তানভীরের “তুমি রবে নীরবে” পড়ার পর

মনেপরে, একবার এক হালকা আলাপে বলেছিলে:
“যেকোন বিচ্ছেদই কষ্টের।
তবে এক একটা সময় আসে –
যখন সম্পর্কে থাকাটাও হয়ে পড়ে আরও কষ্টের।
বিচ্ছেদের কষ্টের চেয়েও সেই সম্পর্কে থাকার কষ্টটা
যখন বড় মনে হয়, তখন বিচ্ছেদই হয়ে দাঁড়ায় কল্যানকর!”

হতে পারে আমাদের সম্পর্কটাও
সেই রকমের একটা ক্রান্তিকালে পৌছে গিয়েছিল।
হতে পারে তুমি তা বুঝতে পেরেই “কল্যান”-এর স্বার্থে
বিচ্ছেদের জানান দিয়েছিলে।
হতে পারে সেজন্যই এখন খুবই “কল্যানকর”
এক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছো তুমি……

আমি তখনও বুঝি নাই
আমি এখনও বুঝি না
ঠিক কি কারনে আমাদের সম্পর্কের চেয়েও
এই বিচ্ছেদটা এত-
এত বেশী কাম্য হয়ে দাড়িয়েছিল
তোমার কাছে।

আর তাই বিচ্ছেদোত্তর
যত কল্যানকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই
তুমি যাও না কেন,
আমার চারিদিকে কেবলই
বিষাদের ধু ধু অন্ধকার………

নোট:
এটা কোন পাঠ-প্রতিক্রিয়া বা রিভিউ না।
তানভীরের গল্পের এক স্থানে এসে মনের মধ্যে এই ভাবনাটার উদয় হলো। লিখে ফেললাম তা পদ্যাকারে।
মূলগল্পের সাথে সম্পর্কহীন হলেও তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা কোন এক গল্প হতে পারে এটিও।
খুব সিরিয়াস কিছু না। হালকা এক্সপেরিমেন্টেশনের চেষ্টা আর কি…

৭১৫ বার দেখা হয়েছে

১৫ টি মন্তব্য : “তানভীরের “তুমি রবে নীরবে” পড়ার পর”

    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      "দো লাভারস বি লস্ট লাভ শ্যাল নট"
      ঠিক বলেছো। আর সেটা বুঝি বলেই তো রিওএক্ট করি না। লেসন নেই।
      আফটার অল আমরা সভ্য জীবন-যাপন করি তো, তাই না?

      "পাঠককুল কবির বিরহ উপভোগ করছেন"
      এটা, মানে এই সভ্য আচরনটা এবং এই লেসন শেয়ারিংটা - এগুলো সবই তো বিদগ্ধ পাঠকের উপভোগের জন্যেই করা।
      তারা বুঝবেন, বুঝে তা উপভোগ করবেন, সেটাই ইন্টেন্ডেড।

      আর তা যদি হয়, তাহলে তো লিখাটাও সার্থক হবে, তাই না?
      🙂 🙂 🙂 🙂 🙂 🙂 🙂

      তুমি বুঝেছো তাই তোমার জন্য এত্তোগুলা :
      :clap: :clap: :clap: :clap: :clap: :clap: :clap:


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      এইমাত্র মুক্তি পাওয়া মিল্টনের এই কবিতাটা পড়লাম। আমাদের এই আলোচনাটার সাথে দারুন যায় কিন্তু!!!
      এই দেখো:

      "সামনে নেই
      ভালবাসি
      পেছনে নেই
      ভালবাসি
      ডানে নেই
      ভালবাসি
      বামে নেই
      ভালবাসি
      উপরে নেই
      ভালবাসি
      নীচে নেই
      ভালবাসি

      কোথাও নেই
      তবু ভালবাসি!"

      কি? ঠিক না??


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  1. লুৎফুল (৭৮-৮৪)

    বিচ্ছেদ তো সম্পর্কের মুদ্রাটিরই অন্য একটি পিঠ। জনমভর পিঠাপিঠি, নিকটতম দূরত্বের বৈরীতায় আটকে থাকে অগম্য নৈকট্যের দেয়াল জুড়ে।
    চুম্বকের বিপরীত মেরুর মতোন অবিশ্যম্ভাবী নৈকট্যের এক অনিবার্য বন্ধনে।
    মিলনে তো একাংগী হয়ে বিলীন হয়ে যায় দ্বৈততা। বিচ্ছেদেই পাওয়া যায় খুঁজে তাহাদের আপন আপন বিভার দহনে।

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      "বিচ্ছেদেই পাওয়া যায় খুঁজে তাহাদের আপন আপন বিভার দহনে"
      বিচ্ছেদের সাথে বিরহ আসবে, বিষাদ থাকবে। নুন্যতম কিছু ব্যাকুলতা তো আসতেই হবে, তাই না?
      একটি সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্নতার পরিনতিতে এর কিছুই যদি না আসে, বুঝে নিতে হবে, ঐ সম্পর্কে আর যাই থাক, প্রেম ছিল না।
      আমার মনে হয়, একটি সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদে পর সেখান থেকে পাওয়া বিরহের পরিমান ও তাতে খাপ খাওয়াতে নেয়া এফর্টের পরিমান সম্পর্কেটিতে থাকা প্রেমের পরিমান নির্দেশক।
      যদি কেউ একটা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে পরদিন থেকেই ফুরফুরে মেজাজে উড়ে উড়ে চলে, এটা ভাবাটা অন্যয় না যে, ঐ সম্পর্কের "দাল মে কুচ কালা থা..."


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
  2. মোস্তফা (১৯৮০-১৯৮৬)

    মিলন হোক, বিচ্ছেদ হোক, সুখ হোক, সন্তাপ হোক, ভালোবাসা হোক, ঘৃণার উত্তাপ হোক,--কিছুই বাঁচে না, একদিন সবকিছুই গল্প হয়ে যায়।


    দেখেছি সবুজ পাতা অঘ্রানের অন্ধকারে হতেছে হলুদ

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      "......যে পরিমাণ বিষাদ রেখে যায়, তা কাটাতে এক জীবন যথেষ্ট নয়"
      খায়রুল ভাই, সেইখানেই তো সমস্যা।
      জীবন যে একটাই।
      কি যে করি...
      তাই লেসনগুলো রেখে যেতে চাই। অন্যরা পড়ুক আর ভাবুক।
      ভেবে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিক...


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      অনেক ধন্যবাদ বোন।
      মানুষে মানুষে যে সম্পর্ক তার মধ্যে ভ্যারিয়েসন থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক।
      আমি সেগুলো খুজে বেড়াই এবং পেলেই তুলে আনি বলেই হয়তো তোমার এমন মনেহয়।
      কিন্তু এটা করতে গিয়ে সম্প্রতি জানলাম, আমার ভালই বদনাম হয়েছে।
      গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আমার বিরুদ্ধে।
      মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ।
      আমি নাকি মানুষের পার্সোনাল বিষয় নিয়ে লিখালিখি করি।

      হ্যাঁ এটা ঠিক, আমি যা যা লিখি, সেগুলোর অনেক কিছুই কোন না কোন ব্যাক্তির লব্ধ অভিজ্ঞতা।
      কিন্তু তাতে রঙ চড়িয়ে ও পরিচয় বদলে এমনভাবে তা লিখি যা অন্যকারো পক্ষে বোঝা সম্ভব না, যে মূল পাত্রপাত্রী কারা।

      যার ঘটনা, সে বুঝবে আর সে যদি ঘটনাটা অন্য কারো কাছে বলে থাকে, তারাও বুঝতে পারে।

      এই বোঝাবুঝির বা ব্যক্তিগত গোপনিয়তা ভঙ্গের দায় কি করে তাহলে আমার উপরে পরে, বুঝলাম না।
      পাত্র বা পাত্রি যাঁদের নিজে থেকেই ঘটনা জানিয়েছেন, তাদের কাছে ব্যক্তিগত গোপনিয়তাতো অলরেডি কম্প্রোমাইসড।
      আমি পার্সোনাল গল্প লিখে নতুন করে আর কি মানবাধিকার লঙ্ঘন করলাম, বলতো দেখি?


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
      • তানজিনা (১৯৯৮-২০০৪)

        "পাত্র বা পাত্রি যাঁদের নিজে থেকেই ঘটনা জানিয়েছেন, তাদের কাছে ব্যক্তিগত গোপনিয়তাতো অলরেডি কম্প্রোমাইসড।
        আমি পার্সোনাল গল্প লিখে নতুন করে আর কি মানবাধিকার লঙ্ঘন করলাম, বলতো দেখি?" - অকাট্য যুক্তি। আর, আমাদের বলা বা শোনা সব গল্পই তো কারো না কারো 'পার্সোনাল' গল্প; এখন সবাই যদি এরকম কপিরাইট নিয়ে আপত্তি তোলে, তবে তো ভীষণ বিপদের কথা! শেষে সাহিত্যই না আবার বিলুপ্ত হয়!!


        For most of history, Anonymous was a woman. [Woolf, Virginia]

        জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।