তার পরঃ

ছেলেঃ
সময়টা পড়ন্ত বিকেল। ব্যাকগ্রাউণ্ডে গান বাজছে,”সারাদিন তোমায় ভেবে, হোলনা আমার কোনো কাজ,……।”

কি যে করা যায় , বিকালে সবাই যায় কই??? সব শালাদের এতো ব্যস্ততা…টিউশনি…।
একটা সাইটই ওপেন হয়ে, কনট্যাক্টসে একটাই নাম, ৬২ টা নাম এর মাঝে কেবল একটাই নাম, আচ্ছা এ কি করে সারাদিন ?……

গানটাতো ভালো, এটা স্ট্যাটাস দেয়া যাক , বাহ নতুন একটা স্ট্যাটাস পাওয়া গেলো ।
কিন্ত কাকে ভেবে, কাকে ভেবে কাজ হলোনা।
ধূর কি যায় আসে এইসব স্ট্যাটাসে, ফেসবুকের এসব স্ট্যাটাস কেউ পরে……??? কেমন যেনো হয়ে গেছে জীবনটা…কোনো কিছুতেই কোনো কিছু করার পাচ্ছিনা কেনো ……সবকিছুই এতো এলোমেলো এ জীবনে………ভ্যালুলেস সবই ভ্যালুলেস

এই একটা নামের কি কোনো কাজ নাই? নক করেই দেখি……নাহ থাক কি দরকার আরেকজনের বিকালটা নষ্ট করার।
কি হবে নক করে ……ভ্যালুলেস সবই ভ্যালুলেস ……

মেয়েঃ
মানুষ এতো সুন্দর সুন্দর স্ট্যাটাস পায় কোথায়?বেচারার মনে হয় কোনকাজ হলোনা সারা দিন…আহারে কোন লাইকও নাই, লাইক টা আমিই করি ।

কোথাও কেউ নেই , ফেসবুকছেড়ে সব যায় কই।

২৭ শে ফেব্রুয়ারী, বইমেলাটা কালই শেষ আর যাওয়া হলোনা। সবাই আজকাল কেমন যেনো হয়ে গেছে, বই পড়ার অভ্যাসটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু বই কিনতে ইচ্ছা করে পড়া হয় না কেনো? শুধু রাশি রাশি বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে, এত্তো বই কিনি কেনো ?

বইমেলাটায় আজ গেলে ভালই হত…কেউ নাই…। ধেত্ত ভাল লাগেনা, সবাই যায় কই এ বিকেলে…।

ছেলেঃ
আরে লাইক!! এই সময়ে লাইক দিলো কে? হমম, নক করেই দেখি কি ভেবে লাইক দিলো,

: কি খবর?
: এইতো
: কি করা হচ্ছে ? কোনকাজ নাই নাকি? এই অসময়ে অজায়গাতে বসে?
: আপনি কি করেন?কাজ তো আপনার নাই।
: আমার আর কি কাজ?”বসে আছি একা……” হা হা হা
: এতে হাসির কি হলো সুন্দর একটা গান।
: তোমাদের কাছে তো সবই সুন্দর।
: কেনো আপনি বলতে পারবেন গানটা খারাপ?
: না না থাক ভাই তোমাদের সাথে আমি ঝগড়া করে পারবনা। অন্য কিছু নিয়ে কথা বলি।
:হমম। বইমেলাতে গিয়েছিলেন?
: বইমেলা? নাহ যাওয়া হয় নি।
: কেনো?? !!
: কে নিয়ে যাবে বলো?
: আপনাকে আবার কে নিয়ে যাবে ? 🙂
: না মানে, কাকে নিয়ে যাবো বলো? ফ্রেণ্ডরা কেউ যায় না । একজন যায় তাও সে মনে হয় কয়েকবার চলে গেছে। আজ আর যাবে না।
: তবুও আপনি একবার বইমেলা যাবেন না এতো কাছে বসে থেকেও?
: হ্যা…যাওয়া দরকার, ছোট ভাইটার জন্য বই কিনতে হবে কয়েকটা।
: হায়রে দুনিয়া !এতো কিছু লিখেন একটাবার বইমেলায় যাবেন না, নিজের জন্য বই কিনবেন না । মানুষ সব ভার্চুয়াল হয়ে যাচ্ছে। বই পড়ার অভ্যাসটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সবার।
: উফ তোমারা যা পারোনা ………থাক তাহলে আমি উঠি বইমেলায় যাই।
: হা হা হা হা =))

মেয়েঃ
চলে গেলো নাকি? বলবো? নাহ থাক ………………
নাহ যাই কি হবে গেলে।
: এইযে, আমিও তো যাবো।
: ও তুমিও যাবে ? 🙂 তো সেকথা আগে বললেই হতো…।
: আরে আমি কোথায় যেতে চাইলাম আপনি যাননি জন্যই তো।
: আচ্ছা চলো তোমার যখন এতোই ইচ্ছা।
: আমার ইচ্ছা!!! আপনি যান নি একবারও তাই যেতে চাইলাম আমাকে তো ঠিকই বললেন যাবার কেউ নাই। এখন যেতে চাইলাম তো, তাই না?

ছেলেঃ
এতো দেখি মহা সিরিয়াস। নিজে যাবে… আবার আমার…। নাহ যেতেই হবে বুঝতেছি। ওকে ব্যাপার না। জীবনে তো কতো সাহসী কাজই করে ফেললাম। কি আছে…।

: কতক্ষণ লাগবে তোমার রেডি হতে ?
: এইতো ১০ মিনিট।
: ঠিক আছে ১০ মিনিট পরে আমি ……
: মোড়ে দাড়ান 🙂
: ঠিক আছে মোড়েই দাঁড়াচ্ছি।

মেয়েঃ
বাব্বাহ এ দেখি এক কথায়ই রাজি ,
কোন ড্রেসটা পড়ি? হলুদের সাথে লাল,…নাহ লাল স্যান্ডেলটা তো নিয়ে গেলো……
গোলাপি…? কানের দুল…হবেনা। নাহ নীলটাই পড়ি …
ইয়া…নীলটা।

ছেলেঃ
কি পড়া যায়, একুশে বইমেলা। পাঞ্জাবি…ফতুয়া …শার্ট…ওকে ডান …পাঞ্জাবি । একটু লাল হয়ে গেলোনা। হোকগে ।
মানিব্যাগ…মানিব্যাগ…টাকা…. চলবে, দুইটা বই, দুই প্লেট ফুচকা …নাহ ফুচকা হাফ খাওয়াতে হবে………ফুচকা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, গুড আইডিয়া…জুস…নাহ ঈগলু আইসক্রীম।

৯ মিনিট কিছু সেকেণ্ড পরঃ
লাল পাঞ্জাবি পড়ে দাঁড়িয়ে আছে ছেলেটা,হাতে ঘড়ি , বারবার দৃষ্টি চলে যাচ্ছে ১০ মিনিটের কিছু বাকি থাকা মুহুর্তের দিকে, আবার ইতস্তত এদিক ওদিক চায়, অপেক্ষা করাটা আসলেই বিরক্তিকর।

ছেলেঃ
কি রে ভাই এখনো আসে না কেনো? এখানে এই অবস্থায় কেউ দেখলে, আমি আমি…কি যে করি না , এখন যদি না এসে ব্লাফ দেয়? হায়, হায়, আমার ধীরে সুস্থে চিন্তা করাটা কখনো হবেনা।
ধুর……।

মেয়েঃ
সাজটা কি একটু বেশিই দিয়ে ফেললাম নাকি, চুড়িগুলো কই ছিলো এতদিন কে জানে, যা হোক কাজের সময় তো বেরিয়ে পড়েছে…আরে অমন এদিক অদিক কি খুঁজছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে,
…ডাকি কিভাবে? চুড়ির ঝনঝনানি শুনিয়ে দিব একটু…

(চুড়ির শব্দ শুনে)
ছেলেঃ
আউ… ও তুমি … 😀

হাই!…………………


তারপরঃ পাঠক, আপনারাই বলুন তারপর কি হওয়া উচিত
😀

বিঃদ্রঃ এই লেখা সম্পুর্ণ কাল্পনিক। কাকতালীয় ভাবে কারো সাথে মিলে যাবেনা আশা করি, মিলে গেলেও কিছু করার নাই এই সব ঘটনা আমাদের সবার জীবনেরই আনাচে কানাচে ঘটে থাকে। O:-) O:-)

৩,৫৫৯ বার দেখা হয়েছে

৪৩ টি মন্তব্য : “তার পরঃ”

  1. আছিব (২০০০-২০০৬)

    আনু দুস্ত,ভালুই তু লিখছস............পড়েই মনটা ভালো হয়ে গেল। :grr: :boss: :clap:
    আচ্ছা,ব্লগারের নাম তো তোর।এতে কি বিলাই এরও অবদান আছে? 😛 =))
    ডিস্ক্লেইমার যতই মারো,সবই কিন্তু বুঝি,চুড়ি কে পড়ে আর ঝনঝনানি কে শুনায় হেইডা ঝাতি ঝানে B-)

    জবাব দিন
  2. রাজীউর রহমান (১৯৯৯ - ২০০৫)

    সামনে দিন খারাপ আসতেছে।
    আজি হইতে কিছুবর্ষ পরে, ফেসবুক(অন্য কোন সামাজিক নেটওয়ার্ক) বাদে কেউ কবিতা লেখতে পারবে বলে মালুম হইতেছে না।

    ভাল লিখেছ । :boss:

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।