স্পর্শের বাইরে-২…!!!

ভার্সিটি তে আজ অনেক ভীর। ক্যান্টিন এ জায়গা নাই। এক মাস ১০ দিন পর সবার দেখা তাই ক্যান্টিন খালি থাকার কথা ও না। ছেলেটি তাই ২০ টাকার পরোটা আর ডাল নিয়ে একটু আড়ালে গিয়ে বসলো। বাংলাদেশের অনেক উন্নত আধা-সামরিক কলেজ থেকে অনেক স্মার্টনেস এর শিক্ষা নিয়ে পাশ করে ভার্সিটি তে আসলেও কেন জানি ওর সবার সামনে খেতে গিয়ে লজ্জা লাগে। খেতে খেতে দেখল ভার্সিটির রঙ। কোন এক পাশে পরম মমতায় এক রূপসী তার ভালবাসার পরীক্ষা দিচ্ছে। ওদিকে না তাকিয়ে তাড়াতাড়ি খেয়ে নেয় ও। ক্লাস আছে।  প্রতিদিন সকালে এক ডাল-রুটি খেতে ভালো লাগেনা, তাও…!!!

এই দীপ শোন। পিছন থেকে ডাকে লুবনা।  “বল তাড়াতাড়ি, ক্লাস আছে। ” – উত্তর আসে লুবনার কানে। “ধুর তোর ক্লাস টুট টুট। আয় সবাই আজকে বাইরে যাচ্ছি। আড্ডা দিমু চল।”  আনন্দে দীপের মাথা চক্কর দেয়। কিন্তু পরক্ষনেই হাসি টা মলিন হয়ে যায়। একটু ফাজলামি করে বলে-“না তোরা যা। আমি ক্লাস এ যাই। আর একটু কাজ ও আছে।”  লুবনার চোখ রাঙ্গানি সহ্য করেও চলে যায় ভিতরে এক রাশ বোবা কান্না নিয়ে।

লুবনা রা জানেনা যে মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলের এত আনন্দ করতে নেই।  অনেক আড্ডার ভীরে আইফোন এর দাম না জানায় হাসি-তামাশার পাত্র হতে হয়। ওরা জানেনা ওদের আড্ডার ভীরে ছেলেটি খুব বেমানান। আড্ডা যেখানে KFC তে ট্রিট দেয়ার সেখানে ২৫০০ টাকায় মাস চলা ছেলেটির কথা শুনে তেমন ফীল করার সময় নেই।

ওরা জানেনা মধ্যবিত্ত ফামিলির বড় ছেলেরা বৃদ্ধ বাবার পেনশন এর সময় ফামিলির হাল ধরে। ছোট ভাই কে পড়ায়। জানেনা যে তাদের একটা মন আছে। খুব অল্প সেই মনের চাওয়া। জীবনের এই ছোট্ট সময়ে মাথা তুলে দাঁড়াবার সময় যদি খুব একা লাগে,নিজের ভিতরের কষ্টগুলোকে যদি বমি করে ফেলে দিতে ইচ্ছা হয় তাহলে সেই সময় শুধু পাশে থাকা কোন মানুষের স্বপ্ন। হাত ধরে ঘুরা না, উষ্ণ ভালোবাসা ও না। শুধু একটু মমতা যেটা টাকা কিংবা সুন্দর চেহারা না থাকলেও পাওয়া যায়।

মমতা, যেটা মধ্যবিত্ত ঘরের বড় ছেলেরা খুব কম পায়।

একটু মমতা র অপেক্ষায় আজো সেই ছেলেটি।

৪৪৯ বার দেখা হয়েছে

৪ টি মন্তব্য : “স্পর্শের বাইরে-২…!!!”

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।