ফরজ পালন অথবা ভালোবাসার প্রতিদান এবং একটি জিটুজির আহ্ববান!

জীবনের প্রথম জন্মদিনটা নাকি বেশ ঘটা করে পালন করা হয়েছিলো, স্মৃতিতে নেই, ছবি তে দেখেছি। এর পর মোটামোটি করে আপনজনেরা শুভেচ্ছা টুভেচ্ছা দিত মাঝে সাঝে। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত ছয়টা বছর বান্ধবীরাই পাঁচ পাঁচটা জন্মদিন পালন করলো, নিজের আকাউন্ট থেকে চকোলেটের পয়সা খসলেও ৬০ জনের ভালোবাসার কাছে সে পরিমান ছিল অতি নগন্য। বেশ কিছু বছর পর জীবনে “উনি” এলেন, বিয়ের কয়েকমাস আগে আলাপ পরিচিতির জন্য কিছুটা সময় আমরা নিলাম। জন্মদিনটা তার অজানা ছিল না। কিন্তু ৩০ পেড়িয়ে ৩১ তারিখ রাত ১২টায় উনি বললেন, “আমার আগে কেউ উইশ করেনি তো”!!! বলে কি এই লোক?
এর পরের ঘটনা গুলো খুব তারতারিই ঘটে গেলো। অনেক চড়াই উতরাই, ভাঙ্গা গড়া, অনেক কিছু। আমার জীবন বদলে দিতে আল্লাহ আমার কোলে পাঠালেন আমার মেয়ে কে। গত দুই বছরে তেমন উল্লেখযোগ্য কিছুই ঘটেনি ক্যলেন্ডারের এই দিনটিতে। ঘটার কিছু নেই, বয়স আটকানোর উপায় তো আর নেই। আরে ভাই, দিন যাচ্ছে বয়স বাড়বেই, না? আর এই বয়সে জন্মদিন নিয়ে আদিখ্যেত করার মত লজ্জার ব্যাপার আর নেই। প্রায় ঘুমিয়েই পড়েছিলাম, ২৯ তারিখে রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে কলিং বেল বেজে উঠলো। দরজা খুলে দেখি মা, বাবা, আমার ছোট ভাই রাইয়ান আর বাবার প্রানপ্রিয় ওল্ড ফৌজিয়ান ব্যাচমেট বন্ধু সাইফুল ইসলাম যাকে আমি ডাকি সাইফ মামা, সবাই হাজির একটা কেক নিয়ে। খুশী, লজ্জা সব ছাপিয়ে কেনো যেন চোখ ফেটে পানি চলে আসলো বুঝলাম না। এই সিসিবি তে তো সবাই আমরা আমরাই, তাই বলতে দ্বিধা করছি না, এতো গুলো মানুষের মাঝেও হঠাত করেই নিজেকে খুবই একা লাগলো। সেই একাকীত্ব এক মূহুর্তে কেটে গেলো যখন আমার পরীটা এসে খুব অধৈর্য্য হয়ে তাড়া দিতে থাকল কেকটা কাটার জন্য।
… শুরু হল একের পর এক সারপ্রাইজ। আমার পুরো জীবনে এতো মানুষের ভালোবাসা ভরা জন্মদিনের শুভেচ্ছা আমি এর আগে পাইনি কখনো। ভীষন অবাক হলাম সিসিবিতে আমাকে নিয়ে আমার অসম্ভব প্রিয় ছোট ভাই ম্যাশের ব্লগটা পেয়ে, যদিও সে আমার ব্লগে আমার বাবার বাসার প্রশংসা করাতে কিছুটা মনে মনে…:thumbdown: দিয়েছি। সবচাইতে অবাক করে দিয়ে দিনের শেষটাতে গিয়ে ফোন করলো দিহান পুচকেটা! মেয়েটা আমাকে পুরোপুরি ঋনী করে দিচ্ছে। ইনফ্যাক্ট আমি এই সিসিবির সব্বার কাছে অত্যন্ত ঋনী। কি করে এই ঋন শোধ করা যেতে পারে? না, ভেবে দেখলাম কোন ভাবেই এই ঋন মনে হয় শোধ করার নয়। তবে ছোট ছোট ভাইগুলোর আবদার রাখার ছোট্ট একটা প্রচেষ্টা করা যেতে পারে এই ভেবে একটা আর্জি পেশ করেছিলাম এডু স্যার, মডু প্যানেল আর প্রিয় প্রিন্সু স্যারের কাছে যে নেক্সট ঈদ পুনর্মিলনি টা আমার ছোট্ট বাসাতে আয়োজন করতে চাই। কিছুটা ব্যাক্তিগত কারণেই নিজের গন্ডিটা ভার্চুয়াল জগতেই সীমাবদ্ধ করে রেখেছিলাম মাঝের বেশ অনেকটা সময়। কিন্তু সিসিবি মনে হচ্ছে আমাকে টেনে বের করে আনবেই।
আমার মত অখাদ্য কুখাদ্য মানের এক হাজারটা বানান ভুলের লেখাতে যারা এতো এতো ক্লান্তিহীন কমেন্ট করে যায় তারা নিশ্চই অনেক ভালো মানুষ হবে। এই সব ভালো মানুষগুলোকে একটু আপ্যায়ন না করলে যে কোনভাবেই শান্তি পাচ্ছি না। আর আমার মেয়েটার এতোগুলো খালা-মামা থেকেই বা কি লাভ যদি সে এক আধটু জ্বালাতনই না করতে পারলো? আর মামীদের হাতের দুধ ভাত খাওয়ার পথটাও তো আমাকেই করে দিতে হবে। নাকি? কিন্তু সিসিবির সবার কাছে একটু সহায়তা চাইব দিন তারিখ ঠিক করাতে নিজ নিজ মন্তব্য জানাতে। আমার মনে হয় ম্যাশের কথা মত এই মাসের মধ্যে করলেই ভালো হয়। আরও ভালো হয় ঈদের পর থেকে ২২ তারিখের মধ্যে আয়োজন করার সুযোগ করে দিলে। তবে অবশ্যই এমন দিন তারিখ হওয়া চাই যাতে করে আমার কন্যাধরটি তার সর্বোচ্চ সংখ্যক মামা-মামীর উপস্থিতি নিশ্চিত করে জ্বালানোর জন্য ঝাপিয়ে পড়তে পারে। আমাদের সিসিবির মডু মামারা কি এগিয়ে আসবেন একটু কষ্ট করে?

৭,০৪১ বার দেখা হয়েছে

৯৬ টি মন্তব্য : “ফরজ পালন অথবা ভালোবাসার প্রতিদান এবং একটি জিটুজির আহ্ববান!”

  1. রকিব (০১-০৭)

    ব্যাপক ভুয়া পুষ্ট!! :(( :(( :((
    আমরা যারা অকূল দরিয়ার ভাসতেছি (মানে প্রবাসী) এরা খালি বঞ্চিতই হবে!!!!


    আমি তবু বলি:
    এখনো যে কটা দিন বেঁচে আছি সূর্যে সূর্যে চলি ..

    জবাব দিন
  2. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    খাওয়ার জন্য আমরা যেকোন জায়গায় যাইতে প্রস্তুত 😀


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  3. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    সবাই বলেন কবুল। আমরা দাওয়াত কবুল করলাম।

    গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান দেখে মরহুম জ্যোতিষী পল জানিয়েছেন, ১৯ বা ২০ নভেম্বর দুপুরটা খাওয়া-দাওয়ার জন্য ভালো সময় (পল কবে, কিভাবে এই তথ্য প্রিন্সিপালকে জানিয়েছেন এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন বা সংশয় আলোচনার যোগ্য নয় অবশ্যই)। আমাদের মহিয়সী হোস্ট যেদিনটি বেছে নেবেন তা শিগগিরই জানিয়ে দিন। কারণ কোরবানির ঈদের সিজনে আবার দাওয়াতের ধুম পড়ে কিনা! :grr: :grr: :grr:


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  4. আমিন (১৯৯৬-২০০২)

    "জিটুজি" মানে গেট টুগেদার এইটা বুঝলাম অনেক পরে। আমি তো ভাবছিলাম জিতুদির ডিজুস সংস্করণ বুঝি "জিটুজি"। যাক, শুভাকামনা সবার জন্য।জমজমাট ঈদ আড্ডা হোক। আর সবাইরে অগ্রীম ঈদ মোবারক।

    জবাব দিন
  5. কিবরিয়া (২০০৩-২০০৯)

    আচ্ছা যারা ঢাকার বাইরে থাকে তাগোর কি হবে??? ডি এইচ এলে (মতান্তরে সুন্দরবনে) খাবার পাঠানোর আর আড্ডার মাঝে থ্রী-ডি ক্যামেরার লাইভ ফিড চাই।। B-)

    নাইলে জিতুপ্পিরে কইস্যা মাইনাস।। :thumbdown: :thumbdown: :thumbdown: :thumbdown:


    যেমন রক্তের মধ্যে জন্ম নেয় সোনালি অসুখ-তারপর ফুটে ওঠে ত্বকে মাংসে বীভৎস ক্ষরতা।
    জাতির শরীরে আজ তেম্নি দ্যাখো দুরারোগ্য ব্যাধি - ধর্মান্ধ পিশাচ আর পরকাল ব্যবসায়ি রূপে
    - রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

    জবাব দিন
  6. আছিব (২০০০-২০০৬)

    আগামী ২৮শে নভেম্বর টেরানস্পুরট নামুক বিশাল মারদাঙ্গা পরীক্ষা হওয়ার কারণে সবার আগে আমাকেই ''আছি''-লিস্ট হতে নাম প্রত্যাহার করতে হচ্ছে।
    অত্যন্ত দুঃখের সাথে এই ভূরিভোজ মিস করব :(( :((

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।