আম বৃত্তান্ত

তখন আমি ক্লাস ইলেভেন এ। একাডেমিক ব্লকে ক্লাস টেন বি ফর্মের কোনায় শেডের পাশে একটা ছোট আম গাছ ছিল। গাছে লিচুর চেয়ে সাইজে সামান্য বড় আম গুলো অনেকদিন ধরে চোখে চোখে রাখি, কবে পাকবে। তো আমগুলো কেবল মাত্র পাকা শুরু হয়েছে। এক বৃহস্পতিবার মিল্কব্রেকের পর কোনো এক স্টেজ কম্পিটিশনের সময় অডিটোরিয়াম থেকে পালিয়ে গিয়ে শেডে উঠলাম, সাথে বন্ধু শাহাদুজ্জামান। দুজন মিলে গাছ ছাফা করে দিলাম।

বিস্তারিত»

অশনি সংকেত-১

গত কয়েকদিন ধরেই দেখছি রাজনৈতিক অসহনশীলতার চুড়ান্ত মাত্রা। তাও আবার এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যাকে চাইলেই ঘায়েল করে ফেলা যায়। অন্তত বাংলাদেশের সামাজিক এবং রাজনৈতিক বাস্তবতায়। নির্দোষ স্লোগানে। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর স্লোগান আমি রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের মিছিলে শুনেছি। সিরাজগঞ্জে। ‘চাইয়া দ্যাখ খালেদা, আইতাছে তোর বাপেরা’। সেই তুলনায় সনাতনের, ‘ছি ছি হাসিনা, লজ্জায় বাঁচি না’ তো নির্দোষ স্লোগান। লজ্জার অনুভূতি তখনই হয় যখন ব্যক্তি নিজেকে নিজের কাছেই অপরাধী সাব্যস্ত করে।

বিস্তারিত»

সুপ্রীমকোর্টের ভাস্কর্য সরানো ও কিছু ব্যক্তিগত ভাবনা

কাদের মোল্লার হাইকোর্টের রায়ের সময়ও একটা বিশাল জনগোষ্ঠী ও জনমত ফাসীর দাবির পক্ষে ছিলো। কিন্তু সে জনমতটা রাজপথে দৃশ্যমান ছিলোনা। সরকার ঠিক যে প্রক্রিয়াতে সেই জনমতটা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছিলো , কাজ শেষে অন্য এক প্রক্রিয়াতে আবার সেই জিনিস টা কে ভেঙ্গে দিয়েছিলো (যদিও আমি ভেঙ্গে দেয়ার ব্যাপারটার বিরোধী ব্যক্তিগতভাবে)।

সুপ্রীমকোর্টের ভাস্কর্য সরানোর আগেও সেইরকম প্রক্রিয়া অবলম্বন করা যেতে পারতো। একটা বিশাল জনগোষ্ঠী ও জনমত ভাস্কর্য সরানোর বিপক্ষে।

বিস্তারিত»

হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে কুঁড়াই ঝরা ফুল একেলা আমি

আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ,  প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১১৮তম জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে কবির প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা। নজরুলগীতি এর প্রতি দুর্বলতা আমার সব সময়ই।   কবির সৃষ্টি সব অসাধারণ গানের মধ্য থেকে একটি গান গাইলাম। হৃদয়ছোঁয়া এই গানটি আশাকরি সবার ভাল লাগবে।

বিস্তারিত»

সমুদ্রপারের পাড়ায় পাড়ায় ( লুনসারের লৌহ পাহাড়)

সমুদ্রপারের পাড়ায় পাড়ায়

লুনসারের লৌহ পাহাড়

আমার ব্যক্তিগত মত হল পৃথিবীতে স্বাধীনতা বা স্বাধিকারের জন্যে যুদ্ধই হল শুধুমাত্র ন্যায়সঙ্গত যুদ্ধ।  অন্য সকল যুদ্ধই অনৈতিক এবং মানুষের জন্যে অকল্যাণকর। প্রথম ধরনের যুদ্ধ ছিল ১৯৭১ সনে আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ। এক অলৌকিক তাড়নায় সমগ্র বাংলার মানুষেরা গ্রথিত হয়েছিল হিরন্ময় কোন এক সুত্রে। গড়ে তুলেছিল বিস্ময়কর প্রতিরোধ। হানাদার পশ্চিম পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে। আমি ঐ সময়টাতে ক্লাস ওয়ানে পড়া এক শিশু।

বিস্তারিত»

হঠাৎ স্বাধীনতা

খুব অস্থিরভাবে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আছে অমি। বিকাল চারটা পঞ্চাশ বাজে। আর দশ মিনিট। মাত্র দশ মিনিট।

অমি ক্লাশ ফাইভে পড়ে। বগুড়া জিলা স্কুল। মর্নিং শিফটে। বাবা-মা বিকালে কোচিংএ দিতে চেয়েছিল। ও রাজী হয়নি। বাবা-মা কে বুঝাইছে যে বাসায় রেগুলার পড়লেই হয়। কোচিংএ যাওয়া মানেই সময় নষ্ট। কথা মনে হতে পারে পড়াশুনার ব্যাপারে খুব সিরিয়াস ছেলে। কিন্তু ঘটনা তো অন্য জায়গায়। কোচিং চলে সন্ধ্যা ছটা পর্যন্ত।

বিস্তারিত»

কৃষ্ণচূড়া

Princess of Summer

Desolation of winter
left her like an ugly
witch thunder struck
unlike other trees
she remained haunted
even in the lovely spring
new buds, birds and
beautiful butterflies, oh!

At the end of spring
air became hot
and the trees were
losing the flowers.
She appeared strongly
pleasant green leaves
elegantly decorated
with red flowers.

বিস্তারিত»

বকবকানির বাকবাকুম

রাত দুইটা বেজে উনিশ মিনিট। আমি পঞ্চগড়ে। সবাই ঢাকায়। জরুরি কাজে এসেছি। আগের দিন রাত পৌনে এগারটায় বাসে চেপে, হাইওয়ের অস্বাভাবিক ট্রাফিক ঠেলে সতেরো ঘণ্টা পাড়ি দিয়ে পরদিন বিকাল চারটায় পৌছেছি। আরেকটু হলে তো শিকড় গজিয়ে যেত। বিকাল-সন্ধ্যায় টানা ঘুম। এখন আর ঘুম আসছে না। ফেসবুকে সময় কাটাচ্ছি। ওদিকে পরিবার মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছে। ম্যাসেঞ্জারে সাড়া পাচ্ছি না। ফোনে ডিস্টার্ব করতেও ইচ্ছা করছে না।

কিছুক্ষণ অনেক ছোট বয়সের দুজন জুনিয়রের সাথে একই প্লাটফর্মে ভার্চুয়াল ক্যাচাল করলাম।

বিস্তারিত»

” মা ” দিবসের শুভেচ্ছা

হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে
মুখে আসে মা
তপ্ত রোদে, তীব্র শীতে
সবই হাঁকে মা
না বলা সব কথা গুলো
শুনতে পারে মা
অগণিত আবদারে সব
জড়িয়ে ধরি মা
মা মানে-
সকল চাওয়া সকল পাওয়া
সকাল সন্ধ্যা সারাবেলা।
বিশ্বের সকল মাকে “মা” দিবসের অগণিত শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

বিস্তারিত»

পক্ষী ভাবনা

পাখিরা আকাশের বুকে উড়ে বেড়ায়,
মনের সুখে। ওদের মাঝে কোন ভুল
বোঝাবুঝি নেই, হিংসা বিদ্বেষ নেই।
ওরা প্রত্যেকেই স্বাবলম্বী, তবুও ওরা
সবাই মিলে দল বেঁধে উড়ে বেড়ায়।
কোন মান অভিমান নেই, রাগ নেই
সকালে উড়ে যায় আহারের সন্ধানে,
সন্ধ্যায় কূলে ফিরে আসে একসাথে।

বিস্তারিত»

অবাক ভালবাসা

বেশ অনেকক্ষণ হলো রাতুল চায়ের দোকানটায় বসে আছে। বেশ অনেকক্ষণ। কয়েক কাপ চা খাওয়াও হয়ে গেছে। বসে আছে বলে যে কেউ কিছু বলছে তা না। আরো অনেকেই বসে আছে। আড্ডা দিচ্ছে, গল্প করছে,খাচ্ছে, যার যা খুশি তাই করছে। কারো অন্যের কিছু নিয়ে মাথা ব্যথা নাই। তবে রাতুলের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। আশে পাশে আরো কয়েকজন বসা থাকলেও রাতুল কিন্তু আসলে একা। একটু পর পর মাথা এদিক ওদিক ঘোরাচ্ছে।

বিস্তারিত»

ইয়াঙ্কি মুলুকে পহেলা বৈশাখ

ডেট্রয়েট এ বাংলাদেশীদের  রমরমা দিন। খুব বেশি আগের কথা নয়। এই কিছুদিন আগেও এখানে একটা মাত্র বাংলাদেশী মাছের দোকান ছিলো। সেখানে রো শ্যাড মাছ ইলিশ বলে বিক্রি করা হতো। ইলিশ শ্যাড এর গোত্রভুক্ত আর দেখতেও প্রায় কাছাকাছি। কিন্তু মাটি আর পানির তফাতের কারনে এর কাঁটা অনেক নরম আর স্বাদও অনেক পানসে। এ নিয়ে দোকানিকে প্রশ্ন করা হলে সে তেড়েমেরে আসতো,
-ইতা কিতা মাত মাতরে বা,ইগু বাংলাদেশ থাকি আইসে,

বিস্তারিত»

#যা_পড়তে_চাই – ১

সপ্তাহান্তে ছ’টি দৈনিক পত্রিকা বাড়িতে আসে। সবগুলোই বাংলা ভাষার। ওগুলোর সাহিত্য পাতাগুলো সব পড়ার চেষ্টা করি।

আজ দৈনিক জনকন্ঠে একটি ছোট গল্প পড়া শুরু করলাম। শিরোনাম ‘প্রোপোজাল’। লেখকের নাম বলতে চাই না।

দ্বিতীয় প্যারায় একটি লাইনঃ ‘তাকে মতিঝিল থেকে যেতে হবে – নতুন এক ক্লায়েন্ট ওয়েট করছে’। কয়েক লাইন পরই আবার, ‘বাস আসছে না, রাস্তায় হেব্বি জ্যাম’।

আর পড়তে চাইলাম না।

বিস্তারিত»

টোনাটুনি সমাচার।। ছড়ায় ছড়ায়

এইচএসসি পাশ টোনা আর ডিএমসির ছাত্রী টুনি।
প্রেম এসেই দুরমুশ পেটানো শুরু করল।
সামাজিক বিধি-নিষেধ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত সবকিছু মিলে মানুষের যে ভালো খারাপের সাধারণ মাপকাঠি তৈরী হয়, প্রেম সেই মাপকাঠিটাকেই দিল ঠুস করে ভেঙে।

ফলে প্রেমের তাড়নায় তারা দুজনে মিলে মহাসমারোহে সেসব কার্য করতে লাগল যা কিছু ছিল নিষেধ, অন্যায়, অনুচিত এবং এক কথায় যা কিছু সমাজের গ্রহনযোগ্য কাজকর্মের সীমানার বাইরে এবং চোখ রাঙানির এক্তিয়ার-ভূক্ত।

বিস্তারিত»

অনুকথন স্মৃতিচারণঃ নকশীকাঁথার মাঠ

অনুকথন স্মৃতিচারণঃ নকশীকাঁথার মাঠ

আমার একটা কাঁথা আছে; তিনটা শাড়ির লেয়ার দিয়ে বানানো। তিনটা শাড়িই ছিল এম্ব্রয়ডারিতে ভরা সুতি শাড়ি। অনেক স্মৃতিবিজড়িত এই কাঁথাটা। এটার মূল্য আমার কাছে অনেক। জড়িয়ে নিয়ে থাকি, ঘ্রাণ নেই। অন্যরকমের একটা ছোঁয়া পাই। বাইরের দিকের শাড়ি দুটো আমার স্ত্রীর, যেগুলো আমি তাকে আমাদের বিয়ের সময় দিয়েছিলাম। ভেতরের লেয়ারে যে শাড়িটা আছে সেটা সবচেয়ে স্মৃতিবিজড়িত। আমার মায়ের অনেক শখের একটা শাড়ি ছিল সেটা।

বিস্তারিত»