আমার অক্ষমতা!

আমার সর্বাংগ অসাড় হয়ে আসে অক্ষমতার ভারে।
নিজের জন্য, আপন মানুষের জন্য, দুঃখিনী দেশের জন্য-
বড্ড অপ্রতুল আমার সক্ষমতা।
গোটা দেশ জুড়ে, ঘরে ঘরে, মাঠে-প্রান্তরে চলছে উতসব!
ক্লেদাক্ত কামের, বিস্ফারিত লোভের, নির্ভেজাল স্বার্থান্ধতার আঁধারে
নিভু নিভু জ্বলে যায় মানবতা, সস্তা যত বোধ আর ভগ্ন চেতনা।
আমাকে যখন পিছমোড়া করে বেধে নিয়ে যাওয়া হয়, আমি নির্বাক!
আমাকে যখন চোখ বেধে নিয়ে যাওয়া হয়, আমি নির্বাক!
আমাকে যখন ফাঁসীতে ঝোলানো হয়, তখনো আমি নির্বাক!
মৃত্যুহীন চীতকার মিলিয়ে যায় হন্তার ধাতব পদভারে!
আমার সামনে উঠিয়ে নেয়া হল ভাইকে, আমি কাঁদলাম!
আমার সামনে উঠিয়ে নিয়ে গেল বন্ধুকে, আমি কাঁদলাম!
আমার সামনে দেহ ব্যবসায় নামানো হল কন্যাকে, তখনো আমি কাঁদলাম!
আমার সামনে পংগু করা হল বাবাকে, তবুও আমি কাঁদলাম!
কেঁদে কেঁদে ভাসালাম, নিভালাম বুকের আগুন!
আমার উপাসনালয়ে আগুন জ্বলল, আমি মুখ ফেরালাম!
আমার বিদ্যালয়ে লাশ পড়ল, আমি মুখ ফেরালাম!
আমার নর্দমায় রক্ত গঙ্গা বইল, তবুও আমি মুখ ফেরালাম!
আমার ভাগাড় ভরে উঠল বেওয়ারিশ লাশে, আমি মুখ ফেরালাম!
ফিরিয়ে রাখা মুখ কুকড়ে আছে ঘৃনায়, ক্ষমাহীন অক্ষমতায়!
আমার সর্বাংগ বড় অসাড় হয়ে আছে, অক্ষমতার ভারে।
আমার পায়ে ধর্মের বেড়ী, হাতে সমাজের হাতকড়া, পেট জুড়ে-
নিরন্তর ক্ষুধার তাড়না, মাথা জুড়ে অবিশ্বাস, নেশার ঘোরে এলোমেলো দৃষ্টি।
আমার হাতে ধর্মের বেড়ী, পায়ে সমাজের পা-কড়া, পেট জুড়ে-
মহাকালের সমগ্র ক্ষুধার আগুন, মাথা জুড়ে বিকৃতি, লোভাতুর দৃষ্টিতে বিশ্বখেকো চাহুনি!
আমার সর্বাংগ জুড়ে পোকারা কিলবিল করে, অকেজো হয়ে আছে সমগ্র শরীর-
চোখে পোকা, মগজে পোকা, জংঘায় পোকা, হৃদয়ে পোকা, অস্তিত্বে পোকা,
আমার কনুই, হাঁটু, গোড়ালী, সমস্ত লোমকূপ পোকাদের দখলে।
তারা কখনো জাতের নামে, কখনো পাতের নামে, কখনো অর্থের নামে,
কখনো বিত্তের নামে, কখনো শিক্ষার নামে, কখনো লিংগের নামে,
কখনো ধর্মের নামে, কখনো দেশ বা জাতির নাম ধরে ওড়াউড়ি করে,
নির্দ্বিধায় বংশবিস্তার করে চলে চেতনার ঘরে।
অক্ষমতা তাই সংক্রমিত আমার সর্বাংগ জুড়ে-
আমার সর্বাংগ বড় অসাড় হয়ে আছে, অক্ষমতার ভারে।
আমার সর্বাংগ বড় অসাড় হয়ে আছে, অক্ষমতার ভারে।

১৭৯ বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।