বন্ধু, তোমার ফেলে যাওয়া পথে ঘাসেরা বাড়ে
বন্ধু, তোমার ফেলে যাওয়া নদীটা শুকিয়ে মরে
বন্ধু, তোমার কুড়িয়ে পাওয়া ঝিনুকেরা খোলস ছাড়ে
বন্ধু, তোমার ফুলেরা নীরবেই ঝরে
বন্ধু, তোমার দিনেরা বয়েই চলে
বন্ধু, কেবলই ঘুন ধরে-
তোমার ফেলে যাওয়া স্মৃতির ভাগাড়ে।
যেতে যেতে তবু ফিরিয়ে নিও ধূসর এই পথ,
মৃতপ্রায় নদী, হারানো সময়; কিংবা অথৈ প্রেম।
আবার আবাদী হোক হৃদয়;
হঠাৎ ঝলক (ভৌতিক গল্প)
রবিন ছেলেটাকে আমার একটুও পছন্দ হয় না। দেখলেই গায়ের মধ্যে জ্বলে ওঠে। রাগে, হিংসাই আমার মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। আর তখন পৃথিবীর সমস্ত গালিগুলি আমি তাকে একটার পর একটা বিড়বিড় করে দিতে থাকি। মনে হয়, যেন লাফ দিয়ে ওর গলাটা টিপে ধরি। অবশ্য ছেলেটির মধ্যে বেশ কয়েকটি ভালো গুন আছে। যেমন- ভদ্রতা, নম্রতা, সুরুচিবোধ ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার বেস্টফ্রেন্ড অর্ণবকে সে বস করে ফেলেছে। প্রত্যেক স্যারের মুখে তার প্রশংসা।
বিস্তারিত»রাধাকথন-৫
নিষাদ-ঋষভ-গান্ধার
ছুঁয়ে
তীব্র মধ্যমের
জর্জর কম্পিত আলাপে
কেটে গেছে কাল
তোর প্রতীক্ষায়
রাতভর
ইমন কল্যাণ বাজিয়েছিল
ধুলোমলিন, পরিত্যক্ত সেতার
বারংবার
ঝালায় ঝালায়
রক্তাক্ত আঙুল
নেচে বেড়িয়েছে
ল্যাপটপে
জানলার গরাদে
ফুটিয়েছে
ব্যর্থ ত্রিতাল
এলিনা হায় পার্থসখা
না হয় সেতার হত রাধিকা,
তুই
যুবক বিলায়েৎ খাঁ!
কান নিয়েছে চিলে…
আমাদের মুমিন ভাইয়েরা ব্যাপক উতসাহে আমেরিকার স্যান্ডি ঘুর্নিঝড়ের খবর প্রচার করছেন, এই ১০০ মানুষের মৃত্যুতে, কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতিতে তারা যারপরনাই খুশি। আল্লাহর গজব এক্কেরে হাতেনাতে পেয়ে গেছে আমেরিকা। এর চেয়ে খুশির সংবাদ আর কি হতে পারে? আসুন খুশির সংবাদ কিভাবে বাড়িয়ে চাড়িয়ে প্রচার করতে হয় দেখি। একটি পোস্টার নজর কাড়লো। অনেক মুমিন ভাইয়েরা তা বিপুল উতসাহে প্রচার করছেন।
যে পোস্টারটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন তাতে কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিস্তারিত»অচিন মানুষ
অচেনা মানুষ, এসো আমার সিঁথানে-
চুল এলো হোক বাতাসে, আমরাও ডুবি অচিন আমোদে।
এতটা পথ এলে একাকী? একেবারেই একা?
যেতে যেতে বহুদুর ফিরে এলাম এই বেলা,
পেতে পেতে বহুকিছু ফেলে এলাম এই বেলা,
আহারে অচিন মানুষ! তোমারে যদি দেখানো যেত-
সেই একমুঠো বকুল, প্রথম চুম্বন, নিষিদ্ধ শিহরন,
সেই একফালি চাঁদ, পুরোনো আদর, রোদেলা চাদর,
সেই একখানি হাসি,
ঘুন
বুকের ভিতর ঈর্ষা পুষি, ভালবাসা কীসের?
হৃদয়জুড়ে ক্রোধের আগুন, শান্ত থাকা কীসের?
মনটা জুড়ে সারাটা ক্ষণ ঘৃণাই যাচ্ছি বুনে;
কী লাভ আবার প্রেম-পিরিতির মিথ্যে কিচ্ছা শুনে?
ভাল মানুষ সেজে থেকে, আর কতদিন যাব বেঁচে-
আপন মানুষটারে?
লোকলজ্জা, সংশয়েতে দুলব শুধু এদিক ওদিক-
একটু সময় পেলে
কে বা ছোটে জীবন পানে উজান জগত স্রোতে?
মিথ্যে সবই, মিথ্যে কেবল-
চলছে শুধু কথার চরকা বুনে।
নিতান্ত ফ্রয়েডীয়

তারপরও জেনো,এই বোকা বাঁশীওয়ালাই
জিতে নিতে চায় সকল মুগ্ধতা,ঘামের মাদক ঘ্রাণ
নরোম মুখের স্বাদ,ছন্দোবদ্ধ নিঃশ্বাস,প্রেম ও
বোতাম ভাঙার দায়-তোমার সর্বস্ব বিদ্যুৎ!
কাকে ভালোবাসতে,কাকে বাসো,তোমার অতীত বৃত্তান্ত
তা নিতান্ত নগন্য;আজকাল প্রায়ই ডুবেও থাকি তোমাকে
জিভ-চুমু খাওয়া,তোমাতে ডুবে যাওয়া ইত্যাদি সব
নষ্ট স্বপ্নদৃশ্যে-আর মনে মনে বলি,”আমাকে পুড়িয়ে করো ছাই!”
বইমেলা ২০১৩
আপডেট
যারা যারা লেখা পাঠিয়েছেন সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আবার অনেকে লেখা দিবেন বলেছেন, শেষ করতে পারেন নি বলে কিছুদিন সময় চেয়ে নিয়েছেন। আশা করি একটা মানসম্মত সাহিত্যপত্রিকা সবাইকে আমরা উপহার দিতে পারব (আমি শুধু বইমেলায় একটা প্রকাশনা বের করা থেকে নিয়মিতভাবে, সম্ভব হলে ত্রৈমাসিক, নিদেনপক্ষে ষান্মাষিক বের করার পক্ষপাতী)। নূপুর ভাই আর কুমিল্লার রফিক-উম-মুনীর ভাই অনেক সাহায্য করছেন, বিশেষ একটা ধন্যবাদ উনাদের প্রাপ্য।
বিস্তারিত»আমার বাবা-বেলা – ২
[পাঁচ] আমার ছোটটির বয়স তখন তিন কি চার। বাবার সাথে সবকিছুতে তার উত্সাহ। সবচাইতে কৌতুহলপূর্ণ জায়গা রান্নাঘর। একদিন সকালবেলা এবং উইকএন্ড। ওদের ডিমের প্রতি খুব একটা আসক্তি নাই। তাই আসক্তি জাগাবার জন্য আহ্বান করলাম, ”কে আমার সাথে ডিম ভাজা করবে?” বড়টির কোন উত্তর পাওয়া গেলো না। ছোটটি গুটি গুটি পায়ে ঢুকলো। আমি তখন একটি ডিম ওমলেট করবো বলে ভেঙে বাটিতে রাখছি। সে গভীরভাবে ডিম ভাঙার পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করলো।
বিস্তারিত»আমার সুকুমার পরিচয়
রামগরুড়ের ছানা, হাসতে তাদের মানা,
হাসির কথা শুনলে বলে-
হাসব না-না,না-না…..
ছোটবেলায় মায়ের মুখে শুনতাম, আর হয়ত না বুঝেই খিলখিল করে হেসে উঠতাম। জানতাম ও না যে মা আমাকে কোন বিশাল এক সমুদ্র পাড়ের নুড়ি পাথরের স্বাদ দিচ্ছেন, গন্ধ দিচ্ছেন, ছোঁয়া দিচ্ছেন । নিজেকেই মনে হত একটা রামগরুড়ের ছানা 🙂 । আপনাকে চিনতে পারিনি তখন, ক্ষমা করবেন ।
কি বিচিত্র সুন্দর সৃষ্টির পসরা যে আপনি সাজিয়ে রেখে গেছেন তা বুঝতে একটু দেরীই হয়েছে বোধহয়।
তবু পাশে থাকো
আরো কিছুখন থাকো পাশাপাশি
অন্ধকার, তবু
কান পাতলেই শিশির ঝরার টুপ টাপ টুপ… কান পাতলেই।
যদিও এখন কান না পেতেই পায়রার কান্না শুনি… সবখানে।
তবু পাশে থাকো
পাশে আছি বলে আঁধারেও ডাকে কোন কোন পাখি
গাছে ফোটে ফুল
ভগ্নাস্তুপে বুদ্ধ হাসেন মৈত্রীর হাসি
বলেন, “সকল প্রাণী সুখী হোক”।
বিস্তারিত»কে হায় হৃদয় খুঁড়ে – ২
হাউস বেয়ারা শুক্কুর আলি……………… গোমতী হাউসের । যে থাকলে হাউস সম্পূর্ণ স্বাধীন ঘোষনা করা যায়, আমাদের বিজয়ের তেরাংগা পতপত করে ওড়ে আকাশে বাতাসে।সিগারেট এনে দিতে হালকা পাতলা আপত্তির অধিকারী।বাদবাকি ব্যাপার বিন্দাস…।হাউস লাইব্রেরী লুট করা যায়, তাকে গার্ড হিসেবে বসিয়ে করিডোরে ক্রিকেট খেলা যায়, যার দরুন জুনিয়র ক্যাডেটকে জ্বালাতে হয়না, লেটেস্ট রিলিসড গানের সিডিগুলো পাওয়া যায় গরম গরম। আন্তঃহাউস আম-আটি হাত বদলে তার ভূমিকা অনন্য (আমরা সিডি প্লেয়ার কে বলতাম আম ,
বিস্তারিত»ঘটনাপঞ্জি ১
১
তখন আমরা ক্লাস সেভেনে পড়ি। তখন নাইট প্রেপের পরে কাউন্টিং বলে একটা জিনিস হত। রাতে প্রেপ থেকে এসে ২ মিনিটের মধ্যে ড্রেস চেঞ্জ করে হাউস অফিসের সামনে এসে এক লাইনে দাঁড়াতে হবে, তারপরে কাউন্টিং। যদিও নিয়মটা সবার জন্যেই প্রযোজ্য ছিল, কিন্তু কাউন্টিং আসলে হত সেভেন, এইট আর নাইনের। ক্লাস টেনের হত, তবে ইমিডিয়েট সিনিয়র জেপি হলে তারা আর আসত না। মানে আমরাও আর যাই নি।
বিস্তারিত»ভেতরে কেউ কাঁদছিল
লেখালেখির বিশেষ কিছু না পেয়ে অগত্যা কবিতাপাঠ।আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি কবিতা।
কবিতা: কাঁদছিল, কেউ কাঁদছিল। সৈয়দ শামসুল হক।
সুর কৃতজ্ঞতা: Missing you, আনন্দ শংকর।
কাঁদছিল, কেউ কাঁদছিল
ভেতরে কেউ কাঁদছিল তখন থেকে কাঁদছিল
সেই তখন থেকে
যখন আমার সাজানো এক ঘর ছিল
যখন তার দরোজা থেকে বিরাট তালা ঝুলছিল
ভেতরে কেউ কাঁদছিল
তখন থেকে যখন থেকে
তোমার মতো কারোর দিকে দেখার দুটো চোখ ছিল
যখন কিছু বলতে গিয়ে
হঠাৎ করে ভয় ছিল
নাম ধরে যে ডাকব তখন
সেই সাহসের টান ছিল
তখন থেকে কাঁদছিল ভেতরে কেউ কাঁদছিল
কানে আমার যাচ্ছিল
বোকা যেমন –
“ক্যাডেট” শব্দটা আমার কাছে “স্পেশাল ওয়ান” কিংবা “অনলি ওয়ান”
“ক্যাডেট” এই শব্দটাকে আমার কাছে মনে হয় – “স্পেশাল ওয়ান” কিংবা “অনলি ওয়ান”। ১১/১২ বছরের একটি কিশোর এর কাছে ক্যাডেট কলেজে চান্স পাওয়াটা যেন আনন্দের এক বঙ্গোপসাগর । বাবা-মা’র হাসিমাখা মুখ, পাড়া-প্রতিবেশী সবার অগনিত প্রশংসা, বন্ধুমহলের সবার কাছে এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তির স্থানলাভ কিন্তু এত আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই চলে আসে কলেজে যাবার ডাক। মনের মাঝে হাজারো স্বপ্ন সাজিয়ে কোন এক সকালে ব্যাগ-পত্র গুছিয়ে বাবা-মা-ভাই/বোন’কে সাথে নিয়ে সেই কিশোরের যাত্রা শুরু হয় ক্যাডেট কলেজের উদ্দেশ্যে ।
বিস্তারিত»