নৌকা আমার পথ হারা মাঝ সাগরে
আঁধার রাতি শেষ তো না হয়
দয়াল মাঝি পার কর আমায়।
যতই নৌকা বাইতে থাকি
ঝামেলা ততই বাড়ে
ভয়ের সাথে মনটা ভাঙ্গে
পাগলা জোয়ার,কূলের দেখা না মেলে।
আমি ফিরতে পাগল বাড়ীর পানে
দাঁড় তো বাই প্রাণপনে
নৌকা তবু এগোয় না
আঁধার রাতি শেষ তো না হয়
দয়াল মাঝি পার কর আমায়।
পরিক্রমা
এক বৈশাখ থেকে আরেক বৈশাখ
খরতাপে, গরমে নাভিশ্বাস
তারপর ঝড়জল পাড়ি,
সাদা মেঘে উজ্জ্বল ঘুড়ির ডানা
নতুন ধান, শিশির ভেজা ঘাস
বসন্তের ফুল, পাখি আর গান
এই সবই এক দারুণ অপেক্ষার মানে।
বাতাসে তার আসার আবাহন
শরীর জুড়ে প্রজাপতি,
সে আসবে বলেই এই ঋতুচক্র
বারবার বাঁধে মায়াজালে।
কে ডাকে? কাক না কোকিল?
বুকের ভেতর এক হলুদ পাখি
অপেক্ষায় থাকে,
মেঘবালিকার ছবি।
মেঘবালিকা হারিয়ে গেছে
এক ভিন্ন মেঘের দেশে,
আকাশটা তাই মেঘশূন্য,
নীরব হয়ে আছে।
মেঘের ঘরেই গড়তে বসত
চেয়েছিলেন এক কবি,
স্বপ্ন ভেঙে জেগে দেখেন,
মিথ্যে হলো সবই।
জানালাটা খোলাই রাখেন
তারপরেতেও কবি,
আকাশ মাঝে খুঁজে ফেরেন
মেঘবালিকার ছবি।
ঢাকা
২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
সাম্প্রতিক কবিতা
সম্পর্ক যেন প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রতিদিন হাজিরা, ইয়েস স্যার, উপস্থিত ম্যাড্যাম,
হাজির…..
দু একদিন ক্লাস মিস গেলেই দরখাস্ত,
জবাবদিহীতা…কারণ দর্শাও নোটিশ।
প্রতিদিন জানান দিতে হয়, আছি, আছি, আছি।
সম্পর্কগুলো কেমন যেন, নড়বড়ে…
একটু গ্যাপ বাড়লেই তুই থেকে তুমি,
আর তুমি থেকে আপনি….
অচেনা অচেনা ভাব, আন্তরিকতার অভাব।
যেন মাত্রই পরিচয়,
শেষ যে কে কবে বলেছিল,
বিস্তারিত»অন্যরকম মমতার বন্ধন
পাছে বিব্রত হও,
কিংবা বিরক্ত,
তাই, আজকাল আর
সরাসরি তাকাই না
তোমার দিকে।
আড় চোখে তাকিয়ে,
অথবা না তাকিয়েই-
কেবল শব্দে-বর্নে-গন্ধে,
অনুভব করে যাই,
কতটা ভাল আছো তুমি,
অথবা কতটা ভাল নাই।
আজকাল জানো তো,
তোমার ভাল থাকাটা,
অতি জরুরী আমার কাছে।
তুমি ভাল থাকলেই কেবল
একরাশ প্রজাপতি উড়ে বেড়ায়
আমায় ঘিরে।
~ মহল্লার ভিতরে গুলাবী আছর, গইড়া উঠছে তাজমহল ~
আতকাই কি জানি কি ডাইকা চাউর করলা গল্লির বেবাক মানষেরে !
সোন্দর আলীর গোলাপী পাঞ্জাবীর থিকা ভকভকা আতরসুবাসরে –
য্যান তুমি দিলা সান্ধাইয়া বেবাক মরদের কইলজার ভিতরে।
মহল্লার তামাম নূরজাহান ছোক ছোক কইরা নাক টাইন্না আহারে !
বাদসা হুমায়ুন বানায়া দিবো ভি আইজকা তুমারে।
সুরমা-আতইরা রুমাল লইয়া জিগিরি দোস্তের লাহান –
লাইটপোস্টের খাম্বা হইয়া খাড়াইয়া রইছে গল্লির বেবাক পোলাপান !
একটি আইডিয়ার পোস্টমর্টেম, অথবা(শূন্য + শূন্য)=দুই
আজ একটা হিসেব কষা যাক –
“সত্য আর স্বপ্নের মাঝে দূ র ত্ব কতখানি?”
সত্য – সুন্দর,
স্বপ্ন – স্বপ্নময় ।
সত্য কে আঁকড়ে আমরা বাঁচতে চাই –
আর স্বপ্ন যোগায় সেই প্রেরণা ।
স্বপ্ন যদি হয় শরতের রাতের আকাশ জুড়ে জ্যোৎস্নার প্লাবন – আলো আঁধারের প্রেমালাপ,
তবে,
বিস্তারিত»আজও
আজও চাঁদ ওঠে আকাশের বুকে…
পৃ্থিবীর কত লোক ঐ চাঁদ দেখে…
চাঁদের জ্যোৎস্নাটুকু নিজ মুখে মাখে…
আমি শুধু আড়ালে একটি মুখ খুঁজি অবিরত,
চাঁদের পাশে দেখায় যাকে ঠিক তোমারই মত…
ঢাকা
২১ মার্চ ২০১৬
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
ভালবাসা মন্দবাসা
“ভালবাসা হলো দুজনের পাগলামি…” – রফিক আজাদ
কখনো বলিনি তোমায়, “ভালবেসো”,
তুমি নিজে থেকেই বাসলে তা।
কখনো বলিনি তোমায়, “ছেড়ে যাও”,
তুমি নিজে থেকেই গেলে তা।
ভালবাসার সময়ও বলো নাই,
“কেন তা বেসেছো?”
ছেড়ে যাবার সময়ও তাই জানতে চাইনি,
“কেন যাচ্ছো?”
স্বেচ্ছায় এসেছিলে,
স্বেচ্ছায় চলে গেলে –
সমাপ্ত!
দি এন্ড!!
ছয়টি তারে (গীটার উপাখ্যান)
ছয়টি তারে পাঁচটি আঙুল
বাজিয়ে দিলাম সুর,
একটি তারে ঝুমকা বাজে
একটিতে নূপুর।
একটি তারে ঠমক-ঠামক
বিছায় আলোড়ন,
একটি তারে রেশমি চুড়ি
উদাস করে মন।
একটি তারে সুখ-দুঃখে
জড়িয়ে থাকার পণ,
আর একটি তারে ভালোবাসি
তাকেই অনুক্ষণ।
একজন সুখী মানুষের কথা (অনুবাদ কবিতা)
Edwin Arlington Robinson এর “A Happy Man” কবিতাটি পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছিলো। “When these graven lines you see, Traveller, do not pity me;” (“হে পথিক, রেখাঙ্কিত এ সমাধিগুলো দেখে কখনো আমার প্রতি করুণা কাতর হয়োনা”) এই পংক্তি দুটো পড়ার সাথে সাথে আমার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে। আমি কবিতাটি অনুবাদ করার সিদ্ধান্ত নেই এবং কবির জীবনী সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হই। তাঁর জীবনী পড়ে বিস্ময়ে অভিভূত হই।
বিস্তারিত»~ বোহেমিয়ান সেই কবির জীবন মন্তাজ : যোদ্ধা, প্রেমিক, দ্রোহী এক স্বপ্নবাজ ~
কোথায় আলো জ্বেলে অপেক্ষায় বসে আছে আমার বিদায় উৎসব তোরণ! কে জানে কোন ক্ষণে আমি পৌঁছে যাবো সেইখানে। আমার প্রস্থান লগ্নটিকে ছুঁয়ে দিতেই বুঝিবা নিভে যাবে তার সমস্ত আলোকসজ্জা।
টিকিটের গায়ে অদৃশ্য গন্তব্য স্টেশনের নামটি ঠিক ঠিক বুঝি তখনই দৃশ্যমান হয়ে উঠবে – আমার যাত্রাশেষের ইংগিত আলোকবর্তিকার মতোন। অদৃশ্য ট্রাফিক হাতের ইশারা বলবে যখন, থামো। এটাই শেষ স্টেশন। নামো।
ভালোবেসে যা কিছু প্লাবন এনেছো মাটির গায়ে পাললিক আহলাদে,
সম্পর্ক: ভার্চুয়াল বনাম একচুয়াল
মুখবই বন্ধ করেছো জানি
বুকের বইটা বন্ধ করতো দেখি?
হিসাবখানা নিস্ক্রিয় করেছো জানি
আলাপগুলো নিস্ক্রিয় করতো দেখি?
সুখস্মৃতি অস্বীকার করতে পারো
সঙ্গসুখ অস্বীকার করবে কি করে?
মুখবই-এ বাধা দিতে পারো
মনটা তোমার বাঁধবে কেমন করে?
আর্কেডিয়া

(উৎসর্গঃ কবি রফিক আজাদ শ্রদ্ধাভাজনেষু)
ভুল করে তুমি একদিন নেমেছিলে বুঝি ভুল জলে
অথবা সে ভুল নয়, হৃদয়ের প্রিয় অপচয়,
কারুচারীর জন্মগত অভিশাপে!
শরীরের বাঁকে বাঁকে কে করেছিল একদিন মরণের খোঁজ
আরক্ত নবীন প্রেম, দুর্দান্ত প্রবল প্রতাপে!
সর্বগ্রাসী ক্ষুধার জ্বালায় একদিন ভাত দে বলে
চেঁচিয়ে কে উঠেছিল? করেছিল মানচিত্র ছিঁড়ে-খুঁড়ে
জটিল ক্ষুন্নিবৃত্তির সন্ধান!
প্রিয় শাড়ীগুলো দেখে সে-ই ফের উঠেছিল গান গেয়ে
অথবা কালের ঘুংঘুর বেঁধেছিল অসম্ভবের পায়ে!
যদি উপেক্ষা করতে না পারো, ভালবেসো না
“পথে চলে পারে পারাপারে
উপেক্ষা করিতে চাই তারে;
মড়ার খুলির মতো ধরে
আছাড় মারিতে চাই, জীবন্ত মাথার মতো ঘোরে
তবু সে মাথার চারিপাশে!
তবু সে চোখের চারিপাশে!
তবু সে বুকের চারিপাশে!
আমি চলি, সাথে সাথে সেও চলে আসে!”
– জীবনানন্দ দাশ
=======================
যদি উপেক্ষা করতে না পারো,
বিস্তারিত»