ছবির কবিতার গল্প

শুরুর আগে

সিকি শতাব্দী আগের কথা। এফসিসি থেকে বেরিয়ে আমরা মেডিকেল কলেজে ঢুকেছি। অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রির বুট ক্যাম্প চলছে প্রতিদিন। ডিসেকশন হলের  ঝাঁঝাল-মিষ্টি,  “একবার শুকলে ভোলা যায়না” গন্ধ গায়ে মেখে বাসায় ফিরি। রাতে অন্য মানুষের হাড় গোড় বিছানায় নিয়ে ঘু্মিয়ে পড়ি।  পরদিন ভোরে আবার লাল চোখে ঝিমাতে  ঝিমাতে  আইটেম পরীক্ষা দিতে হাজির হই।  প্রাণান্তকর অবস্থা!

প্রতিকৃতিঃ ১ম বর্ষ মেডিকেল ছাত্র (মডেলঃ নূপুর)

 

শুরু

দীর্ঘ সময় চাপের ভেতর  থাকলে প্রাকৃতিক নিয়মেই আত্মরক্ষার জন্য মানুষ  ডাইভারশন খুঁজে নেয়। এ কারণেই বোধ হয় আমাদের কলেজে সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতির জোয়ার বয়ে  যেত। বার মাসে  ছাব্বিশ অনুষ্ঠান লেগেই আছে। সেই ঢেউ  আমাদের গায়েও এসে লাগল। যে যার সুবিধামত মননশীল কাজে বা অকাজে ব্যস্ত হয়ে উঠল।  বন্ধু নূপুর প্রথমেই নাম লিখিয়ে ফেলল  কবির তালিকায়। সেই সাথে গান, কবিতা পাঠ, উপস্থাপনা— কোনটাই বাদ গেল না। সমস্যা হল আমাকে নিয়ে।

কবিতা পড়তে গেলেই আমার মাথায় জট লেগে যায়, লেখা তো দূরের কথা।  জাতীয় সংগীত  ছাড়া অন্য কোন গান কেউ পেটে ছুরি ধরেও গাওয়াতে পারবে না।  নাচ? ব্যান্ডের কনসার্টে যে দুই একজন না লাফিয়ে চুপচাপ বসে  অন্যদের পাগলামি দেখে আমি তাদের অন্যতম। করতেসি, পড়ে ফেলসি, দেখতেসিলাম ধরণের কথা ছাড়া তিনটি বাক্যও বলতে পারি না।  সব মিলিয়ে, মঞ্চ আমার জন্য না। কোনই  যখন গতি হচ্ছেনা তখন এক বড় ভাইএর ফটোগ্রাফী প্রদর্শনী দেখে মনে হল এই কাজটাই সহজ হবে। সুন্দর  কিছু চোখে পড়লে ক্যামেরা তুলে বোতাম চাপলেই ছবি!  এ আর এমন কি? বড় বোনের কল্যাণে পাওয়া একটা ইয়াশিকা এফএক্স সেভেন নিয়ে  মাঠে নেমে পড়লাম।

সেকালের সেলফি!

 

শুরুর পরে

নূপুরের কবিতা অচিরেই ব্যাচের গন্ডী ছাড়িয়ে ক্যাম্পাসের সম্পদ হয়ে উঠল। ক্যাডেট কলেজের ছয় বছর এই প্রতিভা কোথায়, কেন  লুকিয়ে ছিল কে জানে!

ফটোগ্রাফী ব্যাপারটা যতটা সহজ ভেবেছিলাম বাস্তবে ততটাই কঠিন প্রমাণিত হল।  মনের চোখে যা দেখি, অপদার্থ ক্যামেরা তার কিছুই ধরতে পারে না! আর খরচের কথা না বলাই ভাল।  কোনমতে ছত্রিশ ফ্রেমের একটা ফিল্ম কিনি।  অনেক হিসেব করে, বেছে বেছে ছবি তুলে সেটা শেষ করি। তারপর আরেক গুচ্ছের টাকা ঢেলে  ডেভেলপ আর প্রিন্ট করাই। মাঝে মধ্যে ঝড়ে বক দুই একটা লেগে যায় বটে। কিন্তু বাকিগুলোর দিকে তাকানো যায়না। প্রাণে ধরে ফেলেও দিতে পারি না!  বাতিল ছবির  স্তূপ জমতে লাগল।

“ Your first 10,000 photographs are your worst.” – Henri Cartier-Bresson

 

নতুন কিছুর শুরু

এদিকে নূপুরের কবি মন সারাক্ষণ  নিশপিশ করে। খাতা পত্র , টুকরো কাগজ, বই-এর মার্জিন ভরে ওঠে তার ছন্দময় রচনায়। এক মহাক্ষণে তাঁর হাতে পড়ল আমার  অতি সাধারণ এক ছবি। কিছুক্ষণ তাঁকিয়ে থেকে সে ঝরঝর  করে লিখে ফেলল টানটান এক কবিতা। আমি তো রীতিমত মুগ্ধ… যতটা না তাঁর কাব্য প্রতিভা দেখে তার চেয়ে বেশী আমার ছবির অন্তরনিহিত গূঢ় অর্থ উপলদ্ধি করে! বাহ,  কবিতার পাশাপাশি এখন তো বেশ ভালই লাগছে ছবিটা!

সেই শুরু আমাদের ছবির কবিতা, যার এখন সুন্দর নাম হয়েছে  ছবিতা!

 

শেষের আগে

বছর গড়াতে লাগল। অ্যাকাডেমিক চাপ কমলো না ঠিক, কিন্তু আমরা অভ্যস্ত  হয়ে উঠলাম। কতদিন আর টেনশন করা যায়?  ছবি আর কবিতা পুরোদমে চলতে লাগল। এর মধ্যে বড় বোন একটা নাইকন এফএম টেন স্পন্সর করেছে। শখের ফটোগ্রাফার বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে বেড়াই… শহরের আশপাশ, উত্তর বঙ্গ, সুন্দরবন, ভারত। ঘরে বাইরে কিছু কিছু এক্সিবিশনে ছবি সুযোগ পাচ্ছে টুকটাক।  নূপুর ব্যস্ত তার কবিচক্র নিয়ে।  জাত কবির মতই সে লেখে এক ছদ্মনামে। এখানে সেখানে প্রকাশনা তো আছেই, আলিওন্স ফ্রঁসেজে তাঁরা করে ফেলেছে অভিনব এক “কবিতা প্রদর্শনী”।  অন্য মাত্রার ব্যাপার-স্যাপার! এর মধ্যেই মাঝে মাঝে আমার এলেবেলে ছবি নিয়ে লিখে ফেলে একেকটা মাস্টারপিস। আমরা ভাবি বেশ কিছু জমলে একটা ছবি-কবিতার প্রদর্শনী নামিয়ে  দেব…নতুন কিছু একটা হবে।

কবিতা প্রদর্শনী

 

শেষ

কিন্তু সময় ফুরিয়ে গেল।  এক বড় ভাই ডাক্তার হবার পর ‘প্রাক্তন-ফটোগ্রাফার’ হয়ে গিয়ে বলেছিলেন “জীবনের কাছে শিল্প পরাজিত”। নিজেরা ডাক্তার হয়ে সেই মহান বাণীর মর্ম হাড়ে হাড়ে টের পেলাম! আরো পড়া লেখা করতে দুইজন গেলাম দুই দেশে। ছবি, নেগেটিভ, আর এখানে সেখানে অবহেলায় লেখা কবিতাগুলো কোথায় গেল কে জানে! তাতে অবশ্য কারো বিশেষ কিছু ক্ষতি হল না। বড় বয়সের বাস্তবতায় অল্প বয়সের খেয়াল নিয়ে কেই বা মাথা ঘামায়? মাঝে মাঝে শুধু এক সাথে হলে দুঃখ বিলাসে বলাবলি করি “আহা কি দিন ছিল!”

 

শেষের পরে

কিছুদিন আগে দেশে গেলাম এক সপ্তাহের জন্য।  ধূলো  জমা  জিনিষ পত্র দূর করে  বাসাটাকে একটু খোলামেলা করার চেষ্টা করছিলাম। আব্বার কাছ থেকে চাবি নিয়ে ঠিক পনের বছর আগে বন্ধ করা একটা ড্রয়ার খুলেছি। ভুলে যাওয়া এলোমেলো অনেক জিনিষের  মধ্যে হাতে উঠল এক চিলতে কাগজ। এক দিকে টুকে রাখা কে জানে কার ফোন নাম্বার,  আর এক বন্ধুর ঘোষণা  — “খাতাটা নিয়ে গেলাম”।   উলটো পাশে রীতিমত গুপ্তধন— একদম প্রথম দিকের এক ছবির কবিতা!

নতুন উৎসাহে  আরেক জায়গায় ফেলে রাখা ছবির স্তূপ ঘেটে উদ্ধার করলাম কবিতার পেছনের ছবিটাও।  ম্লান, দাগ পড়া সেই প্রিন্ট হাতে নিয়ে মনে হল, আহা কি দিন ছিল!

নূপুরকে বলছিলাম আবিষ্কারের  কথা। কথায় কথায় বের হল আদিকালের আরেকটা ছবিতা সে প্রায় পুরোপুরি মনে রেখেছে এবং সেই ছবিটাও আমার কাছে আছে! ভাবলাম আবার হারিয়ে ফেলার আগেই লিখে ফেলি আমাদের এই ছবির কবিতার গল্প।

 

মাইল ফলক ( আনুমানিক ১৯৯৩)

মাইল ফলক

 

 

মুখ ও মুখোশ ( আনুমানিক ১৯৯৩)

মুখ ও মুখোশ

৫,০৫২ বার দেখা হয়েছে

৫৮ টি মন্তব্য : “ছবির কবিতার গল্প”

  1. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    ভাই, দারুন লাগল! 😀

    ডিসেকশন হলের ঝাঁঝাল-মিষ্টি, “একবার শুকলে ভোলা যায়না” গন্ধ গায়ে মেখে বাসায় ফিরি।

    ফরমালিনের এই গন্ধ সাথে আরও কিছু ছোট-খাট কারণ মিলিয়ে সপ্তাহ দুয়েক ক্লাস করার পর মেডিকেল ছেড়ে দিয়েছিলাম।
    আমার জীবনের এখন পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত! 😀


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  2. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    করসিস কি।
    সব কিছু ফাঁস।
    তবে বেশ কিছু জায়গায় ভালোই চাপা মারসিস -- উপস্থাপনা, গান ইত্যাদি ইত্যাদি; আমার কবিতার ক্যাম্পাসের সম্পদ হয়ে ওঠা।
    মামা এইটা কি বললি রে। =)) =)) =)) =)) =)) =)) =))

    তবে কোঁচকানো কাগজটা দেখে আর প্রদর্শনীর ভাঁজপত্র দেখে নষ্ট লজিকে বিলকুল আক্রান্ত হলাম দোস্ত। নাহ, দিনগুলা ভালোই ছিল, কী বলিস?

    সেকালের সেলফিতে তোর আর গ্রে-গাইটন-ফিমারের সঙ্গে আমার শিশুতোষ চেহারা দেখে মনে হচ্ছে না কি ইন্নোছেন ছিলাম? 😀 😀 (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
  3. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    অনবদ্য স্মৃতিচারণার কথাগুলো আমারও স্মৃতির ঝাঁপির ডালাটা উস্কে দিয়ে গেলো যেনো।
    আর দুটো মানুষের সাথে তাদের স্মৃতির সময়ে ঘুরে আসা হলো। ভালো।

    জবাব দিন
  4. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    তোমার এই নূপুর যে আমাদের ভেরি ওন নূপুর সেটি বুঝতে সময় লাগলো খানিক। ওকে আমি মাষ্টারমশাই কি আর এমনি বলি! আলাভোলা কবিটি চিরকাল কবিই থেকে যায় বোধকরি! এফসিসি কি করে এই রত্নটিকে খুঁজে পায়নি সেটি ভেবেই খুব অবাক লাগছে।

    মুখ ও মুখোশ অসাধারণ লাগলো, ভাইয়া। সেকালের সেলফি তো দেখি ফাটাফাটি। আলাভোলা কবিটির ইয়া বড় চশমায় ঢাকা মুখখানি অথবা ফলক দেখে আমি রীতিমত মুগ্ধ!

    জবাব দিন
  5. মোকাব্বির (৯৮-০৪)

    আপনারা যখন আয়নার সামনে সেলফি তুলেছেন তখন সেটার মাঝে আবিষ্কারের নেশা ছিল। ছিল কৌতূহল।

    নূপুরদা যেদিন প্রথম রাগ বাজিয়ে রেকর্ড করে ব্লগে পোস্ট করলেন আমাকে কেউ একজন জিজ্ঞাসা করেছিল উনি কি পারেন না সেটা জানা দরকার? আপনাদের ছাত্রজীবন নিয়ে লিখা পড়লে কি পরিমাণ আবেগতাড়িত হয়ে পড়ি বলে বোঝানো সম্ভব নয়। আমার বাবা বুয়েটের তড়িতকৌশলের ছাত্র ছিলেন। উনার ছাত্র জীবনের দুই-এক টুকরো নতুন তথ্যের হদিস পেলেই মুখস্থ করে ফেলি। আপনারা হয়তো অনেক পরের কিন্তু তারপরেও দশকের হিসেবে সেই রেট্রো ভাবটা আমি পাই। ছবি গুলোর কথাই চিন্তা করুন। একএকটি ছবির পিছনে শ্রম, ভাবনা, চিন্তা অনেক দিয়েছেন। ছিলোনা চোখ ধাঁধানো পোস্ট প্রসেসিং কিংবা সহজ প্রিসেট। আপনার একএকটি ছবি যেন সেই সময়ের টাইম ক্যাপস্যুল। চমৎকার ভালো লাগা কাজ করলো। চমৎকার। :hatsoff:


    \\\তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা
    অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের ওপর।\\\

    জবাব দিন
    • কাজী সাদিক (৮৪-৯০)

      বায়োলজির নুরুল হক সারকে একবার পোলাপান বলছিল--- "সার আপনি তো এভারগ্রীন, এখনো কেমন ফিট আছেন।" তো তিনি বিন্দুমাত্র "তেলিত" না হয়ে বললেন, "তোমরা কি আমাকে বুড়ো বানিয়ে দিচ্ছ নাকি?" তুমি দেখি আমাদের রেট্রো বানিয়ে দিলে হে :))

      যা বলেছ, যে সব মানুষদের সিরিয়াস বড় চেহারাটাই শুধু দেখেছি তাঁরাও যে এক সময় আমাদের মতই "interesting times" কাটিয়ে এসেছেন ভাবতেই কেমন লাগে! তাঁদের গল্প শুনতে পারলে তো কথাই নেই।

      ছবি পছন্দ হয়েছে শুনে খুশি হলাম। দেশ থেকে একগাদা পুরান ছবি নিয়ে এসেছি। স্ক্যান করে ঘসামাজা করার ইচ্ছা আছে। কিন্তু এত সময় লাগে!

      নূপুরদা'র কথা আর কি বলব...

      জবাব দিন
  6. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    ইস সত্যজিতের তোলা একটা সেলফি আছে। সেইটা ফলো করলে পারফেক্ট হইতো। (সম্পাদিত)


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন
  7. সাদাত (৯১-৯৭)

    খুব ভালো লাগলো ভাই। পড়তে পড়তে নিজের মনের অলিগলি ঘুরে সুদূর অতীত ভ্রমন করে আসলাম। ইয়াশিকা দিয়ে আমারও শুরু হয়েছিল। শখটা এখনও আছে, কিন্তু সুখটা কেন জানি নেই। আরও আরও লেখা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

    জবাব দিন
  8. জিহাদ (৯৯-০৫)

    খুবই চমৎকার স্মৃতিচারণ ব্লগ, সাদিক ভাই। সাদাকালো স্মৃতির সাথে ছবি জুড়ে দিয়ে পুরো ব্যাপারটা আরো চমৎকার আর রঙিন হয়ে গেছে!
    নূপুরদা তো পুরাই এভারগ্রীণ। এখনো তারে দেখতে প্রথম বর্ষ না হলেও চতুর্থ বর্ষের মত লাগে 😀
    এই ব্লগ লিখে প্রত্যাশা কিন্তু বাড়িয়ে দিলেন। সামনে আরো এরকম মচমচে, কুড়মুড়ে ব্লগ পাওয়ার আশা জানিয়ে রাখলাম।


    সাতেও নাই, পাঁচেও নাই

    জবাব দিন
  9. পারভেজ (৭৮-৮৪)

    "কবিতা যতই আওড়াও কবি, গানের দাবী ছাড়ছি না মোটেও!"
    একা একা গাইতে যদি সংকোচ হয় তো চলো আমি শুরু করছি।
    এই গানটার একটা ইতিহাস আছে। সেটা পরে বলছি। আগে গান হোক। কেমন?


    Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

    জবাব দিন
  10. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    একটু আগে আমাদের সদা লাজুক কবি নূপুর একখানি দীজেন্দ্রগীতির অন্তরা শুনিয়ে বলেছেন, এটি চলবে তো সিসিবিতে? মুগ্ধ বিষ্ময়ে আমি শুনলাম, সুখের কথা বলো না আর, বুঝেছি সুখ কেবল ফাঁকি! কী যে চমৎকার কন্ঠের কারিগরি তার, কি বলবো!

    তোমাকে অনেক ধন্যবাদ, পারভেজ ভাইয়া.... তোমার হাকাহাকিতেই সিসিবি পেতে যাচ্ছে একজন সম্ভাবনাময় গায়ককে! স্টে টিউনড।

    জয়তু, সিসিবি!

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।