~ পারছো কি ! ~

পারলে ঠেকাও স্বপ্নগুলি ।
রাত জাগা সব ইচ্ছে ভেলা
চাঁদের সাথে খুনসুটিতে
তারার সাক্ষ্যে মালায় গাঁথা
খামখেয়ালী কথাগুলি ।

সবুজ খোলা মাঠের গায়ে
দুরন্ত সেই কিশোর বেলার
ছুটোছুটি – চঞ্চলতার
ছবি আঁকা সকালগুলি ।

স্মৃতির শহর ঘুরে ঘুরে
শরীর জুড়ে আগলে রাখা
জলের ফোঁটা আলিঙ্গণের
বৃষ্টিসখ্য লগ্নগুলি ।

বুকের ভিতর বামকুঠুরী
ভরাট করে জমানো সব
কথার ঝুড়ি,

বিস্তারিত»

ঘুম দিয়েছে আড়ি

এলোমেলো ভাবনাগুলো মাথায় খাবি খায়,
যখন যেথায় ইচ্ছেমত কাঁপন দিয়ে যায়।
গান গেতে চাই, সুর আসেনা,
ঘুম গেলো কই, ঘুম আসেনা,
এমনি করে চুপিচাপি ঘুম গেলো কার বাড়ী?
ঘুমকাতুরে আমার সাথে ঘুম দিয়েছে আড়ি!

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর খালে এলো বান,
বৃষ্টি পড়া শুরু হলেই মন করে আনচান।
বন্ধুরা সব অফিস করে সকাল সন্ধ্যা ধরে,
আমার আয়েশ দেখে তারা ঈর্ষা জ্বরে পোড়ে।

বিস্তারিত»

শ্রদ্ধাঞ্জলি

নির্দিষ্ট দিনকে কেন্দ্র করে কিছু করা। ঢালঢোল পিটিয়ে দিবস পালন করে এক বছর ভুলে থাকা। বিষয়টা আমার কাছে কেমন জানি লাগে। কিন্তু ২০১৫ সালে এসে দিন ধরে কিছু করতে ইচ্ছে হল। এবারই খেয়াল করলাম প্রিয় বন্ধুর অন্তর্ধান এবং প্রিয় কবির প্রয়ান ঘটেছে ১৯ সেপ্টেম্বর। বন্ধু ফিরোজ কবীর নিখোজ হয় ২০০৬ সালে আর মাসাওকা শিকি মৃত্যুবরণ করেন ১৯০২ সালে। এঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে ঠিক করলাম অলপোয়েট্রিতে ইংরেজীতে কবিতা লিখব।

বিস্তারিত»

কবিতা : ব্লক, অতঃপর……

ও মেয়ে, তুমি কি জানো?
আমাকে নিয়ে ভাবা অথবা
আমার প্রতি প্রক্ষেপিত –
তোমার প্রতিটি বাক্যই
হয়ে উঠতে পারে
কোন না কোন কবিতার পংক্তি?

ভাবনার কথাগুলো শুনি নাই কখনো
শোনা সম্ভবও না,
তাই কেবলই অনুমানে ভর করে
ওগুলো আনতে চাই না কবিতায়।
কিন্তু আজ যা প্রক্ষেপন করলে আমায়,
কবিতায় তা না এনে, কি করে থাকি,

বিস্তারিত»

নিউরনে আলাপনঃ আট

: জানো, থেকে থেকে ঘুম ভেঙ্গে যায়। তোমার কথা মনে হয়।
: একজন শিখিয়েছিলে সেই কতদিন আগে – আমি তোমাকে মনে করলে, তোমারও আমায় মনে পড়ে।
: সত্যি?
: তা তো বুঝিনা, তোমার জীবনে আমায় ঘুম-হরা হয়েই কাটাতে হবে এটা বুঝলাম।
অথচ কেউ ঘুম-ভাঙ্গানিয়া হবার শখ পুষেছিল ভেতরে ভেতরে!
: ইস! এমনিতেও আমার অনেকদিন হল ভাল ঘুম হয় না। সিডেটিভ নিচ্ছিলাম।

বিস্তারিত»

দেউলিয়া পূর্ণিমায়

বিষণ্ণ সময়ে জীবনবাবুর ভূতে ধরেনি এমন কবিতাখোর পাওয়া দুষ্কর হবে। এমনকি, কলেজের কাঠখোট্টা পরিবেশেও শীতের রাতে যখন কুয়াশায় ভেসে আসত তরল জোছনা, তখন ক্যাডেট-মগজের কোনও এক গহীন কোনে জীবনবাবু নাকি সুরে আওড়াতেন- “বাঁশপাতা-মরা ঘাস-আকাশের তারা! / বরফের মত চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা / … … … / ঝিমায়েছে এ পৃথিবী / তবু পাই টের / কার যেন দুটো চোখে নাই এ ঘুমের / কোনও সাধ!” গতকাল রাতে চাঁদহীন আধো-আধো কুয়াশায় বৃহত্তর ময়মনসিংহের রেলপথে রাত্রিকালীন ভ্রমণে আবার কামড়েছে জীবনের ভ্যাম্পায়ার,

বিস্তারিত»

অমর প্রেম

অমর প্রেম
মুহাম্মদ ওবায়েদুল্লাহ

তোকে মাঝে মাঝে মনে পড়ে
দিনের বারান্দায় ব্যস্ত কোলাহল ভিড়ে
কখনো চায়ের টেবিলে সন্ধায়,
কবিতা পড়তে পড়তে বসে আনমনে
ভাবি, কেন ভালবাসিনি তোমায়?

কৃষ্ণচূড়ার সবুজ কুন্তলে লাল ফুল গুঁজে
বসন্ত বিকেলে গোধূলি বেলায়
মাঠের সষর্ের ফুল কতনা ডেকেছে আয়
ঘুডি নিয়ে দৌড়ায় হলুদ মাঠে সুতোর টানে।

বসতিস পাশে কত ছল করে
বিসতীনর্ ঘাঁসের চাদরে জোছনা রাতে
গানের আসরে গভীর নিশিতে,

বিস্তারিত»

বিউগলের ধ্বনি শুনি

আমি প্রত্যহ বিউগলের ধ্বনি শুনি,
প্রত্যুষে শুনি, আসন্ন সন্ধ্যায় শুনি,
বিউগল বাজায় কে, সেটা দেখিনি,
প্রত্যহ তবু আমি সেই ধ্বনি শুনি।

চলে যাওয়া অতীত বিউগল শোনায়,
অন্তর্হিত সুহৃদগণ বিউগল শোনায়,
জানিনা তারা আজ কে বা কোথায়
অতীত নিয়ত তবু বিউগল শোনায়

আমরা যারা আছি, খুবই হাসিখুশী,
জগত সংসার নিয়ে সারা দিবানিশি,
তাদের কথা দিনে ক’বারই বা ভাবি,

বিস্তারিত»

পাঠ প্রচেষ্টা ঃ আবার সৈয়দ হক

দিনপঞ্জী থেকে/
গাজী ইস্টিমারে বরিশালের পথে সন্ধ্যায়
সৈয়দ শামসুল হক

কাল সকালে যখন তুমি জেগে উঠবে,
যখন অমাবস্যার অন্ধকার চুল সরিয়ে প্রকাশিত হবে
ধবল পর্বতের মতো তোমার মুখ,
তখনই তো দেখতে পাবে এই বদ্বীপের প্রকৃত মানচিত্রটি;
এবং দেখতে পাবে সকলেই আমার সব কিছু —
দিনের ভেতর দিয়ে গলে যাওয়া আয়নার মতো বয়ে চলেছে নদী,
তার স্রোতে ভাসমান সব নৌকো
এবং সেই নৌকোর পাল আমাদেরই জীবনের গল্পের মতো
টুকরো টুকরো সংঘাতময় রঙের কাপড়ে সেলাই করে গড়া।

বিস্তারিত»

পনেরো অক্টোবরের কবিতাঃ খেলা-১

চোখের মধ্যে শোক, নখের ভেতর পাপ
স্মৃতির তোরঙ উজাড় করা
অস্বচ্ছ সংলাপ

কিশোর কালের ভুল,উজান নদীর স্বাদ
চোখের প্রেমে চোখ পড়েছে
এই তো অপরাধ

স্কার্ফে তোলা ফুল, ফুলের বুকে কীট
সে কী করে জানবে কেমন
দেয়াল তোলার ইট

ইটে গড়া দেয়াল তুলে মধ্যে ব্যাবধান
দুপাশে দুই বন্দী মানুষ
এই তো তিনি চান

তিনি চান এই ভুল,তিনিই চান এই জল
তিনি যা চান তাতেই জানি
সব রকম মঙ্গল

খানিকটা প্রেম ভালো,খানিকটা ভঙ্গুর
এবার ভাবি পালিয়ে যাবো
সবার থেকে দূর

লালচে হওয়া চোখ,

বিস্তারিত»

~ কারোই কিচ্ছুটি নেই দোষ ~

জেগে আছি ভেবে
পাখিরাও বসেছিলো কাঁধে,
প্রজাপতি
আঙ্গুলের আনাচে কানাচে।

অগোছালো পাতাদের
নিরন্তর আহলাদে
শালিখেরা খেয়েছে
করতল খুঁটে খুঁটে।
বাবুই আর চড়ুইয়ের দল
কথার কোমল বিষাদে
এঁকেছিলো শব্দের আলপনা
কন্ঠার জেগে ওঠা তল্লাটে।

পায়ের পাতার কাছে
অপেক্ষামগ্নতার
লতানো টেরাসে
অচেনা ফোটা ফুল
পাঁপড়ির বিভাজিকা
মেলে ধরা উৎসবে
চেয়েছিলো উঠবে বেড়ে
স্থবির চোখের কাছে
ঠিক চিবুকের সমান।

বিস্তারিত»

নিউরনে আলাপনঃ সাত

: একজনের ঘুম কেড়ে নিয়ে নিজে ভোঁস ভোঁস ক’রে ঘুমায়।
এটা কি অবিচার নয়?
তাই সকাল সকাল জাগিয়ে দিলাম, রাগ করলে?
: না, এইতো আরেকটু পরেই উঠতাম।
: আচ্ছা, আমার খুব দেখতে মন চায়, ঘুমিয়ে থাকলে তোমায় কেমন দেখায়?
: বোকাদের যেমন দেখায়, শিশুর মত ঘুমে কাদা হয়ে পড়ে আছে, হা করা মুখ গ’লে লালা বের হয়ে গাল বেয়ে নেমে বালিশ ভিজিয়ে দিচ্ছে!

বিস্তারিত»

বন্দী নিশাচর

রাত বারোটা-
সবে তো রাত শুরু
জেগে উঠছে কিছু আজব প্রাণীর দল।
ক্লাশ টুয়েলভের সবচেয়ে সুবোধ বালকটা
মাত্র রুমের দরজা খুলে বের হল।
ডিউটি মাস্টার চলে গেছে-
হাউস বেয়ারাও ব্যস্ত সুখের নিদ্রায়,
মোবাইলের চার্জও শেষ।
এইত সময়-
ছক কষার।
হাতে অনেক কাজ বাকি-
টিভি রুমটা খুলতে হবে,
চ্যাম্পিয়নস লীগের ম্যাচ আছে-
অমুকের মনটা আজ ভাল নেই,তাই-
সে ব্যস্ত টেংকিতে ওঠার রাস্তা বানাতে,

বিস্তারিত»

কলোনীবৃত্তান্ত

আ হা সে-উচ্ছ্বাস!
সিঁড়িতে তোমার পায়ের ছাপ দেখে
পানের ছোপে লাল হয়ে ওঠা দেয়াল
আরেকটু আরক্ত।
কতিপয় দুষ্টু ছোঁড়া গোটা গোটা অক্ষরে
আমাদের নামের মধ্যে প্লাস
বসিয়ে দিয়েছে দেখে
বেদম পেটালো বাবা,
শরীরে বেতের দাগ নিয়ে
ফোঁপাতে ফোঁপাতে
মাথা নুয়ে পড়ে
সেসব ছেলেদের প্রতি
অসুস্থ কৃতজ্ঞতায়

প্রাইভেট পড়তে গেলে
বীজগণিতের জটিলরাশিমালা যেন
স্থির আর ধীর দুটো চোখ –

বিস্তারিত»

উপায় নেই

কবিতা না লিখে কোন উপায় নেই,
কেন? আমার যে কোন শ্রোতা নেই!
আমার মুখেও তো কোন ভাষা নেই।
অথচ ভেতরে অনেক কথা আছে,
যেগুলো বলা খুব সহজ কথা নয়
যেগুলো শোনার কারো সময় নেই।

আমার অনেক বিমূর্ত ভাবনা আছে।
ভাবনাগুলো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে,
করোটির গভীরে জমাটবদ্ধ মস্তিষ্কে।
আমার অনেক বদ্ধ দীর্ঘশ্বাস আছে,
যেগুলো বাঁধা আছে বুকের হাপরে।

বিস্তারিত»