~ মিউজিয়াম কন্যা ~

[ অনুবাদ ঃ ছোটগল্প ]

ট্যুর গাইডের চাকরীটা তার হয়েই যাবে এমন আশার স্বপ্ন দেখতে দেখতে চলছিলো পথে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজস-এর উপর একটা ডিগ্রী সে নিয়েছে কেবলি। বিদেশী নানান ভাষার উপর তার সদ্য অর্জিত জ্ঞান নিয়ে তার অপার আনন্দ ও গর্ব। সেই সাথে বর্ণিল জীবন শুরুর স্বপ্ন। কতো কি সম্ভাবনার স¦প্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো নিত্য নিত্য। পড়াশোনার পাট চুকিয়ে বাস্তব জীবনে পা রাখতে না রাখতেই সব যেনো সহসাই বুদবুদের মতোন হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছিল।

বিস্তারিত»

শ্রদ্ধাঞ্জলি

নির্দিষ্ট দিনকে কেন্দ্র করে কিছু করা। ঢালঢোল পিটিয়ে দিবস পালন করে এক বছর ভুলে থাকা। বিষয়টা আমার কাছে কেমন জানি লাগে। কিন্তু ২০১৫ সালে এসে দিন ধরে কিছু করতে ইচ্ছে হল। এবারই খেয়াল করলাম প্রিয় বন্ধুর অন্তর্ধান এবং প্রিয় কবির প্রয়ান ঘটেছে ১৯ সেপ্টেম্বর। বন্ধু ফিরোজ কবীর নিখোজ হয় ২০০৬ সালে আর মাসাওকা শিকি মৃত্যুবরণ করেন ১৯০২ সালে। এঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে ঠিক করলাম অলপোয়েট্রিতে ইংরেজীতে কবিতা লিখব।

বিস্তারিত»

অনুগল্প : আরেকটি “ব্লক-কাহিনী” নিয়ে অডিও-ভিডিও ব্লগ

তিন মাস আগে……

ছেলেটি:
“ওগো তুমি যে আমার কতো প্রিয়
কেমন করে বোঝাই বলো
তুমি তো বোঝো না
জেনেও না, জানো না………”

মেয়েটি:
“যেটুকু সময় তুমি থাকো কাছে
মনেহয় এ দেহে প্রান আছে
বাকিটা সময় যেন মরন আমার
হৃদয় জুড়ে নামে অথৈ আঁধার………”

তিন মাস পরে……

ছেলেটি:
“তুমি নিজের মুখে বললে যেদিন
সবই তোমার অভিনয়
সত্যি কোন কিছু নয়
আমি দুঃখ পেলেও খুশি হলাম জেনে………”

বিস্তারিত»

অনুগল্প: ব্লক, অতঃপর……

পাশে বসে হুইস্কির গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে ফেসবুক ওল্টাচ্ছিলো বন্ধুটি।
হঠাৎ লক্ষ করলাম, একখানা জরুরী জনগুরুত্বপূর্ন পাবলিক স্টাটাস এসেছে তোমার। ওর নিউজ ফীডে।
আর তা শেয়ার করার আকুতিতে ভরপুর।
অথচ কিসসুটি না করে উলটে গেল বন্ধু আমার।
আমি অবাক চোখে দেখলাম, স্ট্যাটাস দেবার ১৫ ঘন্টা পরেও একসময়ে শত শত লাইক আর ডজন ডজন কমেন্ট পাওয়া তোমার মত প্রায় ফেবু-সেলিব্রিটির এই পাবলিক পোস্টটি তে মাত্র দুইটা লাইক।

বিস্তারিত»

~ জেহরা ~

[ অনুবাদ ঃ ছোটগল্প ]

প্রতিদিন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরবার পথে গলির মোড়ের এক মাথায় লোকটাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেই আমার বুকের ভেতর এক রকম ভীতির সঞ্চার হতো। শিরদাঁড়া বেয়ে ভয়ের স্রোত গড়িয়ে নামতে থাকতো। চলতে গিয়ে ঠিক জায়গায় পা ফেলতে আমার ভুল হতো। তাকে দেখলেই মনে হতো বহুকাল আগে মারা যাওয়া কোনো একটা লোক বুঝি কাকতাড়ুয়ার গায়ে প্রাণ নিয়ে প্রেতাত্মা হয়ে উঠে এসেছে।

বিস্তারিত»

গল্পটা একটু অন্যরকম হতে পারত

গল্পটা একটু অন্যরকম হতে পারত।
হ্যা। একটু অন্যরকম।

রাতুল বেশ কিছুক্ষণ ধরে বসে আছে করিডোরের বেঞ্চে।এমনিতে অনেক অশান্ত প্রকৃতির। কিন্তু আজ ওর অপেক্ষা করতে একটুও খারাপ লাগছে না। বরং বুকে একরাশ আশা। অনেক স্বপ্ন। মিরপুর স্টেডিয়ামে প্রাকটিস গ্রাউন্ডের পাশে বসে আছে। দূর থেকে দেখছে তার সেই স্বপ্নের মানুষ গুলোকে প্রাকটিস করতে। ও এসেছে বোলিং ট্রায়াল দিতে। ছোটবেলা থেকেই খুব ভাল ক্রিকেট খেলে।

বিস্তারিত»

গোয়িং বাটন

সকালে খবরের কাগজে চোখে পড়েছিল, আজ চৈত্রের ২৩ তারিখ।

রাস্তায় বেরিয়ে ‘চৈত্র’ শব্দটা আবার মাথায় উঁকি দিল। কাঠফাটা গরম পড়েছে। এমন আগুনগরম দুপুরে হলুদ পাঞ্জাবী পরা হিমুরা ঘোরের জগতে চলে যায়। আমি হিমু নই, এই নারকীয় মধ্যাহ্নের ভেতর মহাকাব্য খোঁজার চেষ্টা আমার কাছে অনাবশ্যক বিলাসিতা। অসহ্য লাগছে… একটা রিকশা পেলে মেয়েদের মত হুড তুলে চলে যেতাম।

অবন্তী মেয়েটা আসলে পাগল আছে!

বিস্তারিত»

সেইসব গল্পঃ এক

মেঘ ক’রে আসে চারিদিকে। বুক ভরা জল নিয়ে চুপ ক’রে বসে থাকে। বৃষ্টির ধারা হয়ে নেমে আসে না। প্রিয় কবি রুদ্র-এর কবিতা মনে পড়েঃ
“এলে মনে হয় তুমি কোনদিন আসতে পারোনি।
চলে গেলে মনে হয় তুমি এসেছিলে,
চলে গেলে মনে হয় তুমি সমস্ত ভুবনে আছো।”
কী অদ্ভুত এই মন দখল ক’রে নেবার খেলা, দখল ছেড়ে দেয়া, দখল বুঝে নেয়া, কিংবা কোনদিনই দখল না পাওয়া!

বিস্তারিত»

নিশাতের গল্প


এক রাশ বিরক্তি নিয়ে ঘুম ভেঙ্গেছে আজকে নিশাতের। রুমে বড় বড় জানালা দিয়ে আসা রোদে চারিদিক আলোকিত, হাত বাড়িয়ে ফোন অন করতে গিয়ে মনে পড়লো আগের রাতে চার্জশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে গেছিল। কয়টা বাজে জানার উপায় নেই। রুমে কোন ঘড়ি নেই, না না আছে। কিন্তু মেরামতের অভাবে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিকল পড়ে আছে। বিছানায় শুয়ে শুয়েই নিশাত ভাবতে শুরু করে ওর রুমে কোন ক্যালেন্ডারও নেই।

বিস্তারিত»

ভবঘুরে আর ইতালিয়ান বৃদ্ধের গপ্পো

বঙ্গসন্তানের ইউরোপ আগমনকে অকাল বৈধব্যের সহিত তুলনা করা যাইতে পারে। কেননা – স্বদেশের নিমিত্তে দীর্ঘশ্বাস ক্ষেপনের কোন ইয়ত্তা থাকে না। যাহাই সামনে আসুক না কেন, স্বদেশের প্রেক্ষাপটে উহা কী রূপে করা যাইত – তাহা ভাবিয়া কালক্ষেপণ করা নিত্যকর্ম হইয়া যায়। নরেন্দ্রর অবস্থা হইয়াছে ঠিক তদ্রুপ। শ্বেত-শুভ্র তুষারের উপর দিয়া হাটিতে যতটা না পুলক অনুভূত হয়, তাহার চাইতে টিনের চালে বৃষ্টির সহিত ব্যাঙের ডাক শুনিবার তৃষ্ণা প্রকট হইয়া মাথায় ঘুরপাক খাইতে থাকে।

বিস্তারিত»

সারফেস অ্যানাটমি

মৌসুমীর লগে দেখা হইলো চার বছর পর। লোকাল বাসে ক্রুশবিদ্ধ যীশুর মতো ঝুইলা ঝুইলা যাইতে ছিলাম। শাহাবাগ টু কাকরাইল। আট নাম্বার বাস। এই বাস গুলাতে সিট পাওয়া যায় না। অনেক সময় ধইরা ঝুইলা আছি দেইখা মৌসুমী ডাক দিলো।

ওই তুমি মাহফুজ না?? প্রথমে আমি মাহফুজ পরিচয় দিতে রাজি হই নাই। এই রকম ঝুইলা ঝুইলা যাওয়া একটা প্রেস্টিজের ইস্যু। এছাড়া মৌসুমীর লগে একবার আমি আকাম করছিলাম।

বিস্তারিত»

ছোটনের বাগধারা শেখা!

-‘সব জিনিসেরই ভাল-মন্দ দুটিই আছে!’
দার্শনিক পর্যায়ের এই কথা যে কোন বড় মানুষের মুখে মানায়, তবে ক্লাস থ্রি’তে পড়া ছেলের মুখে শুনলে তা একটু কানে লাগে। অবশ্য শ্রোতা যদি কোন অশিক্ষিত রাখাল হয় সেক্ষেত্রে সে অবাক বা বিরক্ত কোনটাই হবে না। কোন কিছু না বুঝেই গম্ভীরভাবে মাথা নাড়বে।
ছোটনের কথা শুনে মন্টুও কিছু না বুঝে মাথা নাড়ল।

ওর মাথা নাড়া দেখে ছোটন যেন আরেকটু উৎসাহ পেল।

বিস্তারিত»

সবুজ প্রজাপতি ( যবনিকাপাত)

(গতকাল সন্ধ্যায়, বাসার কাছের গলিটাতে, ঘড়িতে সাড়ে সাতটা)

নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের সাথে আমি মিলে মিশে এক হয়ে গেছি। ওঁৎ পেতে আছি অচেনা সঙ্গীনীর রুদ্ধশ্বাস প্রত্যাশায়। সে কি আসবে? এক যুগ কিংবা শতাব্দীর সমান দীর্ঘ মুহূর্ত শেষে? আমার লোহিত-বেদীতে গৌরবময় উৎসর্গের উপঢৌকন হতে। অদেখা মানুষটির জন্যে আমার অধীর আগ্রহ। ধনুকের ছিলের মত সটান আমার শিকারী শরীর। দেহের প্রতি কোষে উন্মাদনা, অদৃশ্যমান কাঁপুনি। চোয়ালের কাঠিন্য আসন্ন উত্তেজনার মন্ত্রমুগ্ধ করা উল্লাসের পূর্বাভাস দিয়ে যাচ্ছে ।

বিস্তারিত»

সবুজ প্রজাপতি (শেষের আগের পর্ব )

(দু’দিন আগে,রাত দশটা)

রুমী

জানালার কাঁচ অল্প নামানো। কুয়াশার মত বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে। এই বৃষ্টির ফোঁটা হয়না। ঝাপসা বাষ্পের মত ভাসতে থাকে, কিংবা মাকড়সার সুক্ষ জালের মত। আমিও ভাসছি। প্রবল উত্তেজনার সাথে কাজ করছে আদিম উদবেগ। আমি ক্লাচে পা দিয়ে ফোর্থ গিয়ারে শিফট করলাম। সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছি। এবারের শিকার সিলেট পৌঁছেই করবো। দ্রুত গন্তব্যে উপস্থিত হবার প্রবল তাড়া অনুভব করছি। পিঠ টান টান হয়ে আছে।

বিস্তারিত»

বিড়াল

সারাহদের ঘরে যে বিড়ালের ছবিটা টাঙ্গানো আছে সেটা দেখে তোমরা চমকে উঠতে পারো। এমনিতে একটা সোজা সরল কমলা রঙের বিড়াল, কিন্তু তুমি যদিক দিয়েই তার চোখের দিকে তাকাও, দেখবে বিড়ালটা তোমার দিকে ড্যাবডেবিয়ে চেয়ে আছে। বিড়ালটার একটা কান লাল আর একটা সবুজ।
এরকম অদ্ভুত আবার বিড়াল হয় নাকি?
সেই কথাইতো তোমাদের বলতে যাচ্ছি ।
একদিন সারাহ’র মা গিয়েছেন বাইরে। বাবাও বাসায় ছিলেননা।

বিস্তারিত»