বাংলাদেশে এখন গণমাধ্যম, বিশেষ করে অনলাইন গণমাধ্যমের যুগ চলছে। দেশে বর্তমানে কত শত যে অনলাইন পত্রিকা আছে তার কোনো হিসাব নেই। হাতে কিছু টাকা হলেই যে কেউ একটি মিডিয়া হাউসের মালিক হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সংবাদজগৎ এবং পাঠক সমাজের কতটা উপকার হচ্ছে জানি না, তবে হলুদ সাংবাদিকতার প্রকোপ বাড়ছে। একটাই কারন, প্রতিযোগিতা। শত শত অনলাইন পত্রিকার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে, বিজ্ঞাপন পেতে হলে অবশ্যই আলেক্সা র্যাংকিং-এ উপর দিকে থাকতে হবে।
বিস্তারিত»ক্যাডেট কলেজ কড়চা-১
২০০২ থেকে ২০০৮।আমার ক্যাডেট লাইফ।ভালোয় মন্দে মিশিয়ে কেটেছে জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এই ছয়টি বছর।যেকোন ক্যাডেটের এই ছয়টি বছর কাটে অনেক ঘটনাবহুল।আমিও ব্যাতিক্রম না,মাঝে মাঝে মনে হয় আমার ক্যাডেট লাইফ একটু বেশিই উরা-ধুরা।কলেজের গল্প করতে কার না ভালো লাগে?ছয় বছরের ছোট ছোট ঘটনা নিয়ে আমার এই সিরিজ ‘ক্যাডেট কলেজ কড়চা’।আগেই বলে নেই ঘটনাগুলো ক্রমানুসারে সাজানো নয়।যেটা আগে মনে আসবে সেটাই লিখবো আগে।
আমাদের (২০০২-০৮) ছয়টি বছর কেটেছে আফসোস করতে করতে।আমরা কলেজে গিয়েই শুনেছি বের হয়ে যাওয়া ব্যাচগুলোর দুর্ধর্ষ কাজকর্মের কথা,শুনেছি কলেজ পালিয়ে মরডান মোড়ে গিয়ে শাবনুরের সিনেমা দেখে পুষ্টির মিষ্টি নিয়ে কলেজে ফেরার কথা,শুনেছি আগের এক্স ক্যাডেটদের বীরের মতো জুনিয়র পিটানোর কথা।তারা নাকি জাম্বুরা,কাঁঠাল,পেয়ারা এমন কোন ডাল নেই যা দিয়ে জুনিয়র পিটায় নাই।আমরা না পারছিলাম আগের ক্যাডেটদের মতো দুঃসাহসী হালাকু খাঁ হতে,
বিস্তারিত»আমার মন কেমন করে……
একটা গান শুনছি বেশ কয়েকদিন ধরে। রবীন্দ্রনাথ এর “আমার মন কেমন করে……”। ঘুরে ফিরে বারবার শুনছিলাম গানটা। শুনতে শুনতে আমারও মন কেমন করে উঠছিলো। জানিনা গানটি লেখার সময় রবিঠাকুরের মন তার প্রেমিকা কিংবা কোন আপনজনের জন্য কেমন করছিল কিনা। কিন্তু আমার ‘মন কেমন’ করে উঠছিলো কিছু তুচ্ছ, ক্ষুদ্র জিনিসের জন্য। আমাদের সবারই এই রকম অসংখ্য মন কেমন করা স্মৃতি আছে। এই জিনিসগুলো আমরা নিজেরা ছাড়া আর কেউ বোঝেনা;
বিস্তারিত»মিসিং লিস্ট
আমার হারাবার তালিকা দীর্ঘ হতেই থাকে। কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি হয়ে হারালাম সারা সকাল মায়ের আঁচল ধরে ঘরময় ঘুরঘুর করার স্বাধীনতা। হারালাম মধ্যাহ্নের কিছুক্ষণ আগে রান্না শেষ করে ফেরা ক্লান্ত মায়ের বুকের কাছে গুঁটিসুটি হয়ে শুয়ে থাকার অবিশ্বাস্য ভালো লাগা। ছেলেমানুষি খেয়ালিপনায় ক্লাসরুমে হারালাম হলুদ শরীরের গ্রেট ওয়াল পেন্সিল, গলায় ঝুলিয়ে রাখার ওয়াটার ফ্লাস্ক যার গায়ে আঁকা ছিল পছন্দের কার্টুন চরিত্র মিকি মাউস। বারোটি রঙের লুনা কালার পেন্সিলের নতুন বাক্স।
বিস্তারিত»স্পর্শের বাইরে-২…!!!
ভার্সিটি তে আজ অনেক ভীর। ক্যান্টিন এ জায়গা নাই। এক মাস ১০ দিন পর সবার দেখা তাই ক্যান্টিন খালি থাকার কথা ও না। ছেলেটি তাই ২০ টাকার পরোটা আর ডাল নিয়ে একটু আড়ালে গিয়ে বসলো। বাংলাদেশের অনেক উন্নত আধা-সামরিক কলেজ থেকে অনেক স্মার্টনেস এর শিক্ষা নিয়ে পাশ করে ভার্সিটি তে আসলেও কেন জানি ওর সবার সামনে খেতে গিয়ে লজ্জা লাগে। খেতে খেতে দেখল ভার্সিটির রঙ।
বিস্তারিত»অ্যানাপোলিসের ডায়েরী
#কলেজে প্রায় ই কঠিন কোনো পরীক্ষার দিন সকালে ক্লাসরুমে এসে একটা মৃদু অসন্তোষের গুঞ্জন শোনা যেত।আস্তে আস্তে সেই গুঞ্জন টা একটা তীব্র আন্দোলনে রূপ নিত। আমার মতো সেই সমস্ত ক্যাডেট যারা “ওস্তাদের মাইর শেষ রাতে” এই মতবাদে বিশ্বাস করে তারা পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে চিল্লা চিল্লি শুরু করতো । এরপর নানা দিকে কাহিনীর জল গড়াতো। একশন কমিটি গঠন করা হতো। এই পার্টি থেকে যথাযথ দিক নির্দেশনা দেওয়া হতো।
বিস্তারিত»কলেজ লাইফের ভূত-রসাত্মক কাহিনী- ৩
আমাদের সুরমা হাউজে একটা রুম ছিলো,রুম নম্বর ১১, নাম “অধীতি” ,নামটা অনেক সুন্দর,তাই না? কিন্তু সেই রুমে কেউ থাকতো না। কেন থাকতো না জানতাম না। আমাদের কাছে খুবই অবাক লাগত বিষয়টা। কারণ অন্য দুই হাউজে ১১ নম্বর রুম ব্যবহার করা হয় কিন্তু আমাদেরটা হয় না। একটু কৌতূহল জাগাটা স্বাভাবিক বিষয় না? সিনিয়রদের জিজ্ঞাসা করতাম, উনারা কিছু বলতে পারতেন না। আবার অনেকেই অনেক কিছু বলতেন ।
বিস্তারিত»সোনালী শিশির
১.
হুইস্কির বাংলা পরিভাষা হলো সোনালী শিশির। সম্ভবত সুনীলের ছবির দেশে কবিতার দেশে বইতে পড়েছিলাম। মূলতঃ একটা ফাঁকিবাজি ব্লগ লিখতে বসার কথা পরিকল্পনা করে মনে হলো নামটা অন্তত শ্রুতিমধু হওয়া চাই। তখনই সোনালী শিশিরের কথা মনে হলো। একটি পাবের ট্রিভিয়া নাইটে মাঝে মাঝে যেতাম। কয়েক বন্ধু মিলে একটি দল করে ট্রিভিয়ায় অংশ নিতো। সেখান থেকে আরো এক দঙ্গল লোকজনের সাথে পরিচয়। ট্রিভিয়ার পাশের দলের এবং পাশের টেবিলের ড্যান নামের লম্বা পনিটেলওয়ালা মধ্যপঞ্চাশের ভদ্রলোক সবসময় ডাবল-হুইস্কি অর্ডার করতেন।
বিস্তারিত»মাস্টার প্ল্যান! (শেষ পর্ব)
৫।
-‘শামীম, তোমার ছেলের যে বয়স তাতে করে গিফট বা এই জাতীয় কিছু দিয়ে তুমি মন জয় করতে পারবে না।‘ ডিপার্টমেন্ট এর ক্যাফেটারিয়াতে বসে কফি খেতে খেতে বললেন ডঃ আনিসুজ্জামান। শামীম হাসানের চেয়ে সিনিয়র হলেও তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান।
-তাহলে আপনিই বলুন, আমার কি করা উচিৎ…
-প্রতিটি ছেলের কাছেই তার বাবা হচ্ছে তার প্রথম হিরো।
বৃষ্টি বন্দনা
এক
মাঝ রাতের বৃষ্টির পাড় ভাঙ্গা ক্ষমতা নাকি অসাধারণ। জানা নেই। এই হিসেবি জীবনের বৃষ্টি মানেই এক পশলা নাগরিক ভোগান্তি। দৌড়ে গিয়ে জানালার স্লাইড বন্ধ করার তাড়াহুড়া। কাদা ছিটকে জামা নষ্ট হবার একরাশ বিরক্তি। ঘরের ছাদে বৃষ্টির স্বরবৃত্ত তাল কল্পনা করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা। তারপরও, কোন কোন মাঝরাতে বৃষ্টি নামে। কল্পলোকের কল্পনাতে বাস্তবতা দৌড়ে পালায়। স্মৃতির পাড় বেয়ে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে সোমেশ্বরী। অবিরল বৃষ্টিতে দুধ সাদা বিরিশিরি।
বিস্তারিত»স্পর্শের বাইরে…!!!
মনসুর বসে আছে ড্রয়িং রুম এ। বিকট বিকট জানোয়ারের মাথা ওর দিকে তাকিয়ে হাসতেসে। অস্বস্তিকর ব্যাপার। নিহা মেয়েটা একটু বেশি জেদি। রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে আসছে। কলাভবনের সামনে রোজ মেয়েটা একবার করে যায় মনসুর জানে। আসলে মেয়েটা চায় কি? ওর মত মেয়ের সাথে এক গাড়িতে ওর বাসার ড্রয়িং রুম এ এসে বসে থাকার জন্য ভার্সিটি তে মজনু রা লাইন দিয়ে রাখে সেখানে মনসুর নামের আমি কিভাবে?
বিস্তারিত»আধাসামরিক প্রেমের গল্প
আধাসামরিক ক্যাডেট কলেজে বেসামরিক প্রেমিকা থাকা শুধু কষ্টের নয়, ভয়াবহ কষ্টের।প্রতিবার ছুটির শেষে প্রিয়
মানুষটিকে ফেলে কলেজে যেতে অনেক কষ্ট হয়।ক্যাডেট কলেজ, সে এমন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, যেখান থেকে মুক্ত পৃথিবীর খোঁজ নেয়া অসম্ভব প্রায় । আর্মি হেড কোয়ার্টারের স্বেচ্ছাচারিতায় মুঠোফোনের বেতার তরঙ্গ তখনো জায়গা করে নিতে পারেনি ক্যাডেট কলেজের সেই চৌহদ্দিতে। তবুও সমস্ত কলেজ প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে কখনো আন্ডারগার্মেন্টস এর নিচে,কখনো মোজার ভেতর,মোটা বইয়ের পৃষ্ঠা কেটে,ব্যাগের কোনায়,এংলেটের মধ্যে,
একটি অনুবাদ
একটি অনুবাদ
সনেট ২৯: উইলিয়াম শেক্সপিয়ার
ভাগ্যের নির্মমতায় আর চারপাশের মানুষের পরিহাসে
জানটা যখন ফালা ফালা, একা কাইন্দা-কুইট্যাঁ শেষ;
কালা-খোদার কাছে চিৎকার কইরা কাইন্দাও ফায়দা নাই,
তাই ভাবতে ভাবতে নিজের ভাগ্যটারেই দেই অভিশাপ।
ক্যান যে আমার কপালটা ঐ লোকগুলার মতো হইল না:
তাদের আছে ধন-মান, চেহারা-সুরত, কিংবা বন্ধু-ভাগ্য;
বাঞ্ছা করি অমুকের মতো দক্ষতা, তমুকের মতো ক্ষমতা,
মাস্টার প্ল্যান!
১।
-হাই ড্যাড, কেমন আছো?
প্রশ্নটা শুনে শামীম হাসান কিছুটা থতমত খেয়ে গেলেন। একমাত্র সন্তানের সাথে তিনি কখনোই তেমন আন্তরিক বা বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারেন নি। অনেকবারই চেষ্টা করেছেন কেয়ারিং বাবা হবার জন্য, কিন্তু ছেলের সাথে ‘লিটল টক’ দিয়ে আলাপ শুরু করতে গেলে এমন অবাক ও বিস্ময়মাখা এক্সপ্রেশন দেখেছেন যে কথা আর বেশি দূর কখনো এগোয় নি। আজ শিমুলের আকস্মিক এই পরিবর্তন কিছুটা অবাক হবার মতন বৈকি!
হ্যালুসিনেশন
এতদিন যে বসে ছিলেম পথ চেয়ে আর কালগুণে;দেখা পেলেম ফাল্গুনে………।
বিছানা ছাড়বার শক্তি নাই।উত্তুরে জানালা দুটো খুলে শুয়ে শুয়ে আকাশের দিকে তাকায়ে আছি।কুন্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছি। রবীন্দ্রনাথ গান গাচ্ছেন।অপার্থিব! অপার্থিব!
রবি নামে আমাদের একজন স্যার আছেন! স্যারের ভয়ে সবাই তটস্থ থাকে।স্যারের চেম্বারের সাইনবোর্ডে তার নামের ‘র’ এর নিচে ফোঁটা উঠে গেছে।রোগী এসে ওয়ার্ডে খোঁজাখুঁজি করছে “ববি স্যার কই? ববি স্যার?স্যার রিপোর্ট নিয়া হাসপাতালে আসতে বলছে।