অডিও ব্লগঃ তিন

১ আমার মা তার জমানো সব সিকি আর আঁধুলী দিয়ে আমাদের জন্য একদিন হারমোনিয়াম কিনে নিয়ে এলেন। ওস্তাদজী সুনীল ধর এলেন আমাদের দুই বোনের তালিম দিতে। সপ্তাহে দুইদিন ওস্তাদজী আসেন সন্ধ্যার পর। ঐ দুইদিন আমাদের পড়াশোনা মাফ। বড় আপা আর আমি প্রতিদিন ভোরবেলা রেওয়াজ করতাম। ওস্তাদজী এলে বাবা চায়ের কাপ হাতে নিজেও বসতেন আমাদের পাশে, পান চিবোতে চিবোতে আঁচল টেনে মাও এসে বসতেন বাবার পাশে। চোখ বুজলে এখনো দেখতে পাই রফিক ট্রেতে মিষ্টি আর চা নিয়ে এলে মা আমাদের সবাইকে প্লেটে তুলে দিচ্ছেন খাবার। ওস্তাদজী বাবার সাথে গল্প জুড়ে দিতেন চায়ে চুমুক দিতে দিতে। গান তখনো বাজারের সওদা হয়ে ওঠে নাই। ঘরের মেয়েরা দুটো চারটে গান গাইবে অথবা তানপুরায় গলা সাধবে এমনটাই রেওয়াজ ছিল। পেটমোটা সাদা কালো টেলিভিশনে তখনো বাংলাদেশ খোঁজে নাই আমাদের!

২ আমাদের সময়ে ভালবাসাটা ছিল কবিতায় আর গানে। ফিতাওয়ালা ক্যাসেটে যখন “আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে” প্রথম শুনেছিলাম তখন কল্পিত রাজকন্যা নয়, গুটলু পুটলু একটা রাজপুত্রের ছবিই চোখে ভাসতো! পরবর্তীতে যার প্রেমে পরলাম তাকে ঠিক গোপালা গোপালা বলা যাবে না মোটেও। আজ হাজার বছর পর “আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা” বাজালাম তোমাদের জন্য। সাথে পরীক্ষামূলক ভাবে যোগ করলাম পিয়ানোর সেট মিউজিক।

আমাদের নূপুরের মন কিছুতেই ভরছিল না আমার রাগ শুনে। আমি বলি নূপুর, এ তো রাগ নয় গো, এ যে অভিমান!!

এঞ্জয়!

২,২৯৫ বার দেখা হয়েছে

২১ টি মন্তব্য : “অডিও ব্লগঃ তিন”

  1. নূপুর কান্তি দাশ (৮৪-৯০)

    আপনার সুর শুনতে পাবার জন্যেই বোধ হয় এতক্ষণ জেগে বসেছিলাম। সার্থক হল।
    তবলা মিস করছি। রাগ কইরেন না আপা। আবদার বেড়েই চলেছে।
    অতীব ভালো লাগছে রাগখানা।

    জবাব দিন
  2. জিয়া হায়দার সোহেল (৮৯-৯৫)

    অসাধারন হইছে এইখান। বর্ণনাটাও মুগ্ধ করেছে। আমি যে পাগল হলাম আপু। শ্যামল মিত্রের এই প্রিয় গানের পিয়ানো শুনে সকাল শুরু হল। :clap: :clap: :clap:

    জবাব দিন
  3. খায়রুল আহসান (৬৭-৭৩)

    যে পিচ্চি বয়সে বড়ভাইদের মুখে মুখে শুনে শুনে গানটা প্রথম আমার ঠোঁটে এসেছিলো, তখনো কোন রাজকণ্যা সম্বন্ধে ভাবতে শিখিনি। তবে গানটা গুনগুন করে গাইতে খুব ভালো লাগতো।
    বাজনা খুব সুন্দর হয়েছে, দুটোই।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।