দোদুল্যমান

০১

জানালার পাশে বসে মাজেদ সাহেব আমলকী খাচ্ছেন আর রাস্তার খাদের আটকে থাকা পানিতে চড়ুই পাখির গোসল দেখছেন, একটুখানি একটা পাখি অথচ এর থেকেও ছোট তার মুখ, সেখানে কি সুন্দর করে খোদাই করা নাক, ঠোঁট, চোখ। নিজের অজান্তেই মাজেদ সাহেবের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো ” ফাবি আইয়া আলা রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান” – অতপর তোমরা সৃষ্টিকর্তার কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

মাজেদ সাহেব অনেকদিন চাকরী করেছেন,

বিস্তারিত»

অণু ব্লগঃ দুই

ডুরাভিলে আমাদের বাড়ীতে একটা কাঁচের ছাদওয়ালা ঘর ছিল। আমি বলতাম আমার মেঘের বাড়ী। আবহাওয়ার খবর না শুনেও আমি সেই ঘরে বসে টের পেতাম মেঘের ডমরু অথবা মধ্য রাতের ঝুম বৃষ্টি। আকাশের রাগ, অভিমান, উল্লাস অথবা চীৎকারে বা শীৎকারে আমার আশ্রয় সেই কাঁচের ঘরটি। টিনের চালে বৃষ্টির কান্না শোনা মানুষ আমরা, আমাদের কি আর মন ভরে কাঁচের চালের বৃষ্টিতে? আমার কিন্তু মন ভরতো ঐ টুকুতেই। বৃষ্টি নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ভাবালুতা আমার কোন কালেই ছিল না।

বিস্তারিত»

লক্ষ্যভ্রষ্টার লক্ষ্যভেদ? নাকি লক্ষ্যভেদীর লক্ষ্যভ্রষ্ট?…

“লক্ষ্যভ্রষ্টা” – বাবামা শখ করে কেনইবা এমন অদ্ভূত একটা নাম রেখেছিলো তার? লক্ষ্যভ্রষ্টা নিজেও সেটা আবিষ্কার করতে পারেনি এতকাল। দেখতে অপরূপাই সে। সঙ্গত কারণেই অহম তার সঙ্গী হলেও সেটা ছিলো অনাবিল। সব কিছুই তো উদ্দাম চলছিলো, যেমনটা চলবার কথা। কিন্তু গত বছর দুয়েক হলো লক্ষ্যভ্রষ্টার বাবামা অনেক চেষ্টা করেও কিছুতেই যেন ওর বিয়ে দিতে পারছিলেন না। কন্যাদায়গ্রস্থ পিতামাতা মোটেও নন তারা। ধনী বাবামার একমাত্র কন্যা সে।

বিস্তারিত»

প্রেমের পদ্য

গালের টোলে কাব্যদীঘি
চোখের কোলে মুক্‌তো
ঠোঁটের কোণে হাসির রকম
বোঝা বড় শক্ত।

কপট ক্রোধে গভীরতর
গণ্ডদেশের লাল
জানান দেয় ভালোবাসায়
জিভ ছোঁয়ালেই ঝাল।।

———————————————————-
অন্তত বছর কুড়ি তো হবেই। ছন্দ মিলিয়ে মোটামুটি দীর্ঘ একটা কিছু লিখেছিলাম।
তার থেকে এ ক’টা লাইনই মনে আছে। সিসিবিতে প্রেমের পদ্যের জোয়ারে
আমিও খানিক ভেসে গেলাম না হয়।

বিস্তারিত»

দেহ-কাব্যের পাঠ

দেহ-কাব্য-১

এক এক সময় ঝড়ের মতো আঙ্গুল চলে টাচস্ক্রীনে, কী বোর্ডে-
ঠিক যেমন ঝড়ের মতো আঙ্গুল ঘোরে ওষ্ঠ ছোটে , তোমার দেহে,
বর্ণ গুলো শব্দ গড়ে, শব্দ গুলোয় ভাব
স্পর্শ গুলো আদর গড়ে, আদরে উত্তাপ।

আবার যখন ভাবছি কিছু,
টকাস করে জেগে ওঠে স্ক্রীন-সেভারের মুখ
ঠিক যেমনই খুজছি পিছু,
টকাস করে খুলে আসে ব্রেসিয়ারের এর হুক-

এরপরে কি যায় আর যে সে পদ্য লেখা?

বিস্তারিত»

টিউটোরিয়ালঃ কীভাবে ফোন হারিয়ে গেলে পুরাতন নাম্বার ফিরে পাবেন।

বেশ কয়েকদিন পরে ব্লগে লিখতে আসলাম। এর মধ্যে মোবাইল চুরি যাওয়াতে সবার নাম্বার হারিয়ে ফেলেছিলাম। একটু চেষ্টা করে GOOGLE থেকে সেগুলো আবার উদ্ধার করেছি।

অনেকেই হয়তো গুগল এর “Account sync” সম্পর্কে জানেন এবং নাম্বার হারিয়ে গেলে কিভাবে ফিরে পেতে হয়, তাও জানেন। যারা জানেন তাদের এই ব্লগ পড়ে সময় নষ্ট করার দরকার নাই।

যারা জানেন না তারা দেখতে পারেন।

বিস্তারিত»

ভাই রে ভাই!

আমি তখন অনেক ছোট, খুলনা শহর তখনও সিটি কর্পোরেশন হয়নি। তো, সেবার খুলনা পৌরসভার ইলেকশনে আমাদের পাশের বাড়ীর দবীর চাচা(ছদ্মনাম) কমিশনার পদে দাঁড়ালেন। তাঁর মার্কা হল উড়োজাহাজ, এরোপ্লেন। খুলনার আঞ্চলিক টানে অনেকেই বলতেন “আইরো পেলেন” – মানে বাঁকা প্লেন, কিছু দুষ্টু লোকেরা আবার ওটাকে “আইঢ়ে পেলেন” বলেও ডাকতেন (একথার অর্থ এখানে লেখা যাবে না)।

প্রতিদিন বিকালে পাড়ার ছেলেপুলেরা “তোমার ভাই – আমার ভাই,

বিস্তারিত»

Mocha উইথ আ ‘k’ ফ্রম মিশিগানঃ ২য় সংস্করণ

(১) কাস্টডিয়াল সার্ভিসের সহকর্মীরা একজন বাদে সবাই মার্কিনি। বয়সের হিসেবে ওরা সবাই বেশ ছোট বলা চলে। ১৯৯৪ সালে গায়ে ১০৪ ডিগ্রী জ্বর নিয়ে যখন প্রথমবারের মত ব্রাজিল-ইতালীর ফাইনালে “অনেকগুলো পেনাল্টি” দেখছি তখন ওদের অনেকেই হয়তো মায়ের কোলে হাস্যোজ্জ্বল ১৬-১৮ মাসের শিশু। প্রতিদিন আমার খাবারে গন্ধ শুঁকে বায়না ধরলো কিছু একটা বানিয়ে নিয়ে আসতে হবে। কষ্ট করে হলেও কাবাব বানালাম। বাসাবাড়িতে মায়েরা সেদ্ধ মাংসের যেই কাবাব বানায় সেটি।

বিস্তারিত»

খপ্পরে পড়া

আমাদের কলেজ জীবনে বন্ধুদের মাঝে “খপ্পরে পড়া” নামে একটা বাগধারা বহুল প্রচলিত ছিল। প্রচলিত বাংলায় কথাটি এক ধরনের বাজে, নেতিবাচক এবং ক্ষেত্র বিশেষে নোংরা অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন “ছিনতাইকারীর খপ্পরে পড়া”, “নারীখেকোর খপ্পরে পড়া” কিংবা “বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে পড়া”, ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের কাছে কথাটা সাধারণ্যে প্রচলিত অর্থের চেয়ে অনেক খানি ভিন্ন, কোন প্রকার নোংরামির সংশ্রবহীন, কিছুটা তামাসা মিশ্রিত মজাদার একটা অর্থ বহন করত। অনেক সময় “জীবনে একটু বৈচিত্র আনার আশায়”

বিস্তারিত»

দিন যায় কথা থাকে-৩

মহাশয় হাউজ কাঁপিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠেন “চিয়ারের পাইয়া ধরে শুয়ে পড় বাপু ” অগত্যা হারাধনের তিন ছেলে নীল রঙা স্লিপিং ড্রেসে রঙ চটা সবুজ কার্পেটের জমিনে নিজের বুক বিছিয়ে দেয়, শক্তহাতে চেয়ারের পায়া ধরে দাঁত চেপে অপেক্ষা করে, শাল কাঠের বেতের বাড়ি খাওয়ার জন্য। ঘাস পোকাকে আমরা শয়তানের ঘোড়া বলতাম, গরমকালে যখন শয়ে শয়ে শয়তানের ঘোড়া আমাদের নাগালে এসে ধরা দিত, ধরে ধরে আমরা ভার্জিনের ক্যান ভর্তি করতাম।

বিস্তারিত»

বনজোভির “ইটস্‌ মাই লাইফ” – শোনার পর

কারো অন্তিম যাত্রায় যতবার গোরস্তানে গিয়েছি
সব কাজ ফেলে রেখে
কেবলই শবভোজী পোকাগুলোর সাথে গল্প করতে,
আড্ডা জমাতে ইচ্ছা হয়েছে প্রবল।

ওদের কাছে যে অনেক প্রশ্ন আমার –

ওদের কাছ থেকে জানতে ইচ্ছা হয়েছে বার বার:
এই টাটকা লাশটির চর্ম-মাংশ-অস্থি-মজ্জার
ঠিক কোন কোন অংশ
কতটা প্রিয়, তাদের কার?

ওদেরও হয়তো পরিভাষা আছে,
মানব শবের
রান-থান-সীনা-নলী-গিলা-কলিজা
বর্ননার।

বিস্তারিত»

অনুব্লগঃ বেবীবুম

শোনা যায়, যে যে বছর বিশ্বকাপ হয়, তার পরবর্তি বছরের মার্চ-এপ্রিলে নাকি পৃথিবী জুড়ে বেবীবুম ঘটে।

আদর করে অনেকে এই বেবীগুলোকে “ওয়ার্ল্ডকাপ বেবী” বলেও ডাকেন।

***     ***   ***   ***

গত সপ্তাহে যুদ্ধোপরাধের রায় নিয়ে একের পর এক যেভাবে হরতাল চলছে, তাতে আগামি বছর জুলাই-এর দিকে আরেকটা বেবীবুম দেখা দিলে তার দায় নেবে কে?

মাননীয় স্পীকার, সংসদের কাছে প্রশ্ন –

বিস্তারিত»

নোনাজল

এই পুষ্পনগরীতে

একদিন বিচরণ ছিলো আমাদেরও।

সন্ধ্যার মেঘমালায়

বুকে মাথা রেখে

কান্নায় ভাসাতাম

কত রাত!

 

রাতজাগা দুটি পাখি

অনায়াসেই নির্ঘুম অপেক্ষায়

গুনতো ক্লান্তিহীন প্রহর।

 

ভোরের অন্ধকার মাড়িয়ে

একরাশ আলো নিয়ে সাথে

ফিরতাম রোজ  তার কাছে –

পথ চেয়ে থাকা

নিষ্পলক চোখের নোনাস্রোত তার

যখন যেতো শুকিয়ে!

বিস্তারিত»

অ-দাস

দাসত্ব আমাদের সমাজে একটা ঋণাত্বক শব্দ। চিন্তায়, কাজে, এমনকি শরীরেও আকণ্ঠ দাসত্বে ডুবে থাকা একটা মানুষও চিন্তা করার সময় “দাসত্ব” ব্যাপারটাকে খারাপ হিসেবে জানে। যদিও তাদের কাছে “দাসত্ব” আসলে যে কি বস্তু, খায় না মাথায় দেয় সেটা পরিষ্কার না। আবার মজার ব্যাপার হল এই লোকগুলাই আবার “অ-দাসদের” সন্দেহের চোখে দেখে, একটা ঘিনঘিনে অবজ্ঞার ভাব নিয়ে অ-দাসদের দিকে তাকায়, দাসের মগজ দিয়ে ওদেরকে ঠিক বুঝা যায়না কিনা।

বিস্তারিত»

ফরিয়াদ

আধা বর্বর থুড়ি আধা পরিবাহী
তড়িচ্চুম্বকীয় আবু গারিবের ফরিয়াদ
কানে তোলো কিচিরমিচির
এত কষ্ট দিও না নিউরন রেটিনাকে
ক্যাথোড গামা কাপড় খুলে
এলইডি পরালেই চলবে না
অবরোধ তুলে নিতে হবে
ঘাস ফুল মৌমাছি থেকে
নির্বাসন থেকে ফিরিয়ে আন
ফড়িং আর সব প্রজাপতি।

বিস্তারিত»