পারস্পরিক ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধ। শিখেছি মতের অমিল থাকা স্বত্তেও কিভাবে আরেকজনের কাছে নিজের কথাটুকু বলা যায়। শুধু বড়দের কাছেই নয়, ছোটদের কাছ থেকে যে কতকিছু শিখেছি তার ইয়ত্তা নেই। আজ লিখতে গিয়ে এত কথা মাথায় চলে আসছে যে কোনটা বাদ দিয়ে কোনটা লিখব বুঝে উঠতে পারছিনা।
এই ব্লগটা কখন যে আমার প্রাণের প্রিয় অনুভূতিগুলোকে নাড়া দিয়ে মনের আরো গভীরে প্রবেশ করে ফেলল টেরই পেলাম না।

আমাদের প্রাণের সিসিবি আজীবন তার সৌন্দর্য্যটুকু নিয়ে বেঁচে থাক, এই শুভকামনা রইল।


রাফি (০২-০৭)

আমি সিসিবি তে আসি ফেসবুক থেকে। কিন্তু এসেই আমার মাথা খারাপ হয়ে যায়। কত বার যে কতকিছু পরে হেশেছি, কেঁদেছি। টার্ন আউট ক্যাডেট বলে অনেক কষ্ট হত। কিন্তু সিসিবি আমার সেই কষ্ট দূর করেছে। ধন্যবাদ সিসিবি এবং সিসিবির সকল ভাই ও বোনদের, তাদের এই নিরলস চেষ্টার ফলেই আজ আমরা আমাদের নিজেদের একটা জায়গা পেয়েছি। আমার পক্ষ থেকে তাদের সকলকে

জেনারেল সালাম :salute:


সাকেব (মকক) (৯৩-৯৯)

“এমন ব্লগটি কোথাও খুঁজে পাবেনাকো তুমি”

বাংলা ব্লগিং থেকে মোটামুটি অবসর নিয়ে ফেলেছিলাম বছর দুয়েক আগে…হঠাৎ কামরুলতপুর কাছ থেকে খোঁজ পেলাম সিসিবি’র…তার আগে বলে নেয়া ভালো যে, আমি আপাদমস্তক একজন ক্যাডেটকলেজ প্রেমিক মানুষ; অনেক চেষ্টা করেও ক্যাডেটদের প্রতি নিজের নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব আর দুর্বলতা কিছুতেই লুকায়ে রাখতে পারিনা…তাই এতোগুলা ক্যাডেটের সাথে প্রতিদিন আড্ডা মারতে পারার সুযোগ- এরচেয়ে আনন্দের ব্যাপার আর কিছু হতে পারেনা…চোখে দেখা-একটু ভালো লাগা- কাছে আসা – জড়িয়ে পড়া- তারপর শুধু মাতাল অনুভব…

এতোদিন “স্বপ্ন দিয়ে তৈরী, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা” সেই ছয়টা দুর্দান্ত বছর শুধু মনের মনিকোঠাতেই পাথেয় হয়ে ছিলো…সিসিবি আমার প্রতিটা দিনই নতুন করে স্বপ্ন দিয়ে ভরে দিলো, স্মৃতি দিয়ে ঘিরে দিলো…

এই ব্লগের উদ্যোগের সাথে যারাযারা জড়িত, তাদের সবাইকে শুধু ধন্যবাদ দিয়ে আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারবোনা…ক্যাডেট কলেজের প্রতিটা ইট-কাঠ-ঘাস-ফুল কে একদিন যেমন নিজের করে ভাবতাম, সিসিবি আবার ফিরিইয়ে দিয়েছে সেই একান্ত আপন আপন অনুভূতিটা…তার সাথে ভালো লাগা, ভালো লাগা…

আমার ভাবতে খুব ভালো লাগে যে, আমাদের দেশটার সত্যিকারের পরিবর্তন শুরু হবে একদল ক্যাডেটদের হাত দিয়ে…আমি জানি, সেই দলে আমার এই আপন বাড়ির বাসিন্দারাই হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ…


জুনায়েদ কবীর(৯৫-০১)

সিসিবি দিয়েই আমার ব্লগযাত্রা শুরু, অন্য কোথাও যাবার আর প্রয়োজন বোধ করি না… :-B
সিসিবির সামনের-পেছনের (কেউ অন্যভাবে নিয়েন না…) সবাইকে… :just: :salute:

একটা কবিতা দিয়ে শেষ করি-

যেখানে সীমান্ত তোমার
সেখানে বসন্ত আমার

…ধুর্‌র…আবার মনে হয় অপ্রাসংগিক হয়ে গেল… :bash:
যাই হোক, কবিতাটা পূর্বে অন্য কোথাও প্রকাশিত…তাই অনেকের কাছে পরিচিত মনে হতে পারে… :-B


মু. নূরুল হাসান (৯৪/ক)

৯৯ ব্যাচের পুঁচকা গুলারে আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক অভিনন্দন। এইরকম দারুণ একটা কাজ করার জন্যে বেশ শক্তপোক্ত ধরণের স্বপ্ন দেখতে হয়, তা না হলে সেটার বাস্তবায়ন হয় না। সেদিক দিয়ে জিহাদ-রায়হান-মুহাম্মদ-সামিয়া ওরা সবাই সফল স্বপ্নবাজ! হ্যাটস অফ টু ইউ।
*
সিসিবি-র খবর যে কেমন করে পেয়েছি সেটা আজ অনেকক্ষণ ভেবেও কিছুতেই মনে করতে পারলাম না। 🙁
জিহাদ-রায়হান-মহিব, এই তিনজনের সাথে পরিচয় ঘটেছে সচলায়তনে। অতিথি ব্লগারদের পোস্ট পড়তে গিয়ে দেখি ক্যাডেট নিয়ে লেখা। আমি তো দুই লাফে গিয়ে পড়া শুরু করলাম। যেটা হয়, দেখি সেখানে মন্তব্যের খরা, আমিই উৎসাহ ভরে সেইসব পোস্টে মন্তব্য করতাম। তখনো ভালমতন পরিচয় হয়নি ওদের সাথে। তারপর কেমন কেমন করে জানি, সম্ভবত ওদেরই কোন লেখার সূত্র ধরে বা অন্য কোন উপায়ে খোঁজ পেলাম ওয়ার্ডপ্রেসের ব্লগটার। তারপর আর কি, এই স্বপ্নে শামিল হয়ে গেলাম আপনাতেই।
*
ক্যাডেটদের নিয়ে ব্লগ করার বেশ কিছু ব্যর্থ চেষ্টা এর আগে আমি করেছিলাম। অনেকগুলা কারণেই পারিনি। আমার বন্ধুদের অলসতা, অথবা এককে আমার অজনপ্রিয়তা একটা কারণ হতে পারে আমার ব্যর্থতার। 🙂 তাই শেষমেষ হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। এ কারণেই যখন সিসিবির খোঁজ পাই, শুরু থেকেই লেগে ছিলাম। ( এই সুযোগে মুর্দাবাদ জানিয়ে দিই সেইসব পাপিষ্ঠদের যারা আমাকে ফাঁকিবাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে আদাজল খেয়ে লেগেছে! শুরুতে আমি ছিলাম রেগুলার অন প্যারেড। নো মকরামি!)
*
সত্যি কথা হলো, ঐ ৯৯ এর পিচ্চিগুলার অস্বাভাবিক মনের জোরে সিসিবি একেবারে তরতর করে এগিয়েছে। তবে, সিসিবি-র সাম্প্রতিক চেহারার জন্যে জিহাদ্রায়হান্সামিয়ামুহাম্মদের সাথে সাথে আমি যার কথা বলবো, সে হলো কামরুল। এই পোলাটা একাই একশ। মাঝের সময়টায় প্রায় একাই মাতিয়ে রেখেছে পুরো সিসিবি। এবং আমার ধারণা কামরুল-কে সিসিবিতে টেনে আনার বুদ্ধিটা সিসিবি এবং আমাদের সবার জন্যে একটা বিরাট “রাশির গুণ”। ( ওবায়দুল্লাহ ভাইয়ে-র কাছ থেকে ধার নিয়ে বললাম।)
*
সিসিবি প্রতি মুহুর্তেই বেশ চমকিত করেছে।
আমার নিজের ধারণা আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো, আমাদের চেইন অব কমান্ডটা। অন্য সব ব্লগকেই যে জিনিসটা রীতিমত কষ্ট করে গড়ে নিতে হয়, আমরা সেটা আপনাতেই পেয়ে গেছি। নামের পাশে সন দেখে আমরা আদর আর সম্মান বরাদ্দ করে দিই সাথে সাথে। বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সব ব্লগারদের কাছে তাই আমার অনুরোধ থাকবে, এই জিনিসটা যে কোন ভাবে যেন আমরা ধরে রাখি। একটা চমৎকার সুন্দর পরিবেশ এখানে রাখার জন্যে এর বিকল্প কিছু নাই।
*
সিসিবি শুধু স্মৃতিচারণ নির্ভর না হয় যেন, সে জন্যে শুরুর দিকে আমরা ইচ্ছে করেই ভিন্ন লেখা নিয়ে আসতাম। কিন্তু এখন আর সেরকম কোন কষ্টই করতে হয় না। সিসিবি-তে এত এত ভাল লেখক আছে যে আমার ভীষণ গর্ব হয় এর একটা অংশ হতে পেরে।
পুরানো যাদের চিনি তারাতো আছেই। এখানে এসে যাদের সাথে পরিচয় হয়েছে তাদের অনেকের লেখা পড়ে চমকিত হয়েছি। সায়েদ ভাইএর বহুমাত্রিক লেখা দেখে অবাক হয়ে যাই, একটাই মানুষ অথচ কত গুণ! ফয়েজ ভাইয়ের গল্পের গাঁথুনিও কি অসম্ভব চমৎকার। মুগ্ধ হই আন্দালীবের লেখা পড়ে, সানাউল্লাহ ভাই এবং তৌফিক এরও। আর ওবায়দুল্লাহ ভাইয়ের লেখার আমি সাম্প্রতিক পাংখা। জুনায়েদের কমেন্ট পড়ে হাসতে হাসতে কী বোর্ড থাপড়েছি এরকম কতবার ঘটেছে! ফৌজিয়ান ভাইয়ের দুর্দান্ত গ্রাফিক্স, রহমান ভাইয়ের নানামূখী লেখা, আর আপাতত গর-হাজির তাইফুর ভাইয়ের সবার সাথে, বিশেষ করে জুনার সাথে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য মনে থাকবে সবসময়। আমার তিন দোস্ত কামরুল-টিটো- আর তানভীরের কথা বলাই বাহুল্য। এবং সিসিবিতে আমার আরেকজন প্রিয় মানুষ- আমাদের সকলের পরিচিত বৃক্ষ মাস্ফ্যু!
এই মানুষগুলারে কেমন করে পেতাম সিসিবি না থাকলে?
*
একেকটা দিন কাটাই আর জীবনের কাছে ঋণ বেড়ে যায়। তো, আজ এই মর্মে ঘোষণা দিয়ে ফেললাম, এই ঋণ বেড়ে যাবার অন্যতম কারণ এখন সিসিবিও!
সবাইকে অনেক শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন!


ফৌজিয়ান

আগের একটা পোস্টে ডিটেইলস লিখ্যাফেলছিলাম 😀

কতদিন আগের কথা? বছর খানেক কি? হতে পারে, একটু আগে পরেও হতে পারে। ইন্টারনেট এ বাংলা সাইটগুলোতে ব্লগে ব্লগে ঘুরে বেড়াই। কিছু ভালো লাগে, কিছু লাগেনা। কোনোটাতে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছা হয় আবার কোনোটার হোমপেইজ হয়তো জীবনে একবারই দেখেছি, প্রথমবারই। কিন্তু শান্তি আর পাইনা। নিজের মনে হয়না কোনো কিছুই। আমার কাছের বন্ধুরা বলে আমি নাকি অনেকটাই অসামাজিক। হতে পারে। কিন্তু এই আমিই হঠাৎই উইকির ইনফোকিউবের কিছু লেখালেখির লিংক পেয়ে উৎফুল্ল হয়ে উঠি। হ্যা, সেটি ছিলো আমাদের সিসিবির সেই আদি সাইট। বুঝতে পারি আই ইউ টি’র কয়েকটা পিচ্চি সাথে একই ব্যাচের (৯৯-০৫) আরো কয়েকজন এক্স ক্যাডেট মিলে ক্যাডেট কলেজের স্মৃতি রোমন্থনের জন্য নিজেদের একটা অনলাইন লেখালেখির জায়গা বেছে নিয়েছে। পড়তে ভালো লাগে। নিজেদের ক্যাডেট লাইফের প্রতিফলন দেখি। কিন্তু অংশগ্রহণ আর করা হয়না।

হঠাৎ ওরা তাদের উইকি পেইজটাকে ওয়ার্ডপ্রেসে নিয়ে আসলো সব বয়সী সব কলেজের ক্যাডেটদের নিয়ে আরো বড় কিছু করার জন্য। তাও শেষমেশ দেখি ওরা ওরাই। আমি যাই প্রতিদিনই। একটা নাম রেজিস্টারও করি।

এইখানে এড করি আরো,
তখন ওয়ার্ডপ্রেসে এনোনিমাস কমেন্ট করতাম।
প্রথম লেখি (আসলে লেখি না, কপি পেস্ট করি 😀 ) “কিপ ক্যাডেট কলেজ ক্যাম্পেইন”
তারপর থেকেতো আছিই 😀
লেখালেখি পারিনা। আপাততঃ সিনিয়র সিসিবি মহলে মার্কেটিংএর কাম করতাছি 😀 সো ব্যাকগ্রাউন্ড ওয়ার্কফোর্সের সমস্ত জুনিয়র সিনিয়র ভাইদেরসহ নিজেকে একটা লম্বা :salute:



কামরুল হাসান (৯৪-০০)

সে এক বিরাট ইতিহাস। ঘরে ছিলো না কেরোসিন। পরিবার বললো কেরোসিন লাগবে……। 😀
ধুর!! কিয়ের মধ্যে কি কই……। 😛

তখন ফেব্রুয়ারি মাস মনে হয়। ২০০৮। ;)) একদিন সুন্দর সকালে ডাইরেক্ট ইংরেজিতে sylhet cadet college লিখা গুগোলে সার্চ দিলাম। যা রেজাল্ট আসছিলো সেইগুলি সব দেখা শুরু করলাম। ১৩ না ১৪ নাম্বার পাতায় গিয়া একটা সাইট দেখলাম, //cadetcollege.wordpress.com। ঢুইকা দেখি, কিছু বদ পোলাপাইন মিলা হাউকাউ করতেছে, বাংলায়, কেউ বাংলিশে। রেজিস্ট্রেশন কইরা মেম্বার হউয়ার সুযোগ ছিলো, হইয়া গেলাম। পাসওয়ার্ড কাজ করতেছিলো না, জিহাদরে ঝাড়ি দিয়া তাও ঠিক করাইলাম। তারপর চলে আসলাম। এবং ভুইলা গেলাম। ~x(

এর পর আবার অনেকদিন বাদে নেটে ঢুইকা মনে পড়লো ক্যাডেট কলেজের কিসে জানি মেম্বার হইছিলাম। মেইল থেইকা ওইটা খুইজা বের করলাম। তারপর গিয়া দেখি, আরে এইখানে তো আমারে নিয়া আলোচনা চলতাছে।

tareq, on মার্চ 16th, 2008 Project Management 5:18 pm Said:।।
এইখানে সিলেটের আমাদের ব্যাচের কামরুল (তপুদের দুই ব্যাচ আগের) লিখছিলো দেখছিলাম একবার। ওরে কি ইনভাইটেশান পাঠানো হইছে?
না পাঠাইলে শিগগির পাঠাও, ধইরা বাইধা যেমনেই হোক নিয়া আসো। ও হইতেছে আমার দেখা সবচে গ্রেট গল্পবাজ!

কামরুলতপু, on মার্চ 16th, 2008 Project Management 5:26 pm Said:
কামরুল ভাইকে পাঠানো হইছে উনি জয়েন ও করেছে। কিন্তু ওনার কাছ থেকে কোন লেখা পাইনাই।

এক্কেরে আবেগাপ্লুত হইয়া গেলাম। কি করা যায় , ভাবছি। এমন ভাবে আরো কিছুদিন গেলো।

১২মে। ২০০৮।
আমাদের ৯৪’ব্যাচের ওইদিন বর্ষপূর্তি ছিলো। সেদিন আমি ফার্স্ট লেখা দিলাম। কোথায় পাবো তাদের-১।
আপনারা হয়তো বলবেন নিজের গুনগান করতেছি, কিন্তু সত্যি বলছি মাইরি, প্রথম সিনেমা হিট হয়ে গেলো। ব্রেক পেয়ে গেলাম।
একের পর এক শিল্পা শেঠী, ঐশ্বরিয়া রাই, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, কারিনা সবার সাথে ছবি করার অফার আসতে লাগলো। কিন্তু আমি খুব বুঝে শুনে, আমির খানের মতো বছরে একটা সিনেমা করার সিদ্বান্ত নিলাম। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে খুব সমঝদার হতে হয়।

শিল্পা শেঠীর সাথে কোথায় পাবো তাদের-২ সুপারহিট হলো। এরপর করলাম ঐশ্বরিয়া রাইয়ের সাথে জলপাই রঙের গল্প। সেটাও বক্স-অফিসে আলোড়ন তুললো। এরপর রিলিজ পেলো প্রিয়াঙ্কার সাথে দুষ্ট ছবি আর দুষ্ট গানের গল্প। ঢাকা নারায়ঙ্গঞ্জ সহ সারাদেশে এই ছবির গান সবার মুখে মুখে। সমালোচকরাও খুব প্রশংসা করলেন। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয় নি।

এখন তো আমার শিডিউলই নেই। হলিঊড থেকেও দুএকটা অফার এসেছে। কিন্তু আমার কাছে সবার আগে আমার দেশ । তাই আপাতত অন্য কোথাও যাবার কথা ভাবছি না।

সবশেষে আমার ভক্তদের জন্য অনেক শুভেচ্ছা। :-* :-*


তাইফুর (৯২-৯৮)

আমি এক্কেরে শেষের দিকে জয়েন করা, ‘জুস খাওয়া’ পাব্লিক। পোলাপাইন খাইট্টা খুইট্টা “শূণ্য” থিকা বানাইছে, আমি মজা নেই।

জয়েন করার প্রথম দুই মাস রাতে ঠিক মত ঘুমাইতে পারতাম না, এই বুঝি নতুন লেখা এল, পালটা কমেন্ট’এর চান্স ছুটে গেল … সেই সময় ‘দিনের সর্বোচ্চ মন্তব্যকারী’ খানা ছিল না … থাকলে …

মাঝখানে আফ্রিকানদের ‘বোতল প্রীতি’র কল্যানে তিন সপ্তাহ ডিসকানেক্টেড থাইকা কষ্ট যখন যন্ত্রনা’র রূপ নিল, তখন বুঝলাম, সিসিবি ছাড়া আমার গতি নাই।

সিসিবি’র যে দিকটা আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে সেটা হল … চিনি না, দেখি নাই অনেক গুলো মানুষকে এখন খুব, খুব আপন মনে হয়। আমার মনে হয় না, যেদিন সবার সাথে দেখা হবে আমার মাঝে নতুন পরিচয়ের জড়তা থাকবে।

৯৯ আর ৯৪ ব্যাচের অদ্ভুত সব পোলাপাইনের দেখা পাইলাম। (এইখানে ৯৯ আর ৯৪ এর পোলাপাইন বেশী বইলাই এইদুইটা ব্যাচের নাম আলাদা করে বলা) আমি ভাবতাম ৯৮ সালে আমরা বাইর হয়া আসার পর ক্যাডেট কলেজ গুলা মাদ্রাসা হয়া গেছে। (শুধু আমি না আসলে হয়ত সবাই কম বেশী ভাবে যে তাদের ব্যাচ চইলা আসার পর …) একবার শুনলাম কলেজে ক্লাস সেভেন’রে পিটি গ্রাউন্ড-এ ফোম বিছায়া ফ্রন্ট্রোল দেয়া শিখানো হচ্ছে ইদানিং। সিসিবি’তে আইসা বুঝলাম যুগে যুগে ক্যাডেট কলেজ গুলা ‘জিনিয়াস’ ছাড়া অন্য কিছু প্রডাকশান করে না।

সব নাম লিখতে গেলে বিশাল বড় হয়া যাবে, কামরুলতপু’র ভাষায়, যারা লেখেন যারা কমেন্টান যারা পড়েন সবার জন্য :hatsoff:



মুহাম্মদ (৯৯-০৫)

মাঝখানে অনেকদিন আমি সিসিবিতে অনুপস্থিত ছিলাম। সেইজন্য এখন খুব খারাপ লাগছে। জিহাদ সিসিবিটা আগলে না রাখলে অনেক কিছুই সম্ভব হয়ে উঠতো না। আমি তো অনেকদিন পর সিসিবিতে এসে দেখেছিলাম সবকিছু বদলে গেছে, প্রথমে বিশ্বাসই হয়নি। কিন্তু খুব উৎসাহ পেয়েছিলাম। সেই উৎসাহ এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।
আমার সমস্যা হল, মন্তব্য করতে পারি না। মন্তব্য অনেকটা কারও সাথে কথা বলার মত। কথোপকথনে যেহেতু আমি খুব কাঁচা তাই মন্তব্যেও খুব কাঁচা। এজন্য মন্তব্য করা হয় খুব কম, মাঝেমাঝে পড়লেও মন্তব্য করা হয়ে উঠে না।


আন্দালিব (১৯৯৬-২০০২)

সবাই নিজের নিজের ইতিহাস লিখতেছে, তাহলে আমিও লিখি!

আমি ব্লগিং জিনিশটা শুরু করেছি, এক বছর আগে। তার আগে লেখালেখি বলতে যা বুঝায়, কলেজের ওয়াল ম্যাগাজিন আর বার্ষিকীতে মাঝে মধ্যে দুয়েকটা লেখা, এই যা। কলেজ থেকে বের হয়ে একটা গল্প লিখেছি। তারপরে চার বছর কিছুই লিখি নাই। শেষে লেখা শুরু করলাম, সেখানে মনে হয় জিহাদ প্রথম আমাকে ক্যাডেট কলেজ ব্লগের কথা জানায়। শুনেই ঢুঁ মেরেছি। রেজিঃ করলাম। কিন্তু কী লিখব সেটা একেবারেই বুঝে ঊঠতে পারলাম না। আমি প্রথমে যে কোনো পাবলিক গ্যাদারিং বা আলোচনায় একটু সংকুচিত থাকি, মানে হাব ভাব বুঝে নিতে পারি না বলে চুপ থাকি। এজন্য প্রথমে এসে হকচকিয়ে যাচ্ছিলাম। সবাই জমায়ে আড্ডা দিতেছে আর সব কথা আমার মাথার উপর দিয়ে যাইতেছে।বহুদিন পার হইল, আমি এইমুখো হইনাই। তারপরে গতমাসে বা তার আগের মাসে, কী মনে করে একটা ক্লান্ত বিকেলে প্রথম পোস্ট করলাম। অভাবিতভাবে সাড়া পেয়েছি সেদিন। আমাকে চিনে এরকম দুয়েকজন, মাস্ফ্যু, কবীর ভাই খুব উৎসাহ দিলেন,আর অন্যদিকে চিনেন না এমন সকলে আপন করে নিলেন। আমার মনে হয় সিসিবি দাঁড়িয়ে যাওয়ার পেছনে এটাই সব থেকে বড় ব্যাপার। এখানে একজন নতুন ব্লগার এসে যে নিরাপত্তা আর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ পাবে তা অন্য কোথাও খুবই দূর্লভ!

ক্যাডেট কলেজ ব্লগের সাথে আছি। এবং এই ব্লগের সাথে জড়িত সবগুলো মানুষকে প্রাণ ঢালা অভিনন্দন!!


পলাশ (৯৪-০০)

সিসিবির খবর আমি স্বপ্নে পাইছি 😀 😀

লম্বা স্বপ্ন আছিলো… দেখি যে কামরুল একবার হাসে =)) :goragori: :khekz: আবার কান্দে :(( :((
তো আমি জিগাইলাম…কিরে কি হইছে? কয় যে ক্যাডেট কলেজের সব পোলাইপান একসাথে হইয়া লেখা শুরু করছে… ভয়ে ঘুম ভাইঙ্গা গেলো…

গুগল সার্চ দিলাম… এবং পাইলাম, ইহাকে পাইলাম…
🙂 😀 😡 :salute: :frontroll: :-* :party:


ফয়েজ (৮৭-৯৩)

লেখালেখির অভ্যাসটা অনেক পুরনো, যদি চিঠি এবং ডাইরী লেখাকে “লেখালেখি করি” বলা যায়। বন্ধু মহলে অনেক লম্বা করে সুন্দর চিঠি লিখতাম। ক্যাডেট কলেজের ম্যাগাজিন কিংবা ষ্টেজ মাতানো ছিল ডালভাত আমার কাছে। লেখাটাকে আরও আপন করেছিলাম এইচ,এস,সির পরের টালমাটাল সময়টাতে। কিন্তু “ছাপাতে হবে বা ছাপাবো” এই ধরনের মানসিকতা কাজ করেনি কখনও।

পড়াশুনার জন্য খুলনাকে বেছে নেয়ার অনেকগুলো কারন ছিল, এর মাঝে ছোট একটা কারন হল আমার মানসিক প্রশান্তি, খুলনায় আমার আত্নীয় বা বন্ধু কেউ ছিল না, আমি যাদের এড়াতে চাচ্ছিলাম কিছু ব্যক্তিগত কারনে। খুলনার সময়টাতে আমি শুধু ডাইরী লিখতাম, যেগুলো আমি নিজ হাতে আবার ছিড়ে পুকুরে ডুবিয়ে দিয়েছি চলে আসার আগে আগে। অনেক সুন্দর সুন্দর গল্প আর কবিতা ছিল ওগুলোতে, অত সুন্দর করে আমি এখন আর লিখতে পারি না। এরপর ডুবে গেলাম চাকুরী আর ইংরেজি ড্রাফটে।

অনেকদিন পরে, ২০০৮ এর এপ্রিল হবে বোধহয়, হঠাৎ মনে হল বাংলা টাইপটা শিখে নিলে মন্দ হয় না। বিপুল উৎসাহে ল্যাপটপে বিজয় ইন্সটল করলাম, ল্যাপটপের কি-বোর্ড প্র্যাকটিসে নষ্ট হতে পারে ভেবে আলাদা ইউএসবি কি-বোর্ড কেনা হল, ডাউস সাইজের বিজয় লে-আউট চোখের সামনে ঝুলিয়ে প্রাকটিস শুরু করলাম, অত জোরেশোরে না অবশ্য, মাঝারি গতিতে। তখনও ব্লগ বলতে বুঝি আমির খান আর শাহরুখ খানের ঝগড়া করার টেকি সিষ্টেম।

প্রথম বাংলা ব্লগের খোজ পাই বিডি-নিউজ থেকে। সচলায়তন নামের একটা বাংলা ব্লগ সাইটে বাংলাদেশ থেকে লগ-ইন হচ্ছে না, মুল খবর ছিল এটাই। আমি তখন কেয়ার-টেকার সরকারের উপর নানা কারনে খুব বিরক্ত ছিলাম। এই বিরক্তি বাড়ানো জন্য কিনা জানি না, সচলের আ্যড্রেস ডুকিয়ে নিলাম “এক্সপ্লোরার” এর “ফেবারিটস” অপশনে। লগ-ইন করলাম আরও সাত দিন পর।

সচলে আমি প্রথম পড়ি সম্ভবত স্বপ্নাহতের লেখা জনি জনি প্লিজ ডোন্ট ক্রাই। অসাধারন লাগে আমার কাছে। আমি জিহাদের নিজস্ব ব্লগে চলে যাই। ওর অনেক গুলো লেখা পড়ি, দেখি ও একজন এক্স-ক্যাডেট। আমার খুব গর্ব হয় এটা দেখে। তখন ডিসিশান নেই আমিও লিখব সচলে। ওর লেখা পড়েছি মনে হয় ১৮ তারিখ। ২০ তারিখ আমি রিকোয়েষ্ট পাঠাই সচলে। এর মাঝে সচলের লিংক ঘেটে অভ্র ডাউনলোড করি। প্র্যাকটিস শুরু করি অভ্র দিয়ে লেখার। অভ্রর কারনেই বাংলায় লেখালেখি অনেক সহজ হয়ে যায় আমার কাছে। ২১ তারিখ প্রথম লেখা দেই। মোটামুটি সাড়া পাই। ২৮ তারিখ আমি প্রথম ধাক্কা খাই আমার প্রিয় কবিতাটি পোষ্ট করে। এটা তারা প্রথম পাতায় প্রকাশ করে না। আমি কারন জানতে চাই। কোন উত্তর দেয় না তারা। নিজেকে খুব অপমানিত মনে হয় তখন। আমি সাধারনত গুগলে যাই না অলসতার জন্য। কিন্তু লেখার তীব্র ইচ্ছা আমাকে গুগলে গিয়ে “বাংলা ব্লগ” লিখে সার্চ দিতে বাধ্য করে। অনেক গুলো ব্লগ সাইট চলে আসে। এর মাঝে সামহয়ার ইন আর আমার ব্লগে রেজিষ্ট্রি করে ফেলি নিজেকে। শুধু পড়ি। সচলেও যাই, কমেন্ট করি, পড়ি। কিন্তু লেখা জমা দিতে ইচ্ছে করেনা।

এর মাঝে গুগলে থেকেই ক্যাডেট কলেজ ব্লগের একটা লিংক পাই। ক্লিক করার পড়, এখন ড্যাশ বোর্ডে ক্লিক করলে যে রকম উইনন্ডো আসে অই রকম একটা উইনন্ডো পাই, কিন্তু তা আমাকে টানেনি।

একদিন আমার ব্লগে ডুকে অলস বসে আছি। হঠাৎ কি মনে করে খুটিয়ে খুটিয়ে প্রথম পাতা দেখা শুরু করলাম। দেখি ওর নিচে “ক্যাডেট কলেজ ব্লগ” লেখা। ক্লিক করে চলে আসলাম, রেজিষ্ট্রি করলাম। তখন অতিথি হিসেবেই ডুকে বসে থাকতাম। পড়তাম আর হাসতাম লেখা আর কমেন্ট পড়ে। কিন্তু বাহালুলের আমাদের ব্যাচ কে নিয়ে একটা পোষ্টে বাধ্য হলাম কমেন্ট করতে। আমার প্রথম কমেন্ট। এর পর আবার কিছু দিন চুপচাপ।

প্রায় বিশদিন পড়ে, যখন সবাই আমার কথা ভুলতে বসেছে, তখন মনে হল নাহ একটু মাস্তানি করা দরকার, অনেক চুপ থেকেছি। দিলাম প্রথম চিৎকার। এরপর দ্বিতীয় চিৎকার দিয়েই ঝাড়া শুরু করলাম কামরুল কে, লেখা আসতে এত দেরী হয় কেন? ওই ব্যাটা আমার ঝাড়িতে সদস্য বানিয়ে দিল তৃতীয় পোষ্ট দেয়ার আগেই।

ওই যে ঝাড়া শুরু করছি, চলছে তো চলছেই।


শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

আমার ব্লগ সম্পর্কে কোন ধারনাই ছিল না। প্রথম যখন আইইউটির পোলাপাইনের কাছ থেকে সিসিবির কথা শুনি তখন আমার বাসায় বেট ছিল না। আমি তাই রেজিঃ করতে পারলাম না। পরে যখন নেত নেই তখন আমি সিসিবির কথা ভুলেই গেছি। হঠাৎ খোমাবইয়ে সিসিবির লিংক পেয়ে গেলাম। আমার পদচারনা সিসিবিতে যথেষ্ট অনিয়মিত। কারন অনেকগুলো। প্রধান কারন আমি খুবই অলস(ক্যাডেটিয় গুণ)। তাছাড়া আমি একটু ব্যস্ত থাকি :-B (সিনিয়ররা কেউ মাইরেন না ভাই)। আমার এলাকা ঢাকার এমন স্থানে যেখানে ব্রডব্যান্ড লাইনের অবস্থা খুবই খারাপ। তাই মধ্যে ৪ দিন নেট না থাকার ফলশ্রুতিতে আমি এখন সম্পুর্নরুপে পোস্ট গুলো পড়ে শেষ করতে পারি নাই। লেখা দেওয়ার চেয়ে পড়তে আমি বেশি আরাম পাই। তাই পড়া শেষ করে পোস্ট দেবো চিন্তা করে আর লেখা দেয়া হচ্ছে না। তাই বর্তমানে আমি সিসিবিতে নিশ্চুপ বিচরন চালাচ্ছি।

কি লিখতে গিয়ে কি লিখে ফেললাম। ধুর আমি লিখতেই পারি না।


তারিক (২০০১-০৭)

সামহোয়ারে ব্লগিং করতে গিয়ে ক্যাডেট কলেজের কথাগুলো যখন লিখতাম তখন সবাই কেমন কেমন যেন কমেন্ট করত… … একদিন search দিলাম google এ … … খুব বেশি কিছু পেলাম না … অবশেষে একদিন কীভাবে যেন wordpress এ পেয়ে গেলাম //cadetcollege.wordpress.com

তখন সিসিবির সদস্য ছিল হাতে গোনা ৯/১০ … নিয়মিত লিখতাম। আমি ছিলাম তখন ব্লগের সবচেয়ে জুনিয়র এক্সক্যাডেট, সবাই আমারে খালি বকা দিত “… … আমি নাকি খালি মন খারাপ করা পোস্ট দেই … …”

আস্তে আস্তে সেই সিসিবি আজ এতদূর …
জয়তু সিসিবি…


মাহমুদুল আলম

আমার বন্ধু শাহেদ আমাদের ইনটেকের Yahoo groups-এ প্রথম সিসিবির invitation পাঠায়। সেদিনই জয়েন করি।
আজও তার প্রতি কৃতজ্ঞ, আমাকে এমন এক জগতের দাওয়াত দেবার জন্য।


তৌফিক (৯৬-০২)

ব্লগ বলতে আমি শুধু বুঝতাম টেকি ব্লগ, টেকনোলজিক্যাল কোন সমস্যায় পড়লে যেখানে সমাধান পাওয়া যায়। বাংলা ব্লগিং কি জিনিস জানতামই না। বাংলা ব্লগিং-এর সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল কানাডায় আসার পর। এক বন্ধু ফেসবুকে একটা লিংক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করেছিল আমাদের আরেক বন্ধু যে ব্লগ লিখে তা জানি কিনা। সত্যি বলতে কি ব্লগিং শব্দটার মানেই তখন আমার কাছে পরিস্কার ছিল না। যাহোক লিংক ধরে চলে গেলাম সেই বন্ধুর ব্লগে, পড়লাম ওর লিখা। লেখার বিষয়বস্তু আমি, আমার জীবনের মোড় ঘোরানো ঘটনাগুলো নিয়ে লিখেছে ও। আমার ভালো বন্ধু, আমাকে নিয়ে সে উচ্ছাস প্রকাশ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মন্তব্যে গিয়ে দেখি, অজানা অচেনা কিছু মানুষ আমাকে শুভ কামনা জানিয়ে রেখেছে। আমার মন তাদের ভালোবাসায় আদ্র হলো, বাংলা ব্লগিং-এর অদ্ভুত জগতটার সাথেও পরিচয় হলো আমার। ঘটনাটা খুব বেশি দিন আগের না, মাস আটেক হবে হয়তো। মজার ব্যাপার হলো বন্ধু ব্লগটি লিখেছিল আমি যেদিন পড়ি তারও এক বছর আগে।

ব্লগিং-এর সাথে আমার প্রথম দেখাটা তাই খুব আলতো কিছু অনুভবে জড়ানো। আগ্রহ বাড়াতে অর্ন্তজালে খুঁজে বের করলাম দুটো বাংলা ব্লগ- সামহোয়ার ইন এবং সচলায়তন। সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় প্রায় পুরোটা দিন কাটিয়ে দিলাম এই ব্লগ সাইট দুটোতে। ভালো লাগল, ভেবে কিছুটা অবাকও হলাম যে কতটা শক্তিশালী একটা মিডিয়া হতে পারে ব্লগিং। আরো কিছুদিন অর্ন্তজালিক ঘোরাঘুরির পর লিখেও ফেললাম একটা ব্লগ সামহোয়ার ইনে। লেখাটা বেশ কাঁচা হাতের হয়েছিল, সাড়া পাইনি খুব একটা। তারপর নিজের জীবন কাহিনী নিয়ে আরেকটা ব্লগ লিখলাম সচলায়তনে, অতিথি লেখক হিসাবে। ছাপল বটে তারা, কিন্তু প্রথম পাতায় না। কবিতা বলে দাবি করি এমন কিছু লেখার অভ্যাস ছিল বলেই হয়তো ওই ব্লগটাতে অনাবশ্যক দীর্ঘ বাক্য ব্যবহার করেছিলাম। প্রাঞ্জলতা হারিয়েছিল লেখাটা, সচলয়াতনের মডারেটররা খুব উদরতা দেখিয়েই ছেপেছিলেন বোধ হয়। লেখালেখি আমার কর্ম না – মেনে নিয়ে নীরব পাঠক হয়ে গেলাম।

সচলায়তন আর সামহোয়ার ইন আমার ব্রাউজারের দুটো ট্যাবে সবসময় খোলা থাকত, নতুন লেখা এলেই গোগ্রাসে গিলতাম। এই দুই ব্লগের কাহিনী বুঝতে বেশিদিন দেরীও করতে হয়নি। নিতান্তই অর্বাচীনের ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে যদি নেন তবে এই দুই ব্লগের সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন বলি। সামহোয়ার ইনের গালাগালি আর বেহুদা পোস্ট দেখে বমনের ইচ্ছাকেই যে বিবমিষা বলে মনে পড়ে গেল। মোহ ভাঙলো, সামহোয়ার ইনকে বিদায় দিলাম আমার প্রিয় সাইটগুলোর তালিকা থেকে। বুকমার্ক লিস্টে অবশ্য দূটো বুকমার্ক এখনো রয়ে গেছে সামহোয়ার ইনের, প্রায়ই ঢুঁ মারি ওই লিংক দুটোতে। দুটো লিংক-ই আমার দু’ বন্ধুর ব্লগের, ওদের লেখা পড়তে ভালো লাগে। এখন বাকি রইলো সচলায়তন, সচলায়তনের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং বিদগ্ধ লেখকরা আমাকে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন অনেক দিন। তারপর একদিন আবিষ্কার করলাম তাদের সদস্য নিবন্ধনের নীতিমালা ও বাস্তবতার মাঝে পার্থক্যটুকু। ব্লগ পুলিশিং-এর সময় নীতিমালার দোহাই, তারপর পরিচিত অজুহাতে নীতির নামে দুর্নীতি আমাকে ব্যথিত করেছিল (তারেক ভাই মাইন্ড খায়েন না, আমি আপনারে অন্তত এরকম করতে দেখি নাই, আপনার লেখার একজন ভক্ত আমি)। একদিন একজন প্রোবেশনারী পিরিয়ড ব্লগারের কেন তাকে সদস্য করা হলো না শীর্ষক ব্লগে কিছু মন্তব্য দেখে সিদ্ধান্ত নিলাম, আর না। ও বাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দিলাম আমি। বুকমার্ক লিস্টে অবশ্য বন্ধুবরের ব্লগের ঠিকানাটি ঠিকই রয়ে গেছে, মাঝে মাঝেই গিয়ে দেখে আসি কি লিখল ও।

বাংলা ব্লগ নিয়ে আমার আলতো কোমল অনুভূতি যখন হতাশায় রুপ নিয়েছে তখন ফেসবুকে ঘুরতে ঘুরতে পেয়ে গেলাম ক্যাডেট কলেজ ব্লগের পুরনো ওয়ার্ড প্রেসের ঠিকানাটা। মাউসের ক্লিকে ও বাড়ির সদর দরজায় পৌঁছে দেখি বিজ্ঞপ্তি ঝুলানো, ক্যাডেট কলেজ ব্লগ তার স্থায়ী ঠিকানায় চলে গিয়েছে, অনুগ্রহপূর্বক যেন নতুন ঠিকানায় তার খোঁজ নেই। আমার ক্যাডেট কলেজ ব্লগে পদার্পণ হলো এভাবেই। বিমুগ্ধ উচ্ছাসে পড়তে শুরু করলাম লেখাগুলো, রাত পেরিয়ে ভোর হয়েছে কখন টের পাই নি। সিসিবির সবগুলো পোস্ট পড়ার পর ভাবলাম সবাইকে জানান দিয়ে যাই আমার ভালোলাগার কথা। লিখে ফেললাম সিসিবিতে আমার প্রথম ব্লগ পোস্ট । এরপর দেখি নিজের ভেতরেই তড়পানি লেখার জন্য। নেমে গেল আরো কতগুলো পোস্ট। পরিচয় হলো কত নতুন আপু, বড়ভাই, বন্ধু, ছোট ভাইয়ের সাথে। অনেকের সাথে দেখা হলো বহুদিন পর।

আপনারা হয়তো একমত হবেন, বাংলা যে কোন ব্লগ সাইটের চেয়ে সিসিবি আলাদা। লেখক ও পাঠকদের আন্তরিকতা, আবেগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ক্যাডেট কলেজীয় সংস্কৃতি – সব মিলিয়ে এক অনন্য পরিবেশ এখানে। কারো নাম বলতে চাই না, কারণ সীমিত স্মৃতির আমি সবগুলো নাম কোনভাবেই মনে করতে পারব না। চমৎকার কিছু মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে এখানে। দেখা হয়নি তাদের সাথে কখনো, হয়তো হয়েছে ক্ষণিকের জন্য। কিন্তু ব্লগে চেনাজানাটা কম হয়নি। তাদের অনুপস্থিতিতে ব্লগে কেমন একটা শূণ্যতার অনুভূতি বোধ হয় তারই প্রমাণ। সিসিবি তাই আমার ব্রাউজারের হোম পেজ।

জয়তু সিসিবি। জয়তু ক্যাডেট কলেজ। জয়তু ক্যাডেট কলেজীয় কমরেডশিপ।


আমিন (১৯৯৬-২০০২)

প্রথমেই আমার পক্ষ থেকে স্বপ্নময় ও স্বপ্ন কিশোর কিশোরী গুলোর প্রতি শ্রদ্ধা রইল।
ওরা যা করেছে এক কথায় অসাধারণ।
ব্লগিং নামক জিনিসটা আমার কাছে প্রথম এসেছিল অলস জীবনের বিলাস হয়ে।
প্রথম চাকরিতে ঢোকার পর অফুরন্ত অবসরে কী করব বুঝতে পারছিলাম না।তখনই বুয়েটের আমার রুমমেট কাম কলিগ এক বন্ধু আমাকে সামু ব্লগের সাথে পরিচয় ঘটিয়ে দেয়। পড়তে থাকি সেখানে ।মজা ও পেতে থাকি খুব দ্রুত। অবাক হয়ে লক্ষ্য করি সেখানকার মানসম্পন্ন ব্লগারদের অনেকেই ক্যাডেট। আমার ক্যাডেট কলেজের কোন এক ঘটনা নিয়ে প্রথম লিখি সামুতে।ছদ্মনামের কারণে আমার পরিচয়টা সেখানে প্রকাশিত ছিল না। এমনি সময় সেই লেখার কমেন্টে জিহাদ আমাকে সিসিবির হদিস দেয়।
দুকে পড়ি সাথে সাথেই। সেটা মে বা জুন মাস ২০০৮ হবে। কিন্তু কিছুতেই রেজিস্টার করতে পারছিলাম না। আমার বন্ধু শামস তখন লেখে সিসিবিতে সে তপুকে জানায়।
তপু আমাকে মেইল দেয় একটা। কিন্তু এই অলস আমাকে দিয়ে তখন ঢোকা সম্ভব হচ্ছিল না কোনমতেই।
গত মে তে আমাদের হারিয়ে যাওয়া বন্ধু আলমের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী ছিল। মন বিক্ষিপ্ত ছিল। তাই ভাবলাম ওকে উৎসর্গ করে লিখি কিছু। সামুতে লিখতে থাকি ক্যাডেট নম্বর ১৮৬২। কিন্তু সেখানে ক্যাডেট কলেজের বিভিন্ন ট্রেডিশনের বিরুদ্ধতায় আমি ক্ষেপে গিয়ে লেখা থামিয়ে দেব এমন ইঙ্গিত দিলে, আমাকে মনের দিক থেকে সাহস যোগান তিনজন। একজন ক্যাডেট নম্বর ৯৯৯ আমাদের অতি প্রিয় সানা ভাই, বন্ধুবর আন্দালিব ও ব্লগের এক বড় আপু-যতদূর জানি উনি এক্স ক্যাডেট যদিও সরাসরি তিনি কিছু বলেননি তখন।
তখন মনে হয় সাধারণ লোকগুলো আমার ইমোশন যতটা টাচ করবে ক্যাডেটরা নিশ্চয় তার চেয়ে বেশি। সেই ভাবনা থেকেই সামুর প্রথম তিন চার পর্ব নিয়ে ছেড়ে দিলাম এখানে। এখানে পরিচিত মুখ হিসাবে আশিককে পাই পাই তপু শামস সহ আরো অনেককে।
প্রথম লেখার প্রতিক্রিয়ায় আমার চোখে জল এসে গেল। লেখা দিতে থাকলাম এখানে।
একদিন বন্ধু তৌফিক কানাডা থেকে ফোন করল,তখনও আমি ক্যাডেট নম্বর ১৮৬২ এর একটা পর্ব লিখায় ব্যস্ত। বলে ফেললাম ওকে সিসিবির কথা।ও নেমে গেল কোমর বেঁধে।তখনও সিসিবি এখনকার মত অবস্থায় যায়নি।
এমন সময় আমি চাকরি বদল করলাম। এই সময় আমার জীবন হঠাৎ করে বাঁক নিল নতুন দিকে। হঠাৎ করে একটু বেসামাল হয়ে যাই ব্যক্তিগত কিছু ব্যাপারে। সেই সময় আমার ক্যাডেট নম্বর ১৮৬২ এর শেষ পর্ব আর আমার ইউজার নেমে পাসওয়ার্ড তৌফিককে দিয়ে দেই।
মাঝখানে অনেক দিন যায়। আমি আবার যখন সিসিবিতে এলাম তখন দেখি সেই সিসিবি আরো অনেক বড় ভাই আর প্রেজেন্ট ক্যাডেটে সয়লাব।আবার নতুন করে এখানে এৃলাম আবার লিখতে শুরু করলাম।
কিন্তুয় লেখালেখি নয়সিনিয়র জুনিয়র পারস্পরিক সৌহার্দ্য পূর্ণ সম্পর্ক আমাকে টেনেছে সদাই। এত চমৎকার সহনশীলতা পূর্ণ মত বিনিময় দেখিনি আমি সামুতে।
তাই ক্যাডেট কলেজ ব্লগ আমার বড়ই আপন । যার কথাই শু নি যার গল্পই শুনি আমাকে ফিরে নিয়ে যায় সেই সোনাঝরা দিন বয়ে বেড়ানো প্রিয় এমসিসিতে।
ক্যাডেট কলেজ থেকে বের হবার পর সেই দিনগুলোর জন্য যে হা পিত্যেশ করতাম তা এখন লাগে এই সিসিবির পরিবারে এসে।

হ্যাটস অফ জিহাদ এণ্ড কোং কে…
**** জিহাদ আমাকে প্রথম বলেছিল বলে ওর নাম বললাম আলাদা করে।
নয়তো এখানে যারা আছেন যাদের লেখা আমি পড়ি যাদের সাথে আলোচনা সমালোচনায় মেতে উঠি যারা আমার ভাবনা গুলোকে শেয়ার করেন সেই সকল সিসিবি মেম্বারের প্রতি রইল লাল সেলাম……


সায়েদ (১৯৯২-১৯৯৮)

গত মার্চ মাসের দ্বিতীয়ার্ধে এখানে (লাইবেরিয়া) আসার পর থেকে জীবনযাত্রা বেমালুম বদলে গেল। আগে সকালে পিটি, বিকেলে গেমস এর মধ্যে অফিস করার পর সন্ধ্যার পর পুরো সময়টা আমার থাকত। তার সাথে উইকএন্ডের দুইটা দিন। কিছু ইমার্জেন্সি বাদে আমি নিজের ও পরিবারের জন্য এই সময়টুকু একরকম নিরুপদ্রবভাবেই পেতাম। নিজের ও বৌয়ের বাসা থেকে শুরু করে বন্ধুবান্ধবদের বাসা, বাজার অথবা বৌয়ের ইউনিভার্সিটি প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দৌঁড় খাটতে হত। জীবনের অংশ হিসেবে সেটা মন্দ ছিল না। সেখানের তুমুল ব্যস্ততার পর এখানে এসে জীবনটা বন্দী হয়ে গেল ১০০ বর্গমিটারের মধ্যে। সকালের পিটি থেকে শুরু করে রাত্রে একত্রে ডিনার পর্যন্ত সমস্ত কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ল ক্যাম্পের ভিতরে। এমনও হয়েছে যে সারাদিনে সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রম করেছি ৫০ মিটার!!

প্রথম দেড় দুই মাসের ভিতরেই সাথে করে নিয়ে আসা মুভি এবং গল্পের বই শেষ হয়ে গেল। ইউএন এর ইন্টারনেটের বদৌলতে প্রতিদিন মেইল চেক করাটা হয়ে উঠত কিন্তু নিরবিচ্ছিন্নভাবে সংযুক্ত থাকা হতো না। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে অফিসিয়াল কাজ নিয়ে মনরোভিয়া থাকতে হল প্রায় এক মাস। সত্যিকার অর্থেই তখন অথৈ সাগরে পড়লাম। কারণ এখানে কোন ইউএন নেট কানেকশন নেই। তখন হাতের সামনে অপশন হয়ে আসল মোবাইল কোম্পানীর জিপিআরএস সার্ভিস। বাংলাদেশের চাইতে দ্বিগুণ রেটে সেটাকেই আপন করে নিলাম। সর্বক্ষণ নেটে সংযুক্ত হয়ে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াই। কিন্তু কোথাও থিতু হয়ে বসা হয় না।

জুন মাসের কোন এক রাত্রে ক্যাম্প ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সেন্ট্রিপোস্ট ইন্সপেক্ট করছি। এমন সময় সিরাজ (১৯৯৪-২০০০) এলো গাড়ি হাকিয়ে – ও আবার এরিয়া ডিউটি অফিসার হিসেবে আমাদের এখানের সবগুলো ক্যাম্প ইন্সপেকশনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। এসেই হড়বড় করে অনেকগুলো কথা বলল। তার মধ্যে খানিক বুঝতে পেরেছি, খানিক ধোঁয়াশা। তখনই প্রথম ‘ব্লগ’ শব্দটার সাথে পরিচিত হলাম। আরও বুঝলাম এটা এমন একটা প্ল্যাটফম যেটা ইতিপূর্বে কখনও এক্সপেরিয়েন্স করিনি। যথারীতি গুঁতাগুঁতি করে নিজেকে মেম্বার করে নেয়ার চেষ্টা। একটু একটু করে নিয়ম কানুন, সিস্টেম ইত্যাদি শিখতে থাকলাম। পরিচিত হতে থাকলাম সবার সাথে। টুকটাক কমেন্টও করা শুরু করলাম। একটু লজ্জা লজ্জা লাগতো প্রথম প্রথম। কে কি ভাবে এই নিয়ে টেনশন। কে সিনিয়র কে জুনিয়র, কে কোথায় দিয়ে মাইন্ড খায়, ভুল বোঝাবুঝির সুষ্টি হয় ইত্যাদি চিন্তা খুব কাজ করত। কিন্তু দেখি সবাই দুহাত বাড়িয়ে আছে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করার জন্য।

আমার বাংলা টাইপের হাতেখড়ি বছর খানেক আগে এমএস ওয়ার্ডে বিজয়ের মাধ্যমে। এই ব্লগে আসার আগ পর্যন্ত বিজয় ছাড়া দ্বিতীয় কোন অপশনও জানা ছিল না। “অভ্র” হাতে এলো আকাশের চাঁদ হয়ে। ২০০৬ এর সেপ্টেম্বরে বেক্সকা’র একটা অনুষ্ঠানে প্রকাশিত সাময়িকীতে আমার যেই লেখাটা ছিল (৫১ একরে সীমাবদ্ধ জীবন) সেটা দিয়ে শুরু করলাম সিসিবি’তে লেখালেখি। কি প্যাঁচ দিয়েই না লিখতে হত তখন। প্রথমে এমএস ওয়ার্ডে লিখতাম। সেখান থেকে অভ্র কনভার্টার দিয়ে প্রসেস করে সিসিবি’তে তুলে দিতাম। তাতেও শেষ রক্ষা হতো না। অনেক অনাকাঙ্খিত ট্যাগ যুক্ত হয়ে যেত পুরোটা লেখা জুড়ে। সময়ে সময়ে জিহাদদের হাত ধরে শিখলাম সেগুলো থেকে পরিত্রাণের উপায়। সময়ে অসময়ে শিশুতোষ ডাউট দিয়েছি। ধৈর্য্য ধরে মডারেটররা সেগুলো ক্লিয়ার করেছেন (তাদের সবাইকে স্যালুট)। এভাবে এক ছাড়া গরু থেকে সিসিবি’তে বান্ধা গরুতে পরিণত হলাম।

আমি যখন শুরু করি তখন এখানের লেখা ছিল তিনশ’র কোঠায়। পুরনো লেখাগুলো পড়তে যেয়ে কখনো হাসি, কখনো কাঁদি, কখনো গর্বে বুকটা ভরে ওঠে, আবার কখনো ভালোবাসায় আপ্লুত হই। নিজেকে আবিস্কার করতে থাকি সবার একজন হিসেবে। যাই লিখি না কেন সবাই সেটা বিশাল হৃদয়ের উদারতা দিয়ে গ্রহণ করে। এটা আমাকে অণুপ্রাণিত করেছে। অনেক অনেক কথা ছিল যেগুলো এখানে শেয়ার করব কি করব না ভেবে আকুল হতাম। এই উদারচিত্ত অণুপ্রেরণা সেগুলো শেয়ার করতে উৎসাহ দিয়েছে। নতুন অনেক কিছু ভাবতে এবং শেয়ার করতে শিখিয়েছে। এর ফাঁকে ফাঁকে চলে পরিচিত এক্স ক্যাডেটদের ধরে ধরে এখানের মেম্বার বানানো। ইদানিং এই কাজটার মতোন আনন্দ আর কিছুতেই পাই না।

আমার ১০০ বর্গমিটারের দৈনন্দিন জীবনের একটা বড় সময় কাটত সিসিবি’তে। কার কি লেখা জমা পড়ল, কি কি কমেন্ট করল ইত্যাদি দেখতে দেখতেই সময় পার। নভেম্বরের ১৫ তারিখে সেই ক্যাম্প জীবন পরিবর্তিত হল মনরোভিয়ার অস্থায়ী নিবাসের জীবনে। এখানে এখন আমার দৈনিক গাড়ি দাবড়াতে হয় প্রায় ৫০ কিলোমিটার (সুদে আসলে শোধ হচ্ছে আর কি)। তার সাথে সাথে চলে আমার সিসিবি ব্রাউজিং। মাঝে মাঝে ভাবি পরিবার পরিজন, বন্ধুবান্ধবহীন এই বদ্ধ জীবনের মাঝে সিসিবিরূপী জানালাটা না থাকলে যে কি করতাম (এমন কি অন্য কোন ব্লগেও মন টানে না)! সিসিবি’ই যথেষ্ট মনে হয়। এটা ঠিক যে এখন অপার সময় আছে সিসিবি’কে দেয়ার জন্য – দেশে গেলে হয় তো সেটা থাকবে না। কিন্তু ভাবতে ভালো লাগে এটাকে ছাড়া লম্বা সময় থাকতে পারব না। সুস্বাস্থ্যের জন্য যেমন সবরকম খাদ্য উপাদানের সুষম বন্টনের প্রয়োজন আছে তেমনি সিসিবি আমার মনের জন্য এক অপরিহার্য উপাদানই বটে।

জয়তু ক্যাডেটস।
জয়তু ক্যাডেট কলেজ।
জয়তু ক্যাডেট কলেজ ব্লগ।


সানাউল্লাহ (৭৪ – ৮০)

গত জুন মাসে বা-পায়ে একটা ‘ইনফেকশন’ নিয়ে কিছুদিন বাসায় বিশ্রাম আর কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। সে সময় সামুতে প্রকাশিত আমার একটা পোস্টে জিহাদ এসে মন্তব্য করলো :

“১৬ জুন : ভাইয়া আপনি অদ্ভুত সুন্দর লিখেন। আমাদের ক্যাডেট কলেজ ব্লগে আপনাকে না পেলে কিন্তু খবর আছে!!!!

লিংকটা দিয়ে দিলাম : http://cadetcollegeblog.com”

এরকম দাবি নিয়ে বলা! সত্যি বলছি ভীষণ ভালো লেগেছিল। লিংক ব্রাউজ পেলাম সিসিবি। কিন্তু ব্লগাতে গিয়ে স্বস্তি পাই না। কারণ ওখানে বিজয় নাই। একইদিন আরেকটা পোস্টে ও লিখলো :

“১৬ জুন : জিহাদ বলেছেন: আপনার ক্যাডেট নং টাকে রীতিমত হিংসা হচ্ছে!!

আরো দুইজন কে হিংসা করতাম। ক্যাডেট নং ২০০০। আমার ব্যাচ মেট, হাসনাইন। ও এখন আর্মিতে আছে।

আরেকটা ১৯৭১। আমাদের ব্যাচের সবার প্রিয় মুখ, রেজা। এসএসসি’র ছুটিতে পানিতে ডুবে মারা গেল। সব দৌড়ে সবার আগে ওর বলিষ্ঠ দেহের ছায়া দৌড়াতো। জীবনের দৌড়েও সবার আগে চলে গেল…

যাই হোক। অনেক কিছু জানলাম যেটা জানা ছিলনা। অনেক অনেক ভাল্লাগলো… আরো লিখুন। মাঝে মাঝে এসে পড়ে যাবো। আর আমাদের ব্লগে আপনাকে অবশ্যই চাই। এখানকার লেখাগুলোই আমাদের ব্লগে দিয়ে দিবেন প্লীজ।

ভাল থাকবেন।”

আসলেই অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। ছোটভাই লিখলো বলে কি হয়েছে। তো সিসিবিতে আসি যাই, কিন্তু একে ‘ইউজার ফ্রেন্ডলি’ মনে হয় না। ভাবি থাকি সামুতেই। হাসপাতালের বেডে শুয়ে লিখলাম আরেকটা পোস্ট। জিহাদ সেখানে এসে আবার মন্তব্য করলো :

“২৪ জুন : ভাইয়া আপনার এই লেখাটা আমাদের ব্লগে ড্রাফট হিসেবে সেভ করা ছিল। এই জন্য ভেবেছিলাম হয়তো বা লেখাটা সম্পূর্ণ নয়। আজকে এখানে দেখে ড্রাফট টাই পাবলিশ করে দিয়েছি।

আর আপনি যদি অনুমতি দেন তো আগের দুটো লেখাও পোস্ট করে দেই?”

স্বাভাবিকভাবেই অনুমতি দিলাম। জিহাদই আমার প্রথম তিন-চারটা পোস্ট সিসিবিতে প্রকাশ করলো। হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে সামু আর সিসিবিতে ঘুরাঘুরি করি। কখনো সামুতে লিখে দুই জায়গাতেই প্রকাশ করি। এরই মধ্যে অফিসের কাজের চাপে নতুন পোস্ট বা মন্তব্য কোনটাই করা হয় না। ব্লগে আসাটাও কমে আসে। সিসিবিতে আমাকে নিয়মিত হওয়ার তাগাদা দিয়ে সম্ভবত গত অক্টোবরে কামরুল আমাকে প্রথমে মেইল করেছিল। পরে ব্লগেও দুয়েকবার খুঁচিয়েছে। তার প্রতিক্রিয়া হলো, কখনো কখনো অফিসে গভীর রাতে বসেও সিসিবিতে সক্রিয় থাকা।

এই সুযোগে সিসিবিতে আমাকে ‘ভর্তি’ করানোর জন্য জিহাদকে আর নিয়মিত ‘ক্লাস’ করার জন্য কামরুলকে :salute: ।

দিনের একটা বড় সময় সিসিবিতে থাকি। কখনো লিখি। কখনো মন্তব্য করি। আবার কখনো শুধুই একের পর এক পোস্ট পড়তে থাকি। সিসিবি সদস্যদের মধ্যে একজন শুনলাম আমার চেয়ে সিনিয়র। তবে তিনি অনিয়মিত। আমিই এখন সক্রিয় বুড়াতম সদস্য। প্রথম প্রথম জড়তা ছিল। এত্তোসব জুনিয়রের সঙ্গে চলতে পারবো তো? নিজের বয়সটাকে তাই কমিয়ে আনলাম।

চোখের সামনে এখনো ভাসে ঢাকার আইডিয়াল স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ুয়া একটি বালককে নিয়ে একজন বাবা ট্রেনে করে চট্টগ্রাম গেলেন। তারপর ১৯৭৪ সালের ১৭ আগস্ট ১২ বছর বয়সের ওই বালককে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ নামে একটা অসাধারণ সুন্দর বিশাল ক্যাম্পাসে রেখে গেলেন। বাবাকে বিদায় দেয়ার সময় বালকটার চোখ কি ভিজে গিয়েছিল? বাবাও কি চোখের পানি আড়াল করেছিলেন? ওই বালকটার চোখে তখন ছিল শুধুই বিষ্ময়! রবীন্দ্র হাউসের দোতলার ২০ নম্বর কক্ষে নিজস্ব একটা বেড, এটা কাবার্ড, চেয়ার-টেবিল নিয়ে শুরু হয়েছিল বালকটির নিজের জীবন। ওই কাবার্ডটার মাথায় ছোট্ট একটা নম্বর প্লেটে লেখা ছিল, “৯৯৯ সানাউল্লাহ”।

৩৪ বছর পর সিসিবিতে এসে আমি আবার ফিরে গেছি ১৯৭৪ থেকে ১৯৮০ সালের ছয় বছরের জীবনে। তাই সহজেই নিজের অর্ধেক বয়সী ছেলেমেয়েদের সঙ্গে ঠাট্টা-মজা করতে পারি, তাদের সঙ্গে নিজের চিন্তা-ভাবনা অকপটে প্রকাশ করতে পারি। সামুতে যে নিকটা আমার ছিল সেটাই সিসিবিতে রেখেছিলাম, “ক্যাডেট নম্বর ৯৯৯”। কিন্তু সিসিবির এডু একসময় আমাকে স্বনামে প্রকাশ হতে অনুরোধ জানালো। শত হলেও এডু তো; তাকে তো অগ্রাহ্য করা ঠিক হবে না! তাই বদলে ফেললাম নিকটাও। আর চোখের সামনে দেখলাম মাত্র তিন-চার মাসে পুরো সিসিবিটাই বদলে গেছে। যে ইতিহাস লিখে ফেলেছে এডু নিজেই।

সিসিবির সবাইকে :salute: ।

আর :hatsoff: জিহাদ, মুহাম্মদ, সামিয়া, রায়হান, কামরুল, শফি, মরতুজা, তারেক, আরিফ, রায়হান রশীদ, কামরুলতপুকে। যাদের স্বপ্ন-অর্থ আর শ্রমে সিসিবি একটা সম্পূর্ণ ব্লগের রূপ নিয়েছে।

বাকি থাকলো লেখক-ব্লগার আর পাঠকরা। আমি নিজেও এই দলের। কতো কষ্ট করে লিখি! তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ বাকি আমাদের জন্য :just: :awesome: (নাচানাচি) ??


মরতুজা

১০০০তম পোস্ট উপলক্ষে কিছু লিখব ভেবেছিলাম। ব্যাস্ততার কারণে (এবং কিঞ্চিত আইলসামি) লেখা হয়ে ওঠেনি। বসতে বসতে দেখি পোস্টের সংখ্যা এর মধ্যে ১০৩০+ হয়ে গেছে। বাসি জন্মদিনের মতই হয়ে যাচ্ছে লেখাটা। কিন্তু তারপরও নিজের অস্তিত্ত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ভাব্লাম লেখাটা উচিৎ। নইলে কবে আবার মাসখানেক সিক রিপোর্ট মারার কারণে এডু সাহেব না আবার আমারে ব্যান কইরা দ্যান।

সিসিবিতে আসা আর আমার বাংলা টাইপ করাটা প্রায় একসাথেই হয়েছিল। অফিসের এক বন্ধুর মাধ্যমে (বাঙ্গালী বন্ধু) বাংলা ব্লগের কথা প্রায়ই শুনতাম। কি সব সচল না কি যেন। পাত্তা দেইনি তেমন। কিন্তু অফিসে বসে অনেকটা সময় চলে যেত আউলা কামে ব্রাউজ করে করে। কিন্তু ব্রাউজ করার জন্য খুব বেশি সাইট আমার জানা ছিল না। তাই একদিন ভাবলাম দেখি না কি শালার এই বাংলা ব্লগ। মহা উৎসাহ নিয়ে রেজিস্ট্রেসন করে ফেললাম সচলে। করার পর টের পেলাম ওখানে লিখতে বছর খানেক লেগে থাকতে হবে। তাই কিছু না লিখেই বাদ। সামহয়ারে গিয়ে মনে হোল এরা একটু কম কঠিন। তাই মহা উৎসাহে লিখে ফেললাম আমার প্রথম বাংলা লেখা। মনে পড়ে প্রায় দুই ঘন্টা অফিসের টাইম নস্ট করে এক পৃষ্ঠা লিখেছিলাম। কিন্তু সামহয়ারে সাবমিট করার পর বুঝলাম প্রথম পাতায় আসতে আরও কিছু তামশা করতে হবে। যথারীতি বাংলা ব্লগের সেখানেই ইতি। আমার লেখা প্রথম বাংলা পৃষ্ঠাটা পরে রইল মাই ডকুমেন্টসের এক কোনায়।

এর পরে খোঁজ পেলাম সিসিবির খুব সম্ভবত বেক্সকার কোন ইয়াহুর গ্রুপ মেইল থেকে। পাত্তা দিলাম না। ধুর হালা, অইসব তামশার মইদ্যে আমি নাই। ফেসবুকে তখন প্রতিদিন ঢু মারতাম। সেখানে হাজার জন হাজার রকম রিকোয়েস্ট পাঠায় আর আমি মহা উৎসাহে ইগ্নোর করি। কোন একদিন মনে হয় অন্য কারও স্ট্যাটাস আপডেটে দেখলাম সিসিবির কথা। ভাবলাম দেখি না ব্যাপারটা কি। সিসিবির যে একটি মাত্র কারণে আমার ভাল লেগেছিল প্রথম দেখায় সেটা হোল পেজের সাধারনত্ব। আউল ফাউল ইমেজ, সাইড বারে গুগলের এ্যাড, দুর্বল রঙের ব্যাবহার, ব্যাবহারে কাঠিন্য আমার দু চোখের বিষ। ভাল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং খুবই কঠিন একটা ব্যাপার। বিশেষত যেখানে ইউজার ইন্টারফেসের ব্যাপার থাকে সেখানে সামান্য কারণে ব্যাবহারকারি বিরক্ত হয়ে যেতে পারে। সিসিবিতে আমার টিকে থাকার প্রথম কারণ ছিল আমি প্রথমে ব্যাবহার করে বিরক্ত হইনি। ঠিক এই কারণে সামহয়্যার আমার দু চোখের বিষ। শালাদের যদি ইউজার স্যাটিস্ফেকশান নিয়ে কোন মাথাব্যাথা থাকত। যাই হোক সেটা ভিন্ন বিষয়। আমি টিকে গেলাম সিসিবিতে।

প্রথম দিনেই খুব সম্ভত লিখে ফেললাম আমার উপস্থিতি জানান দিয়ে একখান পোস্ট। পোস্টের পরপরই কমেন্ট পেয়ে উৎসাহ এক্সপোনেন্সিয়ালি বেড়ে গেল। পরদিনই অফিসে বসে লিখলাম প্রাপ্তবয়ষ্ক বিষয়ক লেখা। লিখে রিভিউ এর জন্য সাবমিট করার পর মনে হোল কাজটা মনে হয় ভাল হোল না। পোস্টের কন্টেন্ট তো বেশি সুবিধার ছিল না। কে না কি ভাবে। সাবমিটের সময় মনে হচ্ছিল সবতো ক্যাডেট, কোন ব্যাপার না। কিন্তু সাবমিটের পরপরই পালপিটিশন বেড়ে গেল। মডারেটর না জানি কি ঝাড়ি দেয়। আর ভাবতেছিলাম মডারেটর না জানি কোন সিনিয়র ভাই, শেষমেস না ঝাড়ি খাই, মান ইজ্জত নিয়া টানাটানি। বাকিটা আর নাইবা বললাম। রীতিমত নেশায় পেয়ে বসল। এতদিন পর পাঁচ মিনিট পর পর ব্রাউজ করার মত একখান সাইট পাওয়া গেল।

পরিশেষে বলতে চাই, সিসিবির চেহারা যেমন ইদানিং মাশাআল্লাহ হয়ে উঠছে, ঠিক তেমনি পোস্টের সংখ্যা এবং গুনগত মান দিনদিন বেড়েই চলেছে। এখন তো পোস্টের সাথে তাল মিলিয়ে চলাই মুস্কিল হয়ে উঠেছে। কিছু অনুরোধ (যদি সম্ভব হয়)
১। হোম পেজের চেহারা নিয়মিত পরবর্তন করা হোক নতুনত্ব আনার জন্য (যেটা এখন প্রায় নিয়মিতই হচ্ছে। মডারেটরদের ধন্যবাদ)।
২। ম্যানেজ পোস্ট অপশনে গিয়ে শুধুমাত্র আমার সাবমিট না করা পোস্ট খুজে বের করাটা বেশ ঝামেলার। সবার পোস্টের মধ্য থেকে খুজে বের করতে হয়। ব্যাপারটা আরও ব্যাবহার উপযোগি করা যেতে পারে।
৩। পোস্ট লেখার পেজটা খুব একটা ব্যাবহার উপযোগি নয়। বিশেষ করে শিরোনামের ঘরটা অনেক বড় করে আসে (অন্যদের হয় কিনা জানিনা, আমি IE8Beta ব্যাবহার করি)। রংটাও হোম পেজ থেকে ভিন্ন। মনে হয় যেন অন্য কোথাও এসেছি।
৪। চ্যাটিং অপশন যোগ করা যেতে পারে অনলাইন ব্যাবহারকারিদের মাঝে। স্টাফ লাউঞ্জ আছে, কিন্তু সেটা অন্য পেজে নিয়ে যায় যা খুব সুখকর নয়। ইয়াহু বা গুগল বা ফেসবুক চ্যাটের মত হলে ভাল হোত।
৫। যারা অনলাইনে নেই তাদের জন্যও মেসেজ পাঠানোর ব্যাবস্থা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে মেসেজ গ্রহনকারির ইমেইল ঠিকানা যোগার করার ঝামেলা থাকল না, সাথে প্রাইভেসিও রক্ষা হোল।
৬। হোম পেজে বিনোদনের জন্য কিছু করা যেতে পারে। যেমন এফএম রেডিও লাইভ শোনার ব্যাবস্থা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে আইনগত+টেকনিক্যাল সমস্যা থাকতে পারে। ঢাকার লোকাল লাইভ রেডিও না হলেও অনলাইনে অনেক লাইভ রেডিও, মিউজিক চ্যানেল আছে, যেমন প্যান্ডোরা, বিবিসি, ইয়াহু এদের ব্যাবহার সম্ভব কিনা তা যাচাই করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

অনেক অনুরোধ করে ফেললাম। মডারেটর আর টেকনিক্যাল ভাইরা না জানি আবার কয়া বসে “ইইইহ্‌, পোলার শখ কত, যা, অইহানে গিয়া কানে ধইরা খারায়া থাক”। তার আগেই ভাগি। যাবার আগে সবাইকে বাসি ১০০০ পোস্টের শুভেচ্ছা।

মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

হেঁ হেঁ হেঁ তাওয়া গরম নিয়া একটা জুক্স মুনে পইড়া গেল পরে কমুনে।
যা কইছিলাম-আমারে ফেসবুক থিকা কে জানি(বেয়াদব জিহাদ মুনে হয়) লিঙ্ক দিছিল ফেসবুকের ক্যাডেট গ্রুপ থিকা।সেইখানে একদিন আইলাম, বাংলা ডাউনলোড করার সোময় গালাগালি কর্লাম।কিন্তু উরা ব্বাস,লিখা পইড়া আমি তো হা!এমুন কুনু দিন কাটে নাই বাইরে আসার পর যেই দিন এট লিস্ট অন্তত ২ বার কলেজের ক্যাম্পাসে ফিরা যাইনাই মনে মনে।এইখানে লিখা পইড়া মনে হইল পানির মাছ পানিতে ফিরছে(আমার ক্ষেত্রে বনের গাছ বনে ফিরছে)।মনে আছে,হাসনাইনের “ফাইজুল হক স্যারের চাপ” অথবা “প্রেট ডানে ঘুরপেপ বায়ে…বইলা স্টাফের পানিশমেন্ট দেওনের কথা পইড়া লিটারেলি “পিরা” গেছিলাম। তখন নয়া নইয়া বেরেক আপ হইছে সারাদিন মন খারাপ থাকত,তাই ভালবাসা দিবসের পরপর ১৯৯৯ সালের ওই দিনে কলেজে যা হইছিল ইলিয়াস স্যারের সাথে সেইটা নিয়া ব্লগ//www.cadetcollegeblog.com/mashroof/125 লিখা ফেললাম। অনেক ভুল ছিল যা জিহাদ ঠিক কইরা দিছিল।ওইটা ছিল আমার জীবনের পরথম ব্লগিং।আর সেই যে শুরু আর কুনু থামাথামি নাই। এক্কেরে জাস্ট ফেরেন্ডের পাল্লায় পড়ার পরেও সিসিবি আমার জান-পেরান-সংসার ইত্যাদি ইত্যাদি।খালি ক্যাডেট কলেজ না, নিজের ব্যক্তিগত সুখ দুঃখও এইখানে আকারে ইঙ্গিতে শেয়ার করি ফালাই-আর এইখানের মানুষজন আমার এই অতি বিরক্তিকর অভ্যাসটারে প্রশ্রয় ও দেয়।

আমার নাতি যখন ক্যাডেট কলেজ থিকা পাস করবে,সেও এই ব্লগের ম্মবার হবে আশা করি-আর ততদিনে আমেরিকা, ইউরোপ,আফ্রিকা, এশিয়া , অস্ট্রেলিয়া-সব মহাদেশে সিসিবির আলাদা আলাদা গ্যাদারিং হবে-মানুষজন বিভিন্ন দেশি “যাস্ট ফেরেন্ড” নিয়া সেইখানে আসবে

ইশ কত স্বপ্ন দেখি এই ব্লগটারে নিয়া……


আহসান আকাশ (১৯৯৬-২০০২)

তখন কাজ করছিলাম “জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রকল্প এর সর্বশেষ কাজ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মূদ্রনের। টানা প্রায় দশদিন দিনে ১৮-২০ ঘন্টা ডুবে থাকতে হতো কম্পিউটার আর প্রিন্টারের মাঝে, আর ছিল ইন্টারনেট। আগে থেকেই বিবিসিতে ফুটবল ব্লগগুলো নিয়মিত পড়তাম, একদিন হটাৎ করেই google এ bangla blog search দিয়ে পেলাম আমার ব্লগ, ওখানে ঢুকে ১ম যা চোখে পড়েছিল তা হল ক্যাডেট কলেজ ব্লগ এর লিঙ্ক। আর সেখান থেকে ccb তে আসার পরের ঘটনা আর সবার মতোই, নেশাগ্রস্থের মত পড়া শুরু করলাম নতুন পুরাতন সব পোস্ট, এতটাই ডুবে গিয়েছিলাম সিসিবিতে যে ঐ রাতে ঘুমাতেও যাইনি, সব পোস্ট কমেন্টসহ পড়ে শেষ করে এবং সেই সাথে পরের দিনের কাজ শেষ করে প্রায় ৪৬ ঘন্টা পরে ঘুমাতে গিয়েছিলাম। সেই থেকেই আছি সিসিবিতে, মূলত একজন পাঠক হিসেবে।

৮,৭১২ বার দেখা হয়েছে

৭৩ টি মন্তব্য : “শূন্য থেকে যার শুরু (সংকলন)”

  1. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    হায় হায়... 🙁
    আমি ভাবছিলাম, লোকজনের কমেন্টএর চুম্বক অংশ পোস্টে দেয়া হবে...সবারটা কপি-পেস্ট করে দেয়া হবে বুঝি নাই... :bash:
    ইশ্‌শ...আগে জানলে ভাল ভাল কমেন্টগুলা থেকে টুকলিফাইং করা যাইত... :((

    আগে কেন বুঝলাম না...সেজন্য এডু স্যারের ব্যান চাই... :thumbdown:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  2. রবিন (৯৪-০০/ককক)

    নাহ, আজকে রাতেই আমার সিসিবি তে আসার ইতিহাস টা লিখে ফেলতে হবে। আর দেরি করা যায় না। কাইউম ভাই নাইলে মাইর দিবো। তাও ভালো তাইফু ভাই এখনও কিছু কয় নাই।

    জবাব দিন
  3. তাইফুর (৯২-৯৮)

    পোলাপাইন শুধু খাইটাই গেল ... আর আমি চামে জুস ...
    অনুপস্থিতির কারনে সংকলিত সংকলনের অংশ হতে না পারলে কষ্ট হইত। এখন আরাম লাগতিছে। 😀


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  4. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    কিছুটা আলসেমি আর অনেকখানি ব্যস্ততার কারনে কোথাও লেখা হয়নি আমার সিসিবিতে আসার কাহিনি, এখানে তাই ছোট করে উল্লেখ করে রাখছি।
    তখন কাজ করছিলাম "জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রকল্প এর সর্বশেষ কাজ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা মূদ্রনের। টানা প্রায় দশদিন দিনে ১৮-২০ ঘন্টা ডুবে থাকতে হতো কম্পিউটার আর প্রিন্টারের মাঝে, আর ছিল ইন্টারনেট। আগে থেকেই বিবিসিতে ফুটবল ব্লগগুলো নিয়মিত পড়তাম, একদিন হটাৎ করেই google এ bangla blog search দিয়ে পেলাম আমার ব্লগ, ওখানে ঢুকে ১ম যা চোখে পড়েছিল তা হল ক্যাডেট কলেজ ব্লগ এর লিঙ্ক। আর সেখান থেকে ccb তে আসার পরের ঘটনা আর সবার মতোই, নেশাগ্রস্থের মত পড়া শুরু করলাম নতুন পুরাতন সব পোস্ট, এতটাই ডুবে গিয়েছিলাম সিসিবিতে যে ঐ রাতে ঘুমাতেও যাইনি, সব পোস্ট কমেন্টসহ পড়ে শেষ করে এবং সেই সাথে পরের দিনের কাজ শেষ করে প্রায় ৪৬ ঘন্টা পরে ঘুমাতে গিয়েছিলাম। সেই থেকেই আছি সিসিবিতে, মূলত একজন পাঠক হিসেবে।

    অফটপিকঃ সিসিবিতে ১ম দিনে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিয়েছিল বন্য ফুয়াদের কমেন্টগুলো, অনেক দিন ধরে ওকে দেখছিনা।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  5. জ়ে এম সারোয়ার মুজিব ( এডিসন) (১৯৭৯-১৯৮৫)

    এতোদিন এদিক ওদিক কত ফ্রেন্ড সার্কেল, ট্যাগড, পারফস্পট, হাই৫ এ কত সময় দিয়েছি কিন্তু সিসিবি যে এত মজার এবং সবচেয়ে বড় কথা গঠনঅমূলক তা আগে জানতাম না।আমার ধারনা ফেসবুক ছাড়া অধিকাংশই ভূয়া অর্থাৎ রিয়েল নয়। কয়েকদিন আগে আমার এক জুনিয়র কলিগ ( মির্জাপুরিয়ান) আমাকে প্রায় জোড় করে এখানে নিয়ে এল এবং কি করতে হবে তা বললো। এখন তো এখান থেকে বেরই হতে পারছিনা। আমি বাড়িয়ে বলছিনা,” কাডেট কলেজের বর্তমান এবং পূরাতণ ছাত্রদের জন্য এরকম গঠণমূলক একটা ব্লগ সাইট যে উদ্ভাবন করেছে তার যতোতুকু শুভকামনা প্রাপ্য সবটুকু দেয়ার মতো পাত্র আমার নাই। আমার ডালিতে যতো আছে সব শুভেচ্ছা তাকে দিলাম।

    জবাব দিন
  6. জুলহাস (৮৮-৯৪)

    ধুর্‌..., সিসিবি একটা পুরা-ই ফাউল......। x-( x-(
    আমার দিনের মইদ্ধে কমপক্ষে পাঁচ/ছয় ঘন্টা খাইয়া ফালায়... :chup: :chup:
    হালায় পুরা-ই ফাউল!!!!!!!!! 😡 😡
    তারপরেও ক্যান যে আমি এইডার প্রেমে পড়লাম??????? :shy: :shy: :shy:
    ধুর..., আমি-ও একটা পুরা-ই ফাউল!!!!!!!!! x-( x-(
    :awesome: :awesome:


    Proud to be an ex-cadet..... once a cadet, always a cadet

    জবাব দিন
  7. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    আমার লেখা আর পরে যুক্ত করা হয় নাই :(( :(( :(( :(( :(( :(( :(( :(( :(( :(( :((


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
  8. সামিয়া (৯৯-০৫)
    শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    আমার ব্লগ সম্পর্কে কোন ধারনাই ছিল না। প্রথম যখন আইইউটির পোলাপাইনের কাছ থেকে সিসিবির কথা শুনি তখন আমার বাসায় বেট ছিল না।

    =)) =))

    জবাব দিন
  9. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    এই ব্লগটাকে ডিসেম্বরের পাঁচ তারিখ থেকেই স্টিকি করে রাখা হোক। নতুন কেউ যদি আরো কিছু লিখতে চায় সেগুলোকেও তাহলে এই পোস্টে এড করে দেয়া যায়।

    জবাব দিন
  10. মরতুজা (৯১-৯৭)

    জন্মদিনের পোস্টে একটা খোজ দ্যা সার্চ রিকোয়েস্ট। আমার এক-দুই জন এন্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপার দরকার। নিজের এক পিস আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য।

    কেউ মাগ্না খাটার ইচ্ছা থাকলে আওয়াজ দিও/দিয়েন।
    helalibhuiyan@yahoo.com

    জবাব দিন
  11. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    আহসান আকাশ এর "প্রথম দর্শনের প্রেম" (১৯-৯-১৫) লেখাটাতে দেয়া লিঙ্কের সূত্র ধরে এ চমৎকার পোস্টটা পড়ে গেলাম। খুব ভালো লাগলো।
    "নামের পাশে সন দেখে আমরা আদর আর সম্মান বরাদ্দ করে দিই সাথে সাথে। বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সব ব্লগারদের কাছে তাই আমার অনুরোধ থাকবে, এই জিনিসটা যে কোন ভাবে যেন আমরা ধরে রাখি। একটা চমৎকার সুন্দর পরিবেশ এখানে রাখার জন্যে এর বিকল্প কিছু নাই।" - মু. নূরুল হাসান (৯৪/ক) এর মন্তব্যের এই অংশটুকু খুব ভালো লেগেছে। আসলেই তাই। তাই যেন হয়, তাই যেন থাকে সব সময়।
    সিসিবি'র জন্মলগ্ন থেকে এর ইতিহাস জেনে সেইসব প্রাণোচ্ছ্বল তরুণ তুর্কীদের প্রতি সমীহ অনেকটা সীমা ছাড়িয়ে গেলো, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে সিসিবি বর্তমান অবয়ব ধারণ করতে পেরেছে। সবাইকে অকৃ্ত্রিম শুভেচ্ছা আর :hatsoff: (সম্পাদিত)

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।