তিন তিতলী

“মেঘ বলেছে যাবো যাবো” বইটি দ্বিতীয় বারের মত পড়া শেষ করেছি। আমি তখন নবম শ্রেনীতে। ফাইনাল পরীক্ষা শেষ। ছুটি আর কয়েক দিন পর। আমাদের ক্যাডেট কলেজে অনেক নিয়ম কানুন। গল্পের বই পড়ার সময় ও সুযোগ সব সময় মেলে না। তবে এই সময়টা সবাই গল্পের বই পড়ে কাটায়। শিক্ষকরাও আমাদের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে তেমন কিছু বলেন না। হাতে পড়ার মত কোন বই না থাকায় বন্ধু তৌফিকের কাছ থেকে নিয়ে এই বইটিই আবার পড়লাম। প্রথম পড়েছিলাম সপ্তম শ্রেনীতে। দ্বিতীয় বার পড়তে গিয়ে কিছু অজানা অনুভূতি টের পেলাম। গল্পের তিতলী নামের মেয়েটির প্রেমে পড়লাম। এবং তা ভয়াবহ ভাবে। মাথার ভেতর তখন তিতলী তিতলী। তিতলি চরিত্রকে বাস্তব জীবনে খুঁজতে লাগলাম। এতোটাই জীবন্ত ছিল যে চরিত্র। খুঁজে পেলাম ২০০৯ সালে। ফেসবুক নামের ভার্চুয়াল জগতে। তবে একজন নয় তিনজন তিতলীকে পেয়েছিলাম। একজন রংপুর, একজন ফেনী এবং একজন ময়মনসিংহের। তিন তিতলীর সাথেই আমার বিচ্ছিন্ন কিছু স্মৃতি আছে। এরমধ্যে প্রথম দুই তিতলী ছিল আমার সহপাঠী। সবেমাত্র ফেসবুকে একাউন্ট খুলেছি। সারাক্ষন অনলাইনে থাকি। রংপুরের তিতলীর সাথে আমার টুকটাক কথা হয়। আমি তেতুল নামে ডাকি। মোটামুটি মধুর সময় কাটে। তবে তা ফেসবুকেই। গল্প গল্প করতে করতে একটা সময় ছুটি শেষ হয়। আমাকে ফিরে যেতে হয় ক্যাডেট কলেজে। তিতলী নামের ভূত তখনো মাথায়। ক্যাডেট কলেজে বসে লিখে ফেলি তিতলী নিয়ে চার লাইনের একটি কবিতা,

তেতুল বনে উঠেছে জোছনা আবার নতুন করে
সেই জোছনা বিলিয়ে দিলাম তিতলী তোমার তরে
জোছনা হয়ে জড়াবো তিতলী তোমার এলো চুলে
জোছনা ভরা এই লগনে খোপা রেখো খুলে।

কবিতাটি তিতলীকে দিতে পারিনি। ছুটি শেষে বাসায় ফিরে দেখি তিতলী আমার বন্ধু তালিকায় নাই। থাকার কথাও না। দীর্ঘ তিন মাসের অনুপুস্থিতি একটা মানুষকে ভোলানোর জন্য অনেক।তাও যদি মানুষটা ভার্চুয়াল জগতের হয়। বলাবাহুল্য ক্যাডেট কলেজে মুঠোফোন কিংবা ফেসবুক,কিছুই ব্যবহার করা যায় না।তাই এই দীর্ঘ সময় তার সাথে আর যোগাযোগ হয় না। তিতলীরা হয়তো কারো জন্যে অপেক্ষা করতে পারে না। এক মুহূর্তে পাশে না থাকলে এরা অন্য কাউকে বেছে নেয়। অনেক কাল তিতলীর কোন খোঁজ নেই। হয়তো ভালোই আছে।

পরের দুই তিতলী সম্পর্কে অনেক কিছুই বলতে আমি অপারগ। সামাজিক এবং পারিপার্শ্বিক কিছু কারনে। ফেনীর তিতলী ছিল আমার ভালো বন্ধু। অন্য দুই তিতলীর সাথে ফেসবুকে পরিচয় হলেও এই তিতলীর সাথে পরিচয় মুঠোফোনে। ও নিজেও ক্যাডেট এ পড়ত। এই কারণে ভালো সম্পর্ক। মেয়েটিও ভালো। গান জানে। হুমায়ূন আহমেদ এর অন্ধ ভক্ত। অল্প দিনেই সম্পর্ক বেশ ভালো হয়ে যায়। তুই তোকারী সম্পর্ক। সুন্দর সময়। কোন এক ছুটি শেষে এসে দেখি সে আমার মুঠোফোন আর ধরে না। এক দিন,দুই দিন,তিন দিন। একটা পর্যায়ে বুঝতে পারলাম সে আমার সাথে কথা বলতে চায় না। জোড় করে সব হলেও বন্ধুত্ব হয় না। আমিও ফোন দেই না। একসময় ফেসবুকে তাকে পেয়ে যাই হুট করেই। আমার মুঠোফোন নম্বর নেয়। আবার কথা হয়। পেছনের অতীত ভুলে যাই। আবার বন্ধুত্ব জমে ওঠে। ইচ্ছে ছিল তিতলী নামের কোন মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব হলে তাকে মেঘ বলেছে যাবো যাবো বইটি উপহার দেব। তিতলীকে মনের কথা জানাই। সে ইচ্ছে পূরনের সুযোগ দেয়। তবে মেঘ বলেছে যাবো যাবো বইটি তার কাছে থাকায় সে অন্য বই দাবী করে। আমি তার জন্যে তেতুল বনে জোছনা’ বইটি কিনি। বইয়ের মলাটে লিখে দেই সেই কবিতাটি যা লেখা হয়েছিল অন্য এক তিতলি কে ভেবে। কবিতাটি তিতলী নিশ্চই পড়েছিল। এরপর কোন এক অজ্ঞাত কারনে তিতলী আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। আমি অবাক হই। কবিতা পড়ে তিতলীর অনুভূতি জানা আর হয়ে ওঠে নি। অনেক কাল পরে তিতলীর সাথে আমার হঠাত্‍ দেখা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে। প্রথম এবং শেষ দেখা। ঘটনার আকস্মিকতায় দুজনেই অবাক হই। অনেক কথার ভীড়ে হারিয়ে যায় আসল কথাটি। কবিতার কথা আর জিজ্ঞেস করা হয়না। একসময় হুট করেই তিতলীর কাছ থেকে বিদায় নেই। ফিরে আসার সময় হঠাত্‍ মনে হয়,তিতলীর মুঠোফোন নম্বরটা চাই। অনেক কিছু ভেবে আর চাওয়া হয়ে ওঠে না। কিছু ইচ্ছা অপূর্ন রেখে দিতে হয়। আবারো হয়তো আমাদের দেখা হবে,চলমান বাস্তবতায়,ঢাকা শহরের ব্যস্ত কোন রাস্তায়. . . .

তৃতীয় এবং সর্বশেষ তিতলী ছিল আমার চেয়ে বয়সে একবছরের বড়। নায়িকা টাইপ চেহারা। চোখে মুখে মায়ার কমতি নেই। সাধারন ভাবে দেখেই বোঝা যায় এই মেয়ে ভীষন অহংকারী হবে। যার কাছে ছেলেরা কাগজের নৌকার মত। একটি গেলে খুব সহজেই আর একটি চলে আসবে। এক প্রকার ভয়ে ভয়েই তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই। একসেপ্ট ও করে। পরে জানতে পারি সে সে বাংলাদেশের মেয়েদের সবচেয়ে নিয়মতান্ত্রিক এবং আক্ষরিক অর্থে সেরা কলেজের কলেজ অধিনায়ক। বিশাল ব্যপার। অহংকার থাকা স্বাভাবিক। আমি তখন টুকটাক কবিতা চর্চা শুরু করেছি। ফেসবুকে তখন ছ্যাঁকা খাওয়া স্ট্যাটাস দেয়ার কারনে বন্ধু এবং পরিচিত মহলে প্রচুর টীজ খাই। খুব স্বাভাবিক ভাবেই তার সাথে কথা বলার দুঃসাহস করি। টুকটাক কথা হয়। হায়,হ্যালো পর্যায়ের। আমার চ্যাটের রিপ্লাই দেয় এটাই আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়। মেয়েটাকে যতটা অহংকারী ভেবেছিলাম ততটা না। কিছুটা শান্ত শিষ্ট কিছুটা চঞ্চল মেয়ে। ততদিনে আগের দুই তিতলী কারো সাথে আমার যোগাযোগ নেই। নতুন এক তিতলী,নতুন এক অনুভূতি। হঠাত্‍ করে মনে হয় এই সেই তিতলী যার প্রতিচ্ছায়া আমি মেঘ বলেছে যাবো যাবো বইতে পাই। এই প্রথম মনে হয় গল্পের কোন চরিত্রকে আমি বাস্তবে দেখছি। হুমায়ূন আহমেদ এই মেয়েকে দেখলেও হয়তো তাই বলতেন। তিতলী আমার বড় হওয়ার সুবাধে আপু ডাকতে হয়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার আমরা একটা নির্দিষ্ট কম্যুনিটির অর্ন্তভূক্ত হওয়ায় সিনিয়র জুনিয়র সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। তিতলী আপুর সাথে সম্পর্ক ভালোই হয়। মানুষকে কাছে টানার এক দারুন ক্ষমতা তার আছে। আর হয়তো বা এজন্যেই কলেজ জীবনে সে কলেজ অধিনায়ক হবার মত সম্মানটা পেয়েছে। তিতলী আপুর সাথে যত সহজে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে তত সহজেই তা ভেঙে যায়। প্রথম প্রথম তাঁর ওয়ালে কবিতা পোষ্ট করতাম। যেখানে তুমুল কমেন্টস এ আমরা মেতে উঠতাম। এরপর কোন এক ছুটিতে এসে দেখি তিনি আমার ফ্রেন্ডলিস্টে নেই। কারন কিছুটা অজ্ঞাত কিছুটা অনুমেয়।
অনুমেয় কারন গুলোকে কল্পনা স্তরেই রেখে দিয়েছি। আমি আর এর কারন ঘাঁটাতে যাইনি। কিছু রহস্য অমীমাংসিত থেকে যাওয়াটাই ভালো। এর অনেক কাল পরে একটি অনুষ্ঠানে তিতলী আপুর সাথে আমার দেখা হয়। বিশ্বাস আর অবিশ্বাসে মাঝামাঝি বাকরুদ্ধ এই আমাকে অবাক করে দিয়ে তিতলী আপু কৌতুহলের সুরেই জিজ্ঞেস করে, ক্যামন আছো কবি? আমাকে চিনতে পেরেছো?

তিতলীদের চিনতে অসুবিধা হয়না। হুমায়ূন আহমেদ এর তৈরি চরিত্র তিতলী বইয়ের পাতাকে ছাড়িয়ে জীবন্ত হয়ে আছে এই বাংলার আকাশে বাতাসে।প্রতি পূর্নিমায় তিতলীরা জোছনা বিলাস করে। পাশে থাকে নতুন কেউ। আর তিতলী প্রেমী কবিরা লিখে যায় আপন মনে,

তেতুল বনে উঠবে জোছনা
তিতলী তুমি থাকবে কি?
মধ্য রাতে দূরের পথে হাতটি ধরে হাঁটবে কি?
নিঃসীম রাতের নিরবতায় একটি কথা বলবে কি?
ছন্নছাড়া বিষন্নতায় মনের সাথে চলবে কি?

জোছনা থাকে মুখ লুকিয়ে চাঁদের চোখে দেখো
তিতলী তুমি অন্য আকাশ,
আমায় পাশে রেখো

অস্বচ্ছ জোছনার আবছায়া মায়াবী আলোর সে রাতে তিতলীরা হাতে হাত রেখে হাঁটবে কি না ,মাঝেমাঝে জানতে ইচ্ছে হয়।

২,৮৪৪ বার দেখা হয়েছে

২৭ টি মন্তব্য : “তিন তিতলী”

  1. মেহেদী (২০০৫-২০১১)

    ভাইজান মনে হয় হুমায়ুন স্যারের ভাল ভক্ত।তার সাথে আপনার লেখার ধরনে মিল আছে।বইটা পড়ে আমারো খুব খারাপ 🙁 লাগছিল।আসলে তিতলীরা এমন ই।পড়ে ভাল লাগল।

    জবাব দিন
  2. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    হুমায়ুন আহমেদ আমাদের এক-দেড়টা জেনারেশনের রোমান্টিকতাকেও কেমন আচ্ছন্ন করে দিয়েছেন তা বুঝতে পারলাম একটু। এ মাদকতাময় রোমান্টিকতা হুমায়ুনের একবারে নিজস্ব স্টাইল (যা তিনি নিজের জীবদ্দশাতেই ক্লিশে আর ছিবড়ে করে ছেড়ে দিয়েছেন)।
    তোমার গদ্যও প্রবলভাবে হুমায়ুনগ্রস্ত।এটা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করো যদি লেখালেখি নিয়ে সিরিয়াস হও। হুমায়ুন পরবর্তী অজস্র হুমায়ুনদের একজন হয়ে থেকোনা।
    পুনশ্চ: উপদেশ অযাচিত লাগলে জানাতে দ্বিধা কোরোনা প্লিজ।

    জবাব দিন
  3. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    উপন্যাসের পছন্দের নায়িকার নাম ধরে ফেসবুকে সার্চ! সেখান থেকে চেনা জানা, দেখা সাক্ষাত আবার বিচ্ছেদ!! রোমান্টিকতার কাছে মাফ চেয়ে গেলাম!!!

    গল্প হিসেবে ধরলে মোটামোটি লেগেছে।


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন
    • রাব্বী আহমেদ (২০০৫-২০১১)

      একাদশ দ্বাদশ শ্রেনীতে এই রোমান্টিকতা থাকাটা কি দোষের কিছু ভাই? আমি এখানে ক্রেডিট টা সম্পূর্ন ই হুমায়ূন আহমেদ কে দিতে চাই। যিনি পেরেছেন এমন চরিত্র তৈরি করতে। আর এটা একদম নিজের জীবনের ঘটে যাওয়া কাহিনী। লেখকের স্বাধীনতাও ব্যবহার করিনি। সম্পূর্নটাই তুলে দিয়েছি। তবে সামাজিক এবং পারিপার্শ্বিক কারনে অনেক কিছু বাদ দিতে হয়েছে। আর আমার লেখা রোমান্টিকতা কেন্দ্রিক। এ থেকে বেরিয়ে আসতে পারছিনা. . . 🙁


      নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কাঁদতে নেই
      খুব সহযে বিশ্বাসে বুক বাঁধছ কেন, বাঁধতে নেই
      বুকের কিছু গভীর কান্না চোখের মাঝে আনতে নেই
      কিছু অতীত স্মৃতির কথা জানার চেষ্টা বৃথাই, জানতে নেই...

      জবাব দিন
      • আহসান আকাশ (৯৬-০২)

        তোমার রোমান্টিকতাকে দোষ হিসেবে বলিনি, শুধু এর মাত্রাটা আমার নিজের বা আমার জানা রোমান্টিকতা থেকে অনেক উপরের, তাই 'মাফ চেয়ে গেলাম' এক্সপ্রেশন ব্যবহার করেছি। আর শুধু পছন্দের নাম ধরে ফেসবুকে সার্চ দিয়ে খুঁজে বের করে কারো সাথে যোগাযোগ তৈরী করাটাকে আমার কাছে ঠিক 'রোমান্টিকতা' মনে হয়নি, তাই এভাবে বলা। (অলরেডি ব্যাকডেটেট হয়ে গেলাম নাকি?)

        তোমার অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে থাকলে দুঃখিত ।


        আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
        আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

        জবাব দিন
  4. রাব্বী আহমেদ (২০০৫-২০১১)

    লেখালেখি নিয়ে সিরিয়াস ভাইয়া। হাঁটতে শিখেছি হুমায়ূন পড়ে তাই চলতি পথে হুমায়ূনের এত ছায়া। হুমায়ূনগ্রস্ত ব্যাপারটাকে আমি অন্য ভাবে ব্যখ্যা দেই। একজন ভালো লেখককে অনুসরন করা যেতেই পারে তবে অনুকরন যেন না হয়। প্রথম জীবনে হুমায়ূন আহমেদ মানিক কে ফলো করতেন যা তাঁর অসংখ্য লেখায় আমরা পাই। আমরা যারা একেবারেই তরুণ লেখক তারা হুমায়ূন প্রচলিত ঢঙে বাংলা ভাষাকে উপস্থাপন করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। রবীন্দ্রপরবর্তী যে পঞ্চকবি তাঁর ছায়া থেকে বের হয়ে এসে কাব্য রচনা করেছেন এর মধ্যে সফল শুধু জীবনানন্দ তাও মৃত্যুর অনেক অনেক বছর পর। আর বাকীরা বাংলা কাব্যকে মোটামুটি প্রতিবন্দী বানিয়ে রেখেছে। যার জন্যে আধুনিক কবিতা অনেকেই এড়িয়ে যায়। এ আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা. . .স্বকীয় স্টাইল আনতে বেশ কিছু সময় লাগবে। তাতেও হুমায়ূনীয় ঢঙ থাকবে। আর আমি মূলত কবিতা লেখক। গদ্যে আনাড়ি. . .আপনার মূল্যবান উপদেশ মেনে চলবো. . . 🙂


    নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কাঁদতে নেই
    খুব সহযে বিশ্বাসে বুক বাঁধছ কেন, বাঁধতে নেই
    বুকের কিছু গভীর কান্না চোখের মাঝে আনতে নেই
    কিছু অতীত স্মৃতির কথা জানার চেষ্টা বৃথাই, জানতে নেই...

    জবাব দিন
  5. ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

    তোমাদের জীবনই আলাদা। ফেসবুক একটা বিশাল অংশ জুড়ে। অভিজ্ঞতা এবং সেইসাথে উপলদ্ধিগুলো পড়ে মজা পেলাম।


    “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
    ― Mahatma Gandhi

    জবাব দিন
  6. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    পথে, বাসে বা ট্রেনেও আমরা প্রতিদিন কত কত মানুষের সংস্পর্শে আসি।আজকের যুগে সেসবের সাথে যোগ হয়েছে অন্তর্জাল যোগাযোগ। ফেসবুক আসার আগের সময়টাতে লোকজন খুব চ্যাট করতো। নানান চ্যাটরুম পাওয়া যেতো নেট এ ঢুকলে। নিজের পছন্দমতো একটাতে জায়গা করে নিয়ে সমমনা মানুষের সংগে কথা চালাচালি। এরকম অনেক বন্ধু হয়েছিলো আমার। এভাবে জেসিসির অমিতের সাথে পরিচয় হয়েছিলো আমার।ঢাকায় গেলে ওর সংগে দেখা করে একটা পুরো দিন কাটিয়েছিলাম।ওর অসম্ভব সুন্দর কন্ঠের সংগে পরিচয় ঘটেছিলো, ওর জীবনের গল্প শুনেছিলাম, আমার অবান্তর কথাসমূহও বলেছিলাম। আপাতভাবে অকেজো ওই একটি দিন এখনো আমার স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করে।

    চ্যাটরুমে এভাবে পরিচয় হয়েছিলো মৃন্ময়ীর সংগে, পরে চণ্ডীগড়, দিল্লী থেকে ওর সংগে ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা হা হা হি হি করেছি, ওর জীবনের কথা শুনে কেঁদে ফেলেছি, তাড়াতাড়া চিঠি চালাচালি করেছি।কলকাতায় দেখা করতে গিয়ে ওর আগেই ওর প্রেমিকের দেখা পেয়ে গেছিলাম। দুজনে মিলে কি বোকাটাই না বানিয়েছি ওকে প্রথম দেখা হবার মুহূর্তটিতে। কবি শঙ্খ ঘোষের এই ছাত্রীটি জীবনে কবিতাকে এমনভাবে ধারণ করেছে না দেখলে/জানলে কারো বিশ্বাস হবেনা।

    আরেকবার দিল্লীগামী ট্রেনে দেখেছিলাম পৃথাদিকে। উনাকে দেখেই কেন জানি মনে হয়েছিলো, আরো বহুবার আমাদের যোগাযোগ ঘটবে। উনার জীবনও আশ্চর্য আর অসহনীরকম দুঃখের।সত্যি ঘটেছিলো বহু যোগাযোগ।কলকাতার ঢাকাগামী বাস পর্যন্ত বিদায় দিতে এসেছিলেন। বাসে চড়ে বসার পর এসএমএস পেলাম: 'আমাকে যেতে বললে না কেন তোমার দেশে!' এ অভিমানের কি কোন জবাব হয়!

    এখন এত ব্যস্ত হয়ে গেছি, এত যান্ত্রিক হয়ে গেছি কারো সংগে পরিচিত হয়ে ওঠা হয়না কতকাল।না হলে অন্য একটি মানুষ, তার জীবন, তার বন্ধুত্ব সবসময়েই আমার জন্যে সবসময়েই উষ্ণ একটা ব্যাপার।রাব্বী, তোমার এই লেখাটা পড়ে মনের কোণে চাপা পড়ে থাকা সেই দিনগুলো চট করে জীবন্ত হয়ে গেলো।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।