এই বছর কলেজ ছেড়েছি। বুকের ভেতরে ঘা টা এখনো দগদগে,আনকোরা নতুন। একটু খোঁচা লাগলেই যন্ত্রনা হয়। কিছু দেখলেই কলেজের সাথে তুলনা করি। খালি মনে হয় কলেজ কত ভাল ছিল। ডাইনিং হলে কত চিল্লাইছি ‘বাদল ভাই গ্লাসে ময়লা ক্যান?’ এখন নিজের রান্না নিজে করতে হয়! কিছুদিন আগে কলেজে গেলাম,আমি একা না,আমার সাথে আরো ৩২ জন ছিল! রিইউিনয়ন টাইপ অবস্থা। সবার মুখে এক কথা,চল বুয়েটে পরীক্ষা না দিয়ে ক্যাডেট কলেজ ইনটেক পরীক্ষা দেই!
বিস্তারিত»অত্যাচারের রোমন্থন
নতুন হোস্টেলে ওঠার অনেকদিন পর সুপার ম্যাডামের সতর্কবাণী শুনে সুটকেস খুলে মশারিটা বের করলাম।বের করে দেখি মা আমাকে ভুলে ডাবল মশারি দিয়ে দিয়েছে(যার জন্য আমার রুমমেট খুব খুশি, তারটা বের করতে হচ্ছেনা দেখে),তাও আবার ছোটবেলার স্মৃতিময় মশারি। ভাঁজ খুলে দেখি তাতে আমার ক্লাস ফোরের হাতে লেখা “মশারি নং ৪২০,১ম মশা পিনি ও পরিবারবর্গ”…আমার ও আমার বোনের প্রিয় “হুমায়ুন আহমেদের কিশোর উপন্যাস সমগ্র”- র একটা চরিত্র থেকে লেখা।১ম মশার সাথে আমাদের টেলিপেথিক যোগাযোগ ছিল কিনা!দেখে ইমোশনাল হয়ে গিয়ে টাঙ্গালাম একদিন।কিন্তু ক্যাডেট কলেজেই এইটের পর আর টাঙ্গাইনি।
বিস্তারিত»ঘরে ফেরা
এক সময় কেন যেন মনে হচ্ছিল আমি আর দেশে ফিরে যেতে পারবো না। এই অনুভূতি ছিল আমার সবচেয়ে ভয়াভহ। তবে একদিনে মনে হবার তেমন কোন ব্যাপার না এটা… তৈরি হয়েছে অনেক দিন ধরে। তখন আমার দেশ ছাড়ার আড়াই বছর চলছে। আমি অনেক বন্ধু আর সিনিয়র ভাইদের যেতে দেখি, বিদায় দেই কিন্তু আমার আর যাওয়া হয় না। প্রথম বছর কিছুই মনে হোত না.. কিন্তু সময় পার হলে ইউনিভার্সিটি শুরু হয়।
বিস্তারিত»ব্যথা
অন্ধকার আস্তাকুড়ে আমায় ফেলে রেখে
তুমি চলে গেছো
স্মৃতিগুলো বিস্মৃতির কাঁটা হয়ে
আমার হৃদয়ে ব্যথা দিচ্ছে
অন্ধকার যে আমার পছন্দ না, তুমি জানতে;
তবুও আমায় ভুতুড়ে অন্ধকারে রেখে গেছো।
তোমার হাসি আজও কানে বাজে নুপুরের তালে;
আজো তোমার স্নিগ্ধ চুলের গন্ধে আমার চারদিক সুরভিত;
একটি ঘর্মাক্ত সন্ধ্যায় তোমার নাকের উপর জমা শিশিরগুলো
আজো আমায় জানান দেয় একটি সুন্দর দিনের সমাপ্তি;
গুডলাক বাংলাদেশ!!! গুডলাক!!!
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাতে কোন রকম ঢাক-ঢোলের মাতম ছাড়াই শুরু হয়ে গেল মাত্র ছয় বছরের মধ্যে ৪র্থ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ বরাবরের মত এবারও ‘ডেথ গ্রুপ’এর সদস্য। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশেও বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছিলো। আমাদের দেশের মত এত ক্রিকেট পাগল মনে হয় শ্রীলংকানরা নয়। নইলে এই যুগে আলোর ঝলকানি, নাচ-গান অনুষ্ঠান ছাড়া বিশ্বকাপ শুরু হবার কথা না। যাই হোক, বাংলাদেশ দলকে শুভকামনা জানানোর জন্যই এই লেখা। জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনদিন ক্রিকেট থেকে পাওয়া কোন উপলক্ষ ছাড়া পুরো বাংলাদেশীদের এক সাথে আনন্দ করতে দেখিনি।
বিস্তারিত»আশার এক্রসটিক
[এক্রসটিকঃ এই ধরনের কবিতা বাংলায় প্রথম লিখেন কবি মাইকেল মধুসুদন দত্ত।প্রথম বার লিখেছিলেন তার এক বন্ধুর নাম নিয়ে।নামটা ছিল খুব সম্ভবত গৌর মোহন দাশ।সে যাই হোক-এই কবিতা পড়ার নিয়ম হল- প্রতিটি লাইনের প্রথম অক্ষর একে একে পড়ে যাওয়া।তারপর বাকি কবিতা পড়া।আরেকটা কথা-এই ধরনের কবিতায় প্রথম অক্ষরের বানান ভুল করা যেতে পারে!(কারন টা পড়লেই বুঝবেন)। ধন্যবাদ।]
আকাশে জমা মেঘ গুলো কাঁদে,
মিশে যায় দিগন্তে।
সহজাত সত্য প্রেমে
সাবেক প্রেমিকাদের কাছেও ঋণ থাকে অনেক
অনেক সময় মানুষ ঋণী থাকে পত্র বাহকের কাছে।
প্রেমিকের কাছেও-
কখনো কখনো ঋণী থাকে চলে যাওয়া প্রেমিকারা।
প্রেম হলো কথা-ভেঙ্গে-কথা-রাখা।
নির্মোহ প্রেমিক তাই কথা রাখে না।
কথার চিড়ায় গুড় মিশিয়ে
প্রিয়ার মনে সুখ ছিটিয়ে
প্রেমিক বুঝে নেয় প্রেমিকার চৌষট্টি কলা।
আর প্রেমিকা-
প্রেমিকের সাথে রপ্ত করে গোপন নাচের মধুর মুদ্রা।
অসহায় ভালবাসা
এক মুঠো ভালোবাসা এনে ছড়িয়ে
দিলাম তোমার গায়ে।
তুমি অবাক চেয়ে রইলে
নিরবাক মুরতি হয়ে।যেন বলে
বোঝাবেনা তোমার কোনো অনুভুতি
বুঝলেনা আমার ভালবাসা কতখানি
প্রাচীন আর উদ্দাম।সে জোয়ারে
ভেসে যাবে তুমি-জানিনা সেই ভয়ে
কি তুমি নীরব ছিলে সেদিন।
বুঝিনি কেন তোমার মুখখানি মলিন
হয়েছিল-আধারের শাদা ঘাসের মতো।
আমি তোমায় বুঝতে পারিনি-কতো
রাত বসে তোমায় নিয়ে স্বপ্ন বিলাস
নিরঘুম একঘেয়ে জীবন।আমার আকাশ
ভেসে যায় তোমার উত্তাপে।সে তাপে
আমার প্রেম জোয়ারের নদী হতে
বাশপ ওঠে।তোমার আকাশে মেঘ জমে।
জমজ প্রেম
প্রেম সবার জীবনেই একবার না একবার আসেই। আজকে আরেকটা প্রেমের গল্প। গল্পের নায়ক আমার বন্ধু প্রথি। প্রথি ছোট বলা থেকেই পাড়ার সবচাইতে ভদ্র ছেলে। বাংলা সিনেমার নায়করা যেমন নম্র ভদ্র ক্লাসের ফার্স্ট বয় হয়, গল্পের নায়ক প্রথিও তাদের থেকে কম যায় না, উপরন্তু মাকে বলা ছাড়া বাসা থেকেও বের হয় না।
প্রথির মা এর আবার আমার উপর অগাধ বিশ্বাস যে, আমি একটা ভালো ছেলে।
বিস্তারিত»রহস্যময় মহাবিশ্ব ও চিরন্তন জীবন জিজ্ঞাসা – ৮
রহস্যময় মহাবিশ্ব ও চিরন্তন জীবন জিজ্ঞাসা – ৮
————————————–ডঃ রমিত আজাদ
অপার রহস্যে ঘেরা আমাদের এই মহাবিশ্ব। আর তার মধ্যে রহস্যময় একটি সত্তা আমরা – ‘মানুষ’। এই দু’য়ের সম্পর্কও কম রহস্যময় নয়। মহাবিশ্বের বিবর্তন বা বিকাশের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ ফলাফল মানুষ, সেই মানুষই আবার গভীর আগ্রহ নিয়ে অধ্যয়ন ও পর্যবেক্ষণ করছে তার চারপাশের মহাবিশ্বটিকে। কি এই মহাবিশ্ব? আমরা কারা?
বিস্তারিত»৬ বছর বা ২২০৩ দিন – ২১তম পর্ব
এক.
“পেয়ারা! ঝাল-মশলা দিয়ে পেয়ারা!” আজ সকালে অফিসে যাবার সময় রাস্তায় ফেরিওয়ালা এভাবেই ডাকছিল। পেয়ারা আমাদের দেশের একটি অতি পরিচিত ফল। এই ফল নিয়ে অনেক সুখস্মৃতি আমার মনে এখনও গেথে আছে। তখন আমি এক ঝটকায় ১০ বছর পেছনে চলে গেলাম।
আমাদের ক্যাডেট কলেজগুলোর বিশাল আয়তনের কারণে প্রায় সবগুলো কলেজেই প্রচুর ফল গাছ বিদ্যমান। উদাহরণঃ আম, কাঠাল, জামরুল,পেয়ারা, আমলকী, জাম, ডাব, গাব ইত্যাদি।
বিস্তারিত»নারী নির্যাতন ও নারীবাদঃ আমার এলোমেলো ভাবনা
কয়েক সপ্তাহ আগে এক কনফারেন্সে একটা পেপার উপস্থাপন করার সুযোগ হয়েছিল। বিষয় ছিল Failure of the Legal System: Issues of Domestic Violence in Bangladesh- সহজ বাংলায়, পারিবারিক নির্যাতন এবং বাংলাদেশের আইনী ব্যর্থতা । বিষয়টি একবিংশ শতাব্দীর বহুল আলোচিত একটি বিষয় এবং আমাদের সবারই খুব পরিচিত। বিশেষ করে, বাংলাদেশের মাটিতে বড় হয়েছে অথচ পারিবারিক পরিমন্ডলে নারী নির্যাতনের নাম শোনেনি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুসকিল। তবে,বিষয়টি যতটাই পরিচিত হোক,
বিস্তারিত»কল্পনারা এবং আমার প্রেমিকারা
কি নিয়ে লিখব, কি নিয়ে লেখা যায়, এই সেই আজেবাজে চিন্তায় দিন পেরিয়ে যায়। রাত্রি ভোর হয়। আবার দিন আসে। দিন যায়। কিন্তু লেখা আর হয় না। অলস সময় আলস্যেই পার হয়ে যায়। তাই এই ছন্নছাড়া লেখার খাতা। যা মনে আসে, যাচ্ছেতাই, সব লিখে ফেলা। মনের অবিন্যস্ত চিন্তাগুলোকে শব্দের আকারে লেখার খাতায় তুলে আনা। যোগসূত্র-হীন সব বিচ্ছিন্ন চিন্তা-রাশি। মনের আনাচে-কানাচে ঘুপটি মেরে থাকা কল্পনারা যদিবা এই সুযোগে বাস্তবের দেখা পায়।
বিস্তারিত»একটু কঠিন ধর্ম বটে
পেয়ে হারানোর বেদনা কি একটু বেশী !
না পাওয়ার চাইতে !
হয়তোবা।
আবার নাও হতে পারে!
মনে মনে চেয়েছ অনেক
কিন্তু
পাওয়ার কোন চেষ্টাই করোনি হয়তো
তাই
হারানোর পর আজ এমন মনে হচ্ছে !
অথবা
এমনোতো হতে পারে
পাওয়ার পরে পায়ে ঠেলে ফেলে দিলে !
দূরে ঠেলে দিয়ে তুমি পালিয়ে বাঁচলে !
আজ-
চলে গিয়ে সে তোমাকে পীড়া দিচ্ছে!
পশ্চিমের আধুনিক নারীদের আধুনিক সমস্যা
(এই লেখাটি আগে অন্য একটি ব্লগে ছাপা হয়েছিলো। নীতিমালা বিরুদ্ধ হলে মডআরেটর লেখাটি সরিয়ে দিতে পারেন।)
১
প্রথম যখন আমেরিকায় আসি, সেই ১৯৯৮ সালের অক্টোবর মাসের কথা, মনে হচ্ছিল চারপাশের সবকিছু দেখে খুব বিস্ময়াভূত হবো। কিন্তু না, তেমন কিছু ঘটছিলো না। দেশ আর বিদেশের পার্থক্য তো আছেই। যানজটহীন মসৃণ আর প্রশস্ত রাস্তায় তরতর করে সব ফিটফাট গাড়ি ছুটছিল। এ আর নতুন কি?