২০০০ সালের মে-জুন মাসের দিকে হবে । সময়টা সকালের সবচাইতে ‘Rush Hour’. New York MTA’র দুই নম্বর লাইনের শেষ প্রান্তে Brooklyn College – Flatbush Avenue থেকে উঠেছি বলে বসার সিট পেয়েছি।গন্তব্য ম্যনহাটন।Clark Street আর Wall Street এর মাঝে সম্ভবত East River এবং সমুদ্রের মোহনার নিচ দিয়ে টিউব লাইন, তাই বাইরের কিছু দেখার যো নেই। বেশ সময় নেয় নদীর তলদেশটা পাড় হতে।বসে বসে তাই মানুষ দেখছি।
বিস্তারিত»ধারাবাহিক উপন্যাস – ১৬, ১৭
আগের পর্ব
ষোল
একদিন সামাদ স্যারের বাসায় গেলাম। স্যার আমার জন্য অনেক করেছেন। বিশেষ করে অংক পরীক্ষার আগের দিন বাসায় এসে সাহস দিয়ে গেছেন। স্যারের বাসাটা আমাদের বাসা থেকে খুব একটা দূরে না, হেটেই যাওয়া যায়। একা একাই চলে আসলাম। স্যারের বাসা থেকে বেরুলেই সেই বিশাল দেবদারু গাছ। সেদিন দেখি এই গাছটার গুড়িতে হেলান দিয়ে মানিকদা আরও কয়েকটা ছেলের সাথে গল্প করছে।
বিস্তারিত»সৃষ্টিকর্তার কোন অবদানকে তোমরা অস্বীকার করবে?
আজ ৯ই জিলহজ্জ ।পবিত্র ‘অকুফে আরাফাত’ বা আরাফাতের অবস্থানের দিন।সৌদি আরবের আরাফাতের প্রান্তরে আজ যারা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তের মধ্যে যে কোন সময় অবস্থান করবেন, তাদের আল্লাহ চাহেত পবিত্র হজ্জ পালন করা হয়ে যাবে।
আজকে দিনটাকে বেশি করে মনে পড়ছে এই জন্যে যে, আমার বাবার জিব্দশায় বহুবার হজ্জ পালন করেছিলেন এবং দিনটাকে অসামান্য গুরুত্ব দিয়ে সারা সময় টেলিভিশনে সামনে বসে থেকে হলেও ‘আরাফাতে’ সামিল হতেন।ওঁর হিসেব অনুযায়ী (চাঁদের হিসাবে) এবার হজ্জ ‘শুক্র বার’
বিস্তারিত»পাঠ প্রতিক্রিয়া : প্রযত্নে হন্তা
অভিনবত্ব কিংবা বাস্তবতা — ছোটগল্পের উপজীব্য কোনটা হতে পারে এমন তর্কটা পুরনো। ঘটনা হয়তো এমন নয় যে, এই দুটো গুণ সাংঘর্ষিক। তবে তারপরেও যেটা সত্যি সেটা হলো বাস্তব জীবনে অভিনব ঘটনা কম ঘটে। আর গল্প যেহেতু বাস্তবের বিম্ব তার মাঝে অভিনবত্বের ছোঁয়া সবসময় আশা করাটাও অনুচিত- এই কথাটা যেমন ঠিক, তেমনি সমানভাবে একথাও সত্যি যে রোজকার খাওয়া দাওয়া ঘুম অফিস যৌনাচারের বৈচিত্র্যহীন ক্লিশের ক্রমাগত বয়ান পাঠকের জন্য ক্লান্তিকর।
বিস্তারিত»ফিরে আসা-৪।
যারা ধ্যৈর্য ধরে আমার ‘ফিরে আসা’র শেষ দুই খণ্ড পড়েছেন, তাদের মধ্যে যদি মনবিজ্ঞানি থাকেন, নিশ্চয়ই Illusive Mental Disorder বা Imaginative, Hallucinatory Syndrome বা Paranoid Behavior বা ইংরেজি কোন খট্-বটে নামে আমার পূর্ববর্তি অধ্যায় দুইটির মূল্যায়ন করবেন, যার সোজা বাংলায় কোন মানসিক বিকারগ্রস্তের কাছে পিঠে কিছু হবে।আমি সেই সব জ্ঞানি গুনিদের সাথে তর্কে যাবোনা , কারন পৃথিবীর সব কিছু নিয়ে তর্ক করা সম্ভব, শুধু “মা”
বিস্তারিত»CSE না EEE?
কিছুদিন আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হল। রেজাল্টও হয়ে গেল। হয়ত সামনে আরও কিছু ভর্তি পরীক্ষা আসবে। এসবের একবারে শেষে ভর্তি হওয়ার সময় যেই ব্যাপারটা সামনে আসে সেটা হল- “কোন সাবজেক্ট পড়ব?” বা একাধিক জায়গাতে সুযোগ হলে “কোথায় পড়ব?” আর যারা মোটামুটি একদম প্রথম সারির তাদের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্নটা শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায়- “CSE না EEE?” এখানে অবশ্য মেডিকেলের ছাত্র-ছাত্রীদের কথা বলছি না। তাদের এসব সাবজেক্ট ঠিক করার কোন ঝামেলা নাই।
বিস্তারিত»ফিরে আসা-৩।
নাই, কোথাও নেই। একদম ছোট বেলায়, যখন আঙ্গুল ধরে হাঁটতে শিখেছিলাম, নরম শাড়ির আঁচল, বোরখার জর্জেট কাপড় কূট কূট করে কাটতে শিখলাম, তখন থেকে আজ অব্দি সব সময়ের জন্যে সাথেই তো ছিল। সুখের সময় , দুঃখের সময় , বিপদের সময় , সাফল্যের সময় – কখন ছিলনা সাথে ? সুদূর জার্মানিতে হলুদ বাতির নিচে, যখন ভার্সিটি শেষে কাজ, কাজের শেষে একাকী ড্রাইভ করে বাড়ি ফিরতাম।তখনো আমার একমাত্র সঙ্গিনী মা।
বিস্তারিত»চলো বৃষ্টিতে ভিজি
সন্ধ্যার পর থেকেই টিনের চালে রিমঝিম আওয়াজ তুলে আশেপাশের কোন কিছুকে বিন্দুমাত্র দাম না দিয়ে আপন চপলতা আর ছন্দ বজায় রেখে আষাঢ়ের টানা বর্ষণ চলছে। একেবারে আকাশ ভাঙা বৃষ্টি যাকে বলে। বারান্দায় বসানো হারিকেনটা বৃষ্টির ঝাঁপটা আর বাতাসের সাথে প্রাণপন যুদ্ধ করতে করতে এখনও পর্যন্ত বারান্দা সহ সামনের আরো কিছু অংশে কোমল আলো ছড়িয়ে আলোকিত করে রেখেছে। পাশে নীরা অপেক্ষমা্ন একটি দৃষ্টি নিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে।
বিস্তারিত»নজরুল ! দ্যাখো…
নজরুল দ্যাখো চলিয়াছি মোরা, বীর বিক্রমে ফুলে,
“বিদ্রোহী” নাম বুকেতে লাগায়ে,রাজার মতন দুলে।
মোরা ঝঞ্ঝার মতো উদ্দাম জানি, তবুও কিসের ভয়ে,
বিধাতার মতো চঞ্চল হয়ে, চলিতেছি ধীর লয়ে।
লজ্জা পেওনা নজরুল তুমি, যদি দেখো চোখ ফাঁড়ি,
ছুটিনা যে মোরা উল্কারও বেগে, হাঁকি শুধু দামি গাড়ি!
আগাইনা মোরা সাহস করিয়া, দুর্গম কোন পথে,
পাঠাওনা কবি “দুরন্ত পথিক”, উঠিব তাহার রথে।
“শাহাদাত”নামা
জনাব কাজী শাহাদাত হোসেন রাজীব শ্রীচরণেষূ
হে উদার
অর্ধ যুগ আগে, বিলাতের এক গ্রীষ্মকালে তোমার বদনখানি ভাসিয়া উঠিয়াছিলো বোকাবাক্সের চৌকোণায়। তুমি নাকি বাংলাদেশের পক্ষে টেস্ট খেলিতে নামিতেছ। পত্র পত্রিকা মারফত জানিয়ছিলাম, বহুদিন পর নাকি এই অভাগা বঙ্গে এমন এক মানবসন্তানের আগমণ হইয়াছে, যে ফাস্ট বোলিংটা করিতে জানে। আরও জানিয়াছিলাম, তোমার আছে তালগাছের ন্যায় উচ্চতা আর ভীমের ন্যায় শক্তি। লক্ষণের শক্তিশেলের মত তুমিও নাকি চামড়ার গোলকটাকে সবেগে ছুঁড়িতে পার।
ফিরে আসা-২
সময়টা ছিল ২০০০ সাল। আমার জিবনের জন্যে একটি ‘Turning Point’. । জাগতিক দুনিয়াদারির স্কেলে আমি তখন প্রায় শীর্ষের কাছাকাছি অবস্তান করছি।মান সম্মান প্রতিপত্তি প্রায় সবই আমার করায়ত্তে।কি না করছি তখন,স্টক এক্সচেঞ্জ সদস্য হিসাবে ‘সাউথ এশিয়া স্টক এক্সচেঞ্জ ফেডারেশন’ (SAFE) করছি, নতুন স্টক এক্সচেঞ্জ বলে Screen Based Trading শিখার জন্যে Training এর দাওয়াত লন্ডন, নিউ ইয়র্ক, টরন্টো স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে সাড়া পাচ্ছি।CSE Team Leader হিসাবে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
বিস্তারিত»ধারাবাহিক উপন্যাস – ১৪, ১৫
(এই উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট আর সময় বোঝাতে কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা এবং চরিত্র উল্লেখ করা হয়েছে। আর বাদবাকী ঘটনা আর চরিত্রগুলো কাল্পনিক, তবে অবাস্তব নয়। অনেক ঘটনাই বাস্তব আমজনতার অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া হয়েছে।)
এক দুই তিন চার এবং পাঁচ
ছয়
সাত
নয়-আট
দশ
চৌদ্দ
নীলিমাদির কাছ থেকে দুটো গান তুলে নিতে হবে।
বিস্তারিত»আমাদের কাব্য
ব্যস্ত সকলি, বাঁচিবে যেন,যদি দিতে পারে ছাড়ি,
নাড়ীর বাঁধন কাটিব কে্মনে বুঝিবার নাহি পারি।
সকলেই বলে যাও,যাও,যাও,এই তল্লাট ছাড়ো,
খুঁটিটা তুলে এ আঙ্গিনা থেকে অন্য কথাও গাড়ো।
ছয়টি বছর! কেমন করিয়া নিঃশেষ হল প্রায়,
সায়াহ্নে এই জীবনবেলার,কতো কথা ছিলো হায়!
সপ্তমে সেই ভীরু ভীরু পায়ে এই আঙ্গিনায় আসা,
তখন কি হায় বুঝেছিনু হায়!
বিস্তারিত»সেই হারিয়ে যাওয়া মুহূর্ত।
একজন নাসির ভাই
আবারো লিখতে বসা।গভীর বোধ আবেগ আর অনুভূতি যখন একই ধারায় এসে মিলিত হয় তখন আমার ভেতরে প্রচন্ড লেখালেখির চাপ জাগে।কোন ভাবেই নিজেকে দমিয়ে রাখতে পারিনা।ইদানিং খুব বেশি স্মৃতি কাতরতায় ভুগছি।জীবনের গভীর শূন্যতায় প্রিয় মুখখুলো যখন ঝাপসা হয়ে আসে তখন ফেরারী অশ্রুর শেষ বিন্দুটিও বেদনা জাগিয়ে যায়।
সপ্তম শ্রেনীর কোন এক দুঃসহ রাতের কথা।প্রচন্ড ক্ষিদে আর তৃষ্ণায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছি।একশো তিন ডিগ্রী জ্বরে বারো বছরের একটি ছেলে নাকাল হয়ে পরে আছে।নিজেকে হঠাত্ করে খুব অসহায় মনে হল।ছোট বেলার কথা মনে পরে গেল।জ্বর হলে মা সাড়ারাত মাথার কাছে বসে থাকতেন।ভাত খেতে পারতামনা বলে আউশ চালের ঝাউ রেঁধে দিতেন।ক্যাডেট কলেজের নিয়মতান্ত্রিক জীবনে গভীর ভাবে অনুভব করলাম মায়ের শুন্যতা।কাঁপা কাঁপা শরীর নিয়ে বিছানা থেকে উঠলাম।রাতে ডিনারের জন্য ক্যাডেট কলেজের গতানুগতিক ম্যানু।হঠাত্ করে অনুভব করলাম চোখের পাতা অকারনে ভিজে যাচ্ছে।খাবার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বিছানায় শুতে যাচ্ছি এমন সময় কে যেন ডাকলো।এই ক্যাডেট খাবেননা?
বিস্তারিত»