গল্পটা একটু অন্যরকম হতে পারত

গল্পটা একটু অন্যরকম হতে পারত।
হ্যা। একটু অন্যরকম।

রাতুল বেশ কিছুক্ষণ ধরে বসে আছে করিডোরের বেঞ্চে।এমনিতে অনেক অশান্ত প্রকৃতির। কিন্তু আজ ওর অপেক্ষা করতে একটুও খারাপ লাগছে না। বরং বুকে একরাশ আশা। অনেক স্বপ্ন। মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রাকটিস গ্রাউন্ডের পাশে বসে আছে। দূর থেকে দেখছে তার সেই স্বপ্নের মানুষ গুলোকে প্রাকটিস করতে। ও এসেছে বোলিং ট্রায়াল দিতে। ছোটবেলা থেকেই খুব ভাল ক্রিকেট খেলে।

বিস্তারিত»

গোয়িং বাটন

সকালে খবরের কাগজে চোখে পড়েছিল, আজ চৈত্রের ২৩ তারিখ।

রাস্তায় বেরিয়ে ‘চৈত্র’ শব্দটা আবার মাথায় উঁকি দিল। কাঠফাটা গরম পড়েছে। এমন আগুনগরম দুপুরে হলুদ পাঞ্জাবী পরা হিমুরা ঘোরের জগতে চলে যায়। আমি হিমু নই, এই নারকীয় মধ্যাহ্নের ভেতর মহাকাব্য খোঁজার চেষ্টা আমার কাছে অনাবশ্যক বিলাসিতা। অসহ্য লাগছে… একটা রিকশা পেলে মেয়েদের মত হুড তুলে চলে যেতাম।

অবন্তী মেয়েটা আসলে পাগল আছে!

বিস্তারিত»

সেইসব গল্পঃ এক

মেঘ ক’রে আসে চারিদিকে। বুক ভরা জল নিয়ে চুপ ক’রে বসে থাকে। বৃষ্টির ধারা হয়ে নেমে আসে না। প্রিয় কবি রুদ্র-এর কবিতা মনে পড়েঃ
“এলে মনে হয় তুমি কোনদিন আসতে পারোনি।
চলে গেলে মনে হয় তুমি এসেছিলে,
চলে গেলে মনে হয় তুমি সমস্ত ভুবনে আছো।”
কী অদ্ভুত এই মন দখল ক’রে নেবার খেলা, দখল ছেড়ে দেয়া, দখল বুঝে নেয়া, কিংবা কোনদিনই দখল না পাওয়া!

বিস্তারিত»

নিশাতের গল্প


এক রাশ বিরক্তি নিয়ে ঘুম ভেঙ্গেছে আজকে নিশাতের। রুমে বড় বড় জানালা দিয়ে আসা রোদে চারিদিক আলোকিত, হাত বাড়িয়ে ফোন অন করতে গিয়ে মনে পড়লো আগের রাতে চার্জশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে গেছিল। কয়টা বাজে জানার উপায় নেই। রুমে কোন ঘড়ি নেই, না না আছে। কিন্তু মেরামতের অভাবে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিকল পড়ে আছে। বিছানায় শুয়ে শুয়েই নিশাত ভাবতে শুরু করে ওর রুমে কোন ক্যালেন্ডারও নেই।

বিস্তারিত»

ভবঘুরে আর ইতালিয়ান বৃদ্ধের গপ্পো

বঙ্গসন্তানের ইউরোপ আগমনকে অকাল বৈধব্যের সহিত তুলনা করা যাইতে পারে। কেননা – স্বদেশের নিমিত্তে দীর্ঘশ্বাস ক্ষেপনের কোন ইয়ত্তা থাকে না। যাহাই সামনে আসুক না কেন, স্বদেশের প্রেক্ষাপটে উহা কী রূপে করা যাইত – তাহা ভাবিয়া কালক্ষেপণ করা নিত্যকর্ম হইয়া যায়। নরেন্দ্রর অবস্থা হইয়াছে ঠিক তদ্রুপ। শ্বেত-শুভ্র তুষারের উপর দিয়া হাটিতে যতটা না পুলক অনুভূত হয়, তাহার চাইতে টিনের চালে বৃষ্টির সহিত ব্যাঙের ডাক শুনিবার তৃষ্ণা প্রকট হইয়া মাথায় ঘুরপাক খাইতে থাকে।

বিস্তারিত»

সারফেস অ্যানাটমি

মৌসুমীর লগে দেখা হইলো চার বছর পর। লোকাল বাসে ক্রুশবিদ্ধ যীশুর মতো ঝুইলা ঝুইলা যাইতে ছিলাম। শাহাবাগ টু কাকরাইল। আট নাম্বার বাস। এই বাস গুলাতে সিট পাওয়া যায় না। অনেক সময় ধইরা ঝুইলা আছি দেইখা মৌসুমী ডাক দিলো।

ওই তুমি মাহফুজ না?? প্রথমে আমি মাহফুজ পরিচয় দিতে রাজি হই নাই। এই রকম ঝুইলা ঝুইলা যাওয়া একটা প্রেস্টিজের ইস্যু। এছাড়া মৌসুমীর লগে একবার আমি আকাম করছিলাম।

বিস্তারিত»

ছোটনের বাগধারা শেখা!

-‘সব জিনিসেরই ভাল-মন্দ দুটিই আছে!’
দার্শনিক পর্যায়ের এই কথা যে কোন বড় মানুষের মুখে মানায়, তবে ক্লাস থ্রি’তে পড়া ছেলের মুখে শুনলে তা একটু কানে লাগে। অবশ্য শ্রোতা যদি কোন অশিক্ষিত রাখাল হয় সেক্ষেত্রে সে অবাক বা বিরক্ত কোনটাই হবে না। কোন কিছু না বুঝেই গম্ভীরভাবে মাথা নাড়বে।
ছোটনের কথা শুনে মন্টুও কিছু না বুঝে মাথা নাড়ল।

ওর মাথা নাড়া দেখে ছোটন যেন আরেকটু উৎসাহ পেল।

বিস্তারিত»

সবুজ প্রজাপতি ( যবনিকাপাত)

(গতকাল সন্ধ্যায়, বাসার কাছের গলিটাতে, ঘড়িতে সাড়ে সাতটা)

নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের সাথে আমি মিলে মিশে এক হয়ে গেছি। ওঁৎ পেতে আছি অচেনা সঙ্গীনীর রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাশায়। সে কি আসবে? এক যুগ কিংবা শতাব্দীর সমান দীর্ঘ মুহূর্ত শেষে? আমার লোহিত-বেদীতে গৌরবময় উৎসর্গের উপঢৌকন হতে। অদেখা মানুষটির জন্যে আমার অধীর আগ্রহ। ধনুকের ছিলের মত সটান আমার শিকারী শরীর। দেহের প্রতি কোষে উন্মাদনা, অদৃশ্যমান কাঁপুনি। চোয়ালের কাঠিন্য আসন্ন উত্তেজনার মন্ত্রমুগ্ধ করা উল্লাসের পূর্বাভাস দিয়ে যাচ্ছে ।

বিস্তারিত»

সবুজ প্রজাপতি (শেষের আগের পর্ব )

(দু’দিন আগে,রাত দশটা)

রুমী

জানালার কাঁচ অল্প নামানো। কুয়াশার মত বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে। এই বৃষ্টির ফোঁটা হয়না। ঝাপসা বাষ্পের মত ভাসতে থাকে, কিংবা মাকড়সার সুক্ষ জালের মত। আমিও ভাসছি। প্রবল উত্তেজনার সাথে কাজ করছে আদিম উদবেগ। আমি ক্লাচে পা দিয়ে ফোর্থ গিয়ারে শিফট করলাম। সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি। এবারের শিকার সিলেট পৌঁছেই করবো। দ্রুত গন্তব্যে উপস্থিত হবার প্রবল তাড়া অনুভব করছি। পিঠ টান টান হয়ে আছে।

বিস্তারিত»

বিড়াল

সারাহদের ঘরে যে বিড়ালের ছবিটা টাঙ্গানো আছে সেটা দেখে তোমরা চমকে উঠতে পারো। এমনিতে একটা সোজা সরল কমলা রঙের বিড়াল, কিন্তু তুমি যদিক দিয়েই তার চোখের দিকে তাকাও, দেখবে বিড়ালটা তোমার দিকে ড্যাবডেবিয়ে চেয়ে আছে। বিড়ালটার একটা কান লাল আর একটা সবুজ।
এরকম অদ্ভুত আবার বিড়াল হয় নাকি?
সেই কথাইতো তোমাদের বলতে যাচ্ছি ।
একদিন সারাহ’র মা গিয়েছেন বাইরে। বাবাও বাসায় ছিলেননা।

বিস্তারিত»

সবুজ প্রজাপতি (চতুর্থ পর্ব)

(ঐন্দ্রিলা-কাহন)

রুমী

রেনোয়ার শহুরে কপোত-কপোতী আলিঙ্গনবদ্ধ হয়ে নেচে চলেছে, পাশ থেকেই অবাক হয়ে তা তাকিয়ে দেখছে ভারমিরের মুক্তোর দুল পড়া মিষ্টি মেয়েটা। ছবি দুটি ঝুলছে উত্তরের দেয়ালে। ঘর জুড়ে আরো ছড়ানো তিশান, মোনে,টার্নার, দালি। দক্ষিনের লম্বা ব্যালকনির সীমারেখা টেনে দেয়া কালো কাঁচের স্লাইডিং ডোর আধখোলা। সাদা কালো ঝাপসা আলো খেলা করছে মার্বেলের মেঝেতে। ঘরের মাঝখানে সিলিকা কাঁচের নিচু টি-টেবিল, সেটাকে ঘিরে রাখা চেস্টারফিল্ড সোফাগুলির ব্যয়বহুল চামড়ায় ভোঁতা ঔজ্জ্বল্য।

বিস্তারিত»

সবুজ প্রজাপতি (তৃতীয় পর্ব)

(কোতোয়ালী থানার এসপি-র রুমে)

জব্বার আরেকবার এসে আরো কি কি জানি বলতে চেয়েছিলো। আমিও আরেক ধমকে উধাও করে দিয়েছি। ও মাথা চুলকাতে চুলকাতে চলে গেছে।
আমার অখণ্ড মনোযোগ দখল করে আছে বিপরীতে বসা মানুষটা। ভুল বললাম। এটা দেখতে আদতে মানুষের মতো, কিন্তু অস্তিত্বে সম্পূর্ণ অন্যকিছু। এর জন্ম এই জগতে না।
-‘আপনি চাইলে আমাকে এখন প্রশ্ন করতে পারেন।’- তর্জনী দিয়ে নাকের ওপর চশমা এডজাস্ট করতে করতে সে বলে।

বিস্তারিত»

সবুজ প্রজাপতি (দ্বিতীয় পর্ব)

(তিন মাস আগে, জনমানবশূন্য কোন এক চা-বাগানের রেস্ট হাউজে)

আমি তলিয়ে যাচ্ছি। আবার সাথে সাথে ভেসে উঠছি। প্রবল ঝড়ে সমুদ্রের প্রবলতর ঢেউয়ের মতো আমার ভেতরের সত্ত্া আছড়ে পড়ছে। চোখের দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে আছে। কপালে ঘাম জমেছে, মুছতে গিয়ে হাতের ল্যাটেক্স গ্লাভে লেগে থাকা কালচে লাল রক্ত মুখে লেগে গেলো। ক্লকওয়ার্কের মতো মুখ দিয়ে বের হয়ে এলো খিস্তি।
এক অপার্থিব উল্লাসে আমার সমগ্র শরীর থর থর করে কাঁপছে।

বিস্তারিত»

সবুজ প্রজাপতি (প্রথম পর্ব)

লোকটা ঘরে ঢোকার সাথে সাথেই আমার চোখে পড়লো তার চেহারা বেশ সুদর্শন । শুধু সুদর্শন না, ফিল্মি হিরো মার্কা সুদর্শন। প্রথম দেখায় ভেবেছিলাম সদ্যই তিরিশের কোঠায় পা দেয়া, কিন্তু চল্লিশের ঘরে তার বয়স; সেটা পড়ে জেনেছি। বয়সের ছাপ পড়েনি মোটেও। ফিটফাট একহারা গড়ন। নিয়মিত শরীরচর্চার নিদর্শন হয়ে আছে মেদহীন শরীর। হালকা লেমন-গ্রীন পোলোর হাফ-হাতা আস্তিন কেটে সুগঠিত পেশী বের হয়ে আছে। ঢেউয়ের মতো অল্প কোঁকড়া লম্বা ধূসর চুল।

বিস্তারিত»

বিকেলে ভোরের চিঠি

কাল রাতে আপনাকে স্বপ্নে দেখলাম, মাষ্টারমশাই! সানরুমের দক্ষিণ কোণ ঘেঁসে মেহগনি কাঠের দোলায়মান একখানি রকিং চেয়ারে বসে আছেন আপনি। কোলের ‘পরে আকাশ নীল জ্যাকেটে মোড়া দ্য এলজেব্রা অব ইনফিনিট জাস্টিস, বুকমার্কের নিকেশ করে দেখেছি, বইটির মাঝামাঝি অব্দিও পড়া হয়নি এখনো। পায়ের কাছে ধূপছায়া রঙের কোলাপুরী চপ্পলের একটিতে বুড়ো আঙুল জড়িয়ে আছে আলগোছে, অপর পা’টি চড়ে বসেছে ডান পায়ের ওপর।

অরুন্ধতীর লেখা কালো অক্ষরগুলো ছুঁয়ে আছে আপনার করতল,

বিস্তারিত»