কিংবদন্তির কথা-৩

কিংবদন্তির কথা-
মনেকরি, আমার এই ক্লাশমেটটার নাম “ডন”।
নিজের জীবন রক্ষার তাগিদেই ওর আসল নামটা প্রকাশ করলাম না। তবে মাফিয়াদের কর্মকান্ডের সাথে আমার এই বন্ধুটির অনেক আচরণ মিলে যাওয়ায় আমরা তাকে ‘ডন’ ডাকতাম। আর কলেজ থেকে বের হয়ে আসার এতদিন পরে আমরা উপলব্ধি করি যে ঠিকঠাক মত “মিডিয়া সমর্থন” পেলে সেও নিজেকে কিংবদন্তিতে পরিণত করতে পারত। তার প্রবাদতুল্য ঘটনাগুলোর শুরু সেই ৯৫ সাল থেকে যখন আমরা ক্লাশ ৭ এ পড়ি। 😀

নূরুল হোসেন স্যার ভূগোল পড়াচ্ছিলেন। বিষয় পৃথিবীর উৎপত্তি । কিভাবে মহা বিস্ফোরণ এর মাধ্যমে পৃথিবীর জন্ম হল, পাহাড় পবত, নদী, খাল, সাগরের জন্ম হল এই সব বিষয় নূরুল হোসেন স্যার খুবই যত্ন নিয়া আমাদের বুঝালেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন কারো কোন প্রশ্ন থাকলে বল।
ডন উঠে দাড়িয়ে বলল – “স্যার বিস্ফোরণ এর মাধ্যমে পৃথিবীর জন্ম হইলে এত উঁচা উঁচা পাহাড়, পর্বত সৃষ্টি হইল কিভাবে?” ~x(
এতক্ষণ ধরে এই প্যাচাল পারার পর এইধরনের বেকুব টাইপ প্রশ্ন শুনে স্যারের মাথা খারাপ হয়ে গেল। তারপরও ঠান্ডা মাথায় তিনি বললেন-
“বাবা, ডন, শোন- তোমার দাদা, তার….. দাদা, ………তার দাদা, তার দাদা………..তার দাদা….. তারও দাদা……তার দাদার দাদা…………… এরা সবাই খুব বিশাল সাইজের ছিল। মনে কর একেকজন ছিল ১০০ তলা বিল্ডিং এর মত। তারা এত্ত এ……ত……ত খাইত, আর অনেক হাগত। সেই গু জইমা এই বিশাল পাহাড়, পর্বত জন্ম হৈসে। বুজছ? এইবার ক্লিয়ার? কিভাবে পাহাড় এর জন্ম হৈল?” :khekz:

দুর্ভাগ্য বশতঃ ডন এর দ্বিতীয় ঘটনাটাও নূরুল হোসেন স্যার এর সাথে। প্রথম বার তিনি ডন কে বোল্ড করলেও এইবার চুপচাপ প্যাভিলিয়ন এ ফিরে যাওয়া ছাড়া তার আর কিছুই করার ছিল না।
স্যার পড়াচ্ছিলেন পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্রের দিকে যতই গভীরে যেতে থাকবা তাপমাত্রা ততই বাড়তে থাকবে। যার ফলে ভূঅভ্যন্তরে কোন কিছুই শক্ত বা সলিড রূপে থাকে না। থাকে পেস্ট এর মত গলিত অবস্থায় । এইবার ডন উঠে দাড়াল, বলল, স্যার- “আমরাতো জানি প্রচন্ড তাপে সবকিছু বাস্প হয়ে উড়ে যায়। তাহলে পৃথিবীর ভিতরের সবকিছু উড়ে না গিয় পেষ্ট এর মত হয়ে আছে কেন?” :bash:

পাবলিক স্পিকিং ক্লাশ এ ডন বক্তৃতা দিতে এসেছে। বক্তৃতার বিষয় “ঘূর্ণিঝড়”। ৯৬ সালে টাঙ্গাইল এ একটা ঘুর্নিঝড় হয়েছিল । ডন এর বাড়ী ঐ এলাকায় হওয়ার সুবাদে সে তার চাক্ষুস অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিল। মানুশের দুর্দশা, কষ্ট, স্বজন হারানোর বেদনা এসব কিছুই অত্যন্ত করুণ ভাষায় সে বর্ণনা করে যাচ্ছিল।
আবেগের অতিশয্যে সে একপযায়ে বলে ফেলল- কি বলব স্যার, “যে দিকে তাকাই, শুধু দেখি লাশ আর লাশ, কোটানটার মাথা আছে, বডি নাই, আবার কোনটার বডি আছে মাথা নাই, আবার স্যার, কোনটার মাথাও নাই, বডিও নাই।” 😮

১,৮২৭ বার দেখা হয়েছে

২২ টি মন্তব্য : “কিংবদন্তির কথা-৩”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।