ভালো মেয়ে

শান্ত স্নিগ্ধ সকাল। শহুরে কর্মব্যাস্ততা সবে মাত্র ছুই ছুই করছে জনজীবনকে। বিয়ের ৮ বছরের মাথায় এসে আজ হঠাত উপলব্ধি করল এই সকালটা যেন তার জন্যেই। তারিখটা মনে করার চেষ্টা করল, কোন বিশেষ দিন না তো! নাহ! তবে এমন মনে হবার কারণ কি হতে পারে? এতো ভাবাভাবির সময় নেই, হাতে একগাদা কাজ। নাস্তায় আজ আবার উনি সুজির হালুয়া আর পরটা খাবার সাধ করেছেন! মেয়েটাও রোজ রোজ একই টিফিন নিয়ে যেতে চায় না। সবে মাত্র ছয় হয়েছে, পাড়ার স্কুলে কেজি ক্লাশে পড়ছে, এখুনি তার বায়নার শেষ নাই। বাবার আহ্লাদে আহ্লাদে একেবারে মাথায় উঠছে দিন দিন। কনা নিজেও কম আহ্লাদের ছিলো না তার বাবার কাছে। বিয়ের বছরই বাবা তাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন…মনে আর উদাস বাতাসের দোলা দিয়ে কাজ নেই। চুলটাকে হাত দিয়ে পেচিয়ে একটা খোপা করে সংসারকাজে মন ঢেলে দিল।
সোয়া সাতের মধ্যে গসলের গরম পানি বাথরুমে আর কাল রাতে ইস্ত্রী করে রাখা শার্ট, প্যান্ট টাই বিছানায়। সাড়ে সাতের মধ্যে টেবিলে নাস্তা গুছিয়ে দিয়ে স্বামীটি রেডি হতে হতে মেয়েকে দাঁত ব্রাশ করিয়ে জামা জুতো পরিয়ে নাস্তার টেবিলে হাজির। ওরা নাস্তা সারতে সারতে দুইজনের টিফিন ভরে দিল যার যার ব্যাগে। মেয়েকে বাবাই নামিয়ে দিয়ে যাবে স্কুলে। কনা ঘরের টুকিটাকি কাজ সেরে নিয়ে রাইস কুকারে ভাতটা চাপিয়ে দিয়ে বেরিয়ে পরবে, দুপুরের রান্না আগেই রান্না করে ফ্রিজে রাখা আছে, গরম করে নিলেই চলবে। বাসায় কোন সবজি নাই, সাহেবকে বলেই বা কি লাভ আছে কোন? উনি তো সময়ই পান না। এর পর স্কুল থেকে মেয়েকে তুলে একটু হাসপাতালে যেতে হবে, কনার খালা শাশুড়িকে লাইফ সাপর্টে রাখা হয়েছে। দুপুরে ছুটা বুয়া আসলে তখন ওকে দিয়ে মাছগুলো কাটিয়ে রাখতে হবে। ইসসস… ভুলেই গিয়েছিল, আজ আবার বাদ আসর ননদের শশুড়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মিলাদ আছে। অফিসের কারণে ও তো আবার যেতে পারবে না। ফিরে এসেই রান্না চাপাতে হবে। মেয়েটারও পাক্ষীক পরীক্ষা এগিয়ে আসছে, সেভাবে খেয়াল করা হচ্ছে না। কদিন ধরে এতো দূর্বল লাগে শরীরটা। … নিজের মনেই কথা বলে আজকের দিনের এ্যাজেন্ডা ঠিক করে নিল মোটামোটি।
প্লেট বাটি ধুয়ে নিয়ে, বিছানাটা টানটান করে গুছিয়ে, ময়লা কাপড়গুলো ঝুরিতে ফেলে, সোফার কুশনগুলো ঠিক করে বসিয়ে একবার চোখ বুলিয়ে নিলো কনা। ঠোটের কোনায় একটু স্বস্তি আর পরিপূর্নতার হাসি ফুটে উঠল। হালকা সবুজ টাঙ্গাইল শাড়িটা বেশ পরিপাটি করে পরে হাতে দুইটা কাচের মোটা বালা, কপালে ছোট্ট কালো টিপ, আর চোখে কাজল দিয়ে তৈরি হয়ে নিল।
বাজার থেকে পটল, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, উচ্ছে, কই মাছ আর শোল মাছ নিল। রিকশায় উঠতে গিয়ে একটু কেমন যেন মাথাটা ঘুড়ে উঠল মনে হল। মেয়েকে তুলে দুজন দুইটা ডাব খাবে ঠিক করল। স্কুলের সামনেই ডাবওয়ালা আছে। রিকশার ভাড়া চুকিয়ে গেট ঠেলে ভিতরে ঢুকল কনা। এখনো বেশ কিছুটা সময় বাকি আছে ছুটির। ভালোই হল, কিছুক্ষন অন্য মায়েদের সাথে আড্ডা দেয়া যাবে। অনেকের সাথেই অনেক ভাব হয়ে গেছে এরই মধ্যে। কনা ভালো শ্রোতা তাই সবার সুখ দুঃখের গল্প শোনে মনযোগ দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর করা কনা সবাইকে আপন করে নিতেও পারে সহজে। অবশ্য মহিলাদের সমস্যাগুলো বেশীরভাগই সংসার আর সম্পর্ক কেন্দ্রিক হওয়াতে কনার শুনতেও মজাই লাগে। সবার জীবনই যেন একেকটা গল্পের বই।
ওকে দেখেই বরাবরের মতই প্রায় চেঁচিয়ে উঠে বলল রোদেলার মা,” এই যে আমাদের মনবিজ্ঞানী চলে এসেছেন…”
“খুব জম্পেশ আড্ডা হচ্ছিল মনে হয়, তা আজকের টপিক কি?” স্মিত হেসে জিজ্ঞেস করলো কণা।
শান্তাঃ তুমি না রোজ খবরের কাগজ পড়, আজকের খবর দেখনি? মালিবাগ চৌধুরী পাড়ায় সন্তানসহ স্ত্রীর আত্মহত্যা?
কণাঃ নাহ একটু ঝামেলা ছিল বাসায় পড়া হয়ে উঠেনি, প্রথম পাতা চোখ বুলিয়ে এসেছি কেবল, তা আছে নাকি কারো কাছে পত্রিকাটা?
রোদেলার মাঃ দেখলে, আমাদের সুপার ওয়েম্যান কণারও সংসারে ঝামেলা থাকে…তাই বলে কি ও আত্মহত্যার মত জঘন্য কাজ করে বসছে?
স্কুলগেটের দারওয়ানের কাছ থেকে কাগজটা চেয়ে নিয়ে সবার কথোপোকথনের মাঝে চোখ বুলিয়ে নিল কণা।

“রাগ, ক্ষোভ, অভিমান অতঃপর কেরোসিনের আগুনে সন্তান সহ মায়ের জীবন বিসর্জন”

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেড় বছরের শিশুসন্তানকে আগুনে পুড়িয়ে নিজের গায়ে কেরসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহুতি দিলেন এক গৃহবধু। স্বজনদের অভিযোগ, দুঃচরিত্র, মদ্যপ, নির্যাতনকারী স্বামীর অত্যাচারে রাগে, ক্ষোভে অভিমানে মালিহা (২৮) আত্যহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। মারা যাওয়ার সময় মালিহা সাড়ে তিন মাসের অন্তঃসত্বা ছিলেন।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মালিহা তার স্বামী রাইসুল আহমে সুমন (৩৫) এবং তারানা নামের দেড় বছরের শিশু কন্যা সহ মালিবাগ চৌধিরীপাড়া এলাকায় নিজস্ব এ্যাপার্টমেণ্টে থাকত। প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে একটি সনামধন্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মালিহার স্বামী রোজ বাসায় ফিরে সামান্য ব্যাপারে মালিহার সাথে রাগারাগি, গালাগাল এমনকি ক্রমাগত মারধর করত। … …”

দিশার মাঃ এরা কি মানুষ না জানোয়ার? এরাই আসল পুরুষশাসিত সমাজের প্রতিনিধি…
নওরোজঃ না, আপা, এটা ঠিক বললেন না কিন্তু। মেয়েরাও আজকাল সমানে সমান। নারীবাদ নারীবাদ করে করে একেবারে নিজেদের যেন পুরুষ বানিয়ে ফেলতে চায় একেকজন।
শান্তাঃ ঠিকই বলেছ নওরোজ। এসব বড় বড় অফিসগুলাতে কি হয় তা তো জানো না। একটা ফিমেল এমপ্লয়িও পাবা না যাদের সাথে তার পুরুষ কলিগদের সাথে নিদেনপক্ষে ফষ্টি নষ্টি সম্পর্ক না আছে। অথচ দেখো গিয়ে সবগুলোরই বাড়িতে বউ বাচ্চা বা স্বামী সন্তান আছে। এই ফাজিল মেয়েগুলোর জন্যই তো ছেলেগুলার মাথা নষ্ট…
মুহিবের মাঃ হুম, দুইটাই খারাপ। একা ছেলে বা মেয়েদের দোষ দিয়ে তো লাভ নাই, তবে এই যে ঘটনাটা ঘটল, এক্ষেত্রে অবশ্যই স্ত্রীটি নির্যাতিতা। তা নইলে কেউ নিজের সন্তানকে হত্যা করতে পারে?
রোদেলার মাঃ ইসসস রে কতই না কষ্ট সহ্য করেছে মেয়েটা। তার পর আবার সাড়ে তিনমাসের বাচ্চা ছিল পেটে। তার পরেও একটু রক্ষা পায় নাই হাসব্যান্ডের নির্যাতন থেকে।
শাকিলাঃ এসব দেখলে বারবার বলতে ইচ্ছা করে, সুকুর আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের ভাই এত্তো কেয়ারিং, জানেন নাতো! সুনাইনা যখন আমার পেটে ছিল, আমাকে পারলে কমলা ছুলে মুখে তুলে খাইয়ে দিত।
দিশার মাঃ আপনার কথা জানি না, কিন্তু বেশির ভাগ পুরুষরাই খারাপ। আমি তো বলি জঘন্য খারাপ। পাশে সুন্দরী বউ বসিয়ে রেখে ছোঁত ছোঁত করতে থাকে অন্য নারীর দেহের ভাঁজ দেখতে। আর বাড়ির বউকে মনে করে দাসী।
মুহিবের মাঃ ভাবটা এমন যেন সব দায়িত্ব কবেল স্ত্রীরই। ঘর, সংসার, সন্তান সামলান থেকে আরম্ভ করে আত্মীয় স্বজন সবার খোজ খবর করা…। বিনিময়ে একটু সামান্য ধন্যবাদ পর্যন্ত পাই না, আমার শাশুড়িতো ডাইরেক্টই বলেন যে এখানে ধন্যবাদ দেবার কি আছে, বউ বউয়ের ডিউটি পালন করছে!
নওরোজঃ তোমরা যে যাই বলেন না কেন, আমার কিন্তু এই ঘটনাটা একটু বেশীই বাড়াবড়ি লাগছে। সমস্যা কমবেশি সবার সংসারেই হয়। (শাকিলার দিকে আঁড়চোখে তাকিয়ে) আমরা কেউ স্বীকার করি, কেউ করি না। তাই বলে কি অভিমান করে পেটের বাচ্চা খুন করে মরে যেতে হবে? মেয়ে মানুষের এতো রাগ টাগ থাকা ভালো না বাবা। মেয়েদের অনেক সহ্য থাকা দরকার।
দিশার মাঃ কি অদ্ভুত! আমরা মেয়েরাই মেয়েদের অসম্মান করে নীচের দিকে টানে ধরে রাখি। বলে না, মেয়েরাই মেয়েদের সবচেয়ে বড় শত্রু! একজন মানুষ কতখানি নিরুপায় হলে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আমরা সেটা কেউ একবার ভেবে দেখেছে?
রোদেলার মাঃ কিযে বলেন না আপা, দোয়া করি শত্রুরও যেন এমন দিন দেখতে না হয়… তা কণা আপা চুপ কেন?
কণাঃ হুম, শুনছিলাম আপনাদের কথা…

বলতে না বলতেই ঘন্টা বেজে উঠল সশব্দে। বাচ্চারা সব কাঁধে ভারী ভারী স্কুলব্যাগ নিয়ে ছুটে বেড়িয়ে আসছে। মাকে দেখে জড়িয়ে ধরছে পরম আদরে, নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে। কাঁধ থেকে ব্যাগ তুলে নিয়ে মা ব্যাস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করছে টিফিন খেয়েছ তো পুরোটা? আজ ক্লাশে কি কি পড়ালেন মিস? কারো সাথে আবার ঝগড়া করনি তো? …

“আচ্ছা, কণা আপা, কাল আলোচনা হবে নে ওই ঘটনা নিয়ে” রোদেলা বেড়িয়ে এসেছে ক্লাশ থেকে, তাই বাসায় ফেরার তাগাদা দিচ্ছে সে মাকে।

ছোট্ট একটা দীর্ঘশ্বাস কি ফেলল কণা? গলার কাছে একগাদা মেঘ এসে জমে আছে যেন। হঠাত” করেই খুব বেশী অসহায় মনে হল নিজেকে। কণা জানে কাল আর মালিহা কে নিয়ে আলোচনা উঠবে না। নতুন কোন রান্নার রেসিপি বা ঘরকন্নার টিপস কিংবা শশুরবাড়িচর্চা…এই নিয়েই আড্ডা চলবে। সবার অভিব্যাক্তির আলোচনায় সে একবারোও বলতে পারল না, মালিহার সাথে মাস পাঁচেক আগেও তার ফোনে কথা হয়েছে। তারানা হবার পর যখন আসিফ ওদের একা ফেলে রেখে চলে গেল, তখুনি কণা খুব করে বলেছিল মালিহাকে সে যেন আসিফকে ছেড়ে চলে আসে, ডিভোর্স দিতে। কলেজের দুই বছরের চেনা এই খুব প্রানবন্ত আর ছটফটে বান্ধবীটির উত্তর শুনে অনেকটাই অবাক হয়ে গিয়েছিলো কণা।

“খুব ভালো মেয়ে, ভালো বউ আর ভালো মা হতে ইচ্ছে করে রে! ডিভোর্সি মেয়েদের সমাজ ভালো চোখে দেখে না”

মাস পাঁচেক আগে একদিন উচ্ছাসে আপ্লুত হয়ে ফোন করে বলেছিল সে,

“জানিস, আসিফ ফিরে আসছে আমাদের কাছে, ও এখন অনেক চেঞ্জড। আমাকে কথা দিয়েছে আর কক্ষনও আমাদের ছেড়ে যাবে না ও। আমি বোধহয় পারলাম রে কণা!”

ভালো মেয়ে হতে চেয়েছিলো। ডিভোর্সে ভীষন ভয় ছিল তার। ডিভোর্সি মেয়েদের কেউ ভালো বলে না। ভালো চোখে দেখে না। নিজের বাসা থেকেও তেমন সাড়া পায়নি এই ব্যাপারে। “মেয়েদের সহ্য করে নিতে হয়, কমবেশী সবার সংসারেই টুকটাক এসব লেগেই থাকে, ধৈর্য্য ধর, আল্লাহকে ডাক, সব ঠিক হয়ে যাবে…” মালিহা তো ধৈর্য্য ধরতে চেয়েছিল, নতুন করে সবকিছু সাজাতে চেয়েছিল ওই মানুষরূপী পিষাচটার সাথেই। সমাজের কথা ভেবে, সন্তানের কথা ভেবে মুখ বুজে সব কিছু সহ্য করে গেছে দিনের পর দিন। অনেক মহলে বাহবাও পেয়েছে। অনেক মায়েরা বলেছে, “দেখ মালিহা কে, কত কষ্ট সহ্য করেও কিভাবে টিকে আছে! আজকাল্কার মেয়ে হয়েও কত ধৈর্য্য, সহ্য!” …
ও কি শেষব্দি ভালো মেয়ে হতে পারল? মুখ বুজে ভালো মেয়ে হয়ে থাকার চাইতে বা ডিভোর্সের চাইতে আত্মহননের পথ নিশ্চই ওর কাছে বেশী বরনীয় মনে হয়েছিল।

ভাবতে ভাবতেই রিকশা হাসপাতালে পৌছে গেছে, ডাব খাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গেছে সে। ভাড়া চুকিয়ে নেমে পরলো মেয়েকে নিয়ে। এমন সময় চোখ ফেটে পানি চলে আসল কোত্থেকে কে জানি! কার জন্য কে জানি! মালিহার জন্য?

৭,৮৬১ বার দেখা হয়েছে

৪৬ টি মন্তব্য : “ভালো মেয়ে”

  1. কিবরিয়া (২০০৩-২০০৯)

    😀 😀 😀
    ১ম।১ম।১ম


    যেমন রক্তের মধ্যে জন্ম নেয় সোনালি অসুখ-তারপর ফুটে ওঠে ত্বকে মাংসে বীভৎস ক্ষরতা।
    জাতির শরীরে আজ তেম্নি দ্যাখো দুরারোগ্য ব্যাধি - ধর্মান্ধ পিশাচ আর পরকাল ব্যবসায়ি রূপে
    - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

    জবাব দিন
  2. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    মন ছুঁয়ে গেলো। কতো সমস্যা তুলে ধরলে। দেশের কর্পোরেট লাইভ সম্পর্কে জানিনি। কিন্তু আমেরিকাতে হাইটেক কর্পোরেট পরিবেশ খুব কড়া। এখানে সবাইকে প্রতিবছর সেক্সুয়াল হ্যা্রাশমেন্ট এবং আরো নানা প্রাসংগিক কোর্স করতে হয়। তুমি বাংলাদেশের যে কর্পোরেট লাইফের কথা লিখলে তা পড়ে আমার দ্য এপার্টমেন্ট মুভিটার কথা মনে পড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে অফিসে কাজ করতে আসা নারী কর্মচারীরা অনেক ভ্যালনারেবল ছিলো। পরিস্থিতি সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হচ্ছে।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
    • সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

      শান্তা আপা, আপনার লেখা এতো বেশী ভালো আর মানসম্মত হয় যে সেখানে কমেন্ট করতে গেলেও কেমন যেন একটা হীনমন্যতা বোধ হতে থাকে। সেখানে আপনি এমন একটা কমেন্ট করেছেন... আমি সত্যিই অনেক আপ্লুত।
      দ্য এপার্টমেন্ট মুভীটা দেখা হয়নি। আমি পারসনালি ঢালাও ভাবে কোন কমেন্ট করতে চাইনা। কারণ ব্যাতিক্রম সবখানেই আছে। কিন্তু কর্পোরেট জগতে এই কালচারটা বেশ অনেকটাই প্র্যাকটিস হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ঘর ভাঙ্গার বা ডিভোর্সের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। ডিভোর্স হয়ত অনেকক্ষেত্রেই প্রয়োজন এবং একটা অপরিহার্য সিদ্ধান্ত। কিন্তু সমাজবিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে এতো ঘর-ভাঙ্গা জোড়ার ঘটনায় সামাজিক ভারসম্যে কিছুটা বিঘ্ন যে ঘটেই সে ব্যাপারটাও মেনে নিতে একেবারে অমত করিনা। আর আপা, অনেক গুলো কারণের ভীরে কর্পোরেট কালচারের এহেন হীন প্র্যাকটিসটাও অনেকাংশে দায়ী।


      You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

      জবাব দিন
  3. সামিয়া (৯৯-০৫)

    মানুষকে বোধহয় জানতে হয় তার কখন থামতে হবে।
    এক সময় আমিও খুব ভাল মেয়ে হতে চাইতাম। ভাগ্যটা বোধহয় হাঁ করে আমার দিকেই তাকিয়ে থাকে, তাই পাশের মানুষটাই উলটা শিখালো, ভাল মেয়ে হতে চাওয়াটা ক্রাইম, নিজের জন্য, অপরের জন্য। শিখলাম, কোথায় থামতে হয়।
    তবে আমি এই কথাটার সাথে কিন্তু একমত,

    নারীবাদ নারীবাদ করে করে একেবারে নিজেদের যেন পুরুষ বানিয়ে ফেলতে চায় একেকজন।

    মেয়ে হয়েই আমি ভাল মানুষ হতে যাই, সব করতে চাই। শান্তা আপার কথামত, নিজের দক্ষতাটা জানতে চাই, তাকে কাজে লাগাতে চাই।

    জবাব দিন
    • সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

      নারীবাদ বা পুরুষবাদ বলে কোন মতবাদে ফেলতে আমার ভালো লাগে না, বরং আমি যা মানতে চাই তা এইব্লগে লিখলে অনেকেরই চক্ষুশূল হয়ে যাবো। আমার তো মনে হয় নারীদের সমাধিকার নিয়ে স্বোচ্চার হওয়াটাই যথেষ্ট না, নারীরা এর চাইতে অনেক বেশীই ডিসার্ভ করে ;;;


      You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

      জবাব দিন
  4. আয়েশা ( মগকক) আয়েশা

    ডিভোর্সে ভীষন ভয় ছিল তার। ডিভোর্সি মেয়েদের কেউ ভালো বলে না। ভালো চোখে দেখে না। নিজের বাসা থেকেও তেমন সাড়া পায়নি এই ব্যাপারে। “মেয়েদের সহ্য করে নিতে হয়, কমবেশী সবার সংসারেই টুকটাক এসব লেগেই থাকে, ধৈর্য্য ধর, আল্লাহকে ডাক, সব ঠিক হয়ে যাবে…” মালিহা তো ধৈর্য্য ধরতে চেয়েছিল, নতুন করে সবকিছু সাজাতে চেয়েছিল ওই মানুষরূপী পিষাচটার সাথেই। সমাজের কথা ভেবে, সন্তানের কথা ভেবে মুখ বুজে সব কিছু সহ্য করে গেছে দিনের পর দিন। অনেক মহলে বাহবাও পেয়েছে। অনেক মায়েরা বলেছে, “দেখ মালিহা কে, কত কষ্ট সহ্য করেও কিভাবে টিকে আছে! আজকাল্কার মেয়ে হয়েওকত ধৈর্য্য, সহ্য!”

    কেন এত ভালো লিখিস? বাড়ি ফিরে তোর লিখাটা পড়ে কেমন যেন একটা কষ্ট অনুভূত হলো। আমার তো মনে হয় মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক পাল্টে গেছে। একটি ডিভোর্সী মেয়েকেই সকল দোষে দোষী সাব্যস্ত করার প্রবনতাটা বোধহয় এখন কমে গেছে।একটি আত্নমর্যাদাবোধ সম্পন্ন মেয়েকে কেনই বা একটি শিক্ষিত সমাজ বারবার কাঠগোড়ায় দাঁড় করাবে?

    লিখাটা খুব সুন্দর।

    জবাব দিন
  5. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    টপিকটা খুবই চমৎকার এবং গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভবত গল্পের ছোট পরিসরে বৃহৎ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।এই গল্পটিই ছোট ছোট ভাগে ভাগ হয়ে দিতে পারতো তিন অথবা চারটি গল্প। ক্ষুদ্রের মাঝে বৃহৎকে আটাতে গিয়ে তাই অনেক জিনিস এসেও আসেনি। আমাদের দেশে আমরা শিক্ষিতকরণের কথা বলি। নারী স্বাধীনতার কথা বলি। সে জায়গাগুলোতে পিছুটান হয়ে টানে আমাদের সামজ ব্যবস্থা আর আমাদের নারীরা নিজেরাও কিছুটা। নিজেদের ক্ষমতা সম্পর্কে তারা সজাগ নন তেমনিভাবে সমাজ তাদেরকে করে রাখতে চায় পরনির্ভর। যেমন গল্পের কনা মনোবিজ্ঞানী হয়েও তার ক্ষমতার ব্যবহার করছে না। বরং তার পারিপার্শ্বিকের চাপে সে এমন জীবন যাপন করছে যার জন্য তার থাকা ক্ষমতা (শিক্ষা) দরকার হয় না। আমাদের সমাজে বাড়ির ব্উটির প্রতি আমরা (স্বামী শ্বশুর শ্বাশড়ী ) যা করি তা হলো মানসিক নির্যাতন। কোন শ্বশুর শ্বাশুড়ী ভাবেনও না তার মেয়েটি অন্যের বাড়ির বউ কিংবা তার বউ অন্যের বাড়ির মেয়ে। তাই আমাদের গৃহিনীদের (বিশেষ করে যৌথ পরিবারে) যেতে হয় মানসিক নির্যাতনের মাঝে। আমরা সেসব গল্প জানি না। "ঝিনুক নীরবে সহো" মন্ত্রে আমাদের নায়িকা শাবানারূপী গৃহবধূরা জানতে দেন না। আবার কর্পোরেট কালচারের নোংরামিটাও এখন চুড়ান্ত। আমাদের ভাগ্যনিয়ন্তা ভগবানরা অনেক কিছুর মতো আমাদের প্রফেশনাল লাইফে পণ্যায়িত করে ফেলেছেন। তার প্রকোপ খুব বেশিভাবে গিয়েছে নারীর উপর। আরো অনেক কিছুই বলতে চাইচিলাম। গুছিয়ে বলতে পারলাম না যেন।
    লেখাটি ভালো লেগেছে। নারী বিষয়ক সমস্যাগুলো আমাদের পুরুষদের এবং তাদের গুরুজনদের বোঝা দরকার , তার চেয়েও বেশি অবশ্যি বোঝা দরকার নারীদের নিজেদেরই।
    পরিশেষে জিতু আপুকে ধন্যবাদ সুন্দর একটি বিষ্যের অবতারণা করার জন্য।

    জবাব দিন
    • সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

      আমিন, জীবনের প্রথম গল্প লেখা! ভাবনা টা অনেক দিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছিল, ইনফ্যাক্ট এই লেখাটা শুরুও করেছিলাম অনেকদিন আগে। গল্প লেখায় পুরোই অনভিজ্ঞ হওয়াতে গুছিয়ে লিখতে পারিনি। একটা সময় আমার নিজেরও মনে হয়েছে ২ বা তিন পর্বে ভেঙ্গে লিখলে লেখাটা অনেক মানসম্মত হত। কিন্তু সময় আর ধৈর্য্যের বড়ই অভাব।


      You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

      জবাব দিন
  6. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    একটানে পড়ে ফেললাম। ওর সংগে সংসারের কাজের বহরগুলো দেখতে দেখতে হাঁপিয়ে উঠলাম, কখনোবা দীর্ঘশ্বাস ফেলতেও ভুলে গেলাম। গতিময় গদ্য পড়ে মুগ্ধ হলাম। :clap:

    অনুযোগ: বানানভুল একটু কমানো যায় কি? 🙂

    জবাব দিন
    • সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

      আছিব, আমার কাছেও মনে হয় যে কোন "ভালো" বা "খারাপের" বিবেচনা আসলেই ভীষন আপেক্ষিক। "সুন্দর" "আসুন্দরের" ধারনার মতনই, সতসিদ্ধ কিছু নেই মনে হয়। আমার কাছে যে কাজ যুক্তিযুক্ত, তোমার কাছে তা গর্হিত হতেই পারে। আবার সামাজিক বা ভৌগলিক পার্থক্য বিবেচনায় "ভালো" "খারাপের" মানদন্ডও কিন্তু ভ্যারী করে। লালনের গানটা শুনেছো নিশ্চই,
      "পাপ পূন্যের কথা আমি কারে সুধাই,
      এই দেশে যে পাপ গন্য,
      অন্য দেশে পূন্য তায়...।।"


      You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

      জবাব দিন
  7. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    ভীষণ ভালো লাগলো জিতু লেখাটা। অনেকগুলো বিষয় এনেছো লেখায়। একটা মেয়ের প্রতিদিনের লড়াই যেভাবে এই লেখায় প্রকাশ পেয়েছে তা এইবার 'মরদ'রা দেখুক, জানুক এবং পড়ুক। এইরকম 'ভালো মেয়ে' আমি দেখতে চাই না। আমার মেয়েকেও না। আমার ভালো মেয়ে পড়াশুনা করে 'হাউজ ওয়াইফ' হবে না। তার নিজস্ব পরিচয় থাকবে। দারুণ একটা ক্যারিয়ার থাকবে আমার ছেলের মতোই। সংসারটা দুজনে ভাগাভাগি করে নেবে, চারহাতে সামলাবে।

    হ্যা, সংসার করতে গেলে আপস করতে হয়। দুজন একরোখা হলে সংসার টিকে না। আবার স্ত্রীর ওপর ঘরের-বাইরের সব চাপিয়ে দিয়ে স্বামী মরদ হতে গেলেও সংসার টিকবে না। আমার মেয়ের ওপর শারিরীক বা মানসিক কোনো নির্যাতন হলে আমি তাকে বরং মরদটিকে তালাক দিতে, প্রয়োজনে জেলের ভাত খাওয়াতে উৎসাহিত করবো। আমি জানি আমার মেয়ের জন্য এরকম একটা লড়াই একা করা সহজ নয়। আমি লজ্জিত পুরুষদের প্রতিনিধি হয়ে তার পাশে দাঁড়াবো। তাহলে তার লড়াইটা অনেক সহজ হবে।

    আমার তো মনে হয় নারীদের সমাধিকার নিয়ে স্বোচ্চার হওয়াটাই যথেষ্ট না, নারীরা এর চাইতে অনেক বেশীই ডিসার্ভ করে

    আমি তোমার এই বক্তব্যের সঙ্গে পুরো একমত।


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  8. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    ইসসস কত্ত অধীর প্রতীক্ষায় থাকি, যদি প্রিন্সু স্যারের একটুখানি সুনজর পরে আমার লেখায়! আমি ধন্য সানাউল্লাহ ভাইয়ের মূল্যায়ন পেয়ে।


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন
  9. সকাল থেকে এক গাদা কাজের চাপ, তার মধ্যেও নিজের কাছ থেকে চুরি করে facebook এ ঢুকে তোর লেখা পড়লাম. অনেক কথা ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়, কিন্তু সময়ের অভাবে আজ থাক. তবে একটা কথা, এ আত্মহত্যা ব্যাপার তা খুব যা-তা. এটা কোনো সমাধান না. অন্যের সন্তানের শয়তানির জন্য তো আমি নিজের সন্তান কে খুন করার অধিকার রাখিনা. সন্তান হলো আল্লাহ এর আমানত, নিজের দুর্বলতার জন্য আরেকটা জীবন কে কেবল জড়ানোই না, তাকে এক্কেবারে শেষ করা! insane!

    ভাই, যত নারীবাদ আর পুরুষবাদ সম্পর্কিত তত্ত্ব কথাই উঠুক না কেন, আসল সমস্যা তা তো মনে, অন্যের মনে না, নিজের মনে. নিজেই জানিনা কি চাই. যদি স্বামী চাই, যে কোনো মূল্যে তা চাই. যদি শান্তি চাই, যে কোনো মূল্যে তা চাই, স্বামী ছাড়া বা সহ. আর যদি শান্তি আর স্বামী একসাথে চাই, তাহলে তার জন্য নিজেকে aage তৈরী করা দরকার. নিয়ত আর কঠিন ইচ্ছা শক্তির প্রয়োজন. কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবনে balance চলে না, priority বানিয়ে নিতে হয়. কেবল এ মালিহাই কি কেবল abuse এর শিকার, আমি বাজি রেখে বলতে পারি প্রত্যেকেই সংসার জীবনে অনেক challenge face করে. অনেক সময় ছোট অনেক ঘটনা, অনেক কথা এমন ধারণা দেয় যে জীবনটাই মিত্থ্যা হয়ে গেল. তাই বলে সংসার ফেলে দিব? ওই যে বললাম priority সেট করার কথা, সবার উপরে আমার চেষ্টা, আমার নিয়ত, বাকি টুকু আল্লাহ এর হাতে.
    যখন নারীর কোমল ভাব সংসারের সভা বর্ধন করে, তখন আমি কোমল..মানলাম. কিন্তু যখন আমার সংসারের crucial একটা phase jachchhe আর আমি amatr কোমল kholosh থেকে ber hote parlam না, pase loke kisu বলে te koshto pelam, শেষ porjonto ওই কোমল shovaber karone নিজেকে, নিজের shontanke merei fellam...এটা আমার কাছে কোনো motei acceptable না. ই don't feel pity, let alone synpathetic for them. ota narishulobh komolota না, CAWARD.
    well...aj jara malihar কথায় aha uhu korschen, tara ekbar vaben তো এ atmohottyai যদি muktir mokhyom upai হয়ে thake, aj তাহলে bangladeshi কেবল না, shara duniya te kojon nari jibito thakto!

    সমস্যা ashole desh বা jatir না, নিজের bhitore. ekhon থেকে omon news potrikai chhapanor একটা notun poddhoti howa uchit, with bit of impartial critical analysis. social researchers and analyst ra koyekta option বলে diben on what else malish could do. taholei না manush bachar upai বা onno option gulo shomporke janbe, আর onnorao নিজেকে mallihar moto সমাধান hishabe mora কে becche না niye bachte shikhbe.
    ato তা poth eshe amrao যদি omon aha uhu korte thaki তাহলে shomajer আর কোনো unnoti কোনো kalei ashbe না.

    আর arekata bishoy, kona character tao কিন্তু weak/vulnerable. sshami, সন্তান, shochholota shob এ acche, তার abar dirghoshash এর দরকার তা কি. if she is missing something, try to achieve that . if it is career , pursue ইত. aj তার shob smooth tao bhalo lagse না. just imagine যদি তার kopale malihar moto moddop husband porto! othoba তার একটা protibondhi dshontan thakto! i would define this category as "nai mortei bhoot"...

    and the other female characters?!? hollow, vulnerable, superficial..equally or more than the rests.

    i just expected at least one positive character, one bold charcter. one visionary. আমার কথা shune hoito মনে hobe আমি anti-feminist. NO. আমার baba একজন সমাজ সংস্কারক, আমার ma ইস one of the leading lawyers among her contemporaries, still fighting for women rights and justice, attending seminars internationally. chhotobela থেকে physically tortured, raped, koto case dekhlam, morgue giyeo post-mortem dekhesi. keu mere felle shetar কথা alada, কিন্তু লিফে এর shob opportunity explore না করে morte jabo kan? এ nari নিয়া panpananir চাইতে আমি একটা positive force beshi prefer korbo. at least One Rebel, One Visionary. One Leader.

    চলে jawa তা অনেক shoja, tike thakatai challenge . protita meyer moddhe atotuktu moner jor asha korbo, norom kadar থেকে shokto ইট এ নিজেকে rupantorito করে haal dhorbe.

    anyway jeetu, তর usilai অনেক kisu likhe fellam. majhe majhe likhish, critical comment করার usilai kisu auto-suggestion o dewa হয়ে jai নিজেকে. meye তা কে অনেক ador...

    ps: typing এর technical shomoshshar karone অনেক kichhu banglai ashlo না...

    জবাব দিন
  10. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    সুন্দর লিখেছ| কিন্তু বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে মালিহাকে আদর্শ মেয়ে বলবনা|

    ডিভোর্সি মেয়েদের সমাজ ভালো চোখে দেখে না|

    এখন কিন্তু এইসব চিন্তা ভাবনা অনেক বদলে যাচ্ছে| আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, সমাজ কাউকে খাওয়ায়ও না পরায়ও না, তাই সবকিছুতে সমাজের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না| বহুদিন আগে একটা হিন্দী গান শুনেছিলাম, যেটার বাংলা করলে হবে ---
    দুনিয়াকে লাত্থি মারলে
    দুনিয়া তখন সালাম দিবে
    ব্যাপারটা কিন্তু খুব একটা ভুল কথা না|

    জবাব দিন
  11. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    কেন যেন কোন কমেন্টের প্রেক্ষিতে জবাব দিতে পারছি না। টেকনিকেল কোন ঝামেলা হবে হয়ত।
    আলমা, তুই অনেক বিশাল কমেন্ট করেছিস, তার অর্থ তুই গভীর মনযোগ দিয়ে আমার লেখাটা পড়েছিস। এর জন্য ধন্যবাদ তোকে। কিন্তু তোর কমেন্টটা আসলে খুব বেশী ঢালাওভাবে একমুখী একটা কমেন্ট হয়ে গেছে। অবশ্যই আত্মহত্যা কখনোওই কোন সমাধান হতেই পারে না। এবং যে চলে যায় সে আসলে কোন দৃষ্টান্তই স্থাপন করল না কিন্তু! এই লেখার মধ্যে দিয়ে আমি সমাজের বিভিন্নজন এজাতীয় ঘটনা কে কিভাবে দেখে, আর আমাদের সমাজে ডিভোর্সটাকে কিভাবে দেখা হয় সেটা দেখাতে চেয়েছিলাম, খুব অল্প পরিসরের মধ্যে দিয়ে। তুই তোর অপিনিয়ন দিয়েছিস, অন্যরাও দিচ্ছেন। তবে আমাদের মনে রাখা দরকার প্রত্যেকটা মানুষ আলাদা, স্বতন্ত্র। মনবীজ্ঞানীরা বলে থাকেন প্রতিটা মানুষের মন আলাদা আলাদা একেকটা তালা যা সম্পূর্ণ আলাদা আলাদা চাবি দিয়ে খুলবে। আমরা আসলে আমাদের নিজেদের চাবী দিয়ে অন্যের মনের তালা খুলার চেষ্টা করি আর না পারলে সেটা ভেঙ্গে ফেলি, এখানেই সমস্যা। তোর মত অতি সচেতন মানুষ যেমন আছে এই সমাজে, আমার মত নির্লিপ্ত মানুষও আছে, আবার মালিহার মত কূল কিনারা হীন, অসহায়, দূর্বল মানূষও নিশ্চই আছে। এখানে মালিহার দোষ কতটুকু জানি না, কিন্তু খুব কাছ থেকে এমন একটা ঘটনা আমি দেখেছি যে পরিবার থেকে ছেলেবেলা থেকেই সেই মেয়েটিকে এমন শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে ভালো মেয়েরা কখনোই ডিভোর্সি হয় না বা সব কিছু সহ্য করে থাকতে হয়, এবং যখন সেই মেয়েটিকে অনেক অনেক বেশী অত্যাচার আর নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছিল বিয়ের পর, তাকে পরিবার থেকে বলা হয়েছিল ডিভোর্স হলে তার পরিবার তার কোন দায়িত্ব নেবে না, এমনকি কোন সম্পর্কও রাখবে না। সেও সেভাবেই আটোসাযেশন দিইয়ে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তার জীবনটা। আমি তোর সাথে একটা ব্যাপারে খুব একমত যে, প্রায়োরিটি ডিসাইড করাটা খুব ইম্পর্টেন্ট লাইফে। তবে তার পরেও আমার মনে হয়, প্রতিটা মানুষ আমার মতন না, বা আমি কারো মতন না আর পরিস্থিতি একটা মানুষকে কখন কিভাবে বদলে দিতে পারে সেটা কেউ বলতে পারে না। তাই মন্তব্য করার সময় খুব সতর্ক থাকি।
    আর আলু মামা, তুই তো আমার লেখার মূল্যায়নই করলি না!!!


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন
  12. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    মইনুল ভাই, এ্যাটলিষ্ট আপনি যে লেখার মুল্যায়ন করেছেন তার জন্য ধন্যবাদ 🙂
    আপনার কথা হয়তো ঠিক, সমাজ অনেকটা বদলেছে কিন্তু এখনো অনেকটাই বদলানোর বাকি। আমরা বাইরের থেকে একটা ঘটনা দেখে এর প্রেক্ষিতে খুব সহজেই একটা মন্তব্য ছুড়ে দিতে পারি। কিন্তু যার ব্যাক্তিগত জীবনে এমন ঘটনার মধ্য দিয়ে সময় কাটে সেইহয়তো ভালো বলতে পারবে তার আশপাশের চিত্রটা। এমনকি পবিত্র কুরআন মজিদে বলা হয়েছে আল্লাহ'র কাছে সবচাইতে অপছন্দনীয় হালাল হচ্ছে তালাক। মনে হয় কারো কাছেই এটা কোন পছন্দনীয় সমাধান না, কারণ মানুষ বিয়ে করে একসাথে থাকার জন্য, আলাদা হবার জন্য না। যাই হোক, সেসব আলাদা ইস্যু। কিন্তু আপনি যে বললেন, সমাজের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, এটার সাথে পুরোপুরী সহমত হতে কষ্ট হচ্ছে। কারণ আমরা কিন্তু আফটার অল সামাজিক জীব। একেবারে ইগনোর করা সম্ভব হয়ে ওঠে না কখনোই তবে ডিপ্লমেনটিক ওয়েতে হয়তো অনেক কিছু পাশ কাটিয়ে নেয়া যায়।
    তবে, ভাইজান, গানটা আমারো খুব পছন্দের,
    "দুনিয়া কা মাজা লেলো
    দানিয়া তুমহারে হ্যায়
    ইয়ে দুনিয়া তুমহারে হ্যায়..."
    //www.youtube.com/watch?v=RlbgA08P-_o


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন
  13. সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

    ভাই তন্ময়, আমি তো সেটাই বুঝতে পারিনি যে তুমি কলেজ থেকে লিখেছ। এই ডিজিটাল যুগের কলেজের ব্যাপার সেপার ভাই আমাদের মত ওল্ডিদের বুঝতে তো একটু সময় তো নেবেই, না? তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই, এতো পেইন নিয়ে পড়ার জন্য 🙂


    You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

    জবাব দিন
  14. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    আমি একটু স্বার্থপর টাইপের।আমার কাছে মনে হয়-নিজের দিকে তাকানো প্রতিটা মানুষের কর্তব্য,অন্য কারো কথা,সমাজ ইত্যাদির কথা ভেবে নিজেকে স্যাক্রিফাইস করা চূড়ান্ত নির্বুদ্ধিতা।আমার অতি পরিচিত এক মেয়ে প্রেম করে বিয়ে করেছিলো-তাদের ফুটফুটে একটি সন্তানও আছে।বিয়ের বছর দুয়েক পর জানা গেল সেই স্বামীটি শুধু দুশ্চরিত্রই নয়,যখন তখন অত্যাচারও করে তাকে।সবচাইতে দুঃখের বিষয় হল,যহেতু মেয়েটি পরিবারের অমতে বিয়ে করেছে তাই তার বাবা-মা তাকে আশ্রয় দিতে রাজী নয়।মেয়ের মা বলেছে-"মেয়েদের এসব সহ্য করেই চলতে হয়"।

    এই মেয়েটি নিজের মেয়ের দিকে তাকিয়ে ডিভোর্স দেয়নি।আমার নিজের বোন হলে যা বলতাম ঠিক সেই কথাটিই আমি ওকে বলেছি-নিজের অসমাপ্ত পড়াশোনা শেষ করে প্রতিষ্ঠাপ্রাপ্তি পর্যন্ত দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করতে(সেটাও অন্য উপায় নেই দেখে)।তারপর লাথি মেরে চলে এসে নিজের জীবন নিজের মত যাপন করতে।যে সমাজ একটা মেয়ের অসহায়ত্বের দায় সেই মেয়েতার উপরই চাপায় সেই সমাজ কি বলল তার থড়াই কেয়ার করা উচিত বলে আমি মনে করি।

    এই সহ্য করতে করতেই সমাজটার আজকে এই অবস্থা হয়েছে।তবে আশার কথা,আমার পরিচিতদের মধ্যেই অনেক উদার মনের মানুষ রয়েছেন।যদি সমাজ বদলায় তাহলে এঁদের হাত ধরেই বদলাবে,সেই সাথে নিজেদেরকেও লড়তে হবে।হেরে যাওয়া নিষেধ,একেবারেই নিষেধ।

    লেখাটায় একটু দেরি করে মন্তবয করলাম জিতুয়াপ্পি।ভাল জিনিস তারিয়ে তারিয়ে পড়তে হয় এ কারনেই।

    জবাব দিন
    • সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

      ম্যাশ, তুই জানিস আমি তোর সাথে কতখানি সহমত। সানাউল্লাহ ভাইয়ের মত আমিও মনে করি সংসার করতে হলে আপোস করে চলতে হয় অনেক ক্ষেত্রেই, সব খানেই, শুধু সংসার কেন। কিন্তু এরও একটা লিমিট আছে। আবার আলমা যেমন বেলেছে লাইফে প্রায়োরিটি ডিসাইড করাটাও খুব ইম্পর্টেন্ট। তাই সব কিছু ব্যালেন্স করে চলাটা অনেক সহজ ব্যাপার হয়ত না অনেকের কাছেই। তবে সেলফ ডিগনিটি বা আত্ম সম্মান নিয়ে চলা আর সেই আত্ম সম্মান নিজের কাছে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করাটা খুব ভীষন একটা জরুরী জিনিস। ছেলে হোক আর মেয়ে হোক একটা সম্মান জনক অবস্থানে নিজেকে পৌছাতে হবেই হবে। আর সেই সাথে কম্প্রমাইজ, স্যাকরিফাইস ইত্যাদি জিনিস গুলো নিজের বোধ-বুদ্ধি-বিচার আর পরিস্থিতি অনুযায়ী অল্টার করে নিতে হয়। এটাই জীবন। আমি এই গল্পে একটা ব্যাতিক্রম ঘটনা তুলে এনেছি, কারন এমন ব্যাতিক্রম ঘটনাও যে আমাদের সমাজে একেবারেই ঘটছে না তা কিন্তু না।


      You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

      জবাব দিন
      • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

        জিতুপ্পি,আপনার এই গল্প এখন ঘরে ঘরে হচ্ছে।আমার আম্মার একটা লেডি জিম আছে-আম্মা নিজেই সেটার ইন্সট্রাকটর।ওখানে সমাজের "উপরতলার" অনেক মহিলাই আসেন।শুনলে অবাক হবেন-এই মেয়েগুলোর সেই "উপরতলায়" বিয়ে হয়েছিল তাদের পড়াশোনা,ব্যক্তিত্ব ইত্যাদি যোগ্যতার কারণে।সেই "উপরতলা" তাদেরকে শুধু শো-পিসই বানিইয়ে রাখেনি, আমার আম্মার মতে এদের অন্তত ৮০% মহিলা ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার।

        "সমাজ কি বলবে","মেয়েদের সব সহ্য করতে হয়" এইসব বানী দিয়ে দিয়ে এই মেয়েগুলোকে পশুর চেয়েও অধম দিনপাত করতে বাধ্য করা হচ্ছে।আমার মতে,সময় হয়েছে দিন বদলের।"ডিভোর্সি মেয়েদেরকে সমাজ খারাপ চোখে দেখে" এই ভেবে দিনের পর দিন পাশবিক অত্যাচার সহ্য করার চেয়ে সেই সমাজ এবং সংসার দুয়ের মুখেই কষে একতা লাত্থি দিয়ে একা লড়াই করার চেষ্টা করা উচিত।আমার নিজেরও ছোট বোন আছে এবং এধরণের পরিস্থিতে তাকে আমি এই শিক্ষাই দেব।এনাফ ইজ এনাফ।

        জবাব দিন
  15. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    জিতু, আমরা তো এগুলো জানি, তাই না। পুরোনো কথাই আবার নতুন করে বলা এইতো হল।

    এটা কিন্তু লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য হচ্ছে একটা সমাধানের পথ দেখানো, দিক নির্দেশনা দেয়া, উদাহরন দিয়ে দেখানো, এরকম পরিস্থিতিতে কিভাবে একটা মেয়ে আশেপাশের সবকিছু জয় করে ফেলতে পারে। সবকিছু নতুন করে তৈরী করতে পারে। হোক না গল্পে, আজকে যেটা গল্প, কালকে কেউ না কেউ তা বাস্তবে নামিয়ে আনবে।

    তোমার গল্পের এন্ডিংটা সেই অর্থে আমার পছন্দ হয়নি। পুরনো ঘুরপাকের ভিতরেই রয়ে গেছে মনে হয়েছে। সমাধান নেই।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
    • সাবিহা জিতু (১৯৯৩-১৯৯৯)

      ফয়েজ ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার অবজার্ভেশন ঠিকই আছে, সত্যি সমস্যা বা এই গল্পের প্রেক্ষাপট খুবই পরিচিত এবং পুরাতন। আমি সেটি কেবল একটা ঘটনার মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম। সমস্যা-সমাধান বিষয়ক আলোচনায় যেতে চাইলে হয়ত প্রবন্ধ আকারে লিখতাম। আর প্রবন্ধে আমি পারসনালী বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। জীবনে এই প্রথম বারের মতন গল্প লেখা, তাই এ্যামেচারিটি আছেই, বুঝতে পারি। আমি যতটুকু দেখেছি বা বুঝেছি, ছোট গল্পে কিন্তু লেখক সচরাচর কোন সমাধান নিয়ে আসেন না, ব্যাতিক্রম থেকে থাকবে হয়ত। এই গল্পে আমার কোন পারসনাল অপিনিয়ন আমি একেবারেই না দেয়ার চেষ্টা করেছি। খুব নিউট্রাল দৃষ্টিকোন থেকে সামাজিক একটা ঘটনা ঘটে যাওয়া আর এর প্রেক্ষিতে আর দশটা থার্ড পারসনের মনোভাব তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম মাত্র।


      You cannot hangout with negative people and expect a positive life.

      জবাব দিন
    • মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

      আমার কাছে অবশ্য বেশ ভালো লেগেছে গল্পটা।সমাধান দেখানোর মত সমাজের দগদগে ঘা কে তোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়াটাও লেখকের কাজ।প্লট হয়তো অতি পরিচিত তবে বলার মুন্সিয়ানার কারণে বেশ ভালো লেগেছে-পড়ে মনে হয়েছে আরে!এটা তো আমি আশে পাশে ঘটতে দেখেছি! 🙂

      জবাব দিন
  16. আয়েশা ( মগকক) আয়েশা

    আমার কিন্তু খুবই ভালো লেগেছে। লিখাটা ছিল ফুড ফর থঠ টাইপের। লিখার মাঝে লেখক সমস্যা তুলে ধরার পরপরই সমাধান সব সময় দিয়ে দিলে সেটা সবার জন্য গ্রহনযোগ্য না-ও হতে পারে, বরং মানুষ নিজ নিজ অবস্থান ও দৃষ্টি থেকে ভাবুক- মন্দ কি তাতে? সব লিখায় না হলেও কিছু লিখায় দীর্ঘ নি:শ্বাস থাকুক।

    জবাব দিন
  17. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    গল্পকারের প্রথম গল্প ছিল নাকি এটা?
    ও মাই গড!
    ভাবাই যায় না। প্রথম গল্পটাই কি করে এতটা ঝরঝরে, এতটা সাবলিল হতে পারে?
    মুগ্ধ হয়ে এক নিঃশ্বাসে পড়ে গেলাম।
    একজন লেখক তার গল্পে কোন একটা সমস্যার চিত্র যদি খানিকটাও তুলে ধরেন, তাকেই আমি যথেষ্ট অর্জন বলে গন্য করবো। গল্পতো কেউ একশনে নামার জন্য পড়ে না, পড়ে রিক্রিয়েশনের জন্য। সেই রিক্রিয়েশনের সময়টাকে খুব ভারী না করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে আমি মনে করি। এখানে সচেতনতা জাগাতে যতটা বলা হয়েছে, এরচেয়ে বেশী বলা হলে তা পাঠকের জন্য তা বার্ডেনসাম হয়ে যেত। এই পর্যন্ত শিল্পোত্তির্ন থেকেছে। এরচেয়ে বেশী হলে থাকতো কিনা, কে জানে?
    তবে এই গল্পটা পড়ে মানুষ ভাববে। ভেবে তার নিজের কথাটা বলবে, নিজের সিদ্ধান্ত নেবে। আর সেটাই হবে লেখকের সার্থকতা।

    আমি কি কি ভাবলাম, এইবার সেগুলো একটু বলি।

    আমার মনে হলো, মালিহা মূলত "ভাল মেয়ে হবার" মরননেশায় আক্রান্ত ছিল। আর দশটা চেনা মরননেশার চেয়ে এটা কোন অংশেই কম ক্ষতিকর যে নয়, তা তার পরিনতি দেখেই বোঝা গেল। আমরা সাদা চোখে তার আশাভঙ্গ ও অত্যাচারিত হওয়া এবং সেইজন্য সন্তানসহ আত্মহনন - এই দুটো কে দেখে এই দুই এর মাঝে সেতুবন্ধ খুজছি। আর তা করতে গিয়ে যে জিনিশগুলো ওভার লুক করে ফেলছি, তা হলো - ১) তার এই ভাল মেয়ে হবার নেশাগ্রস্থ হওয়াটা কিন্তু এক-দু দিনে হয় নাই। এটা এক দীর্ঘ্য প্রক্রিয়ার ফল। ২) তার এই আত্মহননের পথে পা বাড়ানোটাও কিন্তু এক রাতের সিদ্ধান্ত না। সেটাও আরেক দীর্ঘ্য প্রক্রিয়ার ফসল।

    একটু ব্যাখ্যা করি।

    ছোট বেলা থেকেই এই যে আমরা শিশু কে ক্রমাগত চাপে রাখি ভাল ছেলে বা ভাল মেয়ে হবার জন্য, সেটা যে তার জন্য কিছু অপ্রোয়োজনিয় বাড়তি স্ট্রেস তৈরী করে সে বিষয়ে আমরা কি সচেতন? মনেহয় না। আবার এই বাড়তি স্ট্রেস থেকে মুক্তির উপায় হিসাবে সে যা খুজে পার মানে ঐ ভালত্বটাকে ধরে রাখতে পারায়, সেটা কি আমরা বুঝি? এটাও হয়তো বুঝি না।
    কিন্তু এ থেকে যে ক্ষতিটা তার হয় তা হলো: ভাল হয়ে এই স্ট্রেস-মুক্তি ঘটাটা ক্রমেই তার মধ্যে ভালত্বের উপরে ডিপেন্ডেন্স তৈরী করে। এই ডিপেন্ডেন্স থেকে তার মধ্যে তৈরী হয় ভাল হবার নেশা। একবার কোন নেশা কাউকে ধলে তা থেকে কারো কারো মরননেশাও তৈরী হতে পারে। সম্ভবতঃ মালিহার ক্ষেত্রে সেরকম কিছুই ঘটে থাকবে।
    অবশ্য লেখকের কমেন্টে আরেকটা সম্ভবনার ইঙ্গিতও আছে। পারিবারিক চাপ তাকে বাধ্য করেছে এই অসুস্থ্য জীবনটাকে টেনে নিতে। মালিহার জন্য সেটা যদি হয়ে থাকে তাহলে তা তো আরও আশংকার কথা।
    পারিবারিক চাপে বাধ্য হয়েই হোক অথবা ভাল থাকার নেশাগ্রস্থতার কারনেই হোক, মালিহার সংকটে পড়া জীবনটা (শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনে জর্জরিত) থেকে বেরুনোর পথ সে পাচ্ছিল না।
    এ টিপিকাল সোর্স অব ফ্রাস্ট্রেশন। কারন "ফ্রাসট্রেশন ইজ দ্যাট স্টেট অব মাইন্ড হোয়েন এচিভমেন্ট অব গোল ইজ ব্লকড"।
    এরপর ফ্রাসট্রেশনের যে যে ধারাবাহিক পরিনতি তা একে একে নিশ্চয়ই ঘটা শুরু হয় তার মধ্যে। আর এর কোনো পর্যায়ে বাধা না পেলে তা পরের পর্যায়ে পৌছে যাচ্ছিলো নির্বিঘ্নে।
    ফ্রাসট্রেশনের থেকে আসে ডিপ্রেশন / ইউথড্রল বা ভাইস ভার্সা।
    ইউথড্রল / ডিপ্রেশন থেকে তা গড়ায় সেলফ এনিহিলেশন অর্থাৎ আত্মহত্যায়।

    এখন কথা হলো, আমাদের কি কি করনিয়?
    ১) ভাল ছেলে বা ভাল মেয়ে হতেই হবে, এই রকম কোন চাপ না দেয়া। শিশু ভাল হতে চাক, ঠিক আছে। কিন্তু সে যেন কোন পর্যায়েই ভালত্বের নেশায় যেন না পড়ে সেটা লক্ষ রাখতে হবে সবার।
    ২) যে কারোরই যে কোন সমস্যার কথা, তা সে যেকোনো সমস্যাই হোক না কেন - তা যেন সে শেয়ার করতে পারার মত বিশ্বস্থ সঙ্গি সাথি যেন তার থাকে, সেটা ছোট বেলা থেকেই অনুশিলন করানো ও তাতে উৎসাহ দিতে হবে। তার নিজেকে ও তার কাছের মানুষকে তার যেকোন কমুনিকেশনের ব্যাপারেই গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। বুঝতে হবে কখন তার প্রোফেশনাল হেলপ দরকার। দরকার মনে করলে সেই প্রফেশনাল হেলপের ব্যবস্থাও করতে হবে অনতিবিলম্বে।

    আশার কথা, বর্তমানে বেশ সহজেই এই ধরনের প্রোফেশনাল হেলপ পাওয়া সম্ভব। সম্প্রতি জানলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের পাঁচ তলায় সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টের তত্ত্বাবধানে বেশ কিছুদিন ধরে এইরকম প্রোফেশনাল হেলপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
    আমরা যদি কেউ আমাদের পরিচিতদের মধ্যে কাউকে এই ধরনের বা অন্য কোন "ফ্রাস্ট্রেশন-উইথড্রেল-ডিপ্রেশন-এনিহিলেশন" লুপে পড়ে যেতে দেখি, আমাদের উচিৎ হবে অনতি বিলম্বে তাকে এই প্রফেশনাল হেলপ নিতে উৎসাহী করা। এতে মালিহার মত দুর্ঘটনা বন্ধ না হলেও কমে যে আসবে, সেটা নিশ্চিত। আর একান্তই যদি তা ঘটেও যায়, অন্তত এই বলে নিজেকে সান্তনা দিতে পারা যাবে যে "আমি তো আমার সর্বোচ্চটা করেছিলাম, বাকিটা আমার নিয়ন্ত্রনে ছিল না"।

    সবার আরও আরও বেশী ছোট ছোট বিষয়ে সচেতনতা পারে এই রকম দুর্ঘটনাকে অনেক অনেক কমিয়ে আনতে।
    আসুন বেশী বেশী জানি আর আরও বেশী বেশী সচেতন হই।


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।