গার্লস ক্যাডেট কলেজ এবং নারীর ক্ষমতায়নঃ

(ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের রজত জয়ন্তির সাময়িকীর জন্য এটা লেখা হয়েছিলো। ঘরে বসে আমরা অনেক ভাবনাই ভাবতে পারি। আবার একেক ক্ষেত্রে একেকজন অভিজ্ঞ। সবার চিন্তাধারার সম্মেলনে ভালো কোন আইডিয়া বের হয়েও আসতে পারে। পাঠককূলকে এর পক্ষে-বিপক্ষে-নিরপেক্ষে মতামত দেওয়ার জন্য অনুরোধ রইলো।)

১৯৫৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানে ছেলেদের জন্য স্থাপিত ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজের যাত্রা তার পঞ্চাশ বছর পূরণ করলো। অষ্টাদশ শতাব্দীতে পশ্চিমের আজকের উন্নত দেশগুলোতে গণতন্ত্রের সূচনার প্রায় শতাব্দীকাল পরে সে সব দেশে সাধারণ নারীরা পেয়েছিলো তাদের ভোটাধিকার। সেই হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ১৯৮৩ সালে স্থাপিত প্রথম মহিলা ক্যাডেট কলেজ ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজের ২৫ বছরের যাত্রা তুলনামূলক বিচারে খুব একটা পিছিয়ে নেই। কোন ধরনের আন্দোলন ছাড়াই নীতি নির্ধারকদের বদান্যতায় দেশে এখন মেয়েদের ক্যাডেট কলেজের সংখ্যা তিন।

ছেলেদের মতো মেয়েদের ক্যাডেট কলেজেও মেধা ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা থেকে শুরু করে কলেজের ভেতর শিক্ষা, খেলাধূলা, সামাজিক আর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড সবই একই নিয়মানুবর্তীতার বলয়ে বাঁধা। যোগের মধ্যে আছে যে মেয়েদের টেবিলে খাবার পরিবেশন এবং মাঝেমধ্যে রান্নার ক্লাস করতে হয় আর বিয়োগের মধ্যে আছে যে তাদের অল্পতেই ইডি (একসট্রা ড্রিল) খেতে হয় না। এছাড়া জুনিয়র সিনিয়রের সম্পর্ক তেমন পাঙ্গাভিত্তিক নয়। ’জুনিয়র সাইজ করার জন্য’ মেয়েরা তাদের উদ্ভাবনী শক্তি খাটিয়ে ভোঁ দৌড়, মটর সাইকেল দৌড়, সুপার ম্যান ফçাইয়ের মতো কিছু নরম-শরম কৌশল প্রয়োগ করে থাকে। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটা যখন ক্যাডেট কলেজ তখন সেখানকার নিয়ম কানুনের কড়াকড়িতে ছেলে মেয়েতে কোন ভেদাভেদ নেই। তবে ভেদাভেদ আছে আর দশটা মেয়েদের স্কুলের সাথে মেয়েদের ক্যাডেট কলেজের। স্কুল-কলেজ ছুটি হবার পর বাইরের পরিবেশে যেখানে মেয়েদের টিউশনির জন্য স্যারদের বাড়িতে বাড়িতে ছুটতে হয় সেখানে ক্যাডেট মেয়েরা তাদের পড়াশোনার জন্য বরাদ্দ চার/পাঁচ ঘন্টা সময় বাদে বাকী সময়টা প্যারেড-পিটি, খেলাধূলা, ক্লাব করা, বাগান করাসহ বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড আর প্রতিযোগিতার জন্য ব্যয় করে। এভাবে লেখাপড়ার সাথে সাথে অন্যান্য আরো অনেক দিক দিয়ে নিজেকে তৈরী করে ক্যাডেট মেয়েরা গড়ে উঠছে আত্মবিশ্বাসী, স্বাবলম্বী আর উৎপাদনশীল মানুষ হিসেবে। বয়োসন্ধির মতো জীবনের সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়টাতে ক্যাডেট মেয়েরা বাইরের পরিবেশে ঘটে যাওয়া নানারকম নারী নির্যাতন থেকে সম্পূর্ণভাবে শংকামুক্ত। তাদের অলিখিত গৃহবন্দী হয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে না। ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’ – তাই তারা নিজেদেরকে পুরোপুরি মানুষ ভাবতে, ছেলেদের সমকক্ষ ভাবতে পিছপা হচ্ছে না। শিক্ষার ক্ষেত্রটা বিদ্যালয় থেকে শুরু করে পরিবার, পরিবেশ সবখানেই গভীরভাবে প্রোথিত। ঐ সময়টাতে ক্যাডেট কলেজই আমাদের বিদ্যালয়, পরিবার, পরিবেশ সবই। তাই বিভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে আসা মেয়েরা একই রকমভাবে চিন্তা ভাবনা করতে শিখি। বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা, ক্রীড়া শিক্ষা, দায়িত্ব প্রদান ইত্যাদির সুষম সমন্বয়ে এখানে শারিরীক এবং মানসিকভাবে শক্ত সমর্থ, উন্নত আদর্শ, সুন্দর চারিত্রিক গুণাবলীর মাধ্যমে ক্যাডেটদের এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে সে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ঈগল-চক্ষুর মতো তাদের সুবিধা অসুবিধা দেখা, নিয়মানুবর্তিতার চাকা সচল রাখা আর সার্বিক নিরাপত্তার তত্বাবধানে আছে ক্যাডেট কলেজ প্রশাসন। ক্যাডেট কলেজে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সার্বিক অবদানের কথা অনস্বীকার্য।

প্রতিবছর বোর্ডের মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ তার ধারাবাহিক সাফল্য অব্যাহত রাখছে। শুধু তাই না ক্যাডেট কলেজ শেষ করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য তারা ছড়িয়ে পড়ছে দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। গড়ে তুলছে আকর্ষনীয় ক্যারিয়ার। উদাহরন স্বরূপ আমাদের ব্যাচ ৭ম ইনটেকের কথাই ধরা যাক। ৪১ জন ছাত্রীর মধ্যে ২৫জন ডাক্তার, ৭ জন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারী-সরকারী অফিসে কাজ চাকুরীরত, ৭ জন প্রকৌশলী এবং আইটি বিশেষজ্ঞ এবং বাকী কয়েকজন ঘরে সন্তান পালনকেই বেছে নিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই প্রবাসের বিভিন্ন নামকরা কোম্পানী যেমন মাইক্রোসফট, ইন্টেল, নাসা, নকিয়া এরকম আরো অনেক এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার কাজে তাদের সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে। আমরা সবাইই কম বেশি আমাদের আজকের অবস্থানের জন্য ক্যাডেট কলেজের অবদানকে স্মরণ করে থাকি। পুরোনো বন্ধুদের দেখলে আজও একইরকম ভাবে একাত্মবোধ করি। পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকি না কেন, দুঃখিনী দেশের জন্য মনটা সব সময়ই কেঁদে উঠে। দেশের জন্য কিছু করার আকুতিটা সবসময়ই নিজেদের মধ্যে কাজ করে।
এ তো শুধু গেল একটা ব্যাচের কথা। এরকম ভাবে এ পর্যন্ত বের হওয়া ২৩ টা ব্যাচেই কমবেশি একই চিত্র পাওয়া যাবে। শুধু লেখাপড়াই নয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে মহিলা ক্যাডেটরা তাদের চৌকষতা প্রামান করছে। ২০০৭ সালে ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনুষ্ঠিত আন্তঃসংসদীয় পদ্ধতির বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এছাড়া বিভিন্ন আন্তঃক্যাডেট কলেজ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় মগকক’র ক্যাডেটরা তাদের প্রতিভার স্বাক্ষ্র রাখছে। সার্বিক বিবেচনায় এসবই নারীর ক্ষমতায়নে অবদান রাখছে বলে মনে করি। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেয়েরাও কমিশন লাভের সুযোগ পায়। সেখানেও মেয়েরা তাদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে। এর মধ্যেই মগকক’র একজন প্রাক্তন ক্যাডেট ২০০৪ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে চৌকষ ক্যাডেট হিসেবে সোর্ড অব অনার লাভ করে।
অর্থাৎ আমাদের দেশে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রটিতে একটা ক্যাডেট কলেজই বিশাল অবদান রেখে চলেছে। কে না জানে নারীদের যথাযত সংপৃক্ততার অভাবে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হয়। একজন ক্ষমতাবান নারী শুধু যে তার পরিবারের চেহারা বদলে দিচ্ছি তা নয়, ভবিষৎ প্রজন্মকেও সে উপযুক্তভাবে গড়ে তুলছে। এ প্রসঙ্গে আমার মীনা কার্টুনের স্লোগানটির কথা মনে পড়ছে-“সুযোগ চাই, মানুষ হব”

আপাত দৃষ্টিতে মহিলা ক্যাডেট কলেজকে একটা সফল উদ্যোগ বলা যায়। এখন কথা হলো পুরো দেশের প্রেক্ষাপটে এই মডেল কতটুকু কাজে লাগানো যায়? সে প্রসঙ্গে আসার আগে এক নজরে এই উপমহাদেশে নারী শিক্ষার ইতিহাসটা একটু দেখে নিই।

রাজা রামমোহন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কেশবচন্দ্র সেন প্রমুখ পিছিয়ে থাকা নারী জনগোষ্ঠিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অক্লান্ত শ্রম দিয়েছেন। (ঊনবিংশ্ব শতাব্দীর প্রথমভাগে চার্চ কেন্দ্রিক মিশনারী সোসাইটি প্রথমে কলকাতায় ৩০টির মতো মেয়েদের বিদ্যালয় স্থাপন করে। কিন্তু তৎকালীন কলকাতার অভিজাত সম্প্রদায় হীন দরিদ্র ঘরের মেয়েদের সাথে এক কাতারে বসতে অস্বীকার করায় এসব স্কুলগুলো আর আলোর মুখ দেখেনি। তখন তারা তাদের প্রকল্প দক্ষিন ভারতের দিকে সরিয়ে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথম মেয়েদের বোর্ডিং স্কুল গড়ে উঠে ১৮২১ সালে। ১৮৪০ সালে স্কটিশ চার্চ সোসাইটি ২০০ ছাত্রী নিয়ে ৬ টি স্কুল বানায়। পরে মাদ্রাজে মিশনারী ৮০০০ ছাত্রীদের জন্য আরো বোর্ডিং স্কুল বানায়। বৃটিশ আমলে পশ্চিম কোলকাতার ব্রাক্ষ্ম সমাজ নারী শিক্ষায় অগ্রগামী ছিল। বিদ্যাসাগরের তত্ত্বাবধানে ১৮৫০ সালে ৮০ জন ছাত্রী নিয়ে বেথুন স্কুলের যাত্রা শুরু করে। তবে পূর্ণোদম্যে এর যাত্রা শুরু হয় ১৮৭৯ সালে। উল্লেখ্য সেসময় মুসলিম ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় বলতে গেলে একদমই ছিল না। এমনকি যখন ১৮৭৮ সালে যখন ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে ইডেন মহিলা স্কুলের গোড়াপত্তন ঘটে তখন ১৫৩জন ছাত্রীর মধ্য মাত্র একজন মুসলিম ছাত্রী ছিল। চট্রগ্রামে খাস্তগীর, কুমিল্লায় নবাব ফয়জুন্নেসা এবং তার বোন বদরুননেসা, ময়মনসিংহে সে এলাকার জমিদাররা, এলাকার সমাজ সেবক, কিছু ব্রিটিশ কর্মচারীদের নানা উদ্যোগে ঊনবিংশ্ব শতাব্দীতে তৎকালীন পূর্ব বাংলার বিভিন্ন জেলায় মেয়েদের জন্য কিছু সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। পর্দাপ্রথা ভেদ করে খুব কম সংখ্যক মুসলিম নারীই তখন শিক্ষার এ সুবিধা গ্রহন করেছিলো। আসলে সে সময় এবং বলতে গেলে এখনও নারীদের নিজেদের ভালোমন্দ বোঝার এবং সির্দ্ধান্ত গ্রহন করার ক্ষমতা ছিল না। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে বেগম রোকেয়া বাঙ্গালি মুসলিম নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। উনি শিক্ষাপ্রসারের পাশাপাশি ক্ষুরধার লেখনী দিয়ে সমাজে নারীদের করুণ অবস্থান তুলে ধরেছিলেন।

নারী শিক্ষার ইতিহাস বলার পেছনের কারণটা হলো আজকের ভারতে কলকাতা এবং মাদ্রাজের শিক্ষিত নারীসমাজের গোড়া পত্তন হয়েছিলো প্রায় দেড়শ বছর আগে। নারীদের জন্য আলাদা বোর্ডিং স্কুল, এবং প্রচারের কারণে আজকে দেখা যায় দক্ষিন ভারতের শিক্ষিতের হার সর্বাধিক। শুধু সে এলাকা থেকেই প্রতিবছর দশ হাজার প্রকৌশলী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করে বের হয়। আজকের এই কম্পিউটার যুগের গোড়াপত্তনে এইসব দক্ষিন ভারতীয় নারী-পুরুষ প্রযুক্তিবিদদের অবদান অনস্বীকার্য। তারাই পরবর্তীতে দেশে ফিরে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় আধুনিক ভারতের রূপকার হচ্ছে। অর্থাৎ শিক্ষিত নারী জনগোষ্ঠির সুফল সুদূর প্রসারী। কোন দেশই নারীর সক্রিয় অংশগ্রহন ছাড়া এগিয়ে যেতে পারেনি। নারী শিক্ষার সাথে শুধু উন্নয়নই নয় দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনও ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। নারীর মধ্যে সচেতনতা আসলে স্বভাবতই সে কম সন্তান ধারণ করে। ইতিহাস থেকে দেখি ক্ষেত্র তৈরী করে দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে তবেই নারীশিক্ষার পথটি সুগম হয়। এবং এ কাজটি অগ্রগামী পুরুষ সমাজকেই করতে হবে।

এখন প্রশ্ন জাগতে পারে এ ক্ষেত্রে ক্যাডেট কলেজের কী ভুমিকা থাকতে পারে? মহিলা ক্যাডেট কলেজকে যদি একটা সফল মডেল ধরা হয় তাহলে এ মডেলকে সারা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে দিয়ে নারীর ক্ষমতায়নকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। আমি বাংলাদেশের বাস্তবতা ভূলে যাইনি। তাই এখানে আমি প্রস্তাবনা করছি মেয়েদের জন্য কম খরচের আবাসিক স্কুলের যা ক্যাডেট কলেজ মডেলে চলবে। মূলস্রোতের ক্যাডেট কলেজে বাংলাদেশে সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবারে বেড়ে উঠা মেয়েরা সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে লেখাপড়ার যা অবস্থা তাতে মূল প্রতিযোগিতায় গ্রামের মেয়েরা টিকতে পারবে না। অথচ এদের জন্যই বেশি প্রতিরক্ষা দরকার। মাস্তানি, সন্ত্রাস, এসিড নিক্ষেপ, বাল্য বিবাহ, যৌতুক, ধর্ষন, ফতোয়া, পারিবারিক নির্যাতন, বৈষম্য, কুসংস্কার আরো কত নারী নির্যাতনের কারণে প্রতিবছরই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কত শত নারী ঝরে পরছে। বয়োসন্ধি বয়সে এসব মেয়েদের সুরক্ষার জন্য যদি আবাসিক প্রকল্প থাকতো তাহলে এদের মধ্যে থেকেই আমরা পেতে পারতাম অনেক বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, সমাজসেবী, শিক্ষিকা, ডাক্তার, আইনজীবি, সাংস্কৃতিক কর্মী, প্রকৌশলীর মতো বিভিন্ন পেশাজীবিদের, সর্বোপরি শিক্ষিত মা যে কিনা তার সন্তানদের সুশিক্ষা দিয়ে বড় করতে পারবে।

প্রথমেই আলোচনা করেছি উপযোগী নিয়মে পরিচালিত মেয়েদের আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উৎপাদনশীল নারী ক্ষমতায়নে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে ফোর্ড কিম্বা মেলিন্ডা-বিল ফাউন্ডেশনের কাছে সাহায্য চাওয়া যেতে পারে যারা নারীশিক্ষার জন্য অনুদান দিয়ে থাকে। কিম্বা সামরিক বাজেট থেকে এ প্রকল্পে অর্থায়ন করা যায় কিনা সেটাও ভেবে দেখা যেতে পারে। আসলে আমাদের গরীব দেশের বাস্তবতায় হয়তো আমরা অনেক সংখ্যক পূর্ণাঙ্গ ক্যাডেট কলেজের কথা ভাবতে পারি না। এক্ষেত্রে আমরা কি আমাদের সমাধানের জন্য নতুন কিছু ভাবতে পারি না? বাঙ্গালিরা তো সবসময়ই তাদের সৃষ্টিশীলতার জন্য বিখ্যাত। এদেশে উদ্ভাবিত ব্র্যাকের প্রাইমারী স্কুলের মডেল, গ্রামীন ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের মডেল আজ সারা বিশ্ব অনুসরণ করছে। স্বল্প বাজেটের ক্যাডেট কলেজ কি এখানে আরেকটা নতুন সংযোজন হতে পারে না? খুব কম সংখ্যক জনগোষ্ঠি ক্যাডেট কলেজের সুবিধা পাচ্ছে। আর তাই একটা বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠির কাছে এইসব প্রতিষ্ঠান বুর্জোয়ার প্রতীক। পাকিস্তান আমলের নিয়ম কানুন ভেঙ্গে আমরা কি পারি না আমাদের দেশের জন্য আরো ফলপ্রসূ কোন সমাধান নিয়ে আসতে?

প্রতিটা জেলায় এতিমখানা এবং বৃদ্ধাশ্রম এবং আবাসিক নারী শিক্ষাকে এক করে কোন প্রকল্পের কথা ভাবা যেতে পারে। পরীক্ষামূলকভাবে সেটা প্রথম এক দুইটা জেলায় শুরু করে দেখা যেতে পারর – যেখানে সে অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের এবং বৃদ্ধদের আশ্রয় দেওয়া হবে। সেই সাথে সেই এলাকার গ্রামাঞ্চল থেকে তুলনামূলক মেধার বিচারে ৭ম শ্রেনীতে ছাত্রী ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে যেমনটা ক্যাডেট কলেজে করা হয়ে থাকে। পূর্ণাঙ্গ ক্যাডেট কলেজের মতো পোষাক-পরিচ্ছদ, খাবার-দাবারের বাহুল্য না রেখে খরচ অনেকাংশে কমানো যায়। এদের সহশিক্ষা কার্যপ্রনালীর মধ্যে পালা- করে শিশু আর বৃদ্ধদের দেখাশোনা করাটাও অন্তর্ভূক্ত থাকবে। মেয়েরা স্বভাবতাই স্নেহপ্রবণা। এ ক্ষেত্রে তাদের এই গুণটিকে ব্যবহার করা যায়। জীবনের প্রতিকূল সময়ে মেয়েদের নিরাপত্তা এবং গড়ে ওঠার সুযোগদিলে তারা পরবর্তী সময়ে নিজের প্রতিষ্ঠা করে পরিবার এমনকি গ্রামের চেহারা বদলে দিতে পারে। আমাদের সামনে তো বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমানের উদাহরন তো রয়েছেই।

পরিশেষে বলবো গ্রামবাংলাকে টেনে তুলে ধরার জন্য আমি নারী শিক্ষার কোন বিকল্প দেখি না। ক্যাডেট কলেজ পরিচালনা পরিষদই এর দায়িত্ব নিতে পারেন। সাংগঠনিক কাজে তারা ইতিমধ্যে যথেষ্ট প্রমানিত।

৪,২৭৮ বার দেখা হয়েছে

৩৭ টি মন্তব্য : “গার্লস ক্যাডেট কলেজ এবং নারীর ক্ষমতায়নঃ”

  1. চমৎকার লেখা আপু।মগকক জিন্দাবাদ।২০০০ সালে নৌবাহিনীতে ২০০১ সালে সেনাবাহিনীতে মেয়েদের ভর্তি শুরু হয় ।২০০৪ সালে ক্যাডেট মার্জিয়া নৌবাহিনীতে সোর্ড অফ অনার অর্জন করে।

    জবাব দিন
  2. মোস্তফা (১৯৮৮-১৯৯৪)

    লেখাটি ভাল লেগেছে আপু। করাতো যায় কত কিছু, কিন্তু করার লোক নেই। যারা চিন্তা করে, তাঁদের করার ক্ষমতা নেই । আর যাদের করার ক্ষমতা আছে, তাঁদের চিন্তার ক্ষমতা নেই। এই ধাঁধার সমাধান আমার কাছে নেই। 🙁 । তারপরেও আশা করি পরিবর্তনের। হয়তো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়। তাই একেবারে পরিবর্তনের চিন্তা করাও মনে হয় দোষের। 🙁

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      হুমম----
      সেদিন আব্দুল্লাহ আবু সাইদের বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র দাড় করানোর উপর একটা বই পড়ছিলাম। সেখানে দেখালাম পুরো জীবন নিয়োজিত করে কিভাবে শূন্য থেকে একটা স্বপ্ন দাড় করাচ্ছেন। সরকার বলো, দাতা সংস্থা বলো - এসব কিছুই না, আমাদের এখন খুব বেশি করে দরকার এরকম আত্মোতসর্গিত মানুষ। আমাকে যদি বলা হয় আমি প্রস্তুত কিনা, আমি বলব এই মূহুর্তে না, তবে দশ বছর পর আশা রাখি।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
  3. শাহরিন (২০০২-২০০৮)

    আপু আপনার আইডিয়া ভাল,সেটা হয়ত ক্যাডেট কলেজ হবেনা,কিন্তু আমাদের দেশের মেয়ে দের জন্য ভাল হবে।আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে বাবা মার যে চিন্তা তা দেখলে মনে হয় ঘরে বসে থাকি।
    :no: :no:
    আর ক্যাডেট কলেজ আমাদের যে শিক্ষা দেয় তা যে আর কোথাও পাওয়া যাবেনা এ বাপারে তো কোন সন্দেহ নাই।এখন পর্যন্ত আমার জীবনে সবথেকে বড় পাওয়া আমি ক্যাডেট 🙂

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      ক্যাডেট কলেজ নামটা না হয় নাই থাকলো - আমাদের মডেলটা দরকার। বাংলাদেশে এখনও অনেক গ্রাম আছে যেখানে মেয়েদের ১৫-১৬ বছরের আগেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়। সামাজিক চাপে পরিবারগুলোর নিজস্ব ভাবনা চেতনা থাকে না। এরকম একটা গ্রামের দু - একটা মেয়েকে যদি রোল মডেল করে গড়ে তো্লা যায় তাহলে কিছুটা হলেও সমাজের পক্ষান্তরে পরিবারের দৃষ্টিভংগি পাল্টে যাবে।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
  4. আন্দালিব (৯৬-০২)

    আইডিয়াগুলো চমৎকার ওয়াহিদা আপু। আমার মনে হয় আমাদের সমাজে নারীকে যে লড়াইটা নিজের প্রতিষ্ঠার জন্যে করা লাগে কেবল নারী হয়ে জন্মানোর কারণে সেটার অনুপ্রেরণা বা সাহস শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা দিয়ে দেয়া সম্ভব না। আপনাদের ব্যাচের হিসাবটাই চমকে দেয়ার মতোন, এমন অনুপাতে ডাক্তার, কর্মকর্তা তো সাধারণ স্কুল-কলেজে দেখা যায় না!

    এক্ষেত্রে সহশিক্ষা জরুরি, আরো জরুরি ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা, যেটা ক্যাডেট কলেজের মতো প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যায়। এমন একটা সিস্টেম গড়ে তোলা যায়, যেখানে পাশের নারীটিকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহমর্মী হিসেবে ইমেজ-নির্মাণ ঘটে। 🙂

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      ছেলেরা জন্ম থেকেই তার আশেপাশে অনেক রোল মডেল দেখে যেমন বাবা চাচা। কিন্তু অনেক মেয়েই তার সারা জীবনে হয়তো একজনও আদর্শ মহিলা রোল মডেলের দেখা পায় না। এর একটা প্রধান কারন অর্থনেতিক।
      এখানে রোল মডেল বলতে বুঝাচ্ছি এমন একজন মহিলাকে যে স্বাধীন এবং স্বচ্ছভাবে চিন্তা করতে পারে, সঠিক ডিসিশন নিতে পারে। এটা অনুভব করি যে প্রত্যন্ত অঞ্ছলে কিছু গ্রহনযোগ্য নারী রোলমডেল থাকলে তা সমাজের দৃষ্টি সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।
      তুমি যে ভ্রাতৃত্ববোধের কথা বললে, সেটার হয়তো কোন আইডিয়াল ফরমেট নেই। আমাদের ব্যাচেই একটা মেয়েকে ক্যাডেট কলেজ ছাড়তে হয়েছিলো তাদের হাউজমেটদের ইর্ষাপরায়নতার কারনে। আর বাইরের দুনিয়া তো আরো খারাপ। সেখানে পলিটিক্স না জানলে টিকে থাকাটা খুব কঠিন হয়ে পরে।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
  5. তানভীর (৯৪-০০)

    আমার মতে সন্তানদের উপর মায়ের প্রভাব থাকে সবচেয়ে বেশি। সুতরাং মা-দের শিক্ষিত এবং সচেতন করতে পারলে পরবর্তী প্রজন্ম অবশ্যই এর সুফল পাবে।

    আপনার প্রস্তাবটা অনেক ভালো লাগল আপু।

    জবাব দিন
    • ওয়াহিদা নূর আফজা (৮৫-৯১)

      হ্যাঁ এই পয়েন্টটা আমাদের বুঝতে হবে।
      আমাদের সাথে একটা মেয়ে ছিল (সে ক্লাসে ১ম, ২য় হতো) বুয়েট লাইফ পর্যন্ত ও বলতো মেয়েরা বিয়ে বসে (বিয়ে করে না)। এখন সে পুরোমাত্রায় radical হয়ে গেছে এবং মুল সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তার মতে ধর্মীয় চিন্তা চেতনায় সন্তান মানুষ করছে। আমি জাজমেন্টাল হতে চাচ্ছি না কিন্তু এরকম কিছু ফল ভালো দেখিনি বলে চিন্তা হচ্ছে।
      মাঝে মধ্যে কনফিউজ হয়ে যাই।


      “Happiness is when what you think, what you say, and what you do are in harmony.”
      ― Mahatma Gandhi

      জবাব দিন
  6. মেহেদী হাসান (১৯৯৬-২০০২)

    প্রস্তাবনা গুলো খুবই যুক্তিযুক্ত... এর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে আসলেই তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক অবস্থার চেহারা বদলে যাবে...
    লেখাটা ভাল লেগেছে... :boss:

    জবাব দিন
  7. ফারাবী (২০০০-২০০৬)

    :thumbup:
    সহমত আপু। সমস্যা শুধু বাস্তবায়ন নিয়ে।
    অন্তত এক্সপেরিমেন্টালি একটা উদ্যোগ নিতে পারলেও হত ।... পুরোপুরি ক্যাডেট কলেজ হয়ত হবে না, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা চিন্তা করলে তার দরকারও নেই - কিন্তু আপুর মডেলটা ফলো করতে পারলে এ্যাকাডেমিকালি সু্যোগ্য কিছু ছাত্রীর সাথে উপরি পাওনা হিসেবে আমরা পেতাম দুর্বলের প্রতি খাঁটি সহানুভূতিসম্পন্ন একঝাঁক ভাল মনের ও প্রতিভাবান নারী্‌......খাঁটি বলছি এই কারণে যে শিশু আর বৃদ্ধের সাথে তাদের মেলামেশাটা সে সময় থেকেই গড়ে উঠতো, যে সময়ে একজন মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠিত হয় । এই সহমর্মিতার মনোভাব তাদের চরিত্রে পাকাপোক্ত হয়ে যাবার একটা উজ্জ্বল সম্ভাবনা এ ক্ষেত্রে থেকে যায়... মেয়েদের সহজাত আবেগকে কাজে লাগাবার খুব চমৎকার আইডিয়া হতে পারে এটা...আপুকে :salute:
    প্রতিভা, মুক্ত চিন্তা আর অপরের প্রতি সৎ সহানুভূতি...এই তিনের সংমিশ্রণের কয়েকটা মানুষ থাকলে দেশের অনেক কিছু পাল্টে যায়...

    জবাব দিন
  8. আছিব (২০০০-২০০৬)

    ফারাবীর সাথে আমিও একমত। :thumbup:
    যে কোন আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্যাডেট কলেজই সেরা, সেটা বয়েজ কিংবা গার্লস যে কোনটাই হোক, এ ব্যাপারে কারোরই সন্দেহ নেই।কিন্তু আবাসিক প্রতিষ্ঠান যতই তৈরি হোক,সেখানে শৃঙ্খলা এবং অন্যান্য মানবীয় গুণাবলী বিকাশের সুযোগ না সৃষ্টি করলে,সকল প্রচেষ্টাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
    তাই যে কোন আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উচিত ক্যাডেট কলেজ স্টাইল ফলো করা। :salute:
    আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি,আমাদের যে সমাজব্যবস্থা,তাতে একটা মেয়েকে প্রতিষ্ঠিত হতে যে কোন ছেলের চেয়ে অনেক বেশি কাঠখড় পোড়াতে হয়।কিন্তু এই শেকলের বাইরে,একটা সুস্থ পরিবেশে গড়ে উঠার সু্যোগ পেলে একটা মেয়ে দেশের জন্য যে কত বড় সম্পদ হতে পারে,তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ মগকক এর ক্যাডেটরা।আপুর ব্যাচটা অসাধারণ......... :salute: :hatsoff:
    আপুর আইডিয়াটা ভালো।এরকম আইডিয়া পেপারে আগেও পড়েছি।এ ধরনের আইডিয়ার কোন নেতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়া সম্ভব না।আমি চাই,এরকম কিছু হোক.......... :dreamy:
    কিন্তু আমি কিছু পয়েণ্ট অ্যাড করতে চাই।আশা করি,নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখবেন সবাই।আমাদের ক্যাডেট কলেজগুলো আগে যতটুকু জৌলুসপূর্ণ ছিল,এখন তা নেই।আগে ক্যাডেট কলেজ গুলোর খরচ আসত প্রতিরক্ষা খাত থেকে,প্রতিরক্ষা খাতে সরকার সবসময় বেশি বাজেট বরাদ্দ করে।এর কিছু অংশ হাইকমান্ড এর বদান্যতায় আবারো সরকারের কাছেই ফেরত চলে যায়।তো,এখন ক্যাডেট কলেজগুলোর খরচ আসে শিক্ষা খাত থেকে,শিক্ষা খাতের যে বন্টন হয়,তা দিয়ে বর্তমানে ১২ টা ক্যাডেট কলেজ আগের মত জৌলুস নিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব না।যাই হোক,জৌলুস দরকার নেই,কিন্তু সকল শ্রেণীপেশার মানুষের জন্য ক্যাডেট কলেজ আর নেই,এখন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।এমতাবস্থায় নতুন ক্যাডেট কলেজ স্থাপিত হলে(বয়েজ বা গার্লস যেটাই হোক) তা কতটুকু ফলপ্রসূ হবে,এ নিয়ে আমি দ্বিধান্বিত।তবে,সরকার যদি বাজেট পেশের সময় এ ব্যাপারে মনোযোগ দেয় এবং এদেশে ক্যাডেট কলেজগুলোর সামগ্রিক সাফল্য ও অবদান অনুধাবন করে,আমি আশাবাদী একটা ভালো ফলাফল আসবেই।
    আর আমাদের দেশের জন্য প্রতিরক্ষার চেয়ে শিক্ষা খাতের উন্নয়নই বেশি জরুরী।একটা বিষয় একটু ভাবুন তো!সব বাজেট দিয়ে আপনি কয়টা পারমাণবিক বোমা কিনতে পারবেন?আমাদের দেশে একটা পারমাণবিক বোমা ফেললে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী কি প্রতিহত করতে পারবে?কিন্তু আমাদের দেশের মেধাবী ছেলে-মেয়েদের পিছনে ওই অর্থ খরচ করলে আমরা হয়ত কিছু পরমাণু বিজ্ঞানী পেতে পারতাম!!!

    জবাব দিন
    • মো. তারিক মাহমুদ (২০০১-০৭)

      এ পোস্টের বিষয় বহির্ভূত একটা প্রশ্ন:

      এখন ক্যাডেট কলেজগুলোর খরচ আসে শিক্ষা খাত থেকে,

      আছিব ভাই, এ ব্যাপারে একটু বিস্তারিত রেফারেন্স দেন । আর কবে থেকে শিক্ষা খাত থেকে আসে, সেটাও যদি জানাতে পারেন, তাহলে ভাল হত। আমার জানা মতে, এখনো সামরিক খাত। এ বিষয়ে কিছুদিন আগে একটা সাময়িক পোস্টও দিয়েছিলাম।

      জবাব দিন
    • সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

      এক. ক্যাডেট কলেজ শিক্ষার অর্থায়ণ এখনো প্রতিরক্ষা বাজেট থেকেই হয়। কিন্তু কলেজ সংখ্যা বাড়লেও বাজেট তেমন বাড়েনি। ফলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এখন আদায় করা হয় বেশি। আমাদের সময়ে যেসব সুযোগ-সুবিধা সরকার থেকে পাওয়া যেত তার অনেক কিছুই প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ কারণে মেধাবী, দরিদ্র শিক্ষার্থীরা নিরুৎসাহিত হচ্ছে। ফৌজদারহাটের ভবনগুলো জীর্ণ হয়ে গেছে। কয়েকবছর আগে বরিশাল গিয়েছিলাম। সেখানকার অবকাঠামোর অবস্থাও সুবিধার দেখিনি।

      দুই. বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট এখন লাখ কোটি টাকা পেরিয়েছে। প্রতিবছর ১০০ কোটি টাকা খরচ করে ৪-৫ হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী যার কমপক্ষে অর্ধেক নারী যদি আমরা তৈরি করতে পারতাম, সেটি কি দেশের জন্য বড় সম্পদ হবে না?

      তিন. শান্তা যেমন গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত মেয়েদের মধ্যে শিক্ষা প্রসারে কিছু সৃজনশীল প্রস্তাব দিয়েছে; এর মূল লক্ষ্যের সঙ্গে আমারও কোনো ভিন্নমত নেই। একইভাবে গ্রাম ও মফস্বলের সুবিধাবঞ্চিত ছেলে শিক্ষার্থীদের মুলধারায় নিয়ে আসার দরকার। এখন তো আরো বেশি দরকার। কারণ উন্নত শিক্ষা এখন রাজধানী এবং প্রধান প্রধন শহরমুখী হয়ে গেছে!


      "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

      জবাব দিন
  9. মো. তারিক মাহমুদ (২০০১-০৭)

    আপু, আপনার লেখাটা মনে ধরেছে। সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে এটা দেখে যে , আপনি "ক্যাডেট কলেজ" নামের গণ্ডী থেকে বেরিয়ে "দেশের জন্য অধিকতর উপযোগী এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাস্তবসম্মত" একটি প্রতিষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছেন। অনেকেই "ক্যাডেট কলেজ" নাম নিয়ে চিন্তিত, কিন্তু আমি মনে করি, নামে কী আসে যায়, বরং পাকিস্তান আমলের নিয়ম কানুন ভেঙ্গে আমরা কি পারি না আমাদের দেশের জন্য আরো ফলপ্রসূ কোন সমাধান নিয়ে আসতে? আর আপনার লেখায় যে বিষয়টা প্রধান্য পেয়েছে, তা হচ্ছে "সুযোগ" । হ্যাঁ, এটাই হচ্ছে বর্তমানে প্রচলিত ক্যাডেট কলেজের সবচেয়ে বড় benefit. আর তাই এ পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন এনে যদি গরীবদের জন্য সেই "সুযোগ"টাকে আরও সম্প্রসারিত করা যায়, সেটা দেশের জন্য আরও মঙ্গলজনক হবে।

    সানাইল্লাহ ভাইয়ের পোস্টে আমি ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কে এই কথাগুলোই বলতে/বোঝাতে চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু অনেকেই তাতে দ্বিমত দিচ্ছিলেন যে , তাতে সেটা ক্যাডেট কলেজ থাকবে না। আমার কথা হচ্ছে, ক্যাডেট কলেজের দরকার কী? দরকার একটা স্টান্ডার্ড মডেল (যেমনটি আপনি বলেছেন) । আর সেই মডেল প্রতিষ্ঠান দেশের তৃণমূল পর্যায়ে "সুযোগ" পৌছে দেবে। আমার ধারণা আমরা "ক্যাডেট কলেজ" নাম নিয়ে গর্ব বোধ করি এই সিস্টেমটার বিশেষ দিকগুলির জন্য যেগুলো সাধারণ মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই। তাই ক্যাডেট কলেজ যদি বদলেই যায়, তাতে আমাদের (যারা ক্যাডেট কলেজে পড়েছি) কৃতিত্ব কমবে না, বরং আমরা গর্ব করে বলতে পারব যে "... ... আমাদের সময় এই প্রতিষ্ঠান এমন ছিল, পরবর্তিতে আমরাই এর সংস্কার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সবার সামনে এটা তুলে ধরি এবং তারই ফলশ্রুতিতে ক্যাডেট কলেজ সিস্টেমে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয় ... ... ইত্যাদি" । আপনার বর্ননা , যুক্তি এবং উপস্থাপনার ধরণ খুবই ভাল লাগল। এমন সুন্দর একটা লেখার জন্য আপনাকে :salute: ।

    জবাব দিন
  10. সাইফ শহীদ (১৯৬১-১৯৬৫)

    শান্তা

    সানাউল্লাহ লাভলুর পাঠানো রজত জয়ন্তির স্মরণীকাটি হিউস্টান পর্যন্ত এসে গেছে, আশা করছি সামনের সপ্তাহে আমার হাতে এসে যাবে। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম তোমার ও অন্যদের সেখানে প্রকাশিত লেখা পড়ার জন্যে। এর মধ্যে সিসিবিতে তোমার লেখাটি পড়তে পেরে খুশী হলাম। আমি মনে করি খুবই সুন্দর করে এবং বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত তোমার এই লেখাটি সবার বিশেষ মনযোগ আকর্ষন করবে।

    আমার বাবা চিরকাল শিক্ষার প্রসারে তার জীবন অতিবাহিত করেছেন। আমার ৬ বোন - সবাইকে মুক্ত পরিবেশে শিক্ষা লাভের ব্যাপারে তিনি বিশেষ উৎসাহ যুগিয়েছেন। তিনি বলতেন যে কোন জাতির উন্নয়নে মুক্ত নারী শিক্ষা বিশেয ভূমিকা রাখে।

    মহিলা ক্যাডেট কলেজ এবং একই মডেলের অন্যান্য মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দেশের এবং জাতীর সামগ্রীক উন্নতিতে বিশেষ ভুমিকা রাখতে সক্ষম। এই প্রসংগে আমি কুমুদিনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করতে চাই। স্বর্গীয় আর, পি, সাহা একক বাক্তিগত প্রচেষ্টায় যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন তা আজও স্বনামধন্য। আমার স্ত্রীও কুমুদিনী কলেজের ছাত্রী ছিলেন এবং তার ফলে তার মধ্যে যে সাহস ও আত্ববিশ্বাস দেখি তাতে আমার মাঝে মাঝে মনে হয় আসলে দেশে ছেলেদের চাইতে মেয়েদের ক্যাডেট কলেজের সংখ্যা বরং বেশী হওয়াই উচিত ছিলো।

    বুদ্ধিমত্বা ও প্রতিভা জন-মানুষের মাঝে স্টাটিসটিকালি প্রায় সমান ভাবে ছড়িয়ে থাকে। এটা কোন বিশেষ শ্রেণী বা প্রজাতীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটা শুধু আমার কথা না, বর্তমান যুগের বিশেজ্ঞদের অভিমত এটি। সমস্যা হচ্ছে সুযোগের অভাবে এমন অনেক প্রতিভা অকালে বিনষ্ট হয়ে যায় আমরা তার খবরও রাখিনা। ১৫ কোটির দেশে সুযোগ করে দিতে পারলে অচিরেই অনেক সুপ্ত প্রতিভা প্রস্ফুটিত হয়ে বেরিয়ে আসবে - তারাই হবে আমাদের ভবিষৎ।

    আমি মনে করি প্রতিটি জেলাতে অন্তত একটি করে মেয়েদের ক্যাডেট কলেজ স্থাপন করতে পারলে তার অনুকরনণে হয়তো প্রতিটি ইউনিয়ন কাউন্সিলে গড়ে উঠবে আরও অনুরূপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যে বিপুল পরিমান বাংলাদেশী এখন দেশের বাইরে থেকে অর্জন করে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকা দেশে পাঠাচ্ছে, নিজের এলাকায় এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সস্থাপনে তারাও এগিয়ে আসবে - যদি সঠিক পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়।

    পাকিস্তানী আমলের চিন্তা-ভাবনা থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে ভারত, চীন বা মায়ানমার, তাদের নিজেদের স্বার্থেই অদূর ভবিষ্যতে কখনো দখল করতে আসবে না। সুজারল্যান্ডের মতো দেশেও কোন স্থায়ী মিলিটারী রাখা হয়না। প্রতিটি নাগরিক শিক্ষা শেষে একটি বিশেষ বয়সে দুই বছরের জন্যে মিলিটারী ট্রেনিং গ্রহণ করে যাতে প্রয়োজনে তারা দেশ রক্ষার কাজে এগিয়ে আসতে পারে।

    জাপান ও জার্মানীর উন্নতির মূলে রয়েছে প্রতিরক্ষার বিপুল ব্যায়ভারের বদলে তারা তাদের সম্পদ দেশের অন্য উন্নতিতে ব্যায় করতে সক্ষম হয়েছে। আমাকে ভুল বুঝোনা, আমি সামরিক ব্যয়ের সংকুচনের কথা বলছিনা, আমি আমাদের সম্পদকে কি করে আরও বেশী কার্যকর করা যায় তার কথা ভাবছি। এমনকি বর্তমানে আমেরিকায় পেন্টাগনও নতুন করে চিন্তা-ভাবনা করছে পরিবর্তীত নতুন এই বিশ্বে কি ভাবে তারা বেশী কার্যক্ষম হতে পারবে।

    বাংলাদেশের সামনে ভবিষ্যতে যে সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দেবে তা হচেছ - প্রাকৃতিক দূর্যোগ, নতুন ধরনের মহামারী, জনসংখ্যা বিস্ফোরণ, দারিদ্রতা, দূর্ভিক্ষ, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য চালিকা শক্তির স্বল্পতা, অব্যবস্থাপনা ও দূর্নীতি, সামাজিক সমস্যা ও সর্বপরি আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যাদি। এসব সমস্যা সমাধানে নতুন ধ্যান-ধারনায় দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশী প্রয়োজন আমাদের।

    শান্তা, তোমাকে আবার ধন্যবাদ এই সুন্দর লেখাটির জন্যে।

    জবাব দিন
  11. আসিফ খান (১৯৯৪-২০০০)

    আমি ইতিমধ্যে এক সাথে শিশু ও বৃদ্ধদের হোম স্থাপনের ব্যাপারে কিছু বন্ধুর সাথে আলোচনা শুরু করেছি...।আপু আপনার পরামর্শ অনুযায়ী সেখানে নারীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ থাকলে অনেক ভাল হয়। তবে কিছু সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করার সুবাদে আমার পরামর্শ হল,কাজটা শুরু করা জরুরী যত তাড়াতাড়ি পারা যায়।বাধাতো আসবেই,সীমাবদ্ধতা থাকবেই।।চলুন শুরু করি......।।

    জবাব দিন
  12. আত্মসম্মানবোধ নিয়ে শিশুদের বেড়ে উঠা আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজের বড় একটা অংশ প্রমোট করেনা। বেয়াদবি আর সহজাত আচরণকে গুলিয়ে ফেলে এক অদ্ভুত সংকরায়নের মধ্য দিয়ে শাসন করা হয় আমাদের শিশুদের। লিডার নয়, ফলোয়ার তৈরির কারখানা বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই যাঁতাকল থেকে বের হতে পারার শক্তি খুব কম মানুষেরই থাকে। তাই ১৬ কোটি বাঙ্গালীর মাঝে হাতে গোনা কয়েকজনকে কীর্তিমান পাই। নাহলে পূর্ণিমার আকাশের মত অসংখ্য মেধাবী তারা ঠিকই তাঁদের আলোয় জ্বলজ্বল করত। অসাধারন লেখা আপু।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।