১।
আমার প্রবাস জীবন প্রায় ৮ বছর হতে চলল। ৮ বছরে প্রায় ১৫ খানা ঈদ করেছি একা একা। বেশির ভাগ ঈদই ক্লাস করে কিংবা ঘুম দিয়ে পার করে দিয়েছি। এবারের কোরবানি ঈদ একেবারে ব্যতিক্রম কাটল। একটাবারের জন্য ও মন খারাপ হয়নি। খুব খারাপ হলেও একবারের জন্য ও মনে হয়নি যে দেশে থাকলে ভাল হত। সত্যি বলতে কি দেশ ই আমার সাথে ছিল এবার। আমার আম্মু ছিল এইবার আমার কাছে।
ক্লাস টেন ১৯৮১
১৫ জানুয়ারী ’৮১।
সকালে জালাল চাচার সাইকেল নিয়ে বিয়ানী বাজার গিয়েছিলাম জমিনের রেজিষ্ট্রি হবে। বড় চাচার আসার কথা ছিলো ১টা পর্যন-। কিন’ ২টা পর্যন- যখন এলেন না, তখন আমি সাইকেল নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলাম। বিয়ানী বাজারে খবর পেলাম আমাদের গ্রাম দোয়াখার সাথে পাশের গ্রাম পুরষপালের মারামারি হয়েছে। তাতে আমাদের গ্রামের একজন মারা গেছে। আমি দ্রুত বাড়ির দিকে আসতে থাকি। এ সময় শুনি আমাদের গ্রাম নয়,
ফারাক
নভেম্বরের মাঝামাঝি । হিম পড়তে শুরু করেছে । দোতলা বাড়ির ছাদে বসে আছে শিপন । বাড়ির এদিকটায় অনেকগুলো সুপারি গাছ।তাদের ঝিরিঝিরি পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে চাঁদ। সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে শিপনের বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। নাহ্ ! এত সৌ্ন্দর্য একা উপভোগ করা যায়না । এসময় বিশেষ কাউকে পাশে থাকতে হয়।এখন যদি অবন্তী পাশে থাকত,কাঁধে মাথা রেখে!অবন্তীর খোলা চুল হাওয়ায় দুলে দুলে শিপনের গালে সুড়সুড়ি দিত যদি!
বিস্তারিত»ব্যক্তিগত রেসিপি-৭
একেকদিন অফিস পালিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াতে বেশ লাগে।কি একটা জরুরী কাজ পড়ে গেছে ভান করে বেরিয়েই একটা লম্বা শ্বাস-উফ্, দম বন্ধ হয়ে আসছিলো!ঘাড় কাত করে তার আর দালানের জঙ্গল থেকে আকাশটাকে আলাদা করতে চেষ্টা করি, পারিনা।একটুকরো আকাশও আজকাল এত দুর্লভ হয়ে গেছে এই শহরে!
অফিস পালিয়ে মানুষ দেখি,ছককাটা আকাশের নীচে ঢাকার উদভ্রান্ত ছুটে চলা দেখি।
দিনটাকে এত মনোরম আর রঙিন মনে হয়!অঢেল সময় হাতে নিয়ে একেকটা মুহূর্তকে নবাবী মেজাজে ছুঁড়ে ফেলতে ফেলতে ফুটপাত ধরে এগিয়ে চলা।ঘাড়ের কাছে কয়েকটা রিকশা এসে দেনদরবার করে উড়িয়ে নিয়ে যাবার প্রত্যয়ে।না হে,
হলদে পক্ষীর ‘৭১
১৪ মে, ১৯৭১।
পিরোজপুর জেলার কৃষ্ণনগর গ্রাম।
ঊর্মিলা সকালে উঠেই বুঝতে পারল, আর একটি অবশ দিন অপেক্ষা করছে তার জন্য। সারাদেশে কি যে শুরু হল, যুদ্ধ,গুলি আর বিপ্লব। ঊর্মিলা অনেক কিছুই বুঝতে পারে না,গতবার যখন তার ভাই ঢাকা থেকে বেড়াতে এসেছিল, তখন বাবা আর ভাই কে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে শুনেছে,আইয়ুব খান, মনায়েম খান, রাও ফরমান আলি এই সব নাম গুলো বার বার ওর কানে আছড়ে পরছিল।
প্রথম প্রেম

1985 shale Humayun ahmeder shakkatkar nicche shangbadik shakoor majid
বালকটি যে কারণে মুগ্ধ হয়েছিলো
শাকুর মজিদ
ছেলেটি তখন একেবারেই কিশোর। চৌদ্দ-পনেরো বছর বয়স। ক্লাস নাইনে পড়ে। ক্লাসের বই ছাড়াও গল্প উপন্যাসের বইয়ের প্রতি তার বেশ ঝোঁক। বিশেষ করে রহস্য উপন্যাস। কাজী আনোয়ার হোসেন, রোমেনা আফাজ প্রায় শেষ। সে যেখানে পড়াশুনা করে, এটা একটা আধাসামরিক আবাসিক বিদ্যানিকেতন। যদিও সে পড়ে স্কুলের ক্লাসে,
বিস্তারিত»বিকৃত লালসা, আক্রমণ ও সমসাময়িক ধারনা
অনেক হতাশা থেকে লিখতে বসা। প্রত্যেকটি বিষয় এর যুক্তিযুক্ত সমালোচনা বিষয়টিকে করে তোলে অনেক বেশি গ্রহনযোগ্য আর নিখুঁত। কিন্তু আমরা মনে হয় সব বিষয় ছেড়ে নারীর পোশাক নিয়ে মেতেছি। আমাদের সকল যুক্তি আলোচনা, সমালোচনা এখন পোশাকবদ্ধ। শালীন আর অশালীন পোশাকের পার্থক্য নিরূপণে আমরা বুদ্ধি যুক্তি আর ধর্ম ব্যবহার করছি। পোশাক স্বাধীনতা আমাদের কতটুকু??? আমরা কতটুকু স্বাধীন?? নাকি আমাদের ধর্ম, কৃষ্টি কালচার শুধু নারী নিবদ্ধ???
জাফর ইকবাল সাহেবের মেয়ের ছবি দেখলাম কোন এক ব্লগে।
বিস্তারিত»কালো দিন এবং কিছু অপ্রাসঙ্গিক কথা
(লেখাটা শুরু করেছিলাম কামরুলের কালো দিনের মন্তব্য করতে গিয়া। এতো বড় হইয়া গেলো যে লেখা হিসাবেই দিয়া দিলাম।)
সিলেটের আরও অনেক কাহিনী পাওয়া যায়। পামোশ যেখানেই গেছেন অনেক কাহিনীর জন্ম দিয়েছেন। ব্যাক্তিগত জীবনে প্রবল ধর্মকর্মকরা এই মানুষটির ভাগ্য কেন এমন; কে জানে? ঝিনাইদহের এক বড় ভাই অইদিন পামোশের কথা বললেন। পামোশ কুমিল্লা থেকে আমাদের কলেজে বদলি হয়ে আসলেন অইখানে ঝামেলা করার জন্য।
বিস্তারিত»১১.১১.১১
ক.
দু সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেটের বাইরে ছিলাম। টিভি খবর কিংবা খবরের কাগজ, কোন কিছুর সাথেই যোগাযোগ ছিল না। তাই আশেপাশের অনেক ঘটনাই টের পাইনি। আজকে দুপুর নাগাত ঘুম থেকে উঠে অনেকিন পরে ফেসবুকে ঢুকে দেখলাম বেশ একটা উৎসব উৎসব ভাব। আজকে ১১.১১.১১!!! ফেসবুক বা ইন্টারনেট না থাকলে মনে হয় টেরই পেতাম না, শুধু এই তারিখ না, আরো কত কিছুই যে টের পেতাম না কে জানে!
ক্লাস নাইন ১৯৮০
১ ফেব্রুয়ারী, ১৯৮০।
গতকাল রাত ১২টায় শ্রীমঙ্গল স্টেশন থেকে মেইলে উঠেছিলাম। দ্বিতীয় শ্রেণীর কামরা। সকাল ১০ টায় ট্রেন এসে থামলো চট্টগ্রাম স্টেশনে। আজ জীবনের দ্বিতীয় বারের মতো চট্টগ্রাম নিউ মার্কেটে ঘুরাঘুরি করলাম। ওখানে এসকেলেটার দিয়ে দোতলায় উঠা যায়। আমি কয়েক বার উঠা-নামা করলাম। বিকেল ৪টায় নাভিদের সাথে কলেজে চলে এলাম। বছরের শুরুতে একমাস উইন্টার ভ্যাকেশন ছিলো। কাল থেকে শুরু হবে নতুন ক্লাসে নতুন জীবন।
ভালো থাকুন মনোয়ারুল হাসান বিপ্লব ভাই ও রুখসানা লোপা আপু
গতকাল ল্যাবে বসে ঝিমাচ্ছি এমন সময় কেউ একজন খোমাখাতায় নক করে বললো ভাই মির্জাপুরের এক্স ক্যাডেট এক বড়ভাই মারা গেছে জানেন? খবরটা শুনে মন খারাপ হয়ে গেলো। মৃত্যু সংবাদ শুনলেই আমার ভালো লাগে না, তার মাঝে মৃত্যুটা যদি হয় পরিচিত কোন মানুষের সেটা মেনে নেয়া কষ্টেরই। তবে পরিচিত বলে ফেললাম অবলীলায় অথচ তাকে আমি কখনও দেখিনি। তারা যে বছর কলেজ থেকে বের হয়ে গেছেন তার পরের বছর আমরা ঢুকেছি।
বিস্তারিত»১০ই নভেম্বর, শহীদ নূর হোসেন দিবস স্মরণে লেখা দুটি কবিতা- ‘হৃদয়ের রাজপথে’ ও ‘নূর হোসেন’
হৃদয়ের রাজপথে
———————
শহর জুড়ে সে ছড়িয়েছে শপথের ঘ্রাণ,
তপ্ত পথের বুকে উড়িয়েছে ধূলো,
অবাধ্য ঝাঁকড়া চুলে যুবকের অবিনাশী দেহ
রক্ত-আখের বুকে জড়িয়েছে প্রাণ।
সৌর তারা ছাওয়া আকাশের মতো
নূর হোসেন আজও জাগে অনির্বার
স্বদেশের দিনরাত্রি জুড়ে;
বিদীর্ণ সে বুকের রক্তে ভাসে পথ মাঠ নদী
উন্মাদনায় হাসে মাটি বাংলার।
বোনেরা কোত্থেকে ছুটে এসে ওই উদোম,
বিস্তারিত»সৃষ্টিকর্তার কোন অবদানকে তোমরা অস্বীকার করবে? -২।
ব্যাপারটা শুরু অনেকটা fun থেকে, হালকা মেজাজের গল্প থেকে।বাবা-মা হজ্জ থেকে আসার পর সব ভাইবোন গোল হয়ে বসে গল্প শুন ছিলাম।অর্থাৎ “আম্মা গাঁধি” আর তাঁর শ্রদ্ধেও পিতাজান এই হজ্জ সফরে কি কি বোকামি করাতে আব্বার কি অসুবিধায় পড়তে হয়েছিল, তার ফিরিস্তি শুনছিলাম। আম্মা মৃদু প্রতিবাদের সাথে শুনছিলেন এবং স্বভাবসিদ্ধ মৃদু মৃদু হাসছিলেন।
মা কোন এক ধর্মীয় বইতে নাকি পড়েছিলেন, হজ্জে স্বামীর টাকার চেয়ে নিজের টাকা অথবা ছেলের টাকায় গেলে সব থেকে বেশি ভাল।
বিস্তারিত»ধারাবাহিক উপন্যাস – ১৮
আঠার
একদিন আম্মা হোসনা আপার বাসা থেকে ঘুরে আসলেন। বাসায় এসে জানালেন হোসনা আপা আসলে অনেক দুঃখ নিয়ে লন্ডন থেকে ফিরে এসেছেন। কিরণ ভাই আমেরিকায় পড়তে গিয়ে একজন আমেরিকান মেয়ে
বিয়ে করে ফেলেছে। হোসনা আপার আশা ছিল লেখাপড়া শেষ করে কিরণ ভাই দেশে ফিরবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলতে নিজের মেধা আর শ্রম দিবে। উনি ভুলেও কখনও ভাবেননি যে আমেরিকা গিয়ে এতো
সহজে কিরণ ভাই দেশকে ভুলে যাবে।
ভালবাসার আহবান
শেষ বিকেলের আলোয় রাঙা, মধ্য গগন জুড়ে,
সূর্য ডোবে সূর্য ওঠে, আকাশখানি ফুঁড়ে ।
সেই বিকেলের আবছা আলোয় ,আঁধারখানাই বাড়ে,
সূর্য-দেবু! হাসোনা ভাই! একটু দেখি তারে?
তারে দেখে দিন কাটে মোর, তার চোখেতেই রাত,
তারে বিনে হয় নাকো ভোর, হয় নাকো প্রভাত।
আমি জানি । আমি বাসি! সেও কি তা জানে?
বিস্তারিত»