ক্যাডেট কলেজে ঘটনাবহুল প্রথম রাত

ঘটনা : ১

বাবা মা চলে যাওয়ার পর যথারীতি আমি সহ আমার ডর্মের বাকি ৩ জন তুমুল কান্নাকাটি শুরু করলাম। কে কাকে থামাবে… কেউ একটু থেমে যেতে গেলেই আরেকজন আরও জোরে শুরু করে দেয়। এমন মুহূর্তে হাউজ বেয়ারা দিদির আগমন।
ডর্মে ঢুকেই বললেন” তোমাদের মধ্যে মীম কার নাম?”
স্বাভাবিক ভাবেই প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেলাম…… “আমি।”  কান্নার জন্য না ভয়েই কেঁপে জবাব দিলাম।

বিস্তারিত»

আমার মায়েরা…

আজ কেন যেন খুব মায়ের গল্প করতে ইচ্ছা করছে।সচরাচর যা আমি করিনা…মা দিবসে সবাই মাকে নিয়ে পোস্ট দিয়ে ফেবুতে ঝড় তুলে দেয়।আমি চুপ থাকি।আমার যা বলার আছে ফেসবুকের একটা স্ট্যাটাস এর সাধ্য নাই তা বলার।আজকে বলতে ইচ্ছা করছে খুব।

আমার মায়ের সাথে আমার বয়সের পার্থক্য মাত্র সতের…গ্রামে হয়তো ব্যাপারটা
খুবি স্বাভাবিক…কিন্তু একটি অবস্থাপন্ন বাড়ির সবচে ছোট মেয়ের জন্যে জীবনের অর্থ কখনোই সংসার,সন্তান কিংবা চারদেয়ালের মাঝে দিন কাটানো,সন্ধ্যাবেলা বারান্দায় অফিসফেরত স্বামীর জন্যে অপেক্ষা করার মাঝেই আটকে ছিল না…..হবে কেমন করে…মফস্বলে বেড়ে ওঠা আমার মা শুনতেন এলভিস প্রিসলি…পরতেন গোর্কি…মা চেয়েছিলেন অনেক বড় হতে…আব্বু মাকে দেখতে চেয়েছিলেন আর দশটা বাঙালি বউ এর চেয়ে অনেক আলাদা…অনেক স্বাধীন…বাড়ির ছোট বউ আমার মা তাই শাশুড়ি জা এর সব আদেশ মেনে,সব কাজ সামলে সারারাত ধরে পরতেন এস এস সি এর জন্যে…আমাকে নিজের ভিতর বয়ে নিয়ে মা মাইল মাইল হেঁটে গিয়েছেন পরীক্ষা দিতে…ম্যাট্রিক থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত প্রতিটা পরীক্ষায় আমার মায়ের রেজাল্ট নিয়ে আমার আব্বু এবং আমরা এখনো গর্ব করি…

বিস্তারিত»

আজ বিশ্ব রক্তদাতা দিবস

আজ ১৪ই জুন – বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। আমার ছোট্ট বিশ্বে অবশ্য রক্তদান দিবসটি হচ্ছে ১লা জুন। ৩৭ বছর আগে এই দিনটিতে প্রথম শুরু করি রক্ত দেওয়া। ঢাকার মহাখালীর কলেরা হাসপাতালে আমার মেয়ে তখন তার প্রানের জন্যে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। ছোট্ট মেয়ে আমার – মাত্র এক মাস হয়েছে তখন তার বয়েস। এই এক মাসের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সময় কেটেছে হাসপাতালের বিছানায়। প্রথমে তার ছোট্ট হাতে সূচ ঢুকিয়ে সালাইন দেওয়া হচ্ছিল।

বিস্তারিত»

মানুষ নয়, রোহিঙ্গা

গভীর রাতে বৃষ্টি নেমেছে। গরমে অতিষ্ঠ হওয়া মানুষের দেহে বয়ে যাচ্ছে শীতল পরশ আর বৃষ্টির মধুর ঝাপটা। ঘুম গাঢ় হয়ে উঠেছে কারো কারো। এমনই সময় নাফ নদীর ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা একাকী একটা ট্রলারে বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা আর বাতাসের তীব্র ঝাপটা ভিজিয়ে দিচ্ছিলো বিশাল এ আকাশের নীচে অসহায় কিছু অচ্ছুত মানুষকে। উবু হয়ে বসা মা তার আর কিছু না পেয়ে নিজের দেহটা দিয়েই আড়াল করে রেখেছিলো তার শিশুটিকে।

বিস্তারিত»

“মা, মা, আমি পরীক্ষায় পাশ করেছি……”

ডিসক্লেইমারঃ এই পরীক্ষা দিয়ে আমি গ্র্যাজুয়েট ষ্টুডেন্ট থেকে পিএইচডি ক্যান্ডিডেট হলাম মাত্র, ডঃ হইতে আরো বছর দুয়েক বাকি………

গতকাল প্রায় দেড়যুগব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবনের শেষ পরীক্ষাটা দিয়ে ফেললাম- পিএইচডি থিসিস প্রপ্রোজালের ডিফেন্স ছিল দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত। আমার থিসিসের বিষয়বস্তু হলো, বাংলাদেশী অভিবাসী এবং শ্রমিকরা কেন দেশে টাকা (যা’র সুন্দর, পোষাকি নাম হলো রেমিট্যান্স) পাঠায়? মৌখিক পরীক্ষা, ছোট্ট একটা রুমে চারজন প্রফেসরের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে হতে আক্ষরিক অর্থেই আমার সময় থমকে গেল।

বিস্তারিত»

শেষ সিগারেট

ছুটে চলা ট্রেনের জানালা দিয়ে মুখ বের করে দিলাম আর দুরন্ত বাতাসে বুজে এলো দুটি চোখ। ডোবায় আধখানা চাঁদের টলমলে প্রতিচ্ছবি দেখতে দেখতে হঠাৎ বৃষ্টির ঝাপটায় এফোঁড় ওফোঁড় করে দিলো মুখ। চাঁদ ও বৃষ্টির এই উদ্ভট সহাবস্থানের কোন ব্যাখ্যা দাড়া করানোর চেষ্টা না করে মাথা ভেতরে এনে জানালা বন্ধ করতে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় সহযাত্রীর প্রশ্ন, “বৃষ্টি পড়ছে?” উত্তর দিলাম, “চাঁদের আলো বৃষ্টি দুটোই পড়ছে।” ইয়ার্কি করছি কিনা সেটা বোঝার জন্যে সহযাত্রীর চোখ মূহুর্তের জন্যে সরু হয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে এলো।

বিস্তারিত»

অতীন্দ্রিয় না ষষ্ঠইন্দ্রিয়?

সনাতন ধর্মে ‘টিপ’ ব্যবহার শুরুর দিকে ছিল আধ্যাত্মিক! কপালের “টিপ” তখন “তৃতীয় নয়ন” এর রূপকার্থে মুনি ঋষিদের অলংকৃত করত।

হাজার বছর ধরে পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের বাইরেও মানুষ খুজে ফিরেছে “আরও” কিছু। আর সেই ‘আরো কিছু’ যে কি? তার সঠিক হদিস আমাদের সাধারন মানুষের কারো কাছে অবশ্যই নেই, হলফ করে বলতে পারি।

কেও ধ্যান মগ্ন থেকে, কেও নৃত্যে,গীতে,তালে,সুরে,লয়ে,জিকিরে-আজগারে সাধারনকে অতিক্রম করে সেই অতীন্দ্রিয়,

বিস্তারিত»

আসেন নামতা শিখি!!

১৯৯৬ সাল।
শাইখ ক্লাস ১ এ পড়ে। প্রথম সাময়িক পরীক্ষা । অংক!!!! ভুতের মুখ আর অঙ্ক পরিক্ষার প্রশ্ন একই রকম।
১০০ নম্বরের পরীক্ষা!!!!!
প্রশ্নপত্রের আগমন। ভুতের চোখের সাথে শাইখের চোখাচোখি হল।!!
প্রশ্নপত্রঃ ১। অঙ্কে লিখ
শাইখঃ পারি
২। কথায় লিখ
শাইখঃ পারি
৩। যোগ কর (হাতে না রেখে)
৪। যোগ কর ( হাতে রেখে)
৫।

বিস্তারিত»

স্টেশন ডায়েরী(ব্যাক্তিগত ডায়েরীর পাতা থেকে)

৩০ নভেম্বার, রাত ৯ঃ১০

খুলনা স্টেশন।

ট্রেন প্রায় দুই ঘন্টা লেট। একটা সিগারেট ফুকতে ফুকতে ওভার ব্রীজে পায়চারী করছিলাম আর কয়েকদিন আগে এই স্টেশনে বসে ভাবা ও পরে লেখা স্টেশনের পাগলকে নিয়ে গল্পটার সমাপ্তি নিয়ে ভাবছিলাম। তারপর খানিকটা ক্লান্ত লাগলে নিচে, ২ নং প্ল্যাটফর্মে নেমেছি। প্লাটফর্মের এ মাথা থেকে ও মাথা; অনেক যাত্রী। কেউ ট্রেন দেরী হওয়ায় বিরক্ত, কেউ গল্পে মশগুল।

বিস্তারিত»

বদলে না যাওয়া ভালোবাসাগুলো

১৯৯৮ সালের জুন মাসের এক তারিখ

আব্বা, আম্মা আর আমি – এই তিনজন গাড়িতে করে টাঙ্গাইল যাচ্ছি। সবাই বললো ক্যাডেট কলেজে চান্স পাওয়া অনেক কঠিন। তাই ঠিক হলো আমাকে ক্যাডেট কোচিং এ দেয়া হবে। যেখানে থাকি সেখানে ভালো কোন কোচিং নেই। অগত্যা টাঙ্গাইলে চলো। ঠিক হলো আবাসিক থেকে কোচিং করবো কয়েক মাস। আজ সেই দিন। আমাকে কোচিং এ রেখে আসা হবে। গাড়িতে আম্মা আমার পাশে বসা।

বিস্তারিত»

সংখ্যা হিসেবে ১২’র প্রভাব বিষয়ক আলোচনা

১।
১২ সংখ্যাটার সাথে আমার যোগাযোগ খুব ভাল। ১২ বছর বয়সে ১২ মে ক্যাডেট কলেজে থেকে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে ১২ সংখ্যাটা ঘুরে ফিরে আসে। নাকি আমি খুঁজে খুঁজে নিয়ে আসি সেটাও ভাববার বিষয়। তবে এটা ঠিক, আমার ক্ষেত্রে ১২ একটি টিপিকাল খেলোয়ারি সংখ্যা। আমার জীবনে ১২’র খেলাধুলার শেষ নেই। উদাহরণে ব্যাপারটা পরিস্কার হবে। নেদারল্যান্ডসে প্রথম যে বাসায় ছিলাম, সেটার ঠিকানা ছিল এডেলইউসস্ত্রাত-১২।

আমার ফ্লোরের ইমিডিয়েট নিচে যে ভদ্রমহিলা থাকতেন,

বিস্তারিত»

প্রলাপ-৯

সবুজ আঁচল ভেদ করে
আমূল বিঁধিয়ে
প্রেমের সুতীক্ষ্ণ ছোরা
নিরুচ্চারে চিরে দ্যায়,
হন্তারকের এ
কেমন অসুখ!
পিপাসার নামে হায়
ফালি ফালি
হয়ে যায়
তরমুজের
নরোম
লালাভ বুক।

বিস্তারিত»

মুনিয়া

আমার একজোড়া মুনিয়া চাই
কলাপাতা সবুজ আর নীল মেশানো ধুসর
কিংবা আকাশী নীলের মাঝে সাদা ফুটকি,
ওদের জন্য খুব শিগগির বানাব প্রাসাদ
শিকের পরে শিক,লোহার ছোট্ট ফটক
আংটায় লাগাবো ঝালর মখমলী
লাল,নীল,বেগুনী।

খেয়েদেয়ে ভরপেট
শিকের ফাঁকে লম্বা ঠোঁট গলিয়ে
মুনিয়া আমায় শোনাবে কিচিরমিচির,
নরম পালকে হাত বুলিয়ে
দিন ছুটবে তন্দ্রা ভেঙ্গে,
বারেবারে চুম্বক টানে দেখব
দুই মুনিয়ার ঘরসংসার,

বিস্তারিত»

রোজনামচাঃ পর্ব ১- সকাল

ক্লাস ৭ এর প্রথম ছুটিতে যেবার বাড়ি গেলাম প্রথম দিন সকালে মা ঘুম থেকে ডাকলে ইয়েস প্লিজ বলে চিৎকার করে উঠছিলাম ।মা বুঝতে পারে নাই আমি কি বলেছি কিন্তু আমি আমার পরিবর্তন বুঝতে অতিরিক্ত কোন ন্যানো সেকেন্ড ব্যবহার করি নাই ।
কলেজের ৬ বছরে সকালগুলো কয়েকটা রেঞ্জে ফেলা যাই ।সেভেন এ পিটি বেলের অনেক আগে ওঠা , এইটে এ নরকের হোটেল বয় রুপী ডিউটি কাডেটশীপ,নাইনে অন্ধের দেশে ল্যাংড়া কানা রাজার রাজ্য পরিচালনা ওই সকাল থেকেই শুরু।

বিস্তারিত»

স্বার্থপর ইচ্ছা

আকাশ রাঙ্গানোর ইচ্ছা ছিল না আমার
তবুও বার বার রংধনু হয়েছি আকাশ রাঙ্গানোর ইচ্ছায় ।
পাহাড়ের সাথে আলিঙ্গন করার ইচ্ছা ছিল না আমার
তবুও বার বার ঝড়ো বাতাস হয়েছি পাহাড়ের গায়ে কাঁপন ধরাবার ইচ্ছায় ।
সমুদ্রের মাঝে বিলীন হয়ে যাবার ইচ্ছে ছিল না আমার
তবুও বার বার নদী হয়েছি বিলীন হবার ইচ্ছায়  ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য
এই সবই করেছি অহেতুক এক স্বার্থপর ইচ্ছায়
কারন তোমাকে জড়িয়ে ধরে ভুলতে চেয়েছি
নিঃশব্দ ক্ষণজন্মা আমার জীবনের বধির সময়গুলিকে…।।

বিস্তারিত»