নন্দিত নিবাস

নন্দিত নিবাস
———– ড. রমিত আজাদ

‘নন্দিত’ শব্দটির সাথে প্রথম পরিচয় একটি উপন্যাস-এর নামের মধ্যে দিয়ে। উপন্যাসটির নাম ছিলো ‘নন্দিত নরকে’। পারিবারিক লাইব্রেরিতে বইটি রক্ষিত ছিলো। আমার বয়স তখন বছর তেরো হবে। শেলফ থেকে বের করে অপড়া বই দেখে পড়তে শুরু করলাম, যেই শুরু করলাম শেষ না করে আর বইটা হাত থেকে নামাতে পারলাম না। শেষ করার পর অদ্ভুত এক অনুভূতি হলো।

বিস্তারিত»

আর্ট এগজিবিশন : লেসনস এন্ড টিপস্‌

এই লিখাটা আদৌ লিখবো কি লিখবো না, তা নিয়ে নিজের সাথে ভালোই যুদ্ধ করে কাটালাম বেশ কয়েকটা সপ্তাহ।
কিসের যুদ্ধ? কেন যুদ্ধ??

না লিখার পক্ষে প্রধান নিয়ামক ছিল, মটিভেশনের অভাব।
– ডাইরেক্ট ইন-ডাইরেক্ট মিলিয়ে অলরেডি ৩টা ব্লগ লিখেছি এই এক ইভেন্ট নিয়ে। সেগুলোর ট্রাফিক ও কমেন্ট দিনে দিনে কমে এসেছে। বোঝা যাচ্ছে, পাঠকরা এই এক বিষয়ে বেশী কচলানো পছন্দ করছেন না।

বিস্তারিত»

খাঁচার পাখি কেন গায়?

[ আই নো হোয়াই দা কেজ্‌ড বার্ড সিঙ্গস- মায়া এঞ্জেলোর কবিতার অনুবাদ]

বনের পাখি ঝাঁপ দেয়
চড়ে বসে বাতাসের পিঠে
ভেসে চলে প্রবাহের
শেষ সীমায়
ডানা ঝাপ্টে ঝেড়ে ফেলে
গোধুলির আলো
যেন আকাশটা তারই।

কিন্তু যে পাখি বন্দী
খাঁচার নিষ্ঠুর শিকের
ফাঁক দিয়ে সে তো
বলতে গেলে বাইরের
কিছুই দেখতে পায় না
তার পাখা ছাঁটা
পা শিকল দিয়ে বাঁধা
গলাটাই শুধু মুক্ত
তাই গলা বের করে
সে গান গায়।

বিস্তারিত»

ছবির কবিতার গল্প

শুরুর আগে

সিকি শতাব্দী আগের কথা। এফসিসি থেকে বেরিয়ে আমরা মেডিকেল কলেজে ঢুকেছি। অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রির বুট ক্যাম্প চলছে প্রতিদিন। ডিসেকশন হলের  ঝাঁঝাল-মিষ্টি,  “একবার শুকলে ভোলা যায়না” গন্ধ গায়ে মেখে বাসায় ফিরি। রাতে অন্য মানুষের হাড় গোড় বিছানায় নিয়ে ঘু্মিয়ে পড়ি।  পরদিন ভোরে আবার লাল চোখে ঝিমাতে  ঝিমাতে  আইটেম পরীক্ষা দিতে হাজির হই।  প্রাণান্তকর অবস্থা!

 

শুরু

দীর্ঘ সময় চাপের ভেতর  থাকলে প্রাকৃতিক নিয়মেই আত্মরক্ষার জন্য মানুষ  ডাইভারশন খুঁজে নেয়।

বিস্তারিত»

আবার কলকাতা ২

আমার উত্তর শুনে ড্রাইভার রঘু দাসকে একটু চিন্তিত মনে হল। ঝাড়খন্ডে বৌ বাচ্চা রেখে কিছুদিন হল সে কলকাতায় এসেছে। কলকাত্তা এখনও পুরোপুরি চেনা হয়ে ওঠেনি। লালবাতিতে গাড়ি থামার সাথে সাথে মোবাইলে কার সাথে মাতৃভাষায় কথাবার্তা শুরু করলো সে। সামাঝ গিয়া বলে ফোণ বন্ধ করে আমার দিকে ফিরলো, হাসিতে মাখামাখি তার মুখ, ‘কলকাত্তার রাস্তার লাফড়া হলো বাবু একই রাস্তার ওনেক নাম বুঝলেন এই যেমন পার্ক স্ট্রিটের একদিকের বোর্ডে দেখবেন মাদার তেরেসা রোড লেখা আছে,

বিস্তারিত»

দিনলিপিঃ আবোলতাবোল

ব্রাউন থ্রেশার ডাকা মাদারস ডে’র সকাল। আগের রাতে সুপ্তি কল করে বলেছে ও কি আসতে পারে আমাদের একটুখানি দেখতে? আমি বললাম, এই না রাতে ফিরলে ডালাস থেকে, এখনই আবার এতো দূর থেকে ড্রাইভ করে আসবে ‘একটুখানি’ দেখতে? আমার কন্ঠের সংশয় টের পেয়ে ও বলল, তোমাদের ওদিকে প্যাটেল ব্রাদার্সে যাবো বাজার করতে, তাই ভাবলাম একটু দেখা করে যাই মা-মেয়ের সাথে!

অতিথি নারায়ণ বলে কথা তাই বারণ করতে পারিনা মুখের ওপর।

বিস্তারিত»

অস্তিত্বহীন

মিথ্যার হাত ধরে আসে অস্তিত্বহীন
সাথে নিয়ে রক্তপায়ী একদল
অন্ধকার মনুষ্যত্বহীন

তখনও
কিছু কি খুজেছিলে গলিত স্থবির সেই সত্যে,
ভালবাসা আর বেচে থাকার বিপরীতে
রক্ত ঘৃণা কিংবা অভিশাপের গান

অস্তিত্বহীনের ক্রমাগত অস্তিত্ব আগ্রাসন
রুদ্ধপ্রায় আমার অস্তিত্ব এখন

পূর্বে প্রকাশিত

বিস্তারিত»

আবার কলকাতা

আবার কলকাতা
রিজেন্ট এয়ারলাইন্সে চড়ে কলকাতায় যাচ্ছি শুনে অনেকেই নাক সিটকে ছিলেন। হয় ভালো এয়ারলাইন্সে যাও না হলে ট্রেনে যাও রিজেন্টে কেন?
এবার আর হঠাত করে যাওয়া নয়। প্রায় মাস খানেক খুঁজে টুজে সবচেয়ে সস্তার টিকেট কেটেছি। ১০,৪০০ টাকায় আসা যাওয়া। কিন্তু উপরে বসে যিনি আমাদের সবার চলাফেরার উপর নজরদারি করছেন, তাঁর দৃষ্টি এড়াবো কী করে। যাওয়ার দুইদিন আগে আমার এক সহযাত্রী কে জ্বরে ফেলেদিলেন।

বিস্তারিত»

এ শহরে কি আদৌ মানায় কোকিলের কুহু কলতান !

ভোর না হতেই কোকিলের ডাকটা অনবরত কানের পাশে বাজতেই থাকলো। দীর্ঘক্ষণ। অথচ তাতে আমার কিছুমাত্র ভালো লাগছিলো না। নিশ্চিত ভাবেই জানি এই কংক্রিটের শহরে খুব কম মানুষই এমন কোকিল ডাকার শব্দ শুনতে পান। তবুও এই ভয়ানক শ্বাপদসম শহরে যেনো বড্ড বেশী বেমানান শোনাচ্ছিলো এই কুহু কলতান।

এ শহরে যখন প্রথম শ্রেণী আর পঞ্চম শ্রেণীর শিশুদেরও অশালীন অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হয়। রাজধানীর বুকে বসে সেখানে কর্তৃপক্ষ নির্বিকার পদক্ষেপহীন বসে থাকার স্প্র্ধা দেখাতে পারেন।

বিস্তারিত»

মর্নিং ওয়াক

মোরগের সুতীক্ষ্ণ চিৎকারে ঘুম ভাঙল। নাহ, ঢাকা শহরের ইট পাথরের জঙ্গলে সত্যিকারের মোরগ পাব কোথায়, মোবাইল ফোনের ভার্চুয়াল মোরগ। জানালা দরজা সব হাট করে খুলে ঘুমিয়েছিলাম, একটু ঠাণ্ডাই বোধহয় লেগে গেল। সকালের আলসেমি ভেঙ্গে নেমে পড়লাম রাস্তায়। আজ কেন জানি রোজকার হাঁটার পথ বা পার্কের একঘেয়ে চক্করে মন টানছিল না একেবারেই। শুধু দূর থেকে দেখা ছিল, এরকম এক অচেনা কাঁচা পথে নেমে পড়লাম।

ক’দিন হল টুকটাক বৃষ্টি পড়ছে।

বিস্তারিত»

শিল্প বনাম অশ্লীলতাঃ প্রেক্ষাপট নারী নির্যাতন


আচ্ছা শিল্প কী?
আপনি দ্য হুইসেলব্লোয়ার মুভিটি দেখেছেন? বসনিয়ার যুদ্ধ-পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে ছবিটি তৈরি হয়েছিল। সেখানে দেখি অল্পবয়সী মেয়েরা মানব পাচারের মাধ্যমে কিভাবে পতিতালয়ে আটকে যায়। শান্তিরক্ষার নামে জাতিসঙ্ঘের যে কর্মীরা সেসময় সেখানে কাজ করতেন, রাতের বেলা তারাই আবার হতেন ওদের ভোক্তা। হ্যাঁ, সেক্স বা যৌনতা ছবিটির একটি মূল উপজীব্য। তবে তার উপস্থাপন এমন ছিল যে আপনি ঐসব কিশোরী মেয়েদের মানুষ ভাববেন।

বিস্তারিত»

আজকাল

ঘরের দেয়ালগুলি খুব বিরক্ত করে
বৃষ্টি আসে না, আকাশ দেখি না
জানালারা থাকে না জায়গা মত
অবনী আর বাড়ি ফেরে না

গুমোট ঘর, নোনা ধরা দেয়াল
শুধু টের পাই আমাদের চারপাশে
জীবনের স্রোতের কোলাহল

স্বপ্নেরা হাতড়ে যায় দেয়াল জোড়া
যে দেয়ালে মিশে গেছে তোমার ছায়া …

 

( পূর্বে প্রকাশিত )

বিস্তারিত»

শব্দের নীরব সান্ত্বনা

কবির অরক্ষিত মনে,
শব্দরা দাঁঁড়িয়ে থাকে নিঃশব্দ প্রহরীর মত।
মনের আনাচে কানাচে কিছু কিছু শব্দ থাকে
ইতস্ততঃ ছড়িয়ে ছিটিয়ে, আর কিছু ডুবে থাকে
মনের অতল গভীরে। ডাক দিলে নিমেষেই চলে আসে।
কবির পাশে যখন কেউ থাকেনা, তারাই কবিকে ঘিরে রাখে।

কবি কখনো আহত হলে,
সেইসব শব্দরা চলে আসে বিশ্বস্ত দেহরক্ষীর মত।
নীরবে পাশে দাঁড়িয়ে শোনায় যত সান্ত্বনার বাণী।

বিস্তারিত»

নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে হচ্ছে………

ঘণ্টাখানেক আগে মস্কো বিমানবন্দরে নামলাম। অপেক্ষা করছি পরবর্তী বিমানের জন্য, জার্মানীর ডুসেলডর্ফে যাবো। সময় কাটানোর জন্য নেটে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলাম ছবিটা দেখে-
MAMUNBALAYET-1431771402-bfdcfbe_xlarge

ছবির এই মানুষগুলোও আমার মতো বাংলাদেশী, এরাও গন্তব্যের অপেক্ষা করছে। অথচ আমাদের মাঝে কত পার্থক্য!

আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা আমাকে এই মানুষগুলোর মতো জীবনের কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হয়নি।

অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোওয়া করি এদের কষ্ট দ্রুত লাঘব হয়ে যাক।

বিস্তারিত»

অনিশ্চিতের প্রতীক্ষায়

মুখের বলিরেখাগুলো বলে দেয়,
কতটা পথ তুমি পেরিয়ে এসেছো।
সে পথটা যে কুসুমাস্তীর্ণ ছিলোনা,
চোখের অভিব্যক্তিই তার প্রমাণ।

মুখে প্রতিবাদ নেই, চোখে আছে।
দুটো ঠোঁট যেন সেলাইয়ে জোড়া
দুটো চোখ যেন কত বিস্ময়ভরা,
উষ্মায় ভুরু দুটো কুঁচকে গেছে।

হে অনিশ্চিতের পথযাত্রী,
তোমার বাকী পথটুকু মসৃণ হোক!
মশালের ন্যায় জ্বলজ্বলে চোখদুটো
বোঁজার সময় এক পশলা বৃষ্টি হোক!

বিস্তারিত»