কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের ছোটগল্প পড়ে বরাবরই মুগ্ধ হই। বিচিত্র সব বিষয়ের প্রতি পাঠককে তিনি আগ্রহী করে তোলেন, ভাবতে উদ্বুদ্ধ করেন। মাসখানেক আগে পড়লাম তার লেখা মৃত্যু সম্পর্কে আমার অবস্থান খুব পরিষ্কার। আইসিইউ-এর নির্জন শীতল ঘরে শুয়ে আছেন একজন মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধ। তাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির অভিনব সংযোজন লাইফ সাপোর্টের সাহায্যে। তার করুণ অসহায়ত্ব ও ভয়াবহ নিঃসঙ্গতার বিবরণ উঠে আসে তার পুত্রের বয়ানে।
বিস্তারিত»মায়ের খুব কাছাকাছি
মায়ের খুব কাছাকাছি
ওবায়েদুল্লাহ
মাটির উপর শুয়ে কান পেতে আছি,
সোদা গন্ধ নাকে পিঠে শিতল পরশ
মায়ের খুব কাছাকাছি।
মা মাগো তুই কেমন আছিস ?
তুই শুয়ে ঘরে আমি যে দাড়িয়ে বাইরে
চলে গেলি মাগো সত্যি আমাকে ছেড়ে,
দেখবো না তোকে কোন দিন বাড়ি ফিরে
এও কি হয় মা বল, বাড়ি যাবো কি করে?
প্রসঙ্গ : বিবর্তনবাদ
বিজ্ঞানের যে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষ তো বটেই, অনেক শিক্ষিত মানুষের মধ্যে বিশাল ভুল ধারণা আছে এবং অনেকে বিষয় অজানা রয়েছে সেটি হচ্ছে বিবর্তনবাদ।নিজের ব্যক্তিগত আগ্রহে পড়াশোনা ও জিনোমিক ডাটা নিয়ে কাজ করার সুবাদে যেটুকু ধারণা আছে সেটি নিয়ে আলোচনা করবো এবং চেষ্টা করবো ভুল ধারণা ভাঙ্গানোর।
বিবর্তনবাদ শুধুই একটি থিওরিঃ
সম্ভবত সবচেয়ে বহুল প্রচলিত ভুল ধারণা এটি ।আমরা দৈনন্দিন জীবনে থিওরি দিয়ে যা বুঝাই আর বিজ্ঞান জগতে থিওরি বলতে যা বোঝায় দুটি মোটেও এক জিনিস না।
মা মোর
মা মোর
ওবায়েদুল্লাহ্
এই বাংলার খুব অজ এক গায়ে
সন্ধে হলে শেয়ালেরা ডাকতো পথে
হাস গুলো হেলে দুলে ফিরতো গৃহে
রাতে কেরোসিন বাতির সলোকে
হেসেলে রান্না সেরে আসতো ঘরে
গাঢ় শ্যামল রঙের কিশোরী মেয়ে।
সেই এক রমনীর গতর ফেটে
কোন এক আধার রাতে
আর্তনাদে অবিচ্ছেদ্য নাড়ি কেটে
আমি এসেছিলাম ডাকতে মাকে।
অতল গভীরে সমুদ্র মন্থন
সহস্র আলোক পথ বিচরন,
আমার জীবনে নারীঃ পর্ব-১
এটা কোন প্রকারের একাডেমিক, বা মনের দায়বদ্ধতার, বা ব্যাক্তিপর্যায়ের কাউকে ফোকাসের উদ্দেশ্যে লেখা নয়। লেখার প্রসঙ্গ ও চরিত্রগুলো আমার ব্যাক্তিজীবন, বেড়ে ওঠা, একাডেমিক ডিসিপ্লিন, প্রফেশনাল স্টাডিজ, পরিচিত মহল, এ-সবকিছুর সংমিশ্রণের প্রতিফলন হলে হতেও পারে। আপাতত শুধু এটুকু জানি, মাথায় কিছু চিন্তা কাজ করছে; কাজেই, লেখাটা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকবে, তা এই মুহূর্তে বলা মুস্কিল। মনের মাঝে উঁকি দেয়া চিন্তাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই লিখতে বসলে ডায়রির পাতার মত এদিক-ওদিক চলে যায়।
বিস্তারিত»বিনত বিবির মসজিদ – ঢাকা
পূর্বকথা
সপ্তম শতাব্দী থেকেই মুসলমানরা ইসলামের ঝান্ডা উড়িয়ে বিশ্বের, বিশেষ করে ইউরোপের স্পেন থেকে আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির উত্তর-দক্ষিণে ও এশিয়ার ভারতীয় তটরেখা তাদের বলিষ্ঠ পদচারণায় উত্তাল করে রাখে। সে সময় মুসলমানদের শানিত তরবারির ঝলকানিতে রাজনীতি ও ইসলাম ধর্ম প্রচার যুগপথভাবে আরব গন্ডি পেরিয়ে উক্ত ৩টি মহাদেশে সম্প্রসারিত হয়। ভারত উপমহাদেশে এর ধামাক্কা লাগে ১১ শতাব্দীতে, যদিও ভারতভূমি তার আগে থেকেই (৮ম শতাব্দী) আরবদের চেনা ছিল।
ফ্লাইট এএ৪১৬৩
কানের মধ্যে চাপ বাড়ার সাথে সাথে হাসানের ঘুমটা ভেঙে গেল। সাথে সাথে ফ্লাইট এটেন্ডেন্টের লাউড স্পীকারে ভেসে আসা কন্ঠে ইংরেজীতে স্পষ্ট উচ্চারণে শুনতে পেল, “আর দশ মিনিটের মধ্যে আমাদের ফ্লাইট লেক্সিংটন ব্ল গ্রাস এয়ারপোর্ট এ ল্যান্ড করবে”। পুরো দেড় ঘণ্টার ফ্লাইটে প্রায় পুরোটা সময় গভীর ঘুমে আছন্ন ছিল প্রফেসর হাসান। শিকাগো থেকে টেক অফ করার পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি। ক্লান্তির কাছে মাথা পেতে চোখ বুঝতেই সব অন্ধকার হয়ে যায়।
বিস্তারিত»জব্বারের বলি খেলা ঃ ঐতিহ্যের অভিব্যক্তি

জব্বার এর বলি খেলার কথা অনেক অনেক বার শুনেছি শুধু। অনেক সময় টিভি তে বা খবরে এক নজর দেখারও সুযোগ হয়েছে। তবে এবার বৈশাখী মেলায় বলি খেলা সামনা সামনি দেখার সুযোগ হয়েছে। এই কুস্তি/বলি খেলা যে কতটা থ্রিলিং সামনা সামনি না দেখে বুঝা মুশকিল। সবচেয়ে মজার ব্যপার হলো শুধু শক্তিশালী বা আকারে বড় হলেই যে এই খেলায় যে জিত নিশ্চিত তা নয়, বরং টেকনিকটাই আসল।
বিস্তারিত»ইতিহাসের গোলকধাঁধা ও বিভ্রান্ত প্রজন্ম
মুঘল সম্রাটদের মধ্যে যাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয় তিনি ষষ্ঠ সম্রাট আওরঙ্গজেব। ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক ময়দানে ‘আওরঙ্গজেব’ এখনো প্রাসঙ্গিক ইস্যু। ভিন্নধর্মের প্রতি আওরঙ্গজেবের তীব্র বিদ্বেষ ও যুদ্ধ-উন্মত্ততা সবিস্তারে রসিয়ে রসিয়ে বর্ণনা করেছেন এমন ঐতিহাসিকের সংখ্যা নেহায়েৎ কম নয়।
এমনকি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু তাঁর বিখ্যাত দি ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া বইয়ে মন্তব্য করেছিলেন, Aurungzeb .. a bigot and an austere puritan,
বিস্তারিত»এই বোশেখের চাওয়া
এই বোশেখের চাওয়া
এই বোশেখে আর কিছু নয় চাওয়া-
জানালাগুলো একটু খোলা রেখো।
দখিনপানের মাতাল প্রেমিক হাওয়া
মধ্যরাতে ঘুম ভাঙ্গালে দেখো;
মেঘপুকুরে চাঁদ দিয়েছে ডুব,
বিজলী আঁধার ভাঙছে ক্ষণে ক্ষণে।
হাস্নুহেনা ঘ্রাণ ছড়ালে খুব
আমার কথাই পড়ুক তোমার মনে।
আকাশ হতে নীল গিয়েছে চলে,
দিঘীর জলেও তার ছায়াটি নেই;
মেঘমেয়েদের ওড়নাগুলোর তলে
নীল তারাটি জ্বলছে তবু সেই।
বৃষ্টি ও বিভ্রম

বৃষ্টি ও বিভ্রম
বাস ফেরিতে ওঠার পর পরই লাবন্য আর বাদল ফেরিতে নেমে পড়েছিল । নদীতে তখন বৃষ্টি ঝরছে। কখনও জোরে কখনও থেমে থেমে, বাতাসে একেকবার তেরসা হয়ে ফেরির ভেতর ঢুকে পড়ছে, বৃষ্টির ছাঁট।সেই বৃষ্টির ঝাপ্টা খারাপ লাগছিল না বাদলের। সে বলল, “মনে হচ্ছে ছোট বেলার মত ছোঁয়া ছুঁয়ি খেলি। কত দিন পর এমন বৃষ্টিতে তোকে পেলাম”।
লাবন্য বলল, “বেশি ছুঁতে এসোনা,
বিস্তারিত»হাজী খাজা শাহবাজ মসজিদ ও সমাধি -ঢাকা
হাজী খাজা শাহবাজ
হাজী খাজা শাহবাজ মুঘল আমলে ভারতের কাশ্মীর থেকে বনিক হিসাবে বাঙলায় আগমন করেন। একজন সফল সওদাগর হিসাবে অচিরেই তিনি ঢাকায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। ফলে তিনি ‘মালিক-ই-তুজ্জার’ বা ‘ব্যবসায়ীদের চূড়ামনি/সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী’ উপাধি ও ঢাকার টাইকুন হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ধনাঢ্য এই ব্যবসায়ী শহরতলী টঙ্গী এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। বাঙলায় যখন মুঘল নৃপতি আওরঙ্গজেবের (রাজত্বকালঃ ১৬৫৮-১৭০৭ খ্রীঃ) ৩য় পুত্র সুবাহদার শাহজাদা মুহম্মদ আযমের শাসন (১৬৭৮-৭৯ খ্রীঃ) চলছিল সেই সময় ১৬৭৯ খ্রীঃ তিনি একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন।
বিস্তারিত»শেষ বিকেলের রোদে কিছু হাঁটাহাঁটি…. শুরু হতে না হতেই ফুরিয়ে এলো নিমেষে!
এখন অগ্রহায়ণ মাসের শেষ ক’টা দিন চলছে। এসব দিনে বিকেল বলতে কিছু থাকেনা। মধ্যাহ্নভোজের পর এটা সেটা করতে করতেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। বিকেলটা কখন হারিয়ে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। এসব দিনের হ্রস্বতার কারণে দৈনন্দিন অনেক কাজই আমি সময় মত সমাপ্ত করতে পারিনা, ফলে কেমন যেন একটু অস্থিরতায় থাকি। এ নিয়ে একটি কবিতাও লিখেছিলাম, বছর তিনেক আগেঃ
হ্রস্ব দ্বিপ্রহর, দীর্ঘ বিক্ষিপ্ততা
টেঙ্গা মসজিদ – শ্যামনগর, সাতক্ষীরা
বঙ্গের বীরপুত্র, বাংলার বারভূইয়ার অগ্রগণ্য, যশোরাধিপতি মহারাজা প্রতাপাদিত্যের (রাজত্বকাল ১৫৮৪ খ্রীঃ – ১৬০৯ খ্রীঃ) নৌ-বাহিনী প্রধান খোজা কমল/খাজা কামাল রাজধানী ঈশ্বরীপুরে একটি ‘টেঙ্গা’ প্রতিষ্ঠা করেন। টেঙ্গা ফার্সী শব্দ যার অর্থ ‘সেনাছাউনি/ছাউনি’। ছাউনি থেকে আধা কিলোমিটার দূর দিয়ে বয়ে যাওয়া কদমতলী নদীর পাশে এবং নিকটবর্তী ধুমঘাট নৌ-দূর্গের সৈনিকদের জন্য এই ছাউনি গড়ে তোলা হয়েছিল বলেই প্রতীয়মান হয়। তার বাহিনীতে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ধর্মাবল্বীদের মধ্যে মুসলমান সৈনিকরাও ছিল।
বিস্তারিত»সে জানতো…
পাকা ফল হয়ে সে ঝুলে ছিলো।
যে কোন সময়ে…
টুপ করে ঝরে পড়ার অপেক্ষায়।
কতটুকু কাঁপুনি হলে সে ঝরে পড়বে-
তা মাপার জন্য কোন রিখটার স্কেলের প্রয়োজন নেই,
সে জানতো…
শুধু একটু শিরশিরে বাতাস…
কিংবা একটি ক্ষুদ্র পাখির চঞ্চুচুম্বন,
ব্যস, এটুকুতেই সে ঝরে পড়তে পারে-
সে জানতো।
অন্তঃসারশূন্য, কীটাক্রান্ত ফল মাটি ছাড়া কেউ খায় না,
