বিনত বিবির মসজিদ – ঢাকা

পূর্বকথা
সপ্তম শতাব্দী থেকেই মুসলমানরা ইসলামের ঝান্ডা উড়িয়ে বিশ্বের, বিশেষ করে ইউরোপের স্পেন থেকে আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির উত্তর-দক্ষিণে ও এশিয়ার ভারতীয় তটরেখা তাদের বলিষ্ঠ পদচারণায় উত্তাল করে রাখে। সে সময় মুসলমানদের শানিত তরবারির ঝলকানিতে রাজনীতি ও ইসলাম ধর্ম প্রচার যুগপথভাবে আরব গন্ডি পেরিয়ে উক্ত ৩টি মহাদেশে সম্প্রসারিত হয়। ভারত উপমহাদেশে এর ধামাক্কা লাগে ১১ শতাব্দীতে, যদিও ভারতভূমি তার আগে থেকেই (৮ম শতাব্দী) আরবদের চেনা ছিল। ধর্ম প্রচার নয় বরং বাণিজ্যই ছিল তখনকার আরবদের ভারতভূমির সাথে তাদের যোগাযোগের মূল উদ্দেশ্য। বাঙলা অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশের ভূখন্ডে ঠিক কবে থেকে আরবদের আগমন/অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল তার ঠিকুজি সঠিকভাবে জানা না গেলেও তুর্কী সমরনায়ক মালিক ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজী ১২০৪/৫ খ্রীঃ অবিভক্ত বাঙলার তৎকালীন রাজধানী লক্ষণাবতী অতর্কিত আক্রমন ও মহারাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে যে মুসলিম শাসন কায়েম করেছিল তার হাত ধরেই হয়ত এখানে মুসলমানরা রাজত্ব করার সুযোগ পায়। তবে একথাও আমরা এক্ষণে স্মরণ রাখছি যে, সমগ্র পূর্ববঙ্গ ১৩০২ – ১৩২২ খ্রীঃ আগে মুসলমান কর্তৃক বিজিত হয়নি।

আমরা সবাই জানি, আজকের বাংলাদেশ ১৯৭১ খ্রীঃ মহান স্বাধীণতা যুদ্ধে জয়লাভের আগ পর্যন্ত নানা বহিরাগত জাতির দ্বারা বিগত দিনগুলোর প্রায় পুরোটা সময় ধরেই কুক্ষিগত ছিল। দীর্ঘ অনুশাসন ও প্রকৃতির সহজাত নিয়মে ঐসব জাতির আচার-ব্যবহার, কৃষ্টি, ভাষা, ধর্ম, নগরায়ন, স্থাপনা ও স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যসহ নানা আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব আমাদের দৈনন্দিন জীবণ-মানের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে। আরব জাতি তথা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাব এর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাই এখনো ঐ সব জাতির নানামুখী কীর্তিচিহ্ন আমাদের নজর কাড়ে। বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, তাদের হারিয়ে যাওয়া বা টিকে থাকা পূর্ত-স্থাপনাগুলোই আজ আমাদের অমূল্য প্রত্নভান্ডারে পরিনত হয়েছে। তবে সময় যত অতিবাহিত হয়েছে, ভূমির উপর সে সব টিকে থাকার সম্ভবনাও তত কমেছে। তাই নিকট অতীতের মানে ইউরোপীয় (১৮/১৯ শতক) ও মুঘলদের (১৬-১৮ শতক) দ্বারা নির্মিত অট্টালিকা যেমনটি আজ চোখে পড়ে সুলতানি আমলের (১৪-১৬ শতক) বা পাঠানামলের (১৬ শতক) নিদর্শন তেমন একটা চোখে পড়ে না। সুলতানি আমলের নিদর্শনের মধ্যে যে অতি অল্প সংখ্যক স্থাপনা সারা দেশে টিকে আছে সেগুলোর মধ্যে পুরোনো ঢাকার ‘বখত বিনতের মসজিদ’ অন্যতম যা ‘বিনত বিবির মসজিদ’ নামেই সমাধিক পরিচিত। ঢাকা জেলার সূত্রাপুর থানার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪১ নং ওয়ার্ডের ৬ নং নারিন্দা রোডে মসজিদটি অবস্থিত।

সময় ১৪৫৭ খ্রীঃ – বাঙলায় সুলতানি শাসনামলের ২য় ইলিয়াস শাহী বংশের নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৪৪২ – ১৪৫৯ খ্রীঃ) এর রাজত্ব। তার রাজধানী গৌড়। রাজ্য আবার ২টি ইকলিম/প্রদেশে বিভক্ত। ইকলিম মুয়াজ্জামাবাদ ও ইকলিম মুবারকবাদ। ঢাকা কসবা খাস (কসবা-প্রাচীর ছাড়া দূর্গ/শহর) ইকলিম মুবারকবাদের একটি থানার প্রশাসনিক কেন্দ্র। কিন্তু এই সময় বাংলাদেশের গৌড়, সোনারগাঁও কিংবা চট্টগ্রাম যেমন সুপরিচিত ছিল ঢাকা তখনও অতটা পরিচিত হয়ে উঠতে পারেনি। কসবা ঢাকার বাবুবাজার, তাঁতিবাজার, গোয়ালনগর, কুমারটুলী, পাটুয়াটুলী, সুতারনগর, লক্ষীবাজার, কামারনগর, সূত্রাপুর, বাংলাবাজার, জালুয়ানগর, বানিয়ানগর ইত্যাদি এলাকায় এ সময়ের আগে থেকেই জনবসতি গড়ে উঠেছিল। এদিকে বাংলাবাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে একটি বন্দর (বা হতে পারে এখানে আগে থেকেই কোন বন্দর ছিল) যা অচিরেই বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়। বস্ত্র/তন্তুশিল্পজাত পণ্য/কাপড় ও মশলা ছিল এখানকার উল্লেখযোগ্য রপ্তানী পণ্য। এই বাংলাবাজারের উত্তর-পূর্ব দিকে নারায়ণদিয়া এলাকায় ক্রমে গড়ে উঠে একটি মুসলিম মহল্লা (নারায়ণদিয়া বৃটিশ আমলে ১৭৩৫ খ্রীঃ নাগাদ নারিন্দা নামে পরিচিতি পায়)। নারায়ণদিয়ায় ঢাকার প্রথম দিককার মুসলিম বসতি গড়ে ওঠার ফলে এই সময় সেখানে বিনত বিবির মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিনত বিবির মসজিদে ৫ লাইনের সংক্ষিপ্ত তথ্য ও বর্নণায় লিখিত একটি শিলালিপি আছে। এই শিলালিপি পাঠে জানা যায়, ৮৬১ হিজরী সনে (অর্থাৎ ১৪৫৬-৫৭ খ্রীঃ) মারহামতের কণ্যা বখত বিনত মসজিদটি নির্মাণ করেন।

শিলালিপির পাঠঃ

বিনত বিবির মসজিদের শিলালিপি

‘‘বিসমিল্লাহির রহমানের রহীম
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ
এই অধমের মসজিদ দিনে ও রাতে উচ্চারিত ‘হায় ফালাহ’ ধ্বনির মধ্য দিয়ে সুশোভিত
মারহামতের কণ্যা মোসাম্মাৎ বখত বিনাত এটি নির্মাণ করেন
(নির্মাণ তারিখ) হিজরী ৮৬১”

লক্ষ্যণীয় যে, শিলালিপিটি নাসখ লিপিতে আরবী ও ফার্সী ভাষায় রচিত। কেউ কেউ ধারনা করেন মারহামত একজন ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন এবং তিনি তুর্কী/পারস্য থেকে এখানে এসেছিলেন। ঢাকার প্রাচীন এবং সুলতানি আমলের নিদর্শন এই মসজিদ নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া, পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, লবণাক্ত আবহাওয়ার ক্ষয়িষ্ণু-প্রবণতা ইত্যাদি কারণ ও প্রত্ন-নিদর্শনের প্রতি গণ-মানুষের অসচেতনতা, প্রত্ন-সম্পদ রক্ষার্থে সাধারন মানুষের আর্থ-সমাজিক অবস্থা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ইত্যাদি বিরাজমান থাকা সত্ত্বেও এই মসজিদ কয়েকবার সংস্কার করা হয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে এর আদিরূপ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এখন আমরা যে মসজিদটি দেখতে পাচ্ছি তা সাড়ে পাঁচশ বছর আগের মসজিদটি নয়। তাহলে সেই সময় মসজিদটি কেমন ছিল?

আদি মসজিদ
মারহামত যখন মসজিদটি তৈরী করেছিলেন তখন মসজিদটি ছিল ছোট পরিসরের। বাহারী একটি তোরণ দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতে হত। মসজিদের আকৃতি ছিল বর্গাকার যার প্রতি বাহুর বাহিরের দিকের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ৪.৯০ মিটার আর ভিতরের দিকে ৩.৮৪ মিটার করে। প্রতিটি দেওয়াল বেশ পুরু ছিল। সেক্ষেত্রে একসাথে ১২-১৫ জন মুসল্লী ২ কাতারে নামায আদায় করতে পারতেন। মুসল্লিরা উত্তর ও দক্ষিণের ১টি করে ও পূর্ব দেওয়ালের ৩টি দরজা দিয়ে জুল্লাহ/নামায কক্ষে/মসজিদের ভিতর ঢুকতে পারতেন। সবকটি প্রবেশপথই খিলানাকৃতির ‍ছিল। এই প্রবেশ পথের উপর উপরেল্লিথিত শিলালিপিটি সাঁটা ছিল। পশ্চিম দেওয়ালে একটিমাত্র মিহরাব ছিল যা বাহিরের দিকে অভিক্ষিত। বাহিরের দিকে মসজিদের চার কোণায় বক্রাকৃতির কঙ্গুরা (Battlement) যুক্ত চারটি অষ্টভূজাকৃতির মিনার ছিল। এই মসজিদের কার্ণিশ ও ছাদ ছিল বাঁকানো আকৃতির। ছাদের উপর উল্টানো পেয়ালার মত ১টি গম্বুজ সরাসরি ছাদ-ভিত্তি থেকে উপরে উঠে গেছে এবং ছাদের পানি যাতে এপথে ভিতরে গড়াতে না পারে সে জন্য গোড়ায় এক পরত চুন-সুরকির মর্টারের পট্টি লেপন করা হয়েছিল। মসজিদটিতে পলেস্তরা করা ছিল না এমনকি কারুকাজও ছিল না বলেই মনে হয় আর থাকলেও তা খুব সাধারন মানেরই হবে। কেননা মসজিদের মিহরাবটিও ছিল খুব সাধারন মানের।

সংস্কার
মসজিদটি কবে প্রথম সংস্কারের ছোঁয়া পায় তা জানি না তবে বহুবার যে সংস্কার করা হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। এই সময় শুধু সংস্কারই নয় বরং মুসল্লীদের ক্রমবর্ধমান চাপে মসজিদের কলেবরও বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ফলে দক্ষিণ দিকে সম্প্রসারণ করে আদি নামায কক্ষের সমান আকৃতির নতুন আরেকটি নামায কক্ষ ও বারান্দা এবং পূর্ব দিকে আরেকটি বারান্দা সংযোজন করা হয়। পশ্চিম দেওয়াল ভেঙ্গে আরো পশ্চিমে সরিয়ে নেওয়া হয়। মসজিদের দক্ষিণ দিকের ছাদে আরেকটি গম্বুজ বসানো হয়। ২য় গম্বুজটি পূর্বেরটির অনুরূপ আদলে তৈরী করা হয়। তবে সংস্কারের সময় আদি গম্বুজটির মূল রূপটি অক্ষুন্ন রেখে সংস্কার কাজ করা হয়েছিল কিনা সন্দেহ। যাহোক, এখন গম্বুজ ২টির প্রত্যেকটির উচ্চতা আনুমানিক ৩.৬৬ মিটার, আর ভিত্তিমূলের প্রশস্ততা ৩.৭ মিটার। গম্বুজদ্বয়ের বহিঃ-অঙ্গনে যে চিনি-টিকরীর মোজাইক দেখা যায় তা নিঃসন্দেহে পরবর্তী কালে সংযোজন করা হয়েছে। উপনিবেশ আমলে এই ধরনের চিনি-টিকরীর কাজ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। আদি মসজিদের পূর্ব দেওয়ালে ৩টি দরজা ছিল, সম্প্রসারণের পর আরো ৩টি দরজা সংযোজন করা হলে পূর্ব দেওয়ালে দরজার সংখ্যা দাঁড়ায় ৬টিতে। এই সময় দক্ষিণ দেওয়ালেও ১টি দরজা স্থাপন করা হয়। পূর্ব দেওয়ালের বারান্দা দিয়ে রাস্তা থেকে সরাসরি মসজিদে প্রবেশ করা গেলেও পরে ১টি অংশ খোলা রেখে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। যাহোক, মসজিদের এতসব সম্প্রসারণের ফলে একসাথে ৩০ – ৪০ জন মুসল্লী তখন নামাজ আদায় করতে পারতেন।

গম্বুজদ্বয়ের উপরের পূর্বদিকে দু’টি তারিখ উল্লেখ করা আছে। একটিতে ‘প্রথম সংস্করণ হিজরী ৮৬১’ ও অপরটিতে ‘দ্বিতীয় সংস্করণ বাংলা ১৩৩৭’ লেখা আছে। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে মসজিদটি ৮৬১ হিজরী সনে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ/১৯৩০ খ্রীঃ একবার সংষ্কার করা হয়। যাহোক, ২০০০ খ্রীঃ দিকে যখন মসজিদটি আবারো সংস্কার করা হয় তখন এর এক তলার উপর আরো দু’তলা তৈরী করা হয়।

বিনত বিবির মসজিদের গম্বুজ, বাঁকানো ছাদ ও মিনারের শীর্ষচূড়া

ঢাকার লোকসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ও প্রাচীন মসজিদের স্থায়ীত্বের প্রতি সন্দিহান হয়ে ২০০৬ খ্রীঃ স্থানীয়রা মসজিদটিকে আরেক দফা সংস্কার করতে উদ্যোত হন। আর তখনই মসজিদের প্রায় পুরোটাই তারা ভেঙ্গে ফেলেন। বর্তমানে মসজিদটি আবার ১ তলায় পরিনত হয়। এই একতলার উত্তর দিকের দেওয়ালের খানিকটা ও ১৯৩০ খ্রীঃ/১৩৩৭ বঙ্গাব্দ পূর্বদিকের যে বারান্দাটি সংযোজন করা হয়েছিল ঐতিহ্য সচেতন এলাকাবাসীর এবং বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য অধ্যাপক ড. একেএম শাহনাওয়াজ ও তার সঙ্গীদের দাবীর মুখে শুধু সেটুকু কোন রকমে বেঁচে যায়। আমরা জানি, ঐ বারান্দাটাও আদি মসজিদের মূল অংশ নয়। তার মানে হল, আদি মসজিদের উত্তর দিকের দেওয়াল ও পূর্ব দিকের দেওয়ালের উপরের খানিকটা অংশ বাদে এর আর কোন অংশ সুলতানি আমলের বলে দাবী করার মত নয়।

বর্তমান হাল
নারিন্দা রোডে গিয়ে স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলাম বিনত বিবির মসজিদ কোথায়? কোন দিকে যাব? আফসোস!! সঠিক উত্তর সকলে দিতে পারলেন না, সংশয় নিয়ে একজন দোকানদার মসজিদের উঁচু মিনারটি দেখিয়ে দিলেন। মিনার দেখে এগিয়ে গেলাম … এই তো ৫ তলা আধুনিক মসজিদ ভবনের সুউঁচ্চ মিনার। এর পূর্বপাশে এক চিলতে জায়গায় কোনঠাসা হয়ে কোন রকম টিকে আছে প্রাচীন এক স্থাপনা। আয়তকার ক্ষেত্রের উপর ২টি গম্বুজ, পূর্বদিকের দেওয়ালে লোহার গ্রীলের জালি যার উপরের অংশ খোলা আর পুরো দেওয়াল জুড়ে চিনি-টিকরীর মোজাইক, স্থানে স্থানে আরবী হরফে ‘আল্লাহু আকবর’, ‘কলেমা’ ইত্যাদি নকশাকাটা – ৫ তলা নতুন মসজিদ ভবনকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে পুরোনো মসজিদটি আপনার সামনে ঠিক এভাবেই দেখা দিবে। প্রায় ৬০০ বছরের প্রাচীন স্থাপনা, ঢাকার প্রাচীনতম ও টিকে থাকা মসজিদের যে প্রত্নতাত্ত্বিক রূপ দেখবেন বলে প্রত্যাশা করে আপনি বিনত বিবির মসজিদের সামনে এসেছিলেন, হঠাৎ সেই অমূল্য সম্পদের এই করুণ হাল দেখে প্রথমে খানিকটা বিহ্বল বোধ করতেই পারেন!!!

বিনত বিবির মসজিদের পূর্ব দিক ও পিছনে নির্মাণাধীন ৫ তলা নতুন মসজিদ

বিনত বিবির মসজিদের দক্ষিণ-পূর্ব কোণা থেকে

সংবিৎ ফিরে এলে, রাস্তা ঘেঁষা পূর্ব দেওয়ালের লোহার গ্রীলের দরজা ঠেলে কিংবা দক্ষিণ দিক থেকে মসজিদে প্রবেশ করতে পারবেন। বেশ কয়েকটি স্তম্ভ দ্বারা মসজিদের ভিতরের অংশ কয়েক ভাগে বিভক্ত। দেওয়াল ও গম্বুজের অবতল পরিপাটিভাবে চুনকাম, রং ও কারুকাজ সম্মৃদ্ধ। ভিতরের দিকে গম্বুজের চার কোণায় ৪টি স্কুইঞ্চের ব্যবহার দেখা যায়। সংস্কারের সময় পশ্চিম ও দক্ষিণের দেওয়াল ভেঙ্গে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে কেবলা দেওয়ালে মিহরাব এখন আর সহজে নজরে পড়বে না এবং এখন কোন মিম্বারও দেখা যাবে না। মেঝে সিমেন্টের তৈরী। পূর্বদিকের বারান্দার ছাদ লোহার আই-বীম দিয়ে তৈরী। বারান্দার ছাদের পশ্চিম দেওয়ালে/নামায ঘরে প্রবেশের জন্য এখন ৬টি প্রবেশ পথ/দরজা আছে। মসজিদের শিলালিপিটি এখন উত্তর দিক থেকে দ্বিতীয় প্রবেশ পথের উপরের অংশে বহিঃদেওয়াল গাত্রে স্থাপন করা আছে।

আধুনিক ৫ তলা মসজিদ ভবনের মিনারটি বেশ উঁচু তা আগেই বলেছি। মিনার তৈরীর সময় এই উচ্চতার দিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে, কেননা এটি ঢাকার টিকে থাকা (?) প্রথম মসজিদ বলে কথা! মিনার যেন অন্যান্য মসজিদ থেকে ছাড়িয়ে যায়, মসজিদ কমিটির সদস্যরা সেটা যথার্থই মনে রেখেছেন। ঐতিহ্য রক্ষায় যদি তারা এর তিল পরিমাপ কান্ডজ্ঞানের পরিচয় দিতেন তাহলে কি ভালটাই না হত। মন্দের ভাল এই যে, ঢাকার প্রথম দিকের মুসলিম বসতির চিহ্ন হয়ে এই সুউচ্চ মিনারই হয়ত আগামীতে সেই স্মৃতির একক ধারক হয়ে থাকবে।

তুলনামূলক বিশ্লেষন
মসজিদটি সুলতানি আমলে প্রতিষ্ঠিত। কালের বিবেচনায় মসজিদের ভিত্তি স্থাপনের সময় সুলতানি আমল হলেও সুলতানি স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য মসজিদ কাঠমোয় এখন আর হুবুহু টিকে নেই। যেমনঃ ছাদের উপর উল্টানো পেয়ালার মত সরাসরি ছাদ-ভিত্তি থেকে উঠে যাওয়া যে ১টি গম্বুজ ছিল তা এখন আর নেই। এমনকি বাঁকানো যে ছাদ ছিল তাও এখন আর দেখতে পাওয়া যাবে না। মসজিদের চারকোণার অষ্টকোণাকার মিনার এই কিছুদিন আগেও চোখে পড়ত। বাহিরের দিকে স্ফীত মিহরাবটিও দেখা যায় না। অদক্ষ সংস্কারের কবলে পড়ে তা নষ্ট হয়ে গেছে বহুকাল আগেই। আসলে অবিমৃষ্যকারীদের হাতে পড়ে সুলতানি আমলের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য ত নয়ই এমনকি প্রাক মুঘল স্থাপত্য কোন বৈশিষ্ট্যও এটি এখন আর পুরোপুরি ধারণ করে না। তবে সুলতানি আমলের মসজিদ ছোট আকারের, নির্মাণ উপকরণ হিসাবে ছোট ছোট ইটের ব্যবহার, যথেষ্ট পুরু দেওয়াল, অষ্টকোণাকার বুরুজ, বাংলার শাশ্বত কুঁড়ে ঘরের আদলে বাঁকানো টানা ছাদ, উল্টানো পেয়ালার ন্যায় গম্বুজ ও তাতে স্কুইঞ্চ পদ্ধতির প্রয়োগ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের সাথে এই মসজিদের মিল ছিল বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়। এই মসজিদ সম্পর্কে লেখার শুরুতে আক্ষেপ করে বলেছিলাম ‘‘সুলতানি আমলের নিদর্শনের মধ্যে যে অতি অল্প সংখ্যক স্থাপনা সারা দেশে টিকে আছে’’ – এখন দেখতে পাচ্ছি এর অবস্থা তার চেয়েও ভয়াবহ। অত্যন্ত ভগ্ন হৃদয়ে তাই বলতে হচ্ছে যে, ঢাকায় টিকে থাকা সুলতানি আমলের একমাত্র মসজিদটির শেষ রক্ষা আমরা করতে পারিনি। এই হীন কর্মের জন্য আজকের প্রজম্ম হতে আমরা ক্ষণিকের তরে রক্ষা পেলেও নিশ্চিত জানি সময় আমাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।

বিনত বিবির মসজিদের বাঁকানো ছাদ। ছবি – উম্মুক্ত উৎস

সুলতানি আমলে ঢাকায় ৪টি মসজিদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন পশ্চিম দিকে গির্দাকিল্লা (অধুনালুপ্ত) এলাকার নসওয়ালগলি মসজিদ নামে (পরে নামাঙ্কিত) একটি মসজিদ ছিল। এই মসজিদ ও একটি তোরণ ৮৬৩ হিজরী/১৪৫৯ খ্রীঃ একজন উজির/খাজা জাহান সংস্কার করেছিলেন। তাহলে কমপক্ষে ৫০/৬০ বছর আগে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলেই সংস্কারের প্রয়োজন পড়েছিল। প্রাপ্ত শিলালিপি অনুযায়ী সংস্কার কাজ ১৪৫৯ খ্রীঃ করা হলে ১৪ শতকের শেষের দিকে (আনুমানিক ১৩৯০ – ১৪১০ খ্রীঃ) মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হয়ে থাকবে। দ্বিতীয় মসজিদটি দোলাই নদীর তীরে মুগদা থানার মান্ডা ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মান্ডা মসজিদ/নান্দু ব্যাপারীর মসজিদ। শিলালিপি অনুযায়ী মসজিদটি ৮৩৬ হিজরী/১৪৩৩ খ্রীঃ নির্মিত। তৃতীয় মসজিদটি নারিন্দার বখত বিনতের মসজিদ ৮৬১ হিজরী/১৪৫৬-৫৭ খ্রীঃ নির্মিত। আর চতুর্থ মসজিদটি হল, মিরপুর ১ নং সেক্টরের শাহ আলী বাগদাদী (রহঃ)/মিরপুর মাযার মসজিদ যা ৮৮৫ হিজরী/১৪৮০-৮১ খ্রীঃ নির্মিত। নসওয়ালগলি মসজিদের স্থান যদিও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি এবং নির্মাণ সনও নিশ্চিত করা যায়নি তবুও এটি যে বিনত বিবি মসজিদের আগে তৈরী তা ধরে নেওয়া যায়। মান্ডা মসজিদ/নান্দু ব্যাপারীর মসজিদ বিনত বিবি মসজিদের আগে ও মিরপুর মাযার মসজিদ অল্প কিছুকাল পরে তৈরী। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় বিনত বিবির মসজিদ শিলালিপি অনুযায়ী ঢাকার তৃতীয় প্রাচীনতম মসজিদ।

সুলতানি আমলের শিলালিপিসমূহ সাধারনত আরবী ভাষায় খোদায় করা হত। বিনত বিবির শিলালিপিটি আরবী ও ফার্সী ভাষায় রচিত। তাহলে কি মারহামত পারস্য থেকে এসেছিলেন বা পারস্য দেশের অধিবাসী ছিলেন আর সেই জন্যই আরবীর পাশাপাশি ফার্সী ভাষাও এখানে ব্যবহার করা হয়েছে? যদি তাই হয় তাহলে ত তিনি তুর্কীর অধিবাসী নন বরং তাকে পার্সীয়ান বলে মেনে নিতে হয়। আরেকটি বিষয় হল, সাধারনত শিলালিপিতে সেই সময়ের শাসক/সুলতানের নাম উল্লেখ থাকার প্রচলন ছিল। কিন্তু বিনত বিবির মসজিদের শিলালিপিতে তা উল্লেখ নেই। হতে পারে সাধারন একটি পরিবারের ব্যাক্তিগত উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়েছিল বলে সুলতানের নাম শিলালিপিতে অনুপস্থিত। আবার শিলালিপিতে খোদিত সন ও তারিখ সচারচর কথায় লেখা থাকলেও এখানে তা সংখ্যায় লেখা রয়েছে। বিনত বিবির মসজিদের এসবই কি ব্যত্যয় না ব্যতিক্রম?

এই মসজিদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এই যে, মসজিদটি একজন মহিলার নামে নামকরণ করা হয়েছিল। বাংলাদেশে এমনকি খোদ ঢাকা শহরে এখন মহিলাদের নামে/তাদের অর্থায়নে/পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত ১০০ বছরের পুরোনো মসজিদের সংখ্যা কমপক্ষে ১৫টি – তবে বিনত বিবি মসজিদ নিঃসন্দেহে এক্ষেত্রে পথিকৃত। তথ্যের অপ্রতুল্যতা, প্রত্ন-নিদর্শনের পরিচয় নির্ণয়ে সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন না করা, অপরিকল্পিত সংস্কার ও রক্ষনাবেক্ষণ ইত্যাদি কারণে আমরা ইতিমধ্যে হারিয়ে ফেলেছি আমাদের অত্যন্ত মূল্যবান এই সম্পদ। কোন কিছুর বিনিময়ে তা আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। পূর্ত-স্থাপনা হারিয়েছে ত বটেই, হারিয়েছে এর সঠিক ইতিহাসও। জম্ম নিয়েছে লোকশ্রূতি, গুজব, কানকথা আর অতিরঞ্জনে ভরা গালগল্প। এমনই এক লোকশ্রূতি থেকে জানা যায় যে, বণিক হিসাবে ঢাকার বন্দরে (বাংলাবাজার) যারা আসতেন তাদের মধ্যে আরকান আলী নামের একজন সওদাগর ছিলেন। তিনি বাণিজ্যের জন্য আরব/পারস্য থেকে এখানে এসে এক সময় নারায়ণদিয়া/নারিন্দায় স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেন। হতে পারে তিনি সপরিবারে এখানে এসেছিলেন কিংবা স্থানীয় কাউকে বিবাহ করে সংসার জীবন শুরু করেন। ‘বখত বিনত’ নামে তার একটি মেয়ে ছিল। স্থানীয় মুসলমানদের ইবাদাতের জন্য তিনি এখানে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে তার মেয়ের নামে ‘বখত বিনত মসজিদ’ নাম দেন। এসব তথ্যের স্বপক্ষে কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণাদি নেই বরং শিলালিপিতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, বখত বিনত মারহামতের কণ্যা, আরকান আলীর নয়। মজার ব্যাপার হল, মারহামত ছিলেন বখত বিনতের মা, বাবা নন। সেক্ষেত্রে বাবার নামে পরিচিত না হয়ে মা-এর নামে পরিচিত হওয়া প্রচলিত ধারার ব্যতিক্রম নয় কি? অপরদিকে, আরকান আলী যদিও লোকশ্রূতির উপর ভিত্তি করে ইতিহাসে ঠাঁই করে নিয়েছেন তথাপি তিনি কি বখত বিনতের বাবা হতে পারেন না? যাহোক, উপযুক্ত তথ্য না থাকায় এবং যা আছে তাও সঠিকভাবে সকলের জানা না থাকায় এবং বিনত বিবি নামটি নাকি সমাজের উঁচু তলার মানুষের নামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় তাই কেউ কেউ বখত বিনতকে বারবনিতা, কেউ রক্ষিতা হিসাবেও উল্লেখ করেছেন যা কখনো কাম্য নয়।

বিনত বিবির মাযারের ভিতরের অংশ

বখত বিনতের সমাধি
জানা যায়, বিনত বিবি অকস্মাৎ মৃত্যূমুখে পতিত হলে মসজিদের উত্তর পাশে তাকে কবরস্থ করা হয়। পরবর্তীতে তার মা মারহামত মারা গেলে মেয়ের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়। উভয় কবরকে একটি ছাদের নীচে রেখে ৮৬৬ হিজরী/১৪৬১ খ্রীঃ একটি সমাধিগৃহ তৈরী করা হয়। লোকে এখন এই ঘরকে মাযার বলে থাকেন। আদি সমাধিগৃহটির কোন ছাপ এখন আর দেখতে পাওয়া যাবে না। মসজিদের মত এর সকল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য লুপ্ত হয়েছে। এখন কেবল চারিদিকে অযত্ন আর অবহেলার ছাপ। সমাধিগৃহের প্রবেশপথের মাথায় ‘‘আরকান আলী (রহঃ) ও বিনদ বিবির মাজার শরীফ, স্থাপিত ৮৬৬ হিজরী” ও খাদেমের নাম লেখা আছে। তাহলে এখানে কি মারহামত না আরকান আলীর কবর আছে? তথ্য-উপাত্তের অপ্রতুল্যতার কারণে এ বিষয়ে আর কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাচ্ছে না।

শেষকথা
যে কোন জাতির অতীত মান-মর্যাদা-গৌরব লুকিয়ে থাকে তাদের পূর্ব-পুরুষের কীর্তির মধ্যে। প্রত্ন-নিদর্শন সে সব কীর্তির দৃশ্যমান প্রমাণ। আর তা গড়া যেমন কঠিন, তা রক্ষা করা ঢের বেশী কঠিন। এক গম্বুজ-এক কোঠা বিশিষ্ট্য বিনত বিবির মসজিদ শুধু প্রত্ন-স্থাপনা নয় বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের সভ্যতার অস্তিত্ব। আমাদের সকলের মনে রাখা প্রয়োজন যে, আর্থিক দরিদ্রতা জাতির বহুমুখী প্রচেস্টায় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব কিন্তু সংষ্কৃতির দরিদ্রতা শিক্ষিত ও সচেতন না হলে অর্জন করা সম্ভব নয়। মাত্র ৫০/৬০ বছর আগে বিনত বিবির মসজিদের পাশে প্রায় এক বিঘা পরিমাণ জমির বেশীর ভাগ জায়গা জুড়ে ছিল বাগান। ঈদ কিংবা শব-ই-বরাত, শব-ই-কদরের রাত্রিতে মসজিদের ক্ষুদ্র পরিসর অতিক্রম করে সেই বাগান ও রাস্তায় মুসল্লীদের সমাগম হত। ছিমছাম পরিপাটি মসজিদ অঙ্গন ছাপিয়ে আনন্দ উৎসবের সেই লেশ ছড়িয়ে পড়ত ঘরে-ঘরে, পাড়ায়-মহল্লায়। কি সুন্দরই না ছিল সেই সব দিনগুলো…!!! আমরা কি আবারও ফিরে পেতে পারি না সেই মধুর, সুখী দিনগুলো।

বিনত বিবির মসজিদ ঢাকার একটি ল্যান্ডমার্ক। প্রত্ন-বিষয়ে আগ্রহী যে কাউকে এই প্রাচীন নিদর্শণ আকর্ষণ করতে বাধ্য। তাই চর্ম-চোক্ষে একবার দেখার আশায় সাত সকালে আমরা দু’বন্ধু সেখানে রওনা হলাম। সরেজমিন পরিদর্শন করে আমরা যা দেখলাম তাই এখানে উপস্থাপন করার দুঃসাহস দেখিয়েছি। মসজিদ ও সমাধির দূর্দশা ও জীর্ণাবস্থা দেখে প্রত্ন-সম্পদ সংরক্ষণে জনসাধারণের অনিহা সহজেই অনুমান করা যায়। যে ক্ষতি এর হয়েছে তা ত হয়েই গেছে, কিন্তু এখনো যেটুকু আছে তা কালের অতল তলে চিরতরে মিশে যাবার আগে এই মসজিদ ও সমাধিকক্ষকে একক প্রাচীরে আবদ্ধ করে পরিকল্পিত একটি মসজিদ কমপ্লেক্স তৈরী করলে এখনো যেটুকু এর টিকে আছে তা হয়ত আগামী প্রজম্মের জন্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হত।

প্রত্ন-সম্পদ রক্ষার্থে সরকার সাধ্য মত চেস্টা করছে জানি। সেই ধারাবাহিকতায় বিনত বিবির মসজিদ ১৯১২ খ্রীঃ ‘মুঘল সম্পত্তি’ ও ১৯৫৪ খ্রীঃ ‘প্রত্নসম্পদ’ হিসাবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক তালিকাভূক্ত করা হয়। হাল আমলে ঢাকা সিটি করপোরেশন ৯৩টি সংরক্ষিত স্থাপনার প্রথম নিদর্শন হিসাবে এই মসজিদকে তালিকাভূক্ত করেছে। এর ফলে এই সব স্থাপনা অনুমোদন ছাড়া ‘‘আংশিক বা সম্পূর্ণ অপসারণ, পুনঃনির্মাণ, পরিবর্তন, পরিমার্জন ও সংযোজন সম্পূর্ণ নিষেধ” বলে আদেশ জারি করা হয়েছে। তাতে কি এই মসজিদসহ অত্যন্ত মূল্যবান অন্যান্য প্রত্নসম্পদের আদিরূপ ধ্বংস করে আমারা যে অবিবেচকের ও অদূরদর্শীতার পরিচয় ইতিমধ্যেই দিয়ে ফেলেছি, তা এই সিদ্ধান্তের আলোকে মুছে/কেটে যাবে? হায়! কে জানে, আমাদের এহেন নাদান কান্ডকারখানা দেখে – উপর থেকে বখত বিনত আর তার মা অলক্ষ্যে মুচকি হেসে উঠলেন কি না…!!!??
———————————————————————————————————————————————-
২৭ জুন ২০১৯
mamun.380@gmail.com

দ্রষ্টব্যঃ এই প্রবন্ধে উপস্থাপিত তথ্যসমূহের সঠিকতা যাচাই করার লক্ষ্যে বেশ কিছু বই, সংবাদপত্র, প্রতিবেদন ও উম্মুক্ত উৎসের সহায়তা নেওয়া হযেছে। মূল লেখার নীচে তথ্যসূত্রে সে সব উল্লেখ করা হয়েছে। স্থান সংকোচনের জন্য তা যোগ করা থেকে বিরত থাকলাম। যাদের সাহায্য নিয়েছি তাদের প্রতি রইল অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা। তারপরও যদি কোথাও কোন ভুল/ত্রূটি/সন্দেহ থেকে যায় তাহলে তা নিতান্তই অনিচ্ছাকৃত।

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।