উন্নয়নের গল্পঃ নিও-লিবারেলদের আজাইর‌্যা প্যাচাল বনাম বাস্তবতা

ডিস্ক্লেইমারঃ ১। অনেকদিনের ইচ্ছে ছিলো সিসিবি’তে উন্নয়ন-বিষয়ক একটা লেখা দেওয়ার। নানা ঝামেলায় তা আর হয়ে উঠছিলো না। আর ক’দিন ধরে এটা লিখতে গিয়ে বিশাল ঝামেলায় পড়েছি কি লিখবো আর কি বাদ দিবো তা’ই নিয়ে। ফলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক বড় হয়ে গেল লেখাটা। তাই আপাতঃত তিন পর্বে এটা সিসিবি’তে পোষ্ট করবো।

২। এই লেখা বোঝার জন্য এন্টেনা আবশ্যক। 😀

বর্তমানে উন্নয়ন বিষয়ক প্রায় সকল আলোচনায় ‘সুশাসন’কে উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। কারণ হিসেবে বলা হয় যে আজকের উন্নত বিশ্বের দেশসমূহ good policy এবং good institution এর মাধ্যমে সুশাসন (Good Governance) নিশ্চিত করেছিল বলেই উন্নত হতে পেরেছে। কাজেই, উন্নয়নশীল দেশগুলোরও উচিত তাদেরকে অনুসরন করার মাধ্যমে নিজেদের উন্নয়নের চেষ্টা করা। উন্নয়ন বিষয়ক ডিসকোর্সে সুশাসনের পক্ষে এই যে অবস্থান, তা’র পেছনে বাস্তবভিত্তিক তথ্য আছে কি? হা জুন চ্যাং (Ha Joon Chang) এই বিষয়টিই আলোচনা করেছেন তার Kicking Away the Ladder (২০০৬) গ্রন্থে। এই গবেষনা-গ্রন্থে তিনি আলোচনা করেছেন আজকের উন্নত দেশগুলোতে তাদের ‘উন্নয়নশীল’ পর্যায়ে সুশাসনের বাস্তব অবস্থা। এরপর সেই অবস্থার সাথে তুলনা করেছেন বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সুশাসনের অবস্থার।

উন্নত দেশগুলো শুরু ইতিহাসের শুরু থেকেই উন্নত নয়। তারাও এক সময় অনুন্নত ছিল। সেখান থেকে ক্রমান্বয়ে উন্নয়নশীলতার নানা পর্যায় পার হয়ে তারা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে। উন্নয়নশীলতার সেই সব পর্যায়ে তারা কেমন ছিল তা’ জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তাদের অভিজ্ঞতার আলোকেই আজকের উন্নয়নশীল দেশগুলো জন্য উন্নয়ন-পরিকল্পনা প্রনয়ণ করা হয়ে থাকে, নিও-লিবারেল ডিসকোর্স (তাত্ত্বিক+পরামর্শক+শাসকবর্গ) এই পথ অনুসরণ করে+করতে বাধ্য করে।

কোন কর্মপরিকল্পনার ভিত্তি যদি সঠিক না হয়, তাহলে তা’ ব্যর্থ হওয়াই স্বাভাবিক। কোন পরিকল্পনাকে আমরা ব্যর্থ বলি যখন তা আশানুরূপ ফলাফল দিতে ব্যর্থ হয়। নিও-লিবারেলদের অনুমান যে ‘অবাধ বানিজ্য উন্নয়নের চাবিকাঠি’ এপর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী একেবারেই ব্যর্থ। এখন পর্যন্ত উন্নয়নশীল কোন দেশ এই ‘অবাধ বানিজ্য’ নীতি দিয়ে উন্নতি লাভ করতে পারেনি। উল্টো তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে, যেমন আফ্রিকার দেশগুলো যারা আশির দশকে পুরোপুরি নিও-লিবারেল পলিসি অনুসরণ করে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তাই, উন্নত দেশগুলোর উন্নয়নশীলতার পর্যায়ের প্রকৃত অভিজ্ঞতা অনুসন্ধান করা আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অত্যাবশ্যক। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থা, বাজার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, এবং আরো অন্যান্য ফ্যাক্টরের প্রকৃত ভূমিকা সম্পর্কে জানা যাবে।

চ্যাং নিও-লিবারেলদের ‘মুক্ত-অবাধ বানিজ্য ও শিল্পনীতি (free trade and the laissez-faire industrial policy) উন্নয়নের চাবিকাঠি’ এই তত্ত্বকে কল্পকাহিনী (Myth) বলেছেন। প্রায় সবগুলো উন্নত দেশের ‘উন্নয়নশীল’ পর্যায়ের অবস্থা পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন যে, সবগুলোই উন্নত হওয়ার পর্যায়ে সংরক্ষনবাদী (protectionist) শিল্পনীতি অনুসরণ করেছে। পাশাপাশি এরা প্রত্যেকেই ব্যাপকভাবে বানিজ্য কর (Tariff) আরোপ করেছে এবং এইক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যুগের সবথেকে উন্নত দেশটি সবথেকে বেশি সংরক্ষনবাদী নীতি অনুসরণ করেছে। তারা সবাই নিজ নিজ দেশে উদীয়মান শিল্পকে সুরক্ষা (protect) করার জন্য রপ্তানী ভর্তুকি, রপ্তানী পণ্যের কাঁচামালে কর মওকুফ, দেশীয় বাজারে একচাটিয়া প্রবেশাধিকার, cartel arrangements,অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ঋণদান, বিনিয়োগ পরিকল্পনা, শ্রম পরিকল্পনা, অবকাঠামোর উন্নয়ন, গবেষণা, ইত্যাদি ব্যবস্থা নিত যেখানে রাষ্ট্র মুখ্য এবং কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে। চ্যাং সর্বপ্রথম শিল্পায়নের মাধ্যমে উন্নতি লাভ করা দেশ ‘বৃটেন’এর উন্নয়নের ইতিহাস পর্যালোচনা করে রাষ্ট্রের এই ভূমিকা তুলে ধরেছেন।

বৃটেন দেশীয় শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় শক্তিই ব্যবহার করেছে। এক্ষেত্রে তারা তিন ধরণের দেশের জন্য তিন প্রকার নীতি অনুসরণ করেছে। এক, বৃটেন এর কলোনী রাষ্ট্রগুলোতে ম্যানুফেকচারিং শিল্প বিকাশের পথে কঠোর বাঁধা আরোপ করেছে (বিশেষ করে আমেরিকায়), কাঁচামাল উৎপাদনে উৎসাহ দিয়েছে, যেসব ম্যানুফেকচারিং বৃটেনে উৎপাদিত পণ্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে সেগুলোকে নিষিদ্ধ করেছে, কলোনীগুলোর কর আরোপ ক্ষমতা খর্ব করেছে। দুই, যেসব দেশ বৃটেনের সরাসরি কলোনী ছিলো না, কিন্তু প্রভাবাধীন ছিল (যেমন চীন), সেক্ষেত্রে বৃটেন অসম বানিজ্য চুক্তির মাধ্যমে নিজ দেশে পণ্য প্রবেশের পথে নির্দিষ্ট+উচ্চহারে রপ্তানী কর (Tariff ceiling) এবং অন্যদেশে নিজেদের পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে বাঁধাহীন প্রবেশাধিকার আদায় করেছে। তিন, প্রতিযোগী দেশগুলোর ক্ষেত্রে বৃটেন এইসব প্রকাশ্য জবরদস্তিমূলক নীতি প্রয়োগ করতে পারেনি। এক্ষেত্রে বৃটেন ইনডিরেক্ট পলিসি গ্রহন করে- প্রতিযোগী দেশসমূহে নিজ দেশ থেকে উন্নত প্রযুক্তির প্রসার বন্ধ করার প্রয়াস পায়, যদিও এতে কখনোই পুরোপুরি সফল হয়নি। ফলে বৃটেন আরেক বিকল্প নীতি গ্রহন করে যা’র মধ্যেও তিনটি পর্যায় দেখা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে দক্ষ শ্রমিকের স্থানান্তর নিয়ন্ত্রন, এতে ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে যন্ত্রাংশ রপ্তানীতে নিয়ন্ত্রন, এতেও ব্যর্থ হলে পরিশেষে intellectual property rights আরোপ। তবে প্রতিযোগী দেশসমূহের জন্য গৃহীত এইসব নীতি কলোনী+সেমিকলোনীগুলোর জন্য গৃহীত নীতিমালার মতো সাফল্য কখনোই পায়নি।

চ্যাং বৃটেন ছাড়াও নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, জার্মানী, ডেনমার্ক, ইতালী, সুইডেন, সুইটজারল্যান্ড, অষ্ট্রেলিয়া এবং সর্বশেষে আমেরিকার উন্নয়নশীল পর্যায়ের বৈদেশিক বানিজ্য ও শিল্পনীতির সাথে বর্তমানের উন্নয়নশীল দেশেগুলোর বৈদেশিক বানিজ্য ও শিল্পনীতির তুলনা করে দেখিয়েছেন যে, এখনকার উন্নয়নশীল দেশগুলো আগেকারগুলোর থেকে অনেক বেশি অবাধ+উদার। তিনি আরও একটা বিষয় প্রমাণ করেছেন যে, উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট কোন মডেল নেই যা সকল উন্নয়নশীল দেশ অনুসরণ করতে পারে।

একই ভাবে চ্যাং উন্নত দেশগুলোর উন্নয়ণশীল পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থারও পর্যালোচনা করেছেন। তিনি দেখেছেন যে, উন্নত দেশগুলোতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করেছে। এইসব প্রতিষ্ঠান একদেশ থেকে আরেক দেশে প্রসার লাভ করতে দীর্ঘ সময় নিয়েছে। একেক দেশের উন্নয়নের পেছনে নানা প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন কম্বিনেশন ভিন্ন ভিন্ন ফলাফল নিয়ে এসেছে। সবথেকে উল্লেখ্য, এইসব উন্নয়ন-সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত দেশগুলোতে উন্নয়নের শেষ পর্যায়ে এসে জন্ম+বিকাশ লাভ করেছে। যেমন, বৃটেন শিল্পায়নের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে ১৮৪০ থেকে, কিন্তু সেখানে সার্বজনীন ভোটাধিকার এসেছে মাত্র ১৯২৮ সালে, আমলাতন্ত্র বংশানুক্রমিক (অনেকটা জমিদারীর মতো) ছিল ১৮৬০ এর দশকেও, বিচারব্যাবস্থায় দূর্নীতি+ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক, সম্পত্তি আইন ও পেটেন্ট আইন ছিল দূর্বল, অডিট+ফিন্যান্স+একাউন্টিং অস্বচ্ছ, নিয়ন্ত্রিত ব্যাংকিং (যা’ বর্তমানে সব দেশের জন্য অপরিহার্য) ১৯১০ দশকেও ছিল অপুষ্ট, শ্রমিক অধিকার ও ওয়েলফেয়ার বাধ্যতামূলক হয়েছে ১৯০০ সাল বা তারও পরে।

উন্নত দেশগুলোর উন্নয়নশীলতার পর্যায়ে এইসব প্রাতিষ্ঠানিক দূর্বলতার কারণ হিসেবে চ্যাং নিম্নোক্ত বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছেনঃ
১। প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা হয়নি বা গড়লেও কার্যকর করা হয়নি কারণ উন্নয়নের ঐ পর্যায়ে সেগুলো ছিল unaffordable। যেমন শ্রমিকদের ওয়েলফেয়ার ব্যবস্থা, স্বচ্ছ পাবিলক ফিন্যান্স ও একাউন্টিং, ইত্যাদি।
২। অনেক ক্ষেত্রে এফোর্ডেবল হলেও কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর হতে দেওয়া হয়নি ব্যবসায়ী+শিল্পপতিদের বিরোধীতার মুখে। যেমন, সার্বজনীন ভোটাধিকার, শ্রম আইন, ইনকাম ট্যাক্স, ইত্যাদি।
৩। অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক সুবিধা অনুধাবন না করার কারণেও সেসব গড়ে ওঠেনি বা দেরী হয়েছে। যেমন- কেন্দ্রীয় ব্যাংক, লিমিটেড কোম্পানী আইন, ইত্যাদি।
৪। যুগের হুজুগেও (epochal prejudice) অনেক প্রতিষ্ঠানের উদ্ভবে বিলম্ব হয়েছে। যেমন, আমেরিকায় আমলাতন্ত্রে প্রফেশনালিজম, সুইটজারল্যান্ডে নারীদের ভোটাধিকার।
৫। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভরশীলতাও সেইসব প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠা বা বিলম্ব হওয়ার জন্য দায়ী। যেমন, পাবলিক ফিন্যান্স প্রতিষ্ঠান ছাড়া ট্যাক্স সংগ্রহ করা কঠিন যা’ থেকে আমলাতন্ত্রের ব্যয় নির্বাহ হবে, আবার আমলাতন্ত্র ছাড়া প্রফেশনাল ফিন্যান্স প্রতিষ্ঠান অসম্ভব। কাজেই এই দুই প্রতিষ্ঠানকে একই সাথে গড়ে উঠতে হবে যা বেশিরভাগ দেশেই ঘটেনি।

– উপরোক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ, যেগুলোকে উন্নয়নের পূর্বশর্ত সুশাসনের জন্য আবশ্যক বলে নিও-লিবারাল ডিসকোর্সে প্রচার করা হয়, সেগুলো আসলে আজকের উন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের পূর্বশর্ত ছিলো না, বরং সেগুলো জন্ম+বৃদ্ধি লাভ করেছে উন্নয়ন প্রকৃয়ার শেষ পর্যায়ে। অর্থ্যাৎ, উন্নত দেশের দোহাই দিয়ে যেসকল প্রতিষ্ঠানকে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য উন্নয়ন জন্য আবশ্যক বলা হচ্ছে, সেগুলো আসলে উন্নয়নের ফলাফল, কারণ নয়। তার মানে হচ্ছে, আজকের গরীব দেশগুলো উন্নত হলে পারলে একই প্রকৃয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবেই এইসকল প্রতিষ্ঠানের জন্ম+বিকাশ ঘটবে।

মোটকথা, “good policy এবং good institution এর মাধ্যমে সুশাসন (Good Governance)”-কে যে উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, এটা একটা গালগল্প বা কল্পকাহিনী যা’র ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। তাহলে প্রশ্ন জাগে যে, আজকের উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নের প্রকৃত উপায় কি? এদের জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল কি?

-একথা নির্দিধ্বায় ধরে নেওয়া যায় যে, সতত পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতিতে সবথেকে নিকট অতীতের উন্নয়ন অভিজ্ঞতাই সবথেকে বেশি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ধারন করে। আর তাই উন্নয়নশীল থেকে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া কোরিয়া ও তাইওয়ানের অভিজ্ঞতার আলোকে পরবর্তী কিস্তিতে থাকবে উন্নয়নের বাস্তব গল্প।

২,৮২৫ বার দেখা হয়েছে

৩২ টি মন্তব্য : “উন্নয়নের গল্পঃ নিও-লিবারেলদের আজাইর‌্যা প্যাচাল বনাম বাস্তবতা”

  1. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    মাহমুদ ভাই, উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে সংরক্ষনবাদী হওয়া তো খুব কঠিন কাজ, বিশেষ করে দেশের নেতাদের যদি মেরুদন্ডে জোর না থাকে...সবদেশে তো আর মাহাথীর মোহাম্মদ থাকে না...আপনি কি কন? :-B

    আর একটা কথা, এত দিনেও আপনি 'প্রক্রিয়া' লেখা শিখলেন না... ;))


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  2. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    মনোযোগ দিয়েই পড়লাম এবং শেষে এসে আমার মনেও প্রশ্ন জাগলো- সুশাসন যদি উন্নয়নের কারণ না হয় তাহলে আজকের উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নয়নের প্রকৃত উপায় কি?
    তাইওয়ান এবং কোরিয়ার উন্নয়নের গল্পে নিশ্চয় উত্তর মিলবে।

    ছোট্ট একটা কথা, 'নিও-লিবারেল ডিসকোর্স ' সম্পর্কে আরো একটু ব্যাখ্যা করলে আমাদের জন্যে আরো একটু সহজ হতো।

    মাহমুদ ভাই
    অনেকদিন পর। কেমন আছেন?


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
    • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

      @জুনায়েদ ও কামরুল,

      পরবর্তী কিস্তিগুলোতে প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা থাকবে।

      এত দিনেও আপনি ‘প্রক্রিয়া’ লেখা শিখলেন না

      @জুনা, আমি এটা জানতাম না তো 😮


      There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

      জবাব দিন
  3. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)

    মাহমুদ ভাই,
    প্রথম অর্ধেক পড়ে ব্রেনের ফিউজ জ্বলে গেসে। বাসায় গিয়ে আবার ট্রাই দেবো।

    আপনার একটা পোস্ট লেখার কথা ছিলো।

    পারলে একসময় মনে করায়া দিও গ্রামসীর বরাত দিয়ে চেষ্টা করে দেখুমনে, আমার বক্তব্য আরেকটু খোলাসা করা যায় কি না।

    ফয়েজ ভাইয়ের লিংকন ও তার পুত্রের শিক্ষক বরাবর চিঠি পোস্টে লিখেছিলেন। মনে করায়া দিতে বলছিলেন। মনে করায়া দিলাম।

    জবাব দিন
  4. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    কোন একটা অদ্ভুত কারণে আমার এন্টেনার প্রয়োজন পড়ে নাই লেখাটা বুঝতে।

    অর্থনৈতিক আর আইনগত উন্নতির মধ্যে তুলনামুলক সম্পর্ক নিয়ে একটা লেখা দেয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বিভিন দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির গতিধারার সাথে আমি খুব একটা পরিচিত না বলেই সেই চেষ্টা করি নি। নাহয় দেখানো যেত যে আইনি দিক থেকে কতটা পিছিয়ে থাকা অবস্থায় একটা দেশ অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন করতে পারে।

    জবাব দিন
  5. শার্লী (১৯৯৯-২০০৫)

    হা জুন চ্যাং-র লেখাটা পড়া হয় নাই, তাই ওনার দৃষ্টিভঙ্গী পুরোপুরি বুঝতে পারছি কিনা জানি না। কিন্তু এই পর্ব পড়ে যা মনে হচ্ছে হয় চ্যাং অথবা আপনি উদাহরন বেশি কিন্তু তার ডিটেইলিং একটু কম করেছেন(ভুল বুঝলে ক্ষমা তো পেতেই পারি)।

    জবাব দিন
  6. আদনান (১৯৯৪-২০০০)

    পরের পর্বে আরো নতুন কিছু পড়ার আশা করছি । এ পর্ব পড়ে মনে হচ্ছে একটা বিশেষ শ্রেণীকে সুযোগ দিয়ে উন্নত দেশ গুলো আজকের অবস্থায় এসেছে । এক কথায় বলতে গেলে আমার খাওয়া শেষ হলে তারপর তোমাকে কিছু দেয়া যেতে পারে । ভাইয়া আপনি কি সমাজতন্ত্র নিয়ে কোন কাজ করেছেন ? পরবর্তীতে কি ধরনের সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পেতে পারত এ ব্যাপারে লেখার অনুরোধ থাকল । অনেকদিন পর, আছেন কেমন ?

    জবাব দিন
  7. মাসরুফ (১৯৯৭-২০০৩)

    অফ টপিক-ইয়ে মানে উড়া খবর শুনলাম মাহমুদ ভাই নাকি দোকা হৈতেছেন? 😛 😛 তাইলে অন্তত আমারে দাওয়াত কৈরেন সিসিবির প্রতিনিধি হিসাবে...বিয়ার দাওয়াত খাইতে মঞ্চায় :(( :(( :((

    জবাব দিন
    • মাহমুদ (১৯৯০-৯৬)

      আমার কাছে এই বইটার পিডিএফ আছে। মাত্র ২২০ পৃষ্ঠার বই, ২০০০ সালের পর প্রকাশ; দারূন।

      লাগলে ই-মেইল এড্রেস দিও, পাঠানো যাবে।


      There is no royal road to science, and only those who do not dread the fatiguing climb of its steep paths have a chance of gaining its luminous summits.- Karl Marx

      জবাব দিন
      • সামি হক (৯০-৯৬)

        অবাধ বানিজ্য নিয়ে বলতে গিয়ে চ্যাং কি খালি আফ্রিকার উদাহরন দিয়েছে নাকি রে? অবাধ বানিজ্য কেমন করে ব্যাকফায়ার করে তার জন্যে তো সব চেয়ে ভালো উদাহরন তো ল্যাটিন আমেরিকা।

        আমি আমার এমবিএ র থিসিস করার সময় উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছিলাম চ্যাং এর লেখাগুলো তখন প্রচন্ড কাজে লেগেছিল। আমার মতে উন্নয়ন কেউ কারো উপরে চাপায়ে দিতে পারে না, উন্নয়নের জন্য নিজেদের ইচ্ছা আর আগ্রহ থাকা লাগবে। সুপ্রতিষ্ঠান থাকবে, তবে তাদের কাজ হবে দুর্নীতি দমনের।

        তোর লেখায় আকাশ আকাশ গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে 😀 (ঢা বি র এম এম আকাশ)। দোকা কি হয়ে গিয়েছিস অলরেডি?

        শুভেচ্ছা সব সময়।

        জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।