পুরনো ঢাকা’র গল্পঃ পাঁচ

“এই যে আসেন!” কঠিন অথচ কৌতুক মেশানো গলায় ডাক এলো পেছন থেকে।
ঘুরে তাকালাম, বিক্রেতা দুই হাতে কী সব একত্রে মাখাচ্ছেন আর হাঁক দিচ্ছেন, “এই যে আসেন, বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গা ভইরা বাড়ি লিয়া যায়! ধনী-গরিব ছবায় খায়, মজা পাইয়া লিয়া যায়! দাদায় খায়, দাদি তৃপ্তি পায়!”
বুট, মুরগি, ডিম, কিমা, গিলা, কলিজা, মগজ, ঘি, চিড়াসহ অসংখ্য পদ দিয়ে তৈরি হয় ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ নামের এই অদ্ভুত ইফতার আইটেম;

বিস্তারিত»

বালিকা

‘ পৃথিবীতে বালিকার প্রথম প্রেমের মত সর্বগ্রাসী প্রেম আর কিছুই নাই। প্রথম যৌবনে বালিকা যাকে ভালোবাসে তাহার মত সৌভাগ্যবানও আর কেহই নাই। যদিও সে প্রেম অধিকাংশ সময় অপ্রকাশিত থেকে যায়, কিন্তু সে প্রেমের আগুন সব বালিকাকে সারাজীবন পোড়ায়।”

আমাদের এই বালিকাও আজ ক’দিন তীব্র যন্ত্রণার ভিতর দিয়ে যাচ্ছ। নিজেও সে সেটা বুঝে কি? তবে কিছু একটা যে হয়েছে, বয়:সন্ধিজনিত অনুভূতির প্রগাড় অনুভবে বিদীর্ণ হবার চেয়েও বেশ তীব্র এই নতুন অনুভব।

বিস্তারিত»

ফুল:অণুগল্প

হুমায়রার সাথে প্রথম কোথায় দেখা হয়েছিল? লাইব্রেরীর সামনে? ক্যাফেটেরিয়ায়, জারুলতলায়- ঝুপড়ি দোকানগুলোর একটাতে? আসার সময় শাটল ট্রেনে- পাশাপাশি, ভীড়ে চিরে চ্যাপ্টা, তারুণ্যের উদ্দামতায়, অবহেলায়-অনুভবে-হঠাৎ বড্ড নরম লেগেছিল কি ওকে?
নরম। কোমল। ফুল!
ওটা কি কদম ছিল না, ওর হাতে? তিনটি পাতায় ছাওয়া দৃশ্যমান বর্ণীল – বৃত্তাকার জীবন! ঠিক হুমায়রার নিজের মতন। হুমায়রা কি জীবন ছিল। আমার? হতে পারতো। ও আমার ‘ফুল’ ছিল। কদম ফুল।

বিস্তারিত»

পুরনো ঢাকা’র গল্পঃ চার

পথ হাঁটতে হাঁটতে রিকশায় চড়া প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম। নিউমার্কেট থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, মহাখালি কিংবা গুলশান থেকে আজিমপুর অথবা লালবাগ, সদরঘাট হতে এলিফ্যান্ট রোড, রায়ের বাজার থেকে শাহবাগ, আর রাতে সব কাজ শেষে লালবাগ থেকে শংকর হেঁটেই যাতায়াত করতাম। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর।
এর মধ্যে রিকশা ভাড়াও অনেক বেড়ে গিয়েছিল টের পাইনি। ধাক্কাটা খেলাম এক সন্ধ্যায়। লালবাগ চৌরাস্তায় পথের ক্লান্তি নিয়ে চলতে থাকা একজন এখানকার স্থানীয় এক রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করেছেন,

বিস্তারিত»

পুরনো ঢাকা’র গল্পঃ তিন

লোডশেডিং শুরু হল। ঠিক একঘন্টা বিদ্যুৎ থাকবে না। অন্ধকার পথ ধরে ফিরছি।
ঘন ঘন লোডশেডিং হয় বলে সন্ধ্যার পর রোগীও আসে কম! লালবাগ আর আজিমপুর জুড়ে লোডশেডিং-এর প্রাবল্য খুব বেশি, বলতে গেলে সুষম সবিরাম। গলির ভেতরটায় রিকশাগুলো জ্যাম লাগিয়ে ফেলেছে। এরা কিভাবে যেন জ্যাম বাধায়, আবার কিভাবে কিভাবে যেন জ্যাম ছুটে যায়! সারি সারি রিকশা কেউই কোনদিকে যেতে পারছে না। আমি শরীরটাকে কায়দা করে বাঁকিয়ে দুই রিকশার মধ্যে দিয়ে পার হবার সময় কানে এলো রিকশায় বসা ছেলেটি বলছে,

বিস্তারিত»

বালিকা

‘ পৃথিবীতে বালিকার প্রথম প্রেমের মত সর্বগ্রাসী প্রেম আর কিছুই নাই। প্রথম যৌবনে বালিকা যাকে ভালোবাসে তাহার মত সৌভাগ্যবানও আর কেহই নাই। যদিও সে প্রেম অধিকাংশ সময় অপ্রকাশিত থেকে যায়, কিন্তু সে প্রেমের আগুন সব বালিকাকে সারাজীবন পোড়ায়।”

আমাদের এই বালিকাও আজ ক’দিন তীব্র যন্ত্রণার ভিতর দিয়ে যাচ্ছ। নিজেও সে সেটা বুঝে কি? তবে কিছু একটা যে হয়েছে, বয়:সন্ধিজনিত অনুভূতির প্রগাড় অনুভবে বিদীর্ণ হবার চেয়েও বেশ তীব্র এই নতুন অনুভব।

বিস্তারিত»

টুকরো টুকরো গল্পেরা…

জীবন এই মতো

তুমি শুটকি ভালোবাসো জানিয়েছিলে একদিন। আমি সমুদ্র উপকূলের মানুষ। শুটকি খেতে অভ্যস্ত নই। তবুও বাজার তালিকায় শুটকি রাখলাম। আমি বললাম, শুটকি খাওয়া অমানবিক। কিভাবে মাছের লাশগুলোকে রোদে পোড়া হয়েছে দেখেছ। তুমি বললে, মৃত মাছের আবার কি অনুভূতি? তুমি যে আস্ত কই তেলে ভেজে খাও। কই মাছের ছটফটানি দেখে দুঃখ জাগে না?
আমি আর কথায় পারলাম কই। বললাম, শুটকি কখনো রাঁধতে দেখিনি মা কে।

বিস্তারিত»

পুরনো ঢাকা’র গল্পঃ দুই

ডিম পাড়া মুরগির মত লাবণ্য ঘিরে থাকে কারুর চেহারায় – কবিতায় পড়ি আর বাস্তবে মেলানোর চেষ্টা করি। কাপ্তান বাজার হয়ে হেঁটে বাসায় ফিরি সান্ধ্য অফিস শেষে। জীবনের প্রথম চাকুরি বিকাল চারটা থেকে সন্ধ্যা আটটা। দু’দিন হল পাল্লা দিয়ে বাজারের দুই প্রান্তে রাতে ওয়াজ মাহফিল আর কাওয়ালি চলেছে। উৎসব শেষে প্যান্ডেল খোলার কাজ চলছে।
বাজারে প্রায়ই বেশি আয়ের কিংবা স্বল্প আয়ের মানুষদের কাজকারবার মনে দাগ কাটে।

বিস্তারিত»

পুরনো ঢাকা’র গল্পঃ এক

ওয়ারির এই ছায়াঘেরা স্থানটি বাইরের কোলাহলের সাথে মানাচ্ছে না। শুনেছিলাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার এখানে অবকাশ যাপন করতে এসেছিলেন, জয় হাউজে থেকেছেন। এই বলধা গার্ডেন দেখতে এসে অনেক বৃক্ষের বাংলা নামকরণ করেছিলেন। ‘ক্যামেলিয়া’ রচনার পেছনের ইতিহাস এখানকার ক্যামেলিয়া বাগানটি!

তন্ময় হয়ে ভাবতে ভাবতে হাঁটছি। বড় অশোক গাছটির পেছন থেকে এক পুরুষ কন্ঠ ভেসে এল, “আল্লার কছম! তুমারে ক্যামনে বুঝাই? আমি বুড়া হইবার পারি, মাগার আমার দিলডা এক্কেরে কচি,

বিস্তারিত»

সেইসব গল্পঃ তিন

পড়ন্ত বিকেলে উড়াল হাওয়া মনটাকে উড়িয়ে নিয়ে গেল।
মেপল পাতাগুলো উড়ে চলে তার পাশে পাশে। কানাডার ৪২তম সাধারণ নির্বাচন।
টানটান উত্তেজনা। নেতৃত্বের পরিবর্তন চায় বেশিরভাগ মানুষ!

পাগলা হাওয়া আজ। মনে জেগেছে ভাব।
দেবী আজ ভীষণ মানবী। দেবতাও বুঝি একদিন ছিলেন কবি।
দূর থেকে ভেসে আসে কানেঃ
যা দেবী সর্বভুতেষু শক্তিরূপেন সংস্থিতা!
লিখে দিলে নাম ‘দুর্গতিনাশিনী’ হেসে
তবু সে তোমারেই আজ দুর্গতির কারণ মানে!

বিস্তারিত»

পেঁয়াজমানব

অত্যন্ত যত্ন সহকারে নাকের লোম ছিঁড়ছিলাম। নিশ্চিত ছিলাম যে এই দৃশ্য কেউ দেখবে না- রেস্তোরাঁ পুরোই খালি। শৈল্পিক এই কাজে ডুবে যেতে যেতে টেরই পাইনি, মৌরি আমার পেছনে এসে দাঁড়িয়ে আছে ।

মৌরির গলা খাঁকারি আমায় বাস্তব জগতে ফেরালো। ঘাড় ঘুরিয়ে বিব্রত বোধ করলাম বেশ। চেয়ারের নীচে কোনমতে হাত মুছে উচ্ছ্বসিত ভঙ্গিতে বললাম, ‘আরে মৌরি, এসেছ?’
মৌরি তিক্ত দৃষ্টিতে আমার হাতের দিকে একবার তাকিয়ে চোখ ফিরিয়ে নিলো।

বিস্তারিত»

তিন শহর

ফ্রাঙ্কফুর্ট। জার্মানী।
ম্যাসেঞ্জারে বন্ধুর ম্যাসেজ। আর এক মহাদেশ পার হয়ে আসাতেই যেন হ্যান্ডসেট স্ক্রীণে মৃদু কাঁপন অনুভব করে দূরের বন্ধু। মৃদু হাসি নিয়ে বিছানায় পাশ ফিরে আরাম অনুভব করে। ভালো লাগাটুকু চোখ বন্ধ করে উপভোগ করে।
স্ক্রীণে বন্ধুর মুখ।
‘ পারুর সাথে একবার কথা বলতে চাই। আমার ফোন ই ধরছে না। তোর বুবুকে বল না..’
সময় যেন থমকে যায়।
নিঃশ্বাসগুলো বিশ্বাসের ওপার থেকে এপারে আসতে বাঁধা পায়।

বিস্তারিত»

গল্পটা আর যে রকম হতে পারতো…(২)

ডাকাতের মতো চাঁদ উঠেছে বাইরে।
ডাকাতের মতো চাঁদ।
কবি বসে আছে বাইরে,লেকের পাড়ে। শীত করছে খুব। কুয়াশা নেই,পরিষ্কার আকাশ। শিশির ঝরছে।

“এইসব জলদুঃখ,এইসব প্রার্থনা
সব ধূয়ে যাবে শিশিরের স্নেহে…

এই লাইনগুলো ফুল স্পীডে ঘুরছে মাথার ভেতর। এর বেশী আগানো যাচ্ছে না। অন্য কবিতা ঢুকে পড়ছে। কবি লাইটার হাতে নেয়, এই কবি সিগারেট খায় না। উইড খায়। উইড মানে গাঁজা।

বিস্তারিত»

রক্ত

অন্ধকার ঘরটার স্যাঁতসেঁতে বিছানায় শুয়ে কোঁকাতে কোঁকাতে বিড়ি ফোঁকে জুন্নুন মিয়া । এ মুহূর্তে তামাকের গন্ধকে দমিয়ে দিয়ে বাতাসে পোলাও-মাংসের গন্ধ । মেয়ে আর নাতনী আসছে শহর থেকে । জুন্নুন মিয়ার স্ত্রী সালেহা বেগম মরচে ধরা নড়বড়ে শরীর নিয়েই রান্নাবান্না আর ঘরদোর গোছগাছের তদারকিতে নেমে গেছে । জুন্নুন মিয়াকে অ্যান্টাসিড এগিয়ে দেয়া,পান-সুপারি পিষে দেয়া এমনকি ঝগড়া করারও ফুরসত নেই তার। কাজের লোকের আকাল পড়েছে এই গাঁয়েও।

বিস্তারিত»

সেইসব গল্পঃ দুই

সে আমায় বলেছিল, “ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো!”
মুহূর্তেই আমার শরীর, মন বকুলের গন্ধে ভ’রে ওঠেছিল।
আ-হা, সেই প্রিয় নারী, প্রিয় কবিতা তোমার কন্ঠে যেন প্রিয় সুর হয়ে বেজে ওঠে …

তোমার ছবির দিকে অপলক তাকিয়ে থাকি, এই অবেলায়
চোখ সরেনা, মনও ফেরেনা, পথ চলা থেমে যেতে চায়।
উনুনের পুড়ে যাওয়া কাঠ যেমন গনগনে লাল হয়ে থাকে,

বিস্তারিত»