পাগলের মেঘ, পাগলের বৃষ্টি

দুপুর ৩টা ১০, খুলনা রেলওয়ে স্টেশন। সাগর দাঁড়ি এক্সপ্রেস প্ল্যাটফর্মকে নির্জন করে ছেড়ে গেল রাজশাহীর দিকে। হঠাৎই নির্জন হয়ে পড়ার একটা সৌন্দর্য্য আছে। তবে এটা খুব অদ্ভুত, আধার থেকে হঠাৎ তীব্র আলোয় বের হলে যেমন হয় আর কি। দূরে অপসৃয়মান ট্রেনের ঝিক ঝিক আর সাইরেন কে ছাপিয়ে ওভার ব্রীজ থেকে হঠাৎ প্রবল অট্টহাসি হেসে উঠে হাবা পাগলা। খুলনা স্টেশনে হাবা পাগলা যে কত বছর ধরে আছে তা বোধহয় একমাত্র বলতে পারবে “আলী রেলওয়ে টি স্টল” এর বৃদ্ধ আহমেদ আলী।

বিস্তারিত»

দেয়ালের প্রতিদিন-২

টিকটিকিটা
আড়চোখে
একবার আমাদের,
একবার পরীর মতো
ডানা ছড়ানো
মথটিকে দেখছিলো

তখন তোমার কাপের কিনারায়
ঘষটে গেছে লিপস্টিক।
ঈর্ষায় পিরিচ ও আমি
যুগপৎ ঝনঝন
কেঁপে উঠেছি, আর
ভেবে চলেছি
এলোমেলো অনামী
প্রসংগ তুলে
কাঁটাগুলোকে
আরেকটু ঠেলেঠুলে
দেয়ালঘড়িতে
কি করে
পাঁচটা বাজানো যায়

এদিকে
সন্তর্পণে জিভ ছুঁড়ে দেবার
ক্ষণ চলে গিয়ে
কাপ জুড়ে
লিপস্টিকের
লাল বিদ্রূপে
টিকটিকির
বিকেল পুড়ে যায়….

বিস্তারিত»

ক্যাডেট জীবনে ঘটনার ঘনঘটা

ঘটনা : ১

আমার ক্যাডেট কলেজের ১ম দিনটা নিয়ে বলতে গেলে হয়তো রবীন্দ্রনাথের সাহায্য নিয়ে বলতে হবে…… শেষ হইয়াও হইবে না শেষ১টা ব্লগ লিখে ফেললাম অথচ এখনও সব কাহিনী শেষ হয়নি। আরও ১টা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। ঘটনাটা ঘটেছিল আমাদের ক্যাডেট লাইফের ১ম ডিনারের পর, যখন আমরা হাউজে আসলাম। হাউজে এসে জানলাম ক্যাডেটদের নাকি রাতে ঘুমানোর সময় শয়ন পোশাক পরিধান করতে হয়।

বিস্তারিত»

ঘুম, ক্লাস ও একজন ক্যাডেট

এখানে অতিথি সদস্য বাদে যারা আছি সবাই ক্যাডেট নামক প্রাণী । ক্যারওলাস লিনিয়াস বোধহয় তার জীবদ্দশায় এই আজব প্রানীর মুখোমুখি হয় নাই আর ICZN , ICBN এই প্রানীর খবর পাই নাই তাই নির্দিষ্ট কোন সাইন্টিফিক নাম কপালে জোটে নাই। কিন্তু এরা সবাই একই প্রজাতি ভুক্ত। সুনির্দিষ্ট কিছু চারিত্রিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্য সবার মধ্যেই বিদ্যমান।

এমনই একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ‘ ক্যাডেট ক্লাসে ঘুমায়
আসল কথা হচ্ছে,

বিস্তারিত»

ভাসছে মানুষ, ভাসছে মানবতা


ডঃ রমিত আজাদ

অনুপ্রবেশ না আশ্রয়, আশ্রয় না অনুপ্রবেশ?
বারবার এই প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে
মস্তিস্ক থেকে হৃদয়, আর হৃদয় থেকে মস্তিস্ক পর্যন্ত।
শিশুকোলে জননী, স্বামী আর পিতা হরিয়ে দিশেহারা,
অশ্রুও শুকিয়ে গেছে সেই কখন,
বাকরুদ্ধ কন্ঠের ভাষা ফুটে ওঠে নির্বাক চোখের করুন চাহনীতে,
‘বিবেকহীন নৃশংসতার তাড়া খেয়ে ছুটে এসেছি
তোমাদের কাছে ভাই জ্ঞান করে।

বিস্তারিত»

ডেইলি প্যাসেঞ্জার – পর্ব ৩

বি আর টিসির লাল রঙের এসি বাসগুলো একেকটা সাক্ষাৎ মশার আস্তানা। বিশেষ করে সকালবেলার প্রথম ট্রিপটাতে মশার দলবলের পিনপিনানি অটো মিউজিক সিস্টেমের কাজ করে।তার সাথে পাবলিকের মশা মারার চটাস চটাস শব্দ তো আছেই। একদিন মশার পরিমাণ একটু না,অনেক বেশিই ছিল। শেষমেশ পাবলিক বিরক্ত হয়ে ড্রাইভার কে মশা নিধনের উপর টিপস দিতে শুরু করল। এক যাত্রী আবার এক কাঠি সরেস। ড্রাইভার কে বলল, ওই মিয়া এরোসল নাই?

বিস্তারিত»

স্নানপর্ব-৭

ঘাটে
চোখাচোখি হতে’
চোখে ডেকেছিলো।
মন্ত্রমুগ্ধ বালক
কবে’ নেমে গেছে
পুকুরে
এক গলা জলে,
বলেছিলো
প্রণয়ের
হবে বিনিময়
সাঁতার শেখার ছলে!

দুপর গড়ালে
মাছেরা দেখেছে
মেয়েটি কোথা!
ধু ধু পুকুরে
বালক
একাই স্থানু
আকণ্ঠ জলে…

বিস্তারিত»

স্বপ্ন-১

“স্বপ্ন” শব্দটাই আমাদের কেমন যেন স্বপ্নাতুর করে ফেলে। স্বপ্ন দেখতে ভালবাসে না এমন কোন মানুষ কী এ পৃথিবীতে আছে?? থাকা সম্ভব? শুধু তা-ই নয়, যে কোন স্বপ্ন দেখলেই, বিশেষ করে অদ্ভূত কোন স্বপ্ন দেখলেই আমরা নেমে পড়ি তার রহস্য উদঘাটনে- কী দেখলাম, কেন দেখলাম, স্বপ্নটার কী কী অর্থ থাকতে পারে ইত্যাদি নিয়ে শুরু হয়ে যায় বিস্তর চিন্তা-ভাবনা, কাছের মানুষদের সাথে আলোচনা। কিন্তু মজার ব্যাপার হল এমন অতি চর্চিত বা সাধারন বিষয়টা নিয়ে আমাদের বেশীরভাগ আলোচনাই বিভিন্ন কুসংস্কার বা শোনা কথার ভিত্তিতে হয়ে থাকে,

বিস্তারিত»

হাওয়া বিষয়ক উপদেশ

ছেলেটির মনে হাওয়া লেগেছে, উপদেশ  –

হাওয়া-রে যখন কিনেছিস হাট হতে
ছাড়িসনা তারে তুই সস্তাতে
হাওয়া-রে তুই মন ভরে ভালবাসলে
সে তোরে ভরিয়ে দিবে সুদেআসলে …..।।

মেয়েটির মনে হাওয়া লেগেছে,উপদেশ–

হাওয়া-রে তুই লাগতে দিলি কেন-রে
জানিস তো, হাওয়া থাকে না কোন ঘরে
যদি পারিস, দরজার খিল দিস শক্ত করে
হাওয়া যেন দম বন্ধ হয়ে ভালবাসে তোরে…।।

বিস্তারিত»

প্রলাপঃ প্রেমিকাকে ফেলে এসেছি শেয়ালভরা বনে ও বাঁশিওয়ালা সিরিজ


১.
বলতো আমি কেন আর লিখবো?আমার কি লেখা উচিত?
তুমি যতদিন ছিলে,লিখবার পর মনে হত এ কবিতার একটা উদ্দেশ্য অন্তত তুমি।এখন,লিখতে গেলে যদি কোন দুঃখ ঢুকে পড়ে,লোকে একে ভুল বুঝে ভেবে নেয় এটি তুমিহীনতার নিজস্ব দুখগাঁথা।
এখন বলোতো কেন আমি নিজের এই একান্ত ব্যক্তিগত বিষন্নতা অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দেবো?আমার কি লেখা উচিত?
আজকাল খুব সহজেই তোমার খোঁপায় একটি প্রজাপতি কিংবা তোমার বিছানায় পা ছড়িয়ে বসে থাকবার একটি আনন্দময় দৃশ্যের চিত্রকল্প লিখে ফেলার চেয়ে একটি ভাঙা ব্রীজের পাশে শীতের সন্ধ্যায় তোমার নিঃসঙ্গ বসে থাকবার মনখারাপ একটা ছবি এঁকে ফেলতে বেশী ইচ্ছে হয়।নৌকায় করে একে একে চলে যায় তোমার পক্ষের ক্লাউনেরা।আমরা পাড়ে বসে এসব দেখে হেসে হেসে লিখে ফেলি শত পৃষ্ঠার প্রলাপ সিরিজ।দায়সারা বৃদ্ধকে বলি,

বিস্তারিত»

সীমান্তের হৃদয়বান মানুষেরা অসহায় রোহিঙ্গা মা ও শিশুদের কাছে খাদ্য ও পানীয় পৌছে দিন – মানুষের বাধভাঙ্গা ভালোবাসার কাছে মানুষের হৃদয়হীনতা পরাজিত হোক

সীমান্তের ওপার থেকে সামান্য আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসা ঐ মা ও শিশুগুলোর দুঃখ দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনা। আমি নিজেও তো একবার আমার স্ত্রী ও দুধের শিশুকে নিয়ে এমনি বিপদে পড়েছিলাম। ঘটনাটি বছর দশেক আগে, আমি ও আমার স্ত্রী তখন ইউরোপীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত। আমাদের সাথে ছিল এক বছরের শিশুপুত্র। তুহীন শীতের রাত, বাইরে মাইনাস দশ ডিগ্রী তাপমাত্রা। খালি গায়ে বাইরে একঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকলে একটি সুস্থ-সবল মানুষ শীতে জমেই মারা যাবে।

বিস্তারিত»

ক্যাডেট কলেজে ঘটনাবহুল প্রথম রাত

ঘটনা : ১

বাবা মা চলে যাওয়ার পর যথারীতি আমি সহ আমার ডর্মের বাকি ৩ জন তুমুল কান্নাকাটি শুরু করলাম। কে কাকে থামাবে… কেউ একটু থেমে যেতে গেলেই আরেকজন আরও জোরে শুরু করে দেয়। এমন মুহূর্তে হাউজ বেয়ারা দিদির আগমন।
ডর্মে ঢুকেই বললেন” তোমাদের মধ্যে মীম কার নাম?”
স্বাভাবিক ভাবেই প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেলাম…… “আমি।”  কান্নার জন্য না ভয়েই কেঁপে জবাব দিলাম।

বিস্তারিত»

আমার মায়েরা…

আজ কেন যেন খুব মায়ের গল্প করতে ইচ্ছা করছে।সচরাচর যা আমি করিনা…মা দিবসে সবাই মাকে নিয়ে পোস্ট দিয়ে ফেবুতে ঝড় তুলে দেয়।আমি চুপ থাকি।আমার যা বলার আছে ফেসবুকের একটা স্ট্যাটাস এর সাধ্য নাই তা বলার।আজকে বলতে ইচ্ছা করছে খুব।

আমার মায়ের সাথে আমার বয়সের পার্থক্য মাত্র সতের…গ্রামে হয়তো ব্যাপারটা
খুবি স্বাভাবিক…কিন্তু একটি অবস্থাপন্ন বাড়ির সবচে ছোট মেয়ের জন্যে জীবনের অর্থ কখনোই সংসার,সন্তান কিংবা চারদেয়ালের মাঝে দিন কাটানো,সন্ধ্যাবেলা বারান্দায় অফিসফেরত স্বামীর জন্যে অপেক্ষা করার মাঝেই আটকে ছিল না…..হবে কেমন করে…মফস্বলে বেড়ে ওঠা আমার মা শুনতেন এলভিস প্রিসলি…পরতেন গোর্কি…মা চেয়েছিলেন অনেক বড় হতে…আব্বু মাকে দেখতে চেয়েছিলেন আর দশটা বাঙালি বউ এর চেয়ে অনেক আলাদা…অনেক স্বাধীন…বাড়ির ছোট বউ আমার মা তাই শাশুড়ি জা এর সব আদেশ মেনে,সব কাজ সামলে সারারাত ধরে পরতেন এস এস সি এর জন্যে…আমাকে নিজের ভিতর বয়ে নিয়ে মা মাইল মাইল হেঁটে গিয়েছেন পরীক্ষা দিতে…ম্যাট্রিক থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত প্রতিটা পরীক্ষায় আমার মায়ের রেজাল্ট নিয়ে আমার আব্বু এবং আমরা এখনো গর্ব করি…

বিস্তারিত»

আজ বিশ্ব রক্তদাতা দিবস

আজ ১৪ই জুন – বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। আমার ছোট্ট বিশ্বে অবশ্য রক্তদান দিবসটি হচ্ছে ১লা জুন। ৩৭ বছর আগে এই দিনটিতে প্রথম শুরু করি রক্ত দেওয়া। ঢাকার মহাখালীর কলেরা হাসপাতালে আমার মেয়ে তখন তার প্রানের জন্যে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। ছোট্ট মেয়ে আমার – মাত্র এক মাস হয়েছে তখন তার বয়েস। এই এক মাসের মধ্যে প্রায় অর্ধেক সময় কেটেছে হাসপাতালের বিছানায়। প্রথমে তার ছোট্ট হাতে সূচ ঢুকিয়ে সালাইন দেওয়া হচ্ছিল।

বিস্তারিত»

মানুষ নয়, রোহিঙ্গা

গভীর রাতে বৃষ্টি নেমেছে। গরমে অতিষ্ঠ হওয়া মানুষের দেহে বয়ে যাচ্ছে শীতল পরশ আর বৃষ্টির মধুর ঝাপটা। ঘুম গাঢ় হয়ে উঠেছে কারো কারো। এমনই সময় নাফ নদীর ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা একাকী একটা ট্রলারে বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা আর বাতাসের তীব্র ঝাপটা ভিজিয়ে দিচ্ছিলো বিশাল এ আকাশের নীচে অসহায় কিছু অচ্ছুত মানুষকে। উবু হয়ে বসা মা তার আর কিছু না পেয়ে নিজের দেহটা দিয়েই আড়াল করে রেখেছিলো তার শিশুটিকে।

বিস্তারিত»