গান…আমার ভালোবাসা…

কোন এক অদ্ভুত কারণে ক্যডেট কলেজের ৬টি বছরই আমাকে মিউজিক ক্লাবে কাটাতে হয়েছে। একটি দিনের জন্যও আমি এই ক্লাব থেকে বের হতে পারিনি। গানের নেশা আমার মধ্যে কলেজে থাকাকালীন সময়ে তীব্রতর হলেও, মিউজিক ক্লাব ব্যাপারটা আমার কেন জানি কখনই ভাল লাগত না। ভালো না লাগার কারনগুলির মধ্যে অন্যতম ছিলো, কখনও বিকেলে গেমস করতে পারতাম না (যদিও আমি খেলাধূলা পারিনা, কিন্তু তবু ও I used to love games period) এবং গেমস শেষে সবাই হাউসে গেলেও মিউজিক ক্লাব পার্টি ছাড়া পেতে দেরী হত এবং যথারীতি বাথরুমের সিরিয়াল পাওয়া যেতনা। অন্যান্য কারনগুলো হল, প্রায়শঃই আমাদের কে হলিডে তে গান প্র্যাকটিসের জন্য ডাকা হতো কিংবা যেকোন অনুষ্ঠানের আগে আমাদের উপর দিয়ে প্র্যাকটিস নামক সিডর বয়ে যেত।

গান শেখার ব্যাপারে আমার কোনকালেই কোন আগ্রহ ছিলোনা। স্রষ্টার অসীম কৃপায় প্রকৃতিগতভাবে একটি সুমধুর গলা পাওয়া সত্বেও তার সদ্ব্যবহার আমি করতে পারিনি। ছোটবেলা, আমার খালাদের ও কাজিনদের পীড়াপীড়িতে আমার একরোখা বাবা (একরোখা বলছি এই জন্য যে, আমার বাবার কাছে পড়ালেখা ছাড়া আমার জন্য আর কোন করণীয় কাজ থাকতে পারে বলে জানা ছিলনা) আমাকে গানের স্কুলে ভর্তি করালেও, আমার কল্যাণে তা বেশী দূর এগুতে পারেনি। গান শেখার চেয়ে গানের একাডেমীর পাশের শ্মশানটি ই আমাকে বেশী টানত। আর তাইতো কোন একদিন শ্মশানে মৃত মানুষ পোড়ানো দেখার সময় হাতেনাতে আমার বাবার হাতে ধড়া খেলাম এবং সেখানেই আমার গান শেখার পালা সাঙ্গ হলো। সেই অবাধ্য আমাকে যখন মিউজিক ক্লাব বেঁধে রাখত, তখন আমার কি অবস্থা হত, তা আশা করি আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

কলেজে আমার গানের অভিজ্ঞতা প্রথম দিকে খুব একটা সুখকর ছিলনা। ক্লাশ সেভেন এ প্রথম যে ট্যালেন্ট শো হয়, সেখানে আমাকে দিয়ে দুইটি সিনেমার গান গাওয়ানো হয়। গাওয়ানো হয় এজন্য বলছি, যে ক্লাশ সেভেনে আমাদের কোন কাজেই নিজেদের কোন নিয়ন্ত্রন থাকেনা। আর তাই, ইংরেজীর মোস্তাফিজুর রহমান স্যারের সিলেক্ট করা “ছুটির ঘন্টা” ছবির – “এক দিন ছুটি হবে, অনেক দূরে যাবো…” এবং “ভেজা চোখ” ছবির – “তুইতো কাল চলে যাবি আমাকে ছেড়ে…” গান দুটি গাইতে হয়েছিলো। এই গান দুটি গাওয়ার পর থেকে ভেবেছিলাম আর কক্ষনো গান গাবোনা…… এত গান থাকতে শেষ পর্যন্ত কিনা সিনেমার গান………!!!!!

কিছুদিন পরে আন্তঃ হাউস সঙ্গীত প্রতিযোগীতা। আবার আমার ডাক পড়লো। আমি রীতিমত শংকিত। আবার কি গান ধরিয়ে দেয়…। দুরু দুরু বুকে হাউস অফিসে ঢুকলাম। আমাদের আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফ্টসের ওয়াহিদুজ্জামান স্যার খুব ভালো গান গাইতেন। তিনি আমাদের ডেকে বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন গান ভাগ করে দিচ্ছিলেন। ২টি ইভেন্ট ছাড়া সবাই সব গান নেবার পরে জুনিয়র মোস্ট হিসেবে আমি আর আমার ক্লাসমেট মেহেদী মাহবুব এর দিকে স্যার দৃষ্টি দিলেন। বলা বাহুল্য, যে দুইটি ইভেন্টের গান কেউ গাইতে চাইতো না সেই দুইটি ইভেন্টই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলো। আমি মনে মনে মহা বিরক্ত এবং শংকিত । মাহবুব কে স্যার ধরিয়ে দিলেন রবীন্দ্র সঙ্গীত আর আমার জন্য বরাদ্দ করলেন পল্লী গীতি। কি আর বলবো। আশা ছিলো আধুনিক বা পপ কিংবা ব্যান্ডের গান গাইব। কিন্তু ওই ইভেন্টগুলো যে সিনিয়রদের ইভেন্ট…। এরপর থেকে আমার জন্য কলেজে পল্লী গীতি আজীবনের জন্য বরাদ্দ হয়ে গেল।

কলেজে সবার মধ্যেই একটা ভাব ছিল তখন, গান যদি গাইতেই হয় তাহলে আধুনিক বা ব্যান্ডের গান গাইব, পল্লী গীতির মতো আনস্মার্ট গান কেন গাইব? কিন্তু সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য যাই হোক না কেন, ক্লাশ সেভেনে একবার পল্লী গীতির যে সিল আমার কপালে লেগেছে, তা খোলার মত স্মার্ট ভাগ্য আমার আর হয়নি। সে কারনেই, যে কোন প্রোগ্রামে আমি ছিলাম সকল শিল্পীদের জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস। কারন, পল্লী গীতি মানেই হলো আহসান, আর তার অর্থ দাড়াচ্ছে, আহসান থাকা মানেই তাদের আর আন স্মার্ট গান গাইতে হবেনা।

অবশেষে একে একে “আমার প্রাণের প্রাণ পাখি…” , “আমার হাড় কালা করলাম রে…” কিংবা “ও রসের কালিয়া…” এর মত গান নিয়ে আমি আনস্মার্ট ই রয়ে গেলাম। এখানেই শেষ নয়। এমন কি ১৯৯৪ সালে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে অনুষ্ঠিত আন্তঃ ক্যাডেট কলেজ সঙ্গীত প্রতিযোগীতায় ও আমার জন্য বরাদ্দ হলো পল্লী গীতি ও লালন গীতি। এমনিতেই আনস্মার্ট গানের আনস্মার্ট গায়ক, তার উপর আবার ১০ ক্যাডেট কলেজের বাঘা বাঘা সব শিল্পী। সব মিলিয়ে আমি খুবই মনমরা। এরমধ্যে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কলেজের গায়কের সম্পর্কে মন্তব্য শুনে আমার মনে হচ্ছিল, কোন দুঃখে আমি এই প্রতিযোগীতায় এসেছিলাম আল্লাহ জানে। এর চেয়ে কলেজে নিজেদের মাঝে ২/৪ টা আনস্মার্ট গান গেয়ে মান ইজ্জত নিয়ে তো ভালই ছিলাম। কে যেন এসে বললো, “এই মাত্র কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজের অমুকের পল্লীগীতি শুনে আসলাম…যা গাইল…এক কথায় অসাধারন…।” আরেকজন কে যেন বললো, “ময়মসিংহের রুশদা তো এসেছেই পল্লীগীতিতে ফার্ষ্ট হবার জন্য। ওর গান একবার কেউ শুনলে ওয়ান মোর না বলে কেউ থাকতেই পারবেনা।” আমাকে পুরো হতাশায় ডুবিয়েছিলেন ভুগোলের ফয়জুল হাসান স্যার, যিনি এই প্রতিযোগীতার জাস্ট কিছুদিন আগে আমাদের কলেজ থেকে পোস্টিং হয়ে ঝিনাইদহ জয়েন করেছেন। স্যার আমার গান কলেজে অনেক শুনেছেন। সেই স্যারই যখন কথা প্রসঙ্গে বললেন, “ঝিনাইদহের সাদাত পল্লীগীতি তে ফার্স্ট তো হবেই, ও যদি রেকর্ড হাইয়েষ্ট মার্কস পায় তো তিনি অবাক হবেন না।“ আমার তখনকার মানসিক অবস্থা বলে বোঝাতে পারবনা। যাই হোক আমার দুই যন্ত্রী- হারমোনিয়াম বাদক নুরুজ্জামান (যে বর্তমানে পেশায় ডাক্তার হলেও প্রায়ই আর টিভিতে খবর পড়ে) আর তবলচি যোবায়েদ (ও যে বর্তমানে কোথায় আছে আমি জানিনা) আমাকে সমান হারে উৎসাহ দিয়ে যেতে থাকল।

অবশেষে আমার ইভেন্টের দিন এল। সন্ধ্যায় আমরা ১০ ক্যাডেট কলেজের সবাই অডিটরিয়ামে হাজির হলাম। প্রতিযোগীতা শুরু হল। আমার বুক দুরু দুরু। মনে মনে শুধু এই টুকু প্রার্থনা, আমি লাস্ট হই তাতে অসুবিধা নাই কিন্তু কোনভাবেই যেন গান গেয়ে হাসির পাত্রে পরিণত না হই। এর মধ্যে কে যেন এসে বলল, “খবরদার গান গাইবার সময় একদম উপরে গ্যালারীর দিকে তাকাবিনা।“ আমি বললাম কেন? তার উত্তর, “তাকালে তোমার আর গান গাইতে হবেনা”। মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝলাম না। একেতো গানের টেনশন, তার উপরে এটা আবার কি বলে গেল। হঠাত করেই আমার নাম ঘোষনা করা হলো। স্টেজে গিয়ে অডিটরিয়াম ভর্তি ১০ কলেজের দর্শক দেখে ভীষন পানি খেতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু ততক্ষনে আমার দুই যন্ত্রী তাদের বাজনা বাজানো শুরু করে দিয়েছে। হঠাত মনে হলো, “আচ্ছা আমাকে উপরে তাকাতে মানা করেছিল কেন?” যেই ভাবা সেই কাজ। মানুষ কে যে কাজটা করতে বারন করা হয়, মানুষ সেই কাজটাই যেমন বেশী করে, আমি ও তার ব্যতিক্রম হইনি। উপরের গ্যালারীতে তাকালাম। দেখলাম ময়মনসিংহের মেয়েদের অন্যান্য কলেজের ক্যাডেটদের থেকে আলাদা রাখার জন্য গ্যালারীতে বসিয়েছে। আর তারা তাদের কলেজের প্রতিযোগীর ভাল ফলাফলের জন্য এবং অন্যান্য কলেজের প্রতিযোগীরা যেন ভাল গাইতে না পারে তার জন্য যা যা করনীয় আছে তাদের সাধ্যের মাঝে সব ই করে যাচ্ছে। কোন সিনিয়র জুনিয়র মানামানি নাই। আমি একবার তাকাতেই বুঝে গেলাম আমাকে কেন মানা করা হয়েছিল। চোখ নামিয়ে নিয়ে গান শুরু করলাম। বিচারক ছিলেন চট্টগ্রাম বেতারের তিনজন নাম করা শিল্পী। কি গাইলাম, তা খেয়াল নেই। তবে ফলাফল যখন দেয়া হল, তা আমি বিশ্বাস করতে পারিনি। সম্ভবত আমার সঙ্গীত জীবনের সেরা অর্জন ছিল এটি।

ছোট একটা ঘটনার কথা বর্ণনা করে আমার লেখাটি শেষ করব। কলেজে যখন আমি আনস্মার্ট গানের আনস্মার্ট গায়ক হিসেবে মোটামুটি স্বীকৃত নিজের ইমেজ বদলানোর জন্য আমি আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছিলাম। স্যারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলাম যাতে আমাকে পল্লীগীতি ব্যতীত অন্য কোন গান গাইতে দেন। কিন্তু প্রতিটি বারই আমি নিরাশ হচ্ছিলাম। হঠাত করেই বিধাতা মনে হল আমার প্রতি সদয় হলেন। মিউজিক ক্লাবের ইনচার্জ তখন ফয়জুল হাসান স্যার। তিনি হঠাত করেই আমাকে অন্য টাইপের একটা গান গাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। আমি তো মহা খুশী। অবশেষে আমার ইমেজ বদলানোর সুযোগ এলো।

অনুষ্ঠানের দুইদিন আগে স্যার আমাকে সম্পূর্ণ নতুন একটা গান দিলেন, যা আমি কখনোই গাইনি, এমন কি শুনিওনি। যাইহোক, আমি তাতেও খুশী। স্যার বেশ কয়েকবার আমাকে প্র্যাকটিস করালেন এবং যখন তিনি সন্তুষ্ট হলেন, তখন ছেড়ে দিলেন আমাকে। অনুষ্ঠানের দিন আমি ষ্টেজ এ ঢুকলাম। মুখে মিটিমিটি হাসি। সবাইকে আজ দেখিয়ে দেব একটা ভাব। মিউজিক শুরু হল। আমি ভাবছি সবাই আজ আমাকে নতুন ধারার গায়ক হিসেবে দেখবে। অনেকেই আমার গান শুনে অবাক হবে…বাহবা দিবে…। হঠাত আমার যন্ত্রী’র ঈশারায় আমি সম্বিত হলাম, হায় হায়, আমার তো যখন গান ধরার কথা তখন গান না ধরে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি, নতুন ধারার গায়ক হবার লোভে আমার সব মিউজিক জ্ঞান যেন লোপ পেল…যন্ত্রী ব্যাপারটা কভার দেবার জন্য মিউজিক রিপিট করল, । আমি আরো একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম যেটা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। আমি গানের সুর ভুলে গেছি এবং কোনভাবেই সুর মনে করতে পারছিনা। ঘোরের মধ্যে কিভাবে যেন হঠাত এ গান শুরু করলাম।

স্যার হতবাক…আমার যন্ত্রীরা মনে হয় যেন হোচট খেল…দর্শকদের অভিব্যক্তি টা যেন কেমন ঠেকলো…। হঠাত আমি আবিষ্কার করলাম, হারমোনিয়ামের সুর একদিকে, আমার গলার সুর আরেক দিকে এবং সম্পুর্ণ নতুন এক সুরে আমি গানটি শুরু করেছি। হঠাত আবিষ্কার করলাম, অডিটরিয়ামের সবাই ভীষন হাসাহাসি করছে। যা তা হাসাহাসি না। একদম হেসে লুটোপুটি অবস্থা। একবার শুধু কল্পনা করুন, “অডিটরিয়াম ভর্তি দর্শক আপনার গান শুনে হেসে খুন”। এই ঘটনার পরে আমি আর কোনদিন কলেজে নতুন ইমেজের গায়ক হবার চেষ্টা করিনি।

সময় অনেক পেরিয়ে গেছে। একটা সময় আমি অনুভব করলাম, সেই আনস্মার্ট গান গুলিই আমার মাঝে সুরের নেশা জাগিয়ে তুলেছে। রক্তের প্রতিটি কণিকায় সুর ছড়িয়ে দিয়েছে। আর্মিতে এসে আমি পুরোদস্তুর আধুনিক ঘরানার গায়কে পরিণত হয়েছি। মন্চ, রেডিও এবং টেলিভিশন মিলিয়ে অনেক প্রোগ্রামে গান করেছি। কিন্তু ভুলতে পারিনি দুইটি ঘটনা। এক, আমার সেই ইমেজ বদলানোর প্রচেষ্টা। আর দুই, আন্তঃ ক্যাডেট কলেজ সঙ্গীত প্রতিযোগীতায় পল্লীগীতি’র স্বর্ণ পদকটি আমার করে নেয়া।

গান আমার জীবনে এখন এক অপরিহার্য উপাদান। গান ছাড়া আমি এখন আর থাকতে পারিনা। দিন রাত সব সময়ই আমার রুমে গান বাজে। মাঝে মাঝে মনে হয়, খেতে না দিলেও হয়তো আমি থাকতে পারব, কিন্তু গান ছাড়া…? নাহ… সে আমার পক্ষে থাকা সম্ভব না। আজও আমি তবলার বোল শুনলে ঠিক থাকতে পারিনা। গিটারের টান শুনলে রক্তে সুরের নাচন জাগে। আমার আশে পাশে কনসার্ট হচ্ছে জানলে আমার সেখানে হাজির না হতে পারলে মাথা কাজ করেনা। এ এক অদ্ভুত অনুভূতি। জীবনে আজ আমি পেশাগত ক্ষেত্রে অনেক পরিচিতি পেয়েছি এই গানের কারনে। আর যেই গান আমার মধ্যে সুরের প্রতি প্রেম জাগিয়েছে, তাহলো পল্লীগীতি। আর সেকারনেই, ব্যান্ড বা পপ আমাকে আর্মিতে সুখ্যাতি দিলেও পল্লীগীতি আমি ছাড়িনি। সৈনিকরা খুব ভাল পল্লীগীতি গায়। কিন্তু তারপরেও আমি আন্তঃ ইউনিট সঙ্গীত প্রতিযোগীতায় কখনও পল্লীগীতি হাতছাড়া করিনি। আর পল্লীগীতি ও আমাকে কখনো নিরাশ করেনি।

গলায় আজ আমার আগের মত সেই সুর আর নেই। প্র্যাকটিস না থাকার কারনে আগের মত সুর খেলা করাতে পারিনা আমার গলায়। কিন্তু তারপরেও আমি গান ছাড়িনি। ছাড়তে পারবো ও না। আল্লাহ’র কাছে প্রার্থনা, “তিনি যেন আমার গলা থেকে শেষ সুরটুকু কেড়ে না নেন। মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত যেন আমি গুনগুন করে হলেও গাইতে পারি। আমৃত্যু যেন আমি আমার এই ভালবাসার সাথে থাকতে পারি ।”

৫,২০৭ বার দেখা হয়েছে

৫১ টি মন্তব্য : “গান…আমার ভালোবাসা…”

  1. সাব্বির (৯৫-০১)

    আহসান ভাই,
    ১৯৯৫ এ কলেজে ক্লাস সেভেনে ঢোকার পর থেকেই শুনতাম আহসান নামে এক সিনিয়র ভাই পল্লীগীতি তে ICCLM এ স্বর্ণপদক পেয়েছে, উনি কলেজের বেষ্ট সিঙ্গার, BBC এর গর্ব,,, আরো কতো কি?????
    তখন থেকেই আপনাকে দেখার শখ জাগে। আপনার ছোট ভাই রায়হান আমার সেই শখ পুরন করার জন্যই হয়ত BCC তে চান্স পেল, তাও ডাইরেক্ট আমার টেবিলে।
    এই লেখা পড়ে আপনার গায়ক হবার বিস্তারিত জানতে পারলাম। আপনার সাথে কত বার দেখা হল কিন্তু আপনার গান শোনা হয়নি কখনো 🙁 🙁
    নেক্সট টাইম মিস্‌ হবেনা ইনশাল্লাহ্‌।

    জবাব দিন
    • আহ্সান (৮৮-৯৪)

      সাব্বির,
      এত এত বাড়িয়ে বলবেনা তো...
      তবে রায়হানের প্যারেন্টস ডে তে গিয়ে মাঝে মাঝে তোমাদের সাথে যে আড্ডা দিতাম,I used to enjoy that part....
      ভালো থেকো...আর হ্যা...ঐ একই কথা...পুরো গান শুনতে হবে আর থামতে বলা যাবেনা...
      রাজি??????

      জবাব দিন
    • আহ্সান (৮৮-৯৪)

      শফি ভাই,
      প্লিজ, প্লিজ...আর বেফাস কিছু বইলা ফালাইয়েন না। এমনিতেই ইজ্জত কা ফালুদা বহুত হইয়া গেছে...এর পরে কিন্তু আর মুখ দেখানোর উপায় থাকবেনা।

      সবার জন্য বলছি,
      এই শফি ভাই কিন্তু আমার অনেক অনেক গানের সাথে হারমোনিয়াম বা কিবোর্ড বাজিয়ে দিতেন। আমার গান যদি কখন ও সুন্দর হত, তার পুরো কৃতিত্বই ছিলো ওনাদের।

      জবাব দিন
    • শফি ভাই,আহসান ভাই এর কাহিনি গুলা একে একে ছাড়া শুরু করেন...

      আর আহসান ভাই, আপনি কি বাই এনি চান্স কমান্ডো কোর্স এর ইন্সট্রাক্টর নাকি??আই-হাই......পোলাপানরে তাই তো কইতে শুনি...দোস্ত মইরা গেলাম বেসিক কমান্ডো করতে গিয়া ,আমার নামে মাজারে সিন্নি দিছ......

      জবাব দিন
  2. আহসান ভাই,
    রুশদা আমার কাজিন(ফুফাত বোন), নিজে গান না পারলেও ওকে পল্লীগীতিতে হারান কত কঠিন; তা ভালোই বুঝতে পারি...
    :salute: :salute: :salute:

    আপনার গান শোনার খুব ইচ্ছা করছে...
    কসম, গানের মাঝে থামার জন্য বলব না...!!!

    জবাব দিন
  3. ওবায়দুল্লাহ (১৯৮৮-১৯৯৪)

    দোস্ত,
    তোর লেখা
    তোর গীতি প্রীতি
    তোর আঙিনায় সব মন্তব্য
    ...সবটুকুই মন ছুঁয়ে গেল।

    ভাল থাকিস।
    কি নিয়ে লিখব ভাবছিলাম। গান সংক্রান্ত এই সাবলীল লেখাটা পড়ে সাহস পেলাম।
    এখন মনে হয় একটা কিছু দাঁড় করিয়ে ফেলা যাবে।
    এলাহী ভরসা।
    😀
    শুভেচ্ছা।


    সৈয়দ সাফী

    জবাব দিন
    • দোস্ত,
      কেন তুই আমাকে বিব্রত করছিস? তোর লেখনীর কাছে আমি তো শিশু। আর মন্তব্যের ব্যপারে তো আমার আর কিছু করার নেই। এসব ই তো পুচ্চিদের(ছোট ভাই বোনেরা পুচ্চি বলাতে রাগ করোনা প্লিজ)ক্রেডিট।
      দোস্ত, সময় নস্ট না করে দ্রুত লিখে ফেল। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
      ভালো থাকিস।

      জবাব দিন
  4. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    ওরে আপনি দেখি রায়হান ভাইয়ের ভাই। আপনার কথা অনেক শুনছি। ভাইয়া আইসা পড়েন গেট টুগেদারে। গান শুনবাম।

    আচ্ছা আপনাকে কি বেক্সার পিকনিকে দেখছিলাম?

    জবাব দিন
    • ভালো লাগলো শুনে যে আমার কথা তুমি শুনেছ। আমি অবশ্যই আসব ছুটি পেলে।

      হ্যা ভাইয়া আমি যমুনা রিসোর্টের পিকনিক টা তে গিয়েছিলাম। লটারীতে ডিভিডি প্লেয়ার পেয়েছিলাম। আমার মনে হয় তুমি আমাকে ওখানেই হয়ত দেখে থাকবে।

      জবাব দিন
  5. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    আহসান ভাই আপনি কি সুস্থ আছেন?সব ঠিক তো ভাইয়া?পুরো এক সপ্তাহ আপনার কোন খবর নেই...আমরা সবাই আপনাকে মিস করছি...যেখানেই থাকুন ভালভাবে থাকুন আর তাড়াতাড়ি ফিরে এসে আমাদের চিন্তামুক্ত করুন...

    জবাব দিন
  6. দিহান আহসান

    ভাইয়া দেখি আসলেই বিনয়ের অবতার। ১০টা কলেজের সেরাদের মধ্যে প্রথম, সোজা কথা না। ভাই আপনি :boss:
    কখন দেশে আসব আর কখন গেট-টুগেদার হবে আর আপনার গান শুনব। :bash: :bash:

    জবাব দিন
  7. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    "আর তারা তাদের কলেজের প্রতিযোগীর ভাল ফলাফলের জন্য এবং অন্যান্য কলেজের প্রতিযোগীরা যেন ভাল গাইতে না পারে তার জন্য যা যা করনীয় আছে তাদের সাধ্যের মাঝে সব ই করে যাচ্ছে"

    সেই "উপরের গ্যালারীতে" আমি ও ছিলাম। আপনার এই লাইনের সুতীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। :gulli2: :gulli2: :gulli2: :gulli2: :gulli2: :gulli2: :gulli2: :gulli2: :gulli2: :gulli2:


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন
  8. ভাইয়া,
    "তুইতো কাল চলে যাবি আমাকে ছেড়ে
    পরশু কি হবে দেখা এমন করে" এই গানটার সম্পূর্ণ লিরিক্সটা আমার দরকার, দয়া করে একটু দিবেন, আর নয়তো লিঙ্ক দিয়ে সাহায্য করবেন।

    ধন্যবাদ।

    জবাব দিন
  9. তুই তো কাল চলে যাবি আমাকে ছেড়ে পরশু কি হবে দেখা এমন করে ২ বার
    বন্ধু কি যেতে পারে বন্ধু কে ছেড়ে,
    আসব রে আসব আমি আবার ফিরে,
    তুই তো কাল চলে যাবি...........
    আবার দুজনে মিলে পার্কের ভাঙ্গা টুলে,
    ফুচকা খাবো, টাটকা হবো টকে আর ঝালে,
    না হয় দুজনে মিলে রেসলিং সাইকেলে,
    পিছু নেব, গালি খাবো রুপসী পেলে।
    ঐ হাসি খুশী দিন গুলি সেই জিবনের অলিগলি,হায় ভুলি কি করে। (আগের চার লাইন)

    রাঙ্গামাটির পথে দুষ্টু ইশারাতে প্রথম কথা হয়েছিল প্রিয়ারো সাথে......
    বন্ধু পড়ে কি মনে?ভুলে যাওয়ারি ভানে বাকি খেয়ে ফাঁকি দিতাম মধুর ক্যান্টিনে।
    ঐ হাসি খুশী দিন গুলি সেই জিবনের অলিগলি,হায় ভুলি কিকরে...
    (১ম চার লাইন)।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।