“এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প” পড়ার জন্য ধন্যবাদ

এক দুষ্টু ক্যাডেটের গল্প ২০১৬ তে প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পর আমি যে পাঠক-প্রতিক্রিয়া পেয়েছি তা লেখক হিসেবে আমার হৃদয় ভরিয়ে দিয়েছে। চেনা-অচেনা পাঠক আমায় জানিয়েছেন যে উপন্যাসটি পড়ে তাঁদের ভাল লেগেছে। যাঁরা আমার এই বইটি পড়েছেন তাঁদের জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা।
এ গল্পের ঘটনাগুলো এতো দ্রুত ঘটছে যে অনেকেই শুধু ঘটনাগুলোর ওপরই মনোনিবেশ করেছেন। ক্যাডেটরা কি করে তাই দেখেছেন। অনেকে ক্যাডেট কলেজে ইতিহাস বলে গন্য করেছেন।

বিস্তারিত»

খিদে

১।
স্বামী হিসেবে সৈকতকে নিয়ে রুপা-র তেমন কোন অভিযোগ নেই…কেবলমাত্র একটি বিষয় ছাড়া। সময় নেই…অসময় নেই- কেবলই খাওয়ার (?) জন্য ছোঁক ছোঁক করে। এই জন্য অনেকবারই রুপাকে লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে…তারপরেও সৈকতকে সামাল দিয়ে রাখা খুবই কঠিন!! নেহায়েৎ ভালবেসে বিয়ে করেছে নয় তো…!! এর চেয়ে অনেক কম ঝামেলার বিষয় নিয়ে বহু তথাকথিত সুখের সংসার ভেঙে যেতে দেখেছে রূপা।

একটা লম্বা কোর্সের জন্য এবার সৈকতকে একা ঢাকায় আসতে হলো…রুপা ওর হাসপাতাল…ছেলের পিএসসি পরীক্ষা…মেয়ের স্কুল…সন্ধ্যায় চেম্বার ইত্যাদির জন্য আসতে পারলো না।

বিস্তারিত»

ভয়ঃ ভিন্ন প্রেক্ষিতে

খন্দকার সাহেব একজন সুখী মানুষ, কারণ জীবনে তার চাহিদা খুব বেশী কিছু নয়। জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অল্পতেই তিনি সন্তুষ্ট থাকতে শিখেছেন। সন্তানদেরকেও তাই শেখাতে চেয়েছেন। যুগের প্রভাব বলয় থেকে ক’জনাই বা বের হয়ে আসতে পারে? কিন্তু তিনি সফলতার সাথে তা পেরেছেন। এ জন্যেই তার সুখটা নির্ভেজাল।

নিজে যতটুকু ধর্মকে বোঝেন, খন্দকার সাহেব ততটুকুই ধর্মাচার যথাসম্ভব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন এবং ধর্ম নিয়ে কিছুটা হাল্কা পড়াশোনাও করে থাকেন।

বিস্তারিত»

জিনান্তরে

মৃগীরোগীর মত কেঁপে কেঁপে ফ্যানটা ঘুরছে যক্ষ্মারোগীর ঘড়ঘড় আওয়াজে। সেই রুগ্ন ফ্যানটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হটাৎ আমার মনে হল এটা এক্ষণি ছিটকে পড়বে! বনবন ঘুর্ণি তোলা তিনটা পাখা জানালার কাঁচে, ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় আছড়ে পড়বে! কিংবা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই তিনটা ধারালো ব্লেড গেঁথে যাবে আমার নরম শরীরে! আমি তড়িঘড়ি বিছানা থেকে নেমে ফ্যানের সুইচ বন্ধ করে দিলাম। এই অদ্ভূত অযৌক্তিক আতঙ্কগ্রস্ত মুহূর্তে আমার দাদীকে মনে পড়লো।

বিস্তারিত»

অল্প কথার গল্পঃ সবুজের শার্ট

সবুজের পরিবারটা ঠিক স্বচ্ছলও ছিল না, আবার অভাবীও ছিল না। কঠোর নিয়ম কানুন আর পই পই হিসেব নিকেশের মধ্য দিয়ে মধ্যবিত্ত সংসারে সে বড় হয়েছে। মা বাবা কিংবা বড় ভাইবোন কোন কিছু কেনাকাটা করার জন্য যদি তাকে কোন অর্থ দিতেনও, খরচ শেষে তারা তার পুংখানুপুংখ হিসেব নিতেন। ঈদে পর্বে নতুন জামা কাপড় সে পেত ঠিকই, কিন্তু সব সময় তা নিজের পছন্দ অনুযায়ী হতোনা। এ নিয়ে অবশ্য সবুজের তেমন কোন দুঃখবোধ ছিল না,

বিস্তারিত»

ছোট গল্পঃ সহকর্মী -০১ : নীলা এবং সাজিদ

ছোট গল্পঃ

সহকর্মী -০১ : নীলা এবং সাজিদ

নীলা এবং সাজিদ খুব ভালো সহকর্মী। অনেক টা বন্ধুর মতন। ঠিক বন্ধু বলা ভুল হবে। নীলা, সাজিদ এর খুব কাছের এক বড় ভাইয়ের স্ত্রী। নীলা এর একজন বেষ্ট ফ্রেন্ড আছে যে কিনা নীলা এর সবসময় কাছে ছিলো , আছে, থাকবে। তাই সাজিদের জায়গা ঠিক বন্ধুত্বের বলয়ে নয়। আবার নীলা – সাজিদ এর মাঝে কোন প্রেম ও নেই।

বিস্তারিত»

আনবিয়ারেবল মিনিংলেসনেস অফ বিয়িং

দীর্ঘ ছুটিতে কোথাও যাইনি আমি। কোন রেস্টোরেন্টে, শপিংমলে, বইয়ের দোকানে, পার্কে, বন্ধু-বান্ধবের চৌকোনা ঘরে, কোন সভায়-আড্ডায়–কোথাও না। কোন প্রেমিকের মুঠোয় যাইনি, রিকসায় ঘেঁষিনি। নদী-সমুদ্র,পাহাড়-জঙ্গল কোথাও নিজের শ্বাসমূল খুঁজিনি। তেড়িয়া অভিযাত্রীর ঘাড়ে শুয়ে থাকা ক্যামেরার চোখে আমাজনের দুর্গম নাড়ী-নক্ষত্রে ঘুরেছি (ইউটিউবে)। এই দীর্ঘ আলস্যমোড়ানো ছুটিতে আমার হাত-পায়ের আড়মোড়া ভাঙাতে বুয়া চিকুনগুনিয়ায় নিরুদ্দেশ হল। আমরা–আমি আর আমার ঘরের দেয়াল আঁকড়ে থাকা দশাসই টিকটিকি তবু স্থানচ্যুত হলাম না।

বিস্তারিত»

রতন ও তার নায়িকা

১.

বর্গাকৃতির বিশাল পুকুরটার উত্তরে যে অংশটা বাঁধানো, তার ঠিক পাশেই বড় একটা জলপাই গাছ আছে। পরিণত দুপুরের নির্দিষ্ট একটা সময়ে গাছের ছায়া লাল মাটিতে এমনভাবে পড়ে যে, তাকে ঝাঁকড়া চুলের শীর্ণ কিশোর বলে ভ্রম হয়। ঠিক সেই ছায়া বরাবর হাঁ করে দাঁড়িয়ে এই গ্রামের এক কিশোর, রতন। শীর্ণ ঠিকই, তবে মাথার চুল ঝাঁকড়া নয়, ছোট করে কাটা। ছোটখাট কৃষ্ণগাত্র, পরনে ময়লা ধূসর হাফপ্যান্ট।

বিস্তারিত»

ঈমান আলীর হজযাত্রা

ঈমান আলী যেদিন তার স্ত্রী রাহেলার সাথে বসে হজ করার জন্য মক্কা-মদিনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা সবাইকে জানাল, সেদিন থেকে তার চারপাশের মানুষগুলো দিন-থেকে-রাত হওয়ার মতো বদলে গেল। তার বন্ধু-স্বজন—সবার ব্যবহারে অজ্ঞাত এক পরিবর্তন লক্ষ করল সে। তার প্রতি সবার আচার-আচরণ বদলে গেল। এ সিদ্ধান্তে তার স্ত্রী নিজেও কিছুটা অবাক হলেও, নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে স্বামী যেন তার ইচ্ছে পূরণ করতে পারে সে ব্যপারে মনোযোগী হলো। স্বামীকে দীক্ষা দেয়ার সাহস নেই—তবে তার মনের গতি-প্রকৃতি বুঝে,

বিস্তারিত»

নীল অপরাজিতা

“ভালোবাসি”…
-আমাকে বলছেন?
-ইয়ে মানে,জ্বী,তোমাকেই।আসলে অনেকদিন ধরেই আমি বলবো বলবো করে বলতে পারছিলামনা।
-বলা নেই কওয়া নেই একটা অপিরিচিত মেয়েকে তুমি বলে বসলেন।ভাবেন কি আপনারা বলেন তো?একটা মেয়ে কে এসে ভালোবাসি বলে দিবেন আর অমনি সে খুশিতে গদগদ হয়ে আপনার প্রেমে পড়ে যাবে?
-না না কি বলছো!আমি সত্যিই তোমাকে ভালোবাসি।
-কি করেন আপনি?
-ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট করেছি,নেভাল আরকিটেকচার থেকে,আপাতোতো বেকার।

বিস্তারিত»

চিত্রার হাতে ত্রিশ টাকা

জীবনে সর্বপ্রথম সৌমিত্রের আয় হয়েছিল জয়েন করার দ্বিতীয় দিনে। তখন স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। শিক্ষক-প্রভাষকগণ এক এক শ্রেণীর ইনভিজিলেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সৌমিত্র নিজেও সেদিন স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব নিয়েছিলো। পরীক্ষা শেষ হলে শহরের বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবার আগে হেড ক্লার্ক শরৎ বাবু ওর রুমে আসেন। এবং ত্রিশটি টাকা দিয়ে রেজিস্টারে ওর স্বাক্ষর নিয়ে নেন। কিসের টাকা জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছিলেন,
– ইনভিজিলেটর হিসেবে আজকের সম্মানী স্যার।

বিস্তারিত»

অসংলগ্ন গল্প

নাফিস (১৯) আর নাকিব (১১) দুই ভাই। ওদের বাবা মা উভয়েই চিকিৎসক ছিলেন। ছিলেন বলছি, কারণ ওদের মা সদ্য প্রয়াত, মাত্র ৪৮ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অকুস্থলেই নিহত হন। দুই ভাই এর মধ্যে বয়সের ব্যবধানটা একটু বেশী হলেও ওরা, বিশেষ করে প্রবাসে আসার পর থেকে একে অপরের বন্ধু হয়ে যায়। আজ থেকে ৮ বছর আগে ওদেরকে নিয়ে যখন ওদের বাবা মা ইমিগ্রেশন ভিসায় আমেরিকার নিউ ইয়র্কে এলো,

বিস্তারিত»

পোষ্য

আজকে স্বপ্ন দেখছিলাম আমার চামড়ার নিচে স্টোমডিয়াম ( তেলাপোকার ডিম) ভর্তি। চুলকালেই ঘামাচির মতন উঠে আসছে। মাঝে মাঝে দুই একটার মধ্যে শিশু তেলাপোকাও আরাম করে বসে থাকে, ছাদ ভাঙ্গলেই বিরক্ত হইয়ে ছুটাছুটি শুরু করে। অথচ আমি যেই স্বপ্নটা দেখছিলাম সেইটা কিন্তু খুব সুন্দর, মিষ্ট মিষ্ট একটা স্বপ্ন। আমি স্বপ্ন দেখি অনেক লম্বা লম্বা, ( যেইটা আসলে অলস মানুষ হিসেবে আমার বৈশিষ্ট্য) অনেক ডিটেইলে; যদিও ঘুম থেকে উঠার পরে তার খুব কমই মনে থাকে,

বিস্তারিত»

#মাথায়_যত_চিন্তা_আসে

ফরিদ শুক্রবার ঘুম থেকে দেরী করে উঠলো। গ্রীষ্ম কাল, তাই জানালা খুলে ঘুমিয়েছিল। ভাল ঘুম হয়েছে। রাতে ট্যাব্ খুলে পড়তে-পড়তে ঘুমিয়ে গিয়েছিল। প্রায় ন’টার সময় ঘুম ভাঙ্গলো। ভেবেছিল চোখ মেলেই রৌদ্রকরজ্জল একটি সকাল দেখবে। নাহ! কেমন যেন একটি সন্ধ্যে-সন্ধ্যে ভাব। চোখ মুছে ঘড়ির দিকে তাকালো। হ্যা, ন’টাই বাজে। তাহলে?!

তার বিছানার ডান দিকে টেলিভিশন সেট। রিমোট দিয়ে চালিয়ে দেশী কয়েকটি চ্যানেলে কিছু না দেখে বিদেশী চ্যানেলে দাঁড়ালো।

বিস্তারিত»

জুলি

দুই বছর বয়সী জুলিকে নিয়ে সারাদিন ব্যস্ত সময় কাটায় ইউসুফ মোল্যা। ওর জন্য সারাদিনের অন্য সকল কাজকে বিসর্জন দিয়েছে সে। সমস্যা হল বাচ্চাটা কিছুই খেতে চায় না। না খেলে যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে এই চিন্তাই সারা রাত ইউসুফের চোখে অনিদ্রার বীজ বোনে। জুলির অসুস্থতার কথা সে কল্পনাই করতে পারে না। ওর জন্য সব কিছু করতে রাজি আছে সে। তার এই প্রবাস জীবনের একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে জুলি।

বিস্তারিত»