ইশকুল

[প্রাইমারী স্কুলের কথা ভেবে লেখা]

মনে পড়ে ইশকুল, টিফিনের ঘন্টা
ছুটি শেষে হুল্লোড়, হা হা হি হি মনটা
ঘুণে ধরা জানালায় কড়ামিঠে রোদ্দুর
বেঞ্চিতে উসখুস, টিফিনের কদ্দূর ?
মা’র দেয়া দু’টাকায় কিনে খাওয়া চালতা
মনে পড়ে সেই মেয়ে, যার পায়ে আলতা।

পিটি ক্লাসে মহী স্যার, হাতে তার বেতটা
পূব পাশে আউষের ভরা ধান ক্ষেতটা।
সকালেতে রেডি হওয়া রোজ সাড়ে সাতটা
যেতে যেতে বড়াপু’র ধরে থাকা হাতটা।
দরজার এক কোণে বাসা বাঁধা ভীমরুল
বেঞ্চিতে পাশে বসা হাসিখুশি ইমরুল।
বাক্সতে সাদা চক, ক্ষয়ে যাওয়া ডাস্টার
পান খেয়ে পিক ফেলা হরিপদ মাস্টার।
স্কুলমাঠে বসে থাকা বুড়ো বটগাছটা
মারপিট করে ছেঁড়া পকেটের কাছটা।
কানধরে উঠবস, গুনে গুনে বিশটা
লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, সুন্দরী মিস টা।
খসখসে মলাটের আনকোড়া বই রে
ভাঁজে ভাঁজে লেগে থাকা গন্ধটা কই রে।
ছেলেবেলা, এতকিছু গেল ওরা কৈ সব
পেন্সিলে আঁকা সেই অনাবিল শৈশব।
এত হাসি , এত রঙ, এত হৈ চৈ শোর
মনে পড়ে ইশকুল, মনে পড়ে কৈশোর।

১,২৪৩ বার দেখা হয়েছে

৯ টি মন্তব্য : “ইশকুল”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।