একটা লেখা পড়লাম আজ। লেখাটা অনেক বেশি টাচি। তাই ভাবলাম সিসিবি’র সবার সাথে লেখাটা শেয়ার করি-
১.
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমাকে একট গল্প শুনিয়েছেন। গল্প নয়, সত্য ঘটনা। চীনের এক দম্পতি কম্পিউটারে এক নতুন খেলা পেয়েছেন। একটা বাচ্চাকে লালন-পালন করতে হয়। তাঁরা সারাক্ষণ কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাকেন। এই বাচ্চাকে খাওয়ান, পরান, গোসল করান। এই বাচ্চার প্রতি তাঁদের যত্নের সীমা নেই। তাঁরা একেবারেই মগ্ন হয়ে গেলেন।
অপরাজিতার সাথে প্রথম দেখার দিনই বুঝে গিয়েছিলাম- অপরাজিতা রাস্তাঘাটে ছেলেদের চড় মারতে সিদ্ধহস্ত। মেয়েরা যে রাস্তাঘাটে ছেলেদের দুই একটা চড়-থাপ্পড় মারে না, এমন তো নয়। এমন ঘটনা অনেক দেখেছি, পাড়ার মোড়ের হীনমন্য দুর্বল ধরণের বখাটে শিষ দিয়ে পালিয়ে না গিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। যে মেয়েটার উদ্দেশ্যে শিষটা দেওয়া, সে এসে শিষের জবাবে বখাটের বাম গালে চড় বসিয়েছে। বাসে দেখেছি মেয়েদের গায়ের উপর ঢলে ঢলে পড়া স্পর্শ লিপ্সু পুরুষেরা স্যান্ডেলের বাড়ি খেয়ে জাতে উঠছে।
অণুগল্প লিখবো বলে অনেক আয়োজন করে বসেও থেমে যেতে হয় শুরুতেই। ট্রেনের হুইসেল শুনে কানপাতি আমি, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে আপনমনেই বলি,” মহানগর এক্সপ্রেস! ট্রেন এসে গেছে!” নৈঃশব্দের রাজ্য ক্যাডেট কলেজের নীরব-নিশ্চুপ বাতাস কেটে ট্রেনের হুইসেল থেকে থেকে কানে আসে অনেকক্ষণ। স্পষ্ট শুনতে পাই, হেলেদুলে যেতে যেতে ট্রেনটা আমাকে বলছে,” ভালো থেকো খেয়াসোনা!” শ’কিলোমিটার দূরে বসে এই ট্রেনের জন্যে যে আরেকজন অপেক্ষা করে থাকে।
গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে একটা ফোন এল।রিসিভার তুলতে ওপাশ থেকে মেয়েলী কন্ঠ ভেসে এলো –
ঃ এখানে শিউলি আছে?
ঃ শিউলী? কি করেন তিনি? (আমি অবাক হয়ে বললাম)
ঃ আমার নাম পারভীন, আমরা একসাথে অনার্স পরীক্ষা দিয়েছি।
ঃ আপনি কত নাম্বারে রিং করেছেন?
ঃ ৪০৫৭০৪
ঃ হ্যাঁ,
হংসধ্বনি আমার প্রিয়তম রাগসমূহের একটি।
হঠাৎই সিসিবির সবার সংগে অধমের অক্ষম প্রচেষ্টাটি শেয়ার করতে ইচ্ছে হলো।
বিরক্তি উৎপাদনের জন্য আগেভাগে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
বাদনযন্ত্র: মোহনবীণা।
নীলস বোর এর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষারত সময় পদার্থ বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর…….. প্রশ্নঃ একটি ব্যারোমিটারের সাহায্যে কিভাবে একটি গগণচুম্বী বহুতল ভবনের উচ্চতা নির্ণয় করা যায় বর্ণনা কর ? উত্তরঃ “আমাদেরকে ব্যারোমিটারের মাথায় একটা দড়ি বাধতে হবে। এরপর ব্যারোমিটারটিকে ভবনের ছাদ থেকে নীচে নামিয়ে মাটি পর্যন্ত নিতে হবে।তাহলে ব্যারোমিটারের দৈঘ্য আর দড়ির দৈঘ্য যোগ করলেই ভবনের উচ্চতা পাওয়াযাবে।” এরকম সোজাসাপটা উত্তর পরীক্ষককে এমন রাগিয়ে দিল যে তিনি ততক্ষণাত ছাত্রটিকে ফেল করিয়ে দিলেন।
১.
নিজের সাথে নিজের এই ক্লান্তিকর খেলা শেষে রমণোত্তর বালকের হতাশা দেশে ফেলেছিলো এক নিরুত্তাপ তরুণী।এই দেখে তারও বোধহয় সাধ হয়েছিলো সন্ন্যাসের।তাই নদী ভ্রমন থেকে ফিরে এসে সে ঘরে যায় নি আর,জলপ্রপাতের তুমুল জলরাশির ভেতর হারিয়ে যেতে যেতে একমুহূর্তে ডেকে উঠেছিলো বালককে।
বালক তখন গভীর নিদ্রায় অচেতন হয়ে মুছে নিতেছিলো সমগ্র রাত্রির পাপ ও ক্লান্তি।তাই সেই নারী কন্ঠের ডাক একটি অসহায় পাখির কূজনে ট্রান্সলেট হয়ে ঢুকে পড়েছিল বালকের স্বপ্নের ভেতর।
আমার সর্বাংগ অসাড় হয়ে আসে অক্ষমতার ভারে।
নিজের জন্য, আপন মানুষের জন্য, দুঃখিনী দেশের জন্য-
বড্ড অপ্রতুল আমার সক্ষমতা।
গোটা দেশ জুড়ে, ঘরে ঘরে, মাঠে-প্রান্তরে চলছে উতসব!
ক্লেদাক্ত কামের, বিস্ফারিত লোভের, নির্ভেজাল স্বার্থান্ধতার আঁধারে
নিভু নিভু জ্বলে যায় মানবতা, সস্তা যত বোধ আর ভগ্ন চেতনা।
আমাকে যখন পিছমোড়া করে বেধে নিয়ে যাওয়া হয়, আমি নির্বাক!
আমাকে যখন চোখ বেধে নিয়ে যাওয়া হয়,
যখন কোন মানুষের জীবনের ইচ্ছাটাই একটা অ্যাডভেঞ্চারের নায়ক হবার, তখন সে মানুষকে কি আর কেউ আটকাতে পারে? নতুন নতুন অ্যাডভেঞ্চারের বুদ্ধি তার মাথায় নাড়া দিয়ে উঠতো। আর বুদ্ধিগুলোও ছিল অনেক আজব, অনেক রোমাঞ্চকর। বলা চলে, “যা আগে কেউ কোনো দিন ভাবেনি”। সে যা করতো আর যেভাবে করতো, তা অবশ্য ম্যাকগাইভারি বুদ্ধিই বলা চলে। অনেকটা সিনেমাতে যে ভাবে দেখা যায়, ঠিক সে রকম। আর তার সময় পরিমাপের ধরনটাও ছিল অসাধারণ।
বেশ কয়েক বছর আগে একজন সাহিত্যের শিক্ষক আমাদের ক্লাশে বলেছিলেন, একজন কবির কাছে কবিতা জন্ম দেয়া নাকি অনেকটা সন্তান প্রসবের মতই একটা ব্যাপার। যতক্ষন কবিতাটা বের না হয়, একটা যন্ত্রনা হতেই থাকে। আর বের হবার সাথে সাথেই এক অনাবিল প্রশান্তি। এ বিষয়ে আমার উপলব্ধি হল, মনের কথা বলে ফেলার মধ্যেই একটা বিরাট রিলিফ কাজ করে। তা সে সুখের হোক,
পরদিন পরীক্ষা। এই চিন্তায় কিনা জানি না,রাত ১২ টায় যখন ফেসবুক ব্রাউজ করছিলাম দেখলাম-পরীক্ষার হলে অ্যাডমিট কার্ড ছাড়াও যাবতীয় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে হবে এবং তাও সত্যায়িত করে। মাথায় যথারীতি আকাশ ভেঙ্গে পড়ল এবং নিজে পরীক্ষার নোটিশ না দেখলেও সমস্ত দোষ প্রথমেই আর্মির প্রতিষ্ঠান (BUP) কে দিলাম তারপর মার সাথে রাগারাগি করে বাসা থেকে বের হলাম যদি কাগজ গুলার ফটোকপি করা যায়। বাসা থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত যেয়ে (জানি যে সব বন্ধ) ক্ষীণ আশা টা দূর হোলে বাসায় ফিরলাম।
লিস্ট্নিং টু দ্য উইন্ড অফ চেইঞ্জ – পর্ব ৫
——————————ডঃ রমিত আজাদ
আমার এক চাচাতো বোন আছে , ওর নাম লাবনী। চাচা আব্বার ছোট ভাই। খুব ধনী এবং খুব তিরিক্ষি মেজাজের মানুষ। আব্বা শান্তশিষ্ট মানুষ, তিরিক্ষি মেজাজের মানুষের সাথে তার বনিবনা হয়না। তাই চাচার সাথে তার সদ্ভাব নাই। আসলে আব্বা চাচাকে খুব ভালোবাসেন, বলেন, “ছোট্ট ভাইটাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি,
ভাল্লাগেনা ব্যাপারটা আমাদের সবারই পরিচিত। আমার মাঝে মাঝেই এই ভাল্লাগেনা রোগটা বেড়ে যায়।কিছুই ভাল লাগেনা।সাত সকালে অ্যালার্ম এর শব্দ ভাল্লাগেনা,নাস্তায় ডিম ভাজা ভাল্লাগেনা,বিআরটিসি বাসের ভিড় ভাল্লাগেনা,কিচ্ছু ভাল্লাগেনা।
এই অসুখটা মনে হয় কম বেশি সবারই আসে।এবং সম্ভবত বেশ ঘন ঘনই আসে। কোন কারন ছাড়াই হঠাত মনে হয় ‘আমার কিচ্ছু ভাল্লাগেনা!’ এই সময়টুকু বেশ বাজে। মেজাজ খিচড়ে থাকে, রিকশাওয়ালা শুধু শুধু ঝারি খায়।ফেসবুকে অফলাইন হয়ে থাকা বাড়ে।
খুব ছোটবেলা আমি নিজেকে পুলিশ বলতাম।প্রতিবেশী এক চাচী এখনো আমাকে “পুলিশ কাকা” বলেই ডাকেন।বিক্ষিপ্তভাবে ছোটবেলার কিছু স্মৃতি মনে পড়ে,যেখানে উনাদের বাসার গেটে নক করে চিৎকার করে নিজের পরিচয় দিচ্ছি “আমি পুলিশ”।তবে সে স্বপ্নটা কিভাবে সেনাবাহিনীতে পরিণত হল তা নিজেও জানিনা।শুধু এটুকু মনে আছে ক্যাডেট কলেজে ক্লাশ সেভেনে এক স্যারের প্রশ্নের জবাবে নির্দ্বিধায় বলেছিলাম আমার এইম ইন লাইফ সেনাবাহিনীতে জয়েন করা।সত্যি বলতে কি,কখনো কোন সেকেন্ড থট মাথায় আসেনি সেনাবাহিনী ছাড়া।এইচএসসি পরীক্ষার পর বুয়েট কোচিং এ ভর্তি হয়েছিলাম ঠিকই,তবে রেজাল্টের আগেই আইএসএসবি গ্রীন কার্ড হাতে চলে আসায় সে পথে আর পা বাড়াইনি।মডেল টেস্টগুলোতে চশমা পাওয়াটাও সে পথ ছেড়ে দেবার একটা কারণ হলে হতেও পারে সেটা অস্বীকার করাটা অন্যায় হবে।আজ একটু ব্যাক ক্যালকুলেশন করে দেখলাম আগামী ডিসেম্বর এ আমাদের চাকরির ছয় বছর পূর্ণ হতে চলেছে।সকালে শেভ করতে গিয়ে আয়নায় নিজের চেহারাটা লক্ষ করে মনটা একটু খারাপই হয়ে গেল।কল্পনার সাথে যে অনেক বেশী পার্থক্য দেখছি!!!না না,ভুল বুঝবেন না,নিজের চেহারা সিনেমার নায়কদের মত কল্পনা করিনা।তবে নিজের কথা ভাবতে গেলেই এখনো মনের আয়নায় এক কিশোরের ছবি ভেসে উঠে।ভাঙ্গা চোয়াল,দোমড়ানো ড্রেস,লুজ বেল্ট,পালিশ না করা ফ্যাকাশে অক্সফোর্ড সু(এক কালে যেটা কাল রঙের ছিল) আর কাঁধে ছয় দাগওয়ালা লাল রঙের অ্যাপুলেট।সত্যি বলছি নিজেকে এখনো ক্লাশ টুয়েলভ পড়ি বলে মনে হয়-অনার্স পড়ুয়াদের এখনও নির্দ্বিধায় বড় ভাই ভাবি।ক্যান্টনমেন্টের গাছে ঝুলে থাকা আম কাঁঠাল গুলো তাই এখনো অশ্লীল আহবান জানায়,ক্রিকেট ব্যাট বল শুক্র-শনিবারের ঘুম কেড়ে নেয়,টেবিল টেনিস টেবিলে দুপুরের ঘুম বিসর্জন দেই,বিকালের গেমস এ এখনো অফসাইড নিয়ে তর্কে জড়াই জুনিয়র অফিসার(ওরাও এক্স ক্যাডেট)দের সাথে।তবে নিমকহারাম আয়নাটা বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় আমি আজ আর কলেজের ক্লাশ টুয়েলভ নই।পাশাপাশি আত্মীয়স্বজন(খালি মাবাবা বাদে),বন্ধুবান্ধব,সিনিয়র কিংবা জুনিয়র(হারামখোর একেকটা) সবাই প্রায়ই জানতে চায় কবে বিয়ে করব।এমন কী ছুটি যাবার সময় সৈনিকগুলা পর্যন্ত মুখ টিপে হাসে।কারণ আমার ইউনিট আবার অফিসারদের আর্লি ম্যারেজের জন্য বিখ্যাত।সব মিলিয়ে বয়সটা যে আর থেমে নেই সেটা বোঝা যায়।তবে এমন কোন বয়সও হয়নি যে জীবনে পাওয়া না পাওয়ার হিসাব করতে বসব।
সবচে অবাক হয়েছি ক্যাকটাসের ফুল দেখে।অধিকাংশ ক্যাকটাসের ফুল হয় এবং সে ফুল অনেক দিন থাকে!!!সপ্তাহে একবার অল্প করে পানি দিলেই চলে।আলাদা করে আর কোন যত্ন নেয়া লাগেনা।চাকরির কিছু চক্করে গত বছরের শুরু থেকেই দৌড়ের উপর আছি।তাই ক্যাকটাস কালেকশন কার্যক্রম খানিকটা থমকে আছে।ইচ্ছা আছে দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে শুরু করার।