আমার বন্ধু লুবনা

কলেজে থাকাকালীন সময়ে আমি কখনই লুবনার প্রিয় বন্ধু ছিলাম না। লুবনা বরং আমাকে মারতো সময় সুযোগ পেলে। মার্চ পাস্ট করে একাডেমিক ব্লকে যাচ্ছি তো লুবনা আমার অক্সফোরড শু খুলে দিলো লাথি মেরে। সাইডে বসে জুতো পরছি, ও এমন একটা লুক দিল যে মনে হতো দেখিস একদিন আমিও… সেই একদিন কখনোই আসে নাই ক্যাডেট কলেজে থাকাকালীন সময়ে। অনেক কারিগরী করে দুই ইঞ্চির একটা বিনুনি করলাম চুলে,

বিস্তারিত»

তুমি আমার বধু নও কেন?

তুমি আমার বধু নও কেন?
———————-ড. রমিত আজাদ

বিচ্ছেদের সহস্র যোজন দূরত্ব থেকে, তোমাকে অবলোকন করার একমাত্র অবলম্বন
আকাশ-প্রযুক্তির মোহময় পটভুমিতে, প্রস্ফুটিত পদ্মের মতো ফুটে থাকা
তোমার ঐন্দ্রজালিক প্রভাচিত্রে কি এক দুর্নিবার পূর্ণিমার স্ফুরণ!
তোমার অসিক্ত বসনে সমুদ্রের উদ্বেল নীলাভ ঢেউয়ের কি এক অদ্ভুত আকর্ষণ !
এ যেন ঘন তমসার রহস্যময় রজনীতে গভীর ঘুম থেকে ডেকে তোলা
ডাকিনী নিশির মোহনী সম্মোহন!

বিস্তারিত»

আলাপনঃ দুই

– বাবার পাঞ্জাবীর নীচে ন্যাপথলিনের সুবাস মাখা একটি বাজুবন্দ সযতনে রাখা আছে এখনো। মায়ের স্মৃতির এই গয়নাটি ঘুমোয় অনন্তের ঘুম আর আমি অনন্ত তৃষ্ণা নিয়ে অপেক্ষা করি তোমার। চায়ের আড্ডায় চকিতে কোন হরিণ চোখে চোখ পড়তেই মনে হতো আহা! এই কি সেই মেয়েগো, যাকে খুঁজে ফিরছি আজন্মকাল?

– একই শহরের আলো হাওয়ায়, একই রোদ জল, রংধনু আর ছুটে যাওয়া তারাদের দেখেই আমাদের বেড়ে ওঠা,

বিস্তারিত»

কেন আমি বিশ্বাস করি মালালা ই নোবেল শান্তি পুরস্কার এর যোগ্য বিজয়ী

Social conformity বলে একটা টার্ম আছে সাইকোলোজি তে। চারপাশের মানুষদের কথাবার্তা, আচরণ ও অভিমত অনেক সময় আমাদের নিজেদের অজান্তেই আমাদের অপিনিয়নকে প্রভাবিত করে.. মালালা নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর আমার ফেসবুক নিউজফিডে ঢুকে এই কথাটাই মনে হলো.. হতে পারে মালালা পাশ্চাত্য মিডিয়া ও বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছ থেকে অনেক পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে, তার মানে এই না যে এতে তার অর্জন খাটো হয়ে গেছে।গেছে।ক্রিটিকালি চিন্তা না করে সব কিছুকে জেনারালাইজ করে ফেলাটা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে।

বিস্তারিত»

এমন একটা সময় ছিল

এমন একটা সময় ছিল

এমন একটা সময় ছিল – মায়াবী রাত নিঝুম ছিল
তখন আকাশে ছিল তারা – চাঁদের আলোর ফোয়ারা।
তোমার হাতে এই হাত ছিল – হৃদয়ে গুন্জন চলছিলো
নীরবে এই মন নিয়েছিলে – কেন তা ফিরিয়ে দিলে?

চাঁদ আছে আকাশে
নীরবতা বাতাসে
সবকিছু আগের মতো
শুধু তুমি নেই আমার পাশে,
তোমার-আমার পথ আজ চলে গেছে
দূরে কোথাও সীমাহীন অজানায়।

বিস্তারিত»

কিভাবে কাউফি থুক্কু সেলফি তুলবেন

ব্যাটা ছেলে নিজের রুমের খাট কাটা শুরু করলে বাবা-মা যেমন সহজেই জেনে যায়, পুত্র বিবাহ করিতে ইচ্ছুক-ঠিক তেমনি আমরা সেলফি ছবি দেখলেই বুঝতে পারি ইহা সেলফি ছবি।
সেলফি ছবির ইতিহাস, নামকরণের যথার্থতা কিম্বা সেলফি- নন সেলফি ছবির পার্থক্যের ছক দিয়ে পাঠকের বিরক্তির উদ্রেক করিব নাহ।

নানান কারন থাকতে পারে, নানান মত থাকতে পারে তবে সেলফি জ্বরের মূল কারন অন্যকে ছবি তুলে দেবার জন্য বিরক্ত না করে নিজেই নিজের ছবি তুলে নেয়া গেলো।

বিস্তারিত»

ঈদ মুবারক (অনুব্লগ)

৪ অক্টোবর ২০১৪। বেলা ৩টা। বাড়ি যাবার জন্য অটো ঠিক করতে বের হচ্ছি । দরজা খুলতেই দেখি, জুতোজোড়া হাওয়া। বাড়ি যাবার আগেই কুরবানি হয়ে গেছে। অগত্যা স্যান্ডেল পায়ে বের হওয়া। বার্মা থেকে আগত এই পাদুকা যুগল অং সান সুকীর মত দীর্ঘ সংগ্রামে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। রাজপথে সারমেয়দলের কার্তিকপূর্ব বেহায়াপনা আর সদন্ত গর্জন। চৌদ্দ হুলের হলাহলশংকামুক্তার্থে ত্রস্ত পদচারণ।অতঃপর কুড়ি কদমদৈর্ঘ্য অতিক্রমের পূর্বেই পটপট শব্দে পাদুকাযুগলের প্রতিবাদী আত্মহনন।

বিস্তারিত»

একরাতে – মিশিগানের পথে

ওই দ্যাখো,
হাইওয়ের শেষে
চাঁদের হঠাৎ উল্লম্ফন!
বুনো ঝাড় আর
দুর্বিনীত-লজ্‌ঝরে ট্রাকের
গা বেয়ে আকাশে
উঠে আসে
একটিমাত্র লাফে’

বিস্তৃত পথ তখন নদী হয়ে গেলে
হরিণেরাও
ত্রস্ত থাকেনা আর।
দী-ঈ-র্ঘ দী-ঈ-র্ঘ পায়
জলাভূমি ঠেলে
এপার ওপার করার
দুর্মর বাসনায়
তাদের চন্দ্রাহত চোখ
খানিক
জুলজুল করে উঠেই –

বিস্তারিত»

টুকরো কবিতা ও গান অথবা জীবন থেকে কেঁটে নেয়া ফ্রেম

আমি তোমার দূরে থাকি কাছে আসবো বলে

অনেকবারের চেষ্টাতেও কখনও তার কথা বলা যায় নি। হয়তো আসলে বলবার মত তেমন কিছু ছিলও না। তার মৃদু সঞ্চারণের পাশে বিকেলের বয়ে চলা দেখেছি প্রতিনিয়তই। এর বেশি কখনও বলতে পারতাম? রবীন্দ্রনাথের গল্পের নায়িকাদের মত বিশেষত্ব তার নেই এই কথা অবশ্য বলা যায়। তারপরেও সে আমার নজরে এসেছিল মূলত তার নির্লিপ্ততার জন্য। তার মধ্যে এক ধরণের পাগলামি ছিল।

বিস্তারিত»

আহ, হিপোক্রেসি!

ব্যক্তিগত ভাবে মানুষের যে দোষগুলিকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি তার তালিকায় হিপোক্রেসি একদম উপরের দিকেই থাকবে, সে কারনে সব সময় চেষ্টা করে এসেছি নিজেকে এর মুক্ত রাখতে এবং এই দোষে দোষান্তিত মানুষদের থেকে দূরে থাকতে। কিন্তু এর কোনটিই শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়নি। নিজে হিপোক্রেসি মুক্ত থাকার আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিছুটা হয়ত সফল ও হয়েছি কিন্তু হিপোক্রেটদের থেকে দূরে থাকার প্রচেষ্টায় রীতিমত ব্যর্থ। বাস্তব জীবনে বিভিন্ন অনিবার্য কারনে অনেক হিপোক্রেটদের সাথেই হাসি মুখে কথা বলতে হয় আর ভার্চুয়াল জগতে বন্ধু তালিকায় ছাকনি চালাতে চালাতে ঠগ বাছতে গা উজাড় হবার উপক্রম হলেও খোমাখাতা হিপোক্রেসি ভরপুর।

বিস্তারিত»

জ্ঞান দিতে পয়সা লাগে না

কিছু মানুষ আছেন যাঁরা সুযোগ পেলেই উদার হস্তে জ্ঞানদান করতে মেতে ওঠেন, তা সে ব্যাপারে তাঁর জ্ঞানের দৌড় যত সীমিতই হোক না কেন। জ্ঞান দিতে তো পয়সা লাগে না, জ্ঞান থাকাও লাগে না! আমি এঁদেরকে খুব যত্ন সহকারে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। তারপরেও মাঝে মাঝে এঁদের খপ্পরে পরতে হয়। যেমন সেদিন, সন্ধ্যায় ব্যাডমিন্টন খেলার পরে আড্ডার মাঝে কথায় কথায় সাঁতার কাটার প্রসঙ্গ এল। আমি বললাম যে,

বিস্তারিত»

আলাপনঃ এক

– এই চুপ! কথা নয় একটিও! শুষে নিতে দাও তোমার গোলাপ ঠোঁটের রঙ

– আহা! যেন খাও নি কখনো! আজই যেন তোমার প্রথম পাঠ?

– খেয়েছি, কিন্তু প্রতিবারই তোমার ঠোঁট নতুন মনে হয়। কখনো শ্রীমঙ্গলের কমলালেবুর মত রসে ভরা, আবার কখনোবা ক্লেমেন্টাইনের মত, আলাদা এক একটা কোষ যেন সযত্নে মোড়া সোনালী রাংতায়। মাধুরী, কী আছে বলো তোমার ঐ ট্যাঞ্জারিন ঠোঁটে?

বিস্তারিত»

প্রবাসে প্রাকৃতজন: যাত্রা পর্ব – The Exodus

আমার দাদা ছিলেন ভ্রমন পিপাসু একজন দরবেশ টাইপের মানুষ। এমনকি তিনি পায়ে হেঁটে সুদূর মক্কা পর্যন্ত গিয়েছিলেন হজ্জ আদায় করতে। আমার বাবা এক্ষেত্রে একেবারেই বিপরীত, তিনি জীবনেও বাংলার বাইরে কোথাও যাননি। আমিও পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি  টানা তেত্রিশ বছর পর্যন্ত। কল্পনায় চষে বেড়িয়েছি সারা বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড অথচ বাংলার বাইরে কোথাও এক পাও ফেলা হয়নি । কলকাতা আর দার্জিলিং গিয়েছিলাম বৈকি – কিন্ত তাওতো ঘুরে ফিরে ওই বাংলার মধ্যেই।

বিস্তারিত»

একটি স্বপ্ন দৃশ্য

ধান খেতের পাশে ছোট্ট একটা কুঁড়েঘর। রোয়াকে মাদুর পেতে ভাত খেতে দিয়েছ তুমি। সামনে দস্তরখানায় গরম বিরুই চালের ভাত। ধোঁয়া উঠছে। সাথের আয়োজন সামান্যই। টেংরা মাছের ঝোল জলপাই দিয়ে। বৈলর হাটের লাল লাল জাম আলুর ঝাল ঝাল ভর্তা। ছোট একটা পিরিচে আছে কালো জিরা ভর্তাও। আমি বললাম,

তুমি খাবা না? তুমিও বহ আমার লগে।

কিছু না বলে তুমি একটা তালের পাখা নিয়ে হাওয়া করতে বসলে।

বিস্তারিত»