ঘরের জানালা দিয়ে দিনের প্রথম আলোটুকু আমার চোখের উপর পড়ে আমার ঘুমটা ভাঙ্গিয়ে দিলো। জানালা বলা ঠিক হবে না। বলা যায় একটা ফাঁকা জায়গা। জেলে তো আর জানালা থাকে না। আমি অন্যদিনের মতো আলস্য না দেখিয়ে উঠে পড়লাম, সূর্যোদয়টা দেখা দরকার। ফুটোটা দিয়ে যতটুকু পারা যায় দেখে নিলাম। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে সূর্যটা তখন অনেক উপরে উঠে গেছে। মানে বেলা অনেক গড়িয়ে গেছে। মনের অজান্তেই একটা দীর্ঘনিশ্বাস বের হয়ে এলো।
বিস্তারিত»প্রস্থান
“তাই সবার মত উঠতে হবে আমাকেও কাধে/ বয়ে এতে হবে একই গঙ্গায়/ আমি অন্য কারো হাতের মুঠোয় এক মুঠো ছাই/ আমি অন্য কিছু নই আমি সবাই……।” আজ সকালে উঠেছি অনেক আগে। সবাই ক্লাসে গেছে, আমার ক্লাস শুরু হতে তখনও দেরি। বসে বসে অঞ্জনের এই গানটা শুঞ্ছিলাম, মৃত্যূর কথা ভাবছিলাম। জীবনের চূরান্তটা যদি অন্য সবার মত হল, তবে তো আমি আসলেই আর দশজনের মতো। এখানে কোন তর্ক নেই,
বিস্তারিত»“প্রভু, তুমি ওদের ক্ষমা করে দিও”!
পচন ধরে মাথা থেকেই। আমাদেরও পচন ধরেছে একেবার শীর্ষ থেকে।সমাজপতি অধিপতি যাদের কে বলে আর কি!
তারাও প্রায় পুরো মাথাই খুইতে বসেছে।আমেরিকা-কানাডা-ওস্ট্রেলিয়ায় মাথা বন্ধক রেখে, ধড় ফেলে রখেছে এদেশে। একমাত্র কাজ, যতটুকু হাতিয়ে নেয়া যায়।
আঁখেরের শান্তিতো ওই দেশেই, এখানে একটু কষ্ট করে রাস্তাঘাট গরম করা,কালো-ধলা বিড়াল খুঁজে বেড়ানো, বিশ-পঞ্চাশ হাজার টাকার মূলধনে একশ কোটি টাকার ব্যবসা ফাঁদা, ব্যাংক ম্যানেজার কে ম্যনেজ করে ভোল্ট হাতিয়ে নেয়া,
বিস্তারিত»শুভ জন্মদিন, ১৯৯৯ ইনটেক
আজ থেকে ১৩ বছর আগে (03/06/1999) আমার জন্ম হয়েছিল, ক্যাডেট হিসেবে। ক্যাডেট কলেজে চান্স পাবার পর যেই বাবা সবাইকে মিষ্টি খাইয়েছিলেন, তিনি কাঁদলেন। চোখের জলে আমাকে বিদায় দিলেন মা। আমি বুঝলাম, আমার এতদিনের সাজানো জীবন থেকে আামাকে সরিয়ে দেয়া হল। রাগে, ক্ষোভে, দুঃখে আমি কাঁদলাম না। কিন্তু সেই রাতে সীমাহীন শূণ্যতা আমায় জাপটে ধরল। আমি কেঁদে বালিশ ভিজালাম। আমার বিগত জীবনের মূত্যু হল। নতুন এক অনাকাঙ্খিত জীবন লাভ করলাম।
বিস্তারিত»টীন এজার
৩রা জুন, ১৯৯৯ থেকে ২০১২ , পাক্কা তের টা বছর ! । কলেজের এ্যালবাম খুলে নিজের ছবি দেখে সবার মনে একটা কথাই আসে, ইস ,আমরা কি পিচ্চি ছিলাম ! ;)) বিশ্বাস ই হতে চায়না কবে এত্ত বড় হয়ে গেলাম থুক্কু বুড়ী ;;; হয়ে গেলাম । পিছন ফিরে তাকালে হুড়মুড় করে ছয়টা বছর চোখের সামনে এসে দাঁড়ায় ।
ক্লাস সেভেনে প্রথমের দিকে , তখন মনে হয় আমরা দুনিয়ার সবচেয়ে আজিব চিড়িয়া ছিলাম O:-) অবশ্য ক্লাস সেভেনটা এমনই,
বিস্তারিত»ডিডিপি’র জিডিপি
ফাইয়াদ, তুই কি ডিডিপি তে গেছস এইবার?
না, যাই নাই। ডিডিপি মানে কি ক আগে।
জানিনা। দোস্ত, তুই এইবার বিতর্কে যাবি হাউস থেকা।
মজা করিস না।
আমারে বাঁচা, আর কাউরে খুইজা পাইতাছিনা।
তাই বইলা আমারে?
না করিস না, তুই না ভালো। হাউস মাস্টার আমারে জ্বালাইতাসে নামের লাইগা। সবাই কোন না কোনডাতে গেসে, খালি তুইই বাকী।
আমি ছয় দাগ ক্যাডেটের কাছে ডাবল স্টার হাউস প্রিফেক্টের এই হলো আবেদন।
বিস্তারিত»প্রলাপ-৮
১।
এ পোড়া দেশেও হায়
বৃষ্টি নামে
চশমায়
তেরচা হয়ে….
মাঠ নয়,
শপিং মলের ধু ধু পার্কিঙে
রোরুদ্যমান দুচোখ
বেদিশা থমকে যায়
চরাচরে শুধু
করুণ গাভীর মতো ভিজে চলে
সারসার গাড়ির কাঁচ
২।
আকাশের মতো
এই জানলা জুড়ে
বৃষ্টির পরোয়ানা নিয়ে
দৈত্যের মতন মেঘ এসে
দাঁড়ালে কোনদিন,
দূরত্ব
তুমি আর আমি
এখন দুজন দুগ্রহের বাসিন্দা,
কেটে গেছে অনেক দিন, কিন্তু
কমেনি আমাদের মাঝের দূরত্ব;
তারপরও জানি
আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি।
চলে গেছে সে ক্ষণ, যখন
তোমার ছায়াকে অনুসরণ করত আমার পদচ্ছাপ,
এখন চলে যায় দিনের পর দিন, তবুও
আমার হৃদয় পায় না তোমার কোমল স্পর্শ;
বিস্তারিত»স্মৃতির রোমন্থন
আমি আসলে ভালো লেখক না, তাই গল্পের মান খুব ভালো হবে না সেটা আগেই বলে রাখছি। এটাকে ঠিক গল্প বলা ঠিক হবে না, আপনারা এটাকে গল্পগুচ্ছ বলতে পারেন। রবীন্দ্রনাথের ভক্তরা রাগ করবেন না এই ভেবে যে, ব্যাটা গুরুদেবের বইয়ের টাইটেল নকল করছে। হ্যাঁ, নকলই করছি, সেজন্যে আগেই ক্ষমা চাচ্ছি। :boss:
১. অর্থনীতির আব্দুস সামাদ স্যার, আমরা অপেক্ষা করে থাকতাম কখন তার ক্লাশ করব।
বিস্তারিত»অবশেষে ফিরে এলাম…………………
শেষ পর্যন্ত এক্স ক্যাডেট হয়েই গেলাম !!!!! অনেকদিন আগে সিসিবিতে নিয়মিত থাকতাম । পরে আমাদের(বর্তমান ক্যাডেট) লেখা পোস্ট বন্ধ করে দেয়ার পরে একরকম অভিমানেই সিসিবি ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম । এমন কি অনেক দিন খবর পর্যন্ত রাখিনি । আজ মনে হল রাগ করাটা অযৌক্তিক ছিল । এই কয়দিন সবাইকে অনেক মিস করেছি । সব ভাই আর আপুদের কাছে আজ আবার ফিরে আসতে পেরে খুব ভাল লাগলো ।
বিস্তারিত»ক্যাডেট কলেজ ট্রাজিডিজ
ক্যাডেট কলেজ ট্রাজিডিজ(১)
আমাদের ইসলাম ধর্মের শিক্ষক ছিলেন আব্দুর রব স্যার( স্যার এর নাতি স্যার এর ছোট ছেলের থেকে বড়),খুবই দয়াশীল শিক্ষক। যত পাতা উত্তর,ঠিক তত নাম্বার। তবে ধর্ম ক্লাস ছিল খুবই বিরক্তিকর। তাই আমরা সেই সব বিরক্তিকর ক্লাসে টয়লেটে গিয়ে তাশ খেলতাম। আমি আর ইফতি Master Shifu ,আর অইদিকে মামুন Mamun Xbcc আর নাজমুল Lumzan Hasan
তেমনি এক আনন্দঘন ক্লাসে সমানে হরতন,রুইতন,ইশকাপন পিটাচ্ছি,আর মুস্তাকিম Mustakim Zanzibar মাসুদ রানা পড়ছে।
আমার লেখাটা একটু পড়বেন কি?
যাবার কয়েকদিন আগে, প্রিন্সিপাল বাংলোর ল্যাম্ব রোস্টের গন্ধে প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম যে, ২ দিন পরে কলেজ থেকে চলে যাবো। চেতনা ফিরলো যখন রানা ভাই এসে একটা হাঁক ছাড়লেন, ভাই কাপড় জমা দেন, কাপড়। হায়রে ক্যাডেট লাইফ। আমার এক ফ্রেন্ডকে প্রায়ই বলতে শুনতাম,”যৌবনের তেজ আর জোরে চাপা ছোটো বাথরুম দুইটাই ক্ষণস্থায়ী। ” সে যদিও হিন্দিতে বলতো আমি একটু অনুবাদ করে দিলাম আর কি! আরে, আর কি লিখতে গিয়ে মনে পড়লো আমাদের আর্কিমিডিস স্যারের কথা মানে ভূগোলের মকবুল স্যারের কথা।
বিস্তারিত»কিছু অসমাপ্তি-২
৩.সেই বাগানবাড়ির অনেক পরের কথা। আমরা যখন আগের বাসায় ছিলাম, বাসা ছিলো দোতলায়।সারাদিন রিক্সার টুং টাং, বুয়াদের হইচই আর মাঝেমধ্যে গাড়ির শব্দে মুখর থাকতো রাস্তাটা। কিন্তু রাতের বেলায় একদম উল্টো। শান্ত, নিশ্চুপ। বারান্দার কাছেই জ্বলতো একটা সোডিয়াম বাতি। অনেক রাত বারান্দায় বসে নৈঃশব্দের মায়া দেখেই সময় কাটিয়ে দিতাম।
কিন্তু প্রতিদিন রাত ৯-১০টার মাঝে আমার নিরবতা ভেঙে দিয়ে যেত একটা কালো মাইক্রোবাস। গাড়িতে বাজতো অনেক অনেক পুরোনো দিনের হিন্দি সিনেমার গান!
স্বপ্নচূড়া-২
গত দুই দিনে অনুপমার সাথে একটা কথা বলারও সুযোগ হয়ে উঠেনি দিলীপের।প্রথম কাজ যেটা করতে হয়েছে সেটা মাকে মামার বাড়ি রেখে আসতে হয়েছে।স্থানীয় যারা বন্ধু আছে,তাদের সাথে কথা বলে সব ঠিক করতে হয়েছে।সব করতে হয়েছে গোপনে এবং সময় নিয়ে।কয়েকজনকে পুরো ব্যাপারটা বুঝানোও খুব সহজ হয়ে উঠছিল না।এসব করতে করতে অনুপমার সাথে কথা বলার সুযোগই হয়ে উঠেনি।শুধু স্যারের সাথে দেখা করতে যেয়ে একবার চোখে চোখ হয়েছিল একবার,কিছুক্ষণের জন্য।রাতে রওনা দেবার আগে যেভাবেই হোক দেখা করতে হবে।সন্ধ্যার পরে নাট মন্দিরের সামনে দেখা হবার কথা।
বিস্তারিত»ওরা এগারো জন
এগার জনের দলে আগে থেকে চিনতাম একমাত্র মিনহাজকে। ফৌজদারহাটে আমাদের জুনিয়র। ঢাকায় আমেরিকান সেন্টার এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলে আমাদের কয়েক দফা ওরিয়েন্টেশন হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক। টিকেট চলে এসেছে। কোন হোটেলে আমরা থাকবো তার ওয়েবসাইটও মেইল খুলে দেখে নিয়েছি। সুইমিংপুল আছে, আছে জিমনেশিয়াম, রুমে ইন্টারনেট। বিশাল হোটেল, তার চেয়েও বিশাল এলাকা জুড়ে। দেখতেও চমৎকার। নানা ধরণের জরিপ সফলভাবেই পূরণ করেছি। ভিসার আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে সময়মতো।
বিস্তারিত»