মগের মুল্লুকে এক হপ্তাহ

বার্মা যাচ্ছি শুনে গোত্রবর্ণ (ও স্বভাব) নির্বিশেষে সকল শুভানুধ্যায়ী ভুরু কুঁচকে তাকালেন। কেউ কেউ আলটপকা বলেও ফেললেন, ওহে, নৌকায় চড়ে যাচ্ছ নাকি সাঁতরে যাচ্ছ? এসব কথা গায়ে না মেখে মার্চ মাসের এক সকালে চেপে বসলুম উড়োজাহাজে।

ঘন্টা দুয়েক পর পৌঁছে গেলাম ইয়াঙ্গন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ইমিগ্রেশনের গেরো পেরিয়েই পড়লাম অভাবনীয় চক্করে। বনবন করে মাথা ঘুরতে লাগল। যারা মায়ানমার যাবেন, তাদের জন্যে বলছি। এবেলা কানখাড়া করে শুনে নিন।

বিস্তারিত»

অনুরোধ

[কবিতা বড়ই সংক্রামক। কথাটা প্রায়ই ভাবি, কিন্তু বলা হয়ে ওঠে না।
পূর্ণেন্দু পত্রীর এই পংক্তিগুলো চোখে পড়লো, আজ সকালে, এক বন্ধুর স্ট্যাটাসে।
\\ যখনই পেতেছো হাত,দিয়েছি উপুড় করে প্রাণ, তবু আমি একা,
তবু আমার কেউ নও তুমি,
আমিও তোমার কেউ নই,
আমাদের অভ্যন্তরে স্রোতস্বিনী আছে সেতু নেই। //
আর কোত্থেকে যেন নীচের এই কথা গুলো ভেসে এলো মাথার ভিতরে।

বিস্তারিত»

ভ্রমণ

ভ্রমণ

আমার বয়স তখন ১৪ অথবা ১৫ বছর। নবম শ্রেণীতে পড়ি। মোমেনশাহী ক্যাডেট কলেজের নজরুল হাউজের রিক্রিয়েশন রুমের পার্শ্ববর্তী কক্ষে স্থাপিত পিংপং খেলার টেবিল। মাঝখান থেকে জালটা সরিয়ে নেয়া হয়েছে।এই টেবিলের ওপরেই আমি আন্তঃহাউজ দেয়াল পত্রিকা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের জন্যে আমাদের হাউজের বাংলা দেয়াল পত্রিকা লিখছি। আমাদের অর্থাৎ নজরুল হাউজের এই পত্রিকার নাম ‘তরঙ্গ’! পাশেই হাউজ মাস্টারের কক্ষে অথবা ১১ নম্বর রুমে ১৪ তম ব্যাচের রফিক ভাই লিখছেন ইংরেজি দেয়াল পত্রিকা।

বিস্তারিত»

নারীবাদ ও এর অপব্যবহার – প্রথম পর্ব

বলা হয়, নারীবাদ শুধু নারীদেরই নয়, মানবজাতিরই মুক্তির উপায়।
কারন এই যে হাজার বছর ধরে চলতে থাকা পুরুষতন্ত্র – এটা শুধু নারীদের নিষ্পেষিত করেই ক্ষান্ত হয় নাই, পুরুষদেরও করেছে নিষ্ঠুর, স্বার্থান্ধ, অমানবিক।
আর তা শুধু নারীর বিরুদ্ধেই না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ঘটেছে গোটা মানবজাতীর বিরুদ্ধে।
ফেমিনিজম মুভমেন্ট তাই নারীর একার মুক্তির মুভমেন্ট নয়, নারী-পুরুষ সবারি মুক্তির মুভমেন্ট।
সমস্যা হলো, যেকোনো মুভমেন্টেই একটি সুবিধাবাদি পক্ষ সামনে এসে পড়ে।

বিস্তারিত»

গৌতম বুদ্ধের দেশে (প্রথম পর্ব)

[আমাকে কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে, বিনোদনের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা কি, আমি এক মুহূর্তও চিন্তা না করে উত্তর দেব- “ভ্রমণ’। এর আগে বেশ ক’টি দেশ ঘোরার সৌভাগ্য হলেও, ভ্রমণকাহিনী কখনোই লেখা হয়ে ওঠেনি। কাজেই যা লিখতে যাচ্ছি, আদর্শ ট্রাভেলগের অনেক বৈশিষ্ট্যই হয়তো সেখানে অনুপস্থিত থাকবে। সবার কাছে অগ্রিম ক্ষমাপ্রার্থনা করছি।]

১.

বেশ ক’মাস ধরেই নেপাল ঘোরার একটা ইচ্ছে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। সব জায়গা বাদ দিয়ে নেপালই কেন,

বিস্তারিত»

মাটির গান মানুষের গান

কয়েক দিন আগে বাড়িতে গিয়েছিলাম। নদী পাড়ে ঘুরতে গেলাম। দেখলাম প্রচুর মানুষ, কোলাহল আর হই হই আওয়াজ। বুঝতে বাকি রইলো না যে নৌকা বাইচ হচ্ছে। আগে যখন খুব ছোট ছিলাম, তখন একবার দেখেছিলাম, এই ব্রম্মহপুত্র নদী তীরে নৌকা বাইচ। ছোট বলতে স্কুলেও যাইনা। ভাবলাম এখনো নৌকা বাইচ হয়। এ জিনিস পরে আর কখন দেখতে পারবো চিন্তা করতে গিয়ে দেখলাম, চান্স নাই বলতে গেলেই হয়। আর কোন চিন্তা করতে হবে না।

বিস্তারিত»

লিরিকস এণ্ড থটস

লিরিকস এণ্ড থটস

“পিয়ার ইয়ে, জানে ক্যায়সা হ্যায় / কিয়া কাহে, ইয়ে কুছ এ্যায়সা হ্যায় / কাভি দার্দ ইয়ে দেতা হ্যায় / কাভি চ্যায়েন ইয়ে দেতা হ্যায় / কাভি গাম দেতা হ্যায় / কাভি খুশি দেতা হ্যায়।” খুব সম্ভবত হায়ার সেকেণ্ডারিতে পড়ার সময় এটা প্রথম শুনি। এমনিতেই আমি এ.আর.রেহমানের অন্ধভক্ত ছিলাম। এখনও ভাল লাগে এই সুরকারের সুর। কিন্তু টিন এইজের মতন বিশেষ কোন ব্যক্তি বা বিষয়ে সেই অন্ধ আসক্তি এখন কোনখানেই আর কাজ করে না।

বিস্তারিত»

স্বপ্ন বিলীন

অনাবিল শুভ্রতার পাপড়িতে সপ্নগুলো খুঁজে পেয়েছিল তাদের রং
ভবিষ্যৎের আকাশে তারা উড়েছিল ক্ষণিককাল
শুন্যতার মাঝে পূর্ণতার অনুভূতি দিয়েছিল চিরন্তনতার ছোয়া
কিন্তু হঠাৎ, সম্ভ্রান্ত নির্বোধ শ্রেণীর কতিপয় উদ্ভট, আবেগহীন প্রথা
আভিজাত্যর ট্যাংকের তলে পিষ্ট করে হাসল ড্রাকুলার পিশাচী হাসি
নিরবতার মঞ্চে না বলা কথাগুলো বিলীন হয়ে যায় মহাকালের অদৃশ্য পাতায়
অচিনপুরের হাতছানি আর স্রস্টার স্পন্দন এখন ক্ষতগুলোর নিরাময়
স্বর্গের প্রতিিট পরমাণুর প্রতি ব্যথাতুর বসুন্ধরার হাজারো সালাম

বিস্তারিত»

চোখের ভাষা

কিছু কিছু ছবি আছে, চোখ ঝলসে দেয়।
ওরটাও তেমনই, যেন আলোর ঝাপটা।
একবার চোখ পড়ে তো সরানো যায় না।
জোর করে সরালেও প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে।

কিছু কিছু মুখ আছে, ভালোবাসার আধার।
হাজার অচেনা হলেও ভালোবাসা দিয়ে যায়।
দেখে যেন মনে হয় সেটা আজন্ম চেনামুখ,
চোখ দুটো বারেবারে হাতছানি দিয়ে ডাকে।

নক্ষত্রের মত ঝিকিমিকি করা ওদুটো চোখে
চোখ পড়লে কিছুতেই স্থির থাকা যায় না।

বিস্তারিত»

অকারণে এলোমেলো…

গত কয়েকদিনে বেশ ক’জন প্রাক্তন সতীর্থ, জ্যেষ্ঠ্য-কনিষ্ঠ বন্ধু ও বন্ধুপত্নীদের গুরতর অসুস্থ হওয়া এবং পরপারে চলে যাবার মর্মান্তিক দুঃসংবাদে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে আছে। অনিবার্য মৃত্যু সম্পর্কে পবিত্র ক্বুর’আনে বহুবার আমাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছেঃ “প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যু আস্বাদন করতে হবে” । (সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ১৮৫); “তোমরা যেখানেই থাক না কেন, মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই। যদি তোমরা সুদৃঢ় দূর্গের ভেতরেও অবস্থান কর, তবুও”।

বিস্তারিত»

আমার শহীদ কাদরী

“সহসা সন্ত্রাস ছুঁলো। ঘর-ফেরা রঙিন সন্ধ্যার ভীড়ে
যারা তন্দ্রালস দিগ্বিদিক ছুটলো, চৌদিকে
ঝাঁকে ঝাঁকে লাল আরশোলার মত যেন বা মড়কে
শহর উজাড় হবে, – বলে গেল কেউ – শহরের
পরিচিত ঘণ্টা নেড়ে খুব ঠাণ্ডা এক ভয়াল গলায়
এবং হঠাৎ
সুগোল তিমির মতো আকাশের পেটে
বিদ্ধ হলো বিদ্যুতের উড়ন্ত বল্লম!”

‘বৃষ্টি, বৃষ্টি’ কবিতাটি প্রথম কখন পড়ি মনে নেই,

বিস্তারিত»

নিঃসঙ্গ সঙ্গী

“ও মাঝি! মাঝি ও…!”

যাহ্‌, শেষ নৌকাটাও গেলো চলে!

হতবিহ্বল আমি, ঘাটে দাঁড়িয়ে নিরুপায়,

সামনে এক বিশাল মরা নদী –

পানি যৎসামান্য, নিস্তরঙ্গ,

স্থির ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসী যেন এক!

বাঁধানো সিঁড়ি পাঁজরের হাড়ের মতন

সাক্ষ্য দিচ্ছে-

ক্ষয়ে যাওয়া অতীতের।

কান পাতলেই,

নিস্তব্ধতা ছাপিয়ে ওর দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়-

হুহু করে বলতে থাকে যেন-

“আজও কেউ নেই!”

 

বিস্তারিত»

মুক্ত

লাইন ম্যানেজার আমাকে আমার ডেস্ক দেখিয়ে দিলেন। বিশাল ফ্লোরের একদম শেষ মাথার পশ্চিম কোণের কিউবিকলে। একেকটা কিউবিকলে তিনটা ডেস্ক। আমার চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে খানিকটা ঘাবড়ে গেলাম। আমার কিউবিকলের বাকি দু’জন সহকর্মী নারী। পাশের কিউবিকলের তিনজনই নারী। আমার আগে এ ডেস্ক যার দখলে ছিল তিনিও ছিলেন নারী। দেখে মনে হচ্ছে এখানটায় মেয়েরা নিজেদের বেশ একটা সুরক্ষিত সংরক্ষিত এলাকা বানিয়ে ফেলেছে। আমার অসহায় চেহারা দেখে লাইন ম্যানেজার পিঠ চাপড়ে বললেন,

বিস্তারিত»

স্মৃতি

মানবিক বিভাগের ছাত্র হওয়ায় মানব শরীরের কলকব্জা সম্পর্কে ধারনা অত্যন্ত সীমিত। তারপরও এর বেশিরভাগ অংশের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে সাধারণ কিছু ধারনা আছে। শুধু মস্তিষ্ক কিভাবে কাজ করে সেটা সম্পর্কে প্রায় বকলম। আর এই মস্তিষ্কের কিছু কাজকর্ম দেখে মাঝে মাঝে ওখানে ঝড় তুলেও কূল কিনারা করতে পারি না কিভাবে কি হলো।

টিভিতে এখন বেশ কিছু বাংলা গানের চ্যানেল দেখা যায়। সেদিন মোটামুটি অখ্যাত এক গানের চ্যানেলে হঠাৎ করে একটু সুর শুনে মনে হলো পরিচিত।

বিস্তারিত»

রামসাগর – দিনাজপুর

রামসাগর শুধুমাত্র দিনাজপুর অঞ্চলেরই নয় বরং সারাদেশের একটি অতি পরিচিত আইকন। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্ন-তাত্ত্বিক দ্রষ্টব্যও বটে। বহুল আলোচিত দিনাজপুর রাজবংশের এক অনন্য কীর্তি – রামসাগর। শ্রীমন্ত দত্ত কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এ রাজবংশ সপ্তদশ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও’র বিভিন্ন স্থানে তাদের অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। এ রাজবংশের সব থেকে কীর্তিমান ও প্রসিদ্ধ নৃপতি রাজা প্রাণনাথ। প্রাণনাথের পালক পুত্র রাজা রামনাথও তার পিতার মত ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বিস্তারিত»