ছেলেবেলায় সারাক্ষণ আমার মুগ্ধতাকে ছুঁয়ে ছিল দুটি বই, ‘নন্দিত নরকে’ আর ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’। যখন রূম ইন্সপেকশন হতো আমার সেলফে রাখা পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি শোভা পেত ওই বই দু’খানাও। সে বয়সে ‘নন্দিত নরকে’-র প্রচ্ছদ আমার চিত্তে কিছুটা কিশোরসুলভ লজ্জ্বার লাল ছিটিয়ে দিত বলেই হয়তো সেটিকে ঢেকে রাখতাম ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’-র খোলসে।
পারিজাতের গল্প বলবো।পারিজাতের সাথে আমার পরিচয় বছর দুয়েক। এইতো সেদিনের কথা। আলিয়াস ফসে’স এর ক্যাফেটেরিয়ায় পড়ন্ত এক বিকেলে বসে কফির পেয়ালায় কেবল এক কি দুই চুমুক দিয়েছি।
পেন ড্রাইভ কিংবা স্থানান্তরযোগ্য ফ্ল্যাশ ড্রাইভের বহুগামীতার ফলে আগত ভাইরাস এর জালাযন্ত্রণা কোন সংক্রামক রোগজীবানুর চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। খুব দরকারের সময় দেখতে পেলেন আপনার দরকারী ফাইল কিংবা ছবি বা ভিডিও নাই। এক গাদা শর্টকাট তৈরী হয়ে আছে। সেখানে টোকা দিয়ে কিছুই পাবেন না।মেজাজ খারাপ করে শাপ-শাপান্ত করবেন কাউকে । রাগে চান্দি গরম করে অন্য সমস্যা হওয়াটাও অসম্ভব নয়। ২০১৫ সালে এসে এই শর্টকাট ভাইরাসের জ্বালায় বড্ড মুশকিলে পড়েছি।
ফাঁকিবাজি সিরিজের দুইটা পোস্ট দিয়েছিলাম অনেকদিন আগে। কেন এটাকে আমি ফাঁকিবাজি পোস্ট বলি তার পেছনে একটা কারন আছে। এধরণের পোস্ট লিখতে খুব একটা মাথা খাটাতে হয়না। রেডিমেড ছবি , এরসাথে স্মৃতি থেকে কিছু লিখে দিলেই হয়। বাড়তি ঝামেলা কম। এধরণের স্মৃতিচারণা মূলক লেখা লিখতেও আরাম লাগে। হাতে কিছু সময় পরে আছে.. ফেসবুক এর নিউজফিডে ও নতুন কিছু নেই। তাই ভাবলাম হাবিজাবি কিছু লিখে ফেলি আর কি !
সেই থেকে কমল সাবধান হয়েছে। বাসায় তো অনেকদিন আগেই খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলো অফিসেও দু’একটির বেশি খায়না। অফিস থেকে আসার আগে ভাল করে ব্রেথ ফ্রেশনার মুখে দিয়ে বাসায় ফেরে।
বউ যদিও পুরোপুরি বিশ্বাস করেনা। তারপরও বাসায় এ নিয়ে ঝামেলা আগের মত হয় না। মেয়েরা বড় হচ্ছে, তাদের সামনে এসব বিষয়ে কথা বলেনা পারুল। সন্দেহ হলে কথা বন্ধ করে দেয়।
এর কিছুদিন পর আমার সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবিটা আব্বা সেই পূরণকৃ্ত ফরমটার উপর আঠা দিয়ে সেঁটে দিয়ে ফরমটা আমাকে পড়তে দিলেন। তখনই প্রথম ক্যাডেট কলেজ কথাটার সাথে পরিচিত হ’লাম। আগে ক্যাডেট কলেজ সম্বন্ধে আমার কোন ধারণা ছিল না. পূরণকৃ্ত ভর্তি ফরমটা পড়ে বুঝলাম, এটা আমার স্কুলের চেয়েও উন্নত মানের কোন প্রতিষ্ঠান হবে। তবে উন্নত নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগদানের কথা ভেবে পুলকিত হবার চেয়ে আমার ভালো লাগার পুরনো স্কুলটিকে ছেড়ে যাবার বেদনাই আমাকে বেশী আচ্ছন্ন করে রাখলো।
তখন আমরা স্কুল পড়ুয়া,
তোমার ভাই আর আমি সতীর্থ ছিলাম,
পড়ালেখায় দুর্দান্ত শত্রু ছিলাম আমরা দুজন!
কে কাকে হারিয়ে ফার্স্ট হবো,
এই নিয়ে চলতো প্রবল প্রতিযোগিতা।
এভাবে ঝগড়া করতে করতে,
হঠাৎ একদিন আমরা বন্ধু হয়ে গেলাম।
আমার বাবা মায়ের সংসার জীবন প্রায় তেত্রিশ বছরের, এই তেত্রিশ বছরে একটা দিনও বাবাকে মায়ের সাথে কোনদিন একটা জোরে কথা বলতে শুনিনি| বরং উল্টোটা হয়, কর্মক্ষেত্রে বিশাল ডাকাবুকো আমার বাবা জুতো না খুলে বা পাপোষে পা না মুছে ঘরে ঢুকলে মায়ের বকুনি খেয়ে চুপসে যেতেন প্রায়ই| আমার আর আমার পিচ্চি বোনের কাছে ডমেস্টিক ভায়োলেন্স বলতে বোঝাতো এটুকুই| তবে সত্যিকার অর্থে এটা এ্যাবিউজ নয়, বরং এ্যাবিউজ হচ্ছে ভয়াবহতম একটি ব্যাধি যা এর ভিকটিমের জীবনটিকে শেষ করে দেয়|