নিঃসঙ্গ সঙ্গী

“ও মাঝি! মাঝি ও…!”

যাহ্‌, শেষ নৌকাটাও গেলো চলে!

হতবিহ্বল আমি, ঘাটে দাঁড়িয়ে নিরুপায়,

সামনে এক বিশাল মরা নদী –

পানি যৎসামান্য, নিস্তরঙ্গ,

স্থির ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসী যেন এক!

বাঁধানো সিঁড়ি পাঁজরের হাড়ের মতন

সাক্ষ্য দিচ্ছে-

ক্ষয়ে যাওয়া অতীতের।

কান পাতলেই,

নিস্তব্ধতা ছাপিয়ে ওর দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়-

হুহু করে বলতে থাকে যেন-

“আজও কেউ নেই!”

 

চারপাশে তাকাতেই-

একরাশ অন্ধকার আমায় আলিঙ্গন করল ।

খুশি হয়ে ভাবলাম,

“যাক, একা আমি নই তাহলে?”

পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল সে তারপর।

প্রাচীন সেই সঙ্গীর থেকে শুনলাম,

আলো যেদিন আলোর প্রেমে আলো হবে বলে চলে গেলো,

আঁধার মাড়িয়ে-

রাতঘুম আর স্বপ্নের মূল্যে

– সেই গল্প।

 

হাঁটতে হাঁটতে-

একটা খোলা মাঠে এসে দাঁড়াতেই,

আমার সেই সঙ্গীটি উধাও!

ডেকেও যখন আর সাড়া পেলাম না,

মন খারাপ করে ভাবছি-

“একাকীত্ব বুঝি একেই বলে?”

তখনই সহস্র জোনাকি পাখা মেলল আমায় ঘিরে,

হাত বাড়াতেই উড়ে গিয়ে বসলো মেঘের উপর।

এক আকাশ নক্ষত্র জড়িয়ে তখন

শুয়ে পড়লাম ঘাসের উপর।

ঘাসেদের আদিম গন্ধে মেতে,

একটা ঘাসফড়িঙের সাথে খুনসুটি করতে করতে

ঘুমিয়ে পড়লাম এক সময়।

 

ঘুম ভাঙলে পর-

আর খুঁজে পেলাম না ঘাসফড়িঙটাকে,

নক্ষত্রও মিলিয়ে গেছে কখন!

ভাবলাম,

“এখন কি একা আমি?”

আমার হাহাকারটুকু ঘাসের উপর

শিশিরবিন্দু হয়ে জমতেই,

ওর সাথী হল এক টুকরো রংধনু।

সূর্যদেব কে প্রণাম করে আমিও উঠে পড়লাম-

ঘাটে পৌঁছতে হবে রাতের আগেই।

হয়তো কেউ আমার মত দাঁড়িয়ে একা-

বার্তাটুকু জানিয়ে যাবো তাকে।

২,৯৫৬ বার দেখা হয়েছে

৬ টি মন্তব্য : “নিঃসঙ্গ সঙ্গী”

  1. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    চমৎকার শিরোনামে চমৎকার কবিতা। ভালো লেগেছে।
    নিঃসঙ্গতা যখন সঙ্গী, অন্ধকার যখন পথ দেখায়, নিস্তব্ধতা ছাপিয়ে যখন কারো দীর্ঘশ্বাস শোনা যায়, একাকীত্বে যখন সহস্র জোনাকি পাখা মেলে, হাহাকারের সাথী হয় যখন এক টুকরো রংধনু, তখনই বুঝি কবির কলম থেকে অবলীলায় এমন কবিতা ঝরে!

    জবাব দিন
  2. আহসান আকাশ (৯৬-০২)

    কবিতা বুঝি না, তবে কিছু কিছু কবিতা পড়ে ভাল লাগে, এটাও লাগলো


    আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় হাহাকার
    আমি সব দেখে শুনে, ক্ষেপে গিয়ে করি বাংলায় চিৎকার ৷

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।