আজিজ মিসির আর রেবেকার ডিভোর্স হয়েছিল পনের বছর আগে । সেটার একটা যুক্তিযুক্ত কারণ ও ছিল।দেশের একজন বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হিসেবে মিসির নিজের ছবি, আর্ট কম্পিটিশন নিয়ে এতোটা ব্যস্ত থাকত। বড় লোকের মেয়ে রেবেকা যদিও ওকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল, কিন্তু ওর ওকে সময় না দেয়াতে সে ধীরে ধীরে বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে মিসিরের উপরে।
রেবেকার বাবা-মা যদিও মেয়ের বিয়েটা মেনে নিয়েছিলেম, কিন্তু তাঁরা চাইতেন ভার্সিটি থেকে চারুকলায় গ্রাজুয়েট মিসির ছবি আঁকা ছেড়ে দিয়ে একটা সরকারি জবে ঢুকে যাক।
টুবিতা মালা
১। (ভূমিকা)
আপন মনে, গেলাম বুনে, টু-লাইনের কবিতা
– আদর করে নাম দিয়েছি ‘টুবিতা’।।
২। (গৌরচন্দ্রিকা)
আমি বলি, আমারেও ধরিলো কি ও রোগে?
ছড়া কেটে ঘুরি কেন কবিদের সড়কে!
৩। (হুমায়ুন আহমেদ স্মরণে)
গল্প থেকে মানুষগুলো নামিয়ে দিতেন বাস্তবে,
হঠাত বলে গেলেন চলে, ‘আজ এখানেই থাক তবে’
বিস্তারিত»
বাড়ি ফেরা
বাসায় ফেরার দিনে সময়টা খুব দ্রুত কেটে যায়। সকল কাজকর্ম অন্যদিনের তুলনায় একটু আগেই শেষ করে ফেলতে ইচ্ছে হয়। করেও।একটু তাড়া থাকেই। সহকর্মীদের মৃদু হাসি…আসন্ন কোনো ষড়যন্ত্রের আভাস কি? যার উৎপত্তি ওদের যার যার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে।
বাইরে বের হতে হতে সোয়া সাতটা বেজে যায়। অন্যরা আরো পনের মিনিট আগেই বের হয়েছে। অফিস গেটের সামনের চায়ের দোকানগুলোতে অলস আড্ডা দিচ্ছে কেউ কেউ।
বিস্তারিত»ফিরে দেখা
১
২০১১ সালের সেপ্টেম্বর এর মাঝামাঝি । আমরা সাত দিনের শিক্ষাসফরে । জলপাই রঙের লক্কর ঝক্কর মার্কা কলেজ বাসে করে বেরিয়েছি । দিনের অধিকাংশ সময় কাটছে বাসের ভেতর যেন । নিজেদের বোঁটকা গন্ধে নিজেদেরই নাড়ি উল্টে আসে । আমরা যারা ষড়যন্ত্র করে পেছনের সিটগুলো দখল করেছিলাম, তাদের বাইরের মানুষদের বিরক্ত করেই সময় কেটে যেত । পাশ দিয়ে একটা মোটরসাইকেল যাচ্ছে,ওমনি আমরা “ও ভাই!
বিস্তারিত»আমি জেলে আসার পর
মূল কবিতাটি টার্কিশ কবি নাজিম হিকমেত রানের।কবিতার নাম:Ben içeri düştüğümden beri,অনুবাদ করা সবসময়ই কঠিন কাজ,আর তা যদি হয় নাজিম হিকমেতের কবিতা তা আরও কঠিনতর হয়ে ওঠে।এটাই আমার প্রথম অনুবাদ,সময় সুযোগ আর সাহস পেলে আরও টার্কিশ কবিতা অনুবাদের দুঃসাহস দেখাবো
আমি জেলে আসার পর সূর্যের চার পাশে দশ দশবার ঘুরে এসেছে পৃথিবী,
পৃথিবীকে জিজ্ঞেস করলে বলবে দশ বছর? এতো কিছুই নয়,অণু পরমাণুর মতই ক্ষুদ্র এক সময়।
ব্যক্তিগত রেসিপি-১০
আমার প্রাণের পরে চলে গেলো কে
বসন্তের বাতাসের মতো একটা পোস্টকার্ড এসেছে আজ অফিসের ঠিকানায় – সেখানে সবকটা গাছে আগুন লেগে আছে আর হ্রদের উদ্দামরকমের নীল পাড়ে থোকা থোকা সে-আগুন উল্টো ঝুলে আছে। আমি ব্যস্ত ঢাকার ভেতরে এক ডুবে সাঁতরে সে হ্রদের পাড়ে গিয়ে মাথা তুলতে’ পৃ-র দেখা পেয়ে যাই। তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছিয়ে দিতে দিতে বলে – কতক্ষণ ধরে ডাকছি!
‘এই ভালো।
বিস্তারিত»নক্ষত্রেরা ফিরে গেছে
সারাদিন কর্মব্যস্ত। সেই সাড়ে পাঁচটার পর নিজের বলে কিছু সময় পাওয়ার শুরু। আসলেই কি নিজের সময় বলে কিছু রয়েছে ওর জীবনে। অফিস আওয়ারের পরে বাসায় সময় দেয়া। বাসা বলতে বাসাই। এখনো যখন বাড়ি হয়ে উঠেনি, বাসাই বলতে হচ্ছে। ছোট্ট একটি শান্তির নীড়… কিন্তু ওর বাসাটা ছোট ঠিকই, তবে শান্তি রয়েছে কিনা… সেটি পরীক্ষার বিষয়। পাখির বাসা দেখে দেখে সেরকম একটা বাসার কল্পনা করেছে। কিন্তু পাখি কখন বাসা বাঁধে?
বিস্তারিত»অডিও ব্লগঃ চার
সাজেক ভ্যালি থেকে নিলয় কল করে বলেছে, ডার্লিং আম্মা তুমি এখনই চইলা আসো এই ভ্যালিতে নইলে এ জীবন রেখে তোমার কি হবে বলো!
আমি সাজেক ভ্যালির নাম শুনি নাই আগে, যদিও অস্ট্রেলিয়ার বারোসা আর কেপারটী ভ্যালির রূপে মুগ্ধ হয়েছিলাম অনেক আগেই। নিলয়ের চোখে আমি বাংলাদেশের সাজেক ভ্যালি দেখি তের নদীর ওপার থেকে আর তাতেই আমার মুগ্ধতা কাটে না! সত্যি এ জীবন রেখে কী হবে আর!!
বিস্তারিত»যাযাবরের দৃষ্টিপাত
আমার পড়ার অভ্যাস তৈরী হয়েছিলো একেবারে ছোটবেলা থেকেই। পড়াটা শুধু গল্পের বইকেন্দ্রিক ছিল না, চোখের সামনে যা পড়তো তাই পড়া শুরু করে দিতাম, নতুন বা পুরাতন পত্রিকা, ম্যাগাজিন, লিফলেট এমনকি লন্ড্রি থেকে কাপড় ফেরত দেবার সময় পুরোনো পত্রিকার যে টুকরো কাপড় দিয়ে কাপড়গুলো মুড়ে দিত সেটাও বাদ যেত না।
সেবা প্রকাশনীর কল্যানে এই পড়ার ক্ষুধা মেটানোর জন্য বিশাল ভান্ডার পেয়ে গেলাম, গোয়েন্দা রাজু থেকে শুরু,
বিস্তারিত»Mocha উইথ আ ‘k’ ফ্রম মিশিগান – ৪র্থ সংস্করণঃ তোমার শীতল স্পর্শে আমার ফ্রস্টবাইট।
অল্প লিনাক্স বিদ্যা কার্যকরী
লাইব্রেরীর তিনটি তলার মোট শ-খানেকের উপরে কম্পিউটারের সবগুলো কারো না কারো দখলে। শুধুমাত্র দ্বিতীয় তলার ৬টি কম্পিউটার খালি পড়ে আছে। অবাক হয়ে কাছে গিয়ে দেখি ছয়টি কম্পিউটারের স্টিকারে লিখা “লিনাক্স বুট অনলি।” চলচিত্রের বিখ্যাত ভিলেন প্রয়াত রাজিবের মত অট্টহাসি দেয়ার ইচ্ছা সংবরণ করে একটিতে বসে পড়লাম। আইন ও পলিসি সায়েন্সের ছাত্র হয়ে লিনাক্সভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের প্রতি ভালবাসাটা বেশখানিকটা “সমাজ বহির্ভূত”
অণু ব্লগঃ তিন
আমাদের বাড়ীর কাছেই রুবি ফলস। এর আগেও বার কয়েক গেছি মাটির নিচের এই রূপের জলধারা দেখতে। এবারের জার্নিটা একটু অন্য রকম কারণ কানাডা থেকে ভাই-ভাবী এসেছেন, আর আমি তাদের গাইড হয়ে আমেরিকার রূপ বৈচিত্র্য দেখাতে বেরিয়েছি। হাজার উপায়ে আমাকে তো তাদের কাছে প্রমাণ করতে হবে যে রূপে গুণে কানাডার চাইতে আমার দেশটি উত্তম! আমাদের বাড়ী থেকে মাত্র দুশো কিলোমিটার দূরে এই মেঘ পাহাড়ের দেশ। সবাই মিলে গল্প করতে করতে যখন টেনেসি পৌঁছুলাম আলো ঝলমলে একটি দিনের শুরু হয়েছে সবে।
বিস্তারিত»আমেরিকা আবিষ্কার (ভানু ই প্রথম)
উপস্থাপক: আচ্ছা ভানুবাবু, কানাঘুষা শুনলাম আপনি নাকি দাবী করেছেন যে, কলম্বাস নয় আপনিই প্রথম আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন?
ভানু: কি কইতাছেন কানাঘুষা! না না, এগুলা আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য কেউ কেউ বইলা থাকেন। আমি কানাঘুষায় বিশ্বাসী না, আমি পাবলিকের কানে ঘুসা মাইরা মাইরা তত্ত্বকথা ঢুকাইতে বেশি পছন্দ করি।
উপস্থাপক: সে কি? আপনি এরকম মাস্তানদের মত গায়ের জোরে …
ভানু: আরে রাখেন আপনার গায়ের জোর!
ইশকুল
[প্রাইমারী স্কুলের কথা ভেবে লেখা]
মনে পড়ে ইশকুল, টিফিনের ঘন্টা
ছুটি শেষে হুল্লোড়, হা হা হি হি মনটা
ঘুণে ধরা জানালায় কড়ামিঠে রোদ্দুর
বেঞ্চিতে উসখুস, টিফিনের কদ্দূর ?
মা’র দেয়া দু’টাকায় কিনে খাওয়া চালতা
মনে পড়ে সেই মেয়ে, যার পায়ে আলতা।
অডিও ব্লগঃ তিন
১ আমার মা তার জমানো সব সিকি আর আঁধুলী দিয়ে আমাদের জন্য একদিন হারমোনিয়াম কিনে নিয়ে এলেন। ওস্তাদজী সুনীল ধর এলেন আমাদের দুই বোনের তালিম দিতে। সপ্তাহে দুইদিন ওস্তাদজী আসেন সন্ধ্যার পর। ঐ দুইদিন আমাদের পড়াশোনা মাফ। বড় আপা আর আমি প্রতিদিন ভোরবেলা রেওয়াজ করতাম। ওস্তাদজী এলে বাবা চায়ের কাপ হাতে নিজেও বসতেন আমাদের পাশে, পান চিবোতে চিবোতে আঁচল টেনে মাও এসে বসতেন বাবার পাশে।
বিস্তারিত»ঢাবিকে নিয়ে এক কিস্তি…
ভাবছিলাম এটা নিয়ে কিছু বলবো না, কিন্তু আর থাকতে পারলাম না। লিখেই ফেললাম আমার প্রিয় ঢাবিকে নিয়ে।
একবার ক্লাস শেষে ডাকসুর সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। কোন এক বাম দলের ‘বিরাট’ মিটিং হচ্ছে। কংক্রিটের রাস্তায় বসা দুইজন শ্রোতার চেয়ে মঞ্চে উপবিষ্টের সংখ্যা বেশি। মাইক বাজছে তারস্বরে। রাস্তা খোড়া শুরু হলেও বাঙ্গালী দাঁড়িয়ে যায় মনোযোগ দিয়ে দেখার জন্য। আর সেখানে এত জ্বালাময়ী বক্তৃতা! আমি তো বাঙ্গালীই!
বিস্তারিত»