জীবনসঙ্গিনী না হলে, মর্মসঙ্গিনী হও

জীবনসঙ্গিনী না হলে, মর্মসঙ্গিনী হও
—————————- ড. রমিত আজাদ

ওরা জানতে চেয়েছিলো,
“তুমি কি কাউকে ভাবো কল্পিত তব, তোমার কাব্য লেখনে?”
“উদাস হয় কি তোমার তামসী কবিমন কাহারো হৃদয় মননে?”
আমি দৃঢ়চিত্তে ওদের বলেছিলাম,
ভাসাইনা আমার কবিতার তরী, কাহারো ভাবনার জলে,
কারো অবয়ব ভাসেনা আমার কবিতার মায়াজালে।”

আমি ওদের মিথ্যে বলেছি প্রিয়া,
এই অতৃপ্ত মানসে তৃষা-জাগানিয়া,
কবে কোন কবি বলো,
লিখিয়াছে কেবল আপনার লাগি তাহার কবিতাগুলি?
মনের হরষে, আপন গরজে সাজিয়েছে পদাবলী?
মনোহর কেউ যদি মননে না রয়,
সেই কবিতা কি কভু সুকুমারও হয়?
যতক্ষণ যত কবিতা লিখি, জানি আমি জানি কবি,
ততক্ষণ আমার সমুখে ভাসে কেবলই তোমার ছবি।
কবিতার আখর-শব্দে, বাক্য-বাচনে
কথায়-কহনে, ভাষায়-ভাষণে
নিরলস ভাসে তোমার সরসী
নয়নের শোভা মনের সুরভী,
বাগানের ফুল গোলাপের গন্ধে
মনের ময়ুর নাচে কবিতার ছন্দে।

একি শুধু আমিই জানি?
কেন তুমি কি জানোনা? বোঝ না?
‘তুমিই আমার রাণী’।

যতই বলোনা কেন আমাকে গিয়েছ ভুলে,
অনেকদিন আগে পড়া কোন এক গল্পের মতো।
ঢাক-ঢোল পিটিয়ে যতই ঘটা করে
বলোনা তীব্র কন্ঠে কত
আমি বিশ্বাস করিনা!

ঐ উরাল-আন্ডিজ-এর সুউচ্চ-কঠিন পর্বতরাজী
সমতলভুমি হয়ে গেলেও আমি বিশ্বাস করিনা,
সাগানো, মন্টেভের্দে কিংবা আমাজনের সকল বৃক্ষরাজী
পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেলেও আমি বিশ্বাস করিনা।
অতলান্তিক-প্রশান্ত কিংবা কোরাল সাগরের উত্তাল সব ঢল
মানস সরোবর, নিয়াসা বা চন্দ্রার টলমল সব জল
প্রচন্ড উত্তাপে বাস্পিভুত হয়ে গেলেও, আমি বিশ্বাস করিনা।

বলতো, এই পৃথিবীতে কবে কে ভুলতে পেরেছে প্রথম প্রেমের স্মৃতি?
বিদ্যুৎশিখা অকস্মাৎ অন্ধকার চিরে জাগিয়ে দেবে এই তো চিরকালীন রীতি,

সেই স্মৃতি নিয়েই তো কবিতা লিখি,
বাসনার অন্তরালে বসি
হৃদয়ের মায়াডোরে চলে কথামালার জালবোনা,
কাব্য পংক্তির বাহুডোরে সাজে বিরহের বেদনা।
আমি সব প্রলোভন ত্যাগ করতে পারি প্রিয়তমা সুদূরিকা,
কেবল ত্যাগিব না তোমার স্মৃতি ওগো চির দূরে থাকা।

প্রিয়তমা আমার,
আমি অনুরোধ করবো,
আমার লেখা কবিতাগুলো পড়ো,
কাব্যসুধার অশ্রুলেখায় আমাকে আবিষ্কার করো,
শাওনো-তিথিতে, বসন্ত-নিশীথে, চম্পক-বনে, খোলা বাতায়নে,
থেমে থেমে, থেকে থেকে, জেগে জেগে ওঠে হৃদয়ের তৃষা,
আমার অভাবে কবিতার ভাবে খুঁজে নিও তবে নতুন পথের দিশা

প্রিয় দূরে গিয়ে আরো প্রিয় হয় জেনো,
প্রথম হাসির প্রথম প্রনতি,
প্রথম প্রেমের প্রথম অনুভূতি,
চিরায়ত হয় মেনো ।
সুরের আসরে, ফুলের বাসরে,
সোনার আখরে, বিবশ প্রহরে,
ওগো বিস্তরি, সুরের লহরী,
স্নিগ্ধ নহরী, স্বপ্ন-সহচরী
জড়িয়েছিলাম সত্য তোমারে সুমধুর প্রণয়ের ডোরে,
বাঁধিতে পারিনি তোমায় কেবল পরিণয়ের মালাডোরে

সুহৃদ আমার, শুভার্থী আমার,
প্রণয়ী আমার, প্রিয়তমা আমার,
নাই বা হলে তুমি জীবনসঙ্গিনী, আমার বাটিকা-গৃহের,
বাতাসে খুলিয়া রাখী,
অন্ততপক্ষে হও মর্মসঙ্গিনী, আমার কবিতারাজীর
আকাশে মেলিয়া আঁখী।

৫৯৬ বার দেখা হয়েছে

৭ টি মন্তব্য : “জীবনসঙ্গিনী না হলে, মর্মসঙ্গিনী হও”

  1. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    একেবারে পুরনো ঢঙে, পুরনো ভাষায় লেখা। একদম টানেনি প্রথমে।
    কিন্তু সেই prejudice টাকে সরিয়ে যেই পড়তে শুরু করলাম, খুব ভালো লাগতে শুরু করলো।
    ছন্দ এবং অনুভূতির অপূর্ব সমাহার।

    পর্বত-, বৃক্ষ-, কবিতারাজি তে মনে হয় হ্রস্ব ই-কার হবে। আঁখিতেও।
    অথবা আপনি কি পুরনো বানানরীতিই অনুসরণ করলেন? আগে কি দীর্ঘ ঈ-কার ছিল?

    জবাব দিন
  2. রাজীব (১৯৯০-১৯৯৬)

    অনেক দিন ধরে আপনাকে বলবো বলবো ভাবছি রমিত ভাই।
    প্লিজ অন্যভাবে নিয়েন না।
    আপনার কবিতার নাম এর নিচে ড। রমিত আজাদ না লিখে শুধু রমিত আজাদ লিইখেন।
    এমন না যে কবিরা ড হতে পারবে না।
    আর সেভাবে বললে তো কবিতার উপর অনেকেই ড করে।
    কিন্তু কবিতা পড়তে গেলে কবির নামের আগে ড দেখলে একটা ধাক্কা লাগে।
    একান্তই ব্যক্তিগত অভিমত।
    আশা করছি আপনি মাইন্ড করেন নি।
    :frontroll:


    এখনো বিষের পেয়ালা ঠোঁটের সামনে তুলে ধরা হয় নি, তুমি কথা বলো। (১২০) - হুমায়ুন আজাদ

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।