ডিডিপি’র জিডিপি

ফাইয়াদ, তুই কি ডিডিপি তে গেছস এইবার?
না, যাই নাই। ডিডিপি মানে কি ক আগে।
জানিনা। দোস্ত, তুই এইবার বিতর্কে যাবি হাউস থেকা।
মজা করিস না।
আমারে বাঁচা, আর কাউরে খুইজা পাইতাছিনা।
তাই বইলা আমারে?
না করিস না, তুই না ভালো। হাউস মাস্টার আমারে জ্বালাইতাসে নামের লাইগা। সবাই কোন না কোনডাতে গেসে, খালি তুইই বাকী।

আমি ছয় দাগ ক্যাডেটের কাছে ডাবল স্টার হাউস প্রিফেক্টের এই হলো আবেদন। কলেজের বিতর্ক টিম আইসিসিএলএমে গিয়েছে অথবা কি একটা কারণে যেন রেগুলার বিতার্কিক কেউই নাই ফিল্ডে। সিনিয়র গ্রুপ থেকে আমাদের ক্লাসে সবাই কোন না কোন কম্পিটিশনে গিয়েছে, খালি আমিই বাকী। অনুরোধে হাউস গিলতে হলো। বিতর্কের পার্টিসিপেন্ট হিসাবে আমার নাম চলে গেলো। নাম যাবার পর কেন জানি, ‘যাহ্‌ শালা, এবার দেখিয়ে দেবো’ জাতীয় ফিলিংস চলে আসল। বিতর্কের সাবজেক্ট ‘মাতৃভাষায় বিজ্ঞান চর্চা হওয়া আবশ্যক হওয়া উচিৎ’, আমি পক্ষে।

ব্যাপক উৎসাহে স্ক্রিপ্ট লেখা শুরু করলাম। ‘বাণী চিরন্তনী’ ঘেঁটে ঘেঁটে বারুদের মতো সব বাণীও বের করে ফেললাম। লেখা শেষ করে লতিফা ম্যাডামের কাছে নিয়ে গেলাম স্ক্রিপ্ট। ম্যাডাম বললেন,
খুব খারাপ হয়নি, তবে সত্যিই তুমিই যাচ্ছ বিতর্কে?
জ্বী ম্যাডাম।
দেখো, হাউসের সম্মান অনেক বড় ব্যাপার।

বৃহস্পতিবার লাস্ট দুটো আওয়ারে বিতর্ক। সকালেই খবর এলো কি একটা কারণে অডিটরিয়ামে আজ ডিডিপি হবেনা, এর পরিবর্তে ডাইনিং হলে হবে। যাক, নতুন ফ্লেভার। ফাটায়া দিতে হবে আজকে। ডাইনিং হলে বিতর্ক শুরু হবার পর দেখা গেলো সত্যিই ফেটে যাচ্ছে। অডিটরিয়ামের দেয়ালের কার্ডবোর্ডের ছিদ্রগুলোর মহিমা আজ হাড়ে হাড়ে বোঝা যাচ্ছে। স্যাররা এসে সব কম্পিটিটরকে নীচু স্বরে বলতে বললেন।

পক্ষের দ্বিতীয় বক্তা আমি। স্টেজে উঠে শুরু করলাম বক্তৃতা। দু-এক প্যারা পর কার যেন একটা উক্তি বলার কথা। যায়গামতো এসে এবার আর উক্তিটা মনে পড়ছেনা। কিছুক্ষণ ভাবলাম। নাহ, ব্ল্যাক-আউট। স্ক্রিপ্টের জন্য আস্তে করে পকেটে হাত ঢুকিয়ে দিলাম। হায় আল্লাহ, স্ক্রিপ্টও পকেটে নাই, নীচে টেবিলে রেখে এসেছি। আর কিছুক্ষণ চুপ চাপ ভেবে চললাম, নাহ ‘পুরা হাওয়া’। “বাদ দেই সে কথা——-” বলে আবার বলা শুরু করলাম। কিছুক্ষণ চলল গাড়ী, আবার কোন একটা উক্তি এলো সামনে। যাহ্‌, এবারো মনে পড়ছেনা। হায় ডাইনিং হল, দ্বিধা হও। আবার কিছুক্ষণ চিন্তা করলাম। একই কাহিনী। মনিষীর উক্তি বাদ দিয়ে আবারো নিজের সেই উক্তি চালিয়ে দিলাম- “বাদ দেই সে কথা——-“। কিছুক্ষণ পর ডাইনিং হল দ্বিধা হলো। কোনমতে শেষ করে স্টেজ থেকে নেমে এলাম নীচে।

রিভিউ হলো। সাদা চুন বাজার থেকে কেনা থেকে শুরু করে রঙ শুকানো পর্যন্ত হোয়াইট ওয়াশের সমস্ত স্টেপ একদিনেই শিখে ফেললাম। ফলাফল ঘোষণার পালা। আমি…………পঞ্চম। আহ তাই নাকি? কিভাবে সম্ভব? ষষ্ঠ আমারই হাউসের দুই ব্যাচ জুনিয়র জুনায়েদ।

আমার কাছে আজও রহস্যময়। জুনায়েদ, তুমি কি বলেছিলে সেদিন?

পরিশিষ্টঃ

– ডিডিপি মানে কি আজও জানতে পারলাম না
– সেই বিতর্ক আমার জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। এরপর কোন ডিডিপি আসলে প্রিফেক্ট আর স্যাররা কেউ আমার দিকে চোখ তুলে তাকাতে সাহস পায় নাই।

১,২০৭ বার দেখা হয়েছে

১১ টি মন্তব্য : “ডিডিপি’র জিডিপি”

  1. জুনায়েদ কবীর (৯৫-০১)

    ডাইনিং এ ডিবেট প্রোগ্রাম, তাও লাঞ্চের আগে আগে? ফাইয়াদ ভাই, আমি শিওর একটি বিশেষ মহল আপনার কন্সান্ট্রেশন নষ্ট করার জন্য এটা করছিল... :-B
    (আরে! ডি ডি পি'র অর্থ তো বের হয়ে গেল-ডাইনিং এ ডিবেট প্রোগ্রাম...:D 😀 :P)


    ঐ দেখা যায় তালগাছ, তালগাছটি কিন্তু আমার...হুঁ

    জবাব দিন
  2. আসিফ মাহমুদ

    ঝাঁকি দিয়ে লাভ হচ্ছে না,আর একটা D দিয়ে বানাতে হবে যেভাবে GK TEST ELABORATION এ বানাতাম... ধরি DDP = Demonstrative Display Program 😛 😛 :thumbup: (সম্পাদিত)


    ...একদিন সবকিছু মুছে যায় হিমেল হাওয়ায়, স্মৃতিমাত্র লিখে নাম...সেইখানে আমিও ছিলাম...

    জবাব দিন
  3. রায়হান (০৫-১১)

    আমি জীবনে ২ বার গেসি ডিডিপি তে......একবার প্রাইজ পাইসি :gulli2: :goragori: ( বাংলা বানান এ).........আরেকবার স্টেজে উইঠ্যা স্ক্রিপ্ট ভুইল্যা গিয়া প্রিন্সিপাল এর ঝাড়ি খাইসি...... x-(

    জবাব দিন

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।