পরম্পরার খোঁজে

পিপাসা তোমার মিটবে কি আস্বাদে
সেই ভেবে ভেবে গোধূলি থিতোয় সাঁঝে
রঙিন মুখোশ ছুঁড়ে ফেলে নীল খাদে
জন্মালে ফের ক্লেদজ কুসুম মাঝে

চিবুকে তোমার আবীরের রাঙা লাল
ক্ষণিকের সুখে মেলে ধরে হিল্লোল
শিকে ঝলসানো মাংসের মতো কাল
পুড়িয়েছ যত বুড়ো কবিতার লোল

দ্যোতক-দ্যোতিত মিলে মিশে একাকার
তোমার পাত্র ছেঁড়াখোঁড়া তলাহীন
দেরিদা সেখানে হেবারমাসের সাথে
বিরোধাবসানে কাটায় রাত্রিদিন

শাশ্বতের বুকে ছুরি মেরে কে আবার
ক্ষণিক তৃপ্তি টেনে তুলে মায়া ফাঁদে
কালাহারি বুকে না পাওয়ার হাহাকার
থেমে থেমে রোজ একটু আধটু কাঁদে

আলস্যভরে আঁখি মেলে মাঝে মাঝে
মরা চোখে চাখো ফিকে নীলিমার নিশা
প্রাণের পেয়ালা লহমায় করে খালি
ঢেলে রাখো তাতে মিশকালো ঘন তৃষা

গাজোয়ালি ঢঙে লিখে রাখো ধারাপাতে
কতটা এগুলো সময়ের চ্যারিয়ট
বীতাধুনিকের আকাঙ্ক্ষা দিনে-রাতে
চুমুকে চুমুকে ভিজিয়ে নিচ্ছে ঠোঁট

বহুবাচনিক আহ্লাদে গড়ো যাকে
তাকে ভেঙে ফের টুকরো টুকরো করো
যে কুঁড়ি জেগেছে ফুকোর শিশ্ন-রসে
অবলীলাভরে গলা তার টিপে ধরো

ব্যাধের মতো ধেয়ে এলে পরিণতি
তোমাকে বাঁচাবে অলস আত্মরতি ?
জীবনের ক্লেদে ক্রমে ডুবে যেতে যেতে
কি করে ঠেকাবে পতনের অধোগতি ?

৮২১ বার দেখা হয়েছে

১০ টি মন্তব্য : “পরম্পরার খোঁজে”

  1. সাবিনা চৌধুরী (৮৩-৮৮)

    🙂 🙂 🙂 🙂

    কবিতার মন্তব্য কি করে লিখতে হয় জানা হলোনা আজো। আপনার লেখা বলেই হয়তো পড়লাম বার কয়েক। অন্ত্যমিলের অর্থ না খুঁজে আমার আনএডুকেটেড হৃদয়টিকে খানিক কাজের ভার প্রদান করলাম কবিতাটি বুঝতে। দেখলাম পড়বার মত মন থাকলে অথবা কবিতাকে অনুভব করতে চাইলে সেটি খুব দুঃসাধ্য কিছু নয়!

    মজার ব্যাপার হলো, দেরিদার সাথে হেবারমাসের ব্যাপারটির সুরাহা করতে জানেন হেবারমাসের পাতা থেকেও ঘুরে এলাম এক ফাঁকে।

    জবাব দিন
    • মোস্তফা (১৯৮০-১৯৮৬)

      আমার লেখাটিতে গ্রান্ড ন্যারেটিভ নেই, তবে কাউন্টার ন্যারেটিভ আছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে। অন্তঃমিল আর ছন্দ শুধু কনে সাজানোর কাজ।
      দেরিদা-হেবারমাসের দ্বন্দ্বের মূলে ভাষা। ভাষাকেন্দ্রিক দর্শন কি সমাজ, ইতিহাস, রাজনীতি ইত্যাদি বুঝতে সাহায্য করে? কেউ একজন না বুঝেই বলেছিল, 'শব্দই ব্রহ্ম'। না বুঝেই আমরা সাধারণতঃ সঠিক কথাটি বলি।

      ফুকোকে বুঝতে হলে 'পাগলামির ইতিবৃত্ত' পড়তে হবে। ছোট বই।


      দেখেছি সবুজ পাতা অঘ্রানের অন্ধকারে হতেছে হলুদ

      জবাব দিন
  2. সাইদুল (৭৬-৮২)

    মনে হল, ছন্দ আর শব্দের অনুশীলন হচ্ছে। পড়তে মজা লেখেছে। তবে শুধু বোদ্ধা লোকের জন্যে লিখলে হবেনা। আমার মত সাধারণ পাঠকের জন্যেও কিছু ছাড়ো


    যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

    জবাব দিন
    • মোস্তফা (১৯৮০-১৯৮৬)

      কবি যদি কবিতার মধ্যদিয়ে পাঠকের ভেতরে নিজের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞানের অনুরণন ঘটাতে না পারেন তবে সেটি তাঁরই ব্যর্থতা। কিন্তু কবি যা কবিতার মধ্য দিয়ে বোঝাতে পারেন নি, তা যদি কবিতার বাইরে এসে বোঝাবার চেষ্টা নেন, তবে সেটি তার প্রতিভার দীনতা ও অন্তঃসারশূন্যতারই পরিচায়ক। ব্যর্থতা তবু সহনীয় কিন্তু প্রতিভার রিক্ততা প্রকাশ হয়ে পড়লে তা আত্মহত্যারই সামিল। যাহোক নিষ্কৃতি যে, এই রচনার ট্যাগ 'ব্লগর ব্লগর'। কি চমৎকার রক্ষাকারী শব্দ! অনায়াসেই পরে ফেলা যায় শিরস্ত্রাণ হিসেবে। মান ও জ্ঞান দুই-ই বাঁচায়।

      লেখক ক্ষেত্রবিশেষে সংবেদনশীল পাঠকও বটে। সেই সুযোগ নিয়ে বলি, পাঠক হিসেবে আমার মনে হয়, লেখাটিতে একজন লেখকের মনের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঝড়ের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে, যিনি চিন্তায়-চেতনায় অধুনান্তিক (Post modern) হবার প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন। কিন্তু বীতাধুনিক হতে চাইলেও তাঁকে পিছু টানছে বোদলেয়ারের 'ক্লেদজ কুসুম', রোমান্টিকতা্র যোগসূত্রে আধুনিক হচ্ছেন সময়ে সময়ে, ক্ষণিকের সুখ হিল্লোল তুলছে তাঁর ভেতর, চিবুক আবীরের রঙে রঙিন হচ্ছে। কিন্তু পরমুহূর্তেই যেন জীবনের অন্তঃসারশুন্যতাকে উপলব্ধি করছেন, এলিয়টের 'পোড়ো জমি'-তে পা রাখছেন, মাংসের মতো পোড়াচ্ছেন তাই বুড়ো কবিতার লোল, শিকে ঝলসিয়ে ঝলসিয়ে, হচ্ছেন পাড় মর্ডানিস্ট।

      দেরিদা, হেবারমাস, ফুকো--বাকিটুকু নিজে নিজে বুঝে নিন। আপনি যেটা বুঝবেন, সেটিই সই। ঠিক-বেঠিকের প্রশ্ন নেই ওতে।


      দেখেছি সবুজ পাতা অঘ্রানের অন্ধকারে হতেছে হলুদ

      জবাব দিন
  3. সাইদুল (৭৬-৮২)

    ধন্যবাদ তোমার ব্যখ্যার জন্যে। বাকী মন্তব্য গুলোও ঘুরে এসেছি। এখ্ন আর নিজেকে ব্রাত্য মনে হচ্ছেনা
    মজা পেলাম। পোষ্ট মর্ডানের বাংলা তো উত্তরাধুনিক, নাকি ?
    অধুনান্তিক শব্দটা নতুন শুনছি অভ্যস্ত হতে সময় লাগবে।


    যে কথা কখনও বাজেনা হৃদয়ে গান হয়ে কোন, সে কথা ব্যর্থ , ম্লান

    জবাব দিন
    • মোস্তফা (১৯৮০-১৯৮৬)
      পোষ্ট মর্ডানের বাংলা তো উত্তরাধুনিক, নাকি?

      আপনি ঠিক বলেছেন, 'উত্তরাধুনিক' নামেই বহুল পরিচিত ও ব্যবহৃত, তবে কেউ কেউ 'বীতাধুনিক'-ও বলতে পসন্দ করেন। আর যারা একে একটি আলাদা প্রপঞ্চ বলে মানতে চান না, মনে করেন আধুনিকতারই সম্প্রসারণ, তারা বলেন 'অধুনান্তিক'।


      দেখেছি সবুজ পাতা অঘ্রানের অন্ধকারে হতেছে হলুদ

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।