গত সপ্তাহে মুরতজা ভাইয়ের লেখা একটা পোস্টে বাচ্চাদের নিয়ে একটা কমেন্টে ওনার মেজাজ বিলা করে দেয়ায় উনি ঠাডায়া …… যাই হোক, দুঃখের কথা
আর চিন্তা না করি। মনে হলো বিলা হয়ে যাওয়া মেজাজ ঠান্ডা করার জন্যে বাচ্চাদের নিয়ে আমিও একটা পোস্ট দেই।
প্রথম ঘটনাটা আমার এক কাজিনের। তার তখন ৩-৪ বছর বয়েস আর আমি তখন বুয়েটে ২য় লেভেলে। চাহিবামাত্র চকলেটের সাপ্লাই করতে রাজি থাকায় এবং কার্টুন আর কম্পিউটার গেমস সম্পর্কে ভালো আগ্রহ থাকায় বাচ্চা মহলে তখন বেশ জনপ্রিয় ছিলাম।
কিছু কথা থাকে যা কখনো বলা হয়না । সেই অবাক্ত কিছু কথা বলার ইচ্ছা নিয়েই আজকের এই লেখা । মাঝে মাঝে ভাবি যে কথাগুলো বলার জন্য এত ভনিতা,এত সঙ্কোচ তা কি আদৌ বলা ঠিক হচ্ছে ? সে যাই হোক আজকে আমি আমার সামনে ঘটে যাওয়া এক গল্প শোনাব।যে গল্পে কষ্ট আছে,যাতনা আছে,ভালবাসা আছে,কিন্তু তার মুল্যায়ন নেই।
কলেজ থেকে বের হয়ে আর্মি কোচিং ছাড়া কিছু করিনাই, একমাত্র ইচ্ছা আর্মিতে যাওয়া। বাবা মা এর মতো আমারও ইচ্ছা আর্মিতে যাওয়া।
কিন্তু আইএসেসবি তে লাল কার্ড পাওয়ার পর দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গেল, কি করবো বুঝতেসিনা, কোথায় ভর্তি হবো জানিনা। ভাইয়াদের কাছ থেকে শুনলাম জাপানে এশিয়ান প্যাসিফিক ভার্সিটীতে অনেক ভাইয়া আছে, ওখানে ট্রাই করা শুরু করলাম। কিছু ভাইয়া বললো এটার আশায় বসে থাকলে সমস্যা হবে ঢাবির জন্য ট্রাই করো আমার তখন আর পড়ালেখায় মন নাই।
ছোট্ট একটা মফস্বল শহর।১৯৬৫ সাল।পূর্ব পাকিস্তানের নরসিংদী এলাকার শ্রীনগর।এলাকার মাঝামাঝি স্থানে পাশাপাশি দুটি বাড়ী।তার একটা জলিল সাহেবের অন্যটা রনজিত সাহার।ধর্মে ভিন্ন হলেও তাদের অন্যান্য কিছুতে তারা ভিন্ন নয়।দুজন একই অফিসে চাকরী করেন।গত আট বছর ধরে তারা পাশাপাশি বসবাস করে আসছেন।দু’ পরিবারে বেশ ভাব।যে কোন অনুষ্ঠান কিংবা পারিবারিক কাজে সবাই যেন পরস্পরের জন্য নিবেদিত প্রান।জলিল সাহেবের পরিবারে আছে তার স্ত্রী সহ দুই ছেলে।জলিল সাহেবের দুই ছেলের মাঝে একজন আমার বড় ভাই ফারুক অন্যজন আমি।রনজিত সাহার দুই মেয়ে,জয়িতা আর সুনন্দা।জয়িতার বিয়ে হয়েছে কলকাতার এক ব্যবসায়ীর সাথে।সুনন্দা আমার সাথে কলেজে পড়ে।সুনন্দাকে আমি সুনু বলেই ডাকি।অন্যান্য মেয়েদের চাইতে সুনু একটু আলাদা।তার মাঝে একটা অন্যরকম ভাব আছে যা অন্যদের মাঝে নেই।সুনুর সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিক হল সে হাসলে গালে টোল পড়ে।ওর মায়াভরা মুখটা আমার সবচেয়ে আপন লাগে।হাসির মধ্যে একটা শিশুসুলভ ভাব রয়েছে।যদিও ছোটবেলায় ও বেশ মোটা ছিল কিন্তু ও যেন দিনদিন আমার কাছে আলাদা রকম আকর্ষনীয় হয়ে উঠছে।জানিনা আমার আকর্ষন বোধটা অন্য মেয়েদের চেয়ে ওর প্রতি এতটা বেশী কেন।হয়তোবা ওর সেই অন্যরকম বৈশিষ্ট্যের জন্যই।আমরা আলাদা ধর্মের হলেও কখনও সুনু কিংবা আমি পরস্পরকে আলাদা ভাবিনি।মোটকথা সুনন্দাকে আমার বেশ ভাল লাগে।তবে ওকে নিয়ে আমি কখনও সেরকম ভাবনা ভাবিনা।সেরকম ভাবনা বলতে আমি ভালবাসা কিংবা প্রেম-টেম বোঝাচ্ছিনা,আমি বলতে চাইছি আকর্ষনের ব্যাপারটা।
আমি শুধু এই কারণে ক্যাডেট কলেজের কাছে কৃতজ্ঞ নই যে এই প্রতিষ্ঠান আমাকে জীবন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেছে। বরং, আমি এই কারণে কৃতজ্ঞ যে এই প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ আমার বন্ধুদেরকে পেয়েছি। মূলত আমার বন্ধুরাই আমাকে জীবনের নতুন দর্শন শিখিয়েছে, আমার দুঃসময়ে আমার পাশে এসে দাড়িয়েছে, আমার ভুল হাসিমুখে শুধরে দিয়েছে, সবচেয়ে বড় কথা- আমাকে সব সময় স্বার্থহীনভাবে ভালবেসেছে।
চা নিয়ে মজার মজার দুটি ওয়ান-লাইনার পড়লাম ইন্টারনেটে।ইংরেজি থেকে অনুবাদ করলে মজা অনেকটাই হারিয়ে যাবে বলে মডুদের ভ্রুকুটি এড়িয়ে ইংরেজিতেই পোস্ট করে দিচ্ছিঃ
1.Why did the teapot get in trouble?
–Because he was naughtea.
2.What did the teapot wear to bed?
–A nightea
চা নিয়ে অতিশয় বোরিং দুটো ওয়ান লাইনার বললাম-এবার আজ থেকে ৮ বছর পেছনে চলে যাই।নিচের ছবিটি দেখুনঃ
ছবিটি ২০০২ সালে জেসিসির বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার।সবার সামনে ভাব নিয়ে মার্চ পাস্ট করে যাচ্ছে যে সেই তালগাছের সমান লম্বা মাস্ফ্যুকে তো আপনারা সবাই মনে হয় চিনতে পারছেন।আমার ঠিক পেছনেই রয়েছে রুবাইয়াত,তার পেছনে মিজান।বলুন দেখি মিজানের ঠিক পেছনে বদর হাউসের পতাকা হাতে রোদে পোড়া মুখ নিয়ে কোন মাসুম বাচ্চা মার্চ করছে???
মা দিবসে মা বন্দনায় ভরে গেছে ফেইসবুক আর টু্ইটার এর পাতাগুলো। মা রা সবসময়ই অসাধারন। কোথায় যেনো পড়েছিলাম, দুনিয়ায় অনেক খারাপ বাবা আছে, কিন্তু খারাপ মা নেই। যাক সেসব কথা, আজ দুনিয়ার সব মা না, বরং আমার মা কে নিয়েই কেবল লিখতে বসছি।
মা এর সাথে খুব বেশিদিন কাটানোর সুয়োগ হয়নি। বেশিরভাগ ক্যাডেট এর মতই সেই যে ছোটবেলায় ঘর থেকে বের হইছি, আর ফেরা হয়নি।
( এহসান ভাইয়ের ফুটবল প্যাচাল ২০১০ এ মন্তব্য করতে গিয়ে দেখলাম সেটা মূল পোস্টের চেয়ে বড় হয়ে গিয়েছে। তাই সেটাকে আলাদা ভাবে পোস্টে দিয়েদিলাম। সাথে চামে দিয়া বামে নিজের একটা পোস্ট বাড়িইয়ে নেয়া আরকি 😛 )
কালকে রাতে বার্সার খেলা দেখে শেষের দিকে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, কানের পাশ দিয়ে গুলি চলে গেছে। তবে মেসিকেও গোল মিস করতে দেখে কেমন জানি ভাল লাগলো,
নদী বয়ে যায়,তরঙ্গ জানেনা সমুদ্র কোথায়?মানুষ তার ভবিষ্যত সম্পর্কে ধোঁয়াশার মত আবছা ধারনা নিয়ে যাত্রা শুরু করে।এই জীবনে পথ চলতে চলতে কোন অজানা ঘাটের সন্ধান পায়।আর তারপরইতো অসীম শূন্যতায় পা বাড়ানো,অজানায় সম্পূর্নরূপে অবগাহন করা।মাঝে মাঝে মনের ক্যানভাসে ভেসে উঠে সেই কথাগুলো-
“ছুটতে ছুটতে বহুদূরে চলে গেছি আমি,
অজানা এক নীরবতার সুরে………,
দূরে পাখি বহুদূরে উড়ে ঊড়ে আসে আর চলে যায়।”
অন্তর আত্মার সন্ধানে ছুটে চলছে মন মাঝি।অন্তহীন এ পথ চলার শেষ সীমা আবিস্কার করতেই আমরা অজানার পানে ছুটে বেড়াই।ক্ষেত্রবিশেষে মনে হয় আমাদের এ পথ চলা অর্থহীন।কী দরকার ঐ অজানার রহস্য জেনে?মানব মনের সুক্ষাতিসুক্ষ ভাবকে প্রকাশ করার কীই বা দরকার?বাস্তবতাকে মেনে নেয়াই কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়?মহান কিহু বাণী মন কে আলোরিত করে,অন্তরে সুরের ঝঙ্কার সৃষ্টি করে।তবে তা ক্ষনিকের জন্যই।হয়তবা আমরা আমাদের এই পথ চলার সমাপ্তি নিজের চোখেই দেখব।স্রস্টার ইচ্ছা যদি তাই হয় তবে তা ঠেকাবে কে?ঐ নিষ্ঠুর সত্তাকে থামানোর মত কিছুই যে আমাদের হাতে নেই।সময় বয়ে যায় খরস্রতা নদীর মত।কুল কুল করে বয়ে যাওয়া সময়কে অতিক্রম করে সাফল্য অর্জন করাই মন মাঝির আকাঙ্খা।তবে তা যে কতখানি সম্ভব তা বোধ করি ঐ স্রস্টাই ভাল জানেন।তবে হতাশার মাঝে পৃথিবী আলোকিত করে করে যেমন সূর্য আসে সম্ভাবনা নিয়ে তেমনি আশার কথাও আছে।ঐ স্রস্টা কখনো হতাশ হতে শেখাননি।এ নিরন্তর ছুটে চলায় হতাশার কোনো স্থান নেই।পথের শেষ প্রান্তে পৌছানোর জন্য দরকার দৃঢ় সঙ্কল্প,সংযম আর আত্মিবিশ্বাস।অন্তর আত্মাকে খুঁজে পাওয়ার যে আকাঙ্খা তা কখনো বৃথা হবার নয়।যে তীব্র যন্ত্রনাকর অনুভূতি মনকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে কি ক্ষতি যদি তাকে নদীর স্রোতের সাথে ভাসিয়ে দেয়া হয়?সেটি হয়তবা পৌঁছে যাবে অজানা কোনো দ্বীপে,হয়তবা হারিয়ে যাবে সময়ের অতল গহ্বরে।মন মাঝিকে এই অন্তহীন সংগ্রামী চলায় টিকে থাকতে হবে।তার সঙ্গী এক চিলতে সুখ,এক টুকরো আশা আর কিছু মহৎ স্বপ্ন পুরনের বাসনা নিয়ে।স্বপ্নহীন মন মৃত।তার মাঝে প্রানের কোনো স্পন্দন নেই।নিজেকে দূর্দশার আস্তাকূঁরে ফেলে রাখলে কখনো সুখ নামের সোনার হরিনটি হাতের কাছে ধরা দেবেনা।কি দরকার মনমাঝির নৌকায় দুঃখ-কষ্ট নামের কতগুলো অপ্রয়োজনীয় মালামাল বয়ে নেয়ার?এতে শুধু এ মহান যাত্রা বিলম্বিত আর বাধাগ্রস্ত হবে।দুঃখের দেয়াল দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে ছুড়ে ফেলে দেয়ার মাঝেই স্বর্গীয় সুখ নিহিত।আর আজন্ন মনের গাঁথুনি শক্ত করতে হবে।
ফুটবলটা এই বছর বেশী উপভোগ করি নাই। ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আসার পর এখনো এই নয় মাসে থিতু হতে পারি নাই। আমার নিজের কোনো বাসা নাই এখনো, বাবার বাসায় আব্বার আম্মার রুমে আর শ্বশুরবাড়ীতে লিভিং রুমে টিভি থাকায় শুয়ে বসে আয়েশ করে খেলা দেখা যায় না। লিভারপুলের চরম বাজে মৌসুম ফুটবলের মজাটাই শেষ করে দিয়েছে। যাই হোক আর মাত্র এক মাস; এরপরই শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। তাই আশাকরি মৌসুমের শেষটা খারাপ হবে না।
পারভেজের জ্বরটা আমাদের দুজনের বেইস ক্যাম্প আসার পথের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়, এর মধ্যে আরো কিছু ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এক স্যার ফল ইন করিয়ে সবাইকে বলে দেন যে পরের দিন(আজ) একটা টিম কে আবার বাক্ষিমের দিকে পাঠিয়ে দেয়া হবে যখন বাকি সবাই রওনা দিবে বেইস ক্যাম্পের উদ্দ্যেশে। স্যারের কথা বলার ধরনটাও ঠান্ডা, কারণ খুব সম্ভবত এটাই যে এ পর্যায়ে এসে বেইস ক্যাম্পের পথে কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে,
“সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত অফিস” লাইফে মানিয়ে নিতেই চলে গেল বেশ কিছুদিন। এতদিন আসা হয়নি এই ব্লগে, আজকে ছুটির দিন পেয়ে নিজের কাজটা ঠিকপথে আছে নাকি সেটা নিয়ে আলোচনা করতে (এবং তালে তালে রংপুরের পোস্ট একটা বাড়িয়ে নিতে 😀 ) চলে আসলাম ব্লগে। তবে এসে প্রথম ২টা পোস্ট পড়ে যথেষ্ঠই টাশকায়িত হইলাম কারণ ধর্ম+মডারেশন নিয়ে মনে হচ্ছে ধুন্ধুমার হয়ে গেছে।
শার্লক হোমসের বাংলায় অনুবাদ করা “শার্লক হোমস অমনিবাস”
(Excessive Religious Zeal and Conservatism May Lead to Extremism)
[ভূমিকাঃ ধর্মের ব্যাপারটা নিয়ে সিসিবি’র মাঠ ইদানীং বেশ গরম। একবার ভাবলাম, এমতাবস্থায় এমন সেন্সিটিভ একটা লেখা দেয়া কি ঠিক হচ্ছে? পরে অবশ্য চিন্তা করে দেখলাম, “আমরা আমরাই তো”। নিজের পরিবারের সাথে শেয়ার করতে না পারলে যাবোটা কোথায়?]
এস.এম. আমার খুব ঘনিষ্ট বন্ধু। টেলিফোনে প্রায় কথা হয়। এস.এম.ই ফোন করে। আমার অনেকগুলো দোষের মধ্যে একটা হলো কাউকে ফোন না করা।
রাজনীতি একটা জিনিস যা আমাকে কখনওই আকর্ষন করে না। সবচেয়ে বেশী দুরত্ব বজায় রাখি ছাত্র রাজনীতি নামক বিষয়টি নিয়ে। কারন একটাই, সুস্থ্য ধারার রাজনৈতিক চর্চার অভাব। এই দেশের রাজনীতি বিশেষ করে ছাত্র রাজনীতি নিয়ে গত কয়েকবছর ধরে যে অসুস্থ পরিবেশ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কলঙ্কিত করে এসেছে তা দেখে কোন সুস্থ্য ধারার মানুষ মনে হয় না বর্তমানের ছাত্র রাজনীতির এই ধারাকে স্বাভাবিক চোখে দেখতে পারবেন।