সাম্প্রতিক কবিতা


ভালোবাসা মেঘ হয়ে গ্যাছে বহু আগে,
এখন শীতকাল,
মেঘমুক্ত আকাশের দিকে
তাকিয়ে তবুও বৃষ্টির অপেক্ষা।
বৃষ্টি হবার কোন সম্ভাবনা নেই।
চরাচরে তীব্র রোদ।
ভালোবেসে যারা রোদ্দুর হতে চেয়েছিলাম,
এই শীতে তারা অডিনের সঙ্গে ডিনার করবো ভালহালায়।
সুদিন কবে আসবে, অডিন?
আর্তনাদ চেপে বীরের মতো মরে যাবো।
কোথাও কী আছে আর্তনাদহীন মৃত্যু, মৃত্যুহীন ব্যথা,
ব্যথাহীন প্রেম,
প্রেমহীন দুঃখ,
দুঃখহীন প্রেম।
খবর দিও তার খোঁজ পেলে৷
ততক্ষণ এই রোদ্দুর গায়ে মেখে,
চিতল মাছের মত শুয়ে থাকা
জীবন জলাধারে।
জীবন শুকিয়ে গ্যাছে, প্রেমও।
আসন্ন শীতে বাসায় ফেরার সময়,
ধনে পাতা নিয়ে যাওয়া দরকার।


অডিন-ঘর যাবে ঠিক-ই,
গ্রোগাসে গিলবে হাহাকার,
চূর্ণ-পূর টু শূন্য-মাইল,
কতোটুকু বইতে পারে—
এই পদচিহ্নের ভার!

হয়তো অনেক প্রেম,
অনেক হাত,
অনেক মুখের মাধুর্যে
মনে রাখেনি কেউ,
মনে কি রাখবে কেউ
রাত্রি-দিনের গান?
শুধু পাখিদের বুক
চিড়ে বয়ে যাচ্ছে
এক নবগঙ্গা অভিমান।

অডিন-পুর যাবে ঠিকই,
হা করে খুঁজবে কোনো
আদ্র চুলের ঘ্রাণ।
সেই চোখ,
শাদা কোলাজের ড্রেস,
চোখে ওড়নার ভাপ,
তড়িৎ বিদায়ের অ্যাড্রেস,
করে চলে যাবে
কোনো পূর্ণ ছুটির দিন।

হবে না দেখা আর,
হয় না দেখা- কতো দিন।
বহুকাল বহু বছরের ব্যবধান,
ঘোচাবে না কেউ এসে,
কেউ তো আসবে না আর,
যতো-ই পেছনে তাকাও
দেখ- স্মৃতি-ই
এ জীবনের উত্তরাধিকার।

যেখানেই রাখ শরীর
আর ঢেলে দাও সব,
প্রেম তো আজও
এক ভাঙা উৎসব!


ক্লান্তির ভারে হৃদয়ে জমছে বিষ,
যে দিকে তাকাই- কুত্তার ঘেউ ঘেউ,
উদাস হলেই উস্টা খাই আর বুঝি,
বহুদিন পর— ডাকলো কি চেনা কেউ?

কে আর ডাকবে,
সব শালা ঘুমিয়ে পড়ছে,
শহরের বুকে ডিসেম্বরের ভার,
অনুকম্পায় বিনয়ের ডানা মেলে,
উড়তে গেলেই- পাখা পুড়ে ছাড়খার।

এ কোন পথ-
যেখানে আমরা কেউ,
জানি না কোথায় যেতে হবে-তবু যাচ্ছি,
এবড়োথেবড়ো রক্তের ক্যানভাস
অজস্র কতো মুখোশে এ-মুখ আঁকছে।

কাউকেই মনে পড়ছে না আর,
একা একা এই কথার পাহাড়,
তাই আকাশে পাঠিয়ে রাখছি…

নিয়েছিলে যে নদী-
তার ঢেউয়ে এখন কে সাঁতার কাটছে?
যেদিকে তাকাই দেখি-
কারা যেন নিবিষ্ট মনে
সেই কুত্তার পা-ই চাটছে।


বৃষ্টি,
অফিসে যাওয়ার পথে
বাগড়া দ্যাও ক্যান, ভাই?
উবারে যাওয়ার পয়সা নাই,
একটা ছাতা, তারও ডান্ডি ভাঙা,
মেঘের ভার বইতে না পাইরা
বেহায়ার মত
ভিজাইয়া যাইতেছে।
হাঁটতেছি মধুবাগের রাস্তা দিয়া,
হাতিরঝিল পার হইয়া
গোল চক্কর বাসে উইঠা নামবো
পুলিশ প্লাজা,
এইরকম একটা মনোভাব নিয়া
গুটাইতে গেলাম ছাতা,
আর কার প্লাজোতে
আটকাইয়া গেল তার
ভাঙাচোড়া ডাট।

যে দিনটা গ্যারাকলে যায়,
ওইদিন পুরাটাই— গ্যারাকলে যায়।
কোনোমতে সরি-টরি কইয়া
কতোক্ষণ রইলাম দাঁড়াইয়া,
বসলাম
মুতে কেডজের গন্ধ
কখন যে একটা
বিড়াল এই আকামডা করলো!

পাঞ্চ করে ঢুকলাম
পাঁচ মিনিট লেইটে,
লিফট নামায়া দিল
ভুল ফ্লোরে।
বাইর হইতে গিয়ে,
ইডি অফিসের দরোজায়
খাইলাম এমন এক ধাক্কা,
কাচের দরোজা,
এত ক্লিন!
মনে হইল কিছুই নাই।

মুততে গিয়া দেখলাম-
এই ফ্লোরের টয়লেট শুধুমাত্র
এই ফ্লোরের কর্মকর্তাদের
ব্যবহার করার জন্য৷
অন্য ফ্লোরের কর্মীদের
তাদের ফ্লোরের টয়লেট
ব্যবহার করার
অনুরোধ করা হলো।

জিপার লাগাইয়া মনে হইলো,
অন্য কোথাও মুতে দেওয়া ভালো,
আরও ভালো
চাপাইয়া রাখা।

নামলাম নিচে,
ফিরোজের চায়ের দোকানে
হাত ফস্কে পড়ে গেল- আস্ত বেনসন,
বৃষ্টি তখনও পড়তেছে,
আরেকটা বিড়ি জ্বালাবো
ভাইবা লাইটার হাতাইলাম,
আগুন তার ফুরাইছে আগেই,
ভেজা শরীর নিয়া তারপর
সারাদিন সাড়ে ছয়টার অপেক্ষা।

মূলত,
বর্ষা একটা ল্যাওড়া-মার্কা ঋতু
প্রতিবার এই সময় মনে হয়
লাত্থি মাইরা সবকিছু চইলা
যাই কোথাও।


এমন ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি
তা আর বলতে,
দূরে গেলেই
কেমন দূরত্বে চলে যায়।

ভেরিফাইড হবো কবে?

টোকা দিলেই অনেকদিনের
সাজানো কিছু ভেঙে যায়,
মূহুর্তের উন্মাদনায়
সোনা হয়ে যায় সবকিছু।

ক্রমশ বেগবান নই,
চলতে গিয়ে পা থমকে যায়,
তাই থামি,
রিকশা এলে রাষ্ট্রপতি
রাস্তা থেকে সড়ে যায়।

সব আলো নিভে গেছে
একটা অন্ধকার কক্ষে
একটি মশার অস্তিত্ব টের পেয়ে
খুলে দেই জামা।
কারেন্ট কী চলে গ্যালো?
এতবার কই গ্যালো,
কেন যায়?
না ভেবে পেয়ে
জ্বালাই সিগারেট৷

আঁধারে ধোয়া এসে
সামান্য আলো জ্বালায়,
টের পাই এ মশা নয়
মাছি।
দুঃখ পেয়ে তাই মানুষের চুল
নিয়ে ভাবতে বসি।
এত মানুষ এত রকম তার চুল!

মাটির গভীরে এত
চাপ কারা নেয়?

আর কত গুছিয়ে উঠবো
পিছিয়ে যাচ্ছে ডেড-লাইন।
মৃত্যু,
তোমার রেখায় দাঁড়িয়ে
একবার খুব করে
দৌড়াতে চাই।

ধরছো না। ব্যাকও করছ না।
খবরাখবর জানিও।
ফিরে যাওনি বলে
আগায় নি আর কিছুই।

জীবনের প্রয়োজনে
ঢুকে যেতে হবে কাজে,
কাজ ছাড়া
জীবন বাজে।

একটা বাগান ছেড়ে
আরেকটা বাগানে আসি
তাই জীবনকে ভালোবাসি।

এই টলমল জল,
নিপল, আপেল আর
গোলাপের সৌরভে ঢাকা
নগরীর ন্যাস্টি নৃত্য।

কুত্তার বাচ্চারা সবকিছু
বানাইয়া রাখছে জাহান্নাম,
সেই জাহান্নামের আগুনে
একটা বিড়ি জ্বালাইয়া
তোমারে ভাবতে বসি৷

তোমার কথা পড়লো
মনে এমন রাতে,
যখন আমরা সবাই
হয়তো যে যার মত ক্লান্ত।

একেকটা উদ্ভ্রান্ত দিন,
কী করে যে কেটে যাচ্ছে,
চারপাশে অস্থিরতা আর অভাব।

মাইনাস ইকোনোমিতে
আছিরে ভাই,
ক্রেডিট কার্ড ছাড়া
কোত্থাও ব্যালেন্স নাই।

মানুষের ভেতরে থাকলেই
বের হয়ে যাওয়া যায়,
একা এত জমে থাকে ভার,
কী যে দিন আইলো
টেনশনে খাইলো,
কী বাল যে ছিড়তেছি কার
টেনশনে ক্ষয়ে যাচ্ছে
চুমা ও জুতার কালার

৪৭ বার দেখা হয়েছে

মন্তব্য করুন

দয়া করে বাংলায় মন্তব্য করুন। ইংরেজীতে প্রদানকৃত মন্তব্য প্রকাশ অথবা প্রদর্শনের নিশ্চয়তা আপনাকে দেয়া হচ্ছেনা।