শহীদলিপির ইতিহাস-১

[ ভূমিকা – কম্পুউটারে বাংলা ব্যাবহারের ইতিহাস জানতে চেয়ে সচলায়তন ও কাডেট কলেজ ব্লগের কিছু সদস্য আমাকে শহীদলিপির ইতিহাস লিখতে অনুরোধ করেছিলো। তাদের অনুরোধেই এই লেখা। কেউ যদি সচলে এই লেখার লিঙ্কটি দিয়ে দেয় তবে বাধিত হবো। ]

১৯৫২ সালে আমার বয়েস ৪/৫ বছর। ফলে ২১শে ফেব্রুয়ারীর কোন স্পষ্ট স্মৃতি নেই। তবে একটু বড় হবার পর থেকে দেখতাম, ঐ দিন খুব ভোরে ছাত্ররা খালি পায়ে হেটে হাতে ফুল নিয়ে স্থানীয় শহীদ মিনারে মিছিল করে যাচ্ছে। একটু বড় হলে আমিও তাদের সাথে যাওয়া শুরু করলাম। শীতের ঐ ভোরে উঠে সবার সাথে দল বেধে খালি পায়ে হাটার মধ্যে কেমন যেন একটা আলাদা উত্তেজনা অনুভব করতাম। চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে পড়ার সময় মিছিল করার সূযোগ ছিল না, কিন্তু আমার মনে আছি আমি একাকী পিছনের পাহাড়ে উঠে ভাষা শহীদদের প্রতি আমার শ্রদ্ধাঞ্জলী জানাতাম।

১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ – এ চার বছর যখন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র – তখন প্রতিটি শহীদ দিবসে শহীদ মিনারে যেতাম প্রভাত ফেরীতে যোগ দিয়ে। শেষের বছরগুলিতে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হবার কারনে আরও ব্যাস্ততায় কাটতো ঐ দিনটি। ফলে ১৯৮৫ সালে যখন লন্ডন থেকে কম্পিউটারে প্রথম বাংলায় চিঠি লিখে পাঠালাম ঢাকাতে আমার মাকে, তখন একটা নামই শুধু মনে এসেছিল – তাই এ প্রচেষ্টার নামকরণ করলাম “শহীদলিপি”।

Shahidlipi Info

আজ ২৫ বছর পরে শহীদলিপির ইতিহাস লিখতে বসে দেখছি আমার জীবনের অনেক ঘটনাই ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে এই ইতিহাসের সাথে। ফলে কিছুটা অপ্রসাংগিক হলেও, সেই সব ঘটনার কিছু কিছু উল্লেখ করতে বাধ্য হচ্ছি এখানে।

সবে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। বাংলাকে এক মাত্র রাষ্ট্র ভাষা ঘোষনা করা হলেও এর ব্যবহার তখনও অনেকটা সীমিত। আমি তখন নতুন গঠিত বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকোতে চাকরী করি। আমরা তখন নানা বিদেশী কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করে বাংলাদেশে তাদের এজেন্ট হবার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এই সূত্রে বেশ কিছু বিদেশী কোম্পানীর লোকের সাথে আমার যোগাযোগ এবং বেশ অনেকের সাথে কিছুটা বন্ধুত্বও হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে সুযোগ হল প্রথম বিদেশে যাবার। সুইজারল্যান্ড, হলান্ড, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ইত্যাদি দেশে যাবার সূযোগ পেলাম। কম্পুউটারের ব্যবহার দেখলাম বিভিন্ন স্থানে।

১৯৮০ সালে যখন বিলাতে হোম কম্পুউটার হিসাবে ZX-80 মাত্র ৫০ পাউন্ডের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে জানলাম তখন উঠে পরে লাগলাম আমার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্যে ঐ কম্পুউটার একটা সংগ্রহ করতে। আমার এক বিদেশী বন্ধুর মাধ্যমে একটি ZX-81 মডেলের কম্পুউটার যখন হাতে পেলাম তখন খুবই উৎসাহিত বোধ করলাম। এত বেশী সময় ব্যয় করতে থাকলাম তার সাথে যে আমার স্ত্রী রীতিমত হিংসা করতো লাগলো ঐ বস্তুটাকে। ঠাট্টা করে সতীন বলে ডাকা শুরু করলো আমার ঐ সখের কম্পুউটারকে।

Sinclair ZX81 large

এর মেমরীতে ছিল মাত্র ৮ কিলোবাইট রম। মনিটরের বদলে বাড়ীর টিভির সাথে তার সংযোগ করে ডিসপ্লে দেখতে হতো। এই সামান্য মেমরীতেই সিসটেমস ভ্যারিয়েবলস, স্ক্রীন ইমেজ, প্রোগ্রাম এবং ডাটার স্থান সংকুলন করতে হতো। ক্যাসেট টেপ রেকর্ডার সংযোগ করে ডিস্কের বিকল্প হিসাবে কাজ করতে হতো। তবে সিনক্লিয়ার বেসিক নামে একটা প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ছিল। আমি এর সাথে একটা ১৬ কিলোবাইট মেমরী এক্সটেনশন যোগ করে মহা উৎসাহে প্রোগ্রামিং-এর কাজে লেগে গেলাম। টিভির স্ক্রীনে বাংলায় একটা “ব” লিখতেই প্রায় সমস্ত মেমরী লেগে গেল। তবু মনে হল যেন বিরাট কিছু একটা করতে পেরেছি। কম্পুউটারে বাংলা একটা অক্ষর লিখতে পেরেছি – এটা কি সামান্য ব্যাপার?

তখনকার দিনে টেলেক্স মেসিন বলে একটা জিনিস ছিল। বিদেশের সাথে আমাদের অফিসের যোগাযোগের জন্যে এটা ব্যবহৃত হত। এটা চালাবার জন্যে একজন টেলেক্স অপারেটর ছিল। তার কাজ দেখে দেখে আমি শিখে নিয়েছিলাম কি ভাবে টেলেক্স বা টেলিপ্রিন্টার মেসিন চালাতে হয়। একদিন অপারেটরের অনুপস্থিতিতে এক দরকারী সংবাদ আমিই টাইপ করে পাঠিয়ে দিলাম। ফলে কোম্পানীতে সবাই ভেবে নিল যে যন্ত্রপাতির উপর আমার অনেক দখল। এর ফলে যখন কোম্পানীতে প্রথম কম্পুউটার কেনা হলো তখন অনেকটা স্বাভাবিক ভাবেই এটার ভার আমার উপর এসে পড়লো।

বাংলাদেশে তখন খুব কম কম্পুউটার ব্যবহার হত। আনবিক শক্তি কমিশনের একটা IBM 1620 মেইন ফ্রেম কম্পুউটার ছিল। এছাড়া সামান্য কয়েকটি বড় ব্যাংক মিড-রেঞ্জের কম্পুউটার ব্যবহার করতো। পিসি তখন সবে চালু হয়েছে। আমাদেরকে কে যেন পরামর্শ দিল কম্পুউটার ব্যবহার করে আমাদের কোম্পানীর হিসাবপত্র রাখতে। কারণ নতুন স্বাধীন দেশে আমাদের কোম্পানীর প্রবৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারছিলো না আমাদের একাউন্টস ডিপার্টমেন্ট। আমেরিকার তৈরী পিসি আর্কাইভ কম্পুউটার কেনা হল। তখনকার দিনে এটার দাম ছিল ৬০০০ ডলার – বেশ অনেক টাকা। একই সাথে আমেরিকার কোম্পানী পিচ-ট্রির তৈরী একাউন্টিংয়ের সফটওয়ার আসলো।

আমার উপর ভার পড়লো বাক্স থেকে খুলে কম্পউটারটি চালু করার। আমাদেরকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে এটি একটি সহজ কাজ। যখন সব কিছু কেবল ইত্যাদি সংযোগ করে কম্পুউটার চালু করবো, তখন কোম্পানীর সব ডিরেক্টর এবং একিজকিউটিভরা এসে আমার ঘরে ভীড় করে দাঁড়িয়েছে। চট করে ম্যানুয়ালের পাতায় চোখ বুলিয়ে দেখলাম ঠিকই আছে সব কিছু। মনে মনে বিসমিল্লাহ বলে যখন সুইচ অন করলাম তখন দেখলাম মনিটরের সবুজ বাতি জ্বললেও কোন লেখা ফুটে উঠলো না স্ক্রীনে। যদিও আমাকে কেউই কিছু বলেনি, তবু আমার মনে হলো এ যেন আমারই অক্ষমতা যে আমি কম্পুউটারটি চালু করতে পারিনি। মোটা মোটা ম্যানুয়াল দু’টি সাথে করে বাসায় নিয়ে যেয়ে প্রায় সারারাত ধরে পড়লাম। পরের দিন অন্তত স্ক্রীনে মেমরী ডাম্প করতে পারলাম। সাহস করে ঘোষনা দিলাম এই কম্পুউটারের মাদার বোর্ড খারাপ। আমেরিকার কোম্পানীর সাথে যোগাযোগ করা হল। তারা রাজী হল তাদের সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠাতে আরও হাজার খানেক ডলারের বিনিময়ে। আমাদের রাজী না হয়ে উপায় ছিল না। আমি ফোন করে সেই ইঞ্জিনিয়ারকে বললাম সে যেন সাথে করে একটা মাদার বোর্ড নিয়ে আসে।

pc

প্রথমে সে আমাকে বেশী পাত্তা দিতে চায়নি। সে বললো এর আগে কখনো তাদের কোন কম্পুউটারের মাদার বোর্ড খারাপ হয়নি। আমি বললাম হয়তো তাই, তবে যেহেতু এখানে কোন স্পেয়ার পাবার সম্ভবনা নেই তাই অতিরিক্ত মাদার বোর্ড সাথে আনলে কোন ক্ষতি নেই। পরে দেখা গেল আমার কথাই ঠিক – মাদার বোর্ড বদল করতে হল। এর পর অনেকটা স্বাভাবিক ভাবেই কম্পুউটার বিভাগের ভার আমার উপর এসে পড়লো।

পিচ-ট্রি সফটওয়ারটি লেখা হয়েছিল বেসিক ল্যাংগুয়েজে। তখনও কম্পাইলারের ব্যবহার এতোটা চালু ছিল না, ফলে সোর্স-কোড ইন্টারপ্রেটারের সাহায্যে চালিয়ে এই প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে হতো। খুবই ধীর গতিতে চলতো এই প্রোগ্রাম। আমার মনে আছে, ট্রানজেকশন পোষ্টিং করার পর ট্রায়াল-ব্যালান্স পেতে আমরা সারা রাত কম্পুউটার চালু করে রেখে দিতাম। এক লাইন প্রিন্ট করার পর কয়েক মিনিট চুপ-চাপ বসে থাকতো কম্পুউটার – ভাব খানা যেন চিন্তা করছে এর পর কি লিখবে – তার পর আবার আর এক লাইন লিখে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।

আমেরিকান নিয়মে সংখ্যা লেখা হতো মিলিয়ন, হাজার, ইত্যাদির পর ‘,’ চিহ্ন দিয়ে, অথচ বাংলাদেশে আমরা সংখ্যা লিখি কোটি, লাখ, হাজার, ইত্যাদির পর ‘,’ ব্যবহার করে। আমাকে একজন প্রশ্ন করলো – এটা ঠিক করা যাবে কিনা।

– কেন যাবে না? – চিন্তা না করেই উত্তর দিলাম আমি।

ভেবেছিলাম, যেহেতু সোর্স-কোড আছে, সামান্য কয়েকটা স্থানে ‘,’-এর অবস্থান বদলে দিলেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পরে দেখা গেল আমাদেরকে হাজার হাজার লাইন সোর্স-কোড চেক করতে হচ্ছে এই সামান্য কাজটুকু করতে যেয়ে। তবে এর ফলে আমার একটি লাভ হলো – বেসিক প্রোগ্রামটি আরও ভালভাবে জানার সুযোগ হল। এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফোরট্রান ও এ্যাসেম্বলী ল্যাংগুয়েজের উপর কয়েকটি সর্ট কোর্সে অংশ নিলাম। এগুলি যে খুব একটা কাজে এসেছে তা নয়, তবে নিজে থেকে আরও শিখতে আমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

এরপর শ্রীলংকার কলম্বোতে একটা কম্পুউটার কোর্স করার সুযোগ এলো। আমাদের কোম্পানী থেকে দু’জন যোগ দিলাম সেখানে। আরও চোখ খুলে গেল বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা জানতে পেরে। বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন লেখক ও সাটেলাইট কমুনিকেশনের স্বপ্নদ্রষ্টা আর্থার চালর্স ক্লার্ক [২০০১: এ স্পেস ওডেসী – তার অন্যতম বিখ্যাত বই] তখন শ্রীলংকায় বাস করেন। তার লেখা নতুন উপন্যাস তিনি কম্পুউটার মডেমের মাধ্যমে নিউ ইয়র্কে তার পাবলিশার্সের অফিসে পাঠাতে চাচ্ছিলেন। আমাদের ট্রেনিংয়ের একজন আমেরিকান ইনসট্রাক্টর এই কাজে জড়িত ছিলেন। ক্লার্কের বাড়ীতে যাবার সময় আমাকেও সাথে নিলেন। দেখলাম কি ভাবে হাজার মাইল দূরে ডাটা পাঠানো হয়। আর্থার ক্লার্কের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলারও একটা সুযোগ হলো।

আমাদের অফিসে একটা বাংলা টাইপ-রাইটার ছিল – তবে ব্যবহার খুব একটা হতো না। আমি একদিন তাতে একটি চিঠি লিখতে যেয়ে দেখলাম – আমার নিজের নামটিই ঠিক ভাবে লেখা যাচ্ছেনা। ‘সাইফু’ পর্যন্ত লিখে অনেক চেষ্টা করেও একটা ভাল ‘দ্দ’ লিখতে সক্ষম হলাম না। পাশাপাশি দু’টি ‘দ’ হাফ-স্পেস দিয়ে লেখার পর মনে হল কেমন যেন দু’টি অক্ষর একে অপরের সাথে ধাক্কাধাক্কি করছে। এটি ছিল মুনির-অপটিমা টাইপ-রাইটার। একটু খতিয়ে দেখলাম – শহীদ মুনির চৌধুরী যতেষ্ঠ প্রজ্ঞা ও কৌশল প্রয়োগ করেছেন এই টাইপ-রাইটার সৃষ্টিতে। এই পরিসরের যান্ত্রিক টাইপ-রাইটারের পক্ষে এর চাইতে বেশী কিছু করা হয়তো সম্ভব হতো না। তবুও নিজে একজন যন্ত্র-প্রকৌশলী হয়ে আমার মেনে নিতে কষ্ট হল যে যন্ত্রের কারণে ভাষাকে বিকৃত করতে হবে। মাথায় ঘুরতে থাকলো – কি করে এই টাইপ-রাইটারের উন্নতি করা যায়। কোন সহজ সমাধান বের করতে পারলাম না। তখন হঠাৎ খেয়াল হল – আচ্ছা কম্পুউটার দিয়ে কেন আমি বাংলা লিখিনা? তখনকার দিনে এটার কোন বাবসায়িক সম্ভাবনা ছিল না – কারণ কম্পুউটারের মূল্য সাধারনের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। তাই আমার এই প্রচেষ্টার কথা তেমন কাউকে না জানিয়েই নিজে থেকে এর উপর কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

এই সময় অযাতিত ভাবে একটা সুযোগ এলো জাপানে যাবার। আমি শুনেছিলাম জাপানীরা নাকি তাদের ভাষা ব্যবহার করে কম্পুউটারে। আমরা ‘সোর্ড কম্পুউটারর্স’ নামে একটা জাপানী কোম্পানীর বাংলাদেশে এজেন্ট নিযুক্ত হলাম এবং তাদের অপারেটিং সিস্টেমের উপর ট্রেনিং নিতে টোকিও-তে গেলাম। তখনও মাইক্রোসফটের DOS অপারেটিং সিসটেম এক চেটিয়া বাজার দখল করেনি। এটা হয়তো অনেকের জানা নেই – এক্সেল, ডাটাস্টার, ইত্যাদি প্রোগ্রামের আগে সোর্ডের ‘পিপ’ ছিল প্রথম স্প্রেডসীট প্রোগ্রাম।

জাপানে যেয়ে জাপানী ভাষা সম্পর্কে জানলাম যে তারা সাধারনত ৩ টি ভিন্ন বর্ণমালা ব্যবহার করে তাদের ভাষাতে লিখতে। হিরাগানা ও কাটাকানায় ব্যবহৃত অক্ষরের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম। তবে যখন চীনা কাঞ্জি অক্ষর তাদের ভাষায় লিখতে হয় তখন ব্যাপারটা আরো জটিল হয়ে পড়ে। আগে জাপানী লেখা হতো উপর থেকে নীচে এবং ডান দিক থেকে শুরু করে বায়ে আসতো লেখা। পরে শুরু হল ইংরেজীর মত বা থেকে ডানে লেখা। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে থেকে জাপানে ব্যবহার হয়ে আসছে চীনা কাঞ্জি অক্ষর। এদের সংখ্যা কয়েক হাজার (আমাকে বলা হল ৫০,০০০ থেকে ১০০,০০০ হতে পারে মূল কাঞ্জি অক্ষরের সংখ্যা), তবে ১৯৮১ সালে জাপানী সরকার আইন করে প্রায় ২০০০-এর মত কাঞ্জি অক্ষর সাধারন জাপানী ভাষাতে ব্যবহারের জন্যে অনুমোদন করে। এই ‘জয়ো কাঞ্জি তালিকা’ প্রাথমিক স্কুল থেকে শিক্ষা দেওয়া হয়। তবে JIS অনুসারে ৬,০০০-এর বেশী কাঞ্জি ব্যবহার করা যায়। কম্পুউটারে অন্য দুই বর্ণমালা ব্যবহার করে কাঞ্জি অক্ষরটা বানান করলে, কম্পুউটার নিজে থেকে সেটাকে কাঞ্জি হরফে পরিবর্তন করে ডিসপ্লে করে। যখন একই বানানে একাধিক কাঞ্জি অক্ষর সৃষ্টির সম্ভাবনা, তখন কম্পুউটার বিভিন্ন অপশন ডিসপ্লে করে এবং তার থেকে সঠিক কাঞ্জি অক্ষরটা ব্যবহারকারী নির্বাচিত করে। ইংরেজী কী-বোর্ডের তুলনায় তাদের কী-বোর্ডটাও বেশ বড় এবং বিশেষ ভাবে বানানো।

জাপানী ভাষার ব্যাপারে আমার অ্যামেচার রেডিও বন্ধু মিচিয়াকী ওয়াতানাবী বিশেষ সাহায্য করলো। মিচিয়াকীর বাবা মিচিও ওয়াতানাবী ছিলেন জাপানের অর্থ মন্ত্রী (পরে তিনি ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার হয়েছিলেন)। মিচিয়াকীর দেশের বাড়ীতে তাদের অতিথী হয়ে গেলাম এক সপ্তাহান্তে। তখন পরিচয় হলো মিচিয়াকীর স্কুল শিক্ষক কেইন উইকির সাথে। জাপানী ভাষার প্রতি আমার আগ্রহ দেখে এবং যখন শুনলেন যে আমি কম্পুউটারে বাংলা ব্যবহার করার চেষ্টা করছি, তখন তিনি আমাকে তার সংগ্রহ থেকে জাপানী ভাষার উপরে লেখা দু’টি বই উপহার দিলেন।

আমি বিশেষ চেষ্টা করে সোর্ড কোম্পানীর প্রেসিডেন্ট তাকাওশী সিনার সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করলাম। তাকে বুঝিয়ে বললাম আমি কি করতে চাই। বাংলাদেশে বাংলার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরলাম। রাজী হলেন তিনি আমাদেরকে সহযোগিতা করতে। বললেন প্রথমত আমাকে দু’টি কাজ করতে হবে –

১) বাংলাতে যতগুলি অক্ষর ব্যবহার হয় তার একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরী করে প্রতিটি অক্ষর সম-আকারের একটি ৮X৮ বা ১৬X১৬ গ্রিডের মধ্যে প্লট করতে হবে, যাতে এর উপর ভিত্তি করে ক্যারেকটার জেনারেটর রম তৈরী করা যায়।

২) বাংলা কী-বোর্ডের একটি প্রমিত লে-আউট তৈরী করে দিতে হবে।

আমাকে আরও বললেন – বাংলা ক্যারেকটার জেনারেটর রম তৈরী করতে অর্ধেক মিলিয়ন (৫ লাখ) ডলার খরচ হতে পারে। আমি বলে আসলাম সেটাতে কোন অসুবিধা হবে না। মিলিয়ন ডলার সম্পর্কে আমার তেমন কোন ধারনা ছিল না তখন।

(চলবে … )

শহীদলিপির ইতিহাস-২

৫,০০২ বার দেখা হয়েছে

৩৭ টি মন্তব্য : “শহীদলিপির ইতিহাস-১”

  1. তৌফিক (৯৬-০২)

    সালাম শহীদ ভাই। সচলে খুব আগ্রহ নিয়ে আপনার সাক্ষাৎকার শুনেছিলাম। পুরো ইতিহাস এখানেই লিখবেন দেখে খুব ভালো লাগল। অপেক্ষায় রইলাম।

    দোয়া করবেন ভাইয়া।

    জবাব দিন
  2. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    এই পোষ্ট নিঃসন্দেহে সিসিবির ভান্ডারকে আরো অনেক সমৃদ্ধ করবে। অনেক টেকি টার্ম বুঝি নাই, কিন্তু তাতেও এই পোষ্টের আকর্ষন আমার কাছে এতটুকু ম্লান হয় নি।

    একটা অনুরোধ করব, প্লিজ যতটা সম্ভব ডিটেইলস লিখবেন (এই পর্বের মতন)। একেবারে খুঁটি-নাটি সহ... 😀

    আপনাকে একটা সশস্ত্র সালাম জানিয়ে পরের পর্বের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রইলাম... :salute:


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  3. বর্তমান প্রজন্মের সবারই জানা উচিত এই ইতিহাস, আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করব পরের পর্বগুলোর জন্য। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ইতিহাসটা তুলে ধরার জন্য।

    জবাব দিন
  4. মইনুল (১৯৯২-১৯৯৮)
    কেন জানি মনে হচ্ছে রোমাঞ্চকর কোন থ্রিলার পড়ছি…পরের পর্বের প্রতীক্ষায় রইলাম…

    পুরোপুরি একমত।

    সম্ভব হলে আর্থার সি ক্লার্কের সাথে আপনার ছবিটাও দিয়েন। এই আর্থার সি ক্লার্ক আর আইজ্যাক আসিমভ আমার সবচেয়ে প্রিয় দুজন বিদেশী লেখক।

    জবাব দিন
  5. অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা রইলো ভাইয়া।
    আজ যখন কম্পিউটারে বাংলায় লিখি গর্বে বুকটা ফুলে ওঠে। অন্যরকম আনন্দ অনুভব করি। এর ইতিহাসটা জানার আগ্রহ ছিল অনেক আগে থেকেই। অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা পোস্টটির জন্য।

    জবাব দিন
  6. তাইফুর (৯২-৯৮)

    শহীদলিপি'র ইতিহাস এই ব্লগেই প্রথম প্রকাশ করছেন বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

    কেন জানি মনে হচ্ছে রোমাঞ্চকর কোন থ্রিলার পড়ছি…পরের পর্বের প্রতীক্ষায় রইলাম…

    :boss: :boss: :boss:


    পথ ভাবে 'আমি দেব', রথ ভাবে 'আমি',
    মূর্তি ভাবে 'আমি দেব', হাসে অন্তর্যামী॥

    জবাব দিন
  7. মান্নান (১৯৯৩-১৯৯৯)

    সাক্ষাৎকারটা আগেই শুনেছি। তবু একটা গোছানো লেখার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। বাংলা ভাষায় কম্পিউটিং এর এমন উদ্যোগের সাথে সিসিবির বড় ভাই জড়িত ছিলেন ভাবতে গর্ব হচ্ছে । বাকি কিস্তিগুলো তাড়াতাড়ি চাই।

    জবাব দিন
  8. তানভীর (৯৪-০০)

    চমৎকার ভাইয়া!

    আপনার লেখাটা অনেক রোমাঞ্চকর এবং সত্যিই খুব গর্বিত হচ্ছি ভেবে যে এই কাজটা আমাদেরই এক বড় ভাই করেছেন।

    আর্থার সি. ক্লার্কের সাথে আপনার ছবিটা দিয়েন ভাইয়া। 🙂

    জবাব দিন
  9. রায়হান আবীর (৯৯-০৫)

    অসাধারণ একটা লেখা। আরও বড় হোক, হতেই থাকুক। লিপিবদ্ধ থাকুক বাংলা ভাষার জন্য এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ। শিক্ষা লাভ করুক মোস্তফা জব্বারের মতো অশিক্ষিত, চোর ব্যবসায়ীরা।

    আর্থার সি ক্লার্কের সাথের ছবিটা কিন্তু দিতে পারতেন ভাইয়া 🙂

    জবাব দিন
  10. সানাউল্লাহ (৭৪ - ৮০)

    আসলেই যেন থ্রিলার পড়ছি। দারুণ সাইফ ভাই। :hatsoff: :hatsoff: :hatsoff:

    আমি কল্পনা করার চেষ্টা করছি মায়ের কাছে কম্পিউটারে বাংলায় প্রথম চিঠি লেখার উত্তেজনাটা অনুভব করতে। কিন্তু এই সময় যখন হাতে হাতে ল্যাপটপ আর অফিস, ঘরে পিসি, নানা বাংলা কিবোর্ড তখন ওই সময়টা অনুভব করা কঠিনই বটে। ~x( এই ইতিহাসটা নতুন প্রজন্মকে এই ধরণের কঠিন সব চ্যালেঞ্জ নিতে অনুপ্রাণিত করবে আশা করি।

    উত্তরসূরীদের পক্ষ থেকে আবারো অভিনন্দন সাইফ ভাই। বাকি পর্বগুলোর অপেক্ষায় আছি। :thumbup:


    "মানুষে বিশ্বাস হারানো পাপ"

    জবাব দিন
  11. শাহাদাত মান্না (৯৪-০০)

    ভাইয়া, সিসিবিতে আপনি নতুন মাত্রা যোগ করলেন।
    আর যেভাবে বর্ননা করলেন তাতে আমার মত টেকি ব-কলম ও অনেক কিছু বুঝে ফেলেছে। 🙂
    আর আপনার বিভিন্ন লেখায় একের পর এক যেভাবে ইতিহাস তুলে ধরে আনছেন তাতে আমরা শুধু জানার মধ্যে দিয়ে সমৃদ্ধ হচ্ছিনা,অনুপ্রানিত হচ্ছি আরো বেশী।
    আপনাকে :boss:

    জবাব দিন
  12. শহীদলিপির কথা জেনেছিলাম, কিন্তু আমাদের সাইফুদ্দাহার শহীদ ভাইই যে সেই শহীদ, সেটা জানলাম কয়েকদিন আগে। ভাইয়া, আপনাকে সশস্ত্র সালাম জানাই। :salute: :salute: :salute:

    এই লেখাটা ফেসবুকে শেয়ার করলাম ভাইয়া। সমস্ত বাঙালির জানা উচিত এই ইতিহাস। এই লেখাটি নিঃসন্দেহে সিসিবির সেরা ১০ টি লেখার মধ্যে স্থান পাবে। পরের পর্বটি পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।

    জবাব দিন
  13. আব্দুল্লাহ্‌ আল ইমরান (৯৩-৯৯)

    আমি খুব গর্বিত এই ভেবে যে,
    আমাদেরই সিসিবি পরিবারের ব্লগার,ফৌজিয়ান ব্রাদার আবার প্রৌকশলী এত বড় ইতিহাসের পেছনের ব্যাক্তি।সবদিক দিয়েই আপনি আমার গুরু ।আপনার কাছ থেকে শেখার আছে অনেককিছু।দোয়া করবেন আমরাও যাতে আপনাদের মান সম্মান কিছুটা হলেও রাখতে পারি।আরো আগে কেন এই ইতিহাস জানতে পারলাম না।আপনি যে প্রচারবিমূখ তা বেশ বুঝতে পাচ্ছি।আর যারা কিছু করেনা সেইসব চোর বাটপার অন্যের ধার করা জিনিস নিয়ে বাহাদুরি করে।জব্বার মিয়া যে বিজয় চুরি করেছে সেটা শুনেছিলাম কিন্তু প্রকৃত ইতিহাস জানতামনা।অভ্র সম্পর্কিত ব্লগ/লিংক পড়ে তাও জানলাম।আসলে সিসিবির কল্যানে এতকিছু জানা।তাই সিসিবির কাছে কৃতজ্ঞ এবং সিসিবি পরিবারের মেম্বার হিসেবেও গর্বিত।
    আর্থার সি. ক্লার্কের সাথে ছবিটা দেখতে চাই ;))
    সাইফ ভাই আপনাকে :salute: :salute: :salute:

    জবাব দিন
  14. কামরুল হাসান (৯৪-০০)

    সাইফ ভাই
    সাক্ষাৎকারের তিনটা পর্বই শুনেছিলাম। আপনাকে নিয়ে পত্রপত্রিকার লেখাগুলোও। আমরা গর্বিত ভাইয়া, আপনাকে নিয়ে।

    এই সিরিজটা খুব ভালো একটা দলিল হয়ে থাকবে বাংলা কম্পিউটিংয়ের ইতিহাসে। সময় করে বাকি পর্বগুলোও লিখুন। পাঠক হিসেবে সঙ্গে পাবেন।


    ---------------------------------------------------------------------------
    বালক জানে না তো কতোটা হেঁটে এলে
    ফেরার পথ নেই, থাকে না কোনো কালে।।

    জবাব দিন
  15. ফয়েজ (৮৭-৯৩)

    ভাইয়া, আপনার সব সাক্ষাৎকার, লেখা পেলেই খুব আগ্রহ নিয়ে পড়ি। এটা আমাকে প্রেরণা দেয় খুব। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আপনার মানিয়ে নেয়ার, আমাকে দারুন অনুপ্রাণিত করে।

    কথাটা হয়ত খুব সংকীর্ন শোনাবে, তবুও বলি, আপনার এই পোস্টের জন্য সিসিবিকে বেছে নেয়াতে আমরা সিসিবি বাসীরা খুব সম্মানিত বোধ করছি।


    পালটে দেবার স্বপ্ন আমার এখনও গেল না

    জবাব দিন
  16. রকিবুল ইসলাম (৯৯-০৫)

    :hatsoff:
    এক কথায় অসাধারণ।বাকীটা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
    সোজা প্রিয়তে যোগ ।
    অফটপিক :
    সত্যি কথা বলতে কি সাম্প্রতিক সিসিবি গোলযোগের কারণে লগইন না করে পোস্ট পড়ে চলে যেতাম কিন্তু এই পোস্ট পড়ার পড়ে কিছু লিখার লোভ সামলাইতে পারলাম না। 🙂
    বার বার সিসিবিতেই ফিরে আসি এবং আসতেই থাকবো

    জবাব দিন
  17. কাইয়ূম (১৯৯২-১৯৯৮)

    দুর্দান্ত আকর্ষণ নিয়ে পড়লাম। বাংলা কম্পিউটিং এর পাইওনিয়রদের পুরোধা হয়েও কি অদ্ভুতভাবে নির্মোহ প্রচারবিমুখ থেকেছেন যেখানে এখন শুধু বুর্জোয়াদেরই জয়জয়কার!
    খুব আগ্রহ নিয়ে পরের পর্বগুলোর জন্য অপেক্ষায় থাকলাম সাইফ ভাই। যুক্তাক্ষর নিয়ে অধ্যাবসায়, অর্থ পুরষ্কারে অর্ধ সহস্র যুক্তাক্ষর তালিকায় চলে আসা সবকিছু পড়তে খুব থ্রিলিং লাগছে! :thumbup:

    সিসিবি'কে প্রচন্ড সমৃদ্ধ করছে সাইফ ভাই আপনার অভিজ্ঞতাগুলো নিঃসন্দেহে। অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা।


    সংসারে প্রবল বৈরাগ্য!

    জবাব দিন
  18. সাইফ শহীদ (১৯৬১-১৯৬৫)

    মেলিতা, কচুপাতা, মাসরুফ, তৌফিক, জুনায়েদ, তাসনীম, বর্ষা, স্বপ্নচারী, রনি, রবিন, ফায়সল, তাইফুর, মান্নান, তানভীর, সায়েদ, টুম্পা, রায়হান, রেশাদ, লাবলু, মান্না, শান্তা, ডোনাল্ড ডাক, শহীদুল, আব্দুল্লাহ্‌, কামরুল, দিহান, মেহবুবা, ফয়েজ, রকিবুল, কাইয়ূম, মাহমুদ, মামুন, সামিয়া ও সবাই,

    সময়াভাবে এক সাথে সবাইকে লিখছি। প্রথমে সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এই পর্বটি পড়ার জন্যে এবং কষ্ট করে মন্তব্যগুলি লেখার জন্যে।

    আমার মা ইংরেজী পড়তে পারতেন না, এবং আমার বাংলা হাতের লেখা এতই খারাপ ছিলো যে অন্যরা দূরে থাক, আমি নিজেও আমার লেখা অনেক সময় পড়তে পারতাম না। ফলে ২৫শে জানুয়ারী (আমার জন্মদিন), ১৯৮৫ তারিখে কম্পুউটারে বাংলায় লেখা চিঠিটা মা বহু যত্নে অনেকদিন তার সংগ্রহে রেখেছিলেন।

    আপাততঃ চেষ্টা করবো প্রতি বুধবারে একটি করে পর্ব পোষ্ট করতে যতক্ষণ না শেষ হয়। আমেরিকান জীবনে – ফুলটাইম চাকরী বজায় রেখে এবং প্রতিবন্ধী সন্তানের কেয়ারের পর এর চাইতে তাড়াতাড়ি পোষ্ট করা বোধ হয় সম্ভব হবে না। সচলের পোষ্টিংয়ের চাইতে এই ব্লগে লেখাটা বিস্তারিত করার চেষ্টা করবো এবং ব্যক্তিগত ঘটনার প্রকাশ বেশী হবে বলে আশা রাখি।
    সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছান্তে,

    সাইফ ভাই (সম্পাদিত)

    জবাব দিন
  19. আদনান (১৯৯৭-২০০৩)

    ZX81 দেখে মজা পাইলাম B-) ওটার সাইজটা বুঝতে পারলে আরো সহজ হতো ধারণা করাটা। আমার কাছে কিছুটা পার্সোনাল অর্গানাইজার টাইপের মনে হল ডিভাইস-টা।
    ঐরকম একটা কম্পিউটার আমার বাবা'র অফিসে ছিল, ছোটবেলায় দেখতাম। মনোক্রম ডিসপ্লে, সবুজ রং-এর, ছোট্ট সাইজের স্ক্রীণ... টেক্সট আর লাইনড্রইং ছাড়া আর কোনো জাতীয় জিনিস প্রদর্শিত হতনা। আর এখন........ HD ছাড়া কথা নাই!!
    পরে একটা ডস বেসড কম্পিউটার বাসায় কেনা হয় ১৯৯৫-এ, ৪ মেগাবাইট র‍্যাম-ওয়ালা 😛 ৫৪০০০ টাকা পড়েছিল। এখন ঐ টাকা দিয়ে মারাত্মক পিসি বানানো যাবে।

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।