চলো বৃষ্টিতে ভিজি

সন্ধ্যার পর থেকেই টিনের চালে রিমঝিম আওয়াজ তুলে আশেপাশের কোন কিছুকে বিন্দুমাত্র দাম না দিয়ে আপন চপলতা আর ছন্দ বজায় রেখে আষাঢ়ের টানা বর্ষণ চলছে। একেবারে আকাশ ভাঙা বৃষ্টি যাকে বলে। বারান্দায় বসানো হারিকেনটা বৃষ্টির ঝাঁপটা আর বাতাসের সাথে প্রাণপন যুদ্ধ করতে করতে এখনও পর্যন্ত বারান্দা সহ সামনের আরো কিছু অংশে কোমল আলো ছড়িয়ে আলোকিত করে রেখেছে। পাশে নীরা অপেক্ষমা্ন একটি দৃষ্টি নিয়ে সামনের দিকে তাকিয়ে আছে। সতর্ক থাকতে হচ্ছে যেন অপেক্ষার ব্যাপারটা কেউ বুঝে না ফেলে। তাহলে সে অনেক লজ্জা পাবে।নীরা জানে লজ্জা পেলে তার গাল লাল হয়ে যায় এবং সেটা সময়ের সাথে আনুপাতিক হারে বাড়তে থাকে। কপালে ছোট্ট একটা টিপ আর চুলগুলো ছেড়ে রাখলে নীরার চেহারার মাঝে একটা ঝলমলে ভাব চলে আসে। যেমনটি এখন এসেছে।

ফুলপুর গ্রামের আড়াইমাইল উত্তরে ধলেশ্বরী নদীর উপর বৃটিশ আমলে গড়া সেতুটি সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে বেশ অনেক বছর হয়ে গেল। জেলা শহরের সাথে এই দিকের পুরো এলাকার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম।আর এ্খান দিয়ে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর রশদ যায় পাশ্ববর্তী কয়েকটা জেলায়,সে কারনেই সেতুর নিরাপত্তাটাও বেশ বাড়তি। মিলিটারীদের সাথে স্থানীয় রাজাকার বাহিনীও নিরাপত্তায় নিয়োযিত।গত ৩ দিন যাবত এলাকাটিকে নজরে রেখেছে ইমতিয়াজ,মিশেল,বদরুল। গোয়েন্দা উইংস এর তথ্য অনুযায়ী কাল সকালে একটা রশদ যাবে,তাই যা করার আজকের মধ্যেই করতে হবে। দলের বাকী সদস্যরা দুপুরের মধ্যেই আলাদা আলাদা ভাবে চলে আসে। অস্ত্র,গোলাবারুদ আসে মাছের নৌকায় করে।ঘন এক ঝোপের আড়ালে জমায়েত হয়ে পরিকল্পনা বুঝিয়ে দেয় দলটির কমান্ডার ইমতিয়াজ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র ছিল সে। যদিও পড়ালেখা হত না বললেই চলে।দেশ তখন বিপ্লবের উত্তাল সাগরে ভাসছে। মিটিং,মিছিল আর স্বাধীনতার স্বপ্নের মাঝে পড়ালেখার সময় কোথায়?
লুঙ্গি,খাকী শার্ট আর কাঁধে থ্রী-নট-থ্রী নিয়ে পাহারায় দুইজন রাজাকার। এই দুইজনকে মারতে শব্দ করা যাবে না,তাহলে সব পন্ডুল।রাহাত আর অনিমেষের হাতে দুটা গরু জবাই করার ছুরি,কোমরে ৩ টা করে H-36 গ্রেনেড,পাশের ঝোপে রাখা ডেটোনেটর লাগান মাঝারি সাইজের প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিভ।যেটা একটু পর ব্রীজের নীচে রেখে এসে ব্লাস্ট করাতে হবে।আর সব কাজ এগুলো দিয়েই সারতে হবে।যেভাবেই হোক।ব্রীজের থেকে ১৫০ মিটার দুরত্বে ব্রীজ পাহারায় নিয়োযিত পাকিস্তানী ক্যাম্প। এই দুরত্বের মাঝামাঝি একটা জায়গায় অবস্থান নিয়েছে ইমতিয়াজের নেতৃত্বে সাত জনের একটি দল।সবচেয়ে কঠিন কাজটা তাদেরই করতে হবে। পাকিস্তানী বাহিনীকে সামলানো।ব্রীজের দিক থেকে শব্দ আসা মাত্রই পাকি বাহিনী সেদিকে ছুটবে আর তখন শুরু হবে তাদের কাজ। ধরাশায়ী হয়ে পিছু হটতে হলে রাস্তার পশ্চিম কিনার ঘেষে যে ডোবাটা আছে সেদিকে যেতে হবে। ডোবার কাছের ঝোপটাতে আছে বদরুল সহ চার জন।পরিকল্পনায় এখনো কোন ফাঁক চোখে পড়ছে না,ভাগ্যটা শুধু সুপ্রসন্ন হওয়া দরকার।তাহলেই অপারেশন সাকসেসফুল। বিকাল ৩.৩০।দুপুরের খাবার পর অলসতাটা এখন একটু একটু করে আসন করে নিতে চাইছে।
ব্রীজ সংলগ্ন পুরো এলাকাটিতে ক্ষণিকের জন্য একটা ঝাঁকুনি অনূভুত হল। সাথে সাথে শুরু হল গোলাগুলির শব্দ। ইমতিয়াজ এর দলটি গুলির বৃষ্টি ঝড়াচ্ছে,সেই সাথে গোটা কতক প্রেনেড।পাকিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাচি’ অবস্থা। ওদিকে আবার পিছু হটতে গিয়েও বদরুলদের কাছে নাস্তানাবুদ হল হানাদারের দলটি।শেষ পরিণতি মৃত্যু।
তন্ময় হয়ে অনিমেষের কাছে অপারেশনের কাহিনী শুনছিলেন ইমতিয়াজের খালু। অনিমেষ প্রতিটি অপারেশনের কাহিনী খুব সুন্দর করে বলতে পারে এবং খুব উৎসাহ নিয়ে সে এই দায়িত্বটি পালন করে।নীরাও এতক্ষন শুনছিল বারান্দায় দাড়িয়েই। নীরার মা রান্না ঘরে,হাসের মাংস আর ভুনা খিচুরী রান্না করছেন।তের জনের দলটি অপারেশন শেষ করে কাছেই ফুলপুর গ্রামে এসেছে ইমতিয়াজের খালার বাড়ি।এই এলাকাটা মোটামুটি নিরাপদ। খালু স্থানীয় হাইস্কুলের অংকের শিক্ষক।ভালমন্দ কিছু খাওয়া হয় না অনেকদিন তাই অপারেশন শেষ করে এখানে আসা,আরেকটা উদ্দেশ্য তো আছেই,সেটা হচ্ছে নীরা। এখন সে উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী।দেখতে দেখতে বড় হয়ে গেল মেয়েটা।ইমতিয়াজের সাথে বিয়ের কথাবার্তা চলছিল কিছুদিন আগে থেকে।

বাড়িতে পৌছেই চারপাশটা ভালভাবে দেখে নিচ্ছে ইমতিয়াজ। বুদ্ধিমত্তা,সাহস আর সুন্দর ব্যাবহারের জন্য সহযোদ্ধারা সবাই খুবই পছন্দ করে তাকে । বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেনীর কর্মচারী ছিলেন।২৫শে মার্চ রাতে তাদের কোয়াটারে ঢুকে বাবা,মা ও ছোট ভাইটি কে মেরে ফেলে পাকিস্তানীরা। বাসায় না থাকায় প্রাণে বেঁচে যায় ইমতিয়াজ।
নীরা,বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে কখনো মগ ভর্তি করে চা খেয়েছ?
আচমকা বাস্তবে ফিরে আসে নীরা,মাথা নেড়ে অসম্মতি জানায়। ইমতিয়াজ কখন এসে দুয়ারে দাড়িয়েছে খেয়াল করে নি সে।
সুযোগ পেলে একবার খেয়ে দেখো,ভাল লাগবে। এই বলে একান্ত মনে বৃষ্টিস্নানে মন দেয় ইমতিয়াজ।
মানুষটার জন্য আজকে অনেক মায়া হচ্ছে।খালা,খালু,ভাই কেউ বেঁচে নেই।তবুও লোকটা কত স্বাভাবিক!এখন দুয়ারে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে,বেশভূষা আর চুল দাড়ি দেখলেই বোঝা যায় শরীরের উপর দিয়ে অযত্নের স্টিম রোলার যাচ্ছে প্রতিনিয়তই । তবুও কথা বলার সময় মুখের কোনায় লেগে থাকা হাসিটা তে একটা শান্তি শান্তি ভাব আছে।দেখলেই মনটা ভাল হয়ে যায়।

নীরার এখন ইমতিয়াজের সাথে বৃষ্টিতে ভিজতে মন চাইছে।সেই সাথে পাল্লা দিয়ে কান্না পাচ্ছে।সে কি খুব খারাপ একটা মেয়ে?তাহলে কেন তার এই মানুষটার সাথে ভিজতে মন চাইবে?হোক সে তার খালাত ভাই,হোক তার সাথে বিয়ের কথা হচ্ছিল,তাই কি তার সাথে তার ভিজতে হবে? সেখানে আর দাঁড়ায় না নীরা। বৃষ্টির মধ্যে দৌড় দিয়ে রান্না ঘরে চলে যায় মায়ের কাছে।সেখান থেকেও আড়চোখে দেখতে থাকে ইমতিয়াজের মনের সুখে বৃষ্টিতে ভিজার দৃশ্যটা।তার কাছে মনে হচ্ছে পৃথিবীর সুন্দরতম দৃশ্যের এটি একটি। মনটা আবার ভাল হয়ে যায়।মায়ের কাছে চা পাতা আছে কিনা জানতে চায়,কিন্তু ঘরে চা পাতা নেই,হতাশ হয় নীরা।তার খুব ইচ্ছে করছে মগ ভর্তি চা হাতে তার পাশে গিয়ে দাড়াতে,মানুষটা তাহলে অনেক খুশী হবে নিশ্চই। আশ্চর্য ব্যাপার!এখন আর তার কান্না পাচ্ছে না,উল্টো অনেক ভাল লাগছে,কেন ভাল লাগছে সেটা চিন্তা করতে গেলে লজ্জা আর ভাল লাগার একটা মিশ্র অনুভভূতি কাজ করছে।অনুভূতির নামটা সে জানে না।
ইমতিয়াজ অনেক আগের থেকেই নীরাকে পছন্দ করে,কোনদিন বলা হয়নি। হয়তো হবেও না,তবে নীরা যে বুঝতে পারে না এমনটি নয়। সব ঠিকঠাক থাকলে হয়তো তাদের বিয়ে হত একদিন।বারান্দা থেকে নীরা যখন দৌড়ে রান্না ঘড়ে চলে গেল,ঝুম বৃষ্টিতে চোখ বুজে ইমতিয়াজ নিজের অজান্তেই একটু খানি উঁকি মেরে আসল অতীতের কিছু স্বর্ণালী সময়ে।আদর,ভালবাসা,মমতা মাখা সময়টাতে,যখন সবাই ছিল।ইচ্ছা হচ্ছিল স্বাধীন বাংলার মাটিতে এমন এক বর্ষণমুখর রাতে এই লাজুক মেয়েটির হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজতে।পরক্ষণেই একটি দীর্ঘশ্বাস বেড়িয়ে যায় নিজের অজান্তেই।আবেগগুলোকে দূরে ছুড়ে ফেলে বৃষ্টির জলে ভাসিয়ে দেয় সকল দুঃখ,কষ্ট,যন্ত্রণা।

ঘরের মধ্যে সবাই গোল হয়ে বসে খাচ্ছে।খালা খালু অনেক যত্ন নিয়ে খাওয়াচ্ছেন সবাইকে।নীরা তাকিয়ে আছে ইমতিয়াজের দিকে।আহারে!কি মনযোগ দিয়ে খাচ্ছে লোকটা।আদর করে খাওয়ানোর মত এখন তার কেউ নেই।কিন্তু সে যতই সহজ,স্বাভাবিক আচরণ করুক নীরা তার স্বাভাবিক চেহারার ভিতর গভীর কষ্ট আর শোকের কালো দাগটা ঠিকই দেখতে পাচ্ছে।দেশ স্বাধীন হলে কি কি করবে সেটা চিন্তা করছে নীরা।কিন্তু এখনো তো অনেক পথ বাকী,এর মধ্যে কত কিছুই তো হতে পারে।নীরার চোখ ভিজে উঠছে,আর বেশীক্ষন থাকা যাবে না এখানে।

রাত তিনটা।খালা,খালুর কাছে থেকে দোয়া ও বিদায় নিয়ে তাদের সাবধানে থাকতে বলে রওনা দেয় মুক্তিযোদ্ধার দলটি।নীরাকে দেখা গেল না কোথাও।তখন তো সে নীরবে অশ্রু বিসর্জনে ব্যাস্ত।জানে না আর কখনো ইমতিয়াজের সাথে তার দেখা হবে কিনা।কোন কিচ্ছুই এখন তার কাছে মুখ্য না,সে শুধু ইমতিয়াজকে ফিরে পেতে চায়।অনেক স্বার্থপর মনে হচ্ছে নিজের কাছে কিন্তু কোনভাবেই সে ইমতিয়াজকে হারাতে চাইছে না।পরক্ষণেই সান্ত্বনা দেয় নিজেকে।দেশ স্বাধীন হলে তাদের মিলন হবেই।ইমতিয়াজ অবশ্যই আবার ফিরে আসবে যুদ্ধ থেকে।আসতেই হবে তাকে।তারা কোন এক ঝুম বৃষ্টিতে হাতে হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজবে,দুজনের হাতে থাকবে দুই মগ ভর্তি চা,বৃষ্টির ফোঁটাগুলো সেই চায়ের উপর রিমঝিম সুর তুলে আছড়ে পড়বে,কি চমৎকারই না লাগবে সেদিনের সেই বৃষ্টিটাকে!

এভাবেই দিন যেতে থাকে যুদ্ধের ভয়াবহতা আর বিজয়ের স্বপ্ন দেখতে দেখতে।একটা সময় স্বপ্নটা প্রবল হতে হতে সত্য হয়ে ডানা মেলা বাংলার আকাশে।১৬ই ডিসেম্বর বিকেল ৪ টার দিকে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বিজয়ের খবরটা শুনে আনন্দে আর হাইমাউ করে কেঁদে উঠেন মাস্টার সাহেব,সাথে নীরা ও তার মা।সে রাতে মুক্তিযোদ্ধাদের দলটি বিদায় নিয়ে যাবার পর প্রসন্নপুর ঘাটে পাকিস্তানীদের হামলার সম্মুখীন হয়।দুই জন শহীদ হন,কিন্তু কে বা কারা সেটা জানা যায় নি।ইমতিয়াজেরও কোন খোঁজ নেই এরপর থেকে।

কুয়াশার চাদরে সাদা হয়ে আছে চারপাশ,বাতাসে কোন এক সুগন্ধী ফুল আর কুয়াশার হাল্কা একটা গন্ধ মিশে একটা মায়াময়তা তৈরী করেছে।যথারীতি একটি নির্ঘুম রাতের পর ভোর দেখতে বারান্দায় এসে দাঁড়ায় নীরা।চেহারার সেই ঝলমলে ভাবটাতে এখন অনেক দুশ্চিন্তা আর বিষাদের ছায়া এসে ভর করেছে,আর চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় সেখানে অপেক্ষাটা কত তীব্রভাবে জায়গা করে নিয়েছে।দুয়ারের পশ্চিমদিক থেকে পায়ে হাটার একটা শুব্দ শুনে নির্বিকার ভঙ্গীতে তাকায় নীরা।বারান্দার দিকে কেউ একজন এগিয়ে আসছে,কালো চাদর গায়ে,কুয়াশায় ভাল দেখা যাচ্ছে না।নীরার বুক কাঁপছে ভয়ে আর আনন্দে।আনন্দটা হচ্ছে একজনকে ফিরে পাবার আর ভয়টা হচ্ছে স্বপ্ন ভঙ্গের।নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে চাইছে।

লম্বা দাড়ি আর চুলের মধ্য থেকেও চোখ আর হাসিটা দেখে ইমতিয়াজকে চিনে নিতে এক মুহুর্তও দেরী হল না নীরার।তবুও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না সে।জীবনে এমন আনন্দের মুহুর্ত কখনো এসেছে কিনা মনে করতে পারছে না।সন্দেহ হচ্ছে স্বপ্ন না তো?ঘুম ভাংলেই দেখবে একা ঘরে শুয়ে আছে সে।না স্বপ্ন নয় তার সামনে দাঁড়ানো মানুষটি তার দিকে তাকিয়ে হাসছে।আবার কথা বলছে।তাও আবার এমন একটা কথা যেটা শোনার জন্য তার এতদিনের অপেক্ষা।

আমার হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজবে?চল বৃষ্টিতে ভিজি।

মা দেখে যাও কে আসছে,ইমতিয়াজের কথার উত্তর না দিয়েই নিজের অজান্তে চিৎকার করে উঠে নীরা।পরক্ষণেই বুঝতে পারে লজ্জায় তার গালটা লাল হয়ে যাচ্ছে,মা এসে কি ভাববে?যাই ভাবুক,এত কিছু সে জানে না,শুধু জানে যে হাত ধরার জন্য,যে কথা শোনার জন্য তার এত দিনের অপেক্ষা তা সে আজকে কোনভাবেই হারাতে দিবে না।

এখন তো শীতকাল,বৃষ্টিতে ভিজব কিভাবে?

তুমি আমার হাত ধরলে এখনি বৃষ্টি নামাব,কিভাবে নামাব সেটা আমার ব্যপার,আর যদি নাই নামে তাহলে হাত ধরে দুজনে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করব।

না ধরব না,এইসব চুল দাড়ি না কাটলে আমি তোমার হাত কখনোই ধরব না।

ইমতিয়াজ হাসে,এত শক্ত করে জড়িয়ে ধরে থাকলে এগুলো কাটব কি করে?আর তোমার ‘তুমি’ ডাকটা ‘আপনি’ থেকে অনেক বেশী সুন্দর শোনায় এটা কি তুমি জানো?

নীরা কোন কথা বলছে না,ইমতিয়াজের বুকে মাথা রেখে অনবরত কেঁদে চলেছে আর গাল দুটো যথারীতি নিয়ম মেনে সময়ের সাথে আনুপাতিক হারে লাল হয়ে উঠছে…

৮৩৬ বার দেখা হয়েছে

৪ টি মন্তব্য : “চলো বৃষ্টিতে ভিজি”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।