ভালবাসা মন্দবাসা

“ভালবাসা হলো দুজনের পাগলামি…” – রফিক আজাদ

কখনো বলিনি তোমায়, “ভালবেসো”,
তুমি নিজে থেকেই বাসলে তা।
কখনো বলিনি তোমায়, “ছেড়ে যাও”,
তুমি নিজে থেকেই গেলে তা।

ভালবাসার সময়ও বলো নাই,
“কেন তা বেসেছো?”
ছেড়ে যাবার সময়ও তাই জানতে চাইনি,
“কেন যাচ্ছো?”

স্বেচ্ছায় এসেছিলে,
স্বেচ্ছায় চলে গেলে –
সমাপ্ত!
দি এন্ড!!
তামাম শোধ!!!

আসলেই কি এইভাবে,
সবকিছু চুকে বুকে যায়?
সব কিছু শেষ হয়ে যায়??

বন্ধু বললো, “যায়”
“আর তাই, আগে থেকেই ঠিক করে নিতে হয়
কতটা মানসিক ভাবে জড়াবে তুমি!!!”
বান্ধবী বললো, “যায়”
“কারন, মুখফুটে না বললেও,
নারীর যোগাযোগহীনতার অর্থই হলো বলা -”
“আমি তোমাকে চাই না!!!”
অগ্রজপ্রতিম বললেন, “যে স্বেচ্ছার চলে গেছে,
তাঁকে ভুলে যাও।”
অনুজপ্রতিম বললো, “ভালবাসার উল্টো দিকে
ঘৃণা নয়, ‘উপেক্ষা’ লিখা থাকে।
সবার উপেক্ষা করার বিরল ক্ষমতা থাকে না।
যাদের থাকে, তারা যদি তা দেখাতে পারে,
বুঝবে, তাঁর – ভালবাসা মরে গেছে।”

আমি ভাবি, মানুষ বেঁচে থাকে,
আর তাঁর ভালবাসা মরে যায়,
এটা কিভাবে সম্ভব?

কারন, ভালবাসা হলো:
সে চাক বা না চাক,
সারাক্ষন তারজন্য অকারন
“মন কেমন কেমন করা”,
কাছে থাকলে, অকারন “পাশে গিয়ে বসা”
পাশে বসলে, অকারন “ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকা”
আবার, ধরা ছোয়ার বাইরে থাকলে –
মনের পর্দায় অকারন তিরাশিবার
ঐমুখ ভেসে ওঠা,
ছত্রিশবার মনে মনে কথা বলা,
একলা হাসা,
কুড়ি কুড়িবার পাশের চেয়ার পরখ করা,
“কে বসা, ওখানটায়?”

তুমি উপেক্ষার গুনে গুনান্বিতা
তাই তুমি পেরেছো দীর্ঘ্য পদক্ষেপে
সবকিছু মাড়িয়ে এগুতে।
আর গুনহীন এই আমি
নিরন্তর খুনসুটি করে যাই
সেই যে পাশে থাকা
কায়াহিন এই তোমারই সঙ্গে।

Some feel the rain. Others just get wet” – Bob Marley

২,৮৭১ বার দেখা হয়েছে

৭ টি মন্তব্য : “ভালবাসা মন্দবাসা”

  1. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    আমি ভাবি, মানুষ বেঁচে থাকে,
    আর তাঁর ভালবাসা মরে যায়,
    এটা কিভাবে সম্ভব?
    -- এটা একটা জেনুইন ভাবনা। উপেক্ষার মাত্রাটা বেশী হলে ভালোবাসার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে।
    তবে, মুদ্রার তো দুটো পিঠ থাকে!
    তামাম শুধ! টা কি কোন কারণে ইচ্ছাকৃত ওরকম, নাকি "তামাম শোধ" হবে?
    শেষের ইংরেজী উক্তিটা চমৎকার!

    জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      খায়রুল ভাই, মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।
      দীর্ঘদিন কবিতায় কারো তেমন কোনো মন্তব্য পাচ্ছি না, আবার ভিউ-এর সংখ্যাও দেখছি নুন্যতম।
      ভাবছিলাম, কবিতাগুলো বুঝি কোনো মানের হচ্ছে না।
      আর পাঠক বোধহয় দিন দিন বিরক্ত হয়ে উঠছে।
      ব্রেক নেয়া জরুরী কিনা, ভাবছিলাম।
      যাহোক, আপনার এই দীর্ঘ ও সুচিন্তিত মন্তব্য পেয়ে উৎসাহিত হলাম......
      "উপেক্ষার মাত্রাটা বেশী হলে ভালোবাসার স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটে" - যিনি উপেক্ষা করেন, তাঁর দিক থেকে কথাটা অবশ্যই সর্বতো ভাবে সত্যি হবারই কথা, কিন্তু যিনি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই, প্রস্তুতি ছাড়াই, উপেক্ষার শিকার হন, তাঁর জন্যেও কি কথাটা একই ভাবে সত্যি হবে?
      আমি নিশ্চিত নই।
      হতে পারে, কেউ কেউ ভাবে, "টাইম ইজ দ্যা বেস্ট হীলার"। আর তাই সময়ের সাথে সাথে সব ভুলে যাবে উপেক্ষিত মানুষটা।
      কিন্তু আমার মনেহয়, ঘটনা অতো সরল না ও হতে পারে।
      অকারন উপেক্ষা এমনই এক আঘাত যা মনের অনেক গহিনে পৌছে উপেক্ষিতকে কুরে কুরে খায়।
      বিশেষ করে, সেই উপেক্ষার পিছনে ভিক্টিমের যখন কোনো দায় থাকে না।

      যিনি এইভাবে কিছু না বলে উপেক্ষা-বান ছুড়ে মারেন, তিনিও কি আসলেই শান্তিতে থাকেন বাকিটা জীবন?
      তারও কি কখনো কখনো দুর্বল মুহুর্তে মনে হয় না, কাজটা ঠিক ছিল, নাকি ভুল ছিল?
      হতে পারে কোনো ইমিডিয়েট জটিলতা এড়াতেই তিনি তা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আর সফল ভাবে তা হয়তো করতেও পেরেছেন এই আকষ্মিক উপেক্ষাস্ত্র দিয়ে।
      কিন্তু যাকে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে এভাবে আনগার্ডেড অবস্থায় আঘাত করলেন, উপেক্ষাস্ত্র দিয়ে, সেটা কি শুধু তাকেই একা আহত করবে? আর আঘাতকারী নিরাপদে হেসেখেলে বেড়াবে?
      ঠিক জানি না...

      নেটেই দেখলাম, "তামাম শুধ" লিখা। ফ্রেজটা পার্সি বা উর্দু বলে ভাবলাম, হয়তো ওভাবেই উচ্চারিত হয় ওটা।
      তবে বাংলা অক্ষরে লিখার সময় আমরা অবশ্যই তা "তামাম শোধ" লিখতে পারি।
      ঠিক করে দিচ্ছি.........

      বব মারলি আসলেই একজন বস টাইপের মানুষ!!! 😀 😀 😀


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন
      • খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

        আমিও লক্ষ্য করেছি যে সিসিবিতে পাঠকের সংখ্যা অনেক কমে গেছে, লেখকের সংখ্যাও। অন্য বিষয়ের লেখা তবু কেউ কেউ পড়ে, মন্তব্যও করে যায় দু'চারটা, কিন্তু কবিতার বিষয়টা বড্ড করুণ। অবশ্য এটা বোধহয় সব সময়ের জন্যই সত্য যে কবিতার পাঠক মূলতঃ কবিরাই। হয়তো এ আসরের কবিদের মান ততটা ভালো নয়, কিংবা পাঠকদের প্রত্যাশার মান অনেকটা ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। কবিরা সে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না।

        জবাব দিন
        • পারভেজ (৭৮-৮৪)

          অনেকদিন ধরেই সিসিবির ট্রাফিক বেশ কম।
          আজকাল একটু বেশিই কম।
          আবার সেলিব্রিটি লেখকরা কলম ভাজ করে রেখেছেন। অথবা অন্যত্র ব্যাস্ত।
          কদাচিৎ লিখলেও কমেন্ট পার্টিসিপেশনে এক্কেবারেই নারাজ।
          এইভাবে চলতে থাকলে অচিরেই ব্লগটার ন্যাচারাল ডেথ ঘটবে বলেই তো মনেহয়!!!
          🙁 🙁 🙁 🙁 🙁


          Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

          জবাব দিন
    • পারভেজ (৭৮-৮৪)

      অনেক ধন্যবাদ, আপনার এই মন্তব্য রাখার জন্য।
      বিশেষ করে "আপনার কবিতা গুলো পড়ে মনেহয় যেন আমার লিখা, কারন......." - পড়ে শুধু আনন্দই পেলাম না, রীতিমত শিহরিত হলাম।
      আগেও একবার আপনি এরকম একটা কথা বলেছিলেন, মনে আছে।
      সেদিনও একই রকমের শিহরন জেগেছিল।
      মনে হয়েছিল, একজনকে হলেও লিখাগুলো যে ভাবাচ্ছে, আনন্দ দিচ্ছে - সেটাই বা কম কি?
      এবারও একই কথা মনে এলো।
      আশা করছি, ভবিষ্যতেও এইভাবে এসে এসে কিছু কথা বলে যাবেন।
      আর তাতে কি যে উৎসাহ পাবো আরও লিখালিখির, ভাবতেও পারবেন না!!!

      অনেক ধন্যবাদ, আবারও।
      ভাল থাকবেন.........


      Do not argue with an idiot they drag you down to their level and beat you with experience.

      জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।